জয় দিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ নারী জুনিয়র এশিয়া কাপ হকি শেষ করলো বাংলাদেশ। শনিবার নিজেদের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী মালয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজের মেয়েরা।
চীনের হুলুনবুয়ির সিটিতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শুরু থেকেই দুর্দান্ত হকি খেলে বাংলাদেশ দল। ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো দলই গোল করতে পারেনি।
অবশেষে তৃতীয় কোয়ার্টারে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে দারুণ এক গোলে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক শারিকা সাফা রিমণ।
এরপর চতুর্থ কোয়ার্টারে চমৎকার এক ফিল্ড গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন কনা। শেষ দিকে এক গোল শোধ দেয় মালয়েশিয়া।
মালয়েশিয়ার শক্তিশালী রক্ষণভাগ ভেঙ্গে নারীদের এই জয়কে দেশের হকি ইতিহাসের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা। পুরো টুর্নামেন্টে লড়াকু পারফরম্যান্স দেখানোর পর, এই জয়ে পঞ্চম স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করল বাংলাদেশ দল।
আরআই/আইএন
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বাংলাদেশের ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ এসেছে। কেনেডি-লুগার যুব বিনিময় ও শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালের বসন্তকালীন সেমিস্টারের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আরও পড়ুন মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার আগেই বিভ্রান্তি পোস্টে আরও বলা হয়েছে, মেধাভিত্তিক ও প্রতিযোগিতামূলক এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের একটি আশ্রয়দাতা পরিবারের সঙ্গে বসবাসের পাশাপাশি সেখানকার একটি উচ্চবিদ্যালয়ে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। এছাড়া শিক্ষার্থীরা নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সুশাসন, ব্যবসা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা ও সাফল্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিত হতে পারবেন। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো বিভিন্ন দেশের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নতুন পরিবেশে পড়াশোনা, নেতৃত্ব এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদনের শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার বিকেল ৪টা। আবেদন পদ্ধতি, যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিস্তারিত তথ্য জানতে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। এমআরএম
বৃষ্টির মধ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কালিন্দী নদীর সীমান্ত দিয়ে গতকাল শুক্রবার অন্তত ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। খবর পেয়ে স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের ঢুকতে বাধা দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে ওই ব্যক্তিদের নিয়ে ভারতের দিকে ফিরে যায় বিএসএফ।বিষয়টি গতকাল রাতে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের (১৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আবদুল্লাহ।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ব্যাটালিয়নের আওতাধীন এলাকা থেকে দক্ষিণে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে কালিন্দী নদীর চর এলাকায় ওই ব্যক্তিদের নিয়ে আসে বিএসএফ। ভারতের ৭৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর সাহেবখালী বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এ সময় একটি নৌকা ও একটি স্পিডবোট ব্যবহার করেন।বিষয়টি দেখতে পেয়ে বিজিবির টহল দল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরে বিজিবির সদস্যরা বৃষ্টির মধ্যে স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির সদস্যদের অবস্থানের কারণে বিএসএফ তাঁদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাতে পারেনি।লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আবদুল্লাহ, নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের (১৭ বিজিবি) অধিনায়ক যেকোনো ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।বিজিবি জানায়, গতকাল বেলা ১১টার দিকে বিএসএফের সদস্যরা ওই ১০ থেকে ১২ জনকে নিয়ে ভারতের ভেতরে চলে যান।বিজিবির কাছ থেকে পাওয়া ২৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে সীমান্তের জলসীমায় দুটি নৌযান পাশাপাশি আছে। একটিতে রেইনকোট পরা ও অস্ত্রধারী বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় আছেন। অন্য নৌযানে কয়েকজন ব্যক্তি আছেন। বিজিবির সদস্যদের ওই নৌযানের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আবদুল্লাহ বলেন, যেকোনো ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
প্রকাশ্যে গরুর মাংস খাওয়ার কথা বলে বিতর্কে জড়িয়েছেন ভারতীয় অভিনেতা বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা, কটাক্ষ ও ট্রোল। এমনকি সম্পাদনা করে তার ছবিতে জুতার মালা পরানোর ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই বিশ্বজিতের পাশে দাঁড়িয়ে নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন ‘মা’ ধারাবাহিকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তিথি বসু। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের আতিথেয়তা ও খাবারের প্রশংসা করেন বিশ্বজিৎ। বিশেষ করে গরুর মাংস ও ইলিশের প্রতি নিজের ভালো লাগার কথা জানান তিনি। তার সেই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় সমালোচনা। বিষয়টি নজরে আসার পর বিশ্বজিতের পক্ষে কথা বলেন তিথি। তার দাবি, বিশ্বজিৎ একজন প্রবীণ ও সম্মানিত অভিনেতা। তিনি নিজের জায়গা থেকে সত্য কথাই বলেছেন। আর বাংলাদেশে গিয়ে কে কী খাবেন, সেটি একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়। তিথি আরও বলেন, খাদ্যাভ্যাস যার যার ব্যক্তিগত পছন্দ। তার দাবি, ভারতীয় বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই প্রকাশ্যে কিংবা আড়ালে গরুর মাংস খান। এ প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন ‘ঝিলিক’খ্যাত এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, তাদের ধারাবাহিকের সেটে এমন অনেক ব্রাহ্মণ শিল্পী-অভিনেতা ছিলেন, যারা গরুর মাংস নিয়ে গল্প করতেন। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় গরুর মাংস বিক্রি হলে সেখানেও অনেক হিন্দুকে যেতে দেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তিথির ভাষ্য, ‘অনেক মানুষ গরুর মাংস খায়। এটাই বাস্তব। এমনকি মুসলিমদের থেকে হিন্দুরাই বেশি খায়। যারা প্রকাশ্যে বলেন না, তাদের মধ্যেও অনেকেই হয়তো আড়ালে খেয়ে থাকেন।’ তিনি আরও বলেন, কার কী ধর্ম বা খাদ্যাভ্যাস, সেটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। নিজের পছন্দ অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তবে তিথির এমন মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়েও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। কেউ তার বক্তব্যের সমর্থন করছেন, আবার কেউ কটাক্ষ করে বলছেন, ‘তুমি গরুর মাংস খাও! তোমার প্রতি ভালোবাসা কমে গেল।’ কেউ কেউ আবার মন্তব্য করেছেন, এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে তিথির কথা না বলাই উচিত ছিল। সব মিলিয়ে বিশ্বজিতের বিতর্কে কথা বলে এবার নিজেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ‘ঝিলিক’খ্যাত তিথি বসু। এলআইএ