আন্তর্জাতিক

সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কেন বিপাকে সৌদি আরব?

লিটন আলী সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কেন বিপাকে সৌদি আরব?
সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কেন বিপাকে সৌদি আরব?

হুথিদের তুলনায় সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও বিপাকে রয়েছে সৌদি আরব। ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রযাত্রা এবং সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হামলা রিয়াদকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সৌদি আরব এখন বড় ধরনের যুদ্ধ চায় না। তবে হুথিদের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী আচরণ দেশটিকে আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে।

ইয়েমেন ও ওয়াশিংটনভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশা বলেন, পরিস্থিতির সব ইঙ্গিতই সৌদির বড় ধরনের পাল্টা হামলার দিকে যাচ্ছে। তার মতে, কার্যত সৌদি আরবের হাতে এখন খুব বেশি বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন

তেলের পথে যুদ্ধের আগুন, সবার নজর সৌদি আরবে

বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই

সম্প্রতি হুথিরা লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ দখল করেছে। একই সঙ্গে, তারা মোখা বন্দর শহরেরও নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে গোষ্ঠীটি।

বাব আল-মান্দেব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথগুলোর একটি। এই পথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সৌদি আরবের ওপরও চাপ বেড়েছে।

এর মধ্যেই ইরাক থেকে ড্রোন হামলার শিকার হয়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে গেছে। হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর জন্য ইরানের দিকে আঙুল তুলেছেন।

ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরাকে সক্রিয় রয়েছে।

আরও পড়ুন

বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিলো হুথিরা, লোহিত সাগরে নতুন সমীকরণ

হরমুজ বন্ধ থাকায় পাইপলাইনের গুরুত্ব বেড়েছে

ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের ব্যবহার বাড়িয়েছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছিল।

আগে এসব তেল পারস্য উপসাগরে অপেক্ষমাণ ট্যাংকারে তোলা হতো। ফলে পাইপলাইনে হামলা সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানি ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।

গত মাসের শুরুতেই সৌদি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরাকি মিলিশিয়া ও হুথিদের সমন্বিত একাধিক হামলার আশঙ্কা করছে রিয়াদ।

আরও পড়ুন

ড্রোন হামলায় বন্ধ সৌদির পাইপলাইন, তেল বাণিজ্যে শঙ্কার ছায়া

সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কেন বিপাকে সৌদি

সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে সৌদি আরব হুথিদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। একদিকে বিপুল সম্পদের অধিকারী সৌদি আরবের আধুনিক ও সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে দরিদ্র ইয়েমেনের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি।

কিন্তু বাস্তবে হুথিদের দমন করা অত্যন্ত কঠিন প্রমাণিত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে গোষ্ঠীটি নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধকৌশল উন্নত করেছে।

গাজা যুদ্ধের পর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশে জনপ্রিয়তা পেয়েছে তারা।

পশ্চিমা দেশ ও কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের কাছে হুথিরা ইরানের একটি প্রক্সি বাহিনী হিসেবে পরিচিত হলেও তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক লক্ষ্যও রয়েছে।

আরও পড়ুন

হুথিদের সামরিক শক্তি কতটা, কেন তারা এত বড় হুমকি?

হুথিদের প্রধান দাবি কী

হুথিদের দাবি, উত্তর ইয়েমেনের তাদের নিয়ন্ত্রিত বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ওপর সৌদি আরবের অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। এই অবরোধের মধ্যে অর্থনৈতিক ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ রয়েছে।

হুথি-নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবার প্রধান নাসর আল-দিন আমের বলেছেন, সৌদি আরবের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে তাদের গোষ্ঠী।

তাদের ভাষ্য, সৌদি আরবের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত উত্তেজনা বাড়ানোর পথ থেকে তারা সরে আসবে না।

আরও পড়ুন

হুথির হাতে পেরিম দ্বীপ, বন্ধ হবে লোহিত সাগরও?

২০১৪ থেকেই ইয়েমেনে যুদ্ধ

২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটির সংকট ভয়াবহ রূপ নেয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে দেশ ছাড়তে হয়।

পরের বছর হুথিদের হটাতে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

অন্যদিকে ইরান হুথিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগিতা করেছে।

দীর্ঘ এই সংঘাতে ইয়েমেন বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

হুথিদের ওপর হামলার অনুরোধ করেছিলেন সৌদি যুবরাজ, নাকচ করেন ট্রাম্প

সর্বশক্তি দিয়ে হামলা করলে বড় ঝুঁকি

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের একটি পথ হলো হুথিদের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান চালানো। কিন্তু এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের বিশ্লেষক চিনজিয়া বিআঙ্কো মনে করেন, সৌদি আরব যদি সর্বশক্তি দিয়ে যুদ্ধে নামে, তাহলে তা ইয়েমেনের দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের নতুন অধ্যায়ে পরিণত হতে পারে।

আরও বড় আশঙ্কা হলো, সেই সংঘাতে ইরান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে।

তখন সংঘাতটি শুধু ইয়েমেনকেন্দ্রিক থাকবে না। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং তার মাধ্যমে রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৃহত্তর সংঘাতের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন

হাঁটা শেখার আগেই দৌড়ের পরীক্ষায় মক্কা চুক্তি!

যুক্তরাষ্ট্র কি সৌদির পাশে দাঁড়াবে?

সৌদি আরবের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র কতটা সামরিক সহায়তা দেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে জড়াতে খুব একটা আগ্রহী নয়।

হরমুজ প্রণালির সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের জন্য পরিস্থিতি জটিল।

ট্রাম্পও বলেছেন, হুথিরা চায় না যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই সংঘাতে জড়াক।

তবে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা সহায়তা দিতে প্রায় ১০০ জন মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

সৌদি সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাওয়াফ ওবায়েদ বলেছেন, রিয়াদের অনুরোধ মূলত মার্কিন বিমান হামলার জন্য ছিল না। তাদের চাওয়া ছিল গোয়েন্দা সহায়তা।

আরও পড়ুন

সৌদি আরবে একের পর এক হামলা, মক্কা চুক্তি কি এবার কার্যকর হবে?

রাজনৈতিক সমাধানের পথও সংকুচিত

সৌদি আরবের আরেকটি বিকল্প হলো রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা। কিন্তু সেই পথও এখন আগের তুলনায় অনেক কঠিন।

গত কয়েক মাস ধরে রিয়াদ হুথি ও ইরানকে সতর্ক করে আসছে। বিভিন্ন সময় নিন্দা জানিয়েছে এবং কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাতে হুথিদের অগ্রযাত্রা থামেনি।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পরও তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলা চালায়নি। বরং ইরাক সরকারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে।

একই সঙ্গে সৌদি আরব বলেছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তারা সংরক্ষণ করে।

বিশ্লেষক চিনজিয়া বিআঙ্কোর মতে, রাজনৈতিক সমাধানের সুযোগ সৌদি আরব প্রায় শেষ করে ফেলেছে।

আরও পড়ুন

তেল পাইপলাইনে হামলা, কী করবে সৌদি

সমঝোতা হলে মূল্যও দিতে হবে

হুথিদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো গেলেও সৌদি আরবকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে। বিশ্লেষক আল-বাশার মতে, এমন সমঝোতা হলে হুথিদের প্রায় সব দাবিই মেনে নিতে হতে পারে।

তার ভাষায়, সেটি হবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল আত্মসমর্পণের মতো। তবে অন্যদিকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধেও সৌদি আরবের জন্য বড় ঝুঁকি রয়েছে।

ইয়েমেনে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে বদলে দিতে পারে।

সামনে কী করবে রিয়াদ

সৌদি আরব কবে এবং কীভাবে পাল্টা পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সহায়তায় হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকারের সামরিক অভিযান এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।

আগামী দিনগুলোতে, এমনকি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেও, এই অভিযান আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। একাধিক ফ্রন্টে বড় ধরনের চমকও দেখা যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

তবে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সমর্থন ছাড়া সরাসরি সর্বাত্মক যুদ্ধে যাবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ হুথিদের পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীরও হামলার মুখে রয়েছে সৌদি আরব।

ফলে রিয়াদের সামনে এখন দুটি পথই কঠিন—যুদ্ধে গেলে বড় আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি, আর সমঝোতায় গেলে রাজনৈতিক ও কৌশলগত বড় ছাড় দেওয়ার আশঙ্কা।

সূত্র: সিএনএন
কেএএ/

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

আন্তর্জাতিক

View more
ডায়ানার সেই ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ আবার নিলামে, দাম কত উঠবে জানুন
ডায়ানার সেই ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ আবার নিলামে, দাম কত উঠবে জানুন

একটি কালো পোশাক। অথচ ফ্যাশনের ইতিহাসে এর গল্প শুধু পোশাকের মধ্যে আটকে নেই। রাজপরিবারের টানাপোড়েন, ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন এক মুহূর্ত এবং নিজের উপস্থিতি দিয়ে নীরব বার্তা দেওয়ার সাহস-সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পোশাকটি। প্রিন্সেস ডায়ানার সেই বিখ্যাত কালো পোশাক, যা পরবর্তীকালে ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ নামে পরিচিতি পায়, এবার আবারও আলোচনায়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে পোশাকটি নিলামে তুলতে যাচ্ছে সদবি’স । প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এর দাম উঠতে পারে প্রায় ৩ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত। নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ৯ ডিসেম্বর। যে রাত বদলে দিয়েছিল পোশাকটির গল্প সময়টা ১৯৯৪ সাল। স্থান লন্ডন। সন্ধ্যার কিছু আগে টেলিভিশনে প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে প্রিন্স চার্লস তার ক্যামিলার সঙ্গে সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। ঠিক সেই সন্ধ্যাতেই লন্ডনের সার্পেন্টাইন গ্যালারির তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে হাজির হন প্রিন্সেস ডায়ানা। রাজপরিবারের একজন সদস্য হিসেবে সেদিন তাঁর উপস্থিতি এমনিতেই ছিল আলোচনার বিষয়। কিন্তু ডায়ানার পোশাক সেই আলোচনাকে নিয়ে যায় অন্য মাত্রায়। তার পরনে ছিল ক্রিস্টিনা স্ট্যাম্বোলিয়ানের নকশা করা একটি কালো, স্ট্র্যাপবিহীন সিল্কের সান্ধ্য পোশাক। পোশাকটির কাটিং ছিল শরীরের সঙ্গে মানানসই, আর নকশায় ছিল সেই সময়ের প্রচলিত রাজকীয় পোশাকের তুলনায় অনেক বেশি সাহসী ভাব। কালো রঙ, খোলা কাঁধ এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সব মিলিয়ে ডায়ানাকে সেদিন অন্যরকম লাগছিল। পরে ফ্যাশন দুনিয়ায় পোশাকটির নাম হয়ে যায় ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’। পোশাক যখন হয়ে ওঠে বার্তা ডায়ানার স্টাইল নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা বারবার একটি বিষয় তুলে ধরেছেন-তিনি শুধু সুন্দর দেখানোর জন্য পোশাক বেছে নিতেন না। তার পোশাক অনেক সময় তার ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস কিংবা পরিস্থিতির প্রতি তার অবস্থানও প্রকাশ করত। সদবি’স-এর হ্যান্ডব্যাগ ও ফ্যাশন বিভাগের গ্লোবাল হেড মর্গেন হালিমির ভাষ্যেও উঠে এসেছে সেই বিষয়টি। তার মতে, ডায়ানা বুঝতেন ফ্যাশনকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সেই রাতের পোশাকটিও যেন তারই একটি উদাহরণ। ডায়ানা সেদিন কোনো বক্তব্য দেননি, কিন্তু তার পোশাক ও উপস্থিতি নিয়ে পরবর্তী সময়ে যে বিপুল আলোচনা তৈরি হয়, তা প্রমাণ করে ফ্যাশন কখনো কখনো শব্দের চেয়েও শক্তিশালী বার্তা দিতে পারে। দ্বিতীয়বার নিলামে কালো সেই পোশাক পোশাকটির নিলামের ইতিহাসও কম আকর্ষণীয় নয়। ১৯৯৭ সালে ডায়ানা নিজের পোশাকের একটি বড় সংগ্রহ নিলামে তুলেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা। সেই নিলামে মোট ৭৯টি পোশাক বিক্রি হয়। ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’টি তখন প্রায় ৫২ হাজার ৯১৭ মার্কিন ডলারে কিনে নেন গ্লাসগোর বাসিন্দা ব্রিগ ও গ্রেম ম্যাকেঞ্জি। দীর্ঘদিন তাদের সংগ্রহে থাকার পর এবার পোশাকটি আবার নিলামের বাজারে ফিরছে। এবার পোশাকটির মালিক গ্রেম ম্যাকেঞ্জি সেটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অর্থাৎ প্রায় তিন দশক পর ফের নতুন কোনো সংগ্রাহকের হাতে যেতে পারে ফ্যাশন ইতিহাসের এই আলোচিত পোশাক। শুধু পোশাক নয়, থাকছে স্মৃতিও নিলামে পোশাকটির সঙ্গে বিক্রি হবে আরও একটি বিশেষ স্মারক। ডায়ানা ও ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্ট্যাম্বোলিয়ানের স্বাক্ষর করা ১৯৯৭ সালের নিলাম ক্যাটালগের একটি কপিও থাকবে এর সঙ্গে। আরও পড়ুন দুরে ফিশানের উচ্চারণ নিয়ে সমালোচনা হলেও তার স্টাইলে মুগ্ধ দর্শক   নিলামের আগে পোশাকটি সরাসরি দেখার সুযোগও পাবেন ফ্যাশনপ্রেমীরা। ১৮ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনে প্রদর্শনীর পর এটি যাবে হংকং, জেনেভা ও নিউইয়র্কে। এরপর ডিসেম্বরের নিলামে উঠবে সেই ঐতিহাসিক কালো পোশাক। বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ এডিনবরা হাসপাতালের জন্য দেওয়া হবে। আরও পড়ুন ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা ডায়ানা হয়তো জানতেন না, সেই এক সন্ধ্যার পোশাক একদিন ফ্যাশনের ইতিহাসে এত বড় গল্প হয়ে উঠবে। কিন্তু তিন দশক পরও তার কালো পোশাকটি প্রমাণ করছে- ফ্যাশন শুধু সৌন্দর্য প্রকাশের মাধ্যম নয়, কখনো কখনো এটি হয়ে উঠতে পারে আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা ও নীরব প্রতিবাদের ভাষাও। সূত্র: বিবিসি এসএকেওয়াই

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান কীভাবে চীনের কাছ থেকে শত কোটি ডলারের পণ্য কিনছে

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান কীভাবে চীনের কাছ থেকে শত কোটি ডলারের পণ্য কিনছে

সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কেন বিপাকে সৌদি আরব?

সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কেন বিপাকে সৌদি আরব?

হুথিদের সামরিক শক্তি কতটা, কেন তারা এত বড় হুমকি?

হুথিদের সামরিক শক্তি কতটা, কেন তারা এত বড় হুমকি?

পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য-শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য-শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার সে দেশের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তান বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণ করা গেলে উভয় দেশের জনগণই উপকৃত হবে। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, পাকিস্তানে তৈরি পোশাক, বিশেষ করে নারীদের পোশাক বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। তিনি পাকিস্তানি তৈরি পোশাক, কটন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তানের তৈরি পণ্য নিয়ে অক্টোবরে ঢাকায় বাণিজ্য মেলা হবে। তিনি বাংলাদেশের তৈরি পণ্য দিয়ে পাকিস্তানে অনুরূপ বাণিজ্য মেলা আয়োজনের আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে ফুটবলসহ ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে তার দেশের উদ্যোক্তাদের আগ্রহের কথা জানান। আরও পড়ুন দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির এ বছর ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ার কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, এ যোগাযোগ দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বাংলাদেশে উৎপাদিত চায়ের গুণগত মানের প্রশংসা করে হাইকমিশনার পাকিস্তানের বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি চা রপ্তানির আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন মানসম্মত পণ্যের পাকিস্তানে রপ্তানি বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন। হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে তার দেশ কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি দুই দেশের সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। হাইকমিশনার বাংলাদেশে তার কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি হাইকমিশনারকে তার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হবে। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কেএইচ/একিউএফ

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ভারতের কেরালায় ইসলাম ত্যাগের চেয়ে ইসলাম গ্রহণের হার বাড়ছে

ভারতের কেরালায় ইসলাম ত্যাগের চেয়ে ইসলাম গ্রহণের হার বাড়ছে

পাকিস্তানের হামলায় নিহত সেনাদের সংখ্যা গোপন করেছে মোদি সরকার

পাকিস্তানের হামলায় নিহত সেনাদের সংখ্যা গোপন করেছে মোদি সরকার

আজকের চুক্তি মোজতবা খামেনির কাছে ট্রাম্পের আত্মসমর্পণ

আজকের চুক্তি মোজতবা খামেনির কাছে ট্রাম্পের আত্মসমর্পণ

ধৈর্যেরও একটা সীমা আছে, আমিরাতকে হুঁশিয়ারি ইরানের
ধৈর্যেরও একটা সীমা আছে, আমিরাতকে হুঁশিয়ারি ইরানের

  এবার আঞ্চলিক উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। ইসরাইলের সঙ্গে আবু ধাবির ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা দীর্ঘ সময় ধরে সংযম দেখালেও তাদের এই ধৈর্যের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। ইরানের আধা–সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ইসনা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন দেশটির প্রভাবশালী নীতি–নির্ধারক ও ‘এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল’-এর বর্তমান সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়ি।  ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসির) সাবেক এই শীর্ষ কমান্ডার বলেন, তেহরান এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বন্ধুত্বের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি। তবে আমিরাতের মনে রাখা উচিত, ইরানের ধৈর্যের দেয়াল ভেঙে পড়লে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। মোহসেন রেজায়ি সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন, আমরা খুব ভালো করেই জানি যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইলের মধ্যে পর্দার আড়ালে ও প্রকাশ্যে নানা ধরনের যোগাযোগ এবং লেনদেন চলছে। তবে আমিরাতের প্রতি আমাদের পরামর্শ থাকবে—তারা যেন কোনোভাবেই ইসরাইলের কোনো ফাঁদ বা ষড়যন্ত্রের অংশ না হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত এবং ভূ–রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ইরানের এই শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের প্রভাব বৃদ্ধির ব্যাপারে তেহরান যে কোনোভাবেই আপস করবে না, এই বার্তার মাধ্যমে আমিরাতকে সেটিই স্মরণ করিয়ে দিল ইরান। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

News মে ১৮, ২০২৬ 0

বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে জাতিসংঘের জরুরি সতর্কবার্তা: জুলাইতে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ডের আশঙ্কা

রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে ইউক্রেনের আলোচনা জোরালো

চীনের সঙ্গে উত্তেজনা: দক্ষিণ চীন সাগরে ফের যুক্তরাষ্ট্রের নৌমহড়া

0 Comments