জাতীয়

আগামী সপ্তাহগুলোতে ১৫ জেলায় ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0

ডেঙ্গু ছড়িয়েছে দেশের ৬৪ জেলায়। প্রতিদিন কয়েক শ মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। প্রায় প্রতিদিনই প্রতিরোধযোগ্য এই রোগে মৃত্যু হচ্ছে। সরকার বলছে, সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের শুরুতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপ হবে। তবে অন্তত ১৫ জেলায় সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।

এমন অবস্থায় আজ শনিবার থেকে সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামছে সরকার। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিন মাস ধরে এই কর্মসূচি চলবে বলে জানা গেছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) চার বছরের তথ্য–উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বলেছে, আগামী সপ্তাহগুলোতে ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, পিরোজপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঝালকাঠি, কক্সবাজার, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, বরিশাল, বরগুনা, বান্দরবান ও পটুয়াখালীতে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়বে।

সরকার বলছে, সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের শুরুতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপ হবে। তবে অন্তত ১৫ জেলায় সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও কীটতত্ত্ববিদদের একটি অংশ দেড়–দুই মাস আগে থেকে বলে আসছিলেন যে সেপ্টেম্বর–অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার ঝুঁকি আছে। ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গু বাড়তে শুরু করেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ও অক্টোবরের শুরুর দিকে ডেঙ্গুর ‘পিক’ (সর্বোচ্চ প্রকোপ) সময়টি আসতে যাচ্ছে।

হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী

গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত প্রথম আলোকে বলেন, ‘জনসম্পৃক্ততা ছাড়া ডেঙ্গু মোকাবিলা সম্ভব না। শনিবার প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবন এলাকা থেকে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা ও প্রচার কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তিন–চারটি মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত থাকবে। স্বেচ্ছাসেবক, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের সদস্য, বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এতে অংশ নেবেন।’ তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক শনিবারে এই কাজ হবে, চলবে তিন মাস। এ ছাড়া এই সময় শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার করবে, পরিচ্ছন্ন রাখবে।

জনস্বাস্থ্যবিদেরা মনে করেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এমন উদ্বেগজনক হওয়ার কথা ছিল না। ডেঙ্গু প্রতিরোধযোগ্য। প্রায় একই ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশের জনপদ ঢাকা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা। কলকাতায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আছে।

গত আড়াই দশকে মশা নিয়ন্ত্রণের বিজ্ঞানসম্মত উদ্যোগ না নেওয়ায়, মানুষকে কার্যকরভাবে সচেতন ও সম্পৃক্ত না করায় এই রোগ স্থায়ী জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকায় তথা বাংলাদেশে ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। এর পর থেকে প্রতিবছর এডিস মশাবাহিত এই রোগে মূলত ঢাকা শহরের মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এই রোগ ছিল মূলত ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরের। ২০১৯ সালে প্রথম সারা দেশে এই রোগ ছড়ায়। গত আড়াই দশকে মশা নিয়ন্ত্রণের বিজ্ঞানসম্মত উদ্যোগ না নেওয়ায়, মানুষকে কার্যকরভাবে সচেতন ও সম্পৃক্ত না করায় এই রোগ স্থায়ী জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের সব জেলায় এখন হামের সংক্রমণ চলছে। এ বছর হামে এক হাজারের বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বেশি মৃত্যু হয়েছে শিশুদের। যেসব পরিবারে শিশু আছে, সেসব পরিবারে ডেঙ্গুর পাশাপাশি হাম নিয়েও উদ্বেগ আছে।

পরিস্থিতি কী

পাঁচ দিন ধরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৯ বছর বয়সী জান্নাতুল ফাতেহা। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাকে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসে পরিবার। হাসপাতালের বিছানায় পুতুল নিয়ে শুয়ে আছে সে

গতকালের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মৃত্যু বাড়ছে। জানুয়ারি থেকে মে—এই পাঁচ মাসে মৃত্যু হয়েছিল ৫ জনের। জুন মাসে মৃত্যু হয় ১৩ জনের। পরের মাসে অর্থাৎ জুলাইয়ে মৃত্যু বেড়ে হয় ৩৬। আগস্টে আরও বেড়ে হয় ৪৩। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১১ দিনে মারা গেছেন ৪৪ জন। এ নিয়ে এ বছর ডেঙ্গুতে মারা গেছেন মোট ১৪১ জন।

এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৯ হাজার ২২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দেখা যাচ্ছে, মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন আগের মাসের চেয়ে বেশি। বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু খুলনা বিভাগে।

সরকারি তথ্যে দেখা যাচ্ছে, আক্রান্তের হার পুরুষের বেশি, মৃত্যুর হার নারীর বেশি। এ পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৬২ শতাংশ পুরুষ, বাকি ৩৮ শতাংশ নারী। কিন্তু মৃত ব্যক্তিদের ৫২ শতাংশ নারী, বাকি ৪৮ শতাংশ পুরুষ।

সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মৃত্যু বাড়ছে। জানুয়ারি থেকে মে—এই পাঁচ মাসে মৃত্যু হয়েছিল ৫ জনের। জুন মাসে মৃত্যু হয় ১৩ জনের। পরের মাসে অর্থাৎ জুলাইয়ে মৃত্যু বেড়ে হয় ৩৬। আগস্টে আরও বেড়ে হয় ৪৩। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১১ দিনে মারা গেছেন ৪৪ জন। এ নিয়ে এ বছর ডেঙ্গুতে মারা গেছেন মোট ১৪১ জন।

বিশ্লেষণে কী দেখা যাচ্ছে

আইইডিসিআর ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর কিছু বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে। তারা বলছে, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার কম আছে। ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন, সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যান। ওই বছর আক্রান্ত হয়েছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন, মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন। মৃত্যুহার ছিল শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মৃত্যুহার ছিল যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৪৯ ও শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ বছর ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৃত্যুহার ছিল শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ।

তবে গতকাল পর্যন্ত এ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃত্যুহার সামান্য হলেও বাড়তির দিকে, শূন্য দশমিক ২৯।

আইইডিসিআর এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৭১ জন রোগীর নমুনা বিশ্লেষণ করে বলেছে, ৯১ দশমিক ৫ শতাংশ সংক্রমণ ঘটছে ডেঙ্গুর ডেনভি৩–এর কারণে। বাকি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ সংক্রমণ ঘটাচ্ছে ডেনভি২। বরগুনা ও বান্দরবান জেলায় সংক্রমণ হচ্ছে ডেনভি২–এর কারণে। আর পিরোজপুরে ডেঙ্গুর ধরন ডেনভি২।

রোগতত্ত্ববিদেরা বলেন, ডেঙ্গুর ভাইরাসের চারটি স্ট্রেইন বা ধরন আছে—ডেনভি১, ডেনভি২, ডেনভি৩ ও ডেনভি৪। এর একটি ধরনে আক্রান্ত হলে মানুষের শরীরে সেই নির্দিষ্ট ধরনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে ওঠে। কেউ একবার ডেনভি১ আক্রান্ত হলে তিনি আর কখনো ওই ধরনে আক্রান্ত হবেন না। তবে বাকি তিনটি ধরনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অর্থাৎ একজন মানুষ মোট চারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। প্রথমবার আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার পর দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলে জটিলতা বাড়ে, তৃতীয়বারে জটিলতা ও জীবনের ঝুঁকি আরও বাড়ে।

আইইডিসিআরের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর চারটি ধরনই সক্রিয় আছে।

রোগতত্ত্ববিদেরা বলেন, ডেঙ্গুর ভাইরাসের চারটি স্ট্রেইন বা ধরন আছে—ডেনভি১, ডেনভি২, ডেনভি৩ ও ডেনভি৪। এর একটি ধরনে আক্রান্ত হলে মানুষের শরীরে সেই নির্দিষ্ট ধরনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে ওঠে। কেউ একবার ডেনভি১ আক্রান্ত হলে তিনি আর কখনো ওই ধরনে আক্রান্ত হবেন না। তবে বাকি তিনটি ধরনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

অতীতে পরামর্শ শোনা হয়নি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গু সংক্রমণ ও ডেঙ্গুতে মানুষের মৃত্যু নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ ও আলোচনা–সমালোচনা হলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের আন্তরিকতার অভাব দেখা গেছে। সবচেয়ে বড় অভাব দেখা গেছে কাজের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে। ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশা নিধনের মূল দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। আর ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে মানুষের চিকিৎসার দায়িত্ব স্বাস্থ্য মস্ত্রণালয়ের। জনস্বাস্থ্যবিদেরা অনেক বছর ধরেই বলে আসছেন যে এই দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। কিন্তু সমন্বয় দেখা যায়নি।

ডেঙ্গুর মতো জনস্বাস্থ্য সমস্যাকে উপেক্ষা করার উদাহরণও আছে। ঢাকা শহরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগতত্ত্ববিদ ড. কে কৃষ্ণমূর্তিকে ঢাকায় পাঠিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়ার জন্য। অনেকের সঙ্গে কথা বলে ওই বিশেষজ্ঞ ২২ পৃষ্ঠার একটি পরিকল্পনা দলিল তৈরি করেন। পরিকল্পনার উদ্দেশ্য আক্রান্তের হার ও ডেঙ্গুতে মৃত্যু কমানো। দলিলে রোগতত্ত্ববিদ, কীটতত্ত্ববিদ, অণুজীববিজ্ঞানী, তথ্য–শিক্ষা–যোগাযোগবিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে ‘র‌্যাপিড রেসপন্স টিম’ গঠন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ১২টি মন্ত্রণালয়কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে বলা ছিল। ২০১৯ সালের মধ্যে ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি।

এরপর ২০১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের জ্যেষ্ঠ কীটতত্ত্ববিদ বি এন নাগপালকে ঢাকায় পাঠিয়েছিল মশা বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততার ওপর জোর দিয়ে বি এন নাগপাল তাঁর পরামর্শে বলেছিলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের কর্মীদের মাধ্যমে এডিস মশা কমানো সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশনের কর্মী ঘরের মধ্যে ঢুকতে পারেন না। কিন্তু এ মশা বিশ্রাম নেয় টেবিল-চেয়ারের নিচে, সোফার নিচে, বিছানার নিচে, পর্দার পেছনে, আলমারির পেছনে; অর্থাৎ যেখানে অন্ধকার থাকে। কারণ, এ মশা হাইড্রোফিলিক মশা। এর অর্থ হলো, এ মশা আর্দ৶তা পছন্দ করে। কিন্তু বি এন নাগপালের পরামর্শের বিষয়ে মানুষকে জানানো, মানুষকে সচেতন করার কোনো উদ্যোগ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে নিতে দেখা যায়নি।

ডেঙ্গু একসময় মূলত ঢাকা শহরের রোগ ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। গত কিছুদিন দেখা যাচ্ছে ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি রোগী খুলনা জেলায়। দুই সপ্তাহ আগে বেশি রোগী দেখা গিয়েছিল দক্ষিণের ছোট জেলা পিরোজপুরে। গত বছর হঠাৎ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় বরগুনা শহরে। তবে মশা নিধনের আলোচনা হয় মূলত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ বাকি ১০ সিটি করপোরেশন নিয়ে। দেশের পৌরসভাগুলোতে মশা ও মশার ওষুধ ছিটানো নিয়ে কী হচ্ছে, তা জানা যচ্ছে না। গ্রামাঞ্চলের মশা পরিস্থিতি নিয়ে কোথাও কোনো আলোচনাই নেই। সারা দেশ নিয়ে কর্মসূচি সাজানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্যবিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। তবে সঠিক পরিকল্পনা থাকতে হবে। রেড ক্রিসেন্টকে স্বেচ্ছাসেবক সম্পৃক্ত করার দায়িত্ব দিতে হবে। তিন মাস পরে এই কর্মসূচির মূল্যায়ন করতে হবে। কাজটি দেশজুড়ে সারা বছর ধরে করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত কয়েক বছর তা অব্যাহত রাখতে হবে। মানুষকে বলতে হবে জ্বর হলে অবহেলা নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের কর্মীদের এই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহবান জানানো দরকার।’

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
টিকিট কালোবাজারিতে ৬৮৫ অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ ইউনাইটেডের
টিকিট কালোবাজারিতে ৬৮৫ অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ ইউনাইটেডের

টিকিট কালোবাজারি ও অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত শেষে ৬৮৫ টিকিট অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। একই সঙ্গে ৪৬৪ সমর্থকের শাস্তি কমানো হয়েছে অথবা তাদের চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড জানিয়েছে, ‘ষ্মজুড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এমন কিছু অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনার জন্য একটি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, যেগুলোতে টিকিটের অপব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অস্বাভাবিক কার্যক্রম দেখা গিয়েছিল।’ ক্লাবটির টিকিট ব্যবস্থাপনার মূল নীতি হলো — সমর্থকদের নিরাপদ রাখা, প্রকৃত ইউনাইটেড সমর্থকদের জন্য টিকিট পাওয়ার ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা এবং টিকিট কালোবাজারি, অপব্যবহার ও আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে পরিচালিত কার্যক্রম বন্ধ করা। তদন্তে ক্লাবটি জানতে পেরেছে ১ হাজার ৬১৭ টিকিট অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক কার্যক্রম দেখা গেছে। প্রতিটি অ্যাকাউন্টধারীকে কী ধরনের কার্যক্রম শনাক্ত হয়েছে তা জানানো হয় এবং এর কারণ ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হয়। ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হলে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হবে। যেসব অ্যাকাউন্টে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, সেসব সমর্থক স্বাধীন আপিল প্যানেলের কাছে আবেদন করার সুযোগ পান। ওই প্যানেলে সমর্থকদের প্রতিনিধিত্বও ছিল। সব আপিলের শুনানি শেষে ইউনাইটেড জানায়, প্রাসঙ্গিক তথ্য দেওয়ার পর ৪৬৮টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আরও ২২৬টি অ্যাকাউন্টে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টের তথ্য শুধু শেয়ার করার বাইরে অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলেও, ক্লাব নিশ্চিত ছিল যে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে তা করা হয়নি। আইএন

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের শিল্প-বাজারে বাংলাদেশের নজর

মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের শিল্প-বাজারে বাংলাদেশের নজর

রাজাউল্লাহর ব্যাটে ইংল্যান্ডকে ১৩০ রানের লক্ষ্য দিলো পাকিস্তান

রাজাউল্লাহর ব্যাটে ইংল্যান্ডকে ১৩০ রানের লক্ষ্য দিলো পাকিস্তান

শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাইকে নিয়ে থাকেন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বোন, মানুষ দিলে জোটে খাবার

শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাইকে নিয়ে থাকেন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বোন, মানুষ দিলে জোটে খাবার

একই বৃত্তে ঘুরপাক নারী ক্রিকেটের, সমাধান কী
একই বৃত্তে ঘুরপাক নারী ক্রিকেটের, সমাধান কী

ঘটনাটা তখনো ছিল অবিশ্বাস্য। ২০১৮ সালে ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের এশিয়া কাপ জয় চমকে দিয়েছিল সবাইকেই। অনেক আগে খেলা শুরু করেও ছেলেরা যে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব পায়নি তখনো। পায়নি এখনো। সেই সাফল্যে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে নতুন যুগের সূচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আসলে কি হয়েছে, নাকি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট ঘুরপাক খাচ্ছে একই বৃত্তে?চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের তিনটি এশিয়া কাপের কোনোটির ফাইনালে যেতে পারেনি বাংলাদেশ। সর্বশেষ গত পরশু সেমিফাইনালে বিনা লড়াইয়ে হেরেছে ভারতের কাছে। সামগ্রিকভাবেও বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট খুব একটা এগোয়নি। কারণ খুঁজতে গেলে মেয়েদের ক্রিকেট সংস্কৃতি তো আছেই, ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো, ফিটনেস, প্রতিভা উঠে আসার পথ না থাকা এমন আরও কিছু বিষয় উঠে আসে।এমনিতে মাঠের পারফরম্যান্স বলবে, সবচেয়ে বড় সমস্যাটা ব্যাটিংয়ে। সাফল্য যতটুকু এসেছে, তার বেশির ভাগই বোলারদের হাত ধরে। ব্যাটাররা বেশির ভাগ সময় লড়াই করার পুঁজিও এনে দিতে পারেননি।২০২৩ সালের শুরু থেকে টি–টুয়েন্টিতে বাংলাদেশের ব্যাটাররা টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর বিপক্ষে ইনিংসে দেড় শ রানই করতে পেরেছেন মাত্র দুবার। দুবারই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। ওভারপ্রতি গড়ে ৬ রান তুলতে পেরেছেন, গত তিন বছরে এমন ঘটনাও আছে মাত্র ১৪টি। এর চারটি শ্রীলঙ্কা আর তিনটি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।গত কয়েক বছরে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর বিপক্ষে ব্যাটিং ব্যর্থতা ছিল স্পষ্টব্যাটিংয়ে এই ব্যর্থতার কারণ বলতে গিয়ে নারী দলের প্রধান কোচ সরোয়ার ইমরান বলছেন, ‘আমাদের ওরকম ফিটনেস নেই। আমরা দুই রান নিতে ভয় পাচ্ছি রান আউট হওয়ার ভয়ে। খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি। শুধু ক্যাম্পের আগে এক সপ্তাহ ফিটনেস ক্যাম্প হলে হবে না, আমাদের সারা বছর ফিটনেস নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।’তবে মেয়েদের এই সংকট শুধু জাতীয় দলের নয়, আরও গভীর। জাতীয় দলে ক্রিকেটার উঠে আসার পথটা একরকম বন্ধ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ঘরোয়া ক্রিকেটে মেয়েদের সর্বশেষ টুর্নামেন্ট হয়েছে প্রায় এক বছর আগে, গত ডিসেম্বরে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগও হয়নি জাতীয় দলের ব্যস্ততায়।নির্বাচকদের ক্রিকেটার খুঁজে বের করার কাজটা তাই কঠিন হয়ে গেছে আরও। জাতীয় দলের বাইরে ওই অর্থে খেলাই নেই। যাঁরা একবার জাতীয় দলে ঢুকে যান, তাঁদেরই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলানো ছাড়া উপায় থাকে না তাই। আবার এ কথাও সত্যি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন, এমন ক্রিকেটারের সংকট থাকায় জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজনও কঠিন।তাহলে সমাধান কী? নারী দলের প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদের চাওয়া ছেলেদের মতো বছরব্যাপী মেয়েদের ক্রিকেটেও হাই পারফরম্যান্স ক্যাম্প, ‘আমাদের পাইপলাইনটা যেভাবে তৈরি করা দরকার, সেটা করার সময় এসেছে এখন। এইচপিটা আমাদের খুব জরুরি দরকার।’বিসিবি এখন ছেলেদের জন্য বছরব্যাপী এইচপি প্রোগ্রামের আয়োজন করছে। যেহেতু ঘরোয়া টুর্নামেন্টের বাস্তবতা বদলানো কঠিন, তাদের তত্ত্বাবধানেই আলাদা কোচিং স্টাফ দিয়ে মেয়েদের এইচপি চালানোকে আপাতত সমাধান হিসেবে দেখছেন সাজ্জাদ।তেমন হলে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ওপরও পারফরম্যান্স করার চাপ বাড়বে বলে বিশ্বাস তাঁর, ‘আমাদের মেয়েদের এখন যে সমস্যা, তা আসলে ব্যর্থতার ভয়। যখন ভালো একটা এইচপি হবে, তখন তারা চাপে পড়বে, তখন তা হয়ে যাবে সুযোগ না পাওয়ার ভয়। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে, হচ্ছে না। হয়তো পেছনে যখন আরেকজন আসবে, তখন তারা হয়তো আউট অব দ্য বক্স কিছু চেষ্টা করবে।’নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানাবিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, এশিয়ান গেমসের পর মেয়েদের ক্রিকেটে বেশ কিছু বদল আসতে যাচ্ছে। কোচিং স্টাফ, অধিনায়ক—সবকিছুরই পর্যালোচনা হবে। এখন পুরোপুরি স্থানীয় কোচিং স্টাফ থাকলেও আবার ফিরতে পারেন বিদেশিরা।অধিনায়ক নিগার সুলতানাকে বদলানোর ভাবনা যদিও আপাতত নেই। নারী ক্রিকেটের ইতিহাসের সেরা ব্যাটার, অধিনায়ক ও উইকেটকিপার হিসেবে তাঁকে সম্মান দিতে চায় বিসিবি। তবে তিনি নিজে থেকে সরে দাঁড়ালে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে সহ–অধিনায়ক নাহিদা আক্তারের সঙ্গে ভাবনায় আছেন সোবহানা মোস্তারিও।তবে এসব নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি নারী উইংয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম, ‘এখন আমি কোনো কিছু বললে তা দলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এশিয়ান গেমস খেলে আসার পরে আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’আবারও সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হার বাংলাদেশের

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
অসমাপ্ত ঝগড়াগুলো

অসমাপ্ত ঝগড়াগুলো

‘খেতে বসলেই ভাবি, আসলে কী খাচ্ছি’

‘খেতে বসলেই ভাবি, আসলে কী খাচ্ছি’

ঢাকার বায়ুর মান আজ অস্বাস্থ্যকর

ঢাকার বায়ুর মান আজ অস্বাস্থ্যকর

গণপতি পরিবার হত্যা: বিচার বিভাগীয় তদন্তের রিটের শুনানি ৮ সপ্তাহ মুলতবি
গণপতি পরিবার হত্যা: বিচার বিভাগীয় তদন্তের রিটের শুনানি ৮ সপ্তাহ মুলতবি

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য এবং আলামত নষ্টের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানি আট সপ্তাহের জন্য (স্ট্যান্ডওভার) মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট। গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজহার উল্লাহ ভূইয়া ও চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। এর আগে জনস্বার্থে গত ৩০ আগস্ট রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী মোস্তফা কামাল ও শেখ গোলাম কিবরিয়া। তাদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন হাসান আল মামুন। রিট দায়েরের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী নিজে। রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সিআইডি প্রধান, পিবিআই মহাপরিচালক, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রংপুরের পুলিশ সুপার, কোতোয়ালি থানার ওসি এবং রংপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। শুনানি শেষে আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, আদালত মৌখিকভাবে বলেছেন, যেহেতু মামলাটি সিআইডি বা ডিবির কাছে গেছে, আদালতও বিষয়টি দেখছে এবং সুপারভিশনে থাকবে। তদন্তের সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখতে রিটটি আট সপ্তাহের জন্য (স্ট্যান্ডওভার) মুলতবি রাখা হয়েছে। আরও পড়ুন যেভাবে হত্যা করা হয় শিক্ষক পরিবারের চারজনকে রংপুর মহানগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়াপাড়া বা দাসপাড়ার বাসা থেকে গত ২২ আগস্ট অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী আয়ুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুজনকে গ্রেফতার করে। রিট আবেদনে বলা হয়, হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশ ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের বক্তব্যে নানান অসঙ্গতি রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও পৃথক সময়ে দেওয়া বক্তব্যে হত্যার স্থান ও ঘটনাক্রমে পরিবর্তন এসেছে। এসব কারণে ঘটনাটি নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন, সন্দেহ ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৩ আগস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়, ২৭ আগস্টের বক্তব্যে হত্যার স্থান ও ঘটনাক্রমে পরিবর্তন আসে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল অপরাধস্থল হিসেবে বিবেচিত হওয়ার পর সেখানে পানির পাম্প চালানোর অভিযোগও ওঠে। রিটে দাবি করা হয়, পানির প্রবাহের কারণে ঘটনাস্থলে থাকা রক্ত, ডিএনএ, আঙুলের ছাপ, পায়ের ছাপসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত ক্ষতিগ্রস্ত বা দূষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আলামত নষ্ট, পরিবর্তন, গোপন, সরিয়ে নেওয়া বা দূষিত হলে ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। আরও পড়ুন বাবা-মা-বোনকে আগেই হত্যা, তখনো প্রিয়ম জানতো না এবার তার পালা একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস এবং এতে জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে রিটে বলা হয়, ঘটনার প্রকৃতি, উদ্দেশ্য, ঘটনাক্রম এবং প্রকৃত জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত প্রয়োজন। এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টের সাবেক বা বর্তমান কোনো বিচারপতি অথবা উপযুক্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার নেতৃত্বে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। ওই কমিটিতে ফরেনসিক, চিকিৎসা, সাইবার ফরেনসিক ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ রাখারও আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া রুলের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থল সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা এবং কোনো ধরনের পরিবর্তন, পরিষ্কার, ধোয়া, মেরামত, অপসারণ বা আলামত সরানো থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত রাখার অন্তর্বর্তী নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। গত ২০ আগস্ট দিনগত রাতে রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাদের দুই সন্তান আগামী চক্রবর্তী ও প্রিয়ম চক্রবর্তী আয়ুষকে হত্যা করা হয়। পরে ২২ আগস্ট রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এফএইচ/কেএসআর

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
বন ও পাহাড়খেকোদের থামাতেই হবে

বন ও পাহাড়খেকোদের থামাতেই হবে

ইউনিসেফে ইন্টার্নশিপ, আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থী ও সদ্য স্নাতকেরা

ইউনিসেফে ইন্টার্নশিপ, আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থী ও সদ্য স্নাতকেরা

শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ নেই

শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ নেই

0 Comments