দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও খুলতে যাচ্ছে। এতে বিদেশে যেতে আগ্রহী হাজারো তরুণের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বাজার খোলার আগেই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।
মালয়েশিয়া সরকারকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও ধাপ প্রায় এক মাস আগে প্রকাশ করলেও বাংলাদেশে সেই তথ্য যথাযথভাবে প্রচার না হওয়ায় চাকরিপ্রত্যাশীদের বড় একটি অংশ এখনো জানেন না কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কার মাধ্যমে তারা মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন।
তথ্যের এই শূন্যস্থানই দখল করেছে রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সি, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচার, চাকরির আশ্বাস এবং দ্রুত মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা চাকরিপ্রত্যাশীদের আকৃষ্ট করছেন। ফলে সরকারি ঘোষণার চেয়ে দালালের কথাই অনেকের কাছে বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাউকে পাসপোর্ট জমা না দিতে, টাকা না দিতে এবং মেডিকেল পরীক্ষা না করাতে বলেছে। কিন্তু এই সতর্কবার্তার মধ্যেই কিছু লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সি ও দালালের কার্যক্রম থেমে নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রচারণায় সরগরম চাকরির বাজার। তরুণরা ছুটছেন তাদের দেওয়া আশ্বাসে, সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে নয়।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি পুরোনো সমস্যার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিদেশে চাকরিতে যাওয়ার শুরু থেকে বিমানে ওঠা পর্যন্ত একজন কর্মীকে নিজ দেশেই নানা ধরনের হয়রানি, অনিশ্চয়তা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মিথ্যা আশ্বাস, তথ্য গোপন, যখন-তখন টাকা দাবি, পাসপোর্ট আটকে রাখা কিংবা পাসপোর্টের অপব্যবহারের অভিযোগও নতুন নয়।
এর সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্ত হয়েছে বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্রের ওটিপি নিয়ে অভিযোগ। কর্মীদের অভিযোগ, এজেন্ট বা দালালের দাবি করা অর্থ পরিশোধ না করলে বিমানবন্দরে বহির্গমন ছাড়পত্রের ওটিপি পাওয়া যায় না। ফলে বিদেশে যাওয়ার শেষ মুহূর্তেও কর্মীকে অর্থ দিতে বাধ্য হতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, কর্মীর পরিবর্তে রিক্রুটিং এজেন্সি বা দালালের কাছে ওটিপি নিয়ন্ত্রণ থাকার কারণে একধরনের নতুন মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।
এসব অনিয়ম একদিনে তৈরি হয়নি। বছরের পর বছর বিভিন্ন স্তরে যথাযথ নজরদারি ও প্রয়োগের ঘাটতির কারণে অনেক অনিয়মই কার্যত স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার রূপ নিয়েছে। আইন ও বিধিবিধান থাকলেও প্রয়োগ দুর্বল হলে অনিয়মের সংস্কৃতি যে কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার তার বড় উদাহরণ।
নাগরিককে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য না দিলে শুধু প্রতারণার ঝুঁকিই বাড়ে না, সচেতন হওয়ার সুযোগও কমে যায়। মালয়েশিয়া সরকার তাদের নিজস্ব ব্যবস্থায় কর্মী নিয়োগের ধাপ প্রকাশ করেছে এবং বাংলাদেশি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের ডেকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বুঝিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল একই তথ্য দ্রুত, সহজ ভাষায় এবং সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তভাবে প্রকাশ করা। কারণ সরকারি তথ্যের জায়গা ফাঁকা থাকলে সেই জায়গা অন্যরা দখল করবে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি তারই উদাহরণ।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। কিন্তু কর্মী পাঠানো নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও নতুন নয়। কয়েক বছর পরপর নানা অভিযোগে বাজার বন্ধ হয়েছে, পরে সরকারের তৎপরতায় আবার খুলেছে। আবার অনিয়মের অভিযোগে বন্ধও হয়েছে। ভিসা কেনাবেচা, দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুষ, মেডিকেল পরীক্ষা ও বিমান টিকিটে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে।
এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয়েছে সাধারণ কর্মীকে। অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বিদেশে গিয়ে চাকরি না পাওয়া, বেতন না পাওয়া, নিয়োগকর্তার প্রতারণার শিকার হওয়া কিংবা আইনি জটিলতায় পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। শেষ পর্যন্ত অনেকে শূন্য হাতে দেশে ফিরেছেন। কেউ কেউ আবার অনিয়মিত অবস্থায় থেকে আরও বড় ঝুঁকিতে পড়েছেন।
এবার নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য ৩৩৮টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে। তালিকায় রয়েছে ২৫টি প্রধান এজেন্সি, ২৫০টি সহযোগী এজেন্সি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড—বোয়েসেলের সঙ্গে ৬২টি এজেন্সি।
প্রশ্ন উঠেছে, ২৫০টি সহযোগী এজেন্সি কি সরাসরি মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাহিদাপত্র সংগ্রহ করে কর্মী পাঠাতে পারবে, নাকি তারা ২৫টি প্রধান এজেন্সির অধীনেই সাব-এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে?
বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের অভিজ্ঞতায় সহযোগী এজেন্সিগুলো নিজেরা কর্মী পাঠাতে না পারা এবং প্রধান এজেন্সির ওপর নির্ভরশীল থাকার অভিযোগ রয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, তালিকায় থাকা কিছু এজেন্সির মালয়েশিয়ার শর্ত অনুযায়ী তিন বছর কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা নেই। কারও কারও মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতাই নেই বলেও দাবি করা হয়েছে। কিছু প্রধান এজেন্সির বিএমইটি ছাড়পত্রের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর রেকর্ড নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে সরকারের বক্তব্য, ৩৩৮টি এজেন্সি বাংলাদেশ নির্বাচন করেনি; মালয়েশিয়া তাদের নিজস্ব শর্ত অনুযায়ী তালিকা করেছে। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় কোন কোন বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ হবে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়ারই নির্বাচন করার এখতিয়ার রয়েছে।
এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন কর্মী পাঠাতে প্রকৃত খরচ কত হবে। এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সরকারি ঘোষণা না থাকায় বাজারে নানা ধরনের অঙ্ক ঘুরছে। বিদ্যমান সমঝোতা অনুযায়ী মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা মালয়েশিয়া প্রান্তের খরচ, অর্থাৎ অভিবাসন লেভি ও বিমান টিকিট বহন করার কথা। বাংলাদেশ প্রান্তে বিএমইটি ছাড়পত্রের নির্ধারিত ফি, মেডিকেল স্ক্রিনিং এবং রিক্রুটিং এজেন্সির নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ কর্মীর দেওয়ার কথা।
কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতায় কর্মীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এবারও বাজারে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এ ধরনের অঙ্ক নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে সরকার যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিবাসন ব্যয় ঘোষণা করেনি, সেখানে দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য কীভাবে বাজারে অর্থ লেনদেনের ভিত্তি হয়ে উঠছে?
শ্রমবাজার সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, সরকারি নির্ধারিত খরচ ও প্রকৃত খরচের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান থাকলে নতুন করে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, প্রধান ও সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকার লিখিতভাবে বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া সরকার নির্ধারিত প্রধান এজেন্সিগুলোই কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে মূল এখতিয়ার পাবে। আর সহযোগী এজেন্সিগুলো বাংলাদেশে কর্মী সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে যুক্ত থাকবে।
কিন্তু এই কাঠামোটি সাধারণ মানুষের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে ৩৩৮ এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পরও চাকরিপ্রত্যাশীরা জানেন না কার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, কোন পর্যায়ে টাকা দেবেন এবং কোন সেবার জন্য কত টাকা দিতে হবে।
এর মধ্যেই বিশেষ ব্যবস্থায় বিনা খরচে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে বোয়েসেলের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ঘোষণা বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে সরকার যেখানে নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে পাঠাতে পারে, সেখানে বেসরকারি ব্যবস্থায় কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হবে কেন?
এই উদ্যোগ সফল হলে তা স্বচ্ছ ও নিরাপদ কর্মী পাঠানোর একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হতে পারে। তবে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ের মডেলটি সীমিত ১০ হাজার কর্মীর মধ্যেই থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে বৃহত্তর নিয়োগ ব্যবস্থায়ও এর প্রতিফলন ঘটবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বাংলাদেশের আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী কর্মীদের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে গিয়ে চাকরি খোঁজার কথা নয়। কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথমে বিদেশি নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র আসবে, এরপর সরকার অনুমোদন দেবে এবং বিএমইটির ডাটাবেজ থেকে কর্মী বাছাইয়ের ব্যবস্থা থাকার কথা।
কিন্তু বাস্তবে বিএমইটির ডাটাবেজে নিবন্ধিত কর্মীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আইনে ডাটাবেজে পর্যাপ্ত কর্মী না থাকলে প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মী সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। তখনই চাকরিপ্রত্যাশীরা এজেন্সির দপ্তরে যেতে পারেন।
বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে চাহিদাপত্র পাওয়ার আগেই কর্মী সংগ্রহ এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। পরে বিএমইটি নিবন্ধন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। ফলে আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
বিদেশে চাকরি প্রত্যাশীদের বিএমইটিতে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হলেও সম্ভাব্য কর্মীদের নিবন্ধনে উৎসাহিত করতে সরকারি প্রচার-প্রচারণা আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, জেলা কর্মসংস্থান অফিস ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র টিটিসির মাধ্যমেও এ নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।
সরকার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার আইএলও সহযোগিতায় তৈরি ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট পোর্টাল চালু করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চাকরিপ্রত্যাশী, নিয়োগকর্তা, রিক্রুটিং এজেন্সি, বিএমইটি, মন্ত্রণালয় এবং বিদেশে থাকা বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বিত করার সুযোগ রয়েছে।
একজন চাকরিপ্রত্যাশী কোন দেশে কী ধরনের চাকরির সুযোগ রয়েছে, নতুন চাহিদা এসেছে কি না, কোন এজেন্সি কোন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, কী খরচ হবে এবং কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এসব তথ্য এক জায়গায় পেলে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমতে পারে।
কিন্তু সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পোর্টালটির সম্ভাবনাকে এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। তথ্যের উন্মুক্ত প্রবাহ, সহজ ব্যবহারযোগ্যতা এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বিত তথ্য এখনো পর্যাপ্ত নয়। ফলে ডিজিটাল ব্যবস্থা থাকার পরও বাস্তবে অনেক চাকরিপ্রত্যাশী দালালের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
বাংলাদেশে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা বিলালাল বলেন, সরকারি সেবাগুলো যদি মানুষের দোরগোড়ায় থাকে, তাহলে চাকরিপ্রত্যাশীরা কেন দালাল ও এজেন্সির ওপর বেশি নির্ভর করবেন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।
রামরুর গবেষণাতেও দেখা গেছে, চাকরিপ্রত্যাশীরা অনেক ক্ষেত্রে সরকারের চেয়ে কাছের দালালের তথ্যকে বেশি বিশ্বাস করেন। অভিবাসন খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠন ওকুপের মতে, ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট পোর্টালের উদ্দেশ্য ছিল চাকরিপ্রত্যাশীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিজের স্বার্থ রক্ষায় সক্ষম করা। এটি দ্রুত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হলে প্রতারণা ও বঞ্চনা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
চাকরিপ্রত্যাশীদের নিবন্ধন ও আঙুলের ছাপ গ্রহণের ব্যবস্থা আরও সহজলভ্য করা গেলে ঢাকায় এসে অযথা অর্থ খরচের প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে টিটিসিগুলোকে শুধু প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে নয়, নিরাপদ বৈদেশিক কর্মসংস্থানের তথ্য ও পরামর্শকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা প্রয়োজন।
কারণ বিদেশি শ্রমবাজার খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াটি যদি একটি চক্রে পরিণত হয় বাজার বন্ধ থাকলে আগাম প্রচারণা, চাহিদা তৈরি ও অর্থ সংগ্রহ এবং বাজার খুললে তাড়াহুড়ো করে কর্মী পাঠানো তাহলে পুরোনো সংকটই নতুন করে ফিরে আসবে।
শুধু কতজন কর্মী বিদেশে গেলেন, সেই সংখ্যাকে সাফল্যের মাপকাঠি করলে চলবে না। কত কম খরচে, কতটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়, কতটা নিরাপদে এবং কতটা দক্ষ কর্মী বিদেশে গেলেন সেটিই হওয়া উচিত সাফল্যের মানদণ্ড।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি তাই শুধু নতুন করে বাজার খোলার খবর নয়; এটি পুরোনো ভুল থেকে বেরিয়ে আসার বড় পরীক্ষা। ভবিষ্যতে জাপানের মতো নিয়মিত ও উন্মুক্ত ব্যবস্থায় যোগ্য সব রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য কর্মী প্রেরণের সুযোগ রাখা যায় কি না, সেটিও বিবেচনার দাবি রাখে।
শ্রমবাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত কর্মী প্রেরণ চালু রাখতে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। কোনো অনিয়মের চাপের কাছে সরকারি প্রতিষ্ঠান যেন নীরব বা নিষ্ক্রিয় হয়ে না পড়ে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
নতুন সরকারের নতুন অধ্যায়ের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে বাংলাদেশের নেগোসিয়েশন ও কার্যকর তৎপরতার ওপর। আর সেই নেগোসিয়েশনের শক্তি নির্ভর করবে বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কর্মকাণ্ডের ওপর। অনিয়ম অব্যাহত থাকলে মালয়েশিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থানও দুর্বল হতে পারে।
বাংলাদেশ এরই মধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে যৌথ কমিটির সভার প্রস্তাব দিয়েছে। এ ধরনের বৈঠকে শ্রম নিয়োগের প্রক্রিয়া, খরচ, সুযোগ-সুবিধা, প্রশিক্ষণ ও কর্মী সুরক্ষাসহ খুঁটিনাটি বিষয় আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। এ বছর এখন পর্যন্ত যৌথ কমিটির সভা না হওয়ায় শ্রমবাজার নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এবার খুলবে কর্মীর স্বার্থে, নাকি আবারও খুলবে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের স্বার্থে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এবার সত্যিই কতটা ‘নতুন’।
এমআরএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
শরৎ মানেই নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর হালকা রোদের মায়া। তবে ঋতু বদলের এই সময়টায় ঘরের পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখা একটু কঠিনও হয়ে পড়ে। বাইরে ধুলা-বালি, শুকনো পাতা কিংবা ময়লা জুতার সঙ্গে ঘরে ঢুকে পড়ে নানা ধরনের ময়লা। দরজার সামনে কিংবা ঘরের বিভিন্ন অংশে রাখা পাপোশ তখন শুধু সাজের উপকরণ নয়, ঘর পরিষ্কার রাখারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে শরতের জন্য পাপোশ বাছাই করার সময় শুধু দেখতে সুন্দর কি না, সেটিই যথেষ্ট নয়। কোন জায়গায় ব্যবহার করছেন, কতটা ধুলা জমে, পাপোশ কত সহজে পরিষ্কার করা যায়, বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি। পাপোশের রঙেও ঘরের সাজের সঙ্গে মিল রাখুন দরজার সামনে ময়লা আটকানোর পাপোশ রাখুন বাড়ির প্রধান দরজার সামনে এমন পাপোশ রাখা ভালো, যার তন্তু তুলনামূলকভাবে শক্ত এবং জুতার নিচ থেকে ধুলা-ময়লা ঘষে তুলে নিতে পারে। নারিকেলের ছোবড়া, কয়ার বা শক্ত তন্তুর পাপোশ এক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। বাইরে থেকে আসা ময়লা ঘরে ঢোকার আগেই অনেকটা আটকে যায়। তবে এমন পাপোশ বেছে নেওয়া ভালো, যা খুব বেশি ধুলা ঝরায় না এবং নিয়মিত ঝাড়ু বা পরিষ্কার করা যায়। ঘরের ভেতরে নরম পাপোশ প্রধান দরজার পর ঘরের ভেতরের অংশে তুলনামূলক নরম ও শোষণক্ষম পাপোশ ব্যবহার করা যায়। বিশেষ করে বাথরুম, রান্নাঘর বা বারান্দার কাছাকাছি জায়গায় পানি বা আর্দ্রতা জমলে মাইক্রোফাইবার বা শোষণক্ষম কাপড়ের পাপোশ কাজে দেয়। বেডরুম বা বসার ঘরের দরজার সামনে চাইলে তুলনামূলক পাতলা, ধোয়া সহজ এবং ঘরের সাজের সঙ্গে মানানসই পাপোশ রাখতে পারেন। শরতে খুব ভারী পাপোশ এড়িয়ে চলুন বর্ষার মতো অতিরিক্ত পানি না থাকায় শরতে খুব মোটা ও ভারী পাপোশ সব জায়গায় ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। বরং দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং সহজে ধোয়া যায়, এমন পাপোশ বেছে নিন। বিশেষ করে ছোট ঘরে ভারী পাপোশে ধুলা জমে গেলে তা পরিষ্কার করাও ঝামেলার হতে পারে। রঙ বাছাইয়েও থাকুক কৌশল শরতের ঘর সাজে অফ-হোয়াইট, বেইজ, বাদামি, ধূসর কিংবা মাটির কাছাকাছি রঙের পাপোশ ভালো মানাতে পারে। তবে দরজার সামনে অতিরিক্ত হালকা রঙের পাপোশ রাখলে ধুলা ও ময়লা দ্রুত চোখে পড়বে। তাই প্রবেশপথে মাঝারি বা গাঢ় রঙের পাপোশ ব্যবহার করতে পারেন। ঘরের ভেতরে হালকা রঙের পাপোশ দিয়ে পরিচ্ছন্ন ও শান্ত আবহ তৈরি করা যায়। পাপোশ পরিষ্কার রাখবেন যেভাবে পাপোশ পরিষ্কার রাখার সবচেয়ে সহজ নিয়ম হলো নিয়মিত ঝাড়া। প্রতিদিন বা এক দিন পরপর বাইরে নিয়ে ভালোভাবে ঝেড়ে নিলে জমে থাকা ধুলার পরিমাণ কমে। তবে ঘরের ভেতরেই জোরে ঝাড়ার বদলে বাইরে পরিষ্কার করাই ভালো।নিয়মিত ধুয়ে শুকিয়ে নিন কাপড়ের পাপোশ হলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত ধুয়ে নিতে হবে। ধোয়ার পর পর্যাপ্ত রোদে সম্পূর্ণ শুকিয়ে তারপর ঘরে ব্যবহার করুন। ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে পাপোশ ব্যবহার না করাই ভালো। ভেজা পাপোশ দীর্ঘ সময় ফেলে রাখলে দুর্গন্ধ ও জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে। জেদি দাগ তুলবেন যেভাবে পাপোশে চা, কফি, খাবার বা অন্য কোনো জেদি দাগ লাগলে দ্রুত পরিষ্কার করার চেষ্টা করুন। কুসুম গরম পানিতে সামান্য ডিশওয়াশিং লিকুইড মিশিয়ে দাগের জায়গায় আলতোভাবে ঘষে পরিষ্কার করতে পারেন। কাপড়ের ধরন অনুযায়ী ভিনেগারও অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কোনো দ্রবণ পুরো পাপোশে ব্যবহারের আগে ছোট ও চোখে না পড়া অংশে পরীক্ষা করে নিন, যাতে রঙ বা কাপড়ের ক্ষতি না হয়। পাপোশের নিচ পরিষ্কার করুন অনেকেই শুধু ওপরের অংশ পরিষ্কার করেন, কিন্তু পাপোশের নিচে জমে থাকা ধুলা ও ময়লার দিকে নজর দেন না। সপ্তাহে অন্তত একবার পাপোশ সরিয়ে নিচের মেঝেটিও পরিষ্কার করুন। রাবার বা অ্যান্টি-স্লিপ ব্যাকিং থাকলে সেটিও মুছে শুকিয়ে নিন। একই পাপোশ সব জায়গায় ব্যবহার না করা বাথরুমের পাপোশ, রান্নাঘরের পাপোশ ও প্রধান দরজার পাপোশ আলাদা রাখাই ভালো। রান্নাঘরে তেল বা খাবারের দাগ লাগতে পারে, বাথরুমের পাপোশে পানি ও আর্দ্রতা বেশি থাকে। তাই এগুলো আলাদা করে পরিষ্কার করা সহজ এবং স্বাস্থ্যকর। আরও পড়ুন মোজা ধোয়ার পরও দুর্গন্ধ থাকছে, যা করবেন শরতে ঘরের পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখতে দামি পাপোশের প্রয়োজন নেই। বরং জায়গা অনুযায়ী সঠিক ধরনের পাপোশ বেছে নেওয়া, নিয়মিত ঝাড়া, প্রয়োজনমতো ধোয়া এবং ভালোভাবে শুকিয়ে ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। আরও পড়ুন নতুন চশমায় স্ক্র্যাচ পড়ছে আপনার যে ভুলে সুন্দর নকশার সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পাপোশ ঘরের সৌন্দর্যও বাড়াবে, পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা ধুলা-ময়লা ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়া কমাতেও সাহায্য করবে। সূত্র: বেটার হোমস অ্যান্ড গার্ডেনস, ইন্ডনেক্সা ডটকম এসএকেওয়াই
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পর্যটকবাহী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও চার আইনজীবী আহত হয়েছেন।গতকাল শুক্রবার বিকেলে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কের ভাতশালা সেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত মিজানুর রহমান (৫৬) গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার সালনা এলাকার বাসিন্দা এবং গাজীপুর জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ছিলেন। অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।পুলিশ ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর থেকে নয়জন আইনজীবী গতকাল হাওর ভ্রমণে আসেন। তাঁরা দুপুরে ইটনা থেকে মিঠামইনে যান। পরে বেলা তিনটার দিকে দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে মিঠামইন থেকে অষ্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। একটি অটোরিকশায় পাঁচজন এবং অন্যটিতে চারজন ছিলেন।জাকিরুল ইসলাম, গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিঅনেক দিন ধরে আইনজীবীদের একটি দল হাওর ভ্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। নয়জনের দলটি ভ্রমণে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।পথে ভাতশালা সেতু এলাকায় সামনে থাকা অটোরিকশাটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি উল্টে যায় এবং মিজানুরসহ পাঁচ আইনজীবী আহত হন।আহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন আইনজীবী মকবুল হোসেন, ইকবাল হোসেন ও মহসীন রেজা সরকার। উন্নত চিকিৎসার জন্য মকবুল ও ইকবালকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নিতে নৌপথই একমাত্র ভরসা। কিন্তু স্পিডবোট পেতে দেরি হওয়ায় আহত ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় সড়কে পড়ে ছিলেন। মিজানুর রহমানের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে স্থানীয় লোকজন স্পিডবোটে করে আহতদের পাটুলিঘাটে নিয়ে যান। গুরুতর আহত মিজানুর স্পিডবোটে অন্তত ২০ মিনিট থাকেন। এরপর তাঁকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি জাকিরুল ইসলাম বলেন, অনেক দিন ধরে আইনজীবীদের একটি দল হাওর ভ্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। নয়জনের দলটি ভ্রমণে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
শিশুর হাতে ডিজিটাল ডিভাইস এখন আর কোনো বিরল দৃশ্য নয়। দুই বছরের শিশুটির কান্নাকাটি থামানো কিংবা নিজের একটু কাজের ফুরসত পেতে অনেক অভিভাবকই নির্দ্বিধায় কচি হাতে তুলে দিচ্ছেন ডিজিটাল ডিভাইস। আপাতদৃষ্টিতে শিশুকে যা শান্ত রাখার জাদুকরী কৌশল মনে হচ্ছে, তার নেপথ্যে আছে স্বাস্থ্য ও মানসিক বিপর্যয়। ডিভাইসের এই রঙিন ও আকর্ষক ভার্চুয়াল জগতের মোহে হারিয়ে যাচ্ছে শিশুদের সামাজিক বিকাশ, শৈশবের স্বাভাবিক চঞ্চলতা এবং শারীরিক সুস্থতা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শৈশবে অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন-টাইমের প্রভাব সাময়িক কোনো সমস্যা নয়, এটি রেখে যাচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি ও অপরিবর্তনীয় ক্ষতির ছাপ। ব্রিটেনের এক যুগান্তকারী গবেষণায় এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন গবেষকরা। গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, এ বয়সে স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুদের বিকাশে বড় ধরনের উদ্বেগজনক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস শিশুদের জন্য যে ঝুঁকি তৈরি করে; তা নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে আরও তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। আরও পড়ুন শিশুর জন্মের পর থেকে মায়ের যত্ন কেমন হবে? শিশুর বিকাশে বাধা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অল্প বয়সে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাভাবিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সব ধরনের স্ক্রিন-টাইম ক্ষতিকর। দ্রুত পরিবর্তনশীল দৃশ্যের আলো শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক গঠনে বিঘ্ন ঘটায়। এর ফলে ‘স্পিচ ডিলে’ বা দেরিতে কথা বলা, মনোযোগের চরম ঘাটতি এবং অন্যের আবেগ অনুধাবন করতে না পারার মতো সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এমনকি কান্নাকাটি থামানো বা শান্ত হওয়ার জন্য শিশুরা এখন মা-বাবার বদলে ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। শারীরিক সমস্যা দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে থাকায় শিশুদের চোখে মায়োপিয়া ও ড্রাই আই সিন্ড্রোম দেখা দিচ্ছে। ডিভাইসের নীল আলো মস্তিষ্কে মেলোটোনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়, যা স্বাভাবিক ঘুম নষ্ট করে শিশুকে মেজাজী করে তোলে। এ ছাড়া কায়িক পরিশ্রমের অভাবে বাড়ছে শৈশবকালীন স্থূলতা ও মেরুদণ্ডের ক্ষতি। আরও পড়ুন শিশুর লেখাপড়ার হাতেখড়িতে মায়ের করণীয় আচরণগত পরিবর্তন বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শিশুরা সামাজিকভাবে একা হয়ে পড়ছে। খেলাধুলা বা সহপাঠীদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি না হওয়ায় সামান্যতেই চরম রেগে যাওয়া বা হিংস্র আচরণ করার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। এড়িয়ে চলার উপায় প্রযুক্তি এড়িয়ে চলা অসম্ভব হলেও শিশুরা যেন প্রযুক্তির দাস না হয়ে পড়ে, তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকে পুরোপুরি স্ক্রিন-মুক্ত রাখা এবং পরবর্তীতে দৈনিক সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা ভালো মানের কনটেন্টে সীমাবদ্ধ রাখার সময়সীমা মেনে চলা উচিত। স্মার্টফোনের বদলে শিশুর হাতে ছড়ার বই, কাঠের ব্লক বা শিক্ষণীয় খেলনা, রং-পেন্সিল তুলে দিয়ে বিকল্প আনন্দ পেতে উৎসাহ দিতে হবে এবং প্রতিদিন নিয়ম করে খোলা মাঠে অন্য শিশুদের সঙ্গে শারীরিক খেলাধুলার মাধ্যমে প্রকৃতির সান্নিধ্য দিতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের সামনে অভিভাবকদের নিজেদের ফোন ব্যবহার কমিয়ে সন্তানকে পর্যাপ্ত ‘কোয়ালিটি টাইম’ দিতে হবে। আরও পড়ুন শহরের শিশুরা কেন ঘরের মধ্যে আটকে থাকে? শিশুরা যেন রঙিন পর্দার কৃত্রিম আলোর কারণে বাস্তব শৈশবকে আড়াল করতে না পারে এবং তাদের হাতে তুলে দেওয়া যায় মুক্ত আকাশ ও সুস্থ শৈশব; সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। এসইউ