জাতীয়

পাহাড়ে স্থায়ী শান্তির জন্য পার্বত্য চুক্তির সংস্কার জরুরি

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
পাহাড়ে স্থায়ী শান্তির জন্য পার্বত্য চুক্তির সংস্কার জরুরি
পাহাড়ে স্থায়ী শান্তির জন্য পার্বত্য চুক্তির সংস্কার জরুরি

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) একাংশের সশস্ত্র নেতা সন্তু লারমার সাথে চরম গোপনীয়তায় সই হয়েছিল ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’। দীর্ঘ ২৮ বছর পেরিয়ে ২৯ বছরে পদার্পণ করা এই চুক্তিটি আজকের দিনে পাহাড়ের আপামর জনগণের জন্য টেকসই কোনো শান্তির বার্তা বয়ে আনতে পারেনি। বরং আইনি ও সামাজিক বাস্তবতায় এটি একটি ‘বৈষম্য দলিল’ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে। যে লক্ষ্য নিয়ে এই চুক্তি করা হয়েছিল, তা আজ সম্পূর্ণ ব্যর্থ। কারণ, এটি ছিল একটি নির্দিষ্ট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একাংশের সাথে রাষ্ট্রের একপেশে ও চরম একচেটিয়া বোঝাপড়া।

পাহাড়ের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকেরও বেশি বাংলাভাষী (বাঙালি) জনগোষ্ঠী এবং অন্যান্য ডজনখানেক অপেক্ষাকৃত ছোট ছোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মতামত ও অস্তিত্বকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এই অসম চুক্তি প্রণীত হয়েছিল। একটি সর্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভিত্তি না থাকার ফলেই আজ পাহাড়ে দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকট ঘনীভূত হয়েছে। দেশের অখণ্ডতা রক্ষা, সংবিধানের সর্বোচ্চ শ্রেষ্ঠত্ব সমুন্নত রাখা এবং পাহাড়ে বসবাসকারী সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করতে এই পার্বত্য চুক্তি সংস্কার করা আজ কোনো রাজনৈতিক বিলাসিতা নয়, বরং একটি অনিবার্য রাষ্ট্রীয় ও ঐতিহাসিক কর্তব্য।

বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানের ১ম অনুচ্ছেদে স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়েছে—‘বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র।’ এই এক এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার মূল নির্যাস হলো, দেশে কোনো পৃথক আইনগত স্বায়ত্তশাসন, আঞ্চলিক বা প্রাদেশিক দ্বৈত শাসনের সুযোগ থাকবে না। কিন্তু পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে গঠিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ’ এবং ৩টি পার্বত্য জেলা পরিষদের আইনি কাঠামো পর্যালোচনায় দেখা যায়, এটি দেশের মূল প্রশাসনিক ধারার বাইরে গিয়ে একটি সমান্তরাল উপ-রাষ্ট্রীয় বা সমান্তরাল সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।

দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত তাত্ত্বিক ও আইনি বিশ্লেষণে এই সংকটকে ‘একক রাষ্ট্রে দ্বৈত কাঠামো’ হিসেবে নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই দ্বৈত কাঠামোর সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, এটি দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ‘জাতীয় সংসদ’-এর সার্বভৌমত্ব ও একছত্র ক্ষমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করায়। চুক্তির শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ যদি সমগ্র দেশের জন্য বা পার্বত্য অঞ্চলের সামগ্রিক জাতীয় স্বার্থের জন্য কোনো আইন প্রণয়ন করতে চায়, তবে আঞ্চলিক পরিষদের সাথে পূর্বাহ্নে পরামর্শ ও অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি কোনো আইন পাস হওয়ার পর জেলা পরিষদ যদি সেটিকে ‘আপত্তিকর’ বা ‘কষ্টকর’ মনে করে আপত্তি তোলে, তবে কেন্দ্রীয় সরকার সেই আইন সংশোধন বা প্রয়োগ শিথিল করতে বাধ্য থাকবে। জাতীয় সংসদের সম্মিলিত মেধার ওপর একটি আঞ্চলিক পরিষদের এই ভেটো প্রদানের আইনি ক্ষমতা কোনো স্বাধীন ও একক রাষ্ট্রে চলতে পারে না। এটি জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্বের ওপর এক নিদারুণ অবমাননা।

পাশাপাশি, এই দ্বৈত কাঠামো মাঠ পর্যায়ের সাধারণ প্রশাসনের প্রচলিত চেইন অব কমান্ডকে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলেছে। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রে জেলা প্রশাসক (ডিসি) কিংবা বিভাগীয় কমিশনার সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি দায়বদ্ধ থাকেন এবং রাষ্ট্রের আইন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখেন। কিন্তু চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদ আইনের মাধ্যমে সাধারণ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা তত্ত্বাবধান, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং ভারী শিল্পের লাইসেন্স প্রদানের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় নির্বাহী ক্ষমতা আঞ্চলিক পরিষদের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এক দেশে দুটি ভিন্ন প্রশাসনিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, যা মাঠ প্রশাসনকে স্থবির এবং দেশের অখণ্ড শাসনতান্ত্রিক কাঠামোকে মারাত্মক দুর্বল করে তুলছে।

পার্বত্য চুক্তির কারণে সবচেয়ে বড় মানবিক ও আইনি বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে পাহাড়ের বিশাল বাংলাভাষী (বাঙালি) জনগোষ্ঠী। সংবিধানে দেশের সকল নাগরিকের জন্য সমান নাগরিক অধিকারের গ্যারান্টি দেওয়া হলেও, পার্বত্য চট্টগ্রামের চুক্তি ও আইনি কাঠামোর কারণে সেখানে বাঙালিরা আজ নিজ দেশেই এক অদৃশ্য বর্ণবাদের শিকার হয়ে ‘দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিকে’ পরিণত হয়েছেন।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ (আইনের চোখে সমতা), অনুচ্ছেদ ২৮ (ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের কারণে বৈষম্যহীনতা) এবং অনুচ্ছেদ ২৯ (প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে সুযোগের সমতা)—এই তিনটি মৌলিক স্তম্ভকে পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে পুরোপুরি পদদলিত করা হয়েছে।

ভোটাধিকার ও স্থায়ী বাসিন্দার শর্ত: সংবিধানে বাংলাদেশের যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোটার হওয়ার স্পষ্ট অধিকার থাকলেও, পাহাড়ে ভোটার হতে হলে ‘পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা’ হওয়ার অতিরিক্ত শর্ত চাপানো হয়েছে। আর একজন বাঙালির ক্ষেত্রে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার অন্যতম শর্ত হলো—তাকে ওই অঞ্চলে জমির মালিক হতে হবে।

জমির মালিকানা ও স্বাধীন চলাচলের অধিকার হরণ: সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের সর্বত্র অবাধ চলাচল, বসবাস ও বসতি স্থাপন এবং ৪২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সম্পত্তি অর্জন, ধারণ ও হস্তান্তরের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু পার্বত্য চুক্তির ফলে বাংলাদেশের যেকোনো জেলার উপজাতীয় নাগরিক ঢাকা, চট্টগ্রাম বা দেশের যেকোনো প্রান্তে জমি কিনে স্বাধীনভাবে বসবাস ও ব্যবসা করতে পারলেও, দেশের অন্য যেকোনো অঞ্চলের সাধারণ বাঙালি নাগরিক পার্বত্য চট্টগ্রামে জমি কিনতে বা স্বাধীনভাবে বসতি স্থাপন করতে পারেন না।

চাকরিতে চরম বৈষম্য: আইন করে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার সরকারি, আধা-সরকারি এবং স্থানীয় চাকরিতে উপজাতীয়রা একচেটিয়া অগ্রাধিকার পাবে। এর ফলে যুগ যুগ ধরে পাহাড়ে বসবাসকারী বাঙালি পরিবারের শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানের পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, যা সংবিধানের ২৯(২) অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন।

পার্বত্য অঞ্চলের তিনটি জেলা পরিষদ এবং আঞ্চলিক পরিষদের শীর্ষতম পদ বা ‘চেয়ারম্যান’ পদগুলোসহ আরো কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরপদ আইন করে শুধুমাত্র উপজাতীয়দের জন্য চিরস্থায়ীভাবে সংরক্ষিত করা হয়েছে। এমনকি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর পদটিও উপজাতীয়দের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক আইনি বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির একছত্র সাংবিধানিক ক্ষমতার ওপর শর্ত আরোপের শামিল। যা সংবিধান লঙ্ঘণই।

বাস্তব পরিসংখ্যান বলছে, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জেলায় বাংলাভাষী বাঙালিরা এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক বেশিই বাঙালি। অথচ এই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষগুলো তাদের নিজস্ব অঞ্চলে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। শুধু তাই নয়, আইনের এমন নির্লজ্জ ও জঘন্য বর্ণবৈষম্যমূলক ধারা রয়েছে যে, কোনো পরিষদের সভায় উপজাতীয় চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকলে, উপস্থিত সকল বাঙালি-অবাঙালি সদস্য একমত হলেও কোনো বাঙালি সদস্য ওই সভায় সভাপতিত্ব করতে পারবেন না। এই ধরনের শাসনতান্ত্রিক বৈষম্য অতীতে দক্ষিণ আফ্রিকার অধুনালুপ্ত শ্বেতাঙ্গদের বর্ণবৈষম্য কিংবা প্রাচীন রোমের দাস প্রথার নিষ্ঠুর সামাজিক বিভাজনের কথা মনে করিয়ে দেয়।

বর্তমান সময়ের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কৌশলগত ও সংবেদনশীল একটি অঞ্চল। দৈনিক রূপালী বাংলাদেশে প্রকাশিত ‘পার্বত্য চুক্তি সংস্কার করা প্রয়োজন’ প্রবন্ধে এই নিরাপত্তা ও কৌশলগত ঝুঁকির বিষয়টি সুতীক্ষ্ণভাবে উঠে এসেছে। ভারত এবং মায়ানমারের সংলগ্ন তিনদেশীয় সীমান্ত অঞ্চল হওয়ার কারণে এই এলাকার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা বাংলাদেশের অস্তিত্বের সাথে জড়িত।

চুক্তির ১৭(ক) ধারা অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সশস্ত্র বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পগুলো (প্রায় আড়াইশ) পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের নির্দিষ্ট ৬টি স্থায়ী ব্যারাকে সীমাবদ্ধ রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়েছে। দেশের এক-দশমাংশ ভূখণ্ড যেখানে প্রতিনিয়ত আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলোর (যেমন- জেএসএস, ইউপিডিএফ, কেএনএফ, মগ লিবারেশন পার্টি এবং তাদের অন্যান্য সামরিক শাখাগুলো) অবৈধ অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি, গহিন অরণ্যে মাদকের আন্তর্জাতিক চোরাচালান নেটওয়ার্ক এবং ভূ-কৌশলগত ষড়যন্ত্রের শিকার, সেখানে রাষ্ট্রের সার্বভৌম সুরক্ষাকারী সেনাবাহিনীর হাত-পা এভাবে বেঁধে দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক আত্মঘাতী নীতি। এই প্রত্যাহার নীতির কারণে তৈরি হওয়া শূন্যতায় পাহাড়ে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও সমান্তরাল কর ব্যবস্থা চালু করার সুযোগ পেয়েছে। দেশের অখণ্ডতা এবং সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই আত্মঘাতী ক্যাম্প প্রত্যাহার নীতির আমূল সংস্কার ও রাষ্ট্রীয় সামরিক নিয়ন্ত্রণ পুনর্প্রতিষ্ঠা করা আজ সময়ের দাবি।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক শক্তি—বর্তমান দেশের সরকারি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—উভয় দলই দেশের সার্বভৌমত্ব এবং পাহাড়ের সুশাসন বজায় রাখতে পার্বত্য চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন ও সংস্কারের সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিল।

বিএনপি তাদের অফিশিয়াল নির্বাচনী ইশতেহারের ২০২৬-এ পাহাড় ও সমতলের নৃগোষ্ঠী উপশিরোনামের অধীনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জাতির সামনে ঘোষণা করেছিল। জানিয়েছিল- সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের অংশগ্রহণে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

একই সাথে তারা পাহাড়ে সক্রিয় সশস্ত্র ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপগুলোর অবৈধ অস্ত্রবাজি ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থান এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ‘সোশ্যাল রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রাম’ বা সামাজিক পুনর্গঠন কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

জামায়াতে ইসলামীও তাদের নির্বাচনী বক্তব্যে পাহাড়ের সকল নাগরিকের বৈষম্যহীন সাংবিধানিক অধিকার এবং ভূমি অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে এই চুক্তির একপেশে ধারাগুলোর সংশোধনের পক্ষে জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করেছিল।

দেশের দুই বৃহৎ দলই নির্বাচনের আগে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কারণ তারা বোঝে—পাহাড়ের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত রেখে এবং সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কখনো টেকসই ও প্রকৃত শান্তি আসতে পারে না। আজ তারা যথাক্রমে সরকারে এবং প্রধান বিরোধী দলে অধিষ্ঠিত। তাই নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে দেওয়া এই অঙ্গীকার পূরণ করার উপযুক্ত সময় এখনই।

আজকের সরকারি দল বিএনপি যখন ১৯৯৭ সালে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল ছিল, তখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটি এই কালো চুক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে এবং সংসদে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। ১৯৯৮ সালের ১২ মে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রধান প্রধান জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে যে ঐতিহাসিক ভাষণ ও তথ্যবহুল দলিল পেশ করেছিলেন, তা আজ পার্বত্য চুক্তির সংস্কারের পক্ষে সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক ও আইনি দলিল।

তৎকালীন সময়ে এই চুক্তির বিরুদ্ধে বিএনপি সুনির্দিষ্ট ১৮টি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছিল, যা আজও সমভাবে সত্য এবং প্রাসঙ্গিক। সেই ১৮ দফার মূল নির্যাসসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:

সার্বভৌমত্ব বিসর্জন: এই চুক্তির মাধ্যমে তৎকালীন সরকার বাংলাদেশের এক-দশমাংশ অঞ্চল হতে স্বাধীন সার্বভৌম এককেন্দ্রিক ক্ষমতা প্রত্যাহার করে দেশের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়েছে এবং স্বাধীনতার সংকট সৃষ্টি করেছে।

বিচ্ছিন্নতাবাদের বিষবৃক্ষ: চুক্তির মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে বিভেদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ‘বিষবৃক্ষ’ রোপিত হয়েছে, যা দেশের অখণ্ডতা খণ্ডবিখণ্ড করার দ্বার উন্মুক্ত করবে।

জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন: সামগ্রিক চুক্তিতে জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে।

১ম ধারার পরিপন্থী: সংবিধানের ১নং ধারায় বাংলাদেশকে একটি একক রাষ্ট্র বলা হলেও চুক্তির ‘গ’ অধ্যায়ের মাধ্যমে পৃথক আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করা ১নং ধারার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

সমান্তরাল সরকার গঠন: সংবিধানে অঞ্চলভিত্তিক মন্ত্রী নিয়োগ বা সমান্তরাল নির্বাহী পরিষদ গঠনের সুযোগ না থাকলেও চুক্তির মাধ্যমে একটি বিশেষ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সর্বময় ক্ষমতা দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের বিপরীতে একটি ‘পাল্টা বা সমান্তরাল সরকার’ গঠন করা হয়েছে।

পাল্টা বৈষম্য সৃষ্টি: অনগ্রসর শ্রেণীর উন্নয়নের নামে এই চুক্তি পাহাড়ে বসবাসকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ওপর এক ধরনের ‘পাল্টা বৈষম্য’ চাপিয়ে দিয়েছে, যা সংবিধানের ২৯ নং ধারার পরিপন্থী।

সংসদের ক্ষমতা খর্ব: চুক্তির ‘গ’ খণ্ডের ১৩ ধারার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ কর্তৃক আইন প্রণয়নের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা খর্ব করার সুস্পষ্ট চক্রান্ত করা হয়েছে।

চলাফেরার অধিকার হরণ: চুক্তির ‘গ’ অধ্যায়ের ২৬ নং পংক্তি সংবিধানে প্রদত্ত নাগরিকদের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা ও বসতি স্থাপনের মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ৩৬) লঙ্ঘন করেছে।

সম্পত্তির অধিকার খর্ব: সংবিধানের ৪২(১) ধারার অধীনে প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন ও ধারণের যে মৌলিক অধিকার রয়েছে, চুক্তির ২৬ নং পংক্তি তা খর্ব করেছে।

ভূমির ক্ষমতা সমর্পণ: ভূমি বন্দোবস্ত, ভূমি অধিগ্রহণ ও ইজারা দেওয়ার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে আঞ্চলিক পরিষদের হাতে সমর্পণ করে সরকারের কেন্দ্রীয় ক্ষমতা সংকুচিত করা হয়েছে।

বাঙালিদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিককরণ: পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাভাষী নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার হরণ করে তাদের নিজ ভূখণ্ডে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করা হয়েছে।

প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি: জেলা প্রশাসকের পদ বিলুপ্তি ও কমিশনারের ক্ষমতা সীমিত করে সমস্ত সরকারি কর্মচারী ও পুলিশ বাহিনীকে সরকারের অধীনে না রেখে বস্তুত পার্বত্য পরিষদের অধীনে ন্যস্ত করায় এক দেশে দুটি ভিন্ন ও জটিল প্রশাসনিক ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ওপর শর্ত: উপজাতীয় মন্ত্রী নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে সংবিধানে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ সংক্রান্ত একছত্র ক্ষমতার ওপর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন: সামরিক বাহিনী, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর চলাচল সীমিতকরণ এবং তাদেরকে পরোক্ষভাবে পার্বত্য পরিষদের অধীনস্থকরণের মাধ্যমে তাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও দায়িত্ব পালনের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

বনাঞ্চল ও সরকারি স্বার্থ ত্যাগ: এ অঞ্চলের প্রোটেকটেড বনাঞ্চলসহ বহু জমির ওপর সরকারের অধিকার প্রত্যাহার করে সমগ্র দেশের জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব আয় সংকুচিতকরণ: নানা ধরনের ট্যাক্স, খাজনা, টোল আদায়ের ক্ষমতা এবং খনিজ সম্পদ উত্তোলনের লাভের কমিশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার নিজস্ব অর্থনৈতিক অধিকার ও রাজকোষের আয় সংকুচিত করেছে।

সহিংসতাবাদীদের পুরস্কার বনাম নিরীহদের অবহেলা: সরকার শান্তিবাহিনীর সন্ত্রাসী ও সহিংসতাবাদীদের নগদ অর্থ, জমি, ঋণ মওকুফ ও মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে পুরস্কৃত করেছে; পক্ষান্তরে শান্তিবাহিনীর বর্বর হামলায় নিহত ২০ হাজার (যদিও স্থানীয়দের দাবি ৩০ হাজার) নিরীহ বাঙালির স্বজনদের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা রাখেনি।

সরকারি ক্ষমতা সমর্পণ: পরিষদের সাথে আলোচনা ছাড়া জমি, পাহাড় ও বনাঞ্চল অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার নিজস্ব ক্ষমতা একটি আঞ্চলিক পরিষদের কাছে সমর্পণ করেছে।

বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সেই ভাষণে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় ও বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রজ্ঞার উদাহরণ টেনে বলেছিলেন, এরশাদ আমলে সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে দেশের একক চরিত্র নষ্টকারী হাইকোর্ট বিভাজনের সংশোধনী (অষ্টম সংশোধনী) বাতিল করেছিল, ঠিক একই কারণে দেশের এককেন্দ্রিক চরিত্র ধ্বংসকারী এই আঞ্চলিক পরিষদ গঠনও সম্পূর্ণ অবৈধ ও অসাংবিধানিক।

আজ ইতিহাসের এক মহাবর্তে দাঁড়িয়ে ১৯৯৭ সালের সেই ঐতিহাসিক বিরোধী দল বিএনপি দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। দেশের তরুণ সমাজ, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান এবং জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ সমগ্র দেশবাসী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং পাহাড়ের আপামর শোষিত ও বঞ্চিত জনগণ বর্তমান বিএনপি সরকার এবং জননেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন স্বৈরাচারী ও একপেশে চুক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর দল বিএনপি যে অটল, সাহসী এবং দেশপ্রেমিক অবস্থান নিয়েছিল—আজ ক্ষমতায় এসে বর্তমান সময়ের বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কি সেই ঐতিহাসিক অবস্থান ধারণ করে এই কালো চুক্তির আমূল সংস্কার করবেন, নাকি পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদের চাপিয়ে দেওয়া বৈষম্যমূলক নীতিকেই নীরবে মেনে নেবেন?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং ফ্যাসিবাদের তৈরি করা সকল প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য দূর করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পার্বত্য চুক্তি সংস্কারের বিষয়টিও ঠিক একইভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক সুগভীর পরীক্ষা। ১৯৯৮ সালের বিএনপির সেই ঐতিহাসিক ১৮ দফা অভিযোগ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভাষণের প্রতিটি শব্দ আজ বর্তমান সরকারের জন্য এক অবিকল্প গাইডলাইন।

তখনকার সময়ে বিএনপি যে অবস্থান নিয়েছিল, দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার স্বার্থে বর্তমান সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সেই অবস্থানে কেবল অটুট থাকলেই চলবে না, বরং নির্বাচনের আগে দেওয়া তাঁর দলের নিজস্ব ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের অংশগ্রহণে শান্তি চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন ও সংস্কার’ করার বাস্তবমুখী ও সাহসী পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্থায়ী শান্তি ও বৈষম্যহীন নতুন পাহাড়ের রূপরেখা:

একটি ঐতিহাসিক ভুলকে যুগ যুগ ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া কোনো দূরদর্শী ও দেশপ্রেমিক সরকারের কাজ হতে পারে না। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তিটি পাহাড়ের শান্তির নামে মূলত বিভেদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদের বীজ বপন করেছিল, যা আজ প্রমাণিত। পাহাড়ে বসবাসরত পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় জনগোষ্ঠীই বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তাই সমাধান কোনো একপেশে নীতিতে নেই; সমাধান রয়েছে বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানের পূর্ণ প্রতিফলনে। পার্বত্য চুক্তিকে কোনো অপরিবর্তনীয় অলঙ্ঘনীয় ঐশি দলিল না ভেবে, দেশের অখণ্ডতা রক্ষার্থে অবিলম্বে এর বিতর্কিত ও অসাংবিধানিক ধারাগুলো সংস্কার করতে হবে। পাহাড়ের সকল নাগরিকের জন্য সমান রাজনৈতিক অধিকার, সমান ভোটাধিকার, বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান এবং অবাধ ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি, জাতিগত সম্প্রীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সেই ঐতিহাসিক স্লোগানকে ধারণ করে আজ আমাদের আবারও বলতে হবে—জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় ‘বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও’ এবং পবিত্র সংবিধানের আলোকেই পাহাড়ের সুশাসন নিশ্চিত করো।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
ahmfarukcht@gmail.com

এইচআর/এএসএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশ নেওয়া ৩২ জন গ্রেফতার
গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশ নেওয়া ৩২ জন গ্রেফতার

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৩২ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি ককটেল জব্দ করা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন জানান, গতকাল শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কের একটি গলিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ নেতাকর্মী জড়ো হন। তারা সেখানে মিছিল করার চেষ্টা করেন। আরও পড়ুন গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীদের দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয় বলে দাবি পুলিশের। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুটি রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি ককটেল জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। টিটি/এএমএ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
রাজশাহীতে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে পদ্মা, চরাঞ্চল প্লাবিত

রাজশাহীতে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে পদ্মা, চরাঞ্চল প্লাবিত

বৃষ্টির মধ্যে কালিন্দী নদী দিয়ে ১০ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা, বিজিবির প্রতিরোধ

বৃষ্টির মধ্যে কালিন্দী নদী দিয়ে ১০ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা, বিজিবির প্রতিরোধ

নতুন পে স্কেল: স্বস্তির আড়ালে আর্থিক ঝুঁকি

নতুন পে স্কেল: স্বস্তির আড়ালে আর্থিক ঝুঁকি

ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিকের স্মৃতিবিজড়িত মূল্যবান সামগ্রীর সুরক্ষা দরকার
ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিকের স্মৃতিবিজড়িত মূল্যবান সামগ্রীর সুরক্ষা দরকার

গত বছর তাঁর জন্মদিনে লিখেছিলাম, এমন জন্মদিন তাঁর এর আগে আসেনি। কারণ, তখন সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতালে ছিলেন তিনি। আজ তিনি জগতের সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তবে আছেন আমাদের হৃদয়ে, অগণিত পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের স্মৃতিতে। তাঁর জীবনের অন্তিম সময়ে রক্ত- সম্পর্কীয় আত্মীয় বলতে যাদের বোঝায়, তেমন কেউ ছিলেন না। তিনি জানতেনও তা। তাঁর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত আমরা কজন ছিলাম পরমাত্মীয়ের মতো। তখন আমি লিখেছিলাম তিনি ‘পরিবারহীন, স্বজনহীন, সংজ্ঞাহীন’। লেখাটি প্রকাশের পর দু- একবার সংজ্ঞায় ফিরেছিলেন বটে। কিন্তু তাকে ঠিক পুরোপুরি চৈতন্যে ফেরা বলা যায় না। তাই তাঁর বেঁচে থাকা অবস্থায় শেষ জন্মদিন আর মৃত্যুপরবর্তী প্রথম জন্মদিনের মধ্যে খুব একটা তফাত নেই।ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক (বাঁয়ে) ও সাঈদ হায়দার (বাঁ থেকে দ্বিতীয়) ভাষাসংগ্রামের গল্প শোনাচ্ছেন এই প্রজন্মের পাঁচ তরুণ ও তরুণীকেআহমদ রফিক ভাষা আন্দোলনের সংগঠক ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে বিপর্যস্ত হয়েছিল তাঁর শিক্ষাজীবন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের অন্য কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। দুই বছর ফেরার থেকে ফিরেছিলেন চিরচেনা শিক্ষাঙ্গনে। পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফলও করেছিলেন। কিন্তু সেই সময়ের প্রশাসন তাঁকে ইন্টার্ন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে। ফলে চিকিৎসাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেননি তিনি। সামনে তাঁর দুটি পথ খোলা ছিল। রাজনীতি ও লেখালেখি। কখনো চাকরিজীবী হিসেবে, কখনো উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষতক তিনি বেছে নিয়েছিলেন লেখালেখির মতো দুরূহ পথ।আহমদ রফিকদের মতো মানুষ সমাজে বিরল। যাঁরা প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি ছাড়াই ৯৬ বছরের একটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারেন। ’ভাষাসৈনিক’ নয় নিজের উদ্ভাবিত ‘ভাষাসংগ্রামী’ শব্দবন্ধ বেছে নিয়ে এবং বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করতে লিখে গেলেন আমৃত্যু। অর্থনৈতিক সচ্ছলতা থাকাকালে বাংলাদেশে রবীন্দ্রসাহিত্যের দর্শন প্রসারে কাজ করেছেন। তিনি সম্পদের ব্যক্তিমালিকানায় বিশ্বাস করতেন না। ফলে অর্থ সঞ্চয় করেননি। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রবীন্দ্র চর্চকেন্দ্র ট্রাস্ট। দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে গেছেন। ছিল যে দেহখানি, চিকিৎসা- বিজ্ঞানের সমৃদ্ধি ঘটাতে তাও দান করে গেছেন।এক যুগের বেশি সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য পাওয়ার সুবাদে বলতে পারি, শেষ দিকে তাঁর জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল আপনজনের যত্ন। তিনি সেটি পাননি। কারণ, তিনি ছিলেন ’পরিবারহীন, স্বজনহীন’ এবং সম্পদহীন। কিন্তু তাঁর মতো সমাজ ও রাষ্ট্রগঠনে বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে যাঁরা নিভৃতে কাজ করে যান, যাঁরা কারও মুখাপেক্ষী হতে চান না, যাঁরা রাষ্ট্রের কল্যাণ বই অকল্যাণ চিন্তা করেন না, সেই ধরনের গুণী মানুষের জন্য রাষ্ট্রের অনেক দায়িত্ব থাকে। রাষ্ট্র তাঁর ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব পালন করেনি। বিভিন্ন সময়ে তাঁকে নিয়ে লিখেছি ’জীবন চলে অন্যের সহায়তায়’ , ‘প্রয়োজন তাঁকে আগলে রাখা’ , ‘ উপার্জনহীন-জীবনে-দরকার-রাষ্ট্রীয়-পৃষ্ঠপোষকতা’ ইত্যাদি শিরোনামে। রাষ্ট্রের তেমন সাড়া মেলেনি। লিখেছিলাম, ’শতাধিক মননশীল গ্রন্থের লেখক, একজন প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক বুদ্ধিজীবীর লড়াই এভাবে থেমে যাক, আমরা চাই না। তাঁর জন্য রাষ্ট্র উদারতার পরিচয় দেবে, আমরা সেই প্রত্যাশা করেছিলাম।’ রাষ্ট্র তাঁর চিকিৎসার জন্য কিছুটা পাশে দাঁড়িয়েছিল যখন, তখন তিনি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিলেন।ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক মারা গেছেনভাষাসৈনিক আহমদ রফিক আহমদ রফিকের অনুমতিক্রমে কিন্তু তাঁর উপস্থিতিতে কার্যক্রম পরিচালনা না করার শর্তে ২০১৮ সালে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছিলাম ‘ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক ফাউন্ডেশন’। তাঁর তো সম্পদ বলতে তেমন কিছু ছিল না। তবে তাঁর অনুপস্থিতিকালে তাঁর প্রকাশিত- অপ্রকাশিত বইপত্রসহ অন্যান্য জিনিসপত্র দেখভালের দায়িত্ব তিনি ফাউন্ডেশনকে দিয়ে গেছেন। অনেকটা শূন্যহাতে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর সংগৃহীত বই গোছানোর কাজ চলছে। সংখ্যাটা দুই হাজারের বেশি হতে পারে। আছে বেশকিছু ডায়েরি, চিঠিপত্র, ব্যবহার্য জিনিসপত্র, বিভিন্ন স্মারক ইত্যাদি। একজন ভাষাসংগ্রামীর ব্যবহার্য, নামাঙ্কিত প্রতিটি সামগ্রীই মহা মূল্যবান। অমূল্য সম্পদ হিসেবে ফাউন্ডেশন সেগুলো আগলে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু রাষ্ট্র বা কোনো প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাঁর প্রয়াণের পর আমরা তাঁর স্মৃতিবিজড়িত জিনিসপত্রসহ আশ্রয় পেয়েছি বেসরকারি একটি সংস্থার (এনজিও) কার্যালয়ের ছোট একটি কক্ষে। তারা প্রায় বিনাখরচে সেখানে আমাদের ঠাঁই দিয়েছে। ফাউন্ডেশন চায় আহমদ রফিকের জিনিসপত্রসমেত একটা পরিপূর্ণ স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করতে; যেখানে নতুন প্রজন্ম অনুধাবন করতে পারবে একজন ভাষাসংগ্রামীর আত্মত্যাগ, পূর্ণকালীন লেখকের জীবনসংগ্রাম-যাঁর সংগ্রহ ও প্রণীত বইপুস্তক নিয়ে তারা গবেষণা করতে পারবে।যেভাবে কাটছে তাঁর দিনবাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হলো ‘আহমদ রফিক রচনাবলি: প্রথম খণ্ড’কিন্তু প্রাপ্ত এই জায়গাখানি প্রয়োজনের তুলনায় বড় অপ্রতুল-যেন ‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই! ছোট সে তরী।’ আমরা জানি না, কতদিন এই জিনিসপত্র আমরা আগলে রাখতে পারব। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আমরা চাই, তাঁর সংগৃহীত বই, অসংখ্য সাহিত্য- সাময়িকী, চিঠিপত্র- ডায়েরিসহ মূল্যবান জিনিসপত্র পরিকল্পিত সেই জাদুঘরে প্রদর্শিত হোক। আমাদের প্রয়োজন এক টুকরো জায়গার। আমরা মনে করি, রাষ্ট্র জীবদ্দশায় আহমদ রফিকের প্রতি সুবিচার করতে না পারলেও তাঁর রেখে যাওয়া মূল্যবান জিনিসপত্রের সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের পাশে দাঁড়াবে। ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিকের স্মৃতির প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম জানাই।ইসমাইল সাদী: শিক্ষক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাধারণ সম্পাদক, ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক ফাউন্ডেশনএক নান্দনিক জীবনের কথকতা 

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
মোবাইলে ব্যস্ত চিকিৎসক, মারা গেলেন রোগী

মোবাইলে ব্যস্ত চিকিৎসক, মারা গেলেন রোগী

‘মুসলিমদের চেয়ে হিন্দুরাই বেশি গরুর মাংস খায়’, বিতর্কে অভিনেত্রী

‘মুসলিমদের চেয়ে হিন্দুরাই বেশি গরুর মাংস খায়’, বিতর্কে অভিনেত্রী

তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টিন ৯ বছরেও শেষ হয়নি, দুই লেপার্ডের ‘বন্দিজীবন’

তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টিন ৯ বছরেও শেষ হয়নি, দুই লেপার্ডের ‘বন্দিজীবন’

গাজীপুর সাফারি পার্কে দুই লেপার্ডের এক দশকের বন্দি জীবন
গাজীপুর সাফারি পার্কে দুই লেপার্ডের এক দশকের বন্দি জীবন

মাত্র দেড় মাস বয়সে পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধার হয়েছিল দুটি লেপার্ড শাবক। নিয়ম অনুযায়ী তাদের রাখা হয়েছিল তিন সপ্তাহের অস্থায়ী কোয়ারেন্টাইনে। কিন্তু সেই কোয়ারেন্টাইনে তাদের কেটে গেছে এক দশকের দীর্ঘস্থায়ী জীবন। উপযুক্ত আবাসনের অভাবে ১০ বছর ধরে গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত গাজীপুর সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী হাসপাতালের একটি সংকীর্ণ ঘরে বন্দি জীবন কাটাচ্ছে এই প্রাণী দুটি। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০১৭ সাল দুই লেপার্ড শাবক যশোর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তৎকালীন খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এগুলো গ্রহণ করে গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠান। ৩ সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইনের জন্য বন্যপ্রাণী হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়। সেই দুই শাবক এখন পূর্ণবয়স্ক, কিন্তু জায়গা বদলায়নি। সাফারি পার্কের কোয়ারেন্টাইন শেডে সরেজমিনে দেখা যায়, দুটি ছোট কক্ষে বন্দি রাখা হয়েছে প্রাণী দুটিকে। গাছে ওঠা, লাফিয়ে লাফিয়ে ঘুরে বেড়ানো কিংবা শিকারের কোনো সুযোগ নেই। অল্প জায়গায় বন্দি থাকায় মানুষ দেখলেই ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার গ্রিলে আছড়ে পড়ছে তারা। স্বাভাবিক চলাচলের জন্য এই বন্দিশালা একেবারেই নগণ্য। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান জানান, জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য সর্বোচ্চ চার সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে রাখা যুক্তিযুক্ত। সাফারি পার্কের মূল উদ্দেশ্যই হলো প্রাণীকে উন্মুক্ত পরিবেশে রাখা। কিন্তু এভাবে বছরের পর বছর ছোট ঘরে বন্দি রাখা সাফারি পার্কের মূল ধারণার পরিপন্থি। অনতিবিলম্বে বাঘ ও সিংহের মতো লেপার্ডের জন্য উপযোগী এনক্লোজার তৈরি করা দরকার। পার্কে আসা দর্শনার্থীরা জানান, দেশীয় কোনো চিড়িয়াখানায় সাধারণত লেপার্ড দেখার সুযোগ মেলে না। শ্রীপুর সাফারি পার্কে থাকলেও তাদের নিবিড় বন্দিতে রাখা হয়েছে। আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা করে হলেও দর্শনার্থীদের দেখার সুযোগ ও লেপার্ড দুটির জন্য মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার। ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেন, সরকারের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি স্থানটি পরিদর্শন করেছে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিহাব খান/এফএ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
অ্যাসিস্ট্যান্ট/ডেপুটি ম্যানেজার নিয়োগ দেবে আরএফএল গ্রুপ

অ্যাসিস্ট্যান্ট/ডেপুটি ম্যানেজার নিয়োগ দেবে আরএফএল গ্রুপ

সিলেটের আছে নিজস্ব বর্ণমালা, ঐতিহ্য ফিরছে সাইনবোর্ডে

সিলেটের আছে নিজস্ব বর্ণমালা, ঐতিহ্য ফিরছে সাইনবোর্ডে

প্রতিদিন দাঁত মাজলেও যেসব কারণে মুখে দুর্গন্ধ হয়

প্রতিদিন দাঁত মাজলেও যেসব কারণে মুখে দুর্গন্ধ হয়

0 Comments