বাংলাদেশের ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ এসেছে। কেনেডি-লুগার যুব বিনিময় ও শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালের বসন্তকালীন সেমিস্টারের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পোস্টে আরও বলা হয়েছে, মেধাভিত্তিক ও প্রতিযোগিতামূলক এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের একটি আশ্রয়দাতা পরিবারের সঙ্গে বসবাসের পাশাপাশি সেখানকার একটি উচ্চবিদ্যালয়ে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ পাবেন।
এছাড়া শিক্ষার্থীরা নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সুশাসন, ব্যবসা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা ও সাফল্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিত হতে পারবেন।
এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো বিভিন্ন দেশের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নতুন পরিবেশে পড়াশোনা, নেতৃত্ব এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদনের শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার বিকেল ৪টা।
আবেদন পদ্ধতি, যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিস্তারিত তথ্য জানতে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
এমআরএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ঘরোয়া ক্রিকেটকে ঢেলে সাজাতে তৎপর তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিসিবি। জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল), বিসিএল, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি অনেক বাড়ানো হয়েছে। হিসাব করে দেখা গেছে, প্রথম শ্রেণি, লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এনসিএল খেলে আগামী বছর থেকে ক্রিকেটারদের দ্বিগুণ আয়ের ব্যবস্থা করেছে বিসিবি। পাশাপাশি দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট ও জনপ্রিয় ওয়ানডে আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরুর সম্ভাব্য দিনক্ষণও চূড়ান্ত করেছে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের আয়োজক ও ব্যবস্থাপক সংস্থা সিসিডিএম। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর (২০২৭) ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ শুরুর সম্ভাব্য সূচি চূড়ান্তই নয়, প্রিমিয়ার লিগে আবারও বিদেশি ক্রিকেটার খেলানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমনকি কোন কোন মাঠে খেলা হবে, সেটিও ঠিক করে ফেলা হয়েছে। আয়োজক মহলের সম্ভাব্য প্রস্তুতির কথাও এরই মধ্যে গণমাধ্যমে এসেছে। প্রিমিয়ার লিগ শুরুর দিনক্ষণ ও মাঠ চূড়ান্ত হওয়ার পর ক্রিকেট অনুরাগীদের কৌতূহল এখন প্রতিযোগী ক্লাবগুলোর প্রস্তুতি নিয়ে। আগামী বছরের প্রিমিয়ার লিগে কোন দল কেমন করবে? দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি ঘরে তোলা মোহামেডান ২০২৭ সালে কেমন দল গড়বে? আবারও কি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল তৈরি করবে সাদা-কালোরা? রানার্সআপ আবাহনীর খবর কী? ফুটবলে শক্তিশালী দল সাজানো আকাশি-হলুদ শিবির কি এবারও ক্রিকেটে শক্তিশালী দল গড়বে? আগেরবার অল্পের জন্য চ্যাম্পিয়ন হতে না পারা প্রাইম ব্যাংকের খবর কী? তালহা জুবায়েরের কোচিংয়ে আগামী বছর কেমন দল সাজাবে প্রাইম ব্যাংক? লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের অবস্থা কী? দেশের বাইরে থেকেও কোটি কোটি টাকা খরচ করে টানা প্রায় এক যুগ দল সাজানো লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের স্বত্বাধিকারী লুৎফর রহমান বাদল কি আবারও বড় বাজেটের দল গড়বেন? এসব কৌতূহলী প্রশ্ন এখন অনেক ক্রিকেট অনুরাগীর মনেই উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষী, গত কয়েক বছর প্রিমিয়ার লিগ হয়েছে এপ্রিল-মে মাসে। তা সত্ত্বেও অন্তত চার-পাঁচ মাস আগে বেশির ভাগ দলই ক্রিকেটারদের দলে ভেড়ানোর কাজ সেরে রাখত। প্রায় ৬০ শতাংশ ক্রিকেটারকে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ অগ্রিম পেমেন্টও দিয়ে দলে টানার কাজ অনেকটাই সেরে ফেলত তারা। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ক্লাবপাড়ার খবর, ফুটবলে বেশ অর্থ খরচ করে দল গড়া দুই জনপ্রিয় দল মোহামেডান ও আবাহনী এখন পর্যন্ত ক্রিকেটে দল গড়ার কাজ শুরুই করেনি। আগেরবার একঝাঁক জাতীয় ক্রিকেটারকে দলে টেনে লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়া মোহামেডান এখন পর্যন্ত দল গঠনে হাতই দেয়নি। ভেতরের খবর, ২০২৬ সালের ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এখনো বাকি মোহামেডানের। এরই মধ্যে গত লিগের শেষ পেমেন্ট দেওয়ার দুটি তারিখও মিস করেছে মোহামেডান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাদা-কালো শিবিরে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকার পেমেন্ট বাকি। বলে রাখা ভালো, বর্তমান ও সাবেক মিলিয়ে প্রায় ১০-১২ জন জাতীয় ক্রিকেটার ছিলেন মোহামেডান শিবিরে। গড়পড়তা ২০ লাখ টাকা করে পারিশ্রমিক বাকি থাকলেও তাদের প্রায় দুই কোটি টাকা পাওনা মোহামেডানের কাছে। যেহেতু আগেরবারের পাওনাই শোধ হয়নি, তাই নতুন বছরের প্রথম পেমেন্টসহ মোহামেডানকে অন্তত তিন কোটি টাকা পারিশ্রমিক দিতে হবে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর গত লিগের পারিশ্রমিকের সর্বশেষ কিস্তি পরিশোধের কথা রয়েছে মোহামেডানের। ওই তারিখে পাওনা পরিশোধ করতে পারলে আগামীবারও মোহামেডান তারকায় ঠাসা দল গড়তে পারবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এর আগে পরপর দুই দফা নির্ধারিত তারিখে পাওনা শোধ করতে না পারা মোহামেডান কি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আগেরবারের পুরো পাওনা পরিশোধ করতে পারবে? জাতীয় দলের ক্রিকেটার বেশি বলেই মোহামেডানের পেমেন্টও অনেক বেশি। এনামুল হক বিজয়, নাইম শেখ, পারভেজ ইমন, মুশফিকুর রহিম, তাওহিদ হৃদয়, ইয়াসির আলী রাব্বি, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, তাইজুল ইসলাম, সাইফউদ্দিন, এবাদত হোসেন, মুশফিক হাসান, রিপন মণ্ডল প্রমুখ ক্রিকেটার ছিলেন মোহামেডানে। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাদের পারিশ্রমিকও অনেক বেশি। এর বাইরে লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ৭০ লাখ টাকা বোনাস মানিও ঘোষণা করেছিল মোহামেডান। সেটিসহ প্রায় আড়াই কোটি টাকার পেমেন্ট বাকি। এত বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিশোধের পর আগামী বছরের জন্য ক্রিকেটারদের দলে টানতে অন্তত ২৫ শতাংশ অগ্রিম পেমেন্ট দিতে হবে মোহামেডান কর্তাদের। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড়ের কাজে ব্যস্ত মোহামেডানের ক্রিকেট কর্মকর্তারা। তাই কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না, ২০২৭ সালে আসলে কেমন দল হবে মোহামেডানের। তবে ভেতরের খবর, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর গত লিগের পেমেন্ট পরিশোধ করতে পারলে মোহামেডান ২০২৭ সালের জন্য দল গড়ার কাজ শুরু করবে। জানা গেছে, ২০২৬ সালের লিগে সে অর্থে পারফর্ম করতে না পারা মোহামেডান এবার পেস বোলার তাসকিন আহমেদ ও লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনকে নাও রাখতে পারে। তাদের বদলে সিটি ক্লাবের পেস বোলিং অলরাউন্ডার গাফফার সাকলাইন ও প্রাইম ব্যাংকের স্পিনার আলিস আল ইসলামকে নেওয়ার কথা ভাবছে মোহামেডান। বাকিদের কারও দল ছাড়ার সম্ভাবনাও কম। এদিকে রানার্সআপ আবাহনীরও এখন পর্যন্ত দল গঠনে তৎপরতা চোখে পড়েনি। কথা বলে জানা গেছে, আবাহনী এখন পর্যন্ত দল গড়ার মিশনে নামেনি। মোহামেডানের মতো অত মোটা অঙ্কের পেমেন্ট বাকি না থাকলেও আবাহনী থেকে কয়েকজন তরুণ ও উদীয়মান ক্রিকেটারের দল ছাড়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহরবের প্রাইম ব্যাংকে যোগ দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। গত লিগের চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান ও রানার্সআপ আবাহনী এখন পর্যন্ত দল গঠনে খানিকটা নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাকলেও ভেতরে ভেতরে প্রাইম ব্যাংক ও সিটি ক্লাব এরই মধ্যে ভালো দল গঠনের মিশনে নেমে পড়েছে। আগেরবার মোহামেডানকে হারিয়েও শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হতে না পারা প্রাইম ব্যাংক গতবারের বেশির ভাগ ক্রিকেটারকে ধরে রাখার পাশাপাশি এবার কয়েকজন তরুণ ও প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ার কাজ সেরে ফেলেছে বলে জানা গেছে। খবর নিয়ে জানা গেছে, আগেরবার লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে নজরকাড়া ড্যাশিং ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান ও আশিকুর রহমান শিবলীর এবার প্রাইম ব্যাংকে খেলা মোটামুটি নিশ্চিত। হাবিবুর রহমান সোহান জাগো নিউজকে প্রাইম ব্যাংকে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এদিকে ক্লাবপাড়ার খবর, প্রাইম ব্যাংকের পাশাপাশি সিটি ক্লাবও ইতিমধ্যে ভালো দল সাজানোর কাজ শুরু করেছে। বেশ কয়েকজন মেধাবী ক্রিকেটারের সঙ্গে দলটির কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে। এদিকে গত এক যুগ ভালো দলের তকমা গায়ে থাকা লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ এবার নাকি আগের মতো ভালো দল গড়বে না, এমন গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে ক্লাবপাড়ায়। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়! এআরবি/আইএন
তারা ভরা রাতে তোমার কথা যে মনে পড়ে বেদনায়, আমি রূপনগরের রাজকন্যা/রূপের জাদু এনেছি-সহ অসংখ্য কালজয়ী গানের রচয়িতা একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও গীতিকার আজিজুর রহমানের ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর গ্যাংগ্রিন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কবি আজিজুর রহমান মারা যান। কবি আজিজুর রহমান প্রায় তিন হাজারেরও অধিক গান এবং তিনশ’র বেশি কবিতা লিখেছেন। তবে, একুশে পদকপ্রাপ্ত এ কবির মৃত্যুর প্রায় অর্ধশত বছর হতে চললেও সরকারিভাবে আজও তার স্মৃতি সংরক্ষণে তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে তার বসতভিটা ও সমাধি চত্বর। নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে তার সমাধিস্থলসহ স্মৃতি চিহ্নগুলো। তার বাস্তুভিটায় সরকারি উদ্যোগে অডিটোরিয়াম, লাইব্রেরি ও মিউজিয়াম নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও মাজারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ছাড়া কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। এলাকাবাসী মনে করেন, সরকারের গ্রহণকৃত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে এ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য সহজেই কবির জীবনকর্ম ও সঠিক ইতিহাস জানার পাশাপাশি তাকে নিয়ে গবেষণার অপার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সরকারি এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সেখানে গড়ে উঠতে পারে সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র। জানা যায়, ১৯১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গড়াই নদীর তীরে হাটশ হরিপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে কবি জন্মগ্রহণ করেন। কবি আজিজুর রহমানের বাবা বশির উদ্দিন প্রামানিক, মা সবুরুন নেছা। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৩ ছেলে ও ৪ মেয়ের জনক। কিশোর আজিজুর রহমান মাত্র ১০-১২ বছর বয়সে পিতাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। সহায়সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেও, প্রবল ইচ্ছার কারণে বিভিন্ন বিষয়ের পুস্তক স্বগৃহে পাঠ করে একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তিতে পরিণত হন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সমাজ সেবায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৩৮ সালে আজিজুর রহমান সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন এবং সওগাত, মোহাম্মদী, আজাদ, নবশক্তি, আনন্দবাজার, ভারতবর্ষ, বুলবুল, শনিবারের চিঠি ইত্যাদি পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। ১৯৫৪ সালে নিজস্ব শিল্পী হিসাবে তিনি ঢাকা বেতারে যোগদান করেন। সাংবাদিক হিসেবেও তার খানিকটা পরিচিতি ছিল। অধুনালুপ্ত দৈনিক পয়গম পত্রিকায় ১৯৬৪ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত সাহিত্য বিভাগের সম্পাদক ছিলেন তিনি। ঢাকা থেকে প্রকাশিত কিশোর মাসিক ‘আলপনী’রও সম্পাদক ছিলেন একনিষ্ঠ এই কবি। ১৯৩৪ সালে তার দাদা চাঁদ প্রামাণিকের নামে হরিপুর গ্রামে গড়ে তোলেন ‘চাঁদ স্মৃতি পাঠাগার’। এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি পাঠাগার ছিলো। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বইয়ের খোঁজে আসতেন এই পাঠাগারে। তার সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিলো প্রবল। তার বিখ্যাত গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- তোমার নামে তসবিহ খোদা/লুকিয়ে যেন রাখি, পলাশ ঢাকা কোকিল ডাকা/আমার এ দেশ ভাইরে, রক্ত রঙিন উজ্জ্বল দিন/বৃক্ষ শিখায় জ্বলছে, তারা ভরা রাতে তোমার কথা যে/মনে পড়ে বেদনায়, মনরে এই ভবের নাট্যশালায়/মানুষ চেনা দায়, আমি রূপনগরের রাজকন্যা/রূপের জাদু এনেছি, এই সুন্দর পৃথিবীতে/আমি এসেছিনু কিছু নিতে, এই রাত বলে ওগো তুমি আমার/ওই চাঁদ বলে ওগো তুমি আমার, দেখ ভেবে তুই মন/আপন চেয়ে পর ভালো তোর/এই রাজধানীর বুকে/কত জীবনের আশা ভেঙে যায়। এছাড়াও ৩০০ উপরে কবিতা রচনা করেছেন। গ্রন্থের মধ্যে ডাইনোসরের রাজ্যে (১৯৬২), জীবজন্তুর কথা (১৯৬২)’ ছুটির দিনে (১৯৬৩)’ এই দেশ ‘আবহাওয়ার পয়লা কেতাব’ তার উল্লেখযোগ্য অনুবাদ গ্রন্থ। স্থানীয়রা জানান, বহুগুণে গুণান্বিত একুশে পদক প্রাপ্ত কবির শেষ অস্তিত্ব টুকু হুমকির মুখে। সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের বাজারের পাশে রয়েছে কবির সমাধিস্থল। কবির মাজার রক্ষায় নেওয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ।কবি আজিজুর রহমান জীবনের শেষ দিনগুলোতে নানা দুশ্চিন্তা, আর্থিক অনটন ও রোগব্যাধিতে জর্জরিত ছিলেন। অর্থ সংকটের কারণে চিকিৎসা পর্যন্ত করাতে পারেননি। গ্যাংগ্রিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। হাটশ হরিপুরে প্রায় এক একর জায়গা নিয়ে কবির বাস্তুভিটায় বর্তমানে কবির দুই ভাইয়ের সন্তান এবং কবির বড় ছেলে মৃত ফজলুর রহমান, মনি মিয়ার ছোট ছেলে আশফাকুর রহমান লিটন ও তার পরিবারের সদস্যরা বসবাস করছেন। ক্ষোভ এবং হতাশা প্রকাশ করে কবির নাতি আশফাকুর রহমান লিটন বলেন, ‘কবির স্মৃতি রক্ষায় এখানে একাডেমি, মিউজিয়াম নির্মাণসহ সরকারিভাবে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা থাকলেও আজও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এমনকি জন্ম এবং মৃত্যুবার্ষিকী এ দুটি দিবসও রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয় না।’ কবি আজিজুর রহমান ছিলেন একাধারে কবি, গীতিকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার এবং জনপ্রতিনিধি। তার সাহিত্য ও সংগীত কর্মের যথাযথ মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তার অবদান তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। কথাগুলো বলছিলেন সম্মিলিত সামাজিক জোটের চেয়ারম্যান লেখক-গবেষক ড. আমানুর আমান। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান জানান, রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো দিবস উদ্যাপন করতে হলে সরকারি সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। আমরা কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। আল-মামুন সাগর/কেজে/এএসএম
সময়—মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অথচ সবচেয়ে অবহেলিত সম্পদ। টাকা হারালে তা আবার উপার্জন করা যায়, সম্পদ নষ্ট হলে পুনর্গঠন সম্ভব, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে হারানো সুযোগও ফিরে আসে। কিন্তু যে এক মুহূর্ত চলে যায়, তাকে কোনো মূল্যে ফিরিয়ে আনা যায় না। মানুষের জীবনের সাফল্য, ব্যর্থতা, সম্ভাবনা ও অপূর্ণতার আড়ালে তাই শেষ পর্যন্ত সময় ব্যবহারের গল্পই লুকিয়ে থাকে। আমরা প্রায়ই বলি, ‘সময় নেই।’ অথচ একই দিনে একজন মানুষ বই পড়েন, কাজ শেষ করেন, পরিবারকে সময় দেন, নিজের শরীর ও মনকে যত্ন করেন; অন্যজন সারাদিন ব্যস্ত থেকেও দিনের শেষে উপলব্ধি করেন—গুরুত্বপূর্ণ কিছুই করা হয়নি। পার্থক্যটি সময়ের পরিমাণে নয়, সময় ব্যবস্থাপনায়। পৃথিবীর সব মানুষের জন্য দিন ২৪ ঘণ্টারই। সফল মানুষ অতিরিক্ত সময় পান না; তাঁরা প্রাপ্ত সময়কে অগ্রাধিকার অনুযায়ী ব্যবহার করতে শেখেন। আধুনিক জীবনে সময়ের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী এখন শুধু অলসতা নয়, মনোযোগের বিচ্ছিন্নতা। স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন, অনলাইন বিনোদন এবং অবিরাম তথ্যপ্রবাহ আমাদের মনকে এক কাজ থেকে আরেক কাজে ছুড়ে দিচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বারবার কাজের মধ্যে বিঘ্ন ঘটলে মানুষের মনোযোগ ফিরে পেতে অতিরিক্ত সময় লাগে। ফলে কয়েক মিনিটের একটি ‘ছোট বিরতি’ কখন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উৎপাদনশীল সময় গ্রাস করে নেয়, তা অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না। জীবনকে বড় করে তোলে সময়ের দৈর্ঘ্য নয়, সময়ের গভীরতা। প্রতিটি সকাল আমাদের হাতে একটি নতুন পৃষ্ঠা তুলে দেয়। সেখানে কী লিখব, কতটুকু লিখব, আর কতটুকু সাদা রেখে দেব—সিদ্ধান্তটি আমাদের। সময় চলে যাচ্ছে; প্রশ্ন শুধু, আমরা কি সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি সময় আমাদের পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে? সময়ের অপচয় সব সময় দৃশ্যমান নয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকা যেমন সময়ের অপচয়, তেমনি অপ্রয়োজনীয় বৈঠক, দীর্ঘ আলাপ, সিদ্ধান্তহীনতা, অতিরিক্ত পরিকল্পনা কিংবা একসঙ্গে অনেক কাজ করার চেষ্টা করাও সময় নষ্ট করে। বিশেষ করে ‘মাল্টিটাস্কিং’কে আমরা দক্ষতার লক্ষণ মনে করি। কিন্তু মানুষের মস্তিষ্ক একই সময়ে একাধিক জটিল কাজ করার চেয়ে কাজ বদলাতে গিয়ে বেশি শক্তি ও মনোযোগ হারায়। ফলে ব্যস্ততা বাড়ে, উৎপাদনশীলতা নয়। সময়কে কাজে লাগানোর প্রথম শর্ত হলো নিজের কাছে স্পষ্ট হওয়া—আমি আসলে কী করতে চাই? জীবনের বড় লক্ষ্য অস্পষ্ট থাকলে প্রতিদিনের ছোট কাজগুলোই আমাদের সময়ের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে। একজন শিক্ষার্থীর লক্ষ্য যদি পরীক্ষায় ভালো ফল করা হয়, তবে তার প্রতিদিনের সময়সূচিতে পড়াশোনা, পুনরাবৃত্তি ও বিশ্রামের জায়গা নির্ধারিত থাকতে হবে। একজন পেশাজীবীর ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। লক্ষ্য যত স্পষ্ট হবে, কোন কাজে সময় দেব আর কোন কাজ এড়িয়ে যাব—সিদ্ধান্ত নেওয়া তত সহজ হবে। তবে লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই সময় ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ হয় না। বড় লক্ষ্যকে ছোট ও বাস্তবসম্মত কাজের মধ্যে ভাগ করতে হয়। ‘বই পড়ব’ একটি অস্পষ্ট সিদ্ধান্ত; ‘প্রতিদিন রাতে ৩০ মিনিট বই পড়ব’ একটি কার্যকর পরিকল্পনা। ‘শরীর ভালো রাখব’ একটি আকাঙ্ক্ষা; ‘প্রতিদিন সকালে ৩০ মিনিট হাঁটব’ একটি অভ্যাস। সময় ব্যবস্থাপনার মূল শক্তি আসলে বড় সিদ্ধান্তে নয়, ছোট ছোট নিয়মিত অভ্যাসে। এখানে অগ্রাধিকারের প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব কাজ সমান জরুরি নয়। কিছু কাজ এখনই করতে হয়, কিছু কাজ গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অপেক্ষা করতে পারে, আবার কিছু কাজ দেখতে জরুরি মনে হলেও বাস্তবে তেমন মূল্য বহন করে না। জীবনের প্রতিটি দিন যদি অন্যের জরুরি কাজ সামলাতেই কেটে যায়, তাহলে নিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর জন্য সময় কখনোই পাওয়া যাবে না। তাই ‘না’ বলতে শেখাও সময় ব্যবস্থাপনার একটি অপরিহার্য দক্ষতা। বাংলাদেশের কর্মজীবনে এই বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেশি। অফিসে দীর্ঘ সময় উপস্থিত থাকা মানেই বেশি কাজ করা নয়। উৎপাদনশীল কর্মপরিবেশে কর্মীর ফলাফল, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অথচ আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো দীর্ঘ সময় অফিসে থাকা, অপ্রয়োজনীয় সভা এবং কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতাকে কর্মদক্ষতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। এতে কর্মীর সময় যেমন নষ্ট হয়, তেমনি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতাও কমে। ডিজিটাল প্রযুক্তি এখানে একই সঙ্গে আশীর্বাদ ও চ্যালেঞ্জ। ক্যালেন্ডার, রিমাইন্ডার, নোট-অ্যাপ, টাস্ক ম্যানেজার কিংবা অনলাইন সহযোগিতার মাধ্যমে কাজকে অনেক বেশি গোছানো যায়। কিন্তু প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে গিয়ে যদি প্রযুক্তিই আমাদের ব্যবহার করতে শুরু করে, তাহলে বিপদ। প্রতিটি নোটিফিকেশনের উত্তর দেওয়া জরুরি নয়। প্রতিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখা প্রয়োজন নেই। প্রতিটি ফোনকলও একই মাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ নয়। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় ই-মেইল ও বার্তা দেখার অভ্যাস মনোযোগকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখতে পারে। সময় ব্যবস্থাপনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিশ্রাম। আমাদের সমাজে অনেক সময় নিরবচ্ছিন্ন কাজ করাকে সাফল্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। অথচ মানুষ যন্ত্র নয়। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক বিশ্রাম, পরিবারকে সময় দেওয়া, প্রকৃতির সংস্পর্শ এবং শরীরচর্চা—এসব সময়ের অপচয় নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীলতার বিনিয়োগ। ক্লান্ত মস্তিষ্ক ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করেও যে ফল দিতে পারে না, সতেজ মন অনেক সময় অল্প সময়ে তার চেয়ে ভালো ফল দিতে পারে। বিশেষ করে ঘুমকে অবহেলা করা বিপজ্জনক। পর্যাপ্ত ঘুম মনোযোগ, স্মৃতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মানসিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। রাত জেগে কাজ করে দিনের সময় বাড়ানোর চেষ্টা অনেক সময় উল্টো উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। তাই সময় ব্যবস্থাপনা মানে দিনের প্রতিটি মিনিটকে কাজে ঠেসে দেওয়া নয়; বরং কাজ, বিশ্রাম ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য তৈরি করা। সময়ের মূল্য বোঝার জন্য ইতিহাসও আমাদের বড় শিক্ষা দেয়। বিশ্বের বহু সফল মানুষ তাঁদের জীবনের একটি বড় অংশ ব্যয় করেছেন নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে। বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, উদ্যোক্তা কিংবা রাষ্ট্রনায়ক—সবার ক্ষেত্রেই একটি বিষয় লক্ষণীয়: তাঁরা সময়কে কেবল ঘড়ির কাঁটা হিসেবে দেখেননি; দেখেছেন সম্ভাবনা হিসেবে। একটি ঘণ্টা তাঁদের কাছে ছিল শেখার সুযোগ, সৃষ্টির সুযোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ। কিন্তু সময়ের সদ্ব্যবহারকে কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ রাখলে বিষয়টির বড় অংশ অনালোচিত থেকে যায়। একটি জাতির উন্নয়নও নির্ভর করে সে জাতি সময়কে কতটা মূল্য দেয় তার ওপর। সরকারি দপ্তরে একটি ফাইল অকারণে মাসের পর মাস পড়ে থাকা, আদালতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা, প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরের পর বছর বিলম্ব, যানজটে কর্মঘণ্টার অপচয়—এসব কেবল ব্যক্তির সময় নষ্ট করে না; জাতীয় অর্থনীতিরও ক্ষতি করে। সময়ের অপচয় তাই ব্যক্তিগত দুর্বলতা থেকে রাষ্ট্রীয় সমস্যায় পরিণত হতে পারে। বাংলাদেশে যানজটের কারণে প্রতিদিন বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। রাজধানীর একজন কর্মজীবী মানুষ যদি প্রতিদিন যাতায়াতে অতিরিক্ত দুই-তিন ঘণ্টা ব্যয় করেন, তাহলে বছরে তার কত সময় হারিয়ে যায়, একবার হিসাব করলেই বিষয়টির ভয়াবহতা বোঝা যায়। উন্নত নগরপরিকল্পনা, কার্যকর গণপরিবহন, ডিজিটাল সরকারি সেবা ও প্রশাসনিক দক্ষতা তাই শুধু নাগরিক সুবিধার বিষয় নয়—এগুলো সময় বাঁচানোর জাতীয় অবকাঠামো। সময়কে কাজে লাগানোর সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে দিনের শুরুতে অল্প কয়েক মিনিট ব্যয় করে দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ নির্ধারণ করা। তিন বা চারটি কাজকে ‘অবশ্যই করতে হবে’ হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। বড় কাজকে নির্দিষ্ট সময়ের অংশে ভাগ করা, এক সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দেওয়া এবং দিনের শেষে কয়েক মিনিট নিজের কাজ পর্যালোচনা করা—এই সাধারণ অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে আমাদের সন্তানদের সময়ের মূল্য শেখাতে হবে। শুধু পরীক্ষার ফল নয়, সময় ব্যবস্থাপনা, দায়িত্ববোধ, মনোযোগ, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও বিশ্রামের সংস্কৃতিও শিক্ষার অংশ হওয়া উচিত। শিশুকে যদি সব সময় বলা হয় ‘পড়ো’, কিন্তু কখন পড়বে, কখন খেলবে, কখন বিশ্রাম নেবে—তার কোনো কাঠামো না দেওয়া হয়, তাহলে সে সময়ের মালিক হওয়ার বদলে সময়ের চাপে বেড়ে উঠবে। জীবনের শেষ হিসাবটি আসলে টাকা-পয়সা দিয়ে হয় না; হয় সময় দিয়ে। কত বছর বেঁচেছি—এটি বড় কথা নয়; সেই বছরগুলোতে কতটা অর্থপূর্ণভাবে বেঁচেছি, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেক সময় ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানকে বিসর্জন দিই। ভাবি, ‘আরেকটু পরে সময় পাব।’ কিন্তু সেই ‘পরে’ অনেক সময় আর আসে না। সন্তান বড় হয়ে যায়, বাবা-মা বৃদ্ধ হন, বন্ধুত্ব দূরে সরে যায়, সুযোগ হারিয়ে যায়। তখন উপলব্ধি হয়—জীবনের সবচেয়ে দামি সম্পদটি আমাদের হাতের মুঠো থেকে নীরবে বেরিয়ে গেছে। তাই সময়কে কাজে লাগানোর অর্থ সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকা নয়। বরং কোন কাজটি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ, কোন মানুষগুলো সত্যিই আপন, কোন স্বপ্নটি সত্যিই নিজের এবং কোন মুহূর্তটি আর ফিরে আসবে না—সেই বোধ নিয়ে বেঁচে থাকা। ঘড়ির কাঁটা কারও জন্য থামে না। ধনী-দরিদ্র, ক্ষমতাবান-সাধারণ, সফল-ব্যর্থ—সবার জন্য সময়ের বরাদ্দ সমান। আমাদের হাতে হয়তো ভবিষ্যৎ নেই, কিন্তু বর্তমান আছে। গতকালকে বদলানোর ক্ষমতা নেই, কিন্তু আজকে বদলে আগামীকালকে ভিন্ন করার সুযোগ আছে। সেই সুযোগের নামই সময়। যে মানুষ সময়কে সম্মান করতে শেখে, সে শুধু নিজের জীবনকে গোছায় না; নিজের চারপাশকেও বদলাতে শুরু করে। আর যে সমাজ সময়ের মূল্য বোঝে, সে সমাজ অপেক্ষার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে কাজের সংস্কৃতিতে প্রবেশ করে। শেষ পর্যন্ত জীবনকে বড় করে তোলে সময়ের দৈর্ঘ্য নয়, সময়ের গভীরতা। প্রতিটি সকাল আমাদের হাতে একটি নতুন পৃষ্ঠা তুলে দেয়। সেখানে কী লিখব, কতটুকু লিখব, আর কতটুকু সাদা রেখে দেব—সিদ্ধান্তটি আমাদের। সময় চলে যাচ্ছে; প্রশ্ন শুধু, আমরা কি সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি সময় আমাদের পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে? লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ।drharun.press@gmail.com এইচআর/এএসএম