শাহ আবদুল করিম চলে গেছেন ১৭ বছর আগে। তবু তাঁর গান আজও মানুষের আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বিরহ আর প্রতিবাদের ভাষা। আজ শনিবার বাউলসাধকের মৃত্যুবার্ষিকীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও গানের পঙ্ক্তি পোস্ট করে তাঁকে স্মরণ করছেন অনুরাগীরা। দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে স্মরণানুষ্ঠান ও গানের আয়োজন।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিশেষভাবে প্রদর্শিত হবে শাহ আবদুল করিমের জীবন ও কর্ম নিয়ে শাকুর মজিদের প্রামাণ্যচিত্র ‘ভাটির পুরুষ’। রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে দৃশ্য কারখানার কার্যালয়ে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চলবে প্রদর্শনী। শেষে নির্মাতার সঙ্গে থাকবে প্রশ্নোত্তর পর্ব।
প্রামাণ্যচিত্রের পর্দায় আজ আবার ফিরে আসবে কিংবদন্তি এই বাউলসাধকের জীবন ও সংগীতযাত্রা। তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের শেষ অধ্যায়টি ছিল বিষাদময়। জীবনের শেষ কয়েকটি দিন শাহ আবদুল করিমের কেটেছিল হাসপাতালের বিছানায়। ২০০৯ সালের আগস্ট থেকে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। ৩ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা ও অক্সিজেন দেওয়ার পর তাঁকে সিলেটের নূরজাহান জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা চার দিন চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থও হয়ে উঠেছিলেন।
তত দিনে তাঁর স্মৃতিশক্তি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। একমাত্র ছেলে শাহ নূরজালালসহ হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া অন্যদের ভালোভাবে চিনতে পারতেন না। কথাও বলতে পারতেন না স্পষ্টভাবে। যাঁর ভরাট কণ্ঠের গান শুনতে লাখো মানুষের আসরে নেমে আসত পিনপতন নীরবতা, শেষ দিনগুলোয় সেই মানুষটিকেই কথা বলতে হয়েছে ইশারা-ইঙ্গিতে।
৯ সেপ্টেম্বর কিছুটা খাওয়াদাওয়া করেছিলেন শাহ আবদুল করিম। ধীরে ধীরে কথাও বলছিলেন। একপর্যায়ে গান শুনতে চান। তাঁর শিষ্য বশিরউদ্দিন সরকার তখন নিজের লেখা একটি গান শোনান: ‘কী খেলা খেলতেছেন বাবা করিম শায়/ গাড়ি চলে না চলে না বলে চালাচ্ছেন মৌলায়।’ গানটি শুনে হেসেছিলেন করিম।
এরপর বশিরউদ্দিন গেয়ে শোনান তাঁর ওস্তাদেরই লেখা ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইল’। এবার শাহ আবদুল করিমের চোখ বেয়ে পানি ঝরতে থাকে। উপস্থিত ব্যক্তিরা এমন গান শোনানোর জন্য বশিরউদ্দিনকে দোষারোপ করলে করিম ইশারায় তাঁদের থামিয়ে দেন।
১৯৮৫ সালে শাহ আবদুল করিমের শিষ্যত্ব নেওয়া বশিরউদ্দিন সেই দিনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেছিলেন, হাসি-কান্নার পর তাঁর ওস্তাদ একেবারে নির্লিপ্ত হয়ে পড়েন। আর কোনো কথা বলেননি, কেবল ইশারায় কিছু বোঝানোর চেষ্টা করতেন। গান শোনানোর ফাঁকে একবার হাত মুঠো করে প্রতীকী কিছু তাঁর হাতে দিয়ে বলেছিলেন, ‘তোমার ঠেখন নাই’, অর্থাৎ তুমি কোথাও আটকাবে না। শিষ্যও হাত পেতে সেই অদৃশ্য আশীর্বাদ গ্রহণ করে পকেটে রাখার ভঙ্গি করেছিলেন।

শাহ আবদুল করিমের প্রধান শিষ্যদের একজন বাউলশিল্পী আবদুর রহমান। ১৯৭৭ সালে করিমের শিষ্যত্ব নেওয়া রহমানকে আদর করে তিনি ডাকতেন ‘রহমান সাধু’। হাসপাতালে ওস্তাদের শেষ দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে আবদুর রহমান জানিয়েছিলেন, করিম কথা বলতে চাইতেন, কিন্তু তাঁর কণ্ঠ এতটাই অস্পষ্ট ছিল যে কিছু বোঝা যেত না। পরিচিতজনদের কাছে ডেকে ইশারায় বলতেন, ‘কই বেটাইন, তোমরা কই? মানুষ আনো, গফ করি। আর দরজাটা লাগাও।’
এমনিতেই স্বল্পাহারী ছিলেন শাহ আবদুল করিম। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর খাওয়াদাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। অল্প পরিমাণে মান্ডাড়ি-চাল পিষে তরল করে তৈরি খাবার ও ফলের রস খেতেন। শোল মাছ ও রসগোল্লা ছিল তাঁর প্রিয়। কিন্তু শেষ দিনগুলোয় সেসবের কথাও ইশারায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
১১ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। ঘন ঘন শ্বাস নিতে শুরু করেন। ছেলে শাহ নূরজালাল চিকিৎসক ডাকতে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলে শাহ আবদুল করিম ইশারায় আবদুর রহমানকে কাছে ডাকেন। শিষ্য তাঁকে জড়িয়ে ধরলে অস্পষ্ট স্বরে কিছু একটা বলেন এবং ধীরে ধীরে হাত তুলে তাঁর মুখে বুলিয়ে দেন। আবদুর রহমানের ধারণা, ওস্তাদ তাঁকে বলেছিলেন, ‘যাও, মানুষে তোমারে মায়া করবনে।’
চিকিৎসকেরা এসে শাহ আবদুল করিমকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেন। বলা হয়েছিল, পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আগে তাঁর অবস্থার উন্নতি বা অবনতি সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। কিন্তু সেই সময় আর পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে ১০ দিন কাটানোর পর ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে ৯৩ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন গণমানুষের এই শিল্পী।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালের সামনে জড়ো হন অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী। কেউ কাঁদছিলেন, কেউ তাঁরই গান গেয়ে জানাচ্ছিলেন বিদায়। মরদেহ নেওয়া হয় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে বাউলশিল্পীরা তাঁর গান গেয়ে ‘শোকগাথা’ নিবেদন করেন। পরে সিলেট ও দিরাইয়ে জানাজা শেষে কালনী নদী পেরিয়ে মরদেহ নেওয়া হয় উজানধল গ্রামে। ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্ত্রী সরলার কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে জন্ম শাহ আবদুল করিমের। অভাবের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা হয়নি। শৈশবে গরু চরিয়েছেন, মুদিদোকানেও কাজ করেছেন। তবে ২০ বছর বয়স হওয়ার আগেই হাওরাঞ্চলে শিল্পী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। পরবর্তী সাত দশক কেচ্ছা, মালজোড়া, বাউল ও গণসংগীতকে প্রাণবান রেখেছেন তিনি।
শাহ আবদুল করিমের লেখা গানের সংখ্যা প্রায় ৫০০। ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘বসন্ত বাতাসে’, ‘গাড়ি চলে না’, ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইল’, ‘বন্ধে মায়া লাগাইছে’সহ অসংখ্য গান এখন মানুষের মুখে মুখে। দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গান দিয়ে হাওরের মানুষকে জাগিয়েছেন তিনি। সাধনপথের পথিক হয়েও তাঁর গানজুড়ে ছিল অসাম্প্রদায়িকতা, মুক্তচিন্তা ও ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের কথা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
শিক্ষার্থীদের বই পড়ার মাধ্যমে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচির মূল্যায়ন পর্বে কৃতিত্ব অর্জনকারী রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুই হাজার ১২০ শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয়ে দিনব্যাপী রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসব চলছে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত বছর রাজশাহী মহানগরের ৪৯টি স্কুলের প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী বইপড়া কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস ও জ্ঞান অর্জনের মূল্যায়ন করা হয়। মূল্যায়ন পর্বে কৃতিত্ব অর্জনকারী ২ হাজার ১২০ শিক্ষার্থীকে এবার পুরস্কৃত করা হয়েছে। তিনটি ক্যাটাগরিতে এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পুরস্কার বিতরণ করা হয় পুরস্কার পাওয়া কাটাখালি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হুমায়া ইয়াসমিন বলেন, ‘আমি এর আগেও তিনটি পুরস্কার পেয়েছি। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এমন উদ্যোগ আমাদের বই পড়ার দিকে ধাবিত করছে। বই পড়ার মাধ্যমে আমরা অনেক নতুন বিষয় জানতে পারছি এবং নিজেদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে পারছি। আমি চাই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এমন উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ুক।’ পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবা বলেন, ‘পুরস্কার পেয়ে আমার খুব ভালো লাগছে। বই পড়ে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। আজকের অনুষ্ঠানে আমার অভিভাবকরাও এসেছেন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এমন উদ্যোগ আমাদের বই পড়তে আরও উৎসাহিত করছে।’ সার্বিক বিষয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যুগ্ম পরিচালক মো. মনির হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ সাধনের জন্য সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। এর মধ্যে বইপড়া কর্মসূচি অন্যতম। বর্তমানে সারাদেশের প্রায় ১ হাজার ৫০০ স্কুলে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই পড়ানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী মহানগরের ৪৯টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আজকের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মূল্যায়ন পর্বে কৃতিত্ব অর্জনকারী তিন ক্যাটাগরির ২ হাজার ১২০ শিক্ষার্থীর হাতে আমরা পুরস্কার তুলে দিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতা বিকাশে বই পড়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নিয়মিত বই পড়ার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী নিজেকে আরও সমৃদ্ধ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।’ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ বই পড়ার পরিবর্তে বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে সময় কাটাচ্ছে। ফলে তাদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার প্রতি আগ্রহী গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের কর্মসূচি আরও বিস্তৃত হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার পরিধি বাড়বে। প্রসঙ্গত, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্বাক্ষরিত আমন্ত্রণপত্রে জানানো হয়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মনকে সুন্দর ও মানবিক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র গত ৪৮ বছর ধরে সারাদেশে বইপড়া কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। প্রতিবছর দেশজুড়ে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি এবং তাদের মননশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। মনির হোসেন মাহিন/কেজে/এএসএম
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হাজিরহাটে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলিত এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা এড়াতে সেখানে দর্শনার্থীদের না যাওয়ার জন্য সতর্ক করে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র স্রোতে হাজিরহাট এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। এতে নদীতীরের সড়ক ও পাউবোর দেওয়া জিওব্যাগের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ঝুঁকিতে পড়ে বেশ কয়েকটি বসতঘর ও কবরস্থান। এরই মধ্যে ভাঙনের আশঙ্কায় কয়েকটি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের স্থাপন করা সাইনবোর্ডে বলা হয়েছে, ‘হাজীরহাটে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। দয়া করে কেউ এ স্থানে ঘুরতে যাবেন না। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদ এ বিষয়ে কাজ করছে। সবাই নির্দেশনা মেনে চলুন।’ তবে ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরও প্রতিদিন অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন। নদীর তীরের খুব কাছাকাছি গিয়ে ভাঙন দেখার পাশাপাশি অনেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন ধরে হাজিরহাট এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ঘর সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।’ ইউএনও বলেন, ‘জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গও এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু এখানে বিভিন্ন দর্শনার্থী ঘুরতে আসছেন। এতে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। মানুষকে সচেতন করার জন্যই সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।’ ইউএনও আরও বলেন, নদীভাঙনকবলিত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। মাহমুদ হাসান রায়হান/এসজেডএইচ/এএসএম
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দ্রুত এবং আকস্মিক অগ্রগতি সামরিক দিক থেকে এক চোখধাঁধানো বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এটিকে বিশ্বব্যাপী যেভাবে সম্পূর্ণ খেলা বদলে দেওয়ার মতো ঘটনা (গেম-চেঞ্জার) হিসেবে চিত্রায়িত করা হচ্ছে, প্রকৃত কৌশলগত হিসাব-নিকাশ কিন্তু কেবল অতটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই আগ্রাসনের মাধ্যমে হুথিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণকে আরও সুসংহত করেছে। তবে বিষয়টি নতুন নয়; ২০২৩ সাল থেকেই তারা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে মার্কিন, ইসরায়েলি ও সম্প্রতি সৌদি আরব সংশ্লিষ্ট জাহাজে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছিল। নতুন এই সামরিক সাফল্য প্রমাণ করেছে যে, ইয়েমেনের বর্তমান সরকারি বাহিনী আপাতত হুথিদের পরাজিত করার মতো অবস্থানে নেই। লোহিত সাগরের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল ও হুদায়দাহের মতো প্রধান বন্দর নগরী দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে এরই মধ্যে বাব আল-মান্দেব প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাগে আনার একটি মারণাস্ত্রে পরিণত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের তীব্র বিমান হামলা এবং সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালির সংকটের আগেই হুথিরা লোহিত সাগরে চরম অস্থিরতা তৈরি করে। হুথি কর্মকর্তা আব্দুল কাদের আল-মুরতাদা বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, সৌদি জাহাজে অবরোধ তো জুলাই মাস থেকেই কার্যকর রয়েছে; তাই বাব আল-মান্দেব সম্পূর্ণ দখলে নেওয়ার আলাদা কোনো প্রয়োজন তাদের ছিল না। তবে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার ও ছোট ছোট কৌশলগত দ্বীপগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ফলে হুথিদের জন্য এখন ছোট পাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করে সহজেই জাহাজে হামলা চালানো, উঠা কিংবা সাগরে মাইন পুঁতে চলাচল অবরুদ্ধ করা আরও সহজ হয়ে গেছে। দক্ষিণ আরব উপদ্বীপের দুই প্রধান চোকপয়েন্ট- হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব- উভয় স্থান থেকেই জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়েছে। কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক অগ্রগতির প্রভাব কেবল নৌপথে হামলা বা তেলের বাজারের অস্থিরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর চেয়ে বড় বাস্তবতা হলো লোহিত সাগরে হুথি সংকট সহজে শেষ হওয়ার নয়। চলতি বছরের শুরুতে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার যখন দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়, তখন ইয়েমেনের হুথি-বিরোধী শিবিরে একধরনের নতুন ঐক্যের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি একটি সমন্বিত সামরিক কমান্ডের কথা বারবার বলছিলেন, যা হুথিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ের আশা জাগায়। এমনকি, উপকূলীয় সমতল অঞ্চলে সৌদি বিমান বাহিনীর শক্তি ব্যবহার করে এক বড় ধরণের অভিযান চালানোর পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছিল, কারণ সেখানকার স্থানীয় জনগণ হুথিদের প্রথাগত সমর্থক ছিল না। কিন্তু চলতি সপ্তাহের শুরুতে সানা’র পূর্বে আল-জাওফে ইয়েমেন সরকারের অর্জিত কিছুটা সাফল্য এক লহমায় ধুলিসাৎ করে দিয়েছে হুথিদের এই ঝটিকা অভিযান। মাসের পর মাস ধরে দেখানো সরকারের কৃত্রিম ঐক্য ভেঙে পড়ে এখন নিজেদের মধ্যে পরাজয়ের কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে। এই অগ্রগতির মাধ্যমে হুথিরা রিয়াদকে খুব স্পষ্ট একটি বার্তা পাঠিয়েছে- ‘ইয়েমেনে আপনাদের মিত্ররা আমাদের হারানোর ক্ষমতা রাখে না।’ ফলে সৌদি আরবকে এখন হুথিদের শর্ত মেনেই সমঝোতায় আসতে হতে পারে। যেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন রিয়াদ কর্তৃক পরিশোধ, ইয়েমেনের তেল-গ্যাস সম্পদের লভ্যাংশ এবং হুথি নিয়ন্ত্রিত বন্দরে বিমান ও জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে সব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার মতো দাবি যুক্ত রয়েছে। ইয়েমেন সরকার নিজেদের পুনর্গঠিত করার আগেই হুথিরা তাদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। এখন সৌদি আরবের সামনে তৈরি হয়েছে এক কঠিন রাজনৈতিক ও সামরিক দ্বিধা। হুথিদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান চালানো যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি হাত গুটিয়ে বসে থাকাও বড় বিপদ ডেকে আনবে। অতীতেও শক্ত অবস্থানে থাকলেই হুথিরা নতুন নতুন শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে। ফলে এখন কোনো সাময়িক চুক্তি হলেও ভবিষ্যতে ইয়েমেন সংকট নতুন করে আবার বিস্ফোরিত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে রিয়াদের নীতি নির্ধারকরা হয়তো বিষয়টিকে ভবিষ্যতে পুষে না রেখে এখনই হুথি সমস্যার মুখোমুখি একটি স্থায়ী চূড়ান্ত সুরাহা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স, বিবিসি এসএএইচ