জাতীয়

এমবাপ্পেকে কেন স্বৈরাচার বলা হয়

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
এমবাপ্পেকে কেন স্বৈরাচার বলা হয়
এমবাপ্পেকে কেন স্বৈরাচার বলা হয়

কিলিয়ান এমবাপ্পে কি ফুটবলার, নাকি ফুটবলের ‘স্বৈরাচার’? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবশ্য দ্বিতীয় পরিচয়টাই দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। সেখানে এমবাপ্পে শুধু গোল করেন না, কোচ বরখাস্ত করেন, খেলোয়াড়কে ক্লাব ছাড়ান, সতীর্থদের পারফরম্যান্স যাচাই করেন, এমনকি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টও নাকি তাঁর কাছে রিপোর্ট করতে আসেন!

সামরিক পোশাক, মাথায় টুপি, কখনো সিংহাসনে বসা—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বানানো নানা ছবিতে এমবাপ্পে হয়ে উঠেছেন ‘স্বৈরাচারী শাসক’। নাম দেওয়া হচ্ছে ‘ডিক্টেটর এমবাপ্পে’।

এমবাপ্পেকে স্বৈরাচার হিসেবে উপস্থাপনের শুরুটা কোথা থেকে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। তবে ২০২৪ সালের একটি ঘটনা এ প্রবণতার পেছনে থাকা কারণগুলোর একটি হতে পারে। সে বছর ফরাসি ইনফ্লুয়েন্সার ও কাবাবের দোকানের মালিক মোহাম্মদ হেন্নির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের উদ্যোগ নিয়েছিলেন এমবাপ্পে। তাঁর দোকানের একটি স্যান্ডউইচের বর্ণনায় এমবাপ্পের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। এমবাপ্পের আইনজীবীরা নামটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল হাস্যরস হয়। এরপরই তাঁকে ‘সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া’ চরিত্র হিসেবে দেখানোর প্রবণতাও জোরালো হয়।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ফুটবলে এমবাপ্পের কথিত প্রভাব। ২০২২ সালে পিএসজিতে নতুন চুক্তি করার পর সংবাদমাধ্যমে এমন খবর এসেছিল, ক্লাবের খেলোয়াড় কেনাবেচা, কোচ ও ক্রীড়া পরিচালকের মতো বিষয়ে তাঁর প্রভাব থাকবে। এমবাপ্পে অবশ্য তখন স্পষ্ট করে বলেছিলেন, তিনি একজন ফুটবলারের ভূমিকার বাইরে যাবেন না।

এমবাপ্পের এই ছবিটি কৃত্রিমভাবে বানানো। এই চরিত্রে প্রচুর মিম দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

সেই পুরোনো আলোচনাই হয়তো নতুন করে রসদ পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদে তাঁর আগমনের পর। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে এআই নির্মিত ভিডিও ও ছবিতে ‘ডিক্টেটর এমবাপ্পে’ মিম ছড়িয়ে পড়ে আরও বেশি। মাঠে তাঁর নেতৃত্ব, সতীর্থদের সঙ্গে কথাবার্তা কিংবা সাধারণ কোনো ঘটনাকেও মজা করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন সব সিদ্ধান্ত তাঁর নির্দেশেই হচ্ছে।

এবার সেই মিম নিয়েই মুখ খুলেছেন এমবাপ্পে। ফ্রান্স ফুটবলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ব্যাপারটির এক দিক থেকে তাঁর কাছে মজার। কারণ, অনেকেই যে নিছক হাসি-ঠাট্টার জন্য এসব করেন, সেটি তিনি বোঝেন। কিন্তু ইতিহাসের ভয়াবহ স্বৈরশাসকদের সঙ্গে তুলনাটা তাঁর কাছে অস্বস্তিকর।

কেন, সেটি শুনুন এমবাপ্পের ভাষ্যেই, ‘যারা মানুষ হত্যা করেছে, লাখো-কোটি মানুষকে দুর্ভোগে ফেলেছে, তাদের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। আমি তো জীবনে এমন কিছু করিনি।’ তাঁর মতে, স্বৈরাচার এমবাপ্পের মিমটি কখনো কখনো মজার হলেও এর মধ্যে মানুষের রাজনৈতিক ও মানবিক সচেতনতার ঘাটতিও প্রকাশ পায়।

তবে সতীর্থ উসমান দেম্বেলের দেওয়া ‘মোবুতু’ ডাকটি আলাদা চোখেই দেখেন এমবাপ্পে। সাবেক জায়ারের স্বৈরশাসক মোবুতু সেসে সেকোর নাম থেকে আসা এই ডাক নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই। দেম্বেলেকে নিয়ে হেসে এমবাপ্পে বলেছেন, ‘ও আলাদা কিছু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেয়েছে! ও তো শুধু মজা করছে।’

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বড় হচ্ছে ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজার, মাসে বিক্রি সাড়ে ৩ হাজার
বড় হচ্ছে ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজার, মাসে বিক্রি সাড়ে ৩ হাজার

মাসে বিক্রি হচ্ছে গড়ে সাড়ে তিন হাজার ইলেকট্রিক স্কুটার এপ্রিলে ইলেকট্রিক স্কুটারের বিক্রি দাঁড়িয়েছিল ৫ হাজারে বর্তমানে শেয়ার ১০ শতাংশ থাকলেও ইভির দখলে যাবে ৩০ শতাংশ মাসে মোটরসাইকেল বিক্রি হয় প্রায় ৩০ হাজার দেশে ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজার দ্রুত বড় হচ্ছে। গত বছরের নভেম্বরে যেখানে মাসে মাত্র ৯৬৯টি স্কুটার বিক্রি হয়েছিল, চলতি বছরের আগস্টে তা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৪১৪টি। এর আগে জ্বালানি সংকটের মধ্যে গত এপ্রিলে মাসিক বিক্রি বেড়ে প্রায় ৫ হাজারে উঠেছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কম পরিচালন ব্যয় ও জ্বালানি সংকটের কারণে ইলেকট্রিক স্কুটারের প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। জানা গেছে, দেশে বর্তমানে দুই চাকার যেসব ইলেকট্রিক বাহন দেখা যায় তার ৯০ শতাংশের বেশি স্কুটার। তার মধ্যে ই-বাইক রয়েছে খুবই অল্প পরিমাণে। মূলত, দাম বেশি হওয়ায় এখনো ইলেকট্রিক বাইক বা মোটরসাইকেল তেমন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না। তবে ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজার বড় হচ্ছে হু হু করে। সবশেষ আগস্টের বিক্রয় তথ্য অনুযায়ী, মাসটিতে ৩ হাজার ৪১৪টি ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকেল) স্কুটার বিক্রি হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে চীনা ব্র্যান্ড ইয়াদিয়ার স্কুটার বিক্রি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। আগস্টে ব্র্যান্ডটি ৭৩৬টি স্কুটার বিক্রি করে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ বাজার অংশীদারত্ব নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। ছবি: জাগো নিউজ গ্রাফিক্স এরপর রিভো ৫০০টি স্কুটার বিক্রি করে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং টেইলজি ৩৪৮টি স্কুটার বিক্রি করে ১০ দশমিক ২ শতাংশ বাজার অংশীদারত্ব নিয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। একই সময়ে রাইডো ২৫৮টি এবং ওয়ালটন ১৮০টি ইলেকট্রিক স্কুটার বিক্রি করেছে। বাকি ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ স্কুটার বিক্রি হয়েছে অন্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডের। শিল্প খাতটির তথ্যমতে, গত বছরের নভেম্বরে ৯৬৯টি ইলেকট্রিক স্কুটার বিক্রি হলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫২৯টিতে। মার্চে বিক্রি হয় প্রায় ২ হাজার ৫০০টি এবং জ্বালানি সংকটের মধ্যে এপ্রিলে সর্বোচ্চ প্রায় ৫ হাজার স্কুটার বিক্রি হয়। এরপর মে মাসে বিক্রি কমে প্রায় ৩ হাজারে নামলেও জুনে তা আবার বেড়ে ৩ হাজার ৮০০, জুলাইয়ে ৩ হাজার ৭৭৫ এবং আগস্টে বিক্রি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৪১৪টিতে। এছাড়া গত ডিসেম্বরে ১২৮৯ ও জানুয়ারিতে ১৪১৭টি স্কুটার বিক্রি হয়। বিদ্যুৎচালিত স্কুটারের বিক্রি বেড়েছে ৭৫ শতাংশ দেশে বিদ্যুৎচালিত স্কুটারের মধ্যে ইয়াদিয়া, রিভো, আকিজ, ওয়ালটন ও রাইডো উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে ইয়াদিয়া স্কুটার বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে রানার। রিভোর একটি ইলেকট্রিক স্কুটার/ছবি: সংগৃহীত   রানার অটোমোবাইল পিএলসির চিফ বিজনেস অফিসার মুহাম্মাদ আবু হানিফ জাগো নিউজকে বলেন, গত অর্থবছরে মাসিক গড়ে প্রায় দুই হাজার স্কুটার বিক্রি হলেও চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে তা বেড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজারে উঠেছে। এ হিসাবে মাসিক গড় বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৭৫ শতাংশ। জুলাইয়ে বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৭৭৫টি, আর আগস্টে প্রায় ৩ হাজার ৪১৪টি। আরও পড়ুন উদ্ভাবনী ফিচার নিয়ে বাজারে ইলেকট্রিক স্কুটার ‘রাইডো’ জ্বালানি সংকটের সময় ইলেকট্রিক স্কুটারের বিক্রি আরও বেড়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত এপ্রিলে বিক্রি প্রায় ৫ হাজারে উঠেছিল। এরপর মে মাসে ৩ হাজার, জুনে ৩ হাজার ৮০০ এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৩ হাজার ৭৭৫টি স্কুটার বিক্রি হয়েছে। আগস্টে এসে বিক্রি কিছুটা কমে ৩ হাজার ৪১৪টিতে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎচালিত স্কুটারের মধ্যে দেশে রাইডো ব্র্যান্ডের স্কুটারই সবচেয়ে সাশ্রয়ী। ৫০ হাজার টাকার কমেও এই ব্র্যান্ডের স্কুটার পাওয়া যায়। রাইডোর একটি ইলেকট্রিক স্কুটার/ছবি: সংগৃহীত রাইডোর হেড অব মার্কেটিং শরীফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বাংলাদেশের ইলেকট্রিক টু-হুইলারের বাজার এখনো মোট মোটরসাইকেলের বাজারের মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ। তবে এই বাজারে প্রবৃদ্ধির গতি খুবই শক্তিশালী। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই ৭ হাজারের বেশি ই-বাইক ও ই-স্কুটার বিক্রি হয়েছে। জুলাই থেকে আগস্টে বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। একই সময়ে ই-বাইকের আমদানিও এক বছরে ৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অর্থাৎ, বাজারটি এখন প্রাথমিক পর্যায় পেরিয়ে দ্রুত সম্প্রসারণের দিকে যাচ্ছে। কেন বাড়ছে বিক্রি জ্বালানির উচ্চমূল্য, জ্বালানি সংকট ও ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়ায় মানুষ এখন বৈদ্যুতিক বাহনের দিকে ঝুঁকছে। সরকারও দেশে ইলেকট্রিক ভেহিকেলের প্রসারে আগ্রহী। এ বিষয়ে রানার অটোমোবাইল পিএলসির চিফ বিজনেস অফিসার মুহাম্মাদ আবু হানিফ জাগো নিউজকে বলেন, দিন দিন মানুষ ইলেকট্রিক বাইকের দিকে ঝুঁকছে। এর প্রধান দুটি কারণ হলো—এটি পরিবেশবান্ধব এবং খরচ সাশ্রয়ী। এ দুই কারণে ক্রেতারা প্রচলিত জ্বালানিচালিত মোটরসাইকেলের পরিবর্তে ইলেকট্রিক বাইকের দিকে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। আরও পড়ুন রানার অটোমোবাইলস নিয়ে এলো ‘ইয়াদিয়া’র ইলেকট্রিক স্কুটার আবু হানিফ আরও বলেন, ই-বাইক একবার চার্জ দিলে মাত্র ১৪-১৫ টাকা খরচ হয় আর চলে ১০০ কিলোমিটার। পেট্রোলচালিত বাইকে ১ কিলোমিটার চললে সাড়ে চার টাকা খরচ হয়, আর ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল ১ কিলোমিটার চললে খরচ হয় ১৪ পয়সা। জ্বালানির উচ্চমূল্য ও সংকটের কারণে মানুষ তেলের পেরেশানি থেকে বাঁচতে এখন ইলেকট্রিক ভেহিকেলের দিকে ঝুঁকছেন। রাইডোর একটি ইলেকট্রিক স্কুটার/ছবি: সংগৃহীত জানতে চাইলে রাইডোর হেড অব মার্কেটিং শরীফুল ইসলাম বলেন, ইলেকট্রিক টু-হুইলারের বাজার বড় হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ এর কম পরিচালন ব্যয়। মডেল ও চার্জিং খরচভেদে একটি ইলেকট্রিক টু-হুইলার চালাতে প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ১৫ থেকে ২০ পয়সা খরচ হয়। বিপরীতে পেট্রোলচালিত মোটরসাইকেলে জ্বালানি খরচ পড়ে প্রায় ২ থেকে ৩ টাকা। এর পাশাপাশি জ্বালানিনির্ভরতা কমানো, কম রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, বাড়িতে চার্জ দেওয়ার সুবিধা এবং দৈনন্দিন যাতায়াতে সহজলভ্যতার কারণে গ্রাহকদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। ৩০ সালে বছরে বিক্রি হতে পারে ৭০ হাজার ই-বাইক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ই-বাইক বাজারে প্রায় ১৫ শতাংশ হারে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে। ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ইলেকট্রিক টু-হুইলার বিক্রি ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজারে পৌঁছাতে পারে। সে সময় বাজারটির বার্ষিক খুচরা মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে। এমন তথ্যই দিয়েছেন রাইডোর হেড অব মার্কেটিং শরীফুল ইসলাম। আরও পড়ুন আরও তিনটি শোরুম চালু করলো ইলেকট্রিক স্কুটার ব্র্যান্ড রাইডো তার মতে, চার্জিং নেটওয়ার্ক, ব্যাটারি সাপোর্ট, গ্রাহক পর্যায়ে অর্থায়ন এবং স্থানীয় উৎপাদন দ্রুত সম্প্রসারণ করা গেলে বছরে ৫০ হাজারের বেশি ইলেকট্রিক স্কুটার বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছর বাংলাদেশের ইলেকট্রিক টু-হুইলার শিল্পের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধির সময় হতে পারে। ইয়াদিয়ার একটি ইলেকট্রিক স্কুটার/ছবি: সংগৃহীত ভবিষ্যৎ বাজার সম্পর্কে শরীফুল আরও বলেন, বাংলাদেশের ইলেকট্রিক ভেহিকেলের বাজারের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা অনেক বড়। সরকারের ইলেকট্রিক মোটর ভেহিকেল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড অপারেশন গাইডলাইনে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক পরিবহনের অন্তত ৩০ শতাংশ ইলেকট্রিক ভেহিকেলে রূপান্তরের লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত ইভি ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট পলিসিতে স্থানীয় উৎপাদন, অ্যাসেম্বলি ও চার্জিং অবকাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জানতে চাইলে রানার অটোমোবাইল পিএলসির চিফ বিজনেস অফিসার মুহাম্মাদ আবু হানিফ জাগো নিউজকে বলেন, দেশে ইলেকট্রিক বাইকের বাজার দ্রুত বাড়ছে। তিন-ছয় মাস আগেও মোট মোটরসাইকেলের বাজারে ইভির শেয়ার ছিল প্রায় ২ শতাংশ। এখন মাসে দেশে ৩০ থেকে ৩২ হাজার মোটরসাইকেল বিক্রির মধ্যে ইলেকট্রিক বাইকের শেয়ার প্রায় ১০ শতাংশে উঠে এসেছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ইভির বাজার অংশীদারত্ব ৩০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আমরা আশা করছি। ইএইচটি/এমকেআর

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
পশু জবাইয়ের নতুন নির্দেশনা, কসাইখানা বন্ধ, এক ফিরোজের দীর্ঘশ্বাস

পশু জবাইয়ের নতুন নির্দেশনা, কসাইখানা বন্ধ, এক ফিরোজের দীর্ঘশ্বাস

যে ভবন রাত হলেই হয়ে উঠছে বিশাল ক্যানভাস

যে ভবন রাত হলেই হয়ে উঠছে বিশাল ক্যানভাস

স্মৃতির মুক্তো

স্মৃতির মুক্তো

সমিতির নেতাদের হাতেই জিম্মি পান রপ্তানি
সমিতির নেতাদের হাতেই জিম্মি পান রপ্তানি

দেড় দশক ধরে পান রপ্তানি করে মাইশা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। গত ডিসেম্বরে ওমানের মাসকটে ১৫০ বক্স পান (প্রতি বক্সে ১৭ কেজি) পাঠাতে ঢাকার বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে নিয়ে আসে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এই পান রপ্তানির জন্য পান রপ্তানিকারক সমিতির কাছ থেকে প্রত্যায়ন পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে তারা পান রপ্তানি করতে পারেনি। এতে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা লোকসান হয় তাদের।মাইশা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী কাউছার আহমেদ অভিযোগ করেন, ‘পান রপ্তানিকারক সমিতির নেতাদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ডিসেম্বরের পর আর পান রপ্তানি করতে পারছি না। রপ্তানি করতে হলে সমিতির সদস্যপদ থাকা বাধ্যতামূলক। গত বছর সদস্যপদ নিয়েছি, তবে টাকা জমা দিলেও সদস্যপদ নবায়ন করছে না সমিতি। কেন করছে না, সেটিও বলছে না।’কাউছার আহমেদের মতো আরও বেশ কয়েকজন রপ্তানিকারক পান রপ্তানি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। তাঁদেরও অভিযোগ, এই খাতের সংগঠন বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতির বিরুদ্ধে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। ফলে দেশ থেকে পান রপ্তানি কমে গেছে। এই সুযোগে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের পানের বাজার চলে যাচ্ছে প্রতিযোগী দেশগুলোর দখলে।ভুক্তভোগী রপ্তানিকারকেরা বলছেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় বাণিজ্য সংগঠন গঠিত হয়। অথচ পান রপ্তানিকারক সমিতির নেতারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত। কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতি বক্স পান রপ্তানির বিপরীতে নির্ধারিত হারে চাঁদা না দিলেই সমিতির সদস্যপদ থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়। তখন ওই প্রতিষ্ঠান আর পান রপ্তানি করতে পারে না।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যানুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩ কোটি ৪৮ লাখ মার্কিন ডলারের পান রপ্তানি হয়েছে। পরের অর্থবছর সেটি কমে হয় ২ কোটি ১৬ লাখ ডলার। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশ থেকে ৪২ লাখ কেজি পান রপ্তানি হয়েছে, যার রপ্তানিমূল্য ২ কোটি ২৮ লাখ ডলার। রপ্তানি হওয়া পানের বড় অংশই যায় মধ্যপ্রাচ্যে। গত অর্থবছর রপ্তানির ৯০ শতাংশ বা ২ কোটি ৬ লাখ ডলারের পান রপ্তানি হয় সৌদি আরবে।জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফভিএপিইএ) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনসুর বলেন, সবজি রপ্তানিকারকেরাই মূলত পান রপ্তানি করতেন। পান রপ্তানিকারক সমিতির সদস্যপদ নেওয়ার শর্ত আরোপের পর পান রপ্তানি নিয়ে জটিলতা শুরু হয়েছে। এমন ব্যবস্থা কোথাও নেই। চরম অন্যায় হচ্ছে। মুক্তবাণিজ্যের অর্থনীতিতে এমনটা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি বন্ধ হওয়া দরকার।পান রপ্তানিতে সমস্যার শুরুপান রপ্তানিকারক সমিতি ২০০২ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নিবন্ধন পায়। পরে এই সমিতির নিবন্ধন বাতিল চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট মামলা করে বিএফভিএপিইএ। ২০০৫ সালে পান রপ্তানিকারক সমিতির নিবন্ধন বাতিল হয়। তখন আবার আবেদন করলে বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতি নামে নতুন বাণিজ্য সংগঠনের নিবন্ধন দেয় মন্ত্রণালয়। আবার রিট করে বিএফভিএপিইএ। সেই রিটের নিষ্পত্তি হয় ২০২৩ সালে, সমিতির পক্ষে রায় দেন উচ্চ আদালত।জানা গেছে, প্রথমবার নিবন্ধন পাওয়ার পর পান রপ্তানিকারক সমিতির তদবিরে ২০০৩ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করে যে সমিতির সদস্য ছাড়া কেউ পান রপ্তানি করতে পারবে না। তখন সমিতির বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকায় নির্দেশনাটি কার্যকর হয়নি। মামলা নিষ্পত্তি হলে সমিতির নেতারা তৎপর হয়ে ওঠেন। গত বছরের শুরুতে এনবিআর ২০০৩ সালের নির্দেশনা বলবৎ আছে কি না, সে বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চায়। মন্ত্রণালয় ইতিবাচক মত দিলে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা কাস্টম হাউস নির্দেশনা দেয়, পান রপ্তানিকারক সমিতির প্রত্যয়নপত্র ছাড়া পান রপ্তানির বিল অব এক্সপোর্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে না। যদিও মন্ত্রণালয়ের পুরোনো নির্দেশনা ছিল, সদস্যপদ থাকতে হবে।একাধিক পান রপ্তানিকারক জানান, কাস্টম হাউসের নির্দেশনার পর পান রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ২৫ হাজার টাকা ফি দিয়ে সমিতির সদস্য হয়। তারপর প্রতি চালানে এক হাজার টাকা ফি দিয়ে সমিতির কাছ থেকে পান রপ্তানির প্রত্যয়নপত্র নিতে হয়। তবে গত বছরের শেষ দিকে প্রতি বক্স পান রপ্তানির প্রত্যয়নপত্র নিতে বাড়তি অর্থ আদায় করতে শুরু করেন সমিতির নেতারা।অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে ইপিবি১৭ জন পান রপ্তানিকারক চলতি বছরে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোতে (ইপিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেন, পান রপ্তানিকারক সমিতি পানের রপ্তানি বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। বিষয়টি তদন্ত করে ইপিবি অভিযোগের সত্যতাও পায়।গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ এনবিআরের গত বছরের নির্দেশনা সংশোধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, রপ্তানির প্রতি চালানের আগে প্রত্যয়নপত্র ইস্যুর বাধ্যবাধকতার কারণে সময় ও ব্যয় উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। রপ্তানিকারকেরা অহেতুক বিড়ম্বনায় পড়ছেন। পান রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে।ইপিবির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ৮ এপ্রিল পান রপ্তানি সহজ, বাধা দূর ও নির্বিঘ্ন করতে ২০২৩ সালের নির্দেশনাটি বাতিল করে। এই নির্দেশনার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট মামলা করে পান রপ্তানিকারক সমিতি। শুনানির পর আদালত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তটি তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে সেই স্থগিতাদেশ এক বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।জানা যায়, উচ্চ আদালত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত স্থগিত করার পর থেকে পান রপ্তানির জন্য সমিতির সদস্যপদ বাধ্যতামূলক করে ঢাকা কাস্টম কর্তৃপক্ষ। তার পর থেকেই কিছুদিন পরপর সদস্যদের নতুন নতুন তালিকা পাঠাতে শুরু করে পান রপ্তানিকারক সমিতি। গত ২৫ মে ৫৫ জন সদস্যের একটি তালিকা ঢাকা কাস্টমে দেয় সমিতি। তার ছয় দিন পর নতুন করে আবার ৫৭ জনের আরেকটি তালিকা দেয় তারা। সেখানে আগের তালিকার ছয় প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল না। একইভাবে ২৩ ও ২৭ জুলাই নতুন তালিকা দেয় সমিতি।রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ডলফিন ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সৌদি আরবে পান রপ্তানির জন্য আমার কাছে সমিতির প্রতিনিধিরা বক্সপ্রতি ৫০০ টাকা দাবি করেন। আমি কোনো টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানাই। তার পর থেকে আমার প্রতিষ্ঠানের নাম সমিতির সদস্যপদের তালিকায় দেওয়া হয় না। গত ২৫ জুনের পর আর পান রপ্তানি করতে পারিনি।’৪ জুন সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পান রপ্তানির সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি রোধের ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, পান রপ্তানিকারক সমিতি সৌদি আরবে পান রপ্তানির ক্ষেত্রে কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় এই খাত সংকটের মুখে পড়েছে।কাদের হাতে সমিতিপান রপ্তানিকারক সমিতির জন্মলগ্ন থেকেই সাধারণ সম্পাদক এ আর এস জেনারেল ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী জামাল উদ্দিন সিকদার। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গত তিন অর্থবছরে এই প্রতিষ্ঠান এক ডলারের পানও রপ্তানি করেনি। একইভাবে সমিতির সভাপতি এমরামুল করিমের প্রতিষ্ঠান মেট্রোপলিটন ট্রেডার্স এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হোসাইনুল কবির চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান এম এইচ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিংয়েরও গত তিন অর্থবছর একটি পানও রপ্তানির কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।পান রপ্তানির প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার বিপরীতে বক্সপ্রতি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন সিকদার গত বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই অভিযোগ মিথ্যা। আমরা অর্থ নিয়েছি, কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। প্রত্যয়নপত্র নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের পান রপ্তানি করায় আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে একটি চালানের জন্য তালিকা থেকে বাদ দিই। সে কারণে অনেক সময় তালিকায় কয়েকজন সদস্যদের নাম থাকে না।’ রপ্তানি না করেও সমিতির শীর্ষ পদে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ‘মামলা চালাতে গিয়ে আমি ব্যবসা করতে পারিনি। আমাদের (সমিতির শীর্ষ নেতৃত্ব) উদ্দেশ্য হলো ঝামেলাগুলো শেষ করে আমরা ব্যবসা করব।’সমিতির প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডের কারণে পান রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দুই অর্থবছর ধরে কমছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭২টি প্রতিষ্ঠান পান রপ্তানি করেছে। পরের বছর সেটি কমে হয় ৬১, যা গত অর্থবছর আরও কমে ৪৪টিতে নেমে যায়।জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, যেসব অভিযোগ এসেছে তাতে স্পষ্ট, সমিতির নেতারা রপ্তানিকারকদের জিম্মি করেছেন। পান রপ্তানিতে হয়রানি বন্ধে সরকারি হস্তক্ষেপ দরকার। সমিতির আয়-ব্যয়সহ অন্যান্য কার্যক্রমের নিরীক্ষা করতে হবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে। সেখানে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনগতভাবেও দ্রুত মীমাংসার উদ্যোগ লাগবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে অন্য পণ্যের মতো পান রপ্তানিতেও একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন করতে হবে।

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
বাঙালির ঐশ্বর্যময় চিন্তাধারা

বাঙালির ঐশ্বর্যময় চিন্তাধারা

টিকিট কালোবাজারিতে ৬৮৫ অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ ইউনাইটেডের

টিকিট কালোবাজারিতে ৬৮৫ অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ ইউনাইটেডের

মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের শিল্প-বাজারে বাংলাদেশের নজর

মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের শিল্প-বাজারে বাংলাদেশের নজর

রাজাউল্লাহর ব্যাটে ইংল্যান্ডকে ১৩০ রানের লক্ষ্য দিলো পাকিস্তান
রাজাউল্লাহর ব্যাটে ইংল্যান্ডকে ১৩০ রানের লক্ষ্য দিলো পাকিস্তান

টানা দুই টেস্টে হেরে স্কোয়াডের ৭ ক্রিকেটারকে বদলে ফেলে পাকিস্তান। এরপরও তৃতীয় ও শেষ টেস্টেও শঙ্কা জাগে ইনিংস পরাজয়ের। তবে সেই ঝুঁকি এড়িয়েছে সফরকারীরা অভিষিক্ত রাজাউল্লাহর ব্যাটে। ফলো-অন এড়ানোর পর লিডও নিয়েছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪৯ রানে অলআউট হয়ে ইংল্যান্ডকে লক্ষ্য দিয়েছে ১৩০ রানের। গতকাল শুক্রবার এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলায় চার অর্ধশতকে ইনিংস হারের বিপদ দূর করে পাকিস্তান। আজান আওয়াইজ, শান মাসুদ, বাবর আজম ও অভিষিক্ত রাজাউল্লাহ দেখা পান ফিফটির। তবে শতকের খুব কাছাকাছি গিয়েও ৫ রানের জন্য মিস করেছেন শান মাসুদ। আউট হয়েছেন ৯৫ রানে। অ্যাটকিনসনের বলে আউট হওয়ার আগে আজান ও বাবরের সঙ্গে গড়েন ১২৫ ও ৮৯ রানের জুটি। আজান ৫৯ করে ফিরলে তৃতীয় উইকেট হারায় পাকিস্তান। এরপর আউট হন শান মাসুদ। তবে হাল ধরে রেখেছিলেন অধিনায়ক বাবর আজম। কিন্তু তিনিও শেষ পর্যন্ত কাটা পড়েন জশ টাঙের বলে ৭৬ রানে। এরপরও লেজের ব্যাটাররা লড়াই চালিয়ে যান। অভিষিক্ত রাজাউল্লাহ ও মোহাম্মদ আব্বাদ মিলে গড়েন ১২১ রানের জুটি। ৪২ রান করা আব্বাসের বিদায়ে নবম উইকেটের পতন হয়। তবে সবাইকে অবাক করে দেয় রাজাউল্লাহর ব্যাটিং। ৮১ রান করেন তিনি ড্যান লরেন্সের বলে। ৪৪৯ রানে অলআউট হওয়া পাকিস্তান লিড নেয় ১২৯ রানের। এরপরই শেষ হয় পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস। ফলে ইংল্যান্ডের সামনে চতুর্থ দিন টেস্ট জিততে লক্ষ্য ১৩০ রান। ইংলিশদের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন অ্যাটকিনসন। সমান দুটি করে রবিনসন, টাঙ ও লরেন্স। একটি আর্চার। আইএন

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাইকে নিয়ে থাকেন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বোন, মানুষ দিলে জোটে খাবার

শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাইকে নিয়ে থাকেন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বোন, মানুষ দিলে জোটে খাবার

একই বৃত্তে ঘুরপাক নারী ক্রিকেটের, সমাধান কী

একই বৃত্তে ঘুরপাক নারী ক্রিকেটের, সমাধান কী

অসমাপ্ত ঝগড়াগুলো

অসমাপ্ত ঝগড়াগুলো

0 Comments