জাতীয়

যে ভবন রাত হলেই হয়ে উঠছে বিশাল ক্যানভাস

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
যে ভবন রাত হলেই হয়ে উঠছে বিশাল ক্যানভাস
যে ভবন রাত হলেই হয়ে উঠছে বিশাল ক্যানভাস

সিউলের ডংডেমুন ডিজাইন প্লাজা বা ডিডিপি নামের এক স্থাপনার ২২২ মিটার দীর্ঘ অংশ যেন পরিণত হয়েছে বিশাল এক ক্যানভাসে। কিন্তু কেন? বিস্তারিত ভিডিওতে…

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ইউরোপীয় ইউনিয়নে কড়াকড়ি সত্ত্বেও বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন বাড়ছে
ইউরোপীয় ইউনিয়নে কড়াকড়ি সত্ত্বেও বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন বাড়ছে

ইউরোপের দেশগুলোতে আশ্রয় বা আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন কমলেও বাংলাদেশিদের আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অঞ্চলে মোট ৩ লাখ ৩২ হাজার আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ১৭ শতাংশ কম। তবে একই সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের আবেদন বেড়েছে ১৩ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম (ইইউএএ) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তাদের ২০২৬ সালের ‘মিড-ইয়ার রিভিউ অব দ্য লেটেস্ট অ্যাসাইলাম ট্রেন্ডস’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ইইউ অঞ্চলে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা ২০২১ সালের পর কোনো বছরের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। ইইউএএ জানায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৩২ হাজার মানুষ আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ে আবেদনের সংখ্যা এর চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি ছিল। ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে ইইউ অঞ্চলে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা কমার যে প্রবণতা শুরু হয়েছিল, চলতি বছরেও তা অব্যাহত রয়েছে। তবে এই সামগ্রিক নিম্নমুখী প্রবণতার বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে। প্রথম ছয় মাসে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি ইইউ অঞ্চলে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশিদের আবেদন ১৩ শতাংশ বেড়েছে। ফলে বাংলাদেশ এখনো ইউরোপে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করা শীর্ষ জাতীয়তাগুলোর একটি হিসেবে অবস্থান করছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইইউ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় আবেদন পেয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে প্রায় ৬৯ হাজার আবেদন জমা পড়েছে, যা মোট আবেদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। এর পরেই রয়েছে ইতালি, যেখানে আবেদন পড়েছে প্রায় ৬৬ হাজার। স্পেন ও জার্মানি উভয় দেশেই প্রায় ৫৫ হাজার করে আবেদন জমা পড়েছে। এই চার দেশ মিলে ইইউ অঞ্চলের মোট আশ্রয় আবেদনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ গ্রহণ করেছে। জনসংখ্যার অনুপাতে অবশ্য চিত্রটি ভিন্ন। ইইউএএর হিসাবে, গ্রিসে প্রায় ২৩ হাজার আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে। জনসংখ্যার তুলনায় এটিই ইইউ অঞ্চলের সর্বোচ্চ হার। দেশটিতে প্রায় প্রতি ৪০০ বাসিন্দার বিপরীতে একজন আশ্রয় আবেদন করেছেন। ইউরোপে আশ্রয় আবেদন কমলেও বাংলাদেশিদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। ইইউএএ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ইইউ অঞ্চলে জমা পড়া মোট আবেদনের প্রায় ৫৬ শতাংশ এমন নাগরিকত্বের মানুষের কাছ থেকে এসেছে, যাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মের আওতায় সীমান্তবর্তী বা দ্রুততর আশ্রয় প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হতে পারে। ইইউএএ জানিয়েছে, ১২ জুন ২০২৬ থেকে ইউরোপের নতুন আশ্রয় কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিধান কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সীমান্তে আশ্রয় আবেদন পরীক্ষা এবং দ্রুততর আবেদন নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধের তথ্য মূলত নতুন নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগের পরিস্থিতির একটি চিত্রও তুলে ধরছে। আরও পড়ুন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় বিশেষ জোর ইইউএএর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইউরোপে আশ্রয় আবেদনের সামগ্রিক পতনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সিরিয়ায় চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন জাতীয়তার আবেদনকারীদের অনুপাত বদলেছে। একই সঙ্গে অভিবাসীদের উৎস ও ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা জোরদার হওয়ার বিষয়টিও আবেদনের সংখ্যা কমার অন্যতম কারণ। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত বাড়লেও এখন পর্যন্ত সেটি ইইউ অঞ্চলে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে সামগ্রিকভাবে ইউরোপে আশ্রয় আবেদন কমলেও বাংলাদেশিদের আবেদন বৃদ্ধির প্রবণতা আলাদা করে নজর কেড়েছে। মাত্র ছয় মাসে ২০ হাজার বাংলাদেশির আবেদন এবং এক বছরে ১৩ শতাংশ বৃদ্ধির এই তথ্য ইউরোপমুখী বাংলাদেশিদের অভিবাসন প্রবণতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম বলেছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যেসব আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে, তার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও কম মঞ্জুর হয়েছে। গত জুনে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব দেশের আবেদন মঞ্জুরের হার ২০ শতাংশের কম কিংবা যেগুলোকে ইইউ ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেসব দেশের আবেদন দ্রুত যাচাই-বাছাই এবং প্রত্যাখ্যাত হলে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এমআরএম

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপিকে ছাড়
দেবে না জামায়াত, ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যরা কী করছে

ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপিকে ছাড় দেবে না জামায়াত, ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যরা কী করছে

স্মৃতি কুড়োলেন প্রিয়ন্তী

স্মৃতি কুড়োলেন প্রিয়ন্তী

দুই হাজার শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়টি চলে সৌরবিদ্যুতে, রয়েছে এসি-কম্পিউটার ও শতাধিক ফ্যান

দুই হাজার শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়টি চলে সৌরবিদ্যুতে, রয়েছে এসি-কম্পিউটার ও শতাধিক ফ্যান

বুক চিতিয়ে লড়াই করেও দলকে বাঁচাতে পারলেন না হাসান
বুক চিতিয়ে লড়াই করেও দলকে বাঁচাতে পারলেন না হাসান

না, হাসান মাহমুদ পারেননি! বল হাতে নিজের কাজটা করতে পারলেও ব্যাটিংয়ে কেন্টের হয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে পারেননি। ফলাফল? ডার্বিশায়ারের কাছে কেন্টের হার। ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ডিভিশন টু–তে চার দিনের এ ম্যাচে ডার্বিশায়ারের কাছে কেন্ট হেরেছে ১৮১ রানে।ডার্বিতে ম্যাচটি জিততে হাসানের কেন্টের দরকার ছিল ৪৩৪ রান। ৩৮ রানে প্রথম ৫ উইকেট হারিয়ে কেন্ট ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায়। তখন ড্রয়ের জন্য খেলা ছাড়া আর কোনো উপায়ও থাকে না!হাসান গতকাল উইকেটে যান ১০ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে, দিনের খেলা শেষ হতে তখনো বাকি ছিল ২২ ওভারে। বার্টি ফোরম্যানের সঙ্গে ১০৫ বলে ৩৩ রানে জুটি গড়ে দলকে ড্রয়ের পথেই নিয়ে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশের এ পেসার। এই বলে আউট হয়েছেন হাসানদলীয় ২৫১ রানে দিনের ২৭ বল বাকি থাকতে এলবিডবলুর শিকার হন ফোরম্যান। ব্যাট করতে নামেন আরেক বাংলাদেশি পেসার খালেদ আহমেদ। এ জুটি দিনের খেলা শেষ করতে পারলে সেটা কেন্ট এবং হাসান-খালেদের জন্য দারুণ কিছুই হতো!কিন্তু দিনের ১৫ বল বাকি থাকলে ব্রেট রানডেলের বাউন্সারে ক্যাচ তুলে দেন হাসান। শেষ হয় তাঁর ৪৮ বলে ৯ রানের লড়াকু ইনিংস।একই বৃত্তে ঘুরপাক নারী ক্রিকেটের, সমাধান কীডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ড্র করতে পারলে কেন্টের জন্য তা হতো জয়ের সমান। কারণ, ড্র করলে কাউন্টি ডিভিশন টুতে পয়েন্ট তালিকায় দুইয়ে উঠত কেন্ট। দুই ম্যাচ হাতে রেখে দলটি ১৭৩ পয়েন্ট নিয়ে এখন তৃতীয়। কাউন্টি ডিভিশন ওয়ানে উঠবে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল। এই মুহূর্তে শীর্ষে থাকা দুই দল ডারহাম (২৩০), নর্থহ্যাম্পটনশায়ার (১৭৫)। চলতি মৌসুমে এটা কেন্টের দ্বিতীয় হার।কেন্টের হারে অবশ্য হাসানের দায় নেই। কারণ, ম্যাচ বাঁচানোর দায়িত্বটা ছিল ব্যাটসম্যানদের। হাসান তাঁর আগেই নিজের কাজটা সেরেছেন দারুণভাবে। ম্যাচে নেন ৭ উইকেট। ব্যাটিংয়ে তাঁর ৪৮ বল খেলাটা কেন্টের জন্য এক অর্থে ‘বোনাস’।সব মিলিয়ে কেন্টের হয়ে চার ম্যাচ খেলা হাসানের উইকেট এখন ২৬টি। অভিষেক ম্যাচে খালেদ পেয়েছেন ৩ উইকেট। সব কটিই পেয়েছেন প্রথম ইনিংসে। কেন্টের পরের ম্যাচ ১৫ সেপ্টেম্বর, ল্যাঙ্কশায়ারের বিপক্ষে।রাজাউল্লাহর ছক্কার রেকর্ড, অবশেষে পাকিস্তানের দিন

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ঘরোয়া দোকানে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন হাওরপারের অর্পনা

ঘরোয়া দোকানে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন হাওরপারের অর্পনা

এক ভিসাতেই ঘোরা যাবে সৌদি-কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ

এক ভিসাতেই ঘোরা যাবে সৌদি-কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারে পিকনিকের নৌকার ধাক্কা, একজন নিখোঁজ

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারে পিকনিকের নৌকার ধাক্কা, একজন নিখোঁজ

২০৩০ সালের মধ্যে এআইয়ের দখলে যাচ্ছে মালয়েশিয়া
২০৩০ সালের মধ্যে এআইয়ের দখলে যাচ্ছে মালয়েশিয়া

তথ্য খোঁজা, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা সরকারি সেবা গ্রহণ মালয়েশিয়ায় দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এবার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিকে ‘এআই জাতি’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মপরিকল্পনা ২০২৬–২০৩০ এর মাধ্যমে দায়িত্বশীলভাবে এআইয়ের ব্যবহার ও উন্নয়ন বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, সরকারি সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসায় প্রযুক্তিটির ব্যাপক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে এআইয়ের মাধ্যমে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে অতিরিক্ত ১ দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট যোগ করা এবং বৈশ্বিক এআই সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে মালয়েশিয়াকে নিয়ে আসা। একই সঙ্গে এআই সংশ্লিষ্ট ৩ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনে এর সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়তে পারে সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়ক সরকারি প্রশাসন গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি সেবা দ্রুত ও সহজ করার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরই একটি প্রাথমিক উদাহরণ হচ্ছে ‘মাইগভ মালয়েশিয়া’। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মটির ব্যবহারকারী ২৯ লাখ ছাড়িয়েছে। ১৯টি সরকারি সংস্থার ৫২টি সেবা এতে যুক্ত রয়েছে। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে মাইজেপিজে, মাইসেজাহটেরা, প্রাইসক্যাচার, পোর্টাল ম্যানফাত, জনগণের নগদ সহায়তা-সংক্রান্ত সেবা এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা। এখন মাইগভ প্ল্যাটফর্মে ‘এজেন্টিক এআই’ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে। প্রচলিত চ্যাটবটের তুলনায় এ ধরনের এআই ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বুঝে সংশ্লিষ্ট সেবা শনাক্ত করতে পারে এবং অনুমোদিত ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ধাপগুলো সম্পন্ন করতেও সহায়তা করতে পারে। সরকারের দেওয়া উদাহরণ অনুযায়ী, একজন ব্যবহারকারী পুলিশের জরিমানার তথ্য যাচাই করার পর সরাসরি অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়ায় যেতে পারবেন। তবে এই ব্যবস্থা ধাপে ধাপে চালু করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যের নির্ভুলতা এবং মানুষের তদারকি সবকিছুকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি বিভিন্ন সেবায় এরই মধ্যে এআইয়ের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, মাইজেপিজে- ড্রাইভিং ও যানবাহন-সংক্রান্ত সেবা, মাইসেজাহটেরা- স্বাস্থ্যসেবা, প্রাইসক্যাচার- পণ্যের মূল্যসংক্রান্ত তথ্য, পোর্টাল ম্যানফাত- সরকারি সহায়তার তথ্য, জনগণের নগদ সহায়তা কর্মসূচি, মাইএসপিআর সেমাক- নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য, অভিবাসন- পাসপোর্ট ও অভিবাসনসেবা, পরীক্ষা-সংক্রান্ত সেবা ও ফলাফল। ডিজিটাল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মোট ১৯টি সরকারি সংস্থা এ উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে। তবে সর্বশেষ ঘোষণায় প্রতিটি সংস্থার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ডিজিটালমন্ত্রী গোবিন্দ সিং দেও মালয়েশিয়ার এআই উদ্যোগকে ‘জাতীয় পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এতে সরকার, শিল্প খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ সব পক্ষকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এআইয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে চাকরির বাজারে। ২০৩০ সালের মধ্যে এআই সংশ্লিষ্ট ৩ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও কোন পেশায় কতটি চাকরি সৃষ্টি হবে, তার বিস্তারিত হিসাব এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ট্যালেন্টকর্পের গবেষণায় ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় পেশার মধ্যে এআই প্রকৌশলী, এআই ও মেশিন লার্নিং অ্যাপ্লিকেশন প্রকৌশলী, এআই সমন্বয় প্রকৌশলী, তথ্যবিজ্ঞানী, তথ্য প্রকৌশলী, এআই নিরীক্ষক এবং এআই নীতিবিদসহ বিভিন্ন পেশার কথা উঠে এসেছে। আরও পড়ুন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় বিশেষ জোর ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস, মহাকাশ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, ওষুধ, উৎপাদন, বৈশ্বিক ব্যবসায়িক সেবা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং খুচরা ব্যবসাসহ ১০টি খাতের ৯৪৯টি পেশা নিয়ে ওই গবেষণা করা হয়েছে। সরকারের আরেকটি লক্ষ্য হলো ‘মালয়েশিয়া ডিজিটাল ২০৩০’ কর্মপরিকল্পনার আওতায় ৭ লাখ কর্মীকে নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করা। এজন্য ‘জেলাজাহ এআই মাইমাহির’-এর মতো কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এআই কর্মক্ষেত্রের ধরন বদলে দেবে এমন আশঙ্কা থাকলেও সরকার বলছে, লক্ষ্য শুধু মানুষের জায়গায় যন্ত্র বসানো নয়। বরং প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে কর্মীদের নতুন দক্ষতায় দক্ষ করে তোলা। ট্যালেন্টকর্প সতর্ক করেছে, পুনঃদক্ষতা ও দক্ষতা উন্নয়নের কার্যক্রম জোরদার না করা হলে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে লাখ লাখ মালয়েশীয় কর্মী উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হতে পারেন। এ কারণে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য ব্যবহারিক এআই প্রশিক্ষণ চালু করা হচ্ছে। সরকারের বার্তাটি মূলত ‘এআই আপনার চাকরি নিয়ে নেবে’ এমন নয়; বরং ‘আপনার চাকরির ধরন বদলাতে পারে, তাই এআইয়ের সঙ্গে কাজ করার দক্ষতা অর্জন করুন।’ এ লক্ষ্যেই ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ৮০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে ডিজিটালভাবে দক্ষ করে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার এরই মধ্যে ‘রাকইয়াত ডিজিটাল’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে ডিজিটাল ও এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর আওতায় সৃজনশীল এআই, সাইবার নিরাপত্তা ও ক্লাউড প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কোর্স রয়েছে। এছাড়া ‘এআই উনতুক রাকইয়াত’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সাল পর্যন্ত ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী ১ লাখ মালয়েশীয় তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিটি ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট থেকে ধাপে ধাপে চালু হয়েছে। নির্ধারিত সব মডিউল সফলভাবে শেষ ও পাস করা অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচিত এআই অ্যাপ্লিকেশন ও সফটওয়্যারের একটি প্যাকেজে তিন মাসের বিনামূল্যের সাবস্ক্রিপশন পাবেন। সরকারি সেবা ও চাকরির পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহন, কৃষি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকদের সহায়তা, কৃষিতে জমি ও ফসল পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় নিয়মিত কাজ সহজ করার ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে প্রযুক্তির প্রসারের পাশাপাশি এআইয়ের নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ২৮ জুলাই ২০২৬ প্রতিষ্ঠিত ‘এআই মালয়েশিয়া বেরহাদ’ দেশটির জাতীয় এআই সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। এ সংস্থার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে এআই নীতি প্রণয়ন, জাতীয় এআই কর্মসূচি বাস্তবায়ন, এআই ব্যবস্থাপনা ও তদারকি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ‘মালয়েশিয়া এআই সেফটি ইনস্টিটিউট’ পরিচালনা। যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল বলেছেন, এআই গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও নৈতিকভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে মালয়েশিয়া ‘এআই জাতি’ হয়ে উঠলে সাধারণ মানুষের জন্য আলাদা কোনো নতুন সরকারি সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে এমন নয়। বরং এর অর্থ হলো, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের আরও বড় অংশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হবে। সরকারি সেবা গ্রহণ, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা পরিচালনা সব ক্ষেত্রেই এআইয়ের ব্যবহার বাড়বে। একই সঙ্গে পরিবর্তিত কর্মবাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ মালয়েশিয়ার ‘এআই জাতি’ হওয়ার পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য শুধু নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ নয়; বরং এমন একটি সমাজ তৈরি করা, যেখানে মানুষ এআইয়ের সঙ্গে কাজ করতে, শিখতে এবং সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে। এমআরএম

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত

ব্রিকস সম্মেলনে নজর কাড়ছে চীনা প্রেসিডেন্টের সুসজ্জিত লিমোজিন, কী আছে এতে

ব্রিকস সম্মেলনে নজর কাড়ছে চীনা প্রেসিডেন্টের সুসজ্জিত লিমোজিন, কী আছে এতে

কালো লেসের আবেদনে রাখঢাকহীন তৃণা

কালো লেসের আবেদনে রাখঢাকহীন তৃণা

0 Comments