দেড় দশক ধরে পান রপ্তানি করে মাইশা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। গত ডিসেম্বরে ওমানের মাসকটে ১৫০ বক্স পান (প্রতি বক্সে ১৭ কেজি) পাঠাতে ঢাকার বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে নিয়ে আসে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এই পান রপ্তানির জন্য পান রপ্তানিকারক সমিতির কাছ থেকে প্রত্যায়ন পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে তারা পান রপ্তানি করতে পারেনি। এতে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা লোকসান হয় তাদের।
মাইশা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী কাউছার আহমেদ অভিযোগ করেন, ‘পান রপ্তানিকারক সমিতির নেতাদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ডিসেম্বরের পর আর পান রপ্তানি করতে পারছি না। রপ্তানি করতে হলে সমিতির সদস্যপদ থাকা বাধ্যতামূলক। গত বছর সদস্যপদ নিয়েছি, তবে টাকা জমা দিলেও সদস্যপদ নবায়ন করছে না সমিতি। কেন করছে না, সেটিও বলছে না।’
কাউছার আহমেদের মতো আরও বেশ কয়েকজন রপ্তানিকারক পান রপ্তানি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। তাঁদেরও অভিযোগ, এই খাতের সংগঠন বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতির বিরুদ্ধে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। ফলে দেশ থেকে পান রপ্তানি কমে গেছে। এই সুযোগে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের পানের বাজার চলে যাচ্ছে প্রতিযোগী দেশগুলোর দখলে।
ভুক্তভোগী রপ্তানিকারকেরা বলছেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় বাণিজ্য সংগঠন গঠিত হয়। অথচ পান রপ্তানিকারক সমিতির নেতারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত। কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতি বক্স পান রপ্তানির বিপরীতে নির্ধারিত হারে চাঁদা না দিলেই সমিতির সদস্যপদ থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়। তখন ওই প্রতিষ্ঠান আর পান রপ্তানি করতে পারে না।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যানুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩ কোটি ৪৮ লাখ মার্কিন ডলারের পান রপ্তানি হয়েছে। পরের অর্থবছর সেটি কমে হয় ২ কোটি ১৬ লাখ ডলার। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশ থেকে ৪২ লাখ কেজি পান রপ্তানি হয়েছে, যার রপ্তানিমূল্য ২ কোটি ২৮ লাখ ডলার। রপ্তানি হওয়া পানের বড় অংশই যায় মধ্যপ্রাচ্যে। গত অর্থবছর রপ্তানির ৯০ শতাংশ বা ২ কোটি ৬ লাখ ডলারের পান রপ্তানি হয় সৌদি আরবে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফভিএপিইএ) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনসুর বলেন, সবজি রপ্তানিকারকেরাই মূলত পান রপ্তানি করতেন। পান রপ্তানিকারক সমিতির সদস্যপদ নেওয়ার শর্ত আরোপের পর পান রপ্তানি নিয়ে জটিলতা শুরু হয়েছে। এমন ব্যবস্থা কোথাও নেই। চরম অন্যায় হচ্ছে। মুক্তবাণিজ্যের অর্থনীতিতে এমনটা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি বন্ধ হওয়া দরকার।
পান রপ্তানিকারক সমিতি ২০০২ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নিবন্ধন পায়। পরে এই সমিতির নিবন্ধন বাতিল চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট মামলা করে বিএফভিএপিইএ। ২০০৫ সালে পান রপ্তানিকারক সমিতির নিবন্ধন বাতিল হয়। তখন আবার আবেদন করলে বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতি নামে নতুন বাণিজ্য সংগঠনের নিবন্ধন দেয় মন্ত্রণালয়। আবার রিট করে বিএফভিএপিইএ। সেই রিটের নিষ্পত্তি হয় ২০২৩ সালে, সমিতির পক্ষে রায় দেন উচ্চ আদালত।
জানা গেছে, প্রথমবার নিবন্ধন পাওয়ার পর পান রপ্তানিকারক সমিতির তদবিরে ২০০৩ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করে যে সমিতির সদস্য ছাড়া কেউ পান রপ্তানি করতে পারবে না। তখন সমিতির বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকায় নির্দেশনাটি কার্যকর হয়নি। মামলা নিষ্পত্তি হলে সমিতির নেতারা তৎপর হয়ে ওঠেন। গত বছরের শুরুতে এনবিআর ২০০৩ সালের নির্দেশনা বলবৎ আছে কি না, সে বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চায়। মন্ত্রণালয় ইতিবাচক মত দিলে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা কাস্টম হাউস নির্দেশনা দেয়, পান রপ্তানিকারক সমিতির প্রত্যয়নপত্র ছাড়া পান রপ্তানির বিল অব এক্সপোর্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে না। যদিও মন্ত্রণালয়ের পুরোনো নির্দেশনা ছিল, সদস্যপদ থাকতে হবে।
একাধিক পান রপ্তানিকারক জানান, কাস্টম হাউসের নির্দেশনার পর পান রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ২৫ হাজার টাকা ফি দিয়ে সমিতির সদস্য হয়। তারপর প্রতি চালানে এক হাজার টাকা ফি দিয়ে সমিতির কাছ থেকে পান রপ্তানির প্রত্যয়নপত্র নিতে হয়। তবে গত বছরের শেষ দিকে প্রতি বক্স পান রপ্তানির প্রত্যয়নপত্র নিতে বাড়তি অর্থ আদায় করতে শুরু করেন সমিতির নেতারা।
১৭ জন পান রপ্তানিকারক চলতি বছরে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোতে (ইপিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেন, পান রপ্তানিকারক সমিতি পানের রপ্তানি বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। বিষয়টি তদন্ত করে ইপিবি অভিযোগের সত্যতাও পায়।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ এনবিআরের গত বছরের নির্দেশনা সংশোধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, রপ্তানির প্রতি চালানের আগে প্রত্যয়নপত্র ইস্যুর বাধ্যবাধকতার কারণে সময় ও ব্যয় উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। রপ্তানিকারকেরা অহেতুক বিড়ম্বনায় পড়ছেন। পান রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে।
ইপিবির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ৮ এপ্রিল পান রপ্তানি সহজ, বাধা দূর ও নির্বিঘ্ন করতে ২০২৩ সালের নির্দেশনাটি বাতিল করে। এই নির্দেশনার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট মামলা করে পান রপ্তানিকারক সমিতি। শুনানির পর আদালত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তটি তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে সেই স্থগিতাদেশ এক বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
জানা যায়, উচ্চ আদালত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত স্থগিত করার পর থেকে পান রপ্তানির জন্য সমিতির সদস্যপদ বাধ্যতামূলক করে ঢাকা কাস্টম কর্তৃপক্ষ। তার পর থেকেই কিছুদিন পরপর সদস্যদের নতুন নতুন তালিকা পাঠাতে শুরু করে পান রপ্তানিকারক সমিতি। গত ২৫ মে ৫৫ জন সদস্যের একটি তালিকা ঢাকা কাস্টমে দেয় সমিতি। তার ছয় দিন পর নতুন করে আবার ৫৭ জনের আরেকটি তালিকা দেয় তারা। সেখানে আগের তালিকার ছয় প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল না। একইভাবে ২৩ ও ২৭ জুলাই নতুন তালিকা দেয় সমিতি।
রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ডলফিন ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সৌদি আরবে পান রপ্তানির জন্য আমার কাছে সমিতির প্রতিনিধিরা বক্সপ্রতি ৫০০ টাকা দাবি করেন। আমি কোনো টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানাই। তার পর থেকে আমার প্রতিষ্ঠানের নাম সমিতির সদস্যপদের তালিকায় দেওয়া হয় না। গত ২৫ জুনের পর আর পান রপ্তানি করতে পারিনি।’
৪ জুন সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পান রপ্তানির সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি রোধের ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, পান রপ্তানিকারক সমিতি সৌদি আরবে পান রপ্তানির ক্ষেত্রে কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় এই খাত সংকটের মুখে পড়েছে।
পান রপ্তানিকারক সমিতির জন্মলগ্ন থেকেই সাধারণ সম্পাদক এ আর এস জেনারেল ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী জামাল উদ্দিন সিকদার। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গত তিন অর্থবছরে এই প্রতিষ্ঠান এক ডলারের পানও রপ্তানি করেনি। একইভাবে সমিতির সভাপতি এমরামুল করিমের প্রতিষ্ঠান মেট্রোপলিটন ট্রেডার্স এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হোসাইনুল কবির চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান এম এইচ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিংয়েরও গত তিন অর্থবছর একটি পানও রপ্তানির কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পান রপ্তানির প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার বিপরীতে বক্সপ্রতি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন সিকদার গত বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই অভিযোগ মিথ্যা। আমরা অর্থ নিয়েছি, কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। প্রত্যয়নপত্র নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের পান রপ্তানি করায় আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে একটি চালানের জন্য তালিকা থেকে বাদ দিই। সে কারণে অনেক সময় তালিকায় কয়েকজন সদস্যদের নাম থাকে না।’ রপ্তানি না করেও সমিতির শীর্ষ পদে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ‘মামলা চালাতে গিয়ে আমি ব্যবসা করতে পারিনি। আমাদের (সমিতির শীর্ষ নেতৃত্ব) উদ্দেশ্য হলো ঝামেলাগুলো শেষ করে আমরা ব্যবসা করব।’
সমিতির প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডের কারণে পান রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দুই অর্থবছর ধরে কমছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭২টি প্রতিষ্ঠান পান রপ্তানি করেছে। পরের বছর সেটি কমে হয় ৬১, যা গত অর্থবছর আরও কমে ৪৪টিতে নেমে যায়।
জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, যেসব অভিযোগ এসেছে তাতে স্পষ্ট, সমিতির নেতারা রপ্তানিকারকদের জিম্মি করেছেন। পান রপ্তানিতে হয়রানি বন্ধে সরকারি হস্তক্ষেপ দরকার। সমিতির আয়-ব্যয়সহ অন্যান্য কার্যক্রমের নিরীক্ষা করতে হবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে। সেখানে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনগতভাবেও দ্রুত মীমাংসার উদ্যোগ লাগবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে অন্য পণ্যের মতো পান রপ্তানিতেও একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন করতে হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
পটুয়াখালীর মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবার জন্য ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে ৫০০ শয্যার আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প। ২০১৬ সালে প্রায় ৫৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হয় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর সর্বশেষ সময়সীমা ছিল চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। সেই সময়ও পেরিয়ে গেছে, এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি হাসপাতালটি। ফলে দীর্ঘ এক যুগ পরও উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত পটুয়াখালীসহ আশপাশের জেলার মানুষ। পুরোনো ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালেই অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা। এতে চিকিৎসা নিতে এসে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা, করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সংশোধনের পর প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬৫১ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চলার মধ্যেই হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে সমস্যার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে, ২৫০ শয্যার পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগীর চাপ থাকায় বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। কোথাও একটি বেডে দুই শিশুকে থাকতে হচ্ছে, আবার তাদের সঙ্গে থাকছেন একাধিক স্বজন। এতে এক রোগীর সংক্রমণ অন্য রোগীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বাউফল থেকে দুই বছরের শিশুকে চিকিৎসা করাতে আসা এক রোগীর স্বজন বলেন, শিশুটির অনেক জ্বর। কিন্তু শিশু ওয়ার্ডে একটি বেডে তিনজনকে থাকতে হচ্ছে। এতে একজনের রোগ অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিশু ওয়ার্ডের অবস্থাও খুব খারাপ। কমলাপুর ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শেফালী বেগম বলেন, হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে এসে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। চিকিৎসা নিতে অনেক সময় লাগে। ডাক্তার সংকট থাকায় ঠিকমতো সেবা পাওয়া যায় না। পুরোনো ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপ আমতলী থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজন নাজমা বেগম বলেন, ‘অনেক দূর থেকে ডেঙ্গু রোগী নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। আজ সাত দিন হয়ে গেছে। রোগী মোটামুটি সুস্থ। কিন্তু তাকে সুস্থ করতে গিয়ে আমরাও এখন অসুস্থ হয়ে গেছি। এখানে টয়লেটের অবস্থা খুব খারাপ। এত দুর্গন্ধ যে টয়লেটের কাছাকাছি যাওয়া যায় না।’ রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, অতিরিক্ত রোগীর চাপে বেডের সংকটের পাশাপাশি ওয়ার্ড ও শৌচাগারের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একটি বেডে একাধিক রোগী থাকায় চিকিৎসার পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে। পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, শুধু নির্মাণকাজ শেষ না হওয়াই নয়, নতুন হাসপাতাল চালুর ক্ষেত্রে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রয়োজনীয় জনবল। হাসপাতালের জন্য চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে অবকাঠামোর কাজ শেষ হলেও পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু করা কঠিন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্প পরিচালক ডা. এসএম কবির হাসান বলেন, প্রায় ৬৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই হাসপাতালে ১৩টি লিফটসহ আধুনিক বিভিন্ন চিকিৎসা সুবিধা থাকছে। হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে পটুয়াখালীসহ আশপাশের জেলার মানুষের চিকিৎসাসেবার চাপ অনেকটাই কমবে, প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তবে জনবল নিয়োগের বিষয়টি এখনো অগ্রগতি পায়নি। মাহমুদ হাসান রায়হান/কেজে/জেআইএম
রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম এবং বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা ব্যাংকটিকে এস আলম গ্রুপের প্রভাবমুক্ত রাখা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন এবং বক্তব্য রাখছেন ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা। অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি, এস আলম গ্রুপের সময়ে নিয়োগ পাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ও সনদ যাচাইয়ের পর চাকরিচ্যুত হওয়া কর্মীদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা জানান, প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে চাকরি হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের এক দফা দাবি বকেয়া বেতন-ভাতাদিসহ কোনো শর্ত ছাড়াই চাকরিতে পুনর্বহাল। এর আগে গ্রাহক ফোরাম ব্যাংক খাতের সুশাসন ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। আজকের কর্মসূচিতেও তারা ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। এদিকে দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মতিঝিল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাজোয়া যানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইএআর/জেএইচ
পায়ের তলা ফেটে রক্ত বেরিয়েছে। কাঁটা ও কাচের টুকরাও বিঁধেছে। এমনকি কাঁটাঝোপের আঘাতে সংক্রমণ হয়ে এক সপ্তাহ হাঁটাও বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবু থামেননি। আয়ারল্যান্ডের ইমন কেভেনি এমন কষ্ট সয়েই খালি পায়ে ৩৬৯ দিনে পাড়ি দিয়েছেন ৬ হাজার ৮০৫ কিলোমিটার পথ।এভাবে সবচেয়ে বেশি পথ হাঁটার নিজের আগে রেকর্ডটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন কেভেনি।নিজের রেকর্ড পুনরুদ্ধারে কেভেনি এবার তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে হাঁটা শুরু করেছিলেন। ৩৬৯ দিন পর গত ৭ মার্চ আয়ারল্যান্ডের মায়ো কাউন্টির নিজ শহর ক্ল্যারিমরিসে পৌঁছান তিনি। দীর্ঘ এ পথে কেভেনিকে নানা চড়াই-উতরাই ভূখণ্ড পাড়ি দিতে হয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গেও লড়াই করতে হয়েছে।২০১৬ সালে আয়ারল্যান্ডজুড়ে ২ হাজার ৮০ কিলোমিটার খালি পায়ে হেঁটে প্রথমবার এই রেকর্ড গড়েছিলেন কেভেনি। ২০২৪ সালে তাঁর সেই রেকর্ড ভাঙেন পোল্যান্ডের পাওয়েল দুরাকিয়েভিচ। তিনি ৩ হাজার ৪০৯ কিলোমিটার খালি পায়ে হেঁটেছিলেন।কেভেনি এবার দুরাকিয়েভিচের রেকর্ডের প্রায় দ্বিগুণ পথ হেঁটেছেন। অবশ্য এটাই কেভেনির একমাত্র দুঃসাহসিক যাত্রার রেকর্ড নয়। ২০২৩ সালে মাত্র ৫ দিন ৫ ঘণ্টা ২৩ মিনিটে ইউনিসাইকেলে (এক চাকার সাইকেল) আয়ারল্যান্ড পাড়ি দিয়ে আরেকটি রেকর্ড গড়েন তিনি।৩৪ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা ইমন কেভেনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে বলেন, ‘খালি পায়ে দীর্ঘ পথ হাঁটার রেকর্ডটি প্রথমবার গড়ার পর থেকেই আমি আবার বড় কোনো যাত্রায় বের হওয়ার কথা ভাবছিলাম। একটি দেশ পায়ে হেঁটে পাড়ি দেওয়ার পর একটি মহাদেশ অতিক্রম করাই পরবর্তী পদক্ষেপ বলে আমার মনে হয়েছিল। তাই ইস্তাম্বুল থেকে হেঁটে নিজ দেশ আয়ারল্যান্ডে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’