জাতীয়

আপনার বাচ্চাকে অঙ্কটার সঙ্গে একটু থাকতে দিন

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
আপনার বাচ্চাকে অঙ্কটার সঙ্গে একটু থাকতে দিন
আপনার বাচ্চাকে অঙ্কটার সঙ্গে একটু থাকতে দিন

শিশুদের গ্যাজেট বা স্ক্রিন ব্যবহার নিয়ে আগে থেকেই নানা আপত্তি আছে। অনেক দেশে আইন করে তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে যুক্ত হয়েছে এআইয়ের ব্যবহার। শিক্ষায় এআইয়ের ব্যবহার কীভাবে হবে, এর ইতিবাচক–নেতিবাচক প্রভাব, স্কুলে এআই ব্যবহারের ভবিষ্যৎ নীতিও কেমন হতে পারে, তা নিয়ে লিখেছেন মুনির হাসান

মুনির হাসান

৪ সেপ্টেম্বর সকালে প্রথম আলো হাতে নিয়ে চোখে পড়ল নিউইয়র্কের মেয়রের একটি ঘোষণা। নিউইয়র্ক শহরের সরকারি স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থী আগামী এক বছর এআই ব্যবহার করতে পারবে না। মেয়র জোহরান মামদানি বলছেন, শিক্ষার্থীদের চিন্তা করার ক্ষমতা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক রক্ষাই এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য। এক বছর পর এর প্রভাব মূল্যায়ন করে ঠিক করা হবে স্কুলে এআই ব্যবহারের ভবিষ্যৎ নীতি।

পড়তে পড়তে মনে পড়ল আগস্ট মাসের শুরুতে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ ম্যাথ ও সায়েন্স অলিম্পিয়াডের (বিডিএমএসও) এবারের আয়োজনের সময় অভিভাবকদের সঙ্গে কথোপকথনের কথা। একজন অভিভাবক তাঁর ছেলের গণিতের পারদর্শিতার কথা বলতে গিয়ে বললেন, তাঁর ছেলে যখনই কোনো অঙ্ক সমাধান করতে পারে না, তখন চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে সেটি ‘করে ফেলে’ বটে! বাচ্চাদের অঙ্কও তাহলে এখন চ্যাটজিপিটি করে দিচ্ছে। 

কিন্তু কাজটা কি ঠিক হচ্ছে?  

শিশুরা ভুল না করলে কীভাবে শিখবে

অভিভাবকদের বলেছি, বাচ্চারা যখন কোনো অঙ্ক বা সমস্যা সমাধান করতে বসে, তখন তাদের একটু সময় দিন। না পারলে সঙ্গে সঙ্গে সমাধানটা বলে দেবেন না। এমনকি কীভাবে শুরু করতে হবে, সেটাও সব সময় বলে দেওয়ার দরকার নেই। বাচ্চাকে সমস্যার সঙ্গে একটু থাকতে দিন।

সে হয়তো ভুল করবে। একভাবে চেষ্টা করে হবে না, অন্যভাবে করবে। ছবি আঁকবে, আঙুলে গুনবে। একটা রাস্তা ধরে কিছুদূর গিয়ে বুঝবে, এই পথে হবে না। আবার শুরু করবে। দশ মিনিট পরেও হয়তো উত্তর বের করতে পারবে না।

এমনটা হলে আমাদের বড়দের তখন অস্থির লাগে। মনে হয়, আহা, এইটুকু বুঝতে পারছে না! একটু বলে দিলেই তো হয়।

কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা অন্য রকম। একটা অঙ্কের সঠিক উত্তর বের করাটাই সব সময় শেখা নয়। উত্তর খুঁজতে গিয়ে শিশুটি যে অনুমান করছে, পরীক্ষা করছে, ভুল করছে, ভুলটা বুঝতে পারছে এবং নতুন একটা পথ খুঁজছে—শেখাটা অনেক সময় ঘটছে এই পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যেই।

আজকে নিউইয়র্কের মেয়র মনে করিয়ে দিলেন এআইয়ের সময়ে এ কথাগুলোই নতুন করে জোরেশোরে ভাবতে হবে।

প্রশ্নের সঙ্গে থাকাটা কেন জরুরি 

কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের অনলাইন বাছাই পরীক্ষা ছিল। ইচ্ছা করে আমরা প্রতিটি ক্যাটাগরিতে এমন কিছু সমস্যা রেখেছি, যা কিনা সেই ক্যাটাগরির জন্য প্রযোজ্য নয়। আমরা দেখলাম, অনেক শিক্ষার্থীই এআই ব্যবহার করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিভাবকের সহযোগিতাতেই সেটি হচ্ছে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে কারও কারও ১৫ মিনিট সময়ও লাগেনি!

এত কম সময়ে প্রশ্নগুলো ঠিকমতো পড়া, বোঝা, চিন্তা করা এবং উত্তর দেওয়া সম্ভব কি না, সেটিই একটি প্রশ্ন। মনে করার সংগত কারণ আছে, কোনো কোনো শিক্ষার্থী প্রশ্নের ছবি তুলে এআইকে দিয়েছে এবং পাওয়া উত্তরটি জমা দিয়েছে। প্রথম প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষার সততা নিয়ে। এভাবে বাছাই পরীক্ষা নেওয়া যাবে কী করে? ভবিষ্যতে আমাদের কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে? কিন্তু পরে আমার কাছে তার চেয়েও বড় একটা প্রশ্ন মনে হয়েছে। 

শিশুটি প্রশ্নটির সঙ্গে থাকল কখন?

১৫টি প্রশ্ন থেকে সে হয়তো ১৫টি উত্তর পেয়েছে। কিছু নম্বরও পেয়েছে। কিন্তু প্রশ্নগুলো নিয়ে যদি তাকে ভাবতেই না হয়, তাহলে ওই ১৫টি প্রশ্ন থেকে সে কী শিখল?

বাড়ির কাজে নম্বর বাড়ছে, শেখাও কি বাড়ছে?

সম্প্রতি চীনের একটি বড় গবেষণা এ প্রশ্নটিকে আরও জোরালো করেছে। সেখানে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ২৬ হাজার ৮১১ শিক্ষার্থীর ৩০ মাসের তথ্য গবেষকেরা বিশ্লেষণ করেছেন। দেখা যাচ্ছে, এআই ব্যবহারের পর বাড়ির কাজের নম্বর বেড়েছে ১৮ শতাংশ এবং বাড়ির কাজ করতে সময় কমেছে ৩০ শতাংশ। 

গণিত উৎসবে মন দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে এক শিক্ষার্থী।

কিন্তু ছয় মাসের মধ্যে দেখা যাচ্ছে একই শিক্ষার্থীর মাসিক পরীক্ষায় নম্বর ২০ শতাংশ কমেছে। বলা বাহুল্য পরীক্ষায় এআই ব্যবহারের সুযোগ নেই। চূড়ান্ত পরীক্ষাতেও একই ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পাওয়া গেছে। অর্থাৎ বাড়ির কাজের খাতায় যে উন্নতি দেখা গেছে, তার সবটা শিক্ষার্থীর নিজের শেখায় রূপান্তরিত হয়নি। গবেষণাটি এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি, তবে সতর্ক হওয়ার মতো প্রশ্ন এটি অবশ্যই তুলেছে।

শিক্ষাবিজ্ঞানে প্রোডাক্টিভ স্ট্রাগল বা শেখার জন্য চেষ্টা করা বলে একটি ধারণা আছে। সব চেষ্টা অবশ্যই ফলপ্রসূ নয়। কোনো কিছু না বুঝে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা শেখা নয়। কিন্তু নিজের সামর্থ্যের একটু ওপরে থাকা সমস্যার সঙ্গে লড়াই করা, ভুল করা, ফিডব্যাক পাওয়া, আবার চেষ্টা করা—এ কষ্টটুকু শেখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এআইয়ের একটা বিপদ হলো, চাইলে সে এই মধ্যবর্তী অংশটুকুই নাই করে দিতে পারে। কারণ, সে সরাসরি উত্তর দিতে পারে। মাঝখানে প্রশ্ন বোঝা নেই, অনুমান নেই, ভুল নেই, আবার চেষ্টা করাও নেই। কাজ শেষ। শেখা?

গণিত শেখা নিয়ে একটি গবেষণা

আরেকটি গবেষণার কথা বলা যায়। পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা তুরস্কের নবম থেকে একাদশ শ্রেণির এক হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে
গণিত শেখার একটি গবেষণা করেছেন। শিক্ষার্থীদের তিনটি দলে ভাগ করা হয়।

একটি দল এআই ছাড়া প্রচলিত পথে অনুশীলন করেছে, দ্বিতীয় দল ব্যবহার করেছে চ্যাটজিপিটির মতো এআই। আর তৃতীয় দলকে দেওয়া হয়েছে একটি বিশেষভাবে উন্নয়নকৃত এআই টিউটর, যেটি সরাসরি উত্তর না দিয়ে সংকেত, পাল্টা প্রশ্ন করে। দেখা গেল অনুশীলনের সময় জিপিটি ব্যবহারকারীদের ফল এআই ছাড়াদের তুলনায় ৪৮ শতাংশ ভালো হলেও পরে এআই সরিয়ে পরীক্ষা নিলে তারাই এআই ছাড়াদের চেয়ে ১৭ শতাংশ খারাপ করেছে। অন্যদিকে তৃতীয় গ্রুপটি যারা কিনা এআই টিউটর ব্যবহার করেছে, তাদের ওপর এত নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। এই পার্থক্যটা আগামী দিনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ দুই গবেষণা থেকে বোঝা যাচ্ছে, এআইকে কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এআই কি আমার হয়ে চিন্তা করছে, নাকি আমাকে চিন্তা করতে সাহায্য করছে? প্রথম ক্ষেত্রে এআই খুবই পটু, দক্ষ, উত্তর দেওয়ার মেশিন। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে এটি হয়ে উঠতে পারে একটি দক্ষ টিউটর বা চিন্তার সঙ্গী।

শিশুর কাজ শিশুকেই করতে দিন। তাকে ভাবতে দিন। চিন্তা করতে দিন। এর মধ্যে দিয়েই সে শিখবে।

চিন্তা করার কাজটাও এআইকে দিয়ে দিচ্ছি?

বেশ কিছুদিন আগে করা ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটির) একটি ছোট গবেষণার কথা হয়তো অনেকের মনে আছে। সে গবেষণায় তিনটি দলকে রচনা লিখতে দেওয়া হয়।

একটি দল এলএলএম বা এআই ব্যবহার করেছে, দ্বিতীয় দলটি সার্চ ইঞ্জিন বা গুগল ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে। অন্যদিকে তৃতীয় দলটি কোনো ডিজিটাল টুল ব্যবহার করেনি। রচনা লেখার সময় শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্কের কার্যাবলি লক্ষ করা হয়। দেখা গেল যারা কোনো ডিজিটাল টুলস ব্যবহার করেনি, তাদের মস্তিস্ক অন্যদের তুলনায় সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল। এমনকি এলএলএম ব্যবহারকারীদের নিজেদের লেখা পরে মনে করার ক্ষেত্রেও তুলনামূলক সমস্যা দেখা গেছে।

গবেষণাটি ছোট ও প্রাথমিক বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়তো নেওয়া যায় না। কিন্তু আগের প্রশ্নটিই থেকে যাচ্ছে—কাজ সহজ করতে গিয়ে আমরা কি চিন্তা করার কাজটাও এআইকে দিয়ে দিচ্ছি?

এ ক্রান্তিকালে শুধু শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারের নিয়ম শেখালেই হবে না। শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভূমিকাও নতুন করে ভাবতে হবে। আগে সন্তান একটা অঙ্ক না পারলে হয়তো মা–বাবা পাশে বসে অঙ্কটা করে দিতেন। এখন আরও সহজ। মুঠোফোন বের করে ছবি তুলে এআইকে দিলেই হলো। দুই ক্ষেত্রেই উদ্দেশ্য ভালো। আমরা সন্তানকে সাহায্য করতে চাই। কিন্তু সাহায্য করা আর তার হয়ে কাজটা করে দেওয়া এক জিনিস নয়।

একজন ভালো শিক্ষক সব সময় উত্তরটা বলে দেন না। তিনি হয়তো জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি কীভাবে শুরু করার কথা ভাবছ?’ অথবা বলেন, ‘এই জায়গাটা আরেকবার দেখো।’ কখনো শুধু একটা ধারণা দেন। 

এআইয়ের ব্যবহারও হয়তো তেমন হতে পারে। কোনো অঙ্ক নিয়ে তাকে বলা যায়, ‘উত্তরটা বলে দিয়ো না। আমাকে একটা ধারণা দাও।’ নিজের সমাধান দেখিয়ে বলা যায়, ‘কোথায় ভুল করেছি, শুধু সেটা বলো।’ কিংবা বলা যায়, ‘আমাকে এমন একটা প্রশ্ন করো, যাতে পরের ধাপটা আমি নিজেই বের করতে পারি।’

মূল চ্যালেঞ্জ এআই থেকে দূরে রাখা নয়

শিক্ষার্থীরা এআই ব্যবহার করবে কি না, সেই বিতর্কের সময় সম্ভবত ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে। সে নিউইয়র্কের মেয়র যা–ই বলুন।
তিনি স্কুলে ঠেকাতে পারলেও বাসায় ঠেকাতে পারবেন না। শিক্ষার্থীরা এআই ব্যবহার করছে এবং আরও বেশি করবে—বাড়ির কাজ করবে, বিজ্ঞান শিখবে, অঙ্ক করবে, রচনা লিখবে, প্রোগ্রামিং করবে।

কাজেই আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ এআই থেকে তাদের দূরে রাখা নয়। বরং এআই থাকার পরও চিন্তা করার অভ্যাসটা কীভাবে বাঁচিয়ে রাখা যায়, সেটা নিয়ে ভাবা। 

বিডিএমএসওর সেই অভিভাবকদের কাছে ফিরে যাই। বাচ্চাটি একটা অঙ্ক নিয়ে বসে আছে। পারছে না। ভুল করছে। আঙুলে গুনছে। কাগজে আঁকিবুঁকি করছে। আপনার মনে হচ্ছে একটু বলে দিলেই তো হয়ে যায়।

বলবেন না।

উত্তর পেতে তার একটু দেরি হোক। কারণ, উত্তর পাওয়ার আগের ওই সময়টুকুতেই হয়তো তার আসল শেখাটা হচ্ছে।

বাচ্চাকে অঙ্কটার সঙ্গে একটু থাকতে দিন।

মুনির হাসান প্রথম আলোর পরামর্শক ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সভাপতি

* মতামত লেখকের নিজস্ব

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
নাব্যতা ফিরলেও ফেরি সংকটে অচল চিলমারী-রৌমারী নৌপথ
নাব্যতা ফিরলেও ফেরি সংকটে অচল চিলমারী-রৌমারী নৌপথ

নাব্যতা সংকট কাটাতে খননকাজ শেষ হয়েছে। ফিরেছে ফেরি চলাচলের প্রয়োজনীয় পানির গভীরতাও। নৌপথ সচল রাখতে চলছে সংরক্ষণমূলক ড্রেজিং। কিন্তু নৌপথ প্রস্তুত থাকলেও ফেরি নেই। ফলে নাব্যতা ফিরলেও কুড়িগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ চিলমারী-রৌমারী নৌপথে বন্ধ রয়েছে ফেরি চলাচল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী, পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও ব্যবসায়ীরা। জানা গে‌ছে, গত ১৪ আগস্ট নাব্যতা সংকটের কারণে এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়। সবশেষ ফেরি ‘কদম’ গত ২ সেপ্টেম্বর মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। ফলে বর্তমানে পুরো নৌপথটি ফেরিশূন্য। যানবাহন পারাপারের জন্য এসে ফেরি না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্র জানায়, নৌপথে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে গত ২৫ জুলাই থেকে ড্রেজিং শুরু হয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএসের কারিগরি পরামর্শে চিলমারী ও রৌমারী ঘাট এবং খেরুয়ার চরসংলগ্ন সংকটাপন্ন এলাকায় চারটি কাটার সাকশন ড্রেজার দিয়ে খননকাজ চালানো হয়। সূত্র আরও জানায়, এসব এলাকায় বর্তমানে ফেরি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পানির গভীরতা রয়েছে। পলি জমে আবার নাব্যতা সংকট তৈরি না হয় সে জন্য সংরক্ষণমূলক ড্রেজিংও চলছে। বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের চিলমারী নদীবন্দরের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান বলেন, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নৌপথের সংকটাপন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় গভীরতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে ফেরি চলাচলে কোনো বাধা নেই। এদিকে ফেরি চলাচল দ্রুত শুরু করতে বিআইডব্লিউটিএর পুরকৌশল শাখা (ড্রেজিং বিভাগ) উদ্যোগ নিয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) সমীর চন্দ্র পাল স্বাক্ষরিত চিঠি বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী নদীবন্দরের সহব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) ও এরিয়া ইনচার্জের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ড্রেজিংয়ের পরপরই চ্যানেল সচল রাখা এবং নিয়মিত ফেরি চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তা না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার পলি জমে নাব্যতা সংকট তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। নৌপরিবহণ সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘কুঞ্জলতা’ ফেরির মাধ্যমে চিলমারী নদীবন্দরে ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। পরে একই বছরের ৪ অক্টোবর ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ এবং নভেম্বরে ‘কদম’ ফেরি যুক্ত হয়। তবে সময়ের ব্যবধানে একে একে ফেরিগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনটি ফেরি সরিয়ে নেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ আবারও ফেরিশূন্য হয়ে পড়েছে। ফেরি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিকল্প দীর্ঘ পথে চলাচল করতে গিয়ে বাড়ছে সময় ও জ্বালানি খরচ। বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী নদীবন্দরের ম্যানেজার (বাণিজ্য) আতিক সোহেল আকাশ বলেন, খনন বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী মেরিন অফিসার ও পাইলট বিভাগ পানির গভীরতা পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। ফেরি পাঠানোর জন্যও চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এসএম আশিকুজ্জামান বলেন, ‌‘নাব্যতার কথা আমরা জেনেছি। ফেরি পাঠানোর বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না।’ রোকনুজ্জামান মানু/এসজেডএইচ/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
সাগর-রুনি হত্যায় কারাবন্দি এনামুলের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়নি পিবিআই

সাগর-রুনি হত্যায় কারাবন্দি এনামুলের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়নি পিবিআই

সার চাইতে গিয়ে হলেন আসামি, গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া কৃষক

সার চাইতে গিয়ে হলেন আসামি, গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া কৃষক

জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারকে বিশেষজ্ঞ দল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি, সাড়া মেলেনি: শফিকুর রহমান

জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারকে বিশেষজ্ঞ দল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি, সাড়া মেলেনি: শফিকুর রহমান

লেমুর চুরির ঘটনায় ফেসবুকে যে ব্যাখ্যা দিয়েছে ভারতের বনতারা কর্তৃপক্ষ
লেমুর চুরির ঘটনায় ফেসবুকে যে ব্যাখ্যা দিয়েছে ভারতের বনতারা কর্তৃপক্ষ

গাজীপুরের শ্রীপুরে সাফারি পার্ক থেকে দুটি রিং-টেইলড লেমুর চুরির ঘটনায় ভারতের বনতারা কর্তৃপক্ষের নাম এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার বনতারার ফেসবুক পেজে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে প্রতিষ্ঠানটি।বনতারার অবস্থান ভারতের গুজরাটের জামনগরে। এটি প্রায় সাড়ে তিন হাজার একর জমির ওপর ভারতের শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানির গড়া বন্য প্রাণী উদ্ধার, সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র।সাফারি পার্কে চুরি হওয়া ২ লেমুর ভারতে, ডিএনএ প্রোফাইল না থাকায় জটিলতাবনতারা কর্তৃপক্ষ বলেছে, বাংলাদেশের সাফারি পার্ক থেকে লেমুর চুরির ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর বিষয়ে তারা অবগত হয়েছে। তবে বাংলাদেশের কোনো তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে তারা কোনো নোটিশ বা অনুরোধ পায়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে, তাদের কারও সঙ্গে বনতারার কোনো যোগাযোগ বা লেনদেন হয়নি।বনতারার ভাষ্য, তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা প্রতিটি প্রাণী ভারতের আইন অনুযায়ী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। তাদের কাছে থাকা রিং-টেইলড লেমুরগুলোর সম্পূর্ণ নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের জন্য তারা প্রস্তুত। লেমুরগুলোর পরিচয় বৈজ্ঞানিকভাবে ডিএনএ যাচাইয়ের উদ্যোগকেও তারা স্বাগত জানিয়েছে। আইনসম্মত যেকোনো অনুরোধে পূর্ণ সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে তারা।পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি লেমুর ভারতে নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। তদন্তে প্রাণী দুটির অবস্থান বনতারায় শনাক্ত হওয়ার পর সেগুলো বাংলাদেশ থেকে চুরি যাওয়া লেমুর কি না, তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য ডিএনএ প্রোফাইল চাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। তবে গাজীপুর সাফারি পার্কে ওই দুটি লেমুরের ডিএনএ প্রোফাইল আগে থেকে সংরক্ষণ করা হয়নি। এতে প্রাণী দুটির পরিচয় নিশ্চিত করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ছানাউল্যা পাটওয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের ডিএনএ প্রোফাইল সংগ্রহের সক্ষমতা আছে। বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের ফরেনসিক ল্যাবও আছে। বিষয়টি নিয়ে সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করে খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে (ডিএফও) বলা হয়েছে।মনিরুল এইচ খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ সব প্রাণীর না হলেও মূল্যবান প্রাণীগুলোর অন্তত ডিএনএ প্রোফাইল সংরক্ষণ করা উচিত। লেমুর দুটির ডিএনএ প্রোফাইল আগে থেকে থাকলে বর্তমানে প্রাণী দুটির পরিচয় নিশ্চিত করে দাবি প্রতিষ্ঠা করা সহজ হতো।বন্য প্রাণী চোরাচালান শনাক্ত ও পাচার হওয়া প্রাণী দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ডিএনএ প্রোফাইল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে। একই প্রজাতির অনেক প্রাণী থাকলে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণী কোথা থেকে এসেছে, তা শনাক্ত করতেও এটি কার্যকর।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান প্রথম আলোকে বলেন, সব প্রাণীর না হলেও মূল্যবান প্রাণীগুলোর অন্তত ডিএনএ প্রোফাইল সংরক্ষণ করা উচিত। লেমুর দুটির ডিএনএ প্রোফাইল আগে থেকে থাকলে বর্তমানে প্রাণী দুটির পরিচয় নিশ্চিত করে দাবি প্রতিষ্ঠা করা সহজ হতো।গাজীপুর সাফারি পার্কে থাকা লেমুরগুলো ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্য প্রাণীর সঙ্গে জব্দ করা হয়েছিল। পরে বন বিভাগের নির্দেশে সেগুলো সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। পার্কে থাকা লেমুরের মধ্যে ছানাও জন্ম নেয়। ২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি লেমুর মারা যায়। এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বরে দুটি লেমুর চুরি হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছিলেন পাঁচজন, ঝাঁপ দিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে মারা গেলেন তরুণ

স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছিলেন পাঁচজন, ঝাঁপ দিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে মারা গেলেন তরুণ

‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, সবাই ক্ষমা কইরেন’

‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, সবাই ক্ষমা কইরেন’

বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পরও ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার বিতর্কে জাকসু ভিপি জিতু

বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পরও ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার বিতর্কে জাকসু ভিপি জিতু

চার যুগ পর দখলমুক্ত ফজলুল হক মুসলিম হলের ১০১ নম্বর কক্ষ
চার যুগ পর দখলমুক্ত ফজলুল হক মুসলিম হলের ১০১ নম্বর কক্ষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা ১০১ নম্বর কক্ষ দখলমুক্ত করেছে হল সংসদ। হল সূত্রে জানা যায়, ফজলুল হক মুসলিম হলের মূল ভবনের ১০১ নম্বর কক্ষটি ১৯৮০ সাল বা তারও আগে থেকে দখলে ছিল। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা হল সংসদের উদ্যোগে কক্ষটি দখলমুক্ত করে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। কক্ষটি দখলমুক্ত করার কার্যক্রমে হল সংসদের এজিএস মহসীন উদ্দিন শাফি ও জিএস ইমামুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। হল সংসদের নেতারা জানান, এখন থেকে কক্ষটি হলের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা হবে। হল সংসদ সূত্রে জানা যায়, ফজলুল হক মুসলিম হলের মূল ভবনের ১০১ নম্বর কক্ষটি ১৯৮০ সাল বা তারও আগে থেকে দখলে ছিল। দীর্ঘ চার যুগের বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও কক্ষটি তাদের ব্যবহারের বাইরে ছিল। পরবর্তী সময়ে হলের কর্মচারীরা কক্ষটি ব্যবহার করতেন বলে জানা গেছে। ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ফজলুল হক মুসলিম হলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। হলটির প্রথম প্রভোস্ট ছিলেন ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। হল সংসদ জানিয়েছে, ১০১ নম্বর কক্ষটিও শুরুতে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। হল সংসদের এজিএস মহসীন উদ্দিন শাফি জানান, ২০২৫ সালে ডাকসু নির্বাচনের পর থেকেই হলের দখলকৃত কক্ষগুলো দখলমুক্ত করার বিষয়টি তাদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় হল সংসদের সব সদস্যের সম্মতিতে শুক্রবার ১০১ নম্বর কক্ষটি দখলমুক্ত করা হয়েছে। হল সংসদের ভিপি খন্দকার আবু নাইম বলেন, ‘হলের আবাসিক কক্ষগুলো বৈধ শিক্ষার্থীদের অধিকার। হলের ছাত্রদের অধিকার আদায়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আগামীতেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করে যাব।’ হল সংসদের নেতৃবৃন্দ জানান, দীর্ঘদিন পর দখলমুক্ত হওয়া কক্ষটি এখন থেকে হলের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা হবে। আরটি/এমএএইচ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ঢাবির কবি জসীম উদ্‌দীন হল মসজিদে ঝাড়বাতি ও এসি স্থাপন

ঢাবির কবি জসীম উদ্‌দীন হল মসজিদে ঝাড়বাতি ও এসি স্থাপন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছাত্রদলের দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছাত্রদলের দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা

শাহ আবদুল করিমের জীবনের শেষ ১০ দিন

শাহ আবদুল করিমের জীবনের শেষ ১০ দিন

0 Comments