জাতীয়

প্রতি মাসে আয়ের কত শতাংশ সঞ্চয় করা উচিত?

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
প্রতি মাসে আয়ের কত শতাংশ সঞ্চয় করা উচিত?
প্রতি মাসে আয়ের কত শতাংশ সঞ্চয় করা উচিত?

সঞ্চয় নিয়ে আমাদের প্রায় সবার মনেই একটা সাধারণ প্রশ্ন ঘোরে—প্রতি মাসে ঠিক কত টাকা সেভ করা উচিত? কেউ শুনেছেন বিশ শতাংশের কথা, কেউ বা বলেন যতটুকু পারা যায়, ততটুকুই যথেষ্ট। সমস্যা হলো, এই প্রশ্নের কোনো একটিমাত্র সঠিক উত্তর নেই। কারণ একজন পঁচিশ বছর বয়সী তরুণের জন্য যে হিসাব কাজ করে, চল্লিশ বছর বয়সী একজন পরিবারপ্রধানের জন্য সেই একই হিসাব যথেষ্ট নাও হতে পারে। বয়স, দায়িত্ব আর জীবনের পরিস্থিতি বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে সঞ্চয়ের হারও বদলানো উচিত।

একটা সাধারণ গাইডলাইন হিসেবে বলা যায়, আয়ের অন্তত বিশ শতাংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগে রাখা উচিত। এর মধ্যে জরুরি তহবিল, অবসরকালীন সঞ্চয় আর অন্যান্য বিনিয়োগ—সবকিছুই ধরা হয়। কিন্তু এই বিশ শতাংশ সংখ্যাটাকে একটা স্থির নিয়ম হিসেবে না দেখে, একটা শুরুর বিন্দু হিসেবে দেখাই ভালো। প্রকৃত হিসাবটা আসলে বয়সভেদে বদলে যাওয়া উচিত।

জীবনের শুরুর দিকে, অর্থাৎ বিশ থেকে পঁচিশ বছর বয়সে, ইনকাম সাধারণত কম থাকে, আর খরচও তুলনামূলক বেশি থাকে—নতুন চাকরি শুরু হওয়া, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর নানা খরচ। এই বয়সে বড় শতাংশের চাপ নিজের ওপর না দিয়ে, দশ থেকে পনেরো শতাংশ দিয়ে শুরু করাই যথেষ্ট। এই পর্যায়ে সংখ্যাটা যত গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সঞ্চয়ের অভ্যাসটা তৈরি করা। একবার এই অভ্যাস গড়ে উঠলে, পরবর্তীতে হার বাড়ানো তুলনামূলক সহজ হয়ে যায়।

আয়ের অন্তত বিশ শতাংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগে রাখা উচিত। এর মধ্যে জরুরি তহবিল, অবসরকালীন সঞ্চয় আর অন্যান্য বিনিয়োগ—সবকিছুই ধরা হয়। কিন্তু এই বিশ শতাংশ সংখ্যাটাকে একটা স্থির নিয়ম হিসেবে না দেখে, একটা শুরুর বিন্দু হিসেবে দেখাই ভালো। প্রকৃত হিসাবটা আসলে বয়সভেদে বদলে যাওয়া উচিত।

পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে এসে সাধারণত ইনকাম বাড়তে শুরু করে। এই সময়ে সবচেয়ে সাধারণ ভুলটা হলো, বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইফস্টাইলও বাড়িয়ে ফেলা। কিন্তু বুদ্ধিমানের কাজ হলো, ইনকাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সঞ্চয়ের হারও বিশ থেকে পঁচিশ শতাংশে নিয়ে আসা। এই বয়সটাই আসলে বিনিয়োগ শুরু করার সবচেয়ে লাভজনক সময়, কারণ কম্পাউন্ডিংয়ের সুবিধা পাওয়ার জন্য এই সময়ে সবচেয়ে বেশি বছর হাতে থাকে।

পঁয়ত্রিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে জীবনে সাধারণত বড় বড় দায়িত্ব চলে আসে—পরিবার, সন্তানের পড়াশোনা, বাড়ির ঋণ। এই সময়ে খরচ বাড়া স্বাভাবিক, কিন্তু তাই বলে সঞ্চয়ের হার কমিয়ে ফেলা ঠিক নয়। বরং ইনকাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সঞ্চয়ের পরিমাণও বাড়ানো উচিত, প্রয়োজনে বাজেটের অন্য জায়গা থেকে খরচ কমিয়ে হলেও। এই পর্যায়ে সঞ্চয়ের হার পঁচিশ থেকে ত্রিশ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চান্ন বছর বয়সে এসে অবসরের সময় ধীরে ধীরে কাছে আসতে শুরু করে, তাই সঞ্চয়ের গতিও বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়ে। এই বয়সে বসে হিসাব করে দেখা উচিত, অবসরের পর মাসিক খরচ চালাতে ঠিক কত টাকা প্রয়োজন হবে, আর এখন পর্যন্ত কতটা জমেছে। এই দুইয়ের মধ্যে যে ফারাক থাকে, সেটা পূরণ করার জন্য সঞ্চয়ের হার ত্রিশ শতাংশ বা তার বেশি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন হতে পারে।

পঞ্চান্ন বছরের পর থেকে অবশ্য চিত্রটা কিছুটা বদলে যায়। এই বয়সে নতুন করে সঞ্চয় বাড়ানোর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, যা ইতিমধ্যে জমানো হয়েছে, সেটাকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা আর প্রয়োজনমতো ব্যবহার করা। এই সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে, তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ, যাতে জীবনের এই পর্যায়ে এসে বড় কোনো আর্থিক ধাক্কা সামলাতে না হয়।

এখানে একটা কথা মনে রাখা জরুরি—এই সংখ্যাগুলো কোনো কঠোর নিয়ম নয়, বরং একটা সাধারণ দিকনির্দেশনা মাত্র। যাদের ইনকাম তুলনামূলক কম, বা যাদের ওপর বড় পারিবারিক দায়িত্ব আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই শতাংশ কমবেশি হতেই পারে, আর সেটা স্বাভাবিক। সবার জীবনের পরিস্থিতি আলাদা, তাই সবার সঞ্চয়ের হারও এক রকম হবে না।

সব মিলিয়ে দেখা যায়, সঞ্চয়ের একটা সহজ বয়সভিত্তিক কাঠামো এভাবে দাঁড় করানো যায়—বিশ থেকে পঁচিশ বছরে দশ থেকে পনেরো শতাংশ, পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ বছরে বিশ থেকে পঁচিশ শতাংশ, পঁয়ত্রিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ বছরে পঁচিশ থেকে ত্রিশ শতাংশ, আর পঁয়তাল্লিশ বছরের পর থেকে ত্রিশ শতাংশ বা তার বেশি সঞ্চয়ের দিকে যাওয়া উচিত। তবে এই সংখ্যাগুলোর চেয়েও বড় কথা হলো, নিয়মিত সঞ্চয় করার অভ্যাসটা। যত কম পরিমাণ দিয়েই শুরু করা হোক না কেন, শুরু করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ—সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই হার বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব, কিন্তু দেরি করে ফেলা সময়টা আর ফিরে পাওয়া যায় না।

লেখক : করপোরেট ট্রেইনার, ফাইন্যান্স অ্যান্ড বিজনেস স্ট্র্যাটেজিস্ট, প্রফেসর অব প্র্যাকটিস, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

এইচআর/এএসএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
শরতে ঘরে কেমন পাপোশ ব্যবহার করবেন, যত্ন নেবেন যেভাবে
শরতে ঘরে কেমন পাপোশ ব্যবহার করবেন, যত্ন নেবেন যেভাবে

শরৎ মানেই নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর হালকা রোদের মায়া। তবে ঋতু বদলের এই সময়টায় ঘরের পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখা একটু কঠিনও হয়ে পড়ে। বাইরে ধুলা-বালি, শুকনো পাতা কিংবা ময়লা জুতার সঙ্গে ঘরে ঢুকে পড়ে নানা ধরনের ময়লা। দরজার সামনে কিংবা ঘরের বিভিন্ন অংশে রাখা পাপোশ তখন শুধু সাজের উপকরণ নয়, ঘর পরিষ্কার রাখারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে শরতের জন্য পাপোশ বাছাই করার সময় শুধু দেখতে সুন্দর কি না, সেটিই যথেষ্ট নয়। কোন জায়গায় ব্যবহার করছেন, কতটা ধুলা জমে, পাপোশ কত সহজে পরিষ্কার করা যায়, বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি। পাপোশের রঙেও ঘরের সাজের সঙ্গে মিল রাখুন দরজার সামনে ময়লা আটকানোর পাপোশ রাখুন বাড়ির প্রধান দরজার সামনে এমন পাপোশ রাখা ভালো, যার তন্তু তুলনামূলকভাবে শক্ত এবং জুতার নিচ থেকে ধুলা-ময়লা ঘষে তুলে নিতে পারে। নারিকেলের ছোবড়া, কয়ার বা শক্ত তন্তুর পাপোশ এক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। বাইরে থেকে আসা ময়লা ঘরে ঢোকার আগেই অনেকটা আটকে যায়। তবে এমন পাপোশ বেছে নেওয়া ভালো, যা খুব বেশি ধুলা ঝরায় না এবং নিয়মিত ঝাড়ু বা পরিষ্কার করা যায়। ঘরের ভেতরে নরম পাপোশ প্রধান দরজার পর ঘরের ভেতরের অংশে তুলনামূলক নরম ও শোষণক্ষম পাপোশ ব্যবহার করা যায়। বিশেষ করে বাথরুম, রান্নাঘর বা বারান্দার কাছাকাছি জায়গায় পানি বা আর্দ্রতা জমলে মাইক্রোফাইবার বা শোষণক্ষম কাপড়ের পাপোশ কাজে দেয়। বেডরুম বা বসার ঘরের দরজার সামনে চাইলে তুলনামূলক পাতলা, ধোয়া সহজ এবং ঘরের সাজের সঙ্গে মানানসই পাপোশ রাখতে পারেন। শরতে খুব ভারী পাপোশ এড়িয়ে চলুন বর্ষার মতো অতিরিক্ত পানি না থাকায় শরতে খুব মোটা ও ভারী পাপোশ সব জায়গায় ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। বরং দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং সহজে ধোয়া যায়, এমন পাপোশ বেছে নিন। বিশেষ করে ছোট ঘরে ভারী পাপোশে ধুলা জমে গেলে তা পরিষ্কার করাও ঝামেলার হতে পারে। রঙ বাছাইয়েও থাকুক কৌশল শরতের ঘর সাজে অফ-হোয়াইট, বেইজ, বাদামি, ধূসর কিংবা মাটির কাছাকাছি রঙের পাপোশ ভালো মানাতে পারে। তবে দরজার সামনে অতিরিক্ত হালকা রঙের পাপোশ রাখলে ধুলা ও ময়লা দ্রুত চোখে পড়বে। তাই প্রবেশপথে মাঝারি বা গাঢ় রঙের পাপোশ ব্যবহার করতে পারেন। ঘরের ভেতরে হালকা রঙের পাপোশ দিয়ে পরিচ্ছন্ন ও শান্ত আবহ তৈরি করা যায়। পাপোশ পরিষ্কার রাখবেন যেভাবে পাপোশ পরিষ্কার রাখার সবচেয়ে সহজ নিয়ম হলো নিয়মিত ঝাড়া। প্রতিদিন বা এক দিন পরপর বাইরে নিয়ে ভালোভাবে ঝেড়ে নিলে জমে থাকা ধুলার পরিমাণ কমে। তবে ঘরের ভেতরেই জোরে ঝাড়ার বদলে বাইরে পরিষ্কার করাই ভালো।নিয়মিত ধুয়ে শুকিয়ে নিন কাপড়ের পাপোশ হলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত ধুয়ে নিতে হবে। ধোয়ার পর পর্যাপ্ত রোদে সম্পূর্ণ শুকিয়ে তারপর ঘরে ব্যবহার করুন। ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে পাপোশ ব্যবহার না করাই ভালো। ভেজা পাপোশ দীর্ঘ সময় ফেলে রাখলে দুর্গন্ধ ও জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে। জেদি দাগ তুলবেন যেভাবে পাপোশে চা, কফি, খাবার বা অন্য কোনো জেদি দাগ লাগলে দ্রুত পরিষ্কার করার চেষ্টা করুন। কুসুম গরম পানিতে সামান্য ডিশওয়াশিং লিকুইড মিশিয়ে দাগের জায়গায় আলতোভাবে ঘষে পরিষ্কার করতে পারেন। কাপড়ের ধরন অনুযায়ী ভিনেগারও অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কোনো দ্রবণ পুরো পাপোশে ব্যবহারের আগে ছোট ও চোখে না পড়া অংশে পরীক্ষা করে নিন, যাতে রঙ বা কাপড়ের ক্ষতি না হয়। পাপোশের নিচ পরিষ্কার করুন অনেকেই শুধু ওপরের অংশ পরিষ্কার করেন, কিন্তু পাপোশের নিচে জমে থাকা ধুলা ও ময়লার দিকে নজর দেন না। সপ্তাহে অন্তত একবার পাপোশ সরিয়ে নিচের মেঝেটিও পরিষ্কার করুন। রাবার বা অ্যান্টি-স্লিপ ব্যাকিং থাকলে সেটিও মুছে শুকিয়ে নিন। একই পাপোশ সব জায়গায় ব্যবহার না করা বাথরুমের পাপোশ, রান্নাঘরের পাপোশ ও প্রধান দরজার পাপোশ আলাদা রাখাই ভালো। রান্নাঘরে তেল বা খাবারের দাগ লাগতে পারে, বাথরুমের পাপোশে পানি ও আর্দ্রতা বেশি থাকে। তাই এগুলো আলাদা করে পরিষ্কার করা সহজ এবং স্বাস্থ্যকর। আরও পড়ুন মোজা ধোয়ার পরও দুর্গন্ধ থাকছে, যা করবেন শরতে ঘরের পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখতে দামি পাপোশের প্রয়োজন নেই। বরং জায়গা অনুযায়ী সঠিক ধরনের পাপোশ বেছে নেওয়া, নিয়মিত ঝাড়া, প্রয়োজনমতো ধোয়া এবং ভালোভাবে শুকিয়ে ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। আরও পড়ুন নতুন চশমায় স্ক্র্যাচ পড়ছে আপনার যে ভুলে সুন্দর নকশার সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পাপোশ ঘরের সৌন্দর্যও বাড়াবে, পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা ধুলা-ময়লা ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়া কমাতেও সাহায্য করবে। সূত্র: বেটার হোমস অ্যান্ড গার্ডেনস, ইন্ডনেক্সা ডটকম এসএকেওয়াই

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি সময় আমাদের পেছনে ফেলছে?

সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি সময় আমাদের পেছনে ফেলছে?

সবজান্তা সমীপেষু

সবজান্তা সমীপেষু

এক দিন পরই বাড়ল সোনার দাম, আজ ভরিতে ১০৫০ টাকা

এক দিন পরই বাড়ল সোনার দাম, আজ ভরিতে ১০৫০ টাকা

হাওরে ভ্রমণে গিয়ে দুর্ঘটনায় গাজীপুর আদালতের এপিপি নিহত, আহত চার আইনজীবী
হাওরে ভ্রমণে গিয়ে দুর্ঘটনায় গাজীপুর আদালতের এপিপি নিহত, আহত চার আইনজীবী

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পর্যটকবাহী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও চার আইনজীবী আহত হয়েছেন।গতকাল শুক্রবার বিকেলে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কের ভাতশালা সেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত মিজানুর রহমান (৫৬) গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার সালনা এলাকার বাসিন্দা এবং গাজীপুর জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ছিলেন। অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।পুলিশ ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর থেকে নয়জন আইনজীবী গতকাল হাওর ভ্রমণে আসেন। তাঁরা দুপুরে ইটনা থেকে মিঠামইনে যান। পরে বেলা তিনটার দিকে দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে মিঠামইন থেকে অষ্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। একটি অটোরিকশায় পাঁচজন এবং অন্যটিতে চারজন ছিলেন।জাকিরুল ইসলাম, গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিঅনেক দিন ধরে আইনজীবীদের একটি দল হাওর ভ্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। নয়জনের দলটি ভ্রমণে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।পথে ভাতশালা সেতু এলাকায় সামনে থাকা অটোরিকশাটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি উল্টে যায় এবং মিজানুরসহ পাঁচ আইনজীবী আহত হন।আহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন আইনজীবী মকবুল হোসেন, ইকবাল হোসেন ও মহসীন রেজা সরকার। উন্নত চিকিৎসার জন্য মকবুল ও ইকবালকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নিতে নৌপথই একমাত্র ভরসা। কিন্তু স্পিডবোট পেতে দেরি হওয়ায় আহত ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় সড়কে পড়ে ছিলেন। মিজানুর রহমানের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে স্থানীয় লোকজন স্পিডবোটে করে আহতদের পাটুলিঘাটে নিয়ে যান। গুরুতর আহত মিজানুর স্পিডবোটে অন্তত ২০ মিনিট থাকেন। এরপর তাঁকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি জাকিরুল ইসলাম বলেন, অনেক দিন ধরে আইনজীবীদের একটি দল হাওর ভ্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। নয়জনের দলটি ভ্রমণে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
লোহিত সাগরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার: ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধের ঘোষণা সৌদি আরবের

লোহিত সাগরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার: ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধের ঘোষণা সৌদি আরবের

সংসদে জনগণের কষ্টের কথা বলতে দিচ্ছে না সরকার: বিরোধীদলীয় নেতা

সংসদে জনগণের কষ্টের কথা বলতে দিচ্ছে না সরকার: বিরোধীদলীয় নেতা

বাকলাই: পাহাড়ের কান্না নাকি প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য?

বাকলাই: পাহাড়ের কান্না নাকি প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য?

শিশুদের হাতে ডিজিটাল ডিভাইস? দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ
শিশুদের হাতে ডিজিটাল ডিভাইস? দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ

শিশুর হাতে ডিজিটাল ডিভাইস এখন আর কোনো বিরল দৃশ্য নয়। দুই বছরের শিশুটির কান্নাকাটি থামানো কিংবা নিজের একটু কাজের ফুরসত পেতে অনেক অভিভাবকই নির্দ্বিধায় কচি হাতে তুলে দিচ্ছেন ডিজিটাল ডিভাইস। আপাতদৃষ্টিতে শিশুকে যা শান্ত রাখার জাদুকরী কৌশল মনে হচ্ছে, তার নেপথ্যে আছে স্বাস্থ্য ও মানসিক বিপর্যয়। ডিভাইসের এই রঙিন ও আকর্ষক ভার্চুয়াল জগতের মোহে হারিয়ে যাচ্ছে শিশুদের সামাজিক বিকাশ, শৈশবের স্বাভাবিক চঞ্চলতা এবং শারীরিক সুস্থতা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শৈশবে অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন-টাইমের প্রভাব সাময়িক কোনো সমস্যা নয়, এটি রেখে যাচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি ও অপরিবর্তনীয় ক্ষতির ছাপ। ব্রিটেনের এক যুগান্তকারী গবেষণায় এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন গবেষকরা। গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, এ বয়সে স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুদের বিকাশে বড় ধরনের উদ্বেগজনক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস শিশুদের জন্য যে ঝুঁকি তৈরি করে; তা নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে আরও তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। আরও পড়ুন শিশুর জন্মের পর থেকে মায়ের যত্ন কেমন হবে? শিশুর বিকাশে বাধা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি ​যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অল্প বয়সে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাভাবিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সব ধরনের স্ক্রিন-টাইম ক্ষতিকর। দ্রুত পরিবর্তনশীল দৃশ্যের আলো শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক গঠনে বিঘ্ন ঘটায়। এর ফলে ‌‘স্পিচ ডিলে’ বা দেরিতে কথা বলা, মনোযোগের চরম ঘাটতি এবং অন্যের আবেগ অনুধাবন করতে না পারার মতো সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এমনকি কান্নাকাটি থামানো বা শান্ত হওয়ার জন্য শিশুরা এখন মা-বাবার বদলে ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ​শারীরিক সমস্যা দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে থাকায় শিশুদের চোখে মায়োপিয়া ও ড্রাই আই সিন্ড্রোম দেখা দিচ্ছে। ডিভাইসের নীল আলো মস্তিষ্কে মেলোটোনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়, যা স্বাভাবিক ঘুম নষ্ট করে শিশুকে মেজাজী করে তোলে। এ ছাড়া কায়িক পরিশ্রমের অভাবে বাড়ছে শৈশবকালীন স্থূলতা ও মেরুদণ্ডের ক্ষতি। আরও পড়ুন শিশুর লেখাপড়ার হাতেখড়িতে মায়ের করণীয় ​আচরণগত পরিবর্তন বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শিশুরা সামাজিকভাবে একা হয়ে পড়ছে। খেলাধুলা বা সহপাঠীদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি না হওয়ায় সামান্যতেই চরম রেগে যাওয়া বা হিংস্র আচরণ করার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। এড়িয়ে চলার উপায় প্রযুক্তি এড়িয়ে চলা অসম্ভব হলেও শিশুরা যেন প্রযুক্তির দাস না হয়ে পড়ে, তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকে পুরোপুরি স্ক্রিন-মুক্ত রাখা এবং পরবর্তীতে দৈনিক সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা ভালো মানের কনটেন্টে সীমাবদ্ধ রাখার সময়সীমা মেনে চলা উচিত। স্মার্টফোনের বদলে শিশুর হাতে ছড়ার বই, কাঠের ব্লক বা শিক্ষণীয় খেলনা, রং-পেন্সিল তুলে দিয়ে বিকল্প আনন্দ পেতে উৎসাহ দিতে হবে এবং প্রতিদিন নিয়ম করে খোলা মাঠে অন্য শিশুদের সঙ্গে শারীরিক খেলাধুলার মাধ্যমে প্রকৃতির সান্নিধ্য দিতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের সামনে অভিভাবকদের নিজেদের ফোন ব্যবহার কমিয়ে সন্তানকে পর্যাপ্ত ‘কোয়ালিটি টাইম’ দিতে হবে। আরও পড়ুন শহরের শিশুরা কেন ঘরের মধ্যে আটকে থাকে? শিশুরা যেন রঙিন পর্দার কৃত্রিম আলোর কারণে বাস্তব শৈশবকে আড়াল করতে না পারে এবং তাদের হাতে তুলে দেওয়া যায় মুক্ত আকাশ ও সুস্থ শৈশব; সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। এসইউ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
নিজের অজান্তেই যেভাবে দুই সাপ মেরে ফেলেন নায়িকা নূতন

নিজের অজান্তেই যেভাবে দুই সাপ মেরে ফেলেন নায়িকা নূতন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী ৩ মাসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী ৩ মাসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা নয়াদিল্লি

ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা নয়াদিল্লি

0 Comments