টিকিট কালোবাজারি ও অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত শেষে ৬৮৫ টিকিট অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। একই সঙ্গে ৪৬৪ সমর্থকের শাস্তি কমানো হয়েছে অথবা তাদের চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড জানিয়েছে, ‘ষ্মজুড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এমন কিছু অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনার জন্য একটি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, যেগুলোতে টিকিটের অপব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অস্বাভাবিক কার্যক্রম দেখা গিয়েছিল।’
ক্লাবটির টিকিট ব্যবস্থাপনার মূল নীতি হলো — সমর্থকদের নিরাপদ রাখা, প্রকৃত ইউনাইটেড সমর্থকদের জন্য টিকিট পাওয়ার ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা এবং টিকিট কালোবাজারি, অপব্যবহার ও আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে পরিচালিত কার্যক্রম বন্ধ করা।
তদন্তে ক্লাবটি জানতে পেরেছে ১ হাজার ৬১৭ টিকিট অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক কার্যক্রম দেখা গেছে। প্রতিটি অ্যাকাউন্টধারীকে কী ধরনের কার্যক্রম শনাক্ত হয়েছে তা জানানো হয় এবং এর কারণ ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হয়।
ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হলে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হবে। যেসব অ্যাকাউন্টে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, সেসব সমর্থক স্বাধীন আপিল প্যানেলের কাছে আবেদন করার সুযোগ পান। ওই প্যানেলে সমর্থকদের প্রতিনিধিত্বও ছিল।
সব আপিলের শুনানি শেষে ইউনাইটেড জানায়, প্রাসঙ্গিক তথ্য দেওয়ার পর ৪৬৮টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আরও ২২৬টি অ্যাকাউন্টে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টের তথ্য শুধু শেয়ার করার বাইরে অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলেও, ক্লাব নিশ্চিত ছিল যে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে তা করা হয়নি।
আইএন
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে সবার আগে জাপান পৌঁছেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। চীনের গুয়াংজুতে কন্ডিশনিং ক্যাম্প ও প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে সেখান থেকেই জাপান চলে যায় পিটার বাটলারের দল। এশিয়ান গেমস সামনে রেখে চীনে বেশ কয়েকদিনের ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশ দল। সেখানে অনুশীলনের পাশাপাশি দুটি ওয়ার্ম-আপ ম্যাচ খেলে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন ফুটবলাররা। এশিয়ান গেমসে এবার দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এর আগে ২০২৩ সালের হাংজু এশিয়ান গেমসে প্রথমবার অংশ নিয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ‘এফ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ এশিয়ার দুই পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়া এবং মিয়ানমার। ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এশিয়ান গেমসের অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। ১৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ এবং শেষ ম্যাচ ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে। জাপানের নাগোয়া ও আইচি শহরে অনুষ্ঠিতব্য এবারের এশিয়ান গেমসে ২২ ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে বাংলাদেশ। ডিসিপ্লিনগুলো হচ্ছে-আরচারি, অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, সাইক্লিং, ফুটবল (নারী), ফেন্সিং, জিমন্যাস্টিকস, গলফ, হকি (পুরুষ ও নারী), জুডো, কাবাডি (পুরুষ ও নারী), কারাতে, শ্যুটিং, সার্ফিং, সুইমিং, টেবিল টেনিস, বিচ ভলিবল, ভারোত্তোলন, কুস্তি ও উশু। আরআই/আইএন
সকাল আটটা। বিদ্যালয়ের মাঠে শিক্ষার্থীদের কোলাহল। শ্রেণিকক্ষেও চলছে পাঠদানের প্রস্তুতি। কোথাও ফ্যান ঘুরছে, কোথাও কম্পিউটারে চলছে কাজ। আবার বিদ্যালয়টির একটি কক্ষে চালু রয়েছে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি)। বিদ্যালয়টির এসব বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের প্রায় পুরোটায় চলছে সৌরশক্তি দিয়ে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চবিদ্যালয়ে (জেবি স্কুল) দেখা যায় এ চিত্র। বিদ্যালয়ের তিনটি ভবনের দুটির ছাদে সৌর প্যানেলের সারি। ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতার এই ব্যবস্থা দিয়ে শতাধিক ফ্যান, প্রায় ১২০টি বাতি, একাধিক কম্পিউটারসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো হচ্ছে।বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, তিন বছর আগে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পর বিদ্যালয়টিতে বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের ভোগান্তি কমেছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিলও আগের মতো দিতে হচ্ছে না। তিন বছর আগে মাসে গড়ে ৩০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হতো। এখন চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বিদ্যুতের জন্য খরচ হয়।মিরসরাই উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে জোরারগঞ্জ বাজারের মুহুরী প্রজেক্ট সড়কের পাশে বিদ্যালয়টির অবস্থান। সম্প্রতি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রশস্ত মাঠ ঘিরে তিনটি পাকা ভবন। এর দুটির ছাদে বসানো সৌর প্যানেল। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে।তিন বছর আগে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পর বিদ্যালয়টিতে বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের ভোগান্তি কমেছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিলও আগের মতো দিতে হচ্ছে না। তিন বছর আগে মাসে গড়ে ৩০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হতো। এখন চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বিদ্যুতের জন্য খরচ হয়।বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা তুষার কান্তি বড়ুয়া। তিনিই এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, মিরসরাইয়ে মানসম্পন্ন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যেই ১৯৮৮ সালে জোরারগঞ্জ বাজারের পাশে তাঁদের পারিবারিক এক একর জায়গায় ‘শিশু কানন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। অভিভাবকদের অনুরোধ ও এলাকায় শিক্ষার প্রসারে ১৯৯২ সালে সেটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চবিদ্যালয়ে রূপ নেয়।বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিশু ও মাধ্যমিক মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এতে ৫৮ জন শিক্ষক ও ১০ জন কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষার্থী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়ের ভবন ও শ্রেণিকক্ষও বেড়েছে। এখন শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন, বিভিন্ন দাপ্তরিক কক্ষসহ প্রায় ৪৫টি কক্ষে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। এসব কক্ষে বৈদ্যুতিক পাখা ও বাতি রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে রয়েছে এসি। হিসাবরক্ষণ কক্ষে দুটি কম্পিউটার রয়েছে। এসব সৌরবিদ্যুতেই চলে।— টুইংকেল বড়ুয়া, সহকারী শিক্ষক, জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চবিদ্যালয়।সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পর থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকায় গরমেও ক্লাস নিতে কষ্ট হয় না। শিক্ষার্থীরাও স্বস্তিতে পড়াশোনা করতে পারে। চলতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে মিরসরাই উপজেলায় সেরা হয়েছে এই বিদ্যালয়।বিদ্যালয়টির ল্যাবে আটটি কম্পিউটার রয়েছে। ল্যাবে যখন একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থী আসে, তখন সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে যায়। বিদ্যালয়ে থাকা পল্লী বিদ্যুতের সংযোগটিও ব্যবহার করতে হয়। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে, যখন রোদের আলো থাকে না, তখনো পল্লী বিদ্যুতের সংযোগটি ব্যবহার করা হয়। বর্ষকাল ও শীতকালে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগটি বেশি ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে বলে জানান শিক্ষকেরা। এতে মাসে গড়ে পাঁচ হাজার টাকার মতো বিদ্যুৎ বিল খরচ হয়।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘তিন বছর আগে বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমানোর চিন্তা থেকেই সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নিই। বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ২৪ লাখ টাকা খরচ করে ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়।’তুষার কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘এখন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার দিন ছাড়া প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যায়। আগে মাসে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হতো। এখন তা পাঁচ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে। সৌরবিদ্যুৎ না থাকলে বর্তমান হিসাবে মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বিল দিতে হতো।’বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক টুইংকেল বড়ুয়া বলেন, ‘সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পর থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকায় গরমেও ক্লাস নিতে কষ্ট হয় না। শিক্ষার্থীরাও স্বস্তিতে পড়াশোনা করতে পারে। চলতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে মিরসরাই উপজেলায় সেরা হয়েছে এই বিদ্যালয়।’বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ–ব্যবস্থা সাশ্রয়ী ও স্বস্তির। সরকারও নানা ধরনের প্রণোদনা দিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে। জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চবিদ্যালয় পুরো বিদ্যালয়কে সৌরবিদ্যুতের আওতায় এনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বোর্ড পরীক্ষায়ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করছে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারের সঙ্গে পিকনিকের ইঞ্জিনচালিত নৌকার ধাক্কায় তিনজন পদ্মা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। এরমধ্যে দুইজনকে নৌ-পুলিশ জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ৫নং পিলারের সঙ্গে পিকনিকের নৌকার ধাক্কায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা থেকে ১২৩ জনের একটি দল ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকায় (ট্রলার) পিকনিকের উদ্দেশ্যে রাজশাহীতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ অতিক্রম করার সময় তীব্র স্রোতে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের ৫নং পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে নৌকায় থাকা তিনজন নদীতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এসময় মো. লিটন হোসেন (৩৮) ও মো. ওয়াহাবকে (৪৫) জীবিত উদ্ধার করা হলেও মো. রকি হোসেন নিখোঁজ রয়েছেন। ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম বলেন, নৌকা থেকে নদীতে তিনজন পড়ে গিয়েছিল। এদের মধ্যে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। শেখ মহসীন/এফএ