অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসায় দুটি গরু বিক্রি ও সঞ্চয়ের সব টাকা শেষ। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক তাঁকে কিছুদিন বিশ্রামে থাকতে বলেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি কাজ করতে না পারায় থমকে যায় সংসারের চাকা। দুই মেয়ের পড়াশোনাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন অর্পনা রানী সরকার (৪০)। একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ঘরের একপাশে ছোট্ট একটি দোকান দেন। চার বছর ধরে সেই দোকানের আয়েই চলছে তাঁর সংসার, চলছে দুই মেয়ের পড়াশোনা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজার সদরের একাটুনা ইউনিয়নের কাউয়াদীঘি হাওরপারের ইটা বড়বাড়ি গ্রামে অর্পনার বাড়িতে যান এই প্রতিবেদক। টিনের বসতঘরের একটি অংশজুড়ে তাঁর দোকান। সেখানে ঝুলছে চানাচুর, চিপস, বিস্কুটসহ নানা পণ্য। লবণ, মরিচ, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও আছে। বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। ক্রেতা এলে দাঁড়িয়েই পণ্য তুলে দেন তিনি।
অর্পনার স্বামী জিতেন্দ্র সরকার কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। তাঁর আয়েই সংসার চলত। হঠাৎ তাঁর পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসার খরচ জোগাতে বাড়িতে থাকা দুটি গরু বিক্রি করেন অর্পনা। সঞ্চয়ের টাকাও শেষ হয়ে যায়। অস্ত্রোপচারের পর স্বামীকে কিছুদিন ভারী কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেন চিকিৎসক।
তখন সংসারের খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে। দুই মেয়ের পড়াশোনা কীভাবে চলবে, তা নিয়েও চিন্তায় পড়েন অর্পনা। তিনি বলেন, ‘দেখলাম, অচল অই যাইমু। বাইচ্চাইনতোরে (দুই মেয়েকে) লেখাপড়া করাইতাম পারতাম নায়। তখনই দোকান দেওয়ার কথা মাথাত আইছে।’
দোকানের শুরুটা সহজ ছিল না। অর্পনা বলেন, ‘শুরুতে বুঝতাম না—ছয়–সাত মাস লস খাইছি (লোকসান দিয়েছি)। আস্তে আস্তে সব ঠিক অইছে। দোকান ভালাই চলের। এই দোকানের আয় দিয়াই এখন আমার সংসার চলের, মেয়েদের লেখাপড়া করারাম (করাচ্ছি)।’
দোকানে শুরুতে লবণ-মরিচ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রাখতেন অর্পনা। পরে ধীরে ধীরে পণ্যের সংখ্যা বাড়ান। শহর থেকে স্বামীর মাধ্যমে কিছু পণ্য আনাতেন। প্রতি বৃহস্পতিবার বিভিন্ন কোম্পানির লোকজন ভ্যানে করে তাঁকে পণ্য দিয়ে যান।
বর্তমানে দোকান থেকে মাসে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা আয় হয় অর্পনার। গ্রামের মানুষ তাঁর দোকান থেকেই প্রয়োজনীয় পণ্য কেনেন। কিছু বাকি পড়লেও পরে সবাই টাকা পরিশোধ করেন। জিতেন্দ্র সরকারও এখন কিছুটা কাজ করতে পারেন। তাতে সংসারে কিছুটা সহযোগিতা হয়। এর মধ্যে অর্পনা ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করেছেন। তাঁর বড় মেয়ে এবার এসএসসি পাস করেছে। ছোট মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে।
ইটা বড়বাড়ি গ্রামের উত্তর দিকে কাউয়াদীঘি হাওর। ৮০ থেকে ৮৫টি পরিবারের এই গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ কৃষিজীবী। এই গ্রামেরই অর্পনা এখন নিজের দোকানটি আরও বড় করার স্বপ্ন দেখেন।
অর্পনা বলেন, ‘আমি থ্রি (তৃতীয় শ্রেণি) পর্যন্ত পড়ছি। হিসাব-টিসাব আগে বুঝতাম না। এখন হিসাব করতাম পারি। দোকানটা বড় করার ইচ্ছা আছে; কিন্তু ঋণ আর করতাম চাই না। কোনো সহযোগিতা পাইলে গ্রামের সড়কের পাশে দোকানটারে লইয়া যাইতাম।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ব্যাংক এশিয়া পিএলসি ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট রিলেশনশিপ ম্যানেজার (আপ টু এসইও)’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই স্নাতক অথবা সমমান ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে ব্যাংক এশিয়া পিএলসির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যাংক এশিয়া পিএলসি পদের নাম অ্যাসিস্ট্যান্ট রিলেশনশিপ ম্যানেজার (আপ টু এসইও) পদসংখ্যা নির্ধারিত নয় চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক অথবা সমমান অভিজ্ঞতা ৩ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা নির্ধারিত নয় সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: চট্টগ্রাম জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন ব্যাংক এশিয়া পিএলসি। আরও পড়ুনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবেনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদনপুলিশ সুপারের কার্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ১১২ টাকা১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ হামলার ২৫তম বার্ষিকী পালন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শুক্রবার নিউইয়র্কে এক আবেগঘন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি স্মরণ করা হলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এ অনুপস্থিতির পাশাপাশি অনুষ্ঠানে মার্কিন নীতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা। প্রথা ভেঙে নিউইয়র্কের ওই অনুষ্ঠানে না গিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ট্রাম্প। নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ছিনতাই করা উড়োজাহাজ দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় নিহত ২ হাজার ৯৭৭ জনের বেশির ভাগই সেখানে মারা যান। এ হামলা পুরো বিশ্বের স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে একেবারে বদলে দিয়েছিল। নিউইয়র্কের ‘ন্যাশনাল সেপ্টেম্বর ১১ মেমোরিয়াল’-এ নাইন-ইলেভেন হামলার ২৫তম বার্ষিকীর স্মরণানুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬নাইন-ইলেভেনের পর তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। আর সেই কারণেই বছরের পর বছর মধ্যপ্রাচ্যের নানা যুদ্ধে জড়িয়ে থাকতে হয়েছে দেশটিকে। রিপাবলিকান দলের এই বিলিয়নিয়ার নেতা (ট্রাম্প) এখন ইরানের সঙ্গে তাঁর বর্তমান সংঘাতকে সেই পুরোনো যুদ্ধের সঙ্গেই মেলানোর চেষ্টা করেছেন।সাধারণত অনুষ্ঠানটি রাজনীতিমুক্ত থাকে এবং এখানে কোনো ভাষণ দেওয়া হয় না। তবে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের মধ্যে যাঁরা নাম পড়ে শুনিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই সৌদি আরবের সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নেতাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেরও কড়া সমালোচনা করেছেন।ট্রাম্প বলেন, ‘আজ আমরা সেই পবিত্র শপথ আবার নতুন করে গ্রহণ করছি, যা ২৫ বছর আগে তাঁদের স্মরণে নিয়েছিলাম। আমরা কোনো দিনই তা ভুলব না। আর এ জন্যই আজ আমরা লড়ছি।’‘আমাদের আর কোনো উপায় নেই। এখানে শুধু জয়ই হতে পারে। আমরা শক্ত লড়াই করছি। আমরা জয়ের জন্যই লড়ছি।নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটানের ‘গ্রাউন্ড জিরো’র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেখানে ট্রাম্পের আগের চার জীবিত সাবেক প্রেসিডেন্টও এসেছিলেন। তাঁদের একজন হলেন রিপাবলিকান জর্জ ডব্লিউ বুশ, যিনি হামলার সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। অন্য তিনজন হলেন ডেমোক্র্যাট দলের জো বাইডেন, বারাক ওবামা ও বিল ক্লিনটন।শোকাবহ এ বার্ষিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের (গ্রিনিচ মান সময় ১২টা ৪০ মিনিট) ঠিক পরপরই অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এতে নাইন-ইলেভেনের সেই দিনের প্রতিটি ঘটনা মিনিট ধরে স্মরণ করা হয়।২০০১ সালের নাইন-ইলেভেন হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্কের ‘ন্যাশনাল সেপ্টেম্বর ১১ মেমোরিয়াল’-এ আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে জড়ো হওয়া মানুষের একাংশ। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬চার উড়োজাহাজ, ১৯ ছিনতাইকারী—নিজের পাতা ফাঁদেই কি আটকে গেল যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবারের মতো এবারও নিহত ব্যক্তিদের নাম পড়ে শোনানো হয়। আর সেদিনের হামলার বড় বড় মুহূর্ত স্মরণ করে বাজানো হয় ঘণ্টা।সাধারণত অনুষ্ঠানটি রাজনীতিমুক্ত থাকে এবং এখানে কোনো ভাষণ দেওয়া হয় না। তবে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের মধ্যে যাঁরা নাম পড়ে শুনিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই সৌদি আরবের সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নেতাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেরও কড়া সমালোচনা করেছেন।
আর্থিক অনিয়মের দায়ে সাবেক দুই ফেডারেশন সভাপতিকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। এর মধ্যে এমন একজন সভাপতিও আছেন, যিনি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের নির্বাচনী ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ২০১১ সালে শাস্তি পাওয়ার পরও পদে বহাল ছিলেন। তিনি মন্টসেরাটের সাবেক ফুটবল প্রধান ভিনসেন্ট ক্যাসেল। এর পাশাপাশি মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জলিলকেও শাস্তি দিয়েছে ফিফা।ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ব্রিটিশ সামুদ্রিক ভুখণ্ড মন্টসেরাটের দীর্ঘদিনের ফুটবল প্রধান ক্যাসেলের বিপক্ষে ‘পদের অপব্যবহার, দফায় দফায় স্বার্থের সংঘাত’ এবং ফিফা ও ফেডারেশনের তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। গতকাল শুক্রবার বিবৃতিতে এ খবর জানায় ফিফা। ৩০ বছর ধরে মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সভাপতির দায়িত্ব পালন করা ক্যাসেলের বিরুদ্ধে গত বছর ডিসেম্বরে অপরাধমূলক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করেন।মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জলিল ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আরও জানায়, মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জলিল ফিফার ‘কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিলের অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে অপব্যবহার করায়’ তাঁকে ফুটবলে সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।করোনা মহামারির সময়ে ২০২০ সালে ফিফা জানিয়েছিল, তারা অনুদান ও ঋণ বাবদ সর্বোচ্চ ১৫০ কোটি ডলার সহায়তা দেবে। মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যম এ বছর জানায়, ফিফা থেকে ১২ লাখ ডলার আত্মসাৎয়ের মামলায় জলিলকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই অর্থ স্থানীয় ফুটবল ক্লাবগুলোর জন্য বরাদ্দ ছিল এবং তা দিয়ে ফ্ল্যাট কেনা হয়েছিল বলে জানা গেছে।গত এপ্রিলে মন্টসেরাটের একটি আদালতে কর ফাঁকির অভিযোগের কথা স্বীকার করেন ক্যাসেল ও তাঁর ফেডারেশনের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক তানদিকা হিউজ। ২০১১ সালে ক্যাসেল এবং তাঁর ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদককে ফিফার তৎকালীন স্বাধীন নৈতিকতা বিষয়ক কমিটির বিচারের সম্মুখীনও হতে হয়। কাতারের মোহাম্মদ বিন হাম্মাম ফিফা সভাপতি পদে সেপ ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে ব্যর্থ হওয়ার সময় ক্যারিবিয়ান ফুটবল কর্তাদের ৪০ হাজার ডলার করে ঘুষ দিয়েছিলেন, সেই ঘটনায় জড়িত ছিলেন দুজন।ক্যাসেল ও হিউজ মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন পরিচালনা করে যাচ্ছিলেন। ফিফার বিশ্বকাপ আয়োজনের লভ্যাংশ থেকে সংস্থাটি প্রতিবছর অন্তত ২০ লাখ ডলার পাওয়ার যোগ্য। তাঁদের বিদায়ের পর এ বছর ফেব্রুয়ারিতে সেখানে একটি জরুরি ব্যবস্থাপনা কমিটি বসায় ফিফা। সংস্থাটি তখন জানায়, ‘নজিরবিহীন সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থবিরতার’ কারণে মন্টসেরাটের দৈনন্দিন কার্যক্রম সরাসরি তদারকির এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।প্যারিসের সেই ভয়ংকর রাত, আদালতে সাক্ষ্য দিলেন দোন্নারুম্মা‘অনুপযুক্ত লেনদেন থেকে সুবিধা নেওয়া ও তাতে সহায়তা করা’, পদের অপব্যবহার এবং তহবিল তছরুপের দায়ে তানদিকা হিউজকে ১৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। এ ছাড়া ক্যাসেলের বিরুদ্ধে ফেডারেশনের ‘কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শারীরিক ও মানসিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করে এমন আচরণ’ করার অভিযোগ এনেছে ফিফা। তাঁকে ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়। এই অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে ফিফার কী ধরনের এখতিয়ার রয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ফিফা জানিয়েছে, হিউজকে ১ লাখ ৮৪ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ আকিলকে ১০ বছরের জন্য ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ এবং ১ লাখ ২৩ হাজার ডলার জরিমানা করেছে ফিফা। সংস্থাটির তহবিল অপব্যবহারের বিষয় গোপন ও তাতে সহায়তা করা, ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার এবং নৈতিকতা বিষয়ক তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ রয়েছে আকিলের বিরুদ্ধে।বিশ্বকাপ নিয়ে স্পেন-মরক্কোর টানাটানি, মরিনিও বললেন ‘পর্তুগালে হোক’