ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর গত মে মাসের শুরুতে বিজ্ঞপ্তি জারি করে গবাদিপশু জবাইয়ের ওপর কড়া শর্তাবলি আরোপ করা হয়। বলা হয়, ১৪ বছরের বেশি বয়সী কিংবা কায়িক পরিশ্রম ও প্রজননে সম্পূর্ণ অক্ষম গবাদিপশু ছাড়া অন্য পশু জবাই করা নিষিদ্ধ। যার প্রভাব পড়েছে মাংস ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষের ওপর।
এমন দুঃসময় যে জীবনে আসবে, তা কল্পনাও করেননি ফিরোজ আলম। অথচ কয়েক মাস আগেও হাওড়ার শিবপুরে তাঁর দোকানে ক্রেতার আনাগোনা ভালোই ছিল। প্রতিদিন আট-দশ কেজি মাংস অনায়াসে বিক্রি হয়ে যেত তখন। কিন্তু ভোটের পরে প্রায় রাতারাতি বদলেছে পরিস্থিতি। সরকারি নির্দেশে কসাইখানা বন্ধ থাকার ফলে দুই পুরুষের ব্যবসা এবার লাটে ওঠার জোগাড়। স্বামী-স্ত্রী, বৃদ্ধ মা আর তিন সন্তানের পরিবারের দুবেলা খাবার জোগাতেই কঠিন পরিস্থিতি ফিরোজের।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় হুগলি সেতু পেরিয়ে ব্যাতাইতলা বাজারের কাছাকাছি দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ ইনস্টিটিউশনের সামনে নাম বলতেই ফিরোজের দোকানের হদিস দিলেন চা-দোকানি। কাজিপাড়া মোড় থেকে বাঁ দিকের রাস্তা ধরে কিছুটা এগোতেই সরু গলিতে ঢোকার মুখে হাসিমুখে এগিয়ে এলেন বছর ত্রিশের যুবক।
আড়াই দশক আগে এই গলিতেই একচিলতে দোকানে মাংস বিক্রি করতেন তাঁর বাবা। পাঁচ বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর দোকানের হাল ধরেছেন ফিরোজ। পাশের দোকানে বসেন তাঁর মামা। ব্যবসায়িক রেষারেষি নয়, বরং পরস্পরকে বরাবর তাঁরা সাহায্য করে এসেছেন। ফিরোজ জানালেন, ‘পালা করে টিকিয়াপাড়ার কসাইখানা থেকে আমরা মাংস আনি। ওখানে পরপর বড় পাইকারদের দোকান। হোটেল-রেস্তোরাঁয় ওখান থেকেই রোজ মাংস যায়, তবে কসাইখানা বন্ধ হওয়ার পরে প্রতিদিন সব দোকান এখন খোলার অবস্থায় নেই।’
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে গত মে মাসের শুরুতে নতুন নির্দেশনা জারি করে গবাদিপশু জবাইয়ের ওপর কড়া শর্তাবলি আরোপ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এরপর রাজ্যে গবাদিপশুর মাংসের বাজার ঘিরে নজিরবিহীন আর্থিক ও সামাজিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা ও নিয়মকানুন আরোপের ফলে কসাইখানাগুলোতে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ বাধ্যতামূলক করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পুরো মাংস সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৪ বছরের বেশি বয়সী কিংবা কায়িক পরিশ্রম ও প্রজননে সম্পূর্ণ অক্ষম গবাদিপশু ছাড়া অন্য পশু জবাই করা নিষিদ্ধ। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে এই সংক্রান্ত ছাড়পত্র দেওয়ার দায়িত্ব যৌথভাবে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সরকার অনুমোদিত ভেটেরিনারি সার্জনকে।
এই প্রশাসনিক জটিলতা ও নিয়মের কঠোর প্রয়োগের ফলে কলকাতার ট্যাংরা অঞ্চলের সরকারি কসাইখানাসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা পশু জবাই কেন্দ্রগুলোতে গবাদিপশুর জোগান তলানিতে এসে ঠেকেছে। নতুন বিধিনিষেধ চালু হওয়ার পরে জবাইয়ের জন্য আনা পশুর অর্ধেকের বেশি স্বাস্থ্য ছাড়পত্র না পাওয়ায় তাদের ফেরত পাঠিয়ে দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মীরা। এর ফলে বাজারে দৈনন্দিন মাংস সরবরাহে টান পড়েছে।
প্রসঙ্গত, পঞ্চম জাতীয় পারিবারিক ও স্বাস্থ্য সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতের সর্বাধিক আমিষপ্রধান রাজ্যের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এই রাজ্যের প্রায় ৯৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন রকমের মাছ, মাংস ও ডিম রাখা হয়। গড় পরিবারে মাসিক খরচের প্রায় ২০ শতাংশ মাংস ও মাছের জন্য খরচ করার প্রবণতা দেখা যায়। এমনকি গত পাঁচ বছরে রাজ্যে ডিম ও প্রাণিজ প্রোটিনের ব্যবহার প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে বলেও জানানো হয়েছে ওই সমীক্ষায়।
সম্প্রতি ভিনরাজ্যবাসী এক হিন্দু ধর্মগুরু দুর্গাপূজায় বাঙালির আমিষ খাওয়া নিয়ে সমালোচনা করলে তাঁর বিরুদ্ধে জনমানসে তীব্র বিক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আসন্ন উৎসবের মৌসুমের ঠিক আগেই সরকারি নির্দেশের জেরে কসাইখানা অচল হওয়ায় চিন্তায় রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষই। এরই মধ্যে নবরাত্রি উপলক্ষে দেবীপক্ষে মাংসের দোকান বন্ধ রাখার গুজবে তোলপাড় শুরু হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। যদিও এখন পর্যন্ত এমন কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করার কথা অস্বীকার করেছে রাজ্য প্রশাসন।
নতুন বিধিনিষেধ চালু হওয়ার পর জবাইয়ের জন্য আনা পশুর অর্ধেকের বেশি স্বাস্থ্য ছাড়পত্র না পাওয়ায় তাদের ফেরত পাঠিয়ে দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মীরা। এর ফলে বাজারে দৈনন্দিন মাংস সরবরাহে টান পড়েছে।
পশু জবাই স্থগিত রাখার ফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন ক্ষুদ্র মাংস বিক্রেতা, কসাই এবং স্থানীয় হাটের খুচরা ব্যবসায়ীরা। কলকাতা, হাওড়াসহ আশপাশের জেলাগুলোর বাজারে কয়েক দশক ধরে চালু ছোট ছোট মাংসের দোকানগুলো চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাংসের জন্য গবাদিপশু কেনা এবং প্রশাসনিক ছাড়পত্র জোগাড়ের জটিল প্রক্রিয়া। প্রান্তিক এলাকা থেকে পশু কিনে শহরে আনা, তার সঠিক বয়স ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সনদ জোগাড় করা এবং পৌরসভার নির্দিষ্ট কসাইখানায় নিয়ে যাওয়া—এই গোটা প্রক্রিয়ায় সময় ও খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যায় বলে দাবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।
এ বিষয়ে হাওড়ার কাজিপাড়া এলাকার মাংস বিক্রেতা ফিরোজ আলম বলেন, ‘আমরা মাংস আনতাম টিকিয়াপাড়ার কসাইখানা থেকে। কিন্তু গত প্রায় এক মাস কসাইখানা বন্ধ রয়েছে। আবার কবে তা চালু হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। এর ফলে দোকান চালানোর জন্য ঘুরপথে মাংস আনতে হচ্ছে, নানান কারণে যার দামও চড়া। তার জেরে মাংসের যে দাম দাঁড়াচ্ছে, তাতে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র ক্রেতাদের পক্ষে কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।’
সরকারি কসাইখানায় কড়াকড়ির ফলে বাজারের চাহিদা মেটাতে অবৈধভাবে পশু জবাই করা হচ্ছে বলে জানালেন হাওড়ার আরেক মাংস বিক্রেতা মুনাব্বর আলী। তাঁর দাবি, টিকিয়াপাড়ার ঝাঁপ আপাতত বন্ধ থাকায় আরামবাগ, উলুবেড়িয়া, দত্তপুকুর ও বারাসতের একাধিক জায়গায় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গরু ও মহিষ জবাই করা হচ্ছে।
লোকালয়ের বাইরে ফাঁকা মাঠ ও শস্যখেতে সাধারণত ভোরবেলায় এমন পশু জবাই করা হয়। তবে তার আগে স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ও আইনরক্ষক বাহিনীর একাংশের সঙ্গে কথা বলে সব আটঘাট বেঁধে নেওয়া হয় অবশ্যই আর্থিক লেনদেনের সুবাদে। এই সমস্ত ভুঁইফোড় কসাইখানা থেকে সেই মাংস পিকআপ ভ্যান অথবা ছোট ট্রাকে ত্রিপলে ঢেকে দোকানে বয়ে আনেন বিক্রেতারা। আসার পথেও রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশকে গাড়িপিছু দশ থেকে বারো হাজার টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া এলাকায় গরু-মহিষের মাংস বিক্রি করার ‘অনুমোদন’ পেতে নিয়মিত স্থানীয় থানাকে ‘সন্তুষ্ট’ রাখতে হয় বলেও তাঁর দাবি।
সরকারি কসাইখানার বাইরে থেকে বাড়তি দরে পণ্য কেনার পাশাপাশি এই ধরনের বাড়তি খরচ মেটাতে হয় বলে মাত্র তিন–চার মাসে মাংসের দাম বেড়ে গেছে। ফিরোজের কথায়, ‘গত ঈদের আগেও গরু বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২৫০ টাকায়। কিন্তু কসাইখানা বন্ধ হওয়ার পরে এখন তার দাম উঠেছে কেজিতে ৩৫০-৩৬০ টাকা।’ একই কারণে গরুর মাংসের পাশাপাশি বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মহিষের মাংসও।
ফিরোজ ও মুনাব্বরের মতোই সরকারি নিষেধাজ্ঞার জেরে ব্যবসা লাটে ওঠার জোগাড় হয়েছে পার্ক সার্কাসের মাংস বিক্রেতা ইদ্রিস আলীর। প্রায় এক যুগ ধরে এই পেশায় থাকা ইদ্রিস আগে কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়েননি। তবে অনুমোদিত কসাইখানার বাইরে পশু জবাইয়ের কারবার বেশি দিন স্থায়ী হবে বলে মনে করেন না তিনি।
ভুঁইফোড় কসাইখানা থেকে মাংস ত্রিপলে ঢেকে দোকানে নেওয়ার পথে রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশকে গাড়িপিছু দশ থেকে বারো হাজার টাকা দিতে হয়। এলাকায় গরু-মহিষের মাংস বিক্রি করার ‘অনুমোদন’ পেতে নিয়মিত স্থানীয় থানাকে ‘সন্তুষ্ট’ রাখতে হয়।
ইতিমধ্যে অবৈধ জবাইখানা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে নিয়মিত তল্লাশি অভিযানে নেমেছে পুলিশ, চলেছে ধরপাকড়ও। এই কারণে মাংস সরবরাহে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে প্রায়ই। এর ফলে বেশ কিছু কম পুঁজির বিক্রেতা মূলধন খুইয়ে রাতারাতি ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তোপসিয়ার এক দোকানমালিক। একই কারণে কলকাতার ধর্মতলা এলাকার ঐতিহাসিক নিউমার্কেটেও একের পর এক মাংসের দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন বিক্রেতারা।
সরবরাহে এই বিপুল ঘাটতির কারণে শহরের একাধিক জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ তাদের গরুর মাংসের বেশ কিছু জনপ্রিয় পদ তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে। মাংসের জোগানের অভাবে নিজামস, জমজম, অলিপাব বা মোকাম্বোর মতো বহু ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁয় বিফ রোল, বিফ বিরিয়ানি বা বিফ স্টেক অর্ডার করে হতাশ হচ্ছে মানুষ। বিকল্প হিসেবে খাসি বা মুরগির মাংসের পদ রেঁধেও বিশেষ সুরাহা হচ্ছে না বলে দাবি বেকবাগান অঞ্চলের এক রেস্তোরাঁ মালিকের। পাঁচতারা হোটেলের ভোজনশালাগুলোতে পরিস্থিতি সামলাতে অনলাইনে বিফ কিনতে হচ্ছে চড়া দরে, জানিয়েছেন আলীপুর অঞ্চলের এক জনপ্রিয় হোটেলের হেঁশেলের দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা। তবে এভাবে কত দিন গরুর মাংসের পদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে, তাই নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে মধ্য কলকাতায় কয়েকটি পথের ধারের দোকানে গরুর বিকল্প হিসেবে মহিষের মাংস দিয়ে কাবাব, রেজালা, টিকিয়া, ভুনা ইত্যাদি তৈরি হচ্ছে, যদিও তাতে বিফের মতো স্বাদ খুলছে না বলে অভিযোগ দমদমের জনপ্রিয় এক ফুড ভ্লগারের। তাঁর দাবি, এই সুযোগে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বেশ কিছু রেস্তোরাঁ বিফের নামে অবাধে ‘বাফ’ অর্থাৎ মহিষের মাংস চালিয়ে দিচ্ছে।
গরুর মাংসের এমন সংকটের ধাক্কা কেবল মানুষ নয়; সমস্যায় ফেলেছে বাঘ, সিংহ, লেপার্ডের মতো আলীপুর চিড়িয়াখানার মাংসাশী বাসিন্দাদেরও। টাংরার কসাইখানায় মহিষ ও অন্যান্য গবাদিপশুর জবাই বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়ার ফলে টান পড়েছে ওই পশুদের নিত্য খোরাকিতে। চিড়িয়াখানায় মহিষের মাংস সরবরাহকারী সংস্থাগুলো তাদের নিবন্ধন নবায়ন ও জোগান বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় বাধ্য হয়ে মাংসাশী প্রাণীদের খাদ্য জোটাতে চার গুণ বেশি দামে খাসির মাংস কিনতে হচ্ছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে। এর জেরে সরকারি চিড়িয়াখানায় খাদ্যের পেছনে বরাদ্দ বাজেট রাতারাতি আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে, যা আখেরে প্রশাসনিক স্তরে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।
সরকারি কসাইখানার বাইরে থেকে বাড়তি দরে পণ্য কেনার পাশাপাশি নানা বাড়তি খরচ মেটাতে হয় বলে মাত্র ৩-৪ মাসে মাংসের দাম বেড়ে গেছে। গত ঈদের আগেও গরু বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২৫০ টাকায়। এখন দাম উঠেছে ৩৫০-৩৬০ টাকা।
সরকারি নির্দেশে কসাইখানা বন্ধ থাকার জেরে মাংস বিক্রেতা ছাড়াও কঠিন হয়ে পড়েছে আনুষঙ্গিক আরও অনেকের জীবনযাপনের সংগ্রাম। সেই তালিকায় রয়েছেন ছোট ব্যবসায়ীরা, যাঁদের সিংহভাগই সনাতন ধর্মাবলম্বী। মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বাছুর কিনে পালন করে পূর্ণবয়স্ক গবাদিপশু বিক্রি করে তাঁদের সংসার চলত।
সরকারি নোটিশে পশু জবাইয়ের ওপর শর্ত চাপানোর ফলে লাভের বদলে তাঁদের কাঁধে চেপেছে দেনার বোঝা। সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে গবাদিপশু কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত গ্রামীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়ার কারণে। গ্রামীণ অঞ্চলের যে কৃষকেরা বয়স্ক বা অকেজো গবাদিপশু বিক্রি করে নতুন গবাদিপশু কেনা বা পরিবারের প্রয়োজনে টাকার সংস্থান করতেন, তাঁরাও এখন ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছেন না। হাটে গবাদিপশু বেচাকেনা কমে যাওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চামড়াশিল্প ও ট্যানারিগুলোতে কাঁচামালের মারাত্মক অভাব। তার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কসাইখানা থেকে মৃত পশুর চামড়া সংগ্রহ করে ট্যানারিতে সরবরাহকারী বহু ছোট মাপের কারবারিও।
সরকারি নিষেধাজ্ঞার ফলে মাংসের বিপণি থেকে রেস্তোরাঁ এবং আনুষঙ্গিক বিভিন্ন ব্যবসা যে কঠিন সমস্যায় পড়েছে, তার সুরাহা কোন পথে হবে, তাই নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আশার আলো দেখা যায়নি বলে আক্ষেপ টিকিয়াপাড়ার এক বিক্রেতার। ‘সরকারি কসাইখানা বন্ধ। এর মাঝে দুই বার চালু হবে বলেও শেষ পর্যন্ত হয়নি। জানি না, আর কত দিন এভাবে লড়াই করে দোকান খোলা রাখতে পারব’, বলছিলেন স্থানীয় কারবারি শামসের আলম। আর কাজিপাড়ার ফিরোজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘হয়তো এবার রিকশা চালানো ছাড়া আর কোনো উপায়ই থাকবে না।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে সবার আগে জাপান পৌঁছেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। চীনের গুয়াংজুতে কন্ডিশনিং ক্যাম্প ও প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে সেখান থেকেই জাপান চলে যায় পিটার বাটলারের দল। এশিয়ান গেমস সামনে রেখে চীনে বেশ কয়েকদিনের ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশ দল। সেখানে অনুশীলনের পাশাপাশি দুটি ওয়ার্ম-আপ ম্যাচ খেলে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন ফুটবলাররা। এশিয়ান গেমসে এবার দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এর আগে ২০২৩ সালের হাংজু এশিয়ান গেমসে প্রথমবার অংশ নিয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ‘এফ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ এশিয়ার দুই পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়া এবং মিয়ানমার। ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এশিয়ান গেমসের অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। ১৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ এবং শেষ ম্যাচ ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে। জাপানের নাগোয়া ও আইচি শহরে অনুষ্ঠিতব্য এবারের এশিয়ান গেমসে ২২ ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে বাংলাদেশ। ডিসিপ্লিনগুলো হচ্ছে-আরচারি, অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, সাইক্লিং, ফুটবল (নারী), ফেন্সিং, জিমন্যাস্টিকস, গলফ, হকি (পুরুষ ও নারী), জুডো, কাবাডি (পুরুষ ও নারী), কারাতে, শ্যুটিং, সার্ফিং, সুইমিং, টেবিল টেনিস, বিচ ভলিবল, ভারোত্তোলন, কুস্তি ও উশু। আরআই/আইএন
সকাল আটটা। বিদ্যালয়ের মাঠে শিক্ষার্থীদের কোলাহল। শ্রেণিকক্ষেও চলছে পাঠদানের প্রস্তুতি। কোথাও ফ্যান ঘুরছে, কোথাও কম্পিউটারে চলছে কাজ। আবার বিদ্যালয়টির একটি কক্ষে চালু রয়েছে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি)। বিদ্যালয়টির এসব বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের প্রায় পুরোটায় চলছে সৌরশক্তি দিয়ে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চবিদ্যালয়ে (জেবি স্কুল) দেখা যায় এ চিত্র। বিদ্যালয়ের তিনটি ভবনের দুটির ছাদে সৌর প্যানেলের সারি। ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতার এই ব্যবস্থা দিয়ে শতাধিক ফ্যান, প্রায় ১২০টি বাতি, একাধিক কম্পিউটারসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো হচ্ছে।বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, তিন বছর আগে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পর বিদ্যালয়টিতে বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের ভোগান্তি কমেছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিলও আগের মতো দিতে হচ্ছে না। তিন বছর আগে মাসে গড়ে ৩০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হতো। এখন চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বিদ্যুতের জন্য খরচ হয়।মিরসরাই উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে জোরারগঞ্জ বাজারের মুহুরী প্রজেক্ট সড়কের পাশে বিদ্যালয়টির অবস্থান। সম্প্রতি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রশস্ত মাঠ ঘিরে তিনটি পাকা ভবন। এর দুটির ছাদে বসানো সৌর প্যানেল। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে।তিন বছর আগে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পর বিদ্যালয়টিতে বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের ভোগান্তি কমেছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিলও আগের মতো দিতে হচ্ছে না। তিন বছর আগে মাসে গড়ে ৩০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হতো। এখন চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বিদ্যুতের জন্য খরচ হয়।বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা তুষার কান্তি বড়ুয়া। তিনিই এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, মিরসরাইয়ে মানসম্পন্ন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যেই ১৯৮৮ সালে জোরারগঞ্জ বাজারের পাশে তাঁদের পারিবারিক এক একর জায়গায় ‘শিশু কানন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। অভিভাবকদের অনুরোধ ও এলাকায় শিক্ষার প্রসারে ১৯৯২ সালে সেটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চবিদ্যালয়ে রূপ নেয়।বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিশু ও মাধ্যমিক মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এতে ৫৮ জন শিক্ষক ও ১০ জন কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষার্থী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়ের ভবন ও শ্রেণিকক্ষও বেড়েছে। এখন শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন, বিভিন্ন দাপ্তরিক কক্ষসহ প্রায় ৪৫টি কক্ষে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। এসব কক্ষে বৈদ্যুতিক পাখা ও বাতি রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে রয়েছে এসি। হিসাবরক্ষণ কক্ষে দুটি কম্পিউটার রয়েছে। এসব সৌরবিদ্যুতেই চলে।— টুইংকেল বড়ুয়া, সহকারী শিক্ষক, জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চবিদ্যালয়।সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পর থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকায় গরমেও ক্লাস নিতে কষ্ট হয় না। শিক্ষার্থীরাও স্বস্তিতে পড়াশোনা করতে পারে। চলতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে মিরসরাই উপজেলায় সেরা হয়েছে এই বিদ্যালয়।বিদ্যালয়টির ল্যাবে আটটি কম্পিউটার রয়েছে। ল্যাবে যখন একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থী আসে, তখন সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে যায়। বিদ্যালয়ে থাকা পল্লী বিদ্যুতের সংযোগটিও ব্যবহার করতে হয়। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে, যখন রোদের আলো থাকে না, তখনো পল্লী বিদ্যুতের সংযোগটি ব্যবহার করা হয়। বর্ষকাল ও শীতকালে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগটি বেশি ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে বলে জানান শিক্ষকেরা। এতে মাসে গড়ে পাঁচ হাজার টাকার মতো বিদ্যুৎ বিল খরচ হয়।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘তিন বছর আগে বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমানোর চিন্তা থেকেই সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নিই। বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ২৪ লাখ টাকা খরচ করে ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়।’তুষার কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘এখন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার দিন ছাড়া প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যায়। আগে মাসে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হতো। এখন তা পাঁচ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে। সৌরবিদ্যুৎ না থাকলে বর্তমান হিসাবে মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বিল দিতে হতো।’বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক টুইংকেল বড়ুয়া বলেন, ‘সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পর থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকায় গরমেও ক্লাস নিতে কষ্ট হয় না। শিক্ষার্থীরাও স্বস্তিতে পড়াশোনা করতে পারে। চলতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে মিরসরাই উপজেলায় সেরা হয়েছে এই বিদ্যালয়।’বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ–ব্যবস্থা সাশ্রয়ী ও স্বস্তির। সরকারও নানা ধরনের প্রণোদনা দিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে। জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চবিদ্যালয় পুরো বিদ্যালয়কে সৌরবিদ্যুতের আওতায় এনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বোর্ড পরীক্ষায়ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করছে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারের সঙ্গে পিকনিকের ইঞ্জিনচালিত নৌকার ধাক্কায় তিনজন পদ্মা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। এরমধ্যে দুইজনকে নৌ-পুলিশ জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ৫নং পিলারের সঙ্গে পিকনিকের নৌকার ধাক্কায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা থেকে ১২৩ জনের একটি দল ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকায় (ট্রলার) পিকনিকের উদ্দেশ্যে রাজশাহীতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ অতিক্রম করার সময় তীব্র স্রোতে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের ৫নং পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে নৌকায় থাকা তিনজন নদীতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এসময় মো. লিটন হোসেন (৩৮) ও মো. ওয়াহাবকে (৪৫) জীবিত উদ্ধার করা হলেও মো. রকি হোসেন নিখোঁজ রয়েছেন। ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম বলেন, নৌকা থেকে নদীতে তিনজন পড়ে গিয়েছিল। এদের মধ্যে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। শেখ মহসীন/এফএ