জাতীয়

ফিফার ত্রাণের অর্থে ফ্ল্যাট ক্রয়, মালদ্বীপ ফুটবলের সাবেক সভাপতি আজীবন নিষিদ্ধ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ফিফার ত্রাণের অর্থে ফ্ল্যাট ক্রয়, মালদ্বীপ ফুটবলের সাবেক সভাপতি আজীবন নিষিদ্ধ
ফিফার ত্রাণের অর্থে ফ্ল্যাট ক্রয়, মালদ্বীপ ফুটবলের সাবেক সভাপতি আজীবন নিষিদ্ধ

আর্থিক অনিয়মের দায়ে সাবেক দুই ফেডারেশন সভাপতিকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। এর মধ্যে এমন একজন সভাপতিও আছেন, যিনি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের নির্বাচনী ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ২০১১ সালে শাস্তি পাওয়ার পরও পদে বহাল ছিলেন। তিনি মন্টসেরাটের সাবেক ফুটবল প্রধান ভিনসেন্ট ক্যাসেল। এর পাশাপাশি মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জলিলকেও শাস্তি দিয়েছে ফিফা।

ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ব্রিটিশ সামুদ্রিক ভুখণ্ড মন্টসেরাটের দীর্ঘদিনের ফুটবল প্রধান ক্যাসেলের বিপক্ষে ‘পদের অপব্যবহার, দফায় দফায় স্বার্থের সংঘাত’ এবং ফিফা ও ফেডারেশনের তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। গতকাল শুক্রবার বিবৃতিতে এ খবর জানায় ফিফা। ৩০ বছর ধরে মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সভাপতির দায়িত্ব পালন করা ক্যাসেলের বিরুদ্ধে গত বছর ডিসেম্বরে অপরাধমূলক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করেন।

মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জলিল

ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আরও জানায়, মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জলিল ফিফার ‘কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিলের অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে অপব্যবহার করায়’ তাঁকে ফুটবলে সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

করোনা মহামারির সময়ে ২০২০ সালে ফিফা জানিয়েছিল, তারা অনুদান ও ঋণ বাবদ সর্বোচ্চ ১৫০ কোটি ডলার সহায়তা দেবে। মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যম এ বছর জানায়, ফিফা থেকে ১২ লাখ ডলার আত্মসাৎয়ের মামলায় জলিলকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই অর্থ স্থানীয় ফুটবল ক্লাবগুলোর জন্য বরাদ্দ ছিল এবং তা দিয়ে ফ্ল্যাট কেনা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

গত এপ্রিলে মন্টসেরাটের একটি আদালতে কর ফাঁকির অভিযোগের কথা স্বীকার করেন ক্যাসেল ও তাঁর ফেডারেশনের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক তানদিকা হিউজ। ২০১১ সালে ক্যাসেল এবং তাঁর ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদককে ফিফার তৎকালীন স্বাধীন নৈতিকতা বিষয়ক কমিটির বিচারের সম্মুখীনও হতে হয়। কাতারের মোহাম্মদ বিন হাম্মাম ফিফা সভাপতি পদে সেপ ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে ব্যর্থ হওয়ার সময় ক্যারিবিয়ান ফুটবল কর্তাদের ৪০ হাজার ডলার করে ঘুষ দিয়েছিলেন, সেই ঘটনায় জড়িত ছিলেন দুজন।

ক্যাসেল ও হিউজ মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন পরিচালনা করে যাচ্ছিলেন। ফিফার বিশ্বকাপ আয়োজনের লভ্যাংশ থেকে সংস্থাটি প্রতিবছর অন্তত ২০ লাখ ডলার পাওয়ার যোগ্য। তাঁদের বিদায়ের পর এ বছর ফেব্রুয়ারিতে সেখানে একটি জরুরি ব্যবস্থাপনা কমিটি বসায় ফিফা। সংস্থাটি তখন জানায়, ‘নজিরবিহীন সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থবিরতার’ কারণে মন্টসেরাটের দৈনন্দিন কার্যক্রম সরাসরি তদারকির এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

‘অনুপযুক্ত লেনদেন থেকে সুবিধা নেওয়া ও তাতে সহায়তা করা’, পদের অপব্যবহার এবং তহবিল তছরুপের দায়ে তানদিকা হিউজকে ১৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। এ ছাড়া ক্যাসেলের বিরুদ্ধে ফেডারেশনের ‘কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শারীরিক ও মানসিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করে এমন আচরণ’ করার অভিযোগ এনেছে ফিফা। তাঁকে ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়। এই অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে ফিফার কী ধরনের এখতিয়ার রয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ফিফা জানিয়েছে, হিউজকে ১ লাখ ৮৪ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ আকিলকে ১০ বছরের জন্য ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ এবং ১ লাখ ২৩ হাজার ডলার জরিমানা করেছে ফিফা। সংস্থাটির তহবিল অপব্যবহারের বিষয় গোপন ও তাতে সহায়তা করা, ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার এবং নৈতিকতা বিষয়ক তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ রয়েছে আকিলের বিরুদ্ধে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশ নেওয়া ৩২ জন গ্রেফতার
গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশ নেওয়া ৩২ জন গ্রেফতার

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৩২ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি ককটেল জব্দ করা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন জানান, গতকাল শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কের একটি গলিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ নেতাকর্মী জড়ো হন। তারা সেখানে মিছিল করার চেষ্টা করেন। আরও পড়ুন গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীদের দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয় বলে দাবি পুলিশের। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুটি রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি ককটেল জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। টিটি/এএমএ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
রাজশাহীতে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে পদ্মা, চরাঞ্চল প্লাবিত

রাজশাহীতে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে পদ্মা, চরাঞ্চল প্লাবিত

বৃষ্টির মধ্যে কালিন্দী নদী দিয়ে ১০ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা, বিজিবির প্রতিরোধ

বৃষ্টির মধ্যে কালিন্দী নদী দিয়ে ১০ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা, বিজিবির প্রতিরোধ

নতুন পে স্কেল: স্বস্তির আড়ালে আর্থিক ঝুঁকি

নতুন পে স্কেল: স্বস্তির আড়ালে আর্থিক ঝুঁকি

ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিকের স্মৃতিবিজড়িত মূল্যবান সামগ্রীর সুরক্ষা দরকার
ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিকের স্মৃতিবিজড়িত মূল্যবান সামগ্রীর সুরক্ষা দরকার

গত বছর তাঁর জন্মদিনে লিখেছিলাম, এমন জন্মদিন তাঁর এর আগে আসেনি। কারণ, তখন সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতালে ছিলেন তিনি। আজ তিনি জগতের সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তবে আছেন আমাদের হৃদয়ে, অগণিত পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের স্মৃতিতে। তাঁর জীবনের অন্তিম সময়ে রক্ত- সম্পর্কীয় আত্মীয় বলতে যাদের বোঝায়, তেমন কেউ ছিলেন না। তিনি জানতেনও তা। তাঁর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত আমরা কজন ছিলাম পরমাত্মীয়ের মতো। তখন আমি লিখেছিলাম তিনি ‘পরিবারহীন, স্বজনহীন, সংজ্ঞাহীন’। লেখাটি প্রকাশের পর দু- একবার সংজ্ঞায় ফিরেছিলেন বটে। কিন্তু তাকে ঠিক পুরোপুরি চৈতন্যে ফেরা বলা যায় না। তাই তাঁর বেঁচে থাকা অবস্থায় শেষ জন্মদিন আর মৃত্যুপরবর্তী প্রথম জন্মদিনের মধ্যে খুব একটা তফাত নেই।ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক (বাঁয়ে) ও সাঈদ হায়দার (বাঁ থেকে দ্বিতীয়) ভাষাসংগ্রামের গল্প শোনাচ্ছেন এই প্রজন্মের পাঁচ তরুণ ও তরুণীকেআহমদ রফিক ভাষা আন্দোলনের সংগঠক ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে বিপর্যস্ত হয়েছিল তাঁর শিক্ষাজীবন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের অন্য কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। দুই বছর ফেরার থেকে ফিরেছিলেন চিরচেনা শিক্ষাঙ্গনে। পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফলও করেছিলেন। কিন্তু সেই সময়ের প্রশাসন তাঁকে ইন্টার্ন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে। ফলে চিকিৎসাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেননি তিনি। সামনে তাঁর দুটি পথ খোলা ছিল। রাজনীতি ও লেখালেখি। কখনো চাকরিজীবী হিসেবে, কখনো উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষতক তিনি বেছে নিয়েছিলেন লেখালেখির মতো দুরূহ পথ।আহমদ রফিকদের মতো মানুষ সমাজে বিরল। যাঁরা প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি ছাড়াই ৯৬ বছরের একটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারেন। ’ভাষাসৈনিক’ নয় নিজের উদ্ভাবিত ‘ভাষাসংগ্রামী’ শব্দবন্ধ বেছে নিয়ে এবং বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করতে লিখে গেলেন আমৃত্যু। অর্থনৈতিক সচ্ছলতা থাকাকালে বাংলাদেশে রবীন্দ্রসাহিত্যের দর্শন প্রসারে কাজ করেছেন। তিনি সম্পদের ব্যক্তিমালিকানায় বিশ্বাস করতেন না। ফলে অর্থ সঞ্চয় করেননি। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রবীন্দ্র চর্চকেন্দ্র ট্রাস্ট। দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে গেছেন। ছিল যে দেহখানি, চিকিৎসা- বিজ্ঞানের সমৃদ্ধি ঘটাতে তাও দান করে গেছেন।এক যুগের বেশি সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য পাওয়ার সুবাদে বলতে পারি, শেষ দিকে তাঁর জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল আপনজনের যত্ন। তিনি সেটি পাননি। কারণ, তিনি ছিলেন ’পরিবারহীন, স্বজনহীন’ এবং সম্পদহীন। কিন্তু তাঁর মতো সমাজ ও রাষ্ট্রগঠনে বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে যাঁরা নিভৃতে কাজ করে যান, যাঁরা কারও মুখাপেক্ষী হতে চান না, যাঁরা রাষ্ট্রের কল্যাণ বই অকল্যাণ চিন্তা করেন না, সেই ধরনের গুণী মানুষের জন্য রাষ্ট্রের অনেক দায়িত্ব থাকে। রাষ্ট্র তাঁর ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব পালন করেনি। বিভিন্ন সময়ে তাঁকে নিয়ে লিখেছি ’জীবন চলে অন্যের সহায়তায়’ , ‘প্রয়োজন তাঁকে আগলে রাখা’ , ‘ উপার্জনহীন-জীবনে-দরকার-রাষ্ট্রীয়-পৃষ্ঠপোষকতা’ ইত্যাদি শিরোনামে। রাষ্ট্রের তেমন সাড়া মেলেনি। লিখেছিলাম, ’শতাধিক মননশীল গ্রন্থের লেখক, একজন প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক বুদ্ধিজীবীর লড়াই এভাবে থেমে যাক, আমরা চাই না। তাঁর জন্য রাষ্ট্র উদারতার পরিচয় দেবে, আমরা সেই প্রত্যাশা করেছিলাম।’ রাষ্ট্র তাঁর চিকিৎসার জন্য কিছুটা পাশে দাঁড়িয়েছিল যখন, তখন তিনি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিলেন।ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক মারা গেছেনভাষাসৈনিক আহমদ রফিক আহমদ রফিকের অনুমতিক্রমে কিন্তু তাঁর উপস্থিতিতে কার্যক্রম পরিচালনা না করার শর্তে ২০১৮ সালে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছিলাম ‘ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক ফাউন্ডেশন’। তাঁর তো সম্পদ বলতে তেমন কিছু ছিল না। তবে তাঁর অনুপস্থিতিকালে তাঁর প্রকাশিত- অপ্রকাশিত বইপত্রসহ অন্যান্য জিনিসপত্র দেখভালের দায়িত্ব তিনি ফাউন্ডেশনকে দিয়ে গেছেন। অনেকটা শূন্যহাতে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর সংগৃহীত বই গোছানোর কাজ চলছে। সংখ্যাটা দুই হাজারের বেশি হতে পারে। আছে বেশকিছু ডায়েরি, চিঠিপত্র, ব্যবহার্য জিনিসপত্র, বিভিন্ন স্মারক ইত্যাদি। একজন ভাষাসংগ্রামীর ব্যবহার্য, নামাঙ্কিত প্রতিটি সামগ্রীই মহা মূল্যবান। অমূল্য সম্পদ হিসেবে ফাউন্ডেশন সেগুলো আগলে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু রাষ্ট্র বা কোনো প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাঁর প্রয়াণের পর আমরা তাঁর স্মৃতিবিজড়িত জিনিসপত্রসহ আশ্রয় পেয়েছি বেসরকারি একটি সংস্থার (এনজিও) কার্যালয়ের ছোট একটি কক্ষে। তারা প্রায় বিনাখরচে সেখানে আমাদের ঠাঁই দিয়েছে। ফাউন্ডেশন চায় আহমদ রফিকের জিনিসপত্রসমেত একটা পরিপূর্ণ স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করতে; যেখানে নতুন প্রজন্ম অনুধাবন করতে পারবে একজন ভাষাসংগ্রামীর আত্মত্যাগ, পূর্ণকালীন লেখকের জীবনসংগ্রাম-যাঁর সংগ্রহ ও প্রণীত বইপুস্তক নিয়ে তারা গবেষণা করতে পারবে।যেভাবে কাটছে তাঁর দিনবাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হলো ‘আহমদ রফিক রচনাবলি: প্রথম খণ্ড’কিন্তু প্রাপ্ত এই জায়গাখানি প্রয়োজনের তুলনায় বড় অপ্রতুল-যেন ‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই! ছোট সে তরী।’ আমরা জানি না, কতদিন এই জিনিসপত্র আমরা আগলে রাখতে পারব। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আমরা চাই, তাঁর সংগৃহীত বই, অসংখ্য সাহিত্য- সাময়িকী, চিঠিপত্র- ডায়েরিসহ মূল্যবান জিনিসপত্র পরিকল্পিত সেই জাদুঘরে প্রদর্শিত হোক। আমাদের প্রয়োজন এক টুকরো জায়গার। আমরা মনে করি, রাষ্ট্র জীবদ্দশায় আহমদ রফিকের প্রতি সুবিচার করতে না পারলেও তাঁর রেখে যাওয়া মূল্যবান জিনিসপত্রের সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের পাশে দাঁড়াবে। ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিকের স্মৃতির প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম জানাই।ইসমাইল সাদী: শিক্ষক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাধারণ সম্পাদক, ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক ফাউন্ডেশনএক নান্দনিক জীবনের কথকতা 

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
মোবাইলে ব্যস্ত চিকিৎসক, মারা গেলেন রোগী

মোবাইলে ব্যস্ত চিকিৎসক, মারা গেলেন রোগী

‘মুসলিমদের চেয়ে হিন্দুরাই বেশি গরুর মাংস খায়’, বিতর্কে অভিনেত্রী

‘মুসলিমদের চেয়ে হিন্দুরাই বেশি গরুর মাংস খায়’, বিতর্কে অভিনেত্রী

তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টিন ৯ বছরেও শেষ হয়নি, দুই লেপার্ডের ‘বন্দিজীবন’

তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টিন ৯ বছরেও শেষ হয়নি, দুই লেপার্ডের ‘বন্দিজীবন’

গাজীপুর সাফারি পার্কে দুই লেপার্ডের এক দশকের বন্দি জীবন
গাজীপুর সাফারি পার্কে দুই লেপার্ডের এক দশকের বন্দি জীবন

মাত্র দেড় মাস বয়সে পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধার হয়েছিল দুটি লেপার্ড শাবক। নিয়ম অনুযায়ী তাদের রাখা হয়েছিল তিন সপ্তাহের অস্থায়ী কোয়ারেন্টাইনে। কিন্তু সেই কোয়ারেন্টাইনে তাদের কেটে গেছে এক দশকের দীর্ঘস্থায়ী জীবন। উপযুক্ত আবাসনের অভাবে ১০ বছর ধরে গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত গাজীপুর সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী হাসপাতালের একটি সংকীর্ণ ঘরে বন্দি জীবন কাটাচ্ছে এই প্রাণী দুটি। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০১৭ সাল দুই লেপার্ড শাবক যশোর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তৎকালীন খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এগুলো গ্রহণ করে গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠান। ৩ সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইনের জন্য বন্যপ্রাণী হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়। সেই দুই শাবক এখন পূর্ণবয়স্ক, কিন্তু জায়গা বদলায়নি। সাফারি পার্কের কোয়ারেন্টাইন শেডে সরেজমিনে দেখা যায়, দুটি ছোট কক্ষে বন্দি রাখা হয়েছে প্রাণী দুটিকে। গাছে ওঠা, লাফিয়ে লাফিয়ে ঘুরে বেড়ানো কিংবা শিকারের কোনো সুযোগ নেই। অল্প জায়গায় বন্দি থাকায় মানুষ দেখলেই ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার গ্রিলে আছড়ে পড়ছে তারা। স্বাভাবিক চলাচলের জন্য এই বন্দিশালা একেবারেই নগণ্য। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান জানান, জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য সর্বোচ্চ চার সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে রাখা যুক্তিযুক্ত। সাফারি পার্কের মূল উদ্দেশ্যই হলো প্রাণীকে উন্মুক্ত পরিবেশে রাখা। কিন্তু এভাবে বছরের পর বছর ছোট ঘরে বন্দি রাখা সাফারি পার্কের মূল ধারণার পরিপন্থি। অনতিবিলম্বে বাঘ ও সিংহের মতো লেপার্ডের জন্য উপযোগী এনক্লোজার তৈরি করা দরকার। পার্কে আসা দর্শনার্থীরা জানান, দেশীয় কোনো চিড়িয়াখানায় সাধারণত লেপার্ড দেখার সুযোগ মেলে না। শ্রীপুর সাফারি পার্কে থাকলেও তাদের নিবিড় বন্দিতে রাখা হয়েছে। আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা করে হলেও দর্শনার্থীদের দেখার সুযোগ ও লেপার্ড দুটির জন্য মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার। ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেন, সরকারের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি স্থানটি পরিদর্শন করেছে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিহাব খান/এফএ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
অ্যাসিস্ট্যান্ট/ডেপুটি ম্যানেজার নিয়োগ দেবে আরএফএল গ্রুপ

অ্যাসিস্ট্যান্ট/ডেপুটি ম্যানেজার নিয়োগ দেবে আরএফএল গ্রুপ

সিলেটের আছে নিজস্ব বর্ণমালা, ঐতিহ্য ফিরছে সাইনবোর্ডে

সিলেটের আছে নিজস্ব বর্ণমালা, ঐতিহ্য ফিরছে সাইনবোর্ডে

প্রতিদিন দাঁত মাজলেও যেসব কারণে মুখে দুর্গন্ধ হয়

প্রতিদিন দাঁত মাজলেও যেসব কারণে মুখে দুর্গন্ধ হয়

0 Comments