ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির। অভিনয়ের পাশাপাশি তার রূপ ও ফ্যাশনেও মুগ্ধ ভক্তরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতই নিজের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেন এই অভিনেত্রী। এবার অরেঞ্জ গাউনে তোলা একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করে ফের নজর কাড়লেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঁচটি ছবি প্রকাশ করেন সাফা কবির। ছবিতে তাকে দেখা যায় কমলা রঙের স্লিভলেস গাউনে। বিভিন্ন পোজে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন অভিনেত্রী।
ডে-লাইট ইনডোর আবহে তোলা ছবিগুলোতে সাফার সাজে ছিল স্নিগ্ধতার ছোঁয়া। হালকা মেকআপ, স্বাভাবিক অভিব্যক্তি আর স্টাইলিশ পোশাকে তাকে বেশ আকর্ষণীয় দেখাচ্ছিল।
ছবি প্রকাশের পরপরই ভক্ত-অনুরাগীদের প্রশংসায় ভরে ওঠে তার মন্তব্যের ঘর। নেটিজেনদের অনেকেই সাফার রূপ ও স্টাইলের প্রশংসা করেছেন। কেউ ভালোবাসা জানিয়েছেন, কেউ আবার মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন নানা মন্তব্যে।
নাটক, টেলিফিল্ম ও ওটিটি; সব মাধ্যমেই নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন সাফা কবির। অভিনয়ের পাশাপাশি মডেলিংয়েও ব্যস্ত তিনি। বিভিন্ন সময় ফটোশুট ও ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এই অভিনেত্রী।
অরেঞ্জ গাউনের নতুন ছবিগুলোতেও তার সেই পরিচিত গ্ল্যামার ও স্বাভাবিক সৌন্দর্যের ঝলকই দেখা গেল।
এলআইএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আন্দোলন শুরু হলে তিনি ছাত্রলীগ থেকে সরে এসে আন্দোলনে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন এবং পরবর্তীতে জাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভিপি নির্বাচিত হন। চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি বিএনপিতে যোগ দিলেও তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টতার বিতর্ক এখনো কাটেনি। সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীদের নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা, এক কর্মীকে আটকের পর ছেড়ে দিতে তদবির এবং কথোপকথনে ছাত্রলীগ কর্মীদের প্রতি নিজের প্রভাবের ইঙ্গিত দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় তার বর্তমান রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসাদুল আলম শেখকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল থেকে আটক করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। হল প্রশাসনের উপস্থিতিতে তার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ মেলে। এর মধ্যে জাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভিপি জিতুর সঙ্গে তার একটি চ্যাটও পাওয়া যায়। সেখানে আসাদুলকে উদ্দেশ করে জিতু লেখেন, ‘আমি ভিপি হওয়া মানে তুই ভিপি, তোরা ভিপি—একটু মাথায় রাখিস। কোনো কারণে হেরে গেলে তোদেরও ঝামেলা হবে পরবর্তী সময়ে।’ অন্য একটি চ্যাটে তিনি লেখেন, ‘আসাদ, তুই নির্বাচনটা করলে ঝামেলায় পড়বি। আমাকেই নিয়ে এত কিছু শুরু করছে, তাহলে ভাব তোর কী হবে।’ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও জিতুর সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। এছাড়া আসাদুল আলম উপাচার্যকে নিয়ে একটি মিথ্যা সংবাদ প্রচার করলে ক্যাম্পাসে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সে সময় ভিপি জিতু নিজেই আসাদুলকে নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে, গত ৫ আগস্ট আল-বেরুনী হল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে একই ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান আবীরকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে জাকসু ভিপি জিতুর তদবিরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ফেসবুক পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানানোর বিষয়টি আবীর স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পর, জিতু তাকে ক্ষমা করে দিয়ে মুচলেকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এ সময় ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় ছাত্রশক্তির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, আসাদুলের সঙ্গে জিতুর কথোপকথন তার রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। জাকসু নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের শেল্টার দিচ্ছেন অভিযোগ করে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। ছাত্রত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রায় পাঁচ মাস আল-বেরুনী হলে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছিল ভিপি জিতুর বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী ছাত্রত্ব শেষ হলে হলে থাকার বৈধতা না থাকলেও, জিতু দাবি করেন জাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের স্বার্থে এ বিষয়ে প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে, আল-বেরুনী হল-সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে জিতুর নামে প্রায় ২৬ হাজার টাকা বকেয়া থাকার অভিযোগ উঠেছে। দোকানদারের দাবি, বারবার তাগাদা দিলেও তিনি তা পরিশোধ করেননি। এছাড়া গত ৫ আগস্ট আল-বেরুনী হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত তিন নেতাকে গালিগালাজ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি নয়াপল্টনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে বিএনপিতে যোগ দেন জাকসু ভিপি জিতু। ওই অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে জাকসুর হল সংসদের সাতজন ভিপি, তিনজন জিএস এবং একজন এজিএসও ছাত্রদলে যোগ দেন। বিএনপিতে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিবর্তন আনলেও তার অতীত ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টতা এবং পরবর্তী যোগাযোগ নিয়ে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে। জাবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক, ছাত্রদল থেকে বিএনপিতে যুক্ত হওয়া ভিপি জিতুকে নিয়ে বক্তব্য দিতে নাকচ করেন। তিনি বলেন, জিতু ছাত্রদলের নন; তিনি বিএনপির মূল দলে যুক্ত। তাই এ বিষয়ে দলের মূল নেতৃত্বই ভালোভাবে মন্তব্য করতে পারবে। ছাত্রদলের জাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক কে এম রিয়াদ বলেন, ভিপি হিসেবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুতর। প্রশাসনের উচিত ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা সবার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। আর বিএনপিতে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সেটি দলের মূল নেতৃত্ব দেখবে, ছাত্রদল নয়। এসব অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। মো. রকিব হাসান প্রান্ত/কেএইচকে/এএসএম
শাহ আবদুল করিম চলে গেছেন ১৭ বছর আগে। তবু তাঁর গান আজও মানুষের আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বিরহ আর প্রতিবাদের ভাষা। আজ শনিবার বাউলসাধকের মৃত্যুবার্ষিকীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও গানের পঙ্ক্তি পোস্ট করে তাঁকে স্মরণ করছেন অনুরাগীরা। দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে স্মরণানুষ্ঠান ও গানের আয়োজন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিশেষভাবে প্রদর্শিত হবে শাহ আবদুল করিমের জীবন ও কর্ম নিয়ে শাকুর মজিদের প্রামাণ্যচিত্র ‘ভাটির পুরুষ’। রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে দৃশ্য কারখানার কার্যালয়ে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চলবে প্রদর্শনী। শেষে নির্মাতার সঙ্গে থাকবে প্রশ্নোত্তর পর্ব। প্রামাণ্যচিত্রের পর্দায় আজ আবার ফিরে আসবে কিংবদন্তি এই বাউলসাধকের জীবন ও সংগীতযাত্রা। তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের শেষ অধ্যায়টি ছিল বিষাদময়। জীবনের শেষ কয়েকটি দিন শাহ আবদুল করিমের কেটেছিল হাসপাতালের বিছানায়। ২০০৯ সালের আগস্ট থেকে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। ৩ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা ও অক্সিজেন দেওয়ার পর তাঁকে সিলেটের নূরজাহান জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা চার দিন চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থও হয়ে উঠেছিলেন।তত দিনে তাঁর স্মৃতিশক্তি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। একমাত্র ছেলে শাহ নূরজালালসহ হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া অন্যদের ভালোভাবে চিনতে পারতেন না। কথাও বলতে পারতেন না স্পষ্টভাবে। যাঁর ভরাট কণ্ঠের গান শুনতে লাখো মানুষের আসরে নেমে আসত পিনপতন নীরবতা, শেষ দিনগুলোয় সেই মানুষটিকেই কথা বলতে হয়েছে ইশারা-ইঙ্গিতে।৯ সেপ্টেম্বর কিছুটা খাওয়াদাওয়া করেছিলেন শাহ আবদুল করিম। ধীরে ধীরে কথাও বলছিলেন। একপর্যায়ে গান শুনতে চান। তাঁর শিষ্য বশিরউদ্দিন সরকার তখন নিজের লেখা একটি গান শোনান: ‘কী খেলা খেলতেছেন বাবা করিম শায়/ গাড়ি চলে না চলে না বলে চালাচ্ছেন মৌলায়।’ গানটি শুনে হেসেছিলেন করিম।এরপর বশিরউদ্দিন গেয়ে শোনান তাঁর ওস্তাদেরই লেখা ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইল’। এবার শাহ আবদুল করিমের চোখ বেয়ে পানি ঝরতে থাকে। উপস্থিত ব্যক্তিরা এমন গান শোনানোর জন্য বশিরউদ্দিনকে দোষারোপ করলে করিম ইশারায় তাঁদের থামিয়ে দেন।১৯৮৫ সালে শাহ আবদুল করিমের শিষ্যত্ব নেওয়া বশিরউদ্দিন সেই দিনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেছিলেন, হাসি-কান্নার পর তাঁর ওস্তাদ একেবারে নির্লিপ্ত হয়ে পড়েন। আর কোনো কথা বলেননি, কেবল ইশারায় কিছু বোঝানোর চেষ্টা করতেন। গান শোনানোর ফাঁকে একবার হাত মুঠো করে প্রতীকী কিছু তাঁর হাতে দিয়ে বলেছিলেন, ‘তোমার ঠেখন নাই’, অর্থাৎ তুমি কোথাও আটকাবে না। শিষ্যও হাত পেতে সেই অদৃশ্য আশীর্বাদ গ্রহণ করে পকেটে রাখার ভঙ্গি করেছিলেন।শাহ আবদুল করিম। ছবি : সংগৃহীতশাহ আবদুল করিমের প্রধান শিষ্যদের একজন বাউলশিল্পী আবদুর রহমান। ১৯৭৭ সালে করিমের শিষ্যত্ব নেওয়া রহমানকে আদর করে তিনি ডাকতেন ‘রহমান সাধু’। হাসপাতালে ওস্তাদের শেষ দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে আবদুর রহমান জানিয়েছিলেন, করিম কথা বলতে চাইতেন, কিন্তু তাঁর কণ্ঠ এতটাই অস্পষ্ট ছিল যে কিছু বোঝা যেত না। পরিচিতজনদের কাছে ডেকে ইশারায় বলতেন, ‘কই বেটাইন, তোমরা কই? মানুষ আনো, গফ করি। আর দরজাটা লাগাও।’এমনিতেই স্বল্পাহারী ছিলেন শাহ আবদুল করিম। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর খাওয়াদাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। অল্প পরিমাণে মান্ডাড়ি-চাল পিষে তরল করে তৈরি খাবার ও ফলের রস খেতেন। শোল মাছ ও রসগোল্লা ছিল তাঁর প্রিয়। কিন্তু শেষ দিনগুলোয় সেসবের কথাও ইশারায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।১১ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। ঘন ঘন শ্বাস নিতে শুরু করেন। ছেলে শাহ নূরজালাল চিকিৎসক ডাকতে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলে শাহ আবদুল করিম ইশারায় আবদুর রহমানকে কাছে ডাকেন। শিষ্য তাঁকে জড়িয়ে ধরলে অস্পষ্ট স্বরে কিছু একটা বলেন এবং ধীরে ধীরে হাত তুলে তাঁর মুখে বুলিয়ে দেন। আবদুর রহমানের ধারণা, ওস্তাদ তাঁকে বলেছিলেন, ‘যাও, মানুষে তোমারে মায়া করবনে।’শাহ আবদুল করিমকে নিয়ে কালিকাপ্রসাদের স্মৃতিচারণাচিকিৎসকেরা এসে শাহ আবদুল করিমকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেন। বলা হয়েছিল, পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আগে তাঁর অবস্থার উন্নতি বা অবনতি সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। কিন্তু সেই সময় আর পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে ১০ দিন কাটানোর পর ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে ৯৩ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন গণমানুষের এই শিল্পী।মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালের সামনে জড়ো হন অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী। কেউ কাঁদছিলেন, কেউ তাঁরই গান গেয়ে জানাচ্ছিলেন বিদায়। মরদেহ নেওয়া হয় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে বাউলশিল্পীরা তাঁর গান গেয়ে ‘শোকগাথা’ নিবেদন করেন। পরে সিলেট ও দিরাইয়ে জানাজা শেষে কালনী নদী পেরিয়ে মরদেহ নেওয়া হয় উজানধল গ্রামে। ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্ত্রী সরলার কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে জন্ম শাহ আবদুল করিমের। অভাবের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা হয়নি। শৈশবে গরু চরিয়েছেন, মুদিদোকানেও কাজ করেছেন। তবে ২০ বছর বয়স হওয়ার আগেই হাওরাঞ্চলে শিল্পী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। পরবর্তী সাত দশক কেচ্ছা, মালজোড়া, বাউল ও গণসংগীতকে প্রাণবান রেখেছেন তিনি।শাহ আবদুল করিমের লেখা গানের সংখ্যা প্রায় ৫০০। ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘বসন্ত বাতাসে’, ‘গাড়ি চলে না’, ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইল’, ‘বন্ধে মায়া লাগাইছে’সহ অসংখ্য গান এখন মানুষের মুখে মুখে। দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গান দিয়ে হাওরের মানুষকে জাগিয়েছেন তিনি। সাধনপথের পথিক হয়েও তাঁর গানজুড়ে ছিল অসাম্প্রদায়িকতা, মুক্তচিন্তা ও ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের কথা।
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক গোলাগুলির পর সবাইকে সতর্ক থাকতে মাইকিং করেছেন সাধারণ রোহিঙ্গারা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উখিয়ার হাকিম পাড়া ও জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে। জামতলী ক্যাম্পের বাসিন্দা রহমত উল্লাহ বলেন, ক্যাম্পে শনিবার দিবাগত রাতে সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা হঠাৎ গুলি করে। গুলির শব্দে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পরে মাইকিং করে সাধারণ রোহিঙ্গাদেরকে সচেতন ও সতর্ক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যতটুকু জেনেছি রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশন আরএসও সদস্যরা গুলিবর্ষণ করে। কারণ ক্যাম্পের মধ্যে আরএসও এবং আরসা এই দুই গ্রুপ শক্তি দেখাতে প্রায় সময় গোলাগুলি করে। আরেক রোহিঙ্গা মোহাম্মদ আজিজ বলেন, রাতে গোলাগুলির শব্দ শোনার পর মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করা হয়। সেখানে বলা হয় ‘আপনারা সবাই ঘুম থেকে উঠে যান, সবাই নিজ নিজ ঘরের দরজার সামনে সতর্ক হয়ে বসে থাকেন। এখানে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করা হচ্ছে।’ ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি কয়েকদিন যাবৎ চলছিল। হাকিম পাড়া ক্যাম্প হলো আরএসও অধ্যুষিত আর জামতলী আরসা অধ্যুষিত। দুই ক্যাম্প পাশাপাশি। রাতে আরএসওর লোকজন জামতলি ক্যাম্পে আক্রমণের চেষ্টা করে ভয়ভীতি দেখায়। বিশেষ করে আধিপত্য বিস্তারে এসব করছে। তিনি আরও বলেন, দুই গ্রুপের সদস্যদের আটকের চেষ্টা চলছে। এসব সংগঠনের সদস্যদের কাছে ভারী অস্ত্র আছে বলে জেনেছি। এর আগেও জামতলী ও হাকিম পাড়া ক্যাম্পে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। জাহাঙ্গীর আলম/এফএ