ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ‘সিনিয়র ম্যানেজার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই স্নাতক অথবা সমমান ডিগ্রিধারী হতে হবে।
| তথ্যের ধরন | বিবরণ |
| প্রতিষ্ঠানের নাম | ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি |
| বিভাগের নাম | ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি অডিট, আইসিসি |
| পদের নাম | সিনিয়র ম্যানেজার |
| পদসংখ্যা | নির্ধারিত নয় |
| চাকরির ধরন | বেসরকারি, ফুল টাইম |
| প্রার্থীর ধরন | নারী-পুরুষ |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | স্নাতক অথবা সমমান |
| অভিজ্ঞতা | ৮-১০ বছর |
| বেতন ও অন্যান্য সুবিধা | আলোচনা সাপেক্ষে |
| বয়সসীমা | নির্ধারিত নয় |
| সূত্র | বিডিজবস ডটকম |
আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি।
এমআইএইচ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় নিখোঁজের সাত মাস পর এক শিশু (১২) বাড়ি ফিরেছে। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার দুই পা স্বাভাবিক ছিল। তবে বাড়ি ফেরার পর দেখা গেল শিশুটির একটি পা কাটা।গতকাল রোববার ভোরে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়। এরপর তার পরিবারের লোকজন তাকে বাড়ি নিয়ে আসে। শিশুটির অভিযোগ, একটি চক্র ভিক্ষাবৃত্তি করানোর জন্য তার পা কেটে ফেলেছে।ওই শিশু লোহাগাড়ার চুনতি ইউনিয়নের বাসিন্দা। সে ওই এলাকার একটি মাদ্রাসার হিফজখানায় পড়ত। বর্তমানে সে তার চাচার আশ্রয়ে রয়েছে।শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছর ৯ ফেব্রুয়ারি ১০০ টাকা সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে অভিমান করে বের হয়ে যায় সে। পরে ওই দিনই নির্বাচনী প্রচারণার একটি ট্রাকে করে সে কক্সবাজার চলে যায়। এই ট্রাকে তাকে কোনো ভাড়া দিতে হয়নি। কক্সবাজার গিয়ে পর্যটকদের কাছ থেকে টাকা চেয়ে নিয়ে তা দিয়ে খাবার কিনত সে। রাত হলে সৈকতেই ঘুমিয়ে থাকত। এভাবেই প্রায় দুই মাস কাটে তার।শিশুটি জানায়, একদিন এক পর্যটক তাকে ঢাকা গেলে বেশি টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। পরে সে ওই পর্যটকের সঙ্গে বাসে ঢাকা চলে যায়। ঢাকা গিয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পানি ও শরবত বিক্রির কাজ করত। বিনিময়ে তিন বেলা খাবার এবং স্টেশনের পাশে একটি ঘরে থাকার সুযোগ দিত একটি চক্র। এভাবে এক মাস কাটার পর একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখে সে হাসপাতালে। আর তার ডান পা কাটা।শিশুটির অভিযোগ, তাকে জানানো হয় সে ট্রেনে কাটা পড়েছে। এ কারণে তার পা কাটতে হয়েছে। তবে পরে সে বুঝতে পেরেছে ভিক্ষাবৃত্তি করতেই তার পা কেটে ফেলা হয়েছে। প্রায় দুই মাস তাকে হাসপাতালে রাখা হয়। দুই মাস পর তাকে একটি হুইলচেয়ার দেওয়া হয়। ওই হুইলচেয়ারে করেই সে কমলাপুর এলাকায় ভিক্ষা করত। ভিক্ষা করে পাওয়া টাকাও ওই চক্রটি নিয়ে যেত।কীভাবে বাড়িতে এসেছে জানতে চাইলে শিশুটি বলে, গত শনিবার রাতে তাকে ওই চক্রের এক ব্যক্তি ৩৫০ টাকা দিয়ে লোহাগাড়ার চুনতির একটি ধর্মীয় মাহফিলে যেতে বলে। ওই ব্যক্তিই তাকে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের একটি বাসে তুলে দিয়েছে। এরপর ওই বাসে করে সে লোহাগাড়ার চুনতি এলাকায় এসেছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল ভোরে চুনতি এলাকার ওই মাহফিলে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে শিশুটিকে শনাক্ত করেন তার বাবা।শিশুটির বাবা পেশায় দিনমজুর। শিশুটির মায়ের সঙ্গে বাবার বিচ্ছেদ হয়েছে। বর্তমানে মা-বাবার আলাদা সংসার রয়েছে। বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার আগে শিশুটি তার সৎমায়ের সঙ্গে থাকত।আজ সোমবার সকালে শিশুটির চাচার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাকে দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এসেছেন। কীভাবে শিশুটি নিখোঁজ হলো, কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, এটি নিয়েই চলছে সবার মধ্যে আলোচনা।জানতে চাইলে শিশুটির চাচা প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন খবর দেওয়ার পর সেখানে গিয়ে দেখি, তার (শিশুটির) ডান পা কাটা। তার পেটের ডান পাশে ও পেছনে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। তাকে সুস্থ অবস্থায় ঢাকায় নিয়ে গিয়ে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।’শিশুটির চাচা আরও বলেন, ‘ও নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। তাকে একদিন খুঁজে পাব, সেটা প্রত্যাশা ছিল। তবে এভাবে পাব, সেটা কখনো ভাবিনি। ঢাকায় যাওয়ার পর তার ডান পা কেটে দেওয়া হয়েছে। কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল, কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, সবকিছু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’পুলিশ জানায়, শিশুটি নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো জিডি করা হয়নি। এ কারণে নিখোঁজের বিষয়ে তারা অবগত ছিল না। গতকাল শিশুটির বাবা লোহাগাড়া থানায় গিয়েছিলেন। তবে ঘটনা ঢাকায় ঘটার কারণে তাঁকে ঢাকায় গিয়ে অভিযোগ করতে বলে পুলিশ।জানতে চাইলে লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভুক্তভোগীর বাবা থানায় এসেছিলেন। যেহেতু ঘটনাটি লোহাগাড়ায় ঘটেনি বলে জানা গেছে, তাই তাঁকে ঘটনাস্থল মতিঝিল থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিশুটির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ঢিমেতালের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার জন্য একটি বহুপক্ষীয় বৈঠক স্থগিত করার কথা আজ সোমবার জানিয়েছে ওমান। ইরান আর উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য শক্তিগুলোর মধ্যে আজ এ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।এরই মধ্যে এ অঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল পরিবহণপথের (রুট) আশপাশে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আগে থেকে থাকা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। আজ বাজার খোলার পর জ্বালানি তেলের দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।মুখোমুখি লড়াইয়ে হুতি ও সরকারি বাহিনী, সৌদিতেও হামলাবিশ্বে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল রপ্তানি করে সৌদি আরব। এখন দেশটি থেকে জ্বালানি পণ্যটির রপ্তানি নিয়েও শঙ্কা বেড়েছে। গত শুক্রবার সৌদি আরবে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা হয়। সপ্তাহান্তে পাইপলাইনটি পুরোপুরি বন্ধ ছিল।ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সায়িদ বদর আলবুসাইদি গতকাল রোববার রাতে জানান, সোমবারের আঞ্চলিক বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। ‘ঐকমত্যের স্বার্থে’ আপাতত এ বৈঠক হচ্ছে না। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন ঘোষণায় অদূরভবিষ্যতে কূটনৈতিক সমঝোতার আশা আরও ফিকে হয়ে এসেছে।ইরানের কর্মকর্তারা জানান, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকটিতে তাঁরা অংশ নেবেন। ওই বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে ওমানের সঙ্গে করা একটি চুক্তি তুলে ধরার কথা ছিল।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র ইরানের ফারস নিউজকে বলেন, এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশের অনুরোধে ওমানে অনুষ্ঠেয় বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত তেহরান ও মাসকাট যৌথভাবে নিয়েছে। ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে বৈঠকের নতুন তারিখ ঠিক করা হবে।সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পরপর ইরানের সঙ্গে প্রতিবেশীদের বৈঠক স্থগিতের খবর পাওয়া গেল। আপাতত বন্ধ থাকা এ পাইপলাইন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে নতুন করে হামলা, তেল সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা বাড়ছেজ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গতকাল যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলার সময় একটি জাহাজে অজ্ঞাতবস্তু (ক্ষেপণাস্ত্র/ড্রোন) আঘাত হেনেছে। জাহাজটিতে আগুন ধরে গেছে। এর পরপরই জাহাজের নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়।ইরান জানিয়েছে, দেশটির উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালিতে থাকা একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন। চার নাবিক আহত হয়েছেন।মানদেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি হুতিদের
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে এক নারীর গলা থেকে সোনার চেইন ছিনিয়ে পালানোর সময় রফিকুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে ট্রাফিক পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় এক ভরি ওজনের সোনারা চেইন উদ্ধার করা হয়। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ী মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া( মো. আকতার হোসেন জানান, ওই সময় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। তারা দেখতে পান এক ব্যক্তি এক নারীর গলা থেকে সোনার চেইন টান দিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছেন। বিষয়টি দেখে পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করেন। পরে আটক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া প্রায় এক ভরি ওজনের সোনার চেইনটি উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। টিটি/জেএইচ