দেশের মানুষ যখন বন্যায় মারা যাচ্ছে, গৃহপালিত পশু ডুবে যাচ্ছে, তখন বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরিশালে গেছেন বলে তাঁকে কটাক্ষ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, ‘বন্যায় গরু ডুবে যাচ্ছে, মানুষ মারা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী সেখানে না গিয়ে গেলেন বরিশালে। এর আগের দিন উনি ঢাকা মেডিকেলে গেলেন, প্রিয় জুবাইদা রহমানের সঙ্গে সেলফি তুললেন।’ প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘বিয়ের আগে শুনেছি মানুষ প্রেম করে, প্রধানমন্ত্রীর আলহামদুলিল্লাহ বিয়ের পরে যে সুন্দর প্রেম, বাংলাদেশের মানুষ শুধু প্রেম দেখতে পাচ্ছে। আপনাকে আমরা ভোট দিয়েছি, আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বাংলাদেশের মানুষের সংস্কার বাস্তবায়ন করার জন্য, বিচার করার জন্য, আওয়ামী লীগের গুন্ডা-সন্ত্রাসীদের শায়েস্তা করার জন্য, বন্যাদুর্গত এলাকায় যাওয়ার জন্য—আপনাকে লাল বাসে ঘুরে ঘুরে প্রেম করার জন্য মানুষ প্রধানমন্ত্রী বানায় নাই।’ আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নওগাঁর বদলগাছী ডাকবাংলো মোড়ে এনসিপির দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আপনাদের সন্তানেরা যারা এইচএসসি পরীক্ষার্থী আছে, তারা সাঁতার কেটে গিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। এহছানুল হক মিলন, আমার এলাকার ভাই, উনি খুব সজ্জন ব্যক্তি, খুব সুন্দর ভাব দেখান। বাংলাদেশের মন্ত্রীরা এমন একটা ভং ধরে থাকে যে, সে সবচেয়ে ভালো লোক। আপনার সন্তান সাঁতার কেটে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে, তার সঙ্গে যে মা আছে, বাবা আছে—হাঁটু পরিমাণ রাস্তার পানির মধ্যে গর্তে পড়ছে। আপনার চোখে লজ্জা-শরম নাই?’ প্রথম বরিশাল সফরে গৌরনদীতে প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করবেন বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিরপ্রথম বরিশাল সফরে গৌরনদীতে প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করবেন বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সরকারের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সরকার যদি এইচএসসি পরীক্ষা এক দিন স্থগিত করত বা পরে নিত, তাহলে কী কোনো সমস্যা হতো। যিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন, উনি এসি রুমে বসে না থেকে যদি গিয়ে বলত যে—‘‘আমি তোমাদের জন্য নৌকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি বা এই পরিস্থিতি করে দিচ্ছি, যেখানে পানি সেখানে সেন্টার না করে অন্য জায়গায় সেন্টার দিয়ে দিচ্ছি’’, তাহলে শিক্ষার্থীরা সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিতে পারত।’ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আপনারা একটা ভবনের নাম শুনেছেন—হাওয়া ভবন। এই হাওয়া ভবনের যারা, তারা এখন বাংলাদেশে আইসা ক্ষমতায় বসেছে। এদের হাতে বাংলাদেশ, আমরা নিরাপদ মনে করি না। আমাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষাব্যবস্থা যদি ঠিক করতে হয়, তাহলে এদের থেকে বাংলাদেশকে মুক্তি দিতে হবে।’ জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাহফুজার রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমনসহ আরও অনেকেই বক্তব্য দেন।
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে কাতারের বর্তমান আমির, রাজপরিবার এবং ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি সংহতি ও সমবেদনা জানাতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দোহা যাচ্ছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে সরকারের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমে এ তথ্য জানান। এদিকে কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক পালন করবে। প্রসঙ্গত, রোববার (১২ জুলাই) কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে পাঠানো শোকবার্তা পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশ সরকার, দেশের জনগণ এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনি কাতারের আমির, রাজপরিবার, সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম কাতারের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
চট্টগ্রাম নগরে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে তা না পেয়ে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে দিনদুপুরে হামলা, ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। হুমকি দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিককে। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীতে এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে ঢুকে তাণ্ডব চালানো দুর্বৃত্তদের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে তা প্রকাশ করুন। তাদের পাকড়াও করে আইনের আওতায় আনুন। জানি না, কঠিন শাস্তির বিধান হবে কি না। লক্ষণ খুব ভালো নয়। জনগণকেই এখন নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ সরকার কোনো কার্যকর নিরাপত্তা দিতে পারছে না। একের পর এক অভিনব ঘটনা ঘটেই চলছে। এদের খুঁটির জোর কোথায়? সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত। তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরিশালের বাবুগঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়াস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি পায়ে হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গম ও ঘন জঙ্গলের ভেতর সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাকে মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং সেনাসদস্যদের কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা তাকে এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশে যান। তিনি জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দেন। এক পর্যায়ে তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান এবং তাদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও খান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় তাকে। পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে সেনাবাহিনীর প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে। এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি নিজে একটি সেনা পরিবারে বড় হয়েছেন। তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে তার ভালো লাগে এবং শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে। সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলা ও তাদের সান্নিধ্যে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে তিনি যেন শৈশবে ফিরে যান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামী দিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজে বৃহস্পতিবার পবিত্র কোরআনের সূরা মুমিনুনের চারটি আয়াত পোস্ট করা হয়েছে। সূরাটির ২ থেকে ৫ নম্বর আয়াতে মুমিনদের কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে মহান আল্লাহ বলেছেন— ‘যারা নিজেদের নামাজে বিনয়-নম্র; যারা অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকে; যারা যাকাত দান করে এবং যারা নিজেদের লজ্জাস্থানকে সংযত রাখে।’ এই চার আয়াত আসলে একজন মানুষের ব্যক্তিগত ইবাদত, সামাজিক আচরণ, অর্থনৈতিক দায়িত্ব এবং নৈতিক চরিত্র—সবকিছুর একটি পূর্ণাঙ্গ ভারসাম্যপূর্ণ রূপরেখা দেয়। কোরআনে বলা হয়েছে, যারা এই গুণগুলো অর্জন করতে পারবেন, তারাই শেষ পর্যন্ত জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হবেন। ২ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক তুলে ধরে মুফাসসিররা বলেছেন, কেবল যান্ত্রিকভাবে রুকু-সিজদা করার নাম নামাজ নয়। নামাজ পড়ার সময় মনকে দুনিয়াবি চিন্তা, ব্যবসা বা মোবাইল স্ক্রিন থেকে মুক্ত রাখা এবং শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখা এই গুণের অন্তর্ভুক্ত। মুমিন ব্যক্তি মনে করেন, তিনি আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়েছেন এবং আল্লাহ তাকে দেখছেন। ৩ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক তুলে ধরে বলা হয়েছে, বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক, ট্রল করা, পরনিন্দা, অর্থহীন আড্ডা বা সময় নষ্টকারী বিনোদনে মেতে থাকা এর অন্তর্ভুক্ত। একজন সফল মুমিন নিজের সময়ের মূল্য বোঝেন এবং যা কোনো কল্যাণে আসে না, তা থেকে সযত্নে নিজেকে দূরে রাখেন। ৪ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক হলো, নিজের সম্পদের ওপর যখন গরিবের হক বা অধিকার তৈরি হয়, তখন তা স্বেচ্ছায় ও সঠিক নিয়মে অভাবী মানুষের হাতে তুলে দেওয়া। এটি একদিকে যেমন মানুষের মন থেকে কৃপণতা ও লোভ দূর করে আত্মাকে পবিত্র করে, অন্যদিকে সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে। ৫ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক হলো, আধুনিক সমাজে যেখানে পর্নোগ্রাফি, অবাধ মেলামেশা এবং অনৈতিক সম্পর্কের সুযোগ খুব সহজলভ্য, সেখানে একজন মুমিন নিজের চোখ, মন এবং চরিত্রকে আল্লাহর দেওয়া সীমানার ভেতরে ধরে রাখেন। বৈধ উপায়ের (বিবাহের) বাইরে সব ধরনের অনৈতিকতা থেকে নিজেকে রক্ষা করাই এর মূল উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ ও প্রচারণায় পবিত্র কোরআনের আয়াত বা ধর্মীয় বার্তার ব্যবহার নতুন কিছু নয়। তাদের যেকোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা জনসমক্ষে এ ধরনের পোস্টের পেছনে রাজনৈতিক এবং আদর্শগত কয়েকটি দিক জড়িয়ে থাকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ যেভাবে দেখে থাকেন, তা হলো—দলটির মূল রাজনৈতিক দর্শনই হলো সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা। ফলে, তাদের প্রচারণায় কোরআন-হাদিসের উদ্ধৃতি থাকাটা তাদের দলীয় পরিচিতিরই একটি স্বাভাবিক অংশ। এই ধরনের পোস্টের মাধ্যমে দলটি সমাজে নিজেদের একটি নৈতিকভাবে অবক্ষয়মুক্ত, সৎ ও সুশৃঙ্খল শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়, যা তাদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় তাদের আলাদা ভাবমূর্তি তৈরিতে সাহায্য করে। তাছাড়া, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে স্পর্শ করা এবং তাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ধর্মীয় বাণী একটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম। সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে যখন নৈতিক বা ধর্মীয় পোস্ট দেওয়া হয়, তখন তা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং দলের প্রতি এক ধরনের সফট কর্নার তৈরি করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান তৃতীয়তে। এখান থেকে বের হওয়া খুবই জরুরি। কিন্তু সভ্য দেশ হয়েও যেভাবে যত্রতত্র কলকারখানা তৈরি করা হচ্ছে, তা কাম্য নয়। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পরিবেশ দিবসে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেশিরভাগ মানুষ পরিবেশ সম্পর্কে অজ্ঞ। তাই মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এ সময় নির্বাচনের আগেই দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কোন পরিবেশে কেমন গাছ লাগাতে হবে– এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ইউক্যালিপটাসের মতো ক্ষতিকর গাছ লাগানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় জাতীয় পরিবেশ পদক পেয়েছেন তিন ব্যক্তি ও তিন প্রতিষ্ঠান। বৃক্ষরোপনে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন সাত শ্রেণিতে মোট ২১ জন। উল্লেখ্য, গত সোমবার (৬ জুলাই) বিশ্বের ১৭৩টি বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকা প্রকাশ করে বিশ্বের প্রভাবশালী সাময়িকী ইকোনমিস্ট গ্রুপের গবেষণা বিভাগ ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। তালিকা অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা। ২০২৫ সালেও একই অবস্থানে ছিল বাংলাদেশের রাজধানী।
চলতি বছরে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি খাতে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বন্ধ কলকারখানা চালু করে ফের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায় সরকার। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বন্ধ পাটকল পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ অলস পড়ে থাকার ফলে এখন দায়ে পরিণত হয়েছে, এগুলোকে আবার সম্পদে পরিণত করতে কাজ করছে সরকার। পাশাপাশি, প্রাইভেট সেক্টরকে নতুন বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে সরকারের প্রয়োজনীয়তা সহযোগিতা থাকবে বলেও জানান মন্ত্রী। তৈরি পোশাক শিল্পের রফতানি কমে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে পোশাক রফতানি গতি পায়নি। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফের জন্য বৈশ্বিক ব্যবসার মন্দা ভাবও বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে প্রভাব পড়ছে। বিশ্বব্যাপী চলমান সমস্যা কেটে গেলে পোশাকের রফতানি বাড়বে। বৃহস্পতিবার সকালে টিকে গ্রুপের সাথে চুক্তি সম্পাদন হয়। চুক্তি অনুযায়ী, নরসিংদীর বাংলাদেশ জুট মিলসের ১৪ দশমিক ৮০ একর জমি লিজ প্রদান করা হয় টিকে গ্রুপকে৷ এতে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ৷ এতে কাজের সুযোগ পাবে ৩ হাজার কর্মী। এর আগে, একই জায়গায় ৭৭ একর জায়গা লিজ দেয়া হয় জুট এল্যায়েন্সকে।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়ে দায়িত্বরত এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পর নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নড়িয়া থানায় একটি জিডি করেছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা। জিডি সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তৌফিকুল ইসলাম নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুন দুপুর প্রায় ২টার দিকে তিনি সরকারি দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর কার্যালয়ে এসে উপজেলা প্রকৌশলীর অবস্থান জানতে চান। প্রকৌশলী রাস্তার কাজ পরিদর্শনে রয়েছেন বলে জানানো হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। একপর্যায়ে তিনি উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলামের শার্টের কলার চেপে ধরে চড় মারেন। একই সঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারতে এসেছেন বলেও হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় মতিউর রহমান সাগর ভুক্তভোগীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা বা কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিলে তিনি আবারও অফিসে এসে মারধর করবেন এবং ক্ষতি করবেন। এ ঘটনার পর থেকে কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার এক মাস পর কেন জিডি করা হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আগেই ঘটেছিল, তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে আমার কিংবা আমাদের অফিসের অন্য কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আমি জিডি করেছি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মতিউর রহমান সাগরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপেও পাঠানো বার্তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। নড়িয়া থানার ওসি বাহার মিয়া বলেন, উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম অনলাইনে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। অভিযোগে তাকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন তিনি কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা এলাকার একটি হ্যাচারি থেকে জাতীয় মৎস্য দিবস উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি সেরা মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করবেন। বুধবার (৮ জুলাই) রাতে বিষয়টি দেশের একটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। তিনি জানান, জাতীয় মৎস্য দিবসের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান কটিয়াদীর আচমিতা এলাকার একটি হ্যাচারিতে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয়ভাবে দিবসটির উদ্বোধন করবেন এবং মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখা সেরা মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন। সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে কিশোরগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝেও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সফর সফল করতে প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সচিবালয়ে যাওয়ার পথে বেইলী রোডে দাঁড়িয়ে ধানের শীষ প্রতীক হাতে নিয়ে প্রতিদিন প্রধানমন্ত্রীকে স্যালুট জানানো নিরাপত্তাকর্মী আব্দুস সালামকে উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সকালে উপহার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন। উপহার পেয়ে তিনি বলেন, কল্পনাও করেননি তার মতো ক্ষুদ্র মানুষকে প্রধানমন্ত্রী মনে করবেন। আর্থিক টানাপোড়েনের বিষয়টি উল্লেখ করে তার ড্রাইভার ছেলের জন্য একটি চাকরির আবেদন জানান আব্দুস সালাম। মুখের জড়তা নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন বেইলী রোডে অবস্থিত যমুনা ব্যাংকের বুথের নিরাপত্তকর্মী আব্দুস সালাম। কারণ আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার জন্য উপহার পাঠিয়েছেন। আব্দুস সালামের গ্রামের বাড়ি পাবনার বেড়া থানায়। ২৫ বছর ধরে গাড়ি চালাতেন তিনি। স্ট্রোক করার পর তিন বছর ঘরবন্দি ছিলেন। অভাবের সংসারের চাকা সচল রাখতেই ৮ মাস আগে নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি নেন তিনি। সচিবালয়ে যাওয়ার পথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ধানের শীষ প্রতীক হাতে নিয়ে প্রতিদিন প্রধানমন্ত্রীকে স্যালুট জানান আব্দুস সালাম। প্রধানমন্ত্রীও তার স্যালুট গ্রহণ করেন। একজন নিরাপত্তাকর্মীর এই আবেগকে মূল্যয়ন করতে তার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আব্দুস সালামকে উপহার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজন মাহমুদও সেখানে ছিলেন। ১৭ বছর ধরে ধানের শীষকে বুকে ধারণ করেন জানিয়ে আব্দুস সালাম জানান, দেশ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সময় দিতে হবে। তাহলেই দেশ সামনের দিকে আগাবে।
জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেছেন, কেউ অপরাধ করলে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ অস্বীকার করত, কিন্তু আমাদের দলের মধ্যে এই কালচারে নেই। অতীতেও ছিল না, এখনো পুরোপুরিভাবেই এটা আমরা পরিহার করে চলি। তিনি বলেন, আমাদের দলের কোনো নেতা বা কর্মী বিপথগামী হতে পারে। যুবদল একটি বড় সংগঠন। তাকে আমরা শাস্তির আওতায় আনবো, আমরা বহিষ্কার করব এবং তার সঙ্গে কারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বহিষ্কারের পরেও যদি কোনো অপকর্ম করে সে দায় যুবদলের নয়। বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে হোটেল ভিক্টোরিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, যুবদলের বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তদন্ত করা উচিত। আমরা মনে করি যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে আইনের আওতায় নেবে এবং তার পেছনে কারা মদত দিচ্ছে সেটাও সরকারের বিভিন্ন ইন্টেলিজেন্স আছে তারা এটা বের করবে এবং তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যিনি বাংলাদেশে নজির স্থাপন করতে চান। তিনি চান বাংলাদেশকে মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে। তিনি ১৪টা গাড়ির বহর বাদ দিয়ে ৪টা গাড়ি নিয়ে চলেন। তিনি সিগন্যালে দাঁড়িয়ে সিগন্যাল মানেন এবং ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করেন। তিনি অসাধারণ হয়েও কত সাধারণ জীবন যাপন করেন এবং আমাদের দেশের এই ২০ কোটি মানুষকে মূলত এটা লেসন দেওয়ার জন্য যে, আমাদের প্রত্যেকেরই এরকম হওয়া উচিত। তিনি আমাদের প্রত্যেককে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, আগামী দিনে বাংলাদেশকে যদি আমরা সত্যিকার অর্থে মানবিক বাংলাদেশে তৈরি করতে চাই, যেই বাংলাদেশে বিএনপি সরকারের কাছে যারা বিএনপি করবে তারা যেমন নিরাপদ থাকবে, যারা বিএনপি করবে না তারাও বিএনপি সরকারের কাছে নিরাপদ থাকবে। তাহলে আমাদেরকে এরকমের হতে হবে। আমরা একে অপরকে ভাই-বন্ধু মনে করি, আপনাদের সহযোগিতা চাই এবং গঠনমূলক সমালোচনা আমরা যেকোনো সময় গ্রহণ করব। সাংবাদিকদের উদ্দেশে যুবদল সভাপতি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা আমাদেরকে করেন। আমি নিজেও যদি কোনো অন্যায় করি প্রমাণ সাপেক্ষে আপনারা আমার অন্যায়কে তুলে ধরবেন। কিন্তু আমি যাতে কোনো অন্যায়ের শিকার না হই। সেটাও আপনাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে লেখার মাধ্যমে। আপনি লিখলেন, সারা বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ জানল। সেখানে যেন অপপ্রচারের শিকার না হই। তিনি বলেন, আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক আমাদেরকে সাধারণ জীবনযাপনের মধ্যে থাকতে শিখিয়েছেন। আমার এবং সাধারণ সম্পাদকসহ আমাদের শীর্ষ নেতা এবং আমাদের যারা কেন্দ্রীয় নেতারা আছে তাদের প্রতি আমাদের একটি বার্তা। আমাদের কোনোরকমের লাইনচ্যুত হওয়ার সুযোগ নেই।
উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমান গত ১ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৮ জুলাই (বুধবার) দিন রাখেন। দুদক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, বিধি অনুযায়ী বিশেষ গভর্নিং কমিটির নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে অবৈধভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে কোনো ডিজি বা তার প্রতিনিধি এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক রাখা হয়নি। বিজ্ঞাপনে চাওয়া এনটিআরসিএ সনদ ছাড়াই প্রার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এমনকি লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরধারী প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র ইস্যু করা হয়। এসব অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে পূর্বপরিচিত ১৩ জন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অনুসন্ধানে প্রমাণ পায় দুদক। এ ঘটনায় রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মামলা করে দুদক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনের ধরনকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছেন দেশের তিন-চতুর্থাংশের বেশি মানুষ। নতুন এক জাতীয় জনমত জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। জরিপটি পরিচালনা করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডেল্টাগ্রাম। জরিপে অংশ নেওয়া ৩ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক উত্তরদাতার মধ্যে ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের কাজের ধরন তারা সমর্থন করেন। বিপরীতে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর ৭ দশমিক ২ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মত দেননি। ডেল্টাগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে এ জরিপ পরিচালিত হয়। বিএনপি সরকার গঠনের প্রায় চার মাস পর এই জনমত যাচাই করা হয়। জরিপে দেখা গেছে, বিভাগভিত্তিক হিসাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সমর্থন সবচেয়ে বেশি রংপুর বিভাগে, যেখানে অনুমোদনের হার ৮৩ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সমর্থন পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে এ হার ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ। গ্রামাঞ্চলে সরকারের প্রতি সমর্থন শহরের তুলনায় বেশি। জরিপে গ্রামীণ এলাকার ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। শহরাঞ্চলে এই হার ৭০ দশমিক ১ শতাংশ। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণেও সমর্থনের হার প্রায় একই রকম থাকলেও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এটি তুলনামূলক কম, ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ। জরিপে উঠে এসেছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার শুরুর দিকেই উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পেয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের মাধ্যমে গঠিত সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়ও রয়েছে। ডেল্টাগ্রাম জানিয়েছে, জরিপটি পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন—সবই প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হয়েছে। কোনো বেসরকারি জরিপ সংস্থার সহায়তা নেওয়া হয়নি। জরিপকারীদের প্রশ্নপত্র পরিচালনা ও নমুনা নির্বাচন পদ্ধতি বিষয়ে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হওয়া, অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যর্থতার তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে বিভাগভিত্তিক ফলাফল ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। বিশেষ করে রংপুর ও ঢাকার মধ্যে সমর্থনের ব্যবধান পুরোপুরি জনমতের প্রকৃত পার্থক্য নাও হতে পারে। কারণ বিভাগভিত্তিক নমুনা জাতীয় নমুনার তুলনায় অনেক ছোট হওয়ায় সেখানে পরিসংখ্যানগত বিচ্যুতির সম্ভাবনা বেশি থাকে। জরিপের ৭০ শতাংশ সাক্ষাৎকার সরাসরি এবং ৩০ শতাংশ মোবাইল ফোনে নেওয়া হয়েছে। সরাসরি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ, আর ফোনে নেওয়া সাক্ষাৎকারে ছিল ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ। গবেষকরা বলছেন, এই পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সরকার পরিবর্তনের পরপরই সরাসরি সাক্ষাৎকারে উত্তরদাতারা সামাজিক বা রাজনৈতিক কারণে কিছুটা সতর্কভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেন—এ সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ডেল্টাগ্রাম জানিয়েছে, জরিপে দুই ধাপের স্তরভিত্তিক সম্ভাব্যতা নমুনা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। দেশের আটটি বিভাগের ১৫০টি প্রাথমিক নমুনা এলাকা থেকে প্রতিটিতে ২০টি করে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। মোট উত্তরদাতার সংখ্যা ছিল ৩ হাজার। জরিপের সাড়া দেওয়ার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ। গবেষকদের হিসাবে, নমুনা নির্বাচন ও পরিসংখ্যানগত সমন্বয় বিবেচনায় জাতীয় পর্যায়ে এই জরিপের সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ৯৫ শতাংশ নির্ভরযোগ্যতায় প্রায় ±২ দশমিক ১ থেকে ±২ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে বিভাগভেদে এই ত্রুটির সীমা আরো বেশি হতে পারে।
সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠ এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে যে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়, উদ্বেগজনক ও ন্যক্কারজনক আখ্যা দিয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে দলটির অভিযোগ, এনসিপির সমাবেশে হামলায় প্রশাসন জড়িত। সোমবার (৭ জুলাই) দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতিতে এই অভিযোগ জানান। বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “এনসিপির সমাবেশে হামলায় দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং ৪ জন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমি এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।” জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে এই ধরনের হামলা দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিরই বহিঃপ্রকাশ। সমাবেশের শুরুতে আকস্মিক বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে মঞ্চের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর বিষয়টি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়।” তিনি বলেন, “বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি সমাবেশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে না পারা স্থানীয় প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যর্থতা। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনায় প্রমাণিত হয় এই ঘটনার সঙ্গে প্রশাসন জড়িত। দেশবাসী মনে করে, প্রশাসনের যোগাসাজসেই সন্ত্রাসীরা এই ঘটনা ঘটাতে দুঃসাহস দেখিয়েছে।” মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, “একটি সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রধান শর্তই হলো ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা। রাজনীতিতে সহিংসতা, বোমাবাজি ও খুনের পরিকল্পনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মনে রাখা উচিত, অতীতে যারা ককটেল ও বোমাবাজির রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে, তাদের পরিণতি শুভ হয়নি।” তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে জোর দাবি জানিয়ে বলেন, “কোনোরকম রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব না করে এই হামলার ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার রহস্য এবং এই হামলার নেপথ্যের কুশীলবদের অনতিবিলম্বে খুঁজে বের করতে হবে। প্রশাসনের সহায়তায় হামলা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।” সবশেষে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কঠোর ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেত্রী ও সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম অভিযোগ করেছেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তার দাবি, বর্তমান সরকারের রাজনীতি অনেকটাই ‘পারফরমেটিভ’ বা লোকদেখানো। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ছিল ওই টকশোর বিষয়বস্তু। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক জানতে চান, এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম যে অভিযোগ করেছেন, ‘জুলাই নিয়ে জাতির সঙ্গে বিএনপি গাদ্দারি করছে’ এবং ‘সরকার জুলাই ও গণভোটের চেতনা অস্বীকার করছে’—এমন মন্তব্য করার সময় কি এসেছে? জবাবে নুসরাত তাবাসসুম বলেন, বিএনপি বর্তমানে সরকারে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে ভীষণ ‘পারফরম্যাটিভ’। সুন্দর ও পরিপাটি মানেই যে জিনিসটা সৎ, তেমনটা নাও হতে পারে। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদাহরণ টেনে বলেন, তাদের পোশাক, ব্যবহৃত ব্র্যান্ড, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর ব্যাগ, কম প্রোটোকল নেওয়া কিংবা নিজে গাড়ি চালানোর মতো বিষয়গুলো জনস্বার্থের চেয়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে বেশি। অথচ এসবের সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের কোনো সম্পর্ক নেই। নুসরাতের মতে, কোনো জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ না থাকলে তিনি কী খাচ্ছেন, কোথায় যাচ্ছেন বা কতটুকু প্রোটোকল নিচ্ছেন—এসব বিষয়কে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বানানোর প্রয়োজন নেই। তিনি এ ধরনের প্রবণতাকে অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে তুলনা করেন। এর সাথে ‘জুলাই সনদের’ সম্পর্ক কোথায় জানতে চাওয়া হলে নুসরাত তাবাসসুম বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে বক্তব্য দিয়েছিলেন বা ভোটের প্রচারণা চালিয়েছিলেন, বর্তমান সংসদ চলাকালে দেখা যাচ্ছে সেগুলো কেবলই ‘নির্বাচনী কৌশল’ ছিল। অর্থাৎ, তারা কাজ করার চেয়ে দেখানোর রাজনীতি বেশি করছেন। নাহিদ ইসলামের অভিযোগের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে নুসরাত বলেন, আমরা তো ঘর পোড়া গরু; চার মাস বলতে বলতে কখন ১৪ বা ১৭ বছর পার হয়ে গিয়েছিল, তা বুঝতে বুঝতেই বাংলাদেশের মানুষের মাঠে নামতে ১৭ বছর লেগেছে। নুসরাত তাবাসসুম আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশ স্বাভাবিক নিয়মে চলছে। একনেক বৈঠক হচ্ছে, বাজেট পাস হচ্ছে, বড় বড় বরাদ্দ আসছে, সংসদ বসছে এবং বিদেশ সফরও হচ্ছে। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের যে মূল অঙ্গীকার ছিল, তার পূরণে বিন্দুমাত্র কোনো পদক্ষেপ বা নিশানা কোথাও দেখা যাচ্ছে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই অঙ্গীকারটি কেবল বিএনপির একাংশের বা কোনো নির্বাচনপূর্ব সাধারণ প্রতিশ্রুতি ছিল না; এটি ছিল পুরো ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার। ফলে সরকার বা বিএনপির কর্মকাণ্ড দেখে জুলাই নিয়ে গাদ্দারির যে আশঙ্কা বা অভিযোগ নাহিদ ইসলাম করেছেন, তা মোটেও অমূলক নয়।
ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ঢাকা সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়ার প্রভাষক রেজাউল করিম খন্দকার চরাঞ্চলের শত শত একর জমি দখলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, সরকারি চালের স্লিপ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রকাশ্যে ভূমিহীন পরিবারের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নামধারী এই নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে জুতা ও ঝাড়ু মিছিল, মানববন্ধন করেছেন। চরের বাড়িঘর থেকে লুট করে নিয়ে যাওয়া ধান ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের কাছে আকুতি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্রজীবনে বিপরীত রাজনীতির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক খোলস বদলে আওয়ামী লীগের আমলে প্রথমে চরফ্যাশন কলেজে চাকরি নেন রেজাউল করিম খন্দকার। ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর রেজাউল করিম খন্দকার ঢাকা সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়ায় আধুনিক আরবি বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তবে বিগত কয়েক মাস ধরে তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে স্থায়ীভাবে এলাকায় অবস্থান করছেন। এর আগে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা) আসনের তৎকালীন বিএনপি প্রার্থী নাজিম উদ্দিন আলমের নির্বাচনি জনসভায় ফুল দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন। ওই সময়ের বিএনপি দলীয় এমপির ঘনিষ্ঠ বনে গিয়ে তিনি দক্ষিণ আইচা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আলতাব ডাক্তার, কাশেম মিয়া, আব্দুছ ছাত্তার হাওলাদারসহ বহু ত্যাগী নেতাকে রাজনীতি থেকে কোণঠাসা করে বনে যান দক্ষিণ আইচা বিএনপির আহ্বায়ক। এ ব্যাপারে রেজাউল করিম খন্দকার আমার দেশকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। আমার নামে-বেনামে কোনো ভূমিহীন বন্দোবস্ত কার্ড নেই।’ সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ ওবায়দুল হক বলেন, রেজাউল করিম খন্দকারের বিষয়ে আমি বিস্তারিত কিছু জানি না। আমি আসার পরপরই তারা চারজন বদলি হয়ে গেছেন। চারজনকে চার কলেজে বদলি করা হয়েছে। দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান কবির আমার দেশকে জানান, রেজাউল করিম খন্দকারের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে আসলে কোনো অভিযোগ আসেনি।
. ভারতে পলাতক বাংলাদেশের তিন আলোচিত জেনারেল— লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মো. মুজিবুর রহমান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন এবং মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এখন কলকাতার সেনা আবাসিক এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন। পতিত স্বৈরাচার ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী এবং ভারতের ডিপ স্টেট তথা গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই তিন জেনারেলকে মোদি সরকার সম্প্রতি বেসামরিক এলাকা থেকে কলকাতার সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় সরিয়ে নিয়েছে। ঢাকা ও কলকাতার একাধিক নিরাপত্তা সূত্র আমার দেশকে এ তথ্য জানিয়েছে। পলাতক তিন জেনারেলের মধ্যে মুজিব ও আকবর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরপরই দেশ ছেড়ে পালিয়ে কলকাতায় আশ্রয় নেন। এরপর গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের উদ্যোগের পর গত বছরের অক্টোবরে জেনারেল কবীর আহাম্মদও দেশ ছেড়ে পালিয়ে কলকাতায় চলে যান। বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, আয়নাঘরে নির্যাতন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখতে বিরোধী দল দমনসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত পলাতক এই তিন জেনারেল কলকাতার অভিজাত এলাকা সল্টলেক ও নিউ টাউনের সঞ্জিবা গার্ডেন কমপ্লেক্সে পরিবারসহ বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি তাদের এই বেসামরিক এলাকা থেকে সরিয়ে হুগলি ব্রিজের পাশে অবস্থিত সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই তিন জেনারেলের গতিবিধি সম্পর্কে অবগত কলকাতার নিরাপত্তা সূত্রগুলো আমার দেশকে জানিয়েছে, তিন জেনারেলকে সেনা আবাসিক এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা খুবই ইঙ্গিতবহ। কলকাতার সেনা আবাসিক এলাকাটি অত্যন্ত সুরক্ষিত। বিশেষ পাস ছাড়া সাধারণ মানুষের এখানে প্রবেশ এক প্রকার নিষিদ্ধ। পলাতক এই তিন জেনারেল নিয়মিতই যোগাযোগ রাখেন শেখ হাসিনার সঙ্গে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করেন তারা। ভারতীয় ডিপ স্টেটের সঙ্গে মিলে কীভাবে আবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায়Ñ তা নিয়েই তৎপর এই তিন জেনারেল। নিরাপত্তা সূত্রগুলো আরো জানিয়েছে, এই তিন জেনারেল নিয়মিতই বিশেষ করে ছুটির দিনে কলকাতা সিটি সেন্টার-২-এ অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন। সম্প্রতি কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে দেখা গেছে এই তিন জেনারেলকে। তিন জেনারেলের তৎপরতা এবং তাদের সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় আশ্রয় দেওয়ার ঘটনাকে বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, নানা অপরাধে জড়িত এই তিন জেনারেলকে ভারত সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় আশ্রয় দিয়েছে তাদের স্বার্থে এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যবহারের জন্য। বিশ্লেষকরা আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব অপরাধী জেনারেলের বিচার প্রক্রিয়া শেষ করা। একই সঙ্গে অপরাধীদের ভারত যে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক বিশ্বকে জানানো। উল্লেখ্য, জুলাই বিপ্লবের পর ফ্যাসিস্ট হাসিনাসহ তার যেসব সহযোগী ভারতে পালিয়ে গেছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেস তৈরি করেছে ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো। সেই ডেটাবেসে জেনারেল মুজিব, জেনারেল আকবর এবং জেনারেল কবীরের সঙ্গে থাকা পরিবারের অন্য সদস্যদের যাবতীয় তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে। ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, তিন জেনারেল কলকাতায় বসবাস করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের বিপ্লবের পরও সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন জেনারেল মুজিব। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তাকে বরখাস্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সূত্রগুলো আমার দেশকে জানায়, জেনারেল মুজিব বরখাস্ত হওয়ার পর ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। তিনি শেখ হাসিনার খুবই বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। আর্মড ফোর্সেস এবং পুলিশে ‘র’-এর অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। জেনারেল মুজিব বাংলাদেশে ‘র’-এর কো-অর্ডিনেটর হিসেবে চিহ্নিত। বিমান বাহিনীতে ‘র’-এর শ্যাডো রিক্রুটার হিসেবে কাজ করা স্কোয়াড্রন লিডার আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফ গ্রেপ্তার হওয়ার পর সামগ্রিক তদন্তে বেরিয়ে আসে সামরিক বাহিনীতে ‘র’-এর নেটওয়ার্ক ও জেনারেল মুজিবের সম্পর্ক। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে টানা ক্ষমতায় রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে হুমকির মধ্যে ফেলে দেন জেনারেল মুজিব ও তার নেটওয়ার্কের সদস্যরা। জুলাই বিপ্লব চলাকালে সেনাবাহিনীতে ভারতপন্থি ক্যু করানোর জন্যও জেনারেল মুজিব আপ্রাণ চেষ্টা করেন। প্রথমে ২০২৪ সালের ২ আগস্ট এবং পরে হাসিনার পলায়নের পরদিন ৬ আগস্ট তিনি ক্যু করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় শেখ হাসিনার ভারতে পলায়নের ‘রেসকিউ মিশন’ সফল করার ক্ষেত্রেও জেনারেল মুজিবের বিশেষ ভূমিকা ছিল। হাসিনা সরকারের পতনের পর জরুরি অবস্থা বা সামরিক আইন ঘোষণা করার জন্য তিনি কুখ্যাত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল তাবরেজ শামস, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক, মেজর জেনারেল হামিদুল হক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরান হামিদের সঙ্গে একাধিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেন। কুখ্যাত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের সঙ্গে মিলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও আয়নাঘরে নির্মম নির্যাতনের মতো সব অপরাধের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি (মাস্টারমাইন্ড)। সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ওপর যে বর্বরতম হামলা হয়, তারও পরিকল্পনাকারী ও অপারেশন পরিচালনার অন্যতম দায়িত্বে ছিলেন মুজিব। র্যাবের জিয়াউল আহসানের সৃষ্টি হয়েছে মুজিবের হাতে। যদিও জিয়াউলের নাম নৃশংসতার জন্য যতটা আলোচিত হয়েছে, চতুর মুজিবের নাম ততটা হয়নি। দুর্নীতির অভিযোগে লে. জে. মুজিব ও তার স্ত্রী তাসরিন মুজিবের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করেছে। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদের ৩৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ এবং তাদের নামে থাকা ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট, খিলক্ষেত ও পূর্বাচল এলাকায় থাকা ১০টি প্লট জব্দের আদেশ দিয়েছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার আরেক একান্ত অনুগত এবং ভারতের ডিপ স্টেটের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ গুম, খুনের সঙ্গে জড়িত দুটি ভুয়া নির্বাচনের মূল কারিগর লে. জে. (অব.) মো. আকবর হোসেন জুলাই বিপ্লবের পর কোনো এক সময়ে ভারতে পালিয়ে যান। ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান এই তিন তারকা জেনারেল বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, আয়নাঘরে নির্যাতন, বিরোধী দল দমনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার মতো নানা অপরাধের অন্যতম হোতা। জেনারেল মুজিবের মতো তিনিও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ভারতীয় ডিপ স্টেট ‘র’-এর অনুপ্রবেশ ঘটানোর অন্যতম কারিগর। ২০১৪ সালের বিনা ভোটের এবং ২০১৮ সালের রাতের ভোটের মূল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই বিতর্কিত জেনারেল। ২০১৪ সালের একতরফা বিনা ভোটের নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য বিরোধী দল। এমনকি জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং তখন ঢাকায় এসে নির্বাচনে যেতে এরশাদের ওপর চাপ দেন। তবে এরশাদ তাতে রাজি হননি। পরবর্তী সময়ে দিল্লির নির্দেশে তৎকালীন ডিজিএফআই-প্রধান জেনারেল আকবর বাসা থেকে এরশাদকে জোর করে তুলে নিয়ে সিএমএইচে বন্দি করে রাখেন এবং জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে যেতে বাধ্য করেন। বহুল আলোচিত সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার অন্যতম হোতা ছিলেন এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা। তিনি এখন কলকাতায় বসে হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য ভারতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপর। ইতোমধ্যে জোরপূর্বক গুমের অভিযোগে সাবেক এই জেনারেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গুম ও নির্যাতনের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পতিত স্বৈরাচার হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ গত বছরের অক্টোবরে ভারতে পালিয়ে যান। জেনারেল কবীরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে সেনা সদরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেনারেল কবীরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একজন সার্ভিং বা কর্মরত জেনারেল কীভাবে দেশ থেকে পালিয়ে ভারতের মতো বৈরী প্রতিবেশী রাষ্ট্রে আশ্রয় নিলেন তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন এবং উদ্বেগ তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে গুমের দায়ে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে, তা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন জেনারেল কবীর। তিনি তখন কলকাতা যাওয়া-আসার মধ্যে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর গত ৯ অক্টোবর জেনারেল কবীর বিশেষ ব্যবস্থায় তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ আমলের গুমের ঘটনায় দুটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ৮ অক্টোবর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে। তাদের মধ্যে ২৫ জনই সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা। এদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিলেন জেনারেল কবীর। গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জেনারেল কবীর প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। জুলাই বিপ্লবের পর স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকসের কমান্ড্যান্টের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। সবশেষ গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর তার চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। গত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় খুনি মে. জে. জিয়াউল আহসান এবং কদমবুচি জেনারেল হিসেবে পরিচিত মে. জে. মাহবুব রশিদের কোর্সমেট হওয়ার সুবাদে ডিজিএফআইয়ের সিটি আইবিতে পোস্টিং দেওয়া হয় জেনারেল কবীরকে। পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবের পদ লাভ করেন তিনি। জেনারেল জিয়া, মাহবুব ও কবীর একসঙ্গে গুম-নির্যাতনের পাশাপাশি নানা দুর্নীতি ও অপরাধে জড়ান। নেত্রকোনার বাসিন্দা জেনারেল কবীর জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টের জিওসিকে মোবাইলে ফোন করে ছাত্রদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর জন্য শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে নির্দেশ দেন। এদিকে তিন জেনারেলের পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া এবং সেখানে ভারতের পক্ষ থেকে তাদের বিশেষ সুরক্ষা দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। এ প্রসঙ্গে তিনি আমার দেশকে বলেন, ঘটনাটি খুবই উদ্বেগের। বাংলাদেশের জেনারেলরা ভারতকে তাদের জন্য নিরাপদ মনে করেছেন। তিনি বলেন, ভারত তাদের আরাম-আয়েশ করার জন্য আশ্রয় দেয়নি। নিজেদের স্বার্থে ভারত এই জেনারেলদের বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যবহার করতে পারে। এসব জেনারেল নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি। বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক প্রফেসর এম শহীদুজ্জামান এ প্রসঙ্গে আমার দেশকে বলেন, এই তিন জেনারেল নিশ্চিতভাবেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তারা ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। পলাতক এসব জেনারেল বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনেক স্পর্শকাতর তথ্য জানেন। তিনি বলেন, আমাদের জেনারেলরা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিচ্ছেন এবং ভারত তাদের আশ্রয় দিচ্ছে, এটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। ভারত আসলে উসকানি দিচ্ছে। ভারত চাইছে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে। ভারতে যেসব জেনারেল আশ্রয় নিচ্ছেন তারা যে ভারতের হয়ে এখানে নানা ধরনের অপরাধ করেছেন তা এখন প্রমাণিত। ভারত এই অপরাধী জেনারেলদের আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। অপরাধী জেনারেলদের ভারত যে আশ্রয় দিচ্ছে, সে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশি বেশি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে এই বিশ্লেষক বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেকেই নজর রাখছে। সরকারের দায়িত্ব হলো বিষয়টি ব্যাপকভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা এবং এসব অপরাধীর বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে দ্রুত শেষ করা। এটা করতে পারলে ভারত আন্তর্জাতিকভাবে চাপে পড়বে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, কোনো প্রকার টালবাহানা ছাড়া ৫ আগস্টের মধ্যে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ খুলে দিতে হবে। রোববার (৫ জুলাই) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ নিয়ে দেওয়া পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। তিনি লেখেন, ‘কোনো প্রকার টালবাহানা ছাড়া ৫ আগস্টের মধ্যে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ খুলে দিতে হবে।’ সারজিস আরও লেখেন, ‘বিএনপির কথার সাথে কাজের মিল দেখতে চাই।’ এর আগে, গত বুধবার রাজধানীর রায়েরবাজারে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গণকবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাদুঘর খুলে দেওয়া না হলে জনগণ নিজেরাই সেখানে প্রবেশ করবে বলে হুশিয়ারি দেন তিনি। আর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ভেঙে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর দাবি জানিয়েছে জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স ও শহীদ পরিবার। শুধু নামে চালু না করে জাদুঘরের কার্যক্রম পুরোপুরি কার্যকর করা এবং কোনো ষড়যন্ত্র যাতে এটি স্থবির করতে না পারে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি দিকনির্দেশনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আহ্বান করা হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্সের মুখপাত্র সাবরিনা আফরোজ সেবন্তি। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সৈকতের বোন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয় পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৫ আগস্ট এই জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার কথা ছিল। কিন্তু আমরা জানতে পারি, গত সপ্তাহের শেষে সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা একটি সভায় জানিয়েছেন যে তিনি জাদুঘরের নিয়োগবিধিতে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন। আমাদের প্রশ্ন, জনতার ভোটে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সর্বসম্মতভাবে জুলাই জাদুঘর আইন পাস করেছে, তাহলে এক আমলা হয়ে সেই আইনে পরিবর্তন আনার অনুমোদন তিনি কোথায় পেলেন? সংগঠনটি এই পরিবর্তন আনার পরামর্শকে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে এর পেছনে দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে বলে উল্লেখ করে। তাদের ভাষ্য, জাদুঘরের চূড়ান্ত নিয়োগপ্রক্রিয়াকে কমপক্ষে আরও দুই মাস পিছিয়ে দেওয়া এবং স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অযোগ্য লোকদের সংবেদনশীল প্রজেক্টে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, জাদুঘরটি চালাতে হলে যোগ্যতার ভিত্তিতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক লাগবে। যারা জাদুঘর গড়ে তোলার পেছনে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এবং রূপরেখা ও নকশা তৈরিতে কাজ করেছেন, তাদেরকেই সম্পৃক্ত রাখতে হবে। জাতীয় সংসদে বর্তমানে যে আইন পাস করা হয়েছে, সেই আইন মোতাবেকই যোগ্যতার ভিত্তিতে এই বিশেষায়িত নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। সংগঠনটির অভিযোগ, ষড়যন্ত্রকারীরা শুধু জাদুঘর উদ্বোধনেই বিলম্ব করাচ্ছে না, বরং এটিকে প্রশাসনিক বা কাঠামোগতভাবে পুরোপুরি অকার্যকর করতে চাইছে। এ ছাড়া জাদুঘরকে প্রশাসনিক অসহযোগিতা করা, বাজেট ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ আটকে রেখে একে অচল করে দেওয়া, মানুষ যাতে সঠিক ইতিহাস না জানতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মহলে এর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়, সেই পরিকল্পনা চলছে। প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একাধিকবার উদ্বোধনের ঘোষণা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত খোলা হয়নি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী একটি ফ্লাইটকে ঘিরে রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। বোর্ডিং পাস সংগ্রহ এবং ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পরও শেষ মুহূর্তে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওঠেননি ৭১ জন যাত্রী। এর আগে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসা জাল বলে শনাক্ত হওয়ার পর ঘটনাটি সামনে আসে। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী শনিবার (৪ জুলাই) রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটটি রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটিতে মোট ২৪৫ জন যাত্রীর ভ্রমণের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৭৬ জন যাত্রী বিমানে ওঠেননি। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ই-ভিসা জাল বলে শনাক্ত হয়। এরপর বোর্ডিং লাইনে থাকা আরও অনেক যাত্রী হঠাৎ সরে যান। পরে তাদের অনেকেই ইমিগ্রেশনের প্রস্থান সিল বাতিল করে আবার দেশে প্রবেশ করেন। সব মিলিয়ে ৭১ জন যাত্রী শেষ পর্যন্ত স্বেচ্ছায় বিমানে না ওঠার সিদ্ধান্ত নেন। সূত্র আরও জানায়, ওই ৭৬ জনের ভিসা যথাযথভাবে যাচাই ছাড়াই চেক-ইন কাউন্টার থেকে “ভেরিফায়েড” হিসেবে গ্রহণ করে বোর্ডিং পাস ইস্যু করা হয়েছিল। পরে ইমিগ্রেশনও তাদের বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়। কিন্তু বোর্ডিং গেটে গিয়ে পাঁচজনের জাল ই-ভিসা ধরা পড়ে। ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, ভিসা যাচাইয়ের একাধিক ধাপ থাকার পরও কীভাবে সন্দেহভাজন জাল ভিসাধারীরা চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন পার হয়ে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হলেন। বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিমানে না ওঠা ৭৬ জনই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে দেশটিতে গিয়ে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বোর্ডিং চলাকালে কয়েকজন যাত্রীকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। পরে তাদের ভিসায় অসঙ্গতি ধরা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে লাইনে থাকা আরও কয়েকজন যাত্রী সেখান থেকে সরে যান। কিছুক্ষণ পর কয়েকজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অফলোড করা হলে বোর্ডিং গেট এলাকায় উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সরকারি অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আজ রবিবার (৫ জুলাই) সরকারি অনুষ্ঠানের প্রচারণা সংক্রান্ত পরিপত্রে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়েছে। উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি (থ্রিডি বা অন্য কোনো আঙ্গিকে) ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হলো। আরও বলা হয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড প্রস্তুতের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের নকশা এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। সিনিয়র সচিব বা সচিবদের তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সব দপ্তর বা সংস্থাকে এ বিষয়ে নির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ভারতে যে হারে মসজিদ ভাঙা হয়, বাংলাদেশে কি সে হারে মন্দির ভাঙা হয়—এই প্রশ্নের উত্তরও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে অনুষ্ঠিত বাজেট-পরবর্তী সংসদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ভূখণ্ডও কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার হোক, সেটিও সরকার চায় না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটি প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হোক, সেটা আমরা চাই না। একই সঙ্গে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীরা নাক গলাক, সেটাও চাই না।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘ভারতে যে হারে মসজিদ ভাঙা হয়, বাংলাদেশে কি সে হারে মন্দির ভাঙা হয়?’—এ বিষয়টিও আলোচনায় বিবেচনা করা প্রয়োজন। চিফ হুইপ আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে ভারত কীভাবে নিয়েছে, তা দেশটির কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যাবে। নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘বাজেট নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা হয়েছে। কেউ এটিকে ভালো বাজেট বলেছেন, আবার কেউ সমালোচনা করেছেন। এসব বিষয় সবাই অবগত।’ তিনি বলেন, ‘আমি শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরতে চাই। এটি তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত প্রথম বাজেট। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো বাজেটে বিরোধী দল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে।’ চিফ হুইপ আরো বলেন, ‘সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলের জন্য ২৬ শতাংশ সময় বরাদ্দ থাকলেও তাদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা প্রায় ৩১ শতাংশ সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বিরোধী দলের সদস্যরা ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট পর্যন্ত বক্তব্য রেখেছেন এবং বিরোধী দলের নেতার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলকে তাদের ইচ্ছামতো বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সব বক্তব্য শোনা হয়েছে।’ চিফ হুইপ আরো উল্লেখ করেন, ‘সাধারণত বাজেট আলোচনার নির্ধারিত সময় শেষে সরকার গিলোটিন প্রস্তাব আনে। তবে সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম বিরোধী দলের নেতাই স্পিকারের কাছে গিলোটিন প্রস্তাব আনার অনুরোধ করেন।’ তিনি বলেন, ‘পরে বিরোধী দল তাদের ছাঁটাই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়। এতে বোঝা যায়, বাজেট নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলে তারা মনে করেছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন