জাতীয়

বাঙালির ঐশ্বর্যময় চিন্তাধারা

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
বাঙালির ঐশ্বর্যময় চিন্তাধারা
বাঙালির ঐশ্বর্যময় চিন্তাধারা

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে দুই শতকের বাঙালির মনন ও চিন্তার বিপুল ভান্ডার সংকলিত হয়েছে ২০৯ খণ্ডে। দীর্ঘ এই কর্মযজ্ঞ শুধু বাঙালির চিন্তার ঐশ্বর্যকে এক মলাটের পরিসরে এনেছে তা নয়, ভবিষ্যৎ জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার জন্যও তৈরি করেছে এক মূল্যবান ভিত্তি।

বাঙালির চিন্তাজগৎ যে কত বিস্তৃত, বিচিত্র আর গভীরতায় সমৃদ্ধ, তার পুরো হদিস আমাদের জানা ছিল না। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের প্রধান সম্পাদকতায় ১৬টি বিষয়ে ২০৯ খণ্ডে ‘বাঙালির চিন্তামূলক রচনা সংগ্রহ’ প্রকাশের পর আমরা এর বিস্তারিত পরিচয় পেয়ে বিস্মিত হই। চিন্তা মানবজাতির একান্ত স্বকীয় এক ক্রিয়া, যা তাকে সমগ্র প্রাণিজগৎ থেকে শ্রেষ্ঠত্বের মহিমা দিয়েছে; যা মানবসভ্যতা সৃষ্টি ও তার অব্যাহত অগ্রগতির প্রশ্নে মৌলিক বীজ হিসেবে সর্বদা সক্রিয় রয়েছে। মানবসভ্যতা যেমন গড়েই উঠেছে মানবের চিন্তনক্রিয়ার রেশ ধরে, তেমনই এর অগ্রগতির ইতিহাসের সঙ্গে মানবচিন্তার বিবর্তনের ইতিহাসটিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

আমরা প্রাচীনকালের অনেক সভ্যতার বিকাশের কথা জানি। মেসোপটেমীয়, মিসরীয়, সিন্ধু, ভারতীয়, চীনা, গ্রিক, রোমান প্রভৃতি সভ্যতা এ ক্ষেত্রে স্মরণীয়। এসব সভ্যতার অবদান, অর্থাৎ এর মাধ্যমে মানবের সৃষ্টিশীল চিন্তার উৎকর্ষ কতটা চূড়া স্পর্শ করেছিল, তা দেখে আজও আমরা পরম বিস্ময় নিয়ে অনুধাবনের চেষ্টা করি। কিন্তু আরেকটি বিস্ময়কর ঘটনা হলো, এসব সভ্যতা ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এগোতে পারেনি।

অতঃপর ইউরোপে তেরো শতকে সূচিত রেনেসাঁসের আন্দোলন দীর্ঘকালের প্রচেষ্টায় যে সাফল্য অর্জন করে জ্ঞান–বিজ্ঞানচর্চার পথ অবারিত করে তোলে, সেটাই মানবসভ্যতার অগ্রগতির ক্ষেত্রে নতুন উদ্দীপনা, নতুন উদ্যম ও নতুন গতি সঞ্চার করে। এর ফলে শিল্পবিপ্লব, যন্ত্রসভ্যতার অভূতপূর্ব বিকাশ ত্বরান্বিত করে পুঁজিবাদের উদ্ভব নিশ্চিত করলে তার অনিবার্য নিয়তি হিসেবে সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের সৃষ্টি হয়। তা বিশ্বব্যাপী শোষণের বিপুল আয়োজনের মাধ্যমে মানবজাতির জন্য অনেক নেতিবাচক ও যন্ত্রণাদায়ক উপাদান সৃষ্টি করলেও পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা অবাধ হওয়ায় মানবসভ্যতার বিকাশের ধারা নিরবচ্ছিন্ন থাকতে পেরেছে। শোষণপ্রক্রিয়ার মধ্যেও ক্রমাগতভাবে জ্ঞানচর্চা আমাদের সভ্যতাকে অবিশ্বাস্য রকম উন্নতির পথে প্রতিনিয়ত উৎকর্ষমণ্ডিত করে তুলছে। আমরা একটির পর একটি ধাপ অতিক্রম করে দ্রুতবেগে জ্ঞানরাজ্যের বিচিত্র পথে এগিয়ে চলেছি।

মানবসভ্যতার এই আধুনিক ধারার সঙ্গে আমরা বাঙালিরা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনসূত্রে পরিচিত হয়েছি; কিন্তু একই যাত্রায় ভিন্ন ফলও ফলেছে। ঔপনিবেশিক শাসন আমাদের শোষণজালে আবদ্ধ করার পাশাপাশি সেই সূত্রে আসা একধরনের আধুনিকতা আমাদের জীবনকে ইতিবাচক-নেতিবাচক উপাদানে একরূপ বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে নিক্ষিপ্ত করেছে, এ কথাও ঠিক। কিন্তু এরই পাশাপাশি রেনেসাঁসীয় আধুনিকতা আমাদের জ্ঞানচর্চার পথে যেভাবে উদ্বুদ্ধ করেছে, তা আমাদের সমাজকে বিপুলভাবে করেছে আলোড়িত, উজ্জীবিত ও সমৃদ্ধ। মধ্যযুগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে আধুনিকতার পথে আমাদের তীব্রভাবে বেগবান ও ঋদ্ধ করে তুলেছে, বহু যুগের অন্ধত্ব থেকে আমাদের মুক্তি দিয়েছে, সন্দেহ নেই। 

বাঙালির চিন্তামূলক রচনা সংগ্রহের একটি বিষয়ভিত্তিক খণ্ড ‘বাঙালির দর্শনচিন্তা’র প্রচ্ছদ
সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিনে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সভাপতিত্বে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পঠিত লেখাগুলোর নির্বাচনযোগ্যতা নিয়ে সম্মিলিত আলোচনার পর সেটি মনোনয়ন করা হতো। গবেষকদের মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক থেকে শুরু করে তরুণ লেখক পর্যন্ত। কয়েক বছর ধরে চলে এই বাছাইপর্ব।

বাংলাভাষী অঞ্চলে জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ একঝাঁক উন্নত চিন্তার মহৎ মানব সৃষ্টি হয়েছেন, যাঁরা তাঁদের চিন্তা ও কর্মযজ্ঞ দ্বারা সমগ্র সমাজকে বিপুল জাগরণের মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার পথ সুগম করেছেন। উনিশ ও বিশ শতকীয় এই উন্নত মানবমণ্ডলীর অগ্রসর চিন্তাসমষ্টিকেই আলোচ্য ২০৯ খণ্ডে ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো বিষয়ে জ্ঞানচর্চার পুরোনো ধারাকেও এখানে সমন্বিত ও সংযুক্ত করা হয়েছে। আবার কোনো কোনো বিষয়ের চিন্তাধারা অপেক্ষাকৃত নবীন হওয়ায় তা পুরো দুই শ বছরকে হয়তো স্পর্শ করতে পারেনি।

বিরাট কর্মযজ্ঞ

বাঙালির দুই শতকের চিন্তাধারার যে ১৬টি বিষয় এখানে বিধৃত হয়েছে সেগুলো হলো: শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংগীত, ভাষা, সমাজ, ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, ধর্ম, দর্শন, বিজ্ঞান, নারী, চলচ্চিত্র ও পরিবেশ। এর মধ্যে ১৩টি বিষয়ের সম্পাদক একজন করে মোট ১৩ জন। বাকি তিনটি বিষয় সম্পাদনায় একাধিক গবেষক যুক্ত হয়েছেন। এক দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। ২০০২-০৩ সাল থেকে শুরু হয়েছিল এর প্রাথমিক বাছাইপর্ব। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে বিষয়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ লেখা গবেষকদের কাছে সরবরাহ করা হতো, পাশাপাশি গবেষকেরাও উন্নত লেখার সন্ধান দিতেন। গবেষকেরা লেখা পড়ে প্রতিটি রচনার সারসংক্ষেপ লিখে বৈঠকে আসতেন। সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিনে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সভাপতিত্বে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পঠিত লেখাগুলোর নির্বাচনযোগ্যতা নিয়ে সম্মিলিত আলোচনার পর সেটি মনোনয়ন করা হতো। গবেষকদের মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক থেকে শুরু করে তরুণ লেখক পর্যন্ত। কয়েক বছর ধরে চলে এই বাছাইপর্ব।

তারপর আসে খণ্ড বিভাজন পর্ব। সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি খণ্ডের জন্য সম্পাদকেরা একটি করে সম্পাদকীয় লিখবেন এবং সমগ্র বিষয়ের ওপর লিখবেন একটি বড় আকারের ভূমিকা। এ ছাড়া বাছাইপর্বে প্রতিটি লেখার শুরুতে সারসংক্ষেপ লেখা তো হয়েছিলই। এভাবে খণ্ডগুলো সুবিন্যস্তভাবে সুনির্দিষ্ট রূপ পায়। তবে এখানেই শেষ নয়। শুদ্ধভাবে প্রকাশের লক্ষ্যে পেশাদার প্রুফ রিডারের মাধ্যমে তিনটি প্রুফ সংশোধন করা হয়। তারও পরে খ্যাতিমান বানান বিশেষজ্ঞকে দিয়ে সব বিষয়ের সব খণ্ড পাঠ করিয়ে সংশোধন করিয়ে নেওয়া হয়। এতেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। এরপর বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকদের দিয়ে আবার ভুলত্রুটি পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া হয়।

বাঙালির চিন্তামূলক রচনা সংগ্রহের একটি বিষয়ভিত্তিক খণ্ড ‘বাঙালির ইতিহাসচিন্তা’র প্রচ্ছদ
সিকি শতাব্দীর দীর্ঘ কালপর্ব জুড়ে এক বিপুল কর্মযজ্ঞ শেষে ২০৯ খণ্ডের এ প্রকাশ সমগ্র বাংলার সমৃদ্ধ চিন্তাজগৎকে একত্রীভূত করার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

এভাবে শেষ পর্যায়ে এসে কতকগুলো বিষয়ের খণ্ডসংখ্যা নিয়ে প্রধান সম্পাদকের মনে প্রশ্ন দেখা দেয়। অনেক লেখা যথোপযুক্ত মনে না হওয়ায় সেসব বাদ দিয়ে কোনো কোনো বিষয়ের সম্পাদককে দিয়ে খণ্ডসংখ্যা কমানো হয়। যেখানে সম্পাদকের অনুপস্থিতি বা অসম্মতির কারণ ঘটে, সেখানে অন্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিয়ে খণ্ডগুলো পুনঃসজ্জিত করা হয়। কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনো সম্পাদকের বাছাই নিয়ে প্রধান সম্পাদকের যদি মনে হয় বাছাই যথার্থ হয়নি; কোনো ক্ষেত্রে মনে হয় গুরুত্বপূর্ণ রচনা বাদ পড়ে গেছে, সেসব ক্ষেত্রে ভিন্ন বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে অগুরুত্বপূর্ণ রচনা বাতিল ও গুরুত্বপূর্ণ রচনা যোগ করে খণ্ডগুলোকে পুনর্বিন্যস্ত করা হয়। অর্থাৎ প্রধান সম্পাদককে শেষ মুহূর্তেও বিশুদ্ধতার প্রশ্নে আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হয়।

চূড়ান্ত বলে কিছু নেই

তবে এ সত্যও স্বীকার্য যে এত সব প্রয়াস–প্রক্রিয়া সত্ত্বেও বাঙালির চিন্তাসমষ্টির এই বিপুল আকর গ্রন্থাবলিকে চূড়ান্ত এবং শুদ্ধতম বলে মান্য করার কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ নেই। এত সব বিশুদ্ধীকরণ প্রক্রিয়া অনুসরণের পরেও এখানে থেকে যেতে পারে নানা ভুলত্রুটি, সীমাবদ্ধতা বা অসম্পূর্ণতা। এসব দূর করতে হলে পরবর্তী প্রতিটি সংস্করণেই অব্যাহত রাখতে হবে এক নিরন্তর নিষ্ঠাশীল ও বৃহৎ পরিসরের কর্মপ্রচেষ্টা।

তবু মানতে হবে, সিকি শতাব্দীর দীর্ঘ কালপর্ব জুড়ে এক বিপুল কর্মযজ্ঞ শেষে ২০৯ খণ্ডের এ প্রকাশ সমগ্র বাংলার সমৃদ্ধ চিন্তাজগৎকে একত্রীভূত করার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। একুশ শতকের সূচনাপর্বে যখন প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে একঝাঁক তরুণ-প্রবীণ গবেষক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদকে কেন্দ্র করে একেকটি লেখার মান নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেটিকে পরিহার কিংবা মনোনয়ন করা হতো, তখন এই পরিণতির কথা ভাবাও যায়নি। সেই দিনগুলো ছিল বড় আনন্দের। পাহাড় থেকে ঝরনা নেমে আসার মতো কলকাকলিতে মুখর। সেই ঝরনা যে ক্রমশ নদীতে পরিণত হয়ে শেষ পর্যন্ত সমুদ্রে মিলিত হবে, তা কারও ধারণাতেই ছিল না। পরবর্তীকালের ঘটনাপ্রবাহ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের নেতৃত্বে পুরো কর্মযজ্ঞকে সেদিকেই এগিয়ে দিয়েছে।

বাঙালির চিন্তামূলক রচনা সংগ্রহের একটি বিষয়ভিত্তিক খণ্ড ‘বাঙালির নারীচিন্তা’র প্রচ্ছদ
এখানে সংকলিত জাতির শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদদের সেরা রচনাসমূহ জাতীয়ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ প্রধানত দুই কারণে। প্রথমত, তা আমাদের সমগ্র জাতির জাগতিক ও আত্মিক উন্নতি সাধনের ক্ষেত্রে পালন করবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দ্বিতীয়ত, এই রচনাসমষ্টি আমাদের ভবিষ্যৎ গবেষকদের জন্য অপরিমিত অভিমুখ উন্মুক্ত করবে

জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ

আমরা বিচিত্র বিষয়কেন্দ্রিক দুই শতকীয় এই চিন্তাসমষ্টিকে একত্রে পাচ্ছি, এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এটি ঘোষণা করছে রেনেসাঁস-পরিস্রুত বাঙালি চিন্তাবিদদের নিষ্ঠবান মননশীল শক্তিরও এক বৃহত্তর বহিঃপ্রকাশ। এটি হয়ে উঠেছে ওই সব বিষয়ের প্রকৃত আকরগ্রন্থ। বাঙালি মনীষীরা রেনেসাঁসের ধারায় যে উন্নত ও গভীর চিন্তা দ্বারা সমগ্র জাতির মননভুবনকে সমৃদ্ধ করেছেন, তা আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে এক বিপুল সম্পদের ভান্ডারে পরিণত হয়েছে। আমরা আমাদের সমাজকে অশিক্ষা, কুশিক্ষা আর অপসংস্কৃতির অন্ধত্ব থেকে মুক্ত করে যদি একটি জ্ঞানভিত্তিক আলোকিত রূপ দান করতে চাই, তাহলে সে ক্ষেত্রে উন্নত চিন্তার ধারক মনীষীদের রচনাসমৃদ্ধ এই ২০৯ খণ্ডের সংকলন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এখানে সংকলিত জাতির শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদদের সেরা রচনাসমূহ জাতীয়ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ প্রধানত দুই কারণে। প্রথমত, তা আমাদের সমগ্র জাতির জাগতিক ও আত্মিক উন্নতি সাধনের ক্ষেত্রে পালন করবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দ্বিতীয়ত, এই রচনাসমষ্টি আমাদের ভবিষ্যৎ গবেষকদের জন্য অপরিমিত অভিমুখ উন্মুক্ত করবে, যা বহুমাত্রিক বিশ্লেষণের যেমন অসংখ্য দ্বার উন্মোচন করবে, তেমনি উদ্‌ঘাটন করবে জাতীয় জীবনের বহুবিধ অগণিত সত্য, যে সত্যের পথ ধরে একটি কল্যাণকর সহনশীল পরমতসহিষ্ণু জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হবে।

বাঙালির চিন্তামূলক রচনা সংগ্রহের একটি বিষয়ভিত্তিক খণ্ড ‘বাঙালির ধর্মচিন্তা’র প্রচ্ছদ
আমাদের পরম সৌভাগ্য যে মুক্তবুদ্ধির প্রেরণায় জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে আমাদের দুই শ বছরের অতীত যে উন্নত নিষ্ঠাশীল সমৃদ্ধির ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, তা আমাদের ভবিষ্যতের জ্ঞান অনুশীলনের উন্নততর ধারা সম্বন্ধেও অত্যন্ত আশাবাদী করে তোলে।

একুশ শতকে বিশ্বের জ্ঞানচর্চা সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম নানা ডিসিপ্লিনে বিভক্ত হয়ে ক্রমাগতভাবে বিস্তৃতি ও গভীরতা লাভ করছে। সেই ধারার সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রতিনিয়ত আমাদের মননশীলতাকে উন্নত করতে হলে, পারম্পর্য রক্ষা করে যথার্থ পথে অগ্রসর হতে হলে, এই ২০৯ খণ্ডের সংকলন নিঃসন্দেহে একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এটি এমন এক উদ্যোগ, যা আমাদের জ্ঞানানুশীলনের অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে এক ঘনিষ্ঠ মেলবন্ধন সৃষ্টি করবে। আমরা তো জানি একটি সমৃদ্ধ অতীতই একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের নির্মাণ সুনিশ্চিত করে। আমাদের পরম সৌভাগ্য যে মুক্তবুদ্ধির প্রেরণায় জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে আমাদের দুই শ বছরের অতীত যে উন্নত নিষ্ঠাশীল সমৃদ্ধির ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, তা আমাদের ভবিষ্যতের জ্ঞান অনুশীলনের উন্নততর ধারা সম্বন্ধেও অত্যন্ত আশাবাদী করে তোলে। এ কারণেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রকাশিত ২০৯ খণ্ডের ‘বাঙালির চিন্তামূলক রচনা সংগ্রহ’–এর বহুল প্রচার, পঠন ও ব্যবহার একান্তভাবে কামনা করি।

  • সৈয়দ আজিজুল হক: প্রাবন্ধিক, গবেষক ও অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত), বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
আইফোন ডুওর দাম প্রায় ৫ লাখ, তবুও কেন মানুষ কিনবে
আইফোন ডুওর দাম প্রায় ৫ লাখ, তবুও কেন মানুষ কিনবে

আইফোন কিনতে গিয়ে এত দিন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল কোন মডেলের ক্যামেরা ভালো, ব্যাটারি বেশি টিকবে কিংবা প্রসেসর কতটা শক্তিশালী। কিন্তু এবার অ্যাপলের নতুন আইফোন ডুও সেই হিসাবটাই বদলে দিয়েছে। কারণ এটি আর সাধারণ স্মার্টফোন নয়। অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনটি খুললেই পাওয়া যাচ্ছে ৭.৬ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে, অথচ বন্ধ করলে এটি আবার একটি পকেটসাইজ ফোন। খুললেই বদলে যাবে ফোনের চেহারা আইফোন ডুওর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই এর ফোল্ডেবল ডিজাইন। খোলা অবস্থায় রয়েছে ৭.৬ ইঞ্চির ওএলইডি সুপার রেটিনা এক্সডিআর ডিসপ্লে। অ্যাপল বলছে, এটি এখন পর্যন্ত আইফোনে ব্যবহৃত সবচেয়ে বড় ডিসপ্লে। আর ফোনটি ভাঁজ করলে সামনে পাওয়া যাবে ৫.৪ ইঞ্চির কভার স্ক্রিন। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ফোনের মতো ব্যবহার করা যাবে, আবার ভিডিও দেখা, গেম খেলা বা কাজের সময় বড় স্ক্রিন পাওয়া যাবে। শুধু বড় স্ক্রিন নয়, কাজেও সুবিধা ডুওর বড় ডিসপ্লের আসল সুবিধা পাওয়া যাবে মাল্টিটাস্কিংয়ে। একই সঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহার, ভিডিও দেখা, ওয়েব ব্রাউজিং কিংবা বড় স্ক্রিনে কাজ করার অভিজ্ঞতা অনেকটা ছোট ট্যাবলেটের মতো হতে পারে। অ্যাপল পেন্সিলের সমর্থনও রয়েছে, ফলে নোট নেওয়া বা সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রেও ফোনটি অন্য আইফোনের তুলনায় আলাদা। আরও পড়ুন আইফোনে ১৮ এর সঙ্গে আর কী কী আনলো অ্যাপল ক্যামেরাতেও রয়েছে নতুনত্ব পেছনে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন মেইন এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন আলট্রা ওয়াইড ক্যামেরা। মেইন ক্যামেরায় অপটিক্যাল-কোয়ালিটি 2x টেলিফোটো সুবিধাও রয়েছে। পাশাপাশি সেন্টার স্টেজ ফ্রন্ট ক্যামেরা ফ্রেমে থাকা ব্যক্তিদের অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিউ সামঞ্জস্য করতে পারে। সবচেয়ে মজার বিষয়, ডুও-প্রিভিউয়ের মাধ্যমে ফোনের বাইরের ডিসপ্লেতেই ছবির লাইভ প্রিভিউ দেখা যায়। ফলে পেছনের ক্যামেরা দিয়ে নিজের ছবি তোলার সময়ও ফ্রেম ঠিকভাবে দেখা সম্ভব। শক্তির দিক থেকেও পিছিয়ে নেই ফোনটিতে রয়েছে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপ। এর সঙ্গে উন্নত থার্মাল ম্যানেজমেন্ট দেওয়া হয়েছে, যাতে দীর্ঘ সময় গেম খেলা বা ভারী কাজের সময় পারফরম্যান্স ধরে রাখা যায়। অ্যাপলের দাবি, আইফোন ডুও আইফোন ১৭ প্রো-এর তুলনায় দীর্ঘ সময়ের পারফরম্যান্সে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নতি দিতে পারে। ব্যাটারির ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় সুবিধা। ভেতরে দুই পাশে আলাদা উচ্চ-ক্ষমতার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যাপলের হিসাবে, ভেতরের বড় স্ক্রিনে ৩১ ঘণ্টা পর্যন্ত এবং বাইরের স্ক্রিনে ৪৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও প্লেব্যাক পাওয়া যেতে পারে। ম্যাগসেফ বা কিউআই২ ওয়্যারলেস চার্জারেও দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধা রয়েছে। তাহলে এত দাম দিয়ে কে কিনবেন? যুক্তরাষ্ট্রে এর দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। এর ২টিবি মডেলের দাম প্রায় ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ রুপি পর্যন্ত যেতে পারে। ফলে ভারতীয় বাজারে ফোনটির দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার বেশি হতে পারে। আরও পড়ুন আইফোন ১৮ প্রো-তে ক্যামেরায় বড় চমক, ফটোগ্রাফারদের জন্য আশীর্বাদ প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে এত দাম দিয়ে কে কিনবেন? সত্যি বলতে, শুধু ফোন করার জন্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য আইফোন ডুও কেনার যুক্তি খুব শক্তিশালী নয়। একই কাজ অনেক কম দামের আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও করা সম্ভব। কিন্তু যারা ফোল্ডেবল ফোনের নতুন অভিজ্ঞতা, বড় স্ক্রিনে কাজ, শক্তিশালী পারফরম্যান্স, উন্নত ক্যামেরা এবং অ্যাপলের ইকোসিস্টেম সবকিছু একসঙ্গে চান, তাদের কাছে ডুও-র আকর্ষণ আলাদা। আর সবচেয়ে বড় কারণ? এত দিন অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই দেখা যেত ফোল্ডেবল আইফোন। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে অ্যাপল। তাই প্রযুক্তিপ্রেমী এবং অ্যাপলের নতুন প্রযুক্তি সবার আগে ব্যবহার করতে চান এমন ক্রেতাদের কাছে প্রায় ৫ লাখ টাকার এই ফোনই হয়ে উঠতে পারে পরবর্তী বড় আকর্ষণ। কেএসকে

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ঢাকায় জনবল নিয়োগ দেবে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক

ঢাকায় জনবল নিয়োগ দেবে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক

নামাজের সময়সূচি: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নামাজের সময়সূচি: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রসচিঠি

রসচিঠি

মাছরাঙা যেভাবে পানির নিচে শিকার করে
মাছরাঙা যেভাবে পানির নিচে শিকার করে

পুকুরপাড়ে শিকারের আশায় চুপচাপ বসে থাকে মাছরাঙা। ঠিক কীভাবে এরা ১০ ফুট ওপর থেকে পানির নিচে লুকিয়ে থাকা এক আঙুল সমান মাছটাকে খুঁজে বের করে?তুমি হয়তো গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখেছ, খালের ধারে বৈদ্যুতিক তারে বা গাছের ডালে চুপচাপ বসে আছে একটা রঙিন পাখি। নীল-কমলা শরীর, লম্বা ঠোঁট। চোখ দুটো সব সময় নিচের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা খুঁজছে। এটাই মাছরাঙা। দেখতে যতটা শান্ত মনে হয়, ভেতরে–ভেতরে চলছে ঠিক ততটাই জটিল এক হিসাব-নিকাশ। সেই হিসাব ভুল হলে তার পেটই ভরবে না।সমস্যাটা শুরু হয় পানির সঙ্গেই। সুইমিং পুলে দাঁড়িয়ে নিচে তাকালে দেখবে তোমার পায়ের অবস্থান আসলে যেখানে দেখাচ্ছে, ঠিক সেখানে নেই। আলো যখন বাতাস থেকে পানিতে ঢোকে, গতিপথ বেঁকে যায়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে প্রতিসরণ। এই বাঁকা আলোর কারণে পানির নিচের যেকোনো বস্তু আসলে যেখানে আছে তার থেকে একটু সরে থাকা জায়গায় দেখা যায়। মানুষের চোখ এই ফাঁদে বারবার পড়ে; মাছ ধরতে গিয়ে অনেকেই হাত ভুল জায়গায় ঢুকিয়ে ফেলে। মাছরাঙার জন্য অবশ্য এই ভুলের কোনো সুযোগ নেই। একবার আন্দাজ ভুল হলেই সারা দিনের খাবার হাতছাড়া।তাহলে সে এই আলোর ফাঁদ পার হয় কীভাবে? উত্তরটা লুকিয়ে আছে এর চোখের গড়নে। মাছরাঙার রেটিনায় দুই ধরনের কোষ কাজ করে পাশাপাশি, একটা বাতাসে দেখার জন্য, আরেকটা পানির নিচের দৃশ্যের জন্য। মস্তিষ্ক দুই ধরনের তথ্য মিলিয়ে নিয়ে আলোর বাঁকা পথের হিসাব কষে ফেলে নিমেষে। প্রতিটি মাছরাঙার মাথার ভেতর যেন বসানো আছে ছোট্ট একটা ক্যালকুলেটর, যেটা সেকেন্ডের কম সময়ে জ্যামিতির অঙ্ক শেষ করে ফেলে।বউ কথা কও: একটি পাখি, তিনটি দেশ, তিনটি গল্পজলাশয়ের ধারে জোড়া মাছরাঙা। বানিয়াখালী, ডুমুরিয়া, খুলনা, ২৭ নভেম্বর। ছবি: সাদ্দাম হোসেন চোখের কাজ শেষ হলে শুরু হয় শরীরের কাজ। শিকার দেখে ফেলার পর মাছরাঙা সরাসরি নিচে ঝাঁপ দেয় না। প্রথমে মাথা কাত করে দুই চোখ দিয়ে একসঙ্গে তাকায় লক্ষ্যবস্তুর দিকে। এই দুই চোখের কোণ মিলিয়েই সে দূরত্ব আর গভীরতা মেপে ফেলে, ঠিক যেভাবে তুমি বল ছোড়ার আগে দুই চোখ দিয়ে দূরত্ব আন্দাজ করো। তারপর ডাইভ। ডানা গুটিয়ে, ঠোঁট সোজা সামনে, পা পেছনে টেনে শরীরটাকে বানিয়ে ফেলে একটা তীরের আকৃতি। পানিতে পড়ার মুহূর্তে ছিটা প্রায় ওঠেই না, শব্দও হয় না বললেই চলে।এই নিঃশব্দ প্রবেশের রহস্য ঠোঁটের গড়নে। সরু, লম্বা আর সামান্য ত্রিকোণাকার—অনেকটা বর্শার ফলার মতো এই ঠোঁটের কারণে পানির উপরিতলের বাধা অনেকখানি কমে যায়, ফলে পাখিটা প্রায় বিনা বাধায় ঢুকে পড়ে ভেতরে। জাপানের বুলেট ট্রেনের সামনের অংশ নাকি ডিজাইন করা হয়েছিল মাছরাঙার ঠোঁট দেখেই, যাতে টানেলে ঢোকার সময় বিকট শব্দ না হয়। একটা ছোট্ট পাখির শরীরের গড়ন বিশ্বের দ্রুততম ট্রেনের নকশা বদলে দিয়েছে, ভাবলে অবাক লাগে।পানির নিচে ঢোকার পর চোখ কিন্তু বন্ধ হয়ে যায় না। মাছরাঙার চোখে আছে একটা স্বচ্ছ তৃতীয় পাতা, নিক্টিটেটিং মেমব্রেন নামে পরিচিত। ডাইভের মুহূর্তে এই পাতলা পর্দা চোখের ওপর নেমে আসে, আঘাত আর ঘোলা পানি থেকে বাঁচায় চোখকে, অথচ পাখিটা তখনো কিছুটা দেখতে পায়। ফলে পানির নিচে ঢুকে গিয়েও শেষ মুহূর্তে দিক ঠিক করে নেওয়ার সুযোগ থাকে হাতে। দেখা, হিসাব করা, ঝাঁপ দেওয়া, ধরা, এই পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে সেকেন্ডেরও কম। চোখের পলক ফেলার আগেই মাছরাঙা তার শিকার নিয়ে আবার ভেসে ওঠে পানির ওপরে।দুটাকার পাখিমাছ মুখে নিয়ে ওঠার পরও কাজ শেষ হয় না অবশ্য। জ্যান্ত মাছ পিছলে বেরিয়ে যেতে পারে, তাই মাছরাঙা প্রথমে ডাল বা তারে ফিরে গিয়ে মাছটাকে বারবার আছড়ায়। এতে মাছের শরীর অবশ হয়ে আসে, কাঁটাও কিছুটা নরম হয়। তারপর ধীরে ধীরে মাথার দিক থেকে গিলে ফেলে, যাতে আঁশ আর কাঁটা গলায় না বেঁধে।সব সময় অবশ্য এই হিসাব মেলে না। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একটা মাছরাঙার প্রতি ১০টি ডাইভের মধ্যে সফল হয় গড়ে ৬ থেকে ৭টি। বাকিগুলো ফসকে যায়। কখনো মাছ শেষ মুহূর্তে সরে যায়, কখনো ঢেউয়ের কারণে হিসাবে গোলমাল বাধে। অভিজ্ঞ পাখিরা ধীরে ধীরে এই সাফল্যের হার বাড়িয়ে নেয়, অনেকটা নিয়মিত অনুশীলনে একজন ক্রিকেটারের শট খেলা নিখুঁত হয়ে ওঠার মতো।আমাদের দেশের খাল-বিল আর পুকুরপাড়ে এই দৃশ্য একসময় ছিল খুবই সাধারণ। শহরের কাছাকাছি এলাকায় এখন মাছরাঙা দেখা একটু কমে এসেছে, পানি দূষণ আর জলাশয় ভরাটের কারণে। গ্রামের দিকে অবশ্য এখনো ভোরবেলা পুকুরপাড়ে বসলে সেই একই দৃশ্য চোখে পড়ে। নিঃশব্দ অপেক্ষা, হঠাৎ একটা ঝাঁপ, আর পানি ফুঁড়ে ওঠা এক ঝলক নীল, ঠোঁটে রুপালি মাছ।পরেরবার কোনো মাছরাঙাকে ডালে বসে থাকতে দেখলে একটু থেমে দেখো একে। ওই স্থিরদৃষ্টির পেছনে চলছে আলোর বাঁকা পথ মাপার একটা হিসাব, যেটা শেষ হবে চোখের পলকে।সূত্র: লাইভ সায়েন্সসাবমেরিন চালিয়ে সমুদ্রের নিচে টিয়া পাখি

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
পোলকা ডটের ফুরফুরে রেট্রো লুকে ভাবনা

পোলকা ডটের ফুরফুরে রেট্রো লুকে ভাবনা

ওষুধের বাক্সের গায়ে লেখা এ কথাগুলোর মানে কী

ওষুধের বাক্সের গায়ে লেখা এ কথাগুলোর মানে কী

শরতের রূপে জল-পাথরের বিছনাকান্দি

শরতের রূপে জল-পাথরের বিছনাকান্দি

কুষ্টিয়ায় হার্ডিঞ্জ সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কা, ছিটকে পড়ে ছাত্রদল নেতা নিখোঁজ
কুষ্টিয়ায় হার্ডিঞ্জ সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কা, ছিটকে পড়ে ছাত্রদল নেতা নিখোঁজ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় হার্ডিঞ্জ সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কায় পদ্মা নদীতে পড়ে ছাত্রদলের এক নেতা নিখোঁজ হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। একই দুর্ঘটনায় নদীতে পড়া আরও দুজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।নিখোঁজ ব্যক্তির নাম রাকিবুজ্জামান রকি (৩২)। তিনি ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব।উপজেলা প্রশাসন ও নৌভ্রমণে আসা যাত্রীদের সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কাতলাগাড়ি এলাকা থেকে ১২৩ জনের একটি দল বাল্কহেডে করে নৌভ্রমণে বের হয়। ভেড়ামারার গোলাপনগর এলাকা ঘুরে ফেরার পথে রাত ৯টার দিকে হার্ডিঞ্জ সেতু এলাকায় পৌঁছায় তাঁরা। একপর্যায়ে তীব্র স্রোতে বাল্কহেডটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর ৪ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজন নদীর পানিতে পড়ে যান।কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার পদ্মা নদীর ওপর হার্ডিঞ্জ সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কায় নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা রাকিবুজ্জামান রকিপরে অন্য যাত্রীরা লিটন ও ওহাব নামের দুজনকে উদ্ধার করে তীরে তোলেন। তাঁরা সুস্থ আছেন। রাকিবুজ্জামান এখনো নিখোঁজ। ঘটনার পর ঈশ্বরদী ও ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও নৌ পুলিশ সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন।রাকিবুজ্জামানের বন্ধু আনিসুজ্জামান বলেন, ‘রাকিবুজ্জামান যখন নৌকা থেকে পড়ে গেল, আমি তাঁকে ধরতে গিয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। সে যথেষ্ট শক্তি সামর্থ্যবান ছেলে। সাঁতারে যথেষ্ট দক্ষতা আছে, আশা করছি ফিরে আসবে।’আমিরুল আরাফাত, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাতে উদ্ধারকাজ কিছুটা কঠিন ছিল। রাকিবুজ্জামানকে উদ্ধারে বিভিন্ন ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।রাকিবুজ্জামানকে উদ্ধারে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে বলে জানান ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান।রাতে উদ্ধারকাজ কিছুটা কঠিন ছিল জানিয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত প্রথম আলোকে বলেন, রাকিবুজ্জামানকে উদ্ধারে বিভিন্ন ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
খরগোশ যে দেশের জাতীয় সমস্যা

খরগোশ যে দেশের জাতীয় সমস্যা

সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়ে সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা

সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়ে সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা

সবার আগে জাপানে নারী ফুটবল দল

সবার আগে জাপানে নারী ফুটবল দল

0 Comments