মেহেদী হাসান মিরাজের সময়টা যেন স্বপ্নের মতো কাটছে! মাঠে একের পর এক উইকেট নেওয়া আর নাগিন ড্যান্সে উদ্যাপন—এভাবেই কেটে যাচ্ছে তাঁর সময়।
গত পরশু ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেক ম্যাচেই নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। আজ পরের ম্যাচেই বাংলাদেশি এই অফ স্পিনার নিলেন ৪ উইকেট। দারুণ বোলিংয়ে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সকে জিতিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরাও।
মিরাজের উইকেটগুলোও বেশ বড় নাম—কলিন মানরো, নিকোলাস পুরান, উরি গোলি ও সুনীল নারাইন। গোলিকে বাদ দিলে বাকি তিনজনকে চেনার কথা। টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে তিনজনই যে কত বড় ম্যাচ উইনার, সেটাও নিশ্চয়ই জানা।
প্রভিডেন্সে নাইট রাইডার্সের ওপেনার মানরো শুরুটাও করেছিলেন দারুণ। মিরাজের বলে ব্যক্তিগত ২৬ রানে বোল্ড হওয়ার আগে ৪.৪ ওভারে দলকে এনে দেন ৪১ রান। একই ওভারে পুরানকেও বোল্ড করেন মিরাজ, তাঁর খেলা প্রথম বলেই। নিজের প্রথম ওভারে মিরাজ দেন মাত্র ৩ রান, আর সেই ওভারেই তুলে নেন মানরো ও পুরানের উইকেট।
মিরাজ পরের দুটি উইকেট পেয়েছেন নিজের তৃতীয় ও চতুর্থ ওভারে। মজার ব্যাপার, চার ব্যাটসম্যানকেই বোল্ড করেন। নাগিন ড্যান্সে উদ্যাপনও করেন মিরাজ। গত ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়া ইমরান তাহির আজ নেন ১ উইকেট, পেসার শামার জোসেফ নেন ২টি। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান তুলতে পারে নাইট রাইডার্স।
এই রান তাড়া করতে গায়ানাকে কম ঘাম ঝরাতে হয়নি। মিরাজ ব্যাট হাতে ব্যর্থ, ১৪ বলে ২ রানে আউট হন। শেষ পর্যন্ত শাই হোপের অপরাজিত ৪২ রানের ইনিংসে ৮ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয় পায় মিরাজের গায়ানা।
পয়েন্ট তালিকায় মিরাজের দল গায়ানা সবার ওপরে। ৯ ম্যাচে ৮ জয়ে তাদের পয়েন্ট ১৬। আজকের ম্যাচের আগেই প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে দলটি।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নিজের বোলিং নিয়ে কথা বলেন মিরাজ। কীভাবে সফলতা পাচ্ছেন, সেই ব্যাখ্যায় বলেন, ‘আমার জন্য দারুণ একটি মুহূর্ত। সিপিএলে এবারই প্রথমবার খেলতে এসেছি। আজ সত্যিই খুব উপভোগ করেছি। আমি শুধু চেষ্টা করেছি সঠিক জায়গায় বল করতে এবং উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করতে। জানতাম, উইকেট একটু টার্ন করছে এবং স্পিনারদের জন্য সহায়তা ছিল। তাই আমি স্টাম্প লক্ষ্য করে বল করার দিকে মনোযোগ দিয়েছি, আর সুযোগটাও এসেছে।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় হাজেরা বেগম (৪২) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে তার মৃত্যু হয়। স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর প্রায় এক ঘণ্টা আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রিয়াঙ্কাকে বারবার অনুরোধ করেও রোগীকে দেখাতে পারেননি তারা, এ সময় চিকিৎসক নিজের কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন বলে দাবি তাদের। হাজেরা বেগম লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা বাজার ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের শেখের বাড়ির বাসিন্দা ও আক্তার হোসেনের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। স্বজনরা জানায়, শুক্রবার রাতে হাজেরা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তারা কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রিয়াঙ্কাকে রোগীকে দেখতে অনুরোধ করেন। তবে চিকিৎসক না এসে নিজের কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন বলে অভিযোগ করেন তারা। স্বজনদের অভিযোগ, অনুরোধের পর চিকিৎসক রোগীকে বেড থেকে কাঁধে করে তার কক্ষে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। এ সময় রোগীর স্বামী আক্তার হোসেন একার পক্ষে স্ত্রীকে কাঁধে করে চিকিৎসকের কক্ষে নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান। পরে চিকিৎসক রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার পরামর্শ দেন বলে স্বজনদের দাবি। হাজেরা বেগমের স্বামী আক্তার হোসেন জানান, আমার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। ডাক্তারকে বারবার অনুরোধ করার পরও তিনি রোগীকে দেখতে আসেননি। চিকিৎসক অবহেলা না করলে এ ঘটনা ঘটত না। এদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. প্রিয়াঙ্কার বক্তব্য জানতে গেলে সাংবাদিকদের বক্তব্য নিতে বাধা দেন হাসপাতালের কার্ডিওলজি কনসালট্যান্ট ডা. জয়ন্ত মালাকার। তিনি জানান, রোগীর স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের সব বিষয়ের দায় তিনি নেবেন এবং চিকিৎসকের পক্ষ থেকে সব ধরনের বক্তব্য তিনিই দেবেন। ওই রোগীর আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল। লিভারের জটিল চিকিৎসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্ভব নয় বলেও তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাছের শাকিল জানান, কর্তব্যে অবহেলার বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শরীফুল ইসলাম/কেজে/এএসএম
দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান আরএফএল গ্রুপ ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট/ডেপুটি ম্যানেজার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই বিএসসি অথবা এমএসসি ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে আরএফএল গ্রুপের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম আরএফএল গ্রুপ বিভাগের নাম অপারেশন/প্রোডাকশন পদের নাম অ্যাসিস্ট্যান্ট/ডেপুটি ম্যানেজার পদসংখ্যা ৫ জন চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি অথবা এমএসসি অভিজ্ঞতা ২ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা সর্বনিম্ন ২৬ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ৬ অক্টোবর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: যে কোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন আরএফএল গ্রুপ। আরও পড়ুনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবেনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদনপুলিশ সুপারের কার্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ১১২ টাকা১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই দল গোছানোর প্রক্রিয়া শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন বিসিবি পরিচালক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। তার মতে, সামনে থাকা একের পর এক ওয়ানডে সিরিজই হবে ক্রিকেটারদের নিজেদের প্রমাণের বড় সুযোগ। পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়ে সেখান থেকেই বিশ্বকাপের সম্ভাব্য সেরা দল বেছে নিতে হবে। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুটি জয় ছাড়া উল্লেখ করার মতো সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। সেই হতাশা পেছনে ফেলে আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের জন্য নতুনভাবে দল সাজানোর পরিকল্পনা করতে হবে। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নান্নু বলেন, ‘পরপর যে সিরিজগুলো আছে, অনেকগুলো ওয়ানডে ম্যাচ আছে। এখান থেকে সম্ভাব্য সেরা দলটি বেছে নিতে হবে। নামের দিকে না গিয়ে ১০টি ইনিংসের পারফরম্যান্স দেখতে হবে কে কেমন করছে। এরপর সেরা সম্ভাব্য বিশ্বকাপ স্কোয়াড প্রস্তুত করাটা জরুরি। পারফরম্যান্সটাই সবার আগে দেখতে হবে, এরপর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে কতটা মানিয়ে নিতে পারছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।’ শুধু প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটারদের ওপর নির্ভর না করে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে নতুন প্রতিভাকেও সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজন দেখছেন সাবেক এই প্রধান নির্বাচক। তার মতে, একটি দলকে দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রস্তুত করতে হলে নির্বাচক ও কোচদের সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার খুঁজে বের করে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে তানজিদ হাসান তামিমের প্রসঙ্গ টেনেছেন নান্নু। ২০২৩ সালে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার সময় তাকে নিয়ে নানা সমালোচনা হলেও তিন বছরের মধ্যে তিন সংস্করণেই তিনি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারে পরিণত হয়েছেন। নান্নু বলেন, ‘সেই জায়গায় নির্বাচক-কোচরা প্রতিভা খুঁজে বের করতে হবে। আগামী ৪-৫ বছরের চিন্তাভাবনা করে খেলাতে হবে। ২০২৩ সালে আমরা যখন তানজিদ হাসান তামিমকে নিয়ে চিন্তা করেছিলাম, তখন মিডিয়ায় অনেক সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেই তানজিদ তামিম আজ প্রায় প্রতিষ্ঠিত।’ ভবিষ্যতের জন্য এমন ক্রিকেটার বাছাই করতে গিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার বিকল্প নেই বলেও মনে করেন নান্নু। তিনি বলেন, ‘আপনাকে ঝুঁকি নিতেই হবে এবং এমন প্রতিভাকে চিহ্নিত করতে হবে যে আগামী ৫-৭ বছর দেশের জন্য ভালো ক্রিকেট খেলবে।’ এসকেডি/আইএন