জাতীয়

পাওনার শেষ কিস্তি বাকি মোহামেডানের ক্রিকেটারদের, দল-বদলে নীরব আবাহনীও

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
পাওনার শেষ কিস্তি বাকি মোহামেডানের ক্রিকেটারদের, দল-বদলে নীরব আবাহনীও
পাওনার শেষ কিস্তি বাকি মোহামেডানের ক্রিকেটারদের, দল-বদলে নীরব আবাহনীও

ঘরোয়া ক্রিকেটকে ঢেলে সাজাতে তৎপর তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিসিবি। জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল), বিসিএল, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি অনেক বাড়ানো হয়েছে। হিসাব করে দেখা গেছে, প্রথম শ্রেণি, লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এনসিএল খেলে আগামী বছর থেকে ক্রিকেটারদের দ্বিগুণ আয়ের ব্যবস্থা করেছে বিসিবি।

পাশাপাশি দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট ও জনপ্রিয় ওয়ানডে আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরুর সম্ভাব্য দিনক্ষণও চূড়ান্ত করেছে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের আয়োজক ও ব্যবস্থাপক সংস্থা সিসিডিএম।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর (২০২৭) ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ শুরুর সম্ভাব্য সূচি চূড়ান্তই নয়, প্রিমিয়ার লিগে আবারও বিদেশি ক্রিকেটার খেলানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমনকি কোন কোন মাঠে খেলা হবে, সেটিও ঠিক করে ফেলা হয়েছে। আয়োজক মহলের সম্ভাব্য প্রস্তুতির কথাও এরই মধ্যে গণমাধ্যমে এসেছে।

প্রিমিয়ার লিগ শুরুর দিনক্ষণ ও মাঠ চূড়ান্ত হওয়ার পর ক্রিকেট অনুরাগীদের কৌতূহল এখন প্রতিযোগী ক্লাবগুলোর প্রস্তুতি নিয়ে।

আগামী বছরের প্রিমিয়ার লিগে কোন দল কেমন করবে? দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি ঘরে তোলা মোহামেডান ২০২৭ সালে কেমন দল গড়বে? আবারও কি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল তৈরি করবে সাদা-কালোরা?

রানার্সআপ আবাহনীর খবর কী? ফুটবলে শক্তিশালী দল সাজানো আকাশি-হলুদ শিবির কি এবারও ক্রিকেটে শক্তিশালী দল গড়বে? আগেরবার অল্পের জন্য চ্যাম্পিয়ন হতে না পারা প্রাইম ব্যাংকের খবর কী?

তালহা জুবায়েরের কোচিংয়ে আগামী বছর কেমন দল সাজাবে প্রাইম ব্যাংক?

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের অবস্থা কী? দেশের বাইরে থেকেও কোটি কোটি টাকা খরচ করে টানা প্রায় এক যুগ দল সাজানো লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের স্বত্বাধিকারী লুৎফর রহমান বাদল কি আবারও বড় বাজেটের দল গড়বেন?

এসব কৌতূহলী প্রশ্ন এখন অনেক ক্রিকেট অনুরাগীর মনেই উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছে।

ইতিহাস সাক্ষী, গত কয়েক বছর প্রিমিয়ার লিগ হয়েছে এপ্রিল-মে মাসে। তা সত্ত্বেও অন্তত চার-পাঁচ মাস আগে বেশির ভাগ দলই ক্রিকেটারদের দলে ভেড়ানোর কাজ সেরে রাখত। প্রায় ৬০ শতাংশ ক্রিকেটারকে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ অগ্রিম পেমেন্টও দিয়ে দলে টানার কাজ অনেকটাই সেরে ফেলত তারা।

কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।

ক্লাবপাড়ার খবর, ফুটবলে বেশ অর্থ খরচ করে দল গড়া দুই জনপ্রিয় দল মোহামেডান ও আবাহনী এখন পর্যন্ত ক্রিকেটে দল গড়ার কাজ শুরুই করেনি। আগেরবার একঝাঁক জাতীয় ক্রিকেটারকে দলে টেনে লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়া মোহামেডান এখন পর্যন্ত দল গঠনে হাতই দেয়নি।

ভেতরের খবর, ২০২৬ সালের ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এখনো বাকি মোহামেডানের। এরই মধ্যে গত লিগের শেষ পেমেন্ট দেওয়ার দুটি তারিখও মিস করেছে মোহামেডান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাদা-কালো শিবিরে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকার পেমেন্ট বাকি। বলে রাখা ভালো, বর্তমান ও সাবেক মিলিয়ে প্রায় ১০-১২ জন জাতীয় ক্রিকেটার ছিলেন মোহামেডান শিবিরে। গড়পড়তা ২০ লাখ টাকা করে পারিশ্রমিক বাকি থাকলেও তাদের প্রায় দুই কোটি টাকা পাওনা মোহামেডানের কাছে।

যেহেতু আগেরবারের পাওনাই শোধ হয়নি, তাই নতুন বছরের প্রথম পেমেন্টসহ মোহামেডানকে অন্তত তিন কোটি টাকা পারিশ্রমিক দিতে হবে।

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর গত লিগের পারিশ্রমিকের সর্বশেষ কিস্তি পরিশোধের কথা রয়েছে মোহামেডানের। ওই তারিখে পাওনা পরিশোধ করতে পারলে আগামীবারও মোহামেডান তারকায় ঠাসা দল গড়তে পারবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এর আগে পরপর দুই দফা নির্ধারিত তারিখে পাওনা শোধ করতে না পারা মোহামেডান কি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আগেরবারের পুরো পাওনা পরিশোধ করতে পারবে?

জাতীয় দলের ক্রিকেটার বেশি বলেই মোহামেডানের পেমেন্টও অনেক বেশি। এনামুল হক বিজয়, নাইম শেখ, পারভেজ ইমন, মুশফিকুর রহিম, তাওহিদ হৃদয়, ইয়াসির আলী রাব্বি, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, তাইজুল ইসলাম, সাইফউদ্দিন, এবাদত হোসেন, মুশফিক হাসান, রিপন মণ্ডল প্রমুখ ক্রিকেটার ছিলেন মোহামেডানে। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাদের পারিশ্রমিকও অনেক বেশি।

এর বাইরে লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ৭০ লাখ টাকা বোনাস মানিও ঘোষণা করেছিল মোহামেডান। সেটিসহ প্রায় আড়াই কোটি টাকার পেমেন্ট বাকি।

এত বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিশোধের পর আগামী বছরের জন্য ক্রিকেটারদের দলে টানতে অন্তত ২৫ শতাংশ অগ্রিম পেমেন্ট দিতে হবে মোহামেডান কর্তাদের। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড়ের কাজে ব্যস্ত মোহামেডানের ক্রিকেট কর্মকর্তারা। তাই কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না, ২০২৭ সালে আসলে কেমন দল হবে মোহামেডানের।

তবে ভেতরের খবর, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর গত লিগের পেমেন্ট পরিশোধ করতে পারলে মোহামেডান ২০২৭ সালের জন্য দল গড়ার কাজ শুরু করবে।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের লিগে সে অর্থে পারফর্ম করতে না পারা মোহামেডান এবার পেস বোলার তাসকিন আহমেদ ও লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনকে নাও রাখতে পারে। তাদের বদলে সিটি ক্লাবের পেস বোলিং অলরাউন্ডার গাফফার সাকলাইন ও প্রাইম ব্যাংকের স্পিনার আলিস আল ইসলামকে নেওয়ার কথা ভাবছে মোহামেডান। বাকিদের কারও দল ছাড়ার সম্ভাবনাও কম।

এদিকে রানার্সআপ আবাহনীরও এখন পর্যন্ত দল গঠনে তৎপরতা চোখে পড়েনি। কথা বলে জানা গেছে, আবাহনী এখন পর্যন্ত দল গড়ার মিশনে নামেনি।

মোহামেডানের মতো অত মোটা অঙ্কের পেমেন্ট বাকি না থাকলেও আবাহনী থেকে কয়েকজন তরুণ ও উদীয়মান ক্রিকেটারের দল ছাড়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহরবের প্রাইম ব্যাংকে যোগ দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।

গত লিগের চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান ও রানার্সআপ আবাহনী এখন পর্যন্ত দল গঠনে খানিকটা নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাকলেও ভেতরে ভেতরে প্রাইম ব্যাংক ও সিটি ক্লাব এরই মধ্যে ভালো দল গঠনের মিশনে নেমে পড়েছে।

আগেরবার মোহামেডানকে হারিয়েও শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হতে না পারা প্রাইম ব্যাংক গতবারের বেশির ভাগ ক্রিকেটারকে ধরে রাখার পাশাপাশি এবার কয়েকজন তরুণ ও প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ার কাজ সেরে ফেলেছে বলে জানা গেছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, আগেরবার লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে নজরকাড়া ড্যাশিং ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান ও আশিকুর রহমান শিবলীর এবার প্রাইম ব্যাংকে খেলা মোটামুটি নিশ্চিত। হাবিবুর রহমান সোহান জাগো নিউজকে প্রাইম ব্যাংকে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে ক্লাবপাড়ার খবর, প্রাইম ব্যাংকের পাশাপাশি সিটি ক্লাবও ইতিমধ্যে ভালো দল সাজানোর কাজ শুরু করেছে। বেশ কয়েকজন মেধাবী ক্রিকেটারের সঙ্গে দলটির কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে।

এদিকে গত এক যুগ ভালো দলের তকমা গায়ে থাকা লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ এবার নাকি আগের মতো ভালো দল গড়বে না, এমন গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে ক্লাবপাড়ায়।

দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়!

এআরবি/আইএন

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
‘শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা দেখে সময় নির্ধারণ করলে হবে না’
‘শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা দেখে সময় নির্ধারণ করলে হবে না’

'সকাল হইতে ৬ ঘণ্টা জাল বাইয়া একটা ইলিশ মাছ পাইছি। নদীতে আগের মতোন মাছ নাই। এমন চলতে থাকলে ধার দেনা শোধ করতে জাল বেঁচা ছাড়া কোনো উপায় নাই। হের মধ্যে হোনতে আছি কয়দিন পর মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু ওইবে। এই নিষেধাজ্ঞা আইলেও কোনো কাজ হয় না, নিষেধাজ্ঞার সময় আরও কিছুদিন পর দেওয়া দরকার।' নদীতে আগের মতো মাছ না পাওয়ার ক্ষোভে জাগো নিউজকে কথাগুলো বলছিলেন বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার নিবন্ধিত জেলে ইউনুস মাঝি। তিনি বলেন, সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও দেখা যায় ধরা পড়া সব ইলিশের পেটে ডিম। তাহলে সরকার যে ইলিশের ডিম ছাড়ার মৌসুম হিসেবে নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণ করে তা কী দেখে করে। এই নিষেধাজ্ঞার সময় আরো এক মাস পরে নির্ধারণ করা দরকার। তানা হলে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার যত আয়োজন তা কোনো কাজেই আসবে না। তার মতো একই দাবি জেলার হিজলা উপজেলার জেলে জালাল উদ্দিনের। তিনি বলেন, নদীতে এখনো ইলিশের চাপ কম, ডিমওয়ালা ইলিশের দেখা কম, আরও কয়েক দিন সময় দিলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন যদি ইলিশের প্রকৃত প্রজনন সময়ের সঙ্গে পুরোপুরি না মেলে, তাহলে এর সুফল পাওয়া যাবে না। তাই সরকারের উচিত বিষয়টি পুনঃবিবেচনা করে দেখার। একই দাবি জানিয়েছেন বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা জেলে খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, 'গত কয়েক বছর ধরে দেখে আসছি সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার পর প্রচুর পরিমাণে ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়ে। যদি নিষেধাজ্ঞার পরও ইলিশের পেটে ডিম থাকে তাহলে ইলিশের প্রজনন মৌসুম কী দেখে নির্ধারণ করা হয়। শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা দেখে সময় নির্ধারণ করলে হবে না। নদীর বাস্তব চিত্র দেখে নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণ করতে হবে।' জেলেদের দাবি, নদীতে এখনো ইলিশের আশানুরূপ দেখা মিলছে না। কারও জালে ধরা পড়ছে অল্পসংখ্যক ইলিশ, আবার কারও জাল ফিরছে প্রায় খালি। এর মধ্যেই আগামী ৪ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার কথা। তাই শুধু ক্যালেন্ডারের নির্দিষ্ট তারিখ ধরে নয়, নদীর পানির অবস্থা, ইলিশের গতিবিধি এবং ডিম ছাড়ার প্রকৃত সময় বিবেচনায় নিয়ে নিষেধাজ্ঞা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। জেলেরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যতে নদীতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এটা তারাও বোঝেন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন যদি ইলিশের প্রকৃত প্রজনন সময়ের সঙ্গে পুরোপুরি না মেলে, তাহলে এর সুফল কতটা পাওয়া যাবে? জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এই সময় তাদের কাছে আয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখনই নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকু মাছ ধরার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন তারা। নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে নৌকা, জাল ও মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদেরও ঘরে বসে থাকতে হবে। তাই নিষেধাজ্ঞার সময় আরও কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। জেলার হিজলা উপজেলার মাছ ব্যবসায়ী ও দাদনদাতা মো. আব্দুল কাদের জাগো নিউজকে বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমের উপযুক্ত সময় নির্ধারণ নিয়ে সরকারের কাজ করা দরকার। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই এই অক্টোবর মাসে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, কিন্তু অক্টোবর শেষেও ইলিশের পেটে ডিম থাকে। তাই প্রজনন মৌসুমের উপযুক্ত সময় আরও কিছুদিন পিছিয়ে দিলে এর সুফল সবাই ভোগ করতে পারবে। এ ব্যবসায়ী আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হলেও তা জেলেদের প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফলে নিষেধাজ্ঞার দিনগুলোতে সংসার চালানো, নৌকার খরচ, জাল মেরামত কিংবা ধারদেনা পরিশোধ নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। তাই জেলেদের সহায়তার বিষয়টিও মাথায় রাখা উচিত। আরেক আড়তদার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নিষেধাজ্ঞা থাকুক, তবে তা যেন মা ইলিশের প্রকৃত প্রজনন সময়কে কেন্দ্র করে হয়। এতে একদিকে যেমন ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে জেলেরাও নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা সহজে মেনে নিতে পারবেন। এ বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, মা ইলিশ সংরক্ষণের মূল লক্ষ্য অক্ষুণ্ন রেখেই বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। জেলেদের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার সময় পেছানোর যে দাবি উঠেছে, সেটিও সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক আনিসুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, জেলেদের দাবি ও নদীর বাস্তবতা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা চলছে। যাতে জেলে ও ইলিশ দুই পক্ষই উপকৃত হয়, সেজন্য নিষেধাজ্ঞার সময় ১৫ দিন পিছিয়ে দেওয়ার একটি প্রস্তাবনা বিভাগীয় পর্যায়ে রয়েছে। শাওন খান/কেজে/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
সিজারের ৪ দিন পর প্রসূতির মৃত্যু, ক্লিনিক সিলগালা

সিজারের ৪ দিন পর প্রসূতির মৃত্যু, ক্লিনিক সিলগালা

হুতিদের নিয়ন্ত্রণে বাব আল–মানদেব, যেভাবে হুমকির মুখে বিশ্ববাণিজ্য

হুতিদের নিয়ন্ত্রণে বাব আল–মানদেব, যেভাবে হুমকির মুখে বিশ্ববাণিজ্য

এক নগরে দুই পার্কের গল্প

এক নগরে দুই পার্কের গল্প

লাইনের গ্যাস টেনে আনতে সার্ভিস ওয়ারেন্টিসহ অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ কম্প্রেসর, কী করছে তিতাস
লাইনের গ্যাস টেনে আনতে সার্ভিস ওয়ারেন্টিসহ অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ কম্প্রেসর, কী করছে তিতাস

ফেসবুকে স্ক্রলিং করতেই সামনে এল একটি বিজ্ঞাপন। একজন বলছেন, ‘বাসায় ভরপুর মেহমান এসেছে। কিন্তু তখনই দেখলেন, চুলায় গ্যাস নাই। সমাধান নিয়ে এসেছি আমরা। ৩ থেকে ৫ গুণ বেশি চাপে গ্যাস পাবেন এখন। মাত্র একটি ছোট কম্প্রেসর বসালেই মিলবে সমাধান।’ গ্যাস-সংকটের সময় এমন প্রচারণার মাধ্যমে ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও অনলাইন সাইটে বিক্রি হচ্ছে ছোট আকারের গ্যাস কম্প্রেসর বা বুস্টার। বিক্রেতাদের ভাষ্য, লাইনে অল্প অল্প গ্যাস থাকলে এসব যন্ত্র ব্যবহার করে চুলায় গ্যাসের চাপ বাড়ানো যায়। দাম দেড় থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে। সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে এক বছর পর্যন্ত গ্যারান্টি বা সার্ভিস ওয়ারেন্টি। ফেসবুকে এসব কম্প্রেসর বিক্রির অন্তত ৩০টি পেজের সন্ধান পেয়েছে প্রথম আলো। দারাজের মতো অনলাইনবাজারেও এসব পণ্যের তালিকা পাওয়া গেছে। কোনো বিক্রেতা দেড় বছর ধরে, কেউ দুই বছর বা তার বেশি সময় ধরে এসব পণ্য বিক্রির কথা জানিয়েছেন। পাঁচজন বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে।এ বিষয়ে আজ শনিবার মুঠোফোনে দারাজের হেড অব কমিউনিকেশন রাইসুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।গ্যাসলাইনে এ ধরনের বুস্টার বা কম্প্রেসর ব্যবহারের অনুমোদন নেই বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (ভিজিল্যান্স ডিভিশন) মো. শাহজাদা ফরাজী প্রথম আলোকে বলেন, গ্যাসের সরবরাহব্যবস্থায় কোনো অননুমোদিত যন্ত্র ব্যবহার করা যায় না। কেউ কম্প্রেসর দিয়ে গ্যাস টেনে নিলে আশপাশের গ্রাহকের স্বাভাবিক সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। এ ধরনের যন্ত্র ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।সংকটেই বাড়ছে বিক্রিরাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক মাস ধরে গ্যাস–সংকট তীব্র হয়েছে। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে অনেক বাসায় গ্যাসের চাপ কমে যাচ্ছে। কোথাও আবার দীর্ঘ সময় চুলা জ্বলছে না। এই পরিস্থিতিকেই কাজে লাগাচ্ছেন অনলাইন বিক্রেতারা। বিজ্ঞাপনে এসব যন্ত্রকে কখনো ‘গ্যাস প্রেশার বুস্টার’, কখনো ‘গ্যাস কম্প্রেসর’ আবার কখনো ‘গ্যাস পাম্প’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনে মূল আকর্ষণ, কম চাপের গ্যাসে রান্নার সমস্যার সমাধান।বিক্রেতারা ক্রেতাকে প্রথমেই জিজ্ঞেস করেন, বাসায় একেবারে গ্যাস থাকে না, নাকি অল্প অল্প আসে। কারণ, বিক্রেতাদের ভাষ্য, গ্যাস একেবারেই না থাকলে এসব যন্ত্র কাজ করবে না। তাই কেনার আগে পরিস্থিতি বুঝতে হবে।অনলাইন বিজ্ঞাপন দেখে ক্রেতার পরিচয়ে কথা বললে বিক্রেতা হাবিবুর রহমান সানি প্রথম আলোকে তিনি বলেন, দিনে তাঁদের ১০০ থেকে ১৫০টি পণ্য বিক্রি হয়। মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি, বনশ্রী, উত্তরা, বনানীসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এসব পণ্য বেশি যায়। তাঁর ভাষ্য, বাসার লাইনে মাঝেমধ্যে গ্যাস এলে যন্ত্রটি কাজ করে। কিন্তু সারা দিন গ্যাস না থাকলে এটি কাজ করবে না।হাবিবুর রহমান সানি বলেন, তাঁদের ব্যবসা দুই বছরের বেশি সময়ের। এসব কম্প্রেসর বিক্রি করছেন দেড় বছরের বেশি সময় ধরে। বর্তমানে গ্যাসের চাপ বাড়ানোর ছোট দুই মডেলের কম্প্রেসর বিক্রি করছেন। দুই মডেলেই এক বছরের গ্যারান্টি ও এক বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি দিচ্ছেন তাঁরা। পণ্য নষ্ট হলে ক্রেতাকে নতুন পণ্য পাঠানো হয় ও পুরোনোটি কুরিয়ারে ফেরত নেওয়া হয়।কোথা থেকে আসছেফেসবুকে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপনে মূলত গ্যাসের কম চাপের সমস্যাকেই সামনে আনা হচ্ছে। কোথাও রান্নার সময়ের ভিডিও, কোথাও আগুনের তীব্রতা দেখিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কম দামে দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো সাইটে পণ্য বিক্রির পর ক্রেতাদের দেওয়া রিভিউ ও অভিজ্ঞতাও প্রচারে ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হচ্ছে। কম দামের পাশাপাশি গ্যারান্টি ও ওয়ারেন্টির বিষয়টিও বিজ্ঞাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।প্রথম আলো যে পাঁচজন বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলেছে, তাঁরা জানিয়েছেন, পুরোনো একটি মডেলও তাঁরা বিক্রি করেন। তবে সেটিতে শব্দ ও কম্পন বেশি হওয়ায় অভিযোগ আছে। তাই এখন নতুন মডেল আনা হয়েছে। বিক্রেতাদের দাবি, নতুন মডেলগুলোয় শব্দ ও কম্পন কমানোর দিকে কাজ করা হয়েছে। কম্প্রসারগুলো চীন থেকে আসে। তবে কীভাবে দেশে আসে, মূল আমদানিকারক কারা, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তারা দেননি।‘আইনি ঝামেলা হয়নি’অনলাইনে বিক্রি করলেও আইনি ঝুঁকি নিয়ে বিক্রেতাদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের ধারণা রয়েছে। সব বিক্রেতা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তাঁদের এ ধরনের কোনো আইনি ঝামেলায় পড়তে হয়নি। অনলাইনে এ নিয়ে কিছু পোস্ট দেখেছেন, তবে সরকারি পর্যায়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের জানা নেই।তিতাস জানিয়েছে, কম্প্রেসর ব্যবহারের বিষয়টি নতুন নয়। শিল্পকারখানায় বড় আকারের কম্প্রেসর ব্যবহারের ঘটনা তারা দীর্ঘদিন ধরে পেয়ে আসছে। বিভিন্ন অভিযানে এসব যন্ত্র জব্দ করা হয়েছে। তিতাসের মহাব্যবস্থাপক (ভিজিল্যান্স ডিভিশন) মো. শাহজাদা ফরাজী বলেন, তিনি নিজেও ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের দিকে শিল্পকারখানায় এ ধরনের কম্প্রেসর পাওয়ার কথা জানেন। তবে আবাসিক গ্রাহকদের কাছ থেকে ঠিক কতটি কম্প্রেসর জব্দ করা হয়েছে, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দিতে পারেননি।আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে কম্প্রেসর ব্যবহারের বিষয়টি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি নজরে আসার কথাও জানান তিনি। তিতাস এ বিষয়ে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে। তবে শুধু ব্যবহারকারী ধরে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হবে না মন্তব্য করে শাহজাদা ফরাজী বলেন, তাঁরা পেট্রোবাংলার মাধ্যমে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানিয়েছেন। এসব যন্ত্র যাতে দেশে আমদানি করা না যায়। তাঁর ভাষায়, বাজারে পণ্য থাকলে অভিযান চালিয়ে প্রত্যেক ব্যবহারকারীকে খুঁজে বের করা কঠিন। আমদানি বন্ধ করা গেলে মানুষ এসব যন্ত্র কিনতে পারবে না।ঝুঁকি কোথায়কম্প্রেসর ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে তিতাস বলছে, এতে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়। একই লাইনে থাকা অন্য গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। একজন অননুমোদিত যন্ত্র দিয়ে বেশি গ্যাস টেনে নিলে অন্য গ্রাহক স্বাভাবিক সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এর বাইরে যন্ত্রটির মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও তিতাসের হাতে থাকে না। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।যদিও বিক্রেতারা বলছেন, তাঁদের বিক্রি করা পণ্য নিয়ে এখন পর্যন্ত বড় কোনো দুর্ঘটনার খবর তাঁরা পাননি। তবে গ্যাসের লাইনে পানি থাকলে যন্ত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার বাসার বিদ্যুতের লাইনে ভোল্টেজ ওঠানামা করলেও যন্ত্রের সমস্যা হতে পারে। এসব কারণে কিছু ক্রেতার অভিযোগ পাওয়া যায় বলেও জানিয়েছেন বিক্রেতারা।গ্যাস ব্যবহারের নতুন নিয়মে বুস্টার ব্যবহারের বিষয়টি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বলেও জানিয়েছে তিতাস। সংস্থাটির ২০২৬ সালের গ্যাস বিপণন নিয়মাবলিতে অননুমোদিত সরঞ্জাম বা বুস্টার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে। আগে যেটিকে জরিমানা হিসেবে বলা হতো, নতুন নিয়মে সেটিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে । এ ক্ষেত্রে কীভাবে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও আদায় করা হবে, তার প্রক্রিয়াও নিয়মে বলা হয়েছে।শাহজাদা ফরাজী বলেন, তিতাসের নিয়মিত অভিযানে কম্প্রেসর জব্দ করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের অননুমোদিত সরঞ্জাম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
হুতিদের হামলায় বিপর্যস্ত সৌদি এখন কী করতে পারে

হুতিদের হামলায় বিপর্যস্ত সৌদি এখন কী করতে পারে

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতা ও একাধিক মামলার আসামি গ্রেফতার

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতা ও একাধিক মামলার আসামি গ্রেফতার

ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবসে উত্তর সিটির স্টল পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবসে উত্তর সিটির স্টল পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

কম দামে গাড়ি দিতে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ চায় বারভিডা
কম দামে গাড়ি দিতে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ চায় বারভিডা

ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে শর্তসাপেক্ষে আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। বিশেষ গোষ্ঠীর সুবিধা নয়, অর্থনীতির স্বার্থে, দেশের নানুষের স্বার্থে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ দাবি করেছে সংগঠনটি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় বারভিডা। মানববন্ধনে বারভিডার মহসচিব রিয়াজুর রহমান, সাবেক সভাপতি আবদুল মান্নান চৌধুরী খসরু, হাবিবুল্লাহ ডন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ শীর্ষ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে বারভিডার সভাপতি আবদুল হক বলেন, গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত নতুন আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের তুলনামূলক কম দামে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হবে। তিনি বলেন, নতুন ইভির দাম এখনো অনেকের নাগালের বাইরে। কম দামে রিকন্ডিশন্ড ইভি বাজারে এলে সাধারণ মানুষের পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহারও বাড়বে। আরও পড়ুন বড় হচ্ছে ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজার, মাসে বিক্রি সাড়ে ৩ হাজার বারভিডা জানায়, বিভিন্ন দেশে নির্দিষ্ট শর্তে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে। সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশেও প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পুরোনো ইভি আমদানির অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি আমদানি করা গাড়ির ব্যাটারির ন্যূনতম স্টেট অব হেলথ (এসওএইচ) ৭০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। ক্রেতাদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমদানির আগে অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে গাড়ি পরিদর্শন ও প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার কথাও জানিয়েছে বারভিডা। একই সঙ্গে বন্যা, অগ্নিকাণ্ড, গুরুতর দুর্ঘটনা বা কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইভি আমদানি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির মতে, নিয়ন্ত্রিতভাবে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে দেশে চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং, ব্যাটারি ডায়াগনস্টিক ও রিসাইক্লিং খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি ইভি প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। বারভিডা আরও বলছে, ইভির ব্যবহার বাড়লে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে মোটরযান খাতে ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের সরকারি লক্ষ্য অর্জনেও এটি সহায়ক হতে পারে। ব্যবহৃত ইভি ব্যাটারির নিরাপদ সংরক্ষণ, পুনর্ব্যবহার ও নিষ্পত্তির জন্য ‘ব্যাটারি রিসাইক্লিং ও সেফ ডিসপোজাল ফ্রেমওয়ার্ক’ প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং ও ব্যাটারি রিসাইক্লিং খাতে বিনিয়োগে শুল্ক-কর প্রণোদনা অব্যাহত রাখারও দাবি জানানো হয়েছে। আরও পড়ুন উদ্ভাবনী ফিচার নিয়ে বাজারে ইলেকট্রিক স্কুটার ‘রাইডো’ সাবেক সভাপতি হাবিবুল্লাহ ডন বলেন, নীতিমালায় নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি উন্মুক্ত রাখা হলেও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বৈষম্যমূলক। আমরা নতুন ও রিকন্ডিশন্ড দুই ধরনের ইভি আমদানির সুযোগ চাই। এতে ক্রেতারাই সিদ্ধান্ত নেবেন তারা নতুন গাড়ি কিনবেন নাকি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। তিনি বলেন, সরকারের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে আমরা অংশীদার হতে চাই এবং আরও বেশি রাজস্ব দিতে চাই। তাই প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ব্যবসার সুযোগ উন্মুক্ত করুন। বারভিডার সবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান চৌধুরী খসরু বলেন, আমরা সরকারের নীতির বিরোধিতা করছি না। এই শিল্পের জন্য আমাদের চাওয়া বাস্তবসম্মত, ভারসাম্যপূর্ণ ও ভবিষ্যতমুখী নীতি। একটি নিষেধাজ্ঞা বাজারকে থামিয়ে দিতে পারে, কিন্তু একটি সঠিক নীতি একটি শিল্পকে গড়ে তুলতে পারে। এসময় বারভিডার পক্ষ থেকে আমদানি নীতির সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করে শর্তসাপেক্ষে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ পুনর্বহালের আহ্বান জানান সংগঠনটির মহাসচিব রিয়াজুর রহমান। ইএআর/কেএসআর

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
কবিতায় বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের বন্ধুত্বের বার্তা দিলেন সামিনা নাজ

কবিতায় বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের বন্ধুত্বের বার্তা দিলেন সামিনা নাজ

তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়: ইরান

শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়: ইরান

0 Comments