আন্তর্জাতিক

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান কীভাবে চীনের কাছ থেকে শত কোটি ডলারের পণ্য কিনছে

Jamil Saxona সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান কীভাবে চীনের কাছ থেকে শত কোটি ডলারের পণ্য কিনছে
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান কীভাবে চীনের কাছ থেকে শত কোটি ডলারের পণ্য কিনছে

ইরান তাদের জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চীনের কাছ থেকে শত কোটি ডলারের পণ্য কিনছে। এসব পণ্যের মধ্যে সামরিক সরঞ্জামও রয়েছে। এ জন্য দেশটি অনেকটা ‘পণ্য বিনিময়’ ব্যবস্থার মতো একটি ব্যবস্থা ব্যবহার করছে।

এ বিষয়ে জানেন ইরানের এমন দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ আরও তিন ব্যক্তি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

গোপন এ বাণিজ্যব্যবস্থায় ইরানি তেলের বিনিময়ে চীনা পণ্য কেনার জন্য ক্রেডিট দেওয়া হয়।

সহজ কথায়, ইরান যখন চীনে তেল পাঠায়, দেশটি এর বদলে সরাসরি কোনো মার্কিন ডলার বা নগদ অর্থ দেয় না। কারণ, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা (যেমন সুইফট) দিয়ে অর্থ পাঠালে তা যুক্তরাষ্ট্রের নজরে পড়বে এবং নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। তাই তেলের সমপরিমাণ অর্থ চীনে গঠিত একটি বিশেষ ফান্ড বা ব্যাংকে ইরানের নামে ‘ক্রেডিট’ (বা অ্যাকাউন্ট ব্যালান্স) হিসেবে জমা রাখা হয়।

ইরান পরে চীনের কাছ থেকে কোনো যন্ত্রাংশ, গাড়ি, পণ্য বা সামরিক সরঞ্জাম কিনতে চাইলে নগদ অর্থ না দিয়ে ওই জমানো ‘ক্রেডিট’ থেকে খরচ দেখায়।

এ ক্রেডিটকে একটি শপিং মলের ‘উপহার কার্ড’ বা ‘ডিজিটাল কুপন’-এর সঙ্গে তুলনা করা যায়। আপনি যেমন কার্ডে অর্থ ভরে রেখে পরে শুধুই ওই দোকান থেকে কেনাকাটা করতে পারেন, ইরান ঠিক তেমনি তেল দিয়ে চীনে নিজেদের নামে ‘কুপন বা ক্রেডিট’ জমা করছে এবং সেই ক্রেডিট ভাঙিয়ে চীন থেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে দেশে নিয়ে আসছে।

এসপিভি ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান ওষুধ, যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম কিনেছে।

এর ফলে কোনো ব্যাংক থেকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা (ডলার) লেনদেনের দরকার পড়ছে না এবং যুক্তরাষ্ট্রও তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এ কেনাবেচা সহজে আটকাতে পারছে না।

সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এটি তেহরানের জন্য আর্থিকভাবে টিকে থাকার গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন হয়ে উঠেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বৃদ্ধির সময়েও এ ব্যবস্থা তেহরানকে আর্থিকভাবে টিকে থাকতে সহায়তা করেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ চীন। দেশটি ওই গোপন ব্যবস্থার মাধ্যমে কম দামে ইরানের তেল পাওয়ার সুযোগ ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে ইরানে পণ্য রপ্তানি করা চীনা ব্যাংক ও কোম্পানিগুলোকে আন্তর্জাতিক নজরদারি বা শাস্তির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

ইরানের তেল কেনা বা পরিবহনে সহায়তা করা চীনের কিছু ছোট প্রতিষ্ঠানের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া থেকে ওয়াশিংটন চীনের ক্ষেত্রে বিরত থেকেছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি আবার সচল করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন চাপ আরও বাড়িয়েছে। গত আগস্টে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেন, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করছে, তাদের সেই সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। না হলে সেসব দেশকে ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে।

ছয় মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের অংশ হিসেবে তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আরোপের কারণে চীনের সঙ্গে তেহরানের পণ্য বিনিময়ের ব্যবস্থায় কী প্রভাব পড়েছে, তা রয়টার্স নিশ্চিতভাবে জানতে পারেনি। গত সপ্তাহে রয়টার্স জানিয়েছিল, ১৪ জুলাই অবরোধ পুনর্বহাল হওয়ার পর থেকে কোনো ইরানি অপরিশোধিত তেলের চালান সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে চীনে যেতে পারেনি।

চীন ও ইরান পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপ করা একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে বারবার অবৈধ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার করেছে। দেশ দুটি দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অংশীদার। তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা কীভাবে বাণিজ্য চালু রাখছে, সে বিষয়ে দেশ দুটি প্রকাশ্যে তেমন কিছু বলে না।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা সব কটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান এ ব্যবস্থার মাধ্যমে চীন থেকে ওষুধ, যানবাহন ও যোগাযোগ সরঞ্জাম কিনেছে। এসব পণ্যের নির্মাতারা সরাসরি ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করেনি। তাদের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনেরও কোনো ইঙ্গিত নেই।

গত এক বছরে অন্তত একবার কয়েক কোটি ডলারের আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ইরানে সরবরাহের চুক্তির ক্ষেত্রেও এ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

তবে এসব লেনদেনের সঙ্গে জড়িত চীনা নির্মাতাদের বিষয়ে সূত্রগুলো বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি। এসব লেনদেন সত্যিই হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

ইরান ও বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে ২০১৫ সালে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পর তেহরানও চুক্তির কিছু শর্ত মানা বন্ধ করে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইরানে অধিকাংশ বড় ধরনের প্রচলিত অস্ত্র রপ্তানির ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হয়। ওই সময় নিজের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কেপলারের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ইরান থেকে জাহাজে করে পাঠানো তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন। প্রতিদিন গড়ে ১৪ লাখ ব্যারেল তেল কিনেছে দেশটি।

ইউরোপের দেশগুলো ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থা ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে। তখন ইরান ও চীন এ পদক্ষেপকে ‘আইনগত ও প্রক্রিয়াগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছিল।

পণ্য বিনিময়ের মতো বাণিজ্যব্যবস্থা নিয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আপনারা যে পরিস্থিতির কথা বলছেন, সে বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’

মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক আইনে যার কোনো ভিত্তি নেই এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ অনুমোদন করেনি, এমন একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা সব সময় করে আসছে চীন।’

নিউইয়র্ক ও জেনেভায় ইরানের জাতিসংঘ মিশনের কাছে নানা বিষয় জানতে চেয়েছিল রয়টার্স। কিন্তু তারা তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি।

হোয়াইট হাউসের কাছেও এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে, যাতে ‘ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ থেকে দেশটিকে বিরত রাখা যায়।’

তবে রয়টার্স চীন ও ইরানের যে গোপন বাণিজ্যব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছে, ওই কর্মকর্তা তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা এড়িয়ে চলা

দশকের পর দশক ধরে চলা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেলের ক্রেতা এখন খুব কম। পণ্যবাজার–বিষয়ক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরান থেকে জাহাজে করে পাঠানো তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন। প্রতিদিন গড়ে ১৪ লাখ ব্যারেল তেল কিনেছে দেশটি।

২০২১ সালে ইরান ও চীন ২৫ বছরের একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই করেছে। এতে জ্বালানি ও অবকাঠামোর মতো বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে চুক্তিটির বিস্তারিত প্রকাশ্যে তেমন একটা প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা ও ওই ব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, চীনের রাষ্ট্রমালিকানাধীন তেল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঝুহাই ঝেনরংয়ের হয়ে কাজ করা একটি ক্রেতা অন্তত চলতি বছর পর্যন্ত চীনে অপরিচিত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে মাসে শত শত কোটি ডলার জমা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নাম চুইশিন।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংগ্রহ করা তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ওই ব্যক্তিরা বলেন, ইরানের জাতীয় তেল কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হংকংয়ে নিবন্ধিত একটি কোম্পানির সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় কেনাকাটার অর্থ ওই হিসাবে জমা দেওয়া হতো। এরপর চুইশিন চীনা রপ্তানিকারক ও ইরানে অবকাঠামো নির্মাণকারী কোম্পানিগুলোকে অর্থ পাঠাত। ধারণা করা হচ্ছে, এ অর্থ পাঠাতে চীনের আরও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হতো।

তিনটি সূত্র জানিয়েছে, চুইশিনের মাধ্যমে পরিচালিত ইরানি তেল বিক্রির অর্থের প্রায় ৭০ শতাংশ অবকাঠামো প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়। গত বছরের অক্টোবরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এ ব্যবস্থার কথা জানিয়েছিল। বাকি অর্থ রাখা হয় একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত প্রতিষ্ঠানের (এসপিভি) হিসাবে। ইরানে পণ্য সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো অর্থ পরিশোধে এই এসপিভি ব্যবহার করে।

ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী মহলের ঘনিষ্ঠ দেশটির দুটি সূত্র এসপিভির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে এর আগে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

পাঁচটি সূত্রই জানিয়েছে, এসপিভিতে থাকা অর্থ পরিচালনা করে দুটি প্রতিষ্ঠান। এর একটি চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হয়ে কাজ করে এবং অন্যটি ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমদানিকারকদের এসপিভির অর্থ ব্যবহারের অনুমোদন দিলে ইরানের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানটি চীনের প্রতিষ্ঠানটিকে তা জানায়। এরপর ইরানে চীনা পণ্য সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হয়।

চীনা কোম্পানির নিবন্ধনসংক্রান্ত কোনো নথিতে ‘চুইশিন’ নামে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের রেকর্ড খুঁজে পায়নি রয়টার্স। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হয়ে কাজ করে বলে যে প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা বলা হয়েছে, সেগুলোরও কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। একটি সূত্র বলেছে, চুইশিন হয়তো শুধু স্প্রেডশিটে থাকা একটি নাম।

চীন ও ইরানের মধ্যে গোপনে ব্যবসা করার জন্য বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত এসপিভির মাধ্যমে গত এক বছরে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি ডলার লেনদেন হয়েছে।

ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি (এনআইওসি) ও ঝুহাই ঝেনরংয়ের হয়ে কাজ করে—কথিত এমন কোম্পানিগুলোর একই নামে হংকংয়ের কোম্পানি নিবন্ধন তালিকায় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানার কাঠামো বা ব্যবসায়িক লেনদেনের কোনো প্রকাশ্য নথি রয়টার্স খুঁজে পায়নি। নিবন্ধিত ঠিকানায় প্রশ্ন পাঠিয়েও কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জবাব পাওয়া যায়নি। নিবন্ধিত ঠিকানাগুলো এমন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, যারা অন্য কোম্পানির জন্য প্রশাসনিক সেবা দিয়ে থাকে।

নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর সুযোগ

ইরানের সঙ্গে লেনদেনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ঝুহাই ঝেনরং। একটি সূত্র রয়টার্সকে ২০২৫ সালের ২২ জুলাইয়ের বলে দৃশ্যমান হওয়া ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির একটি চিঠি দিয়েছে। এতে চীনা তেল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানটির কাছে বকেয়া অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। এটি দুই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সম্পর্কের প্রমাণ।

রয়টার্স স্বাধীনভাবে নথিটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। উল্লিখিত গোপন বাণিজ্যব্যবস্থায় নিজেদের ভূমিকা বা নথিটি সম্পর্কে জানতে এনআইওসি ও ঝুহাই ঝেনরংয়ের কাছে জানতে চেয়েও কোনো উত্তর পায়নি রয়টার্স। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয়নি।

রয়টার্সকে তিনটি সূত্র বলেছে, উল্লিখিত ব্যবস্থা অন্তত ২০২১ সাল থেকে চালু আছে। প্রথম দিকে এর মাধ্যমে ইরানে ওষুধ ও কোভিড-১৯-এর টিকা সরবরাহ করা হতো।

সূত্রগুলো আরও বলেছে, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা কোম্পানিগুলোর ওপর ওয়াশিংটন চাপ বাড়িয়ে দেওয়ায় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থার গুরুত্ব ক্রমেই বেড়েছে। তাদের হিসাবে, গত এক বছরে এসপিভির মাধ্যমে ইরান ও চীনের মধ্যে ২০০ কোটি থেকে ২৫০ কোটি ডলারের লেনদেন হয়েছে।

চীন এ ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে এবং দেখাচ্ছে যে দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। এমনটাই মনে করছেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাষক আন্দ্রেয়া ঘিসেল্লি। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেন।

তবে ঘিসেল্লি বলেন, চীনের নেতারা চান না, দেশটির ব্যাংক বা কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ুক। তাঁরা এমন একটা সুযোগ চান, যাতে প্রয়োজনে বলা যায়, তাঁরা কিছু জানেন না।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

আন্তর্জাতিক

View more
ডায়ানার সেই ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ আবার নিলামে, দাম কত উঠবে জানুন
ডায়ানার সেই ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ আবার নিলামে, দাম কত উঠবে জানুন

একটি কালো পোশাক। অথচ ফ্যাশনের ইতিহাসে এর গল্প শুধু পোশাকের মধ্যে আটকে নেই। রাজপরিবারের টানাপোড়েন, ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন এক মুহূর্ত এবং নিজের উপস্থিতি দিয়ে নীরব বার্তা দেওয়ার সাহস-সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পোশাকটি। প্রিন্সেস ডায়ানার সেই বিখ্যাত কালো পোশাক, যা পরবর্তীকালে ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ নামে পরিচিতি পায়, এবার আবারও আলোচনায়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে পোশাকটি নিলামে তুলতে যাচ্ছে সদবি’স । প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এর দাম উঠতে পারে প্রায় ৩ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত। নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ৯ ডিসেম্বর। যে রাত বদলে দিয়েছিল পোশাকটির গল্প সময়টা ১৯৯৪ সাল। স্থান লন্ডন। সন্ধ্যার কিছু আগে টেলিভিশনে প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে প্রিন্স চার্লস তার ক্যামিলার সঙ্গে সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। ঠিক সেই সন্ধ্যাতেই লন্ডনের সার্পেন্টাইন গ্যালারির তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে হাজির হন প্রিন্সেস ডায়ানা। রাজপরিবারের একজন সদস্য হিসেবে সেদিন তাঁর উপস্থিতি এমনিতেই ছিল আলোচনার বিষয়। কিন্তু ডায়ানার পোশাক সেই আলোচনাকে নিয়ে যায় অন্য মাত্রায়। তার পরনে ছিল ক্রিস্টিনা স্ট্যাম্বোলিয়ানের নকশা করা একটি কালো, স্ট্র্যাপবিহীন সিল্কের সান্ধ্য পোশাক। পোশাকটির কাটিং ছিল শরীরের সঙ্গে মানানসই, আর নকশায় ছিল সেই সময়ের প্রচলিত রাজকীয় পোশাকের তুলনায় অনেক বেশি সাহসী ভাব। কালো রঙ, খোলা কাঁধ এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সব মিলিয়ে ডায়ানাকে সেদিন অন্যরকম লাগছিল। পরে ফ্যাশন দুনিয়ায় পোশাকটির নাম হয়ে যায় ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’। পোশাক যখন হয়ে ওঠে বার্তা ডায়ানার স্টাইল নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা বারবার একটি বিষয় তুলে ধরেছেন-তিনি শুধু সুন্দর দেখানোর জন্য পোশাক বেছে নিতেন না। তার পোশাক অনেক সময় তার ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস কিংবা পরিস্থিতির প্রতি তার অবস্থানও প্রকাশ করত। সদবি’স-এর হ্যান্ডব্যাগ ও ফ্যাশন বিভাগের গ্লোবাল হেড মর্গেন হালিমির ভাষ্যেও উঠে এসেছে সেই বিষয়টি। তার মতে, ডায়ানা বুঝতেন ফ্যাশনকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সেই রাতের পোশাকটিও যেন তারই একটি উদাহরণ। ডায়ানা সেদিন কোনো বক্তব্য দেননি, কিন্তু তার পোশাক ও উপস্থিতি নিয়ে পরবর্তী সময়ে যে বিপুল আলোচনা তৈরি হয়, তা প্রমাণ করে ফ্যাশন কখনো কখনো শব্দের চেয়েও শক্তিশালী বার্তা দিতে পারে। দ্বিতীয়বার নিলামে কালো সেই পোশাক পোশাকটির নিলামের ইতিহাসও কম আকর্ষণীয় নয়। ১৯৯৭ সালে ডায়ানা নিজের পোশাকের একটি বড় সংগ্রহ নিলামে তুলেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা। সেই নিলামে মোট ৭৯টি পোশাক বিক্রি হয়। ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’টি তখন প্রায় ৫২ হাজার ৯১৭ মার্কিন ডলারে কিনে নেন গ্লাসগোর বাসিন্দা ব্রিগ ও গ্রেম ম্যাকেঞ্জি। দীর্ঘদিন তাদের সংগ্রহে থাকার পর এবার পোশাকটি আবার নিলামের বাজারে ফিরছে। এবার পোশাকটির মালিক গ্রেম ম্যাকেঞ্জি সেটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অর্থাৎ প্রায় তিন দশক পর ফের নতুন কোনো সংগ্রাহকের হাতে যেতে পারে ফ্যাশন ইতিহাসের এই আলোচিত পোশাক। শুধু পোশাক নয়, থাকছে স্মৃতিও নিলামে পোশাকটির সঙ্গে বিক্রি হবে আরও একটি বিশেষ স্মারক। ডায়ানা ও ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্ট্যাম্বোলিয়ানের স্বাক্ষর করা ১৯৯৭ সালের নিলাম ক্যাটালগের একটি কপিও থাকবে এর সঙ্গে। আরও পড়ুন দুরে ফিশানের উচ্চারণ নিয়ে সমালোচনা হলেও তার স্টাইলে মুগ্ধ দর্শক   নিলামের আগে পোশাকটি সরাসরি দেখার সুযোগও পাবেন ফ্যাশনপ্রেমীরা। ১৮ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনে প্রদর্শনীর পর এটি যাবে হংকং, জেনেভা ও নিউইয়র্কে। এরপর ডিসেম্বরের নিলামে উঠবে সেই ঐতিহাসিক কালো পোশাক। বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ এডিনবরা হাসপাতালের জন্য দেওয়া হবে। আরও পড়ুন ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা ডায়ানা হয়তো জানতেন না, সেই এক সন্ধ্যার পোশাক একদিন ফ্যাশনের ইতিহাসে এত বড় গল্প হয়ে উঠবে। কিন্তু তিন দশক পরও তার কালো পোশাকটি প্রমাণ করছে- ফ্যাশন শুধু সৌন্দর্য প্রকাশের মাধ্যম নয়, কখনো কখনো এটি হয়ে উঠতে পারে আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা ও নীরব প্রতিবাদের ভাষাও। সূত্র: বিবিসি এসএকেওয়াই

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান কীভাবে চীনের কাছ থেকে শত কোটি ডলারের পণ্য কিনছে

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান কীভাবে চীনের কাছ থেকে শত কোটি ডলারের পণ্য কিনছে

সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কেন বিপাকে সৌদি আরব?

সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কেন বিপাকে সৌদি আরব?

হুথিদের সামরিক শক্তি কতটা, কেন তারা এত বড় হুমকি?

হুথিদের সামরিক শক্তি কতটা, কেন তারা এত বড় হুমকি?

পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য-শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য-শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার সে দেশের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তান বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণ করা গেলে উভয় দেশের জনগণই উপকৃত হবে। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, পাকিস্তানে তৈরি পোশাক, বিশেষ করে নারীদের পোশাক বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। তিনি পাকিস্তানি তৈরি পোশাক, কটন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তানের তৈরি পণ্য নিয়ে অক্টোবরে ঢাকায় বাণিজ্য মেলা হবে। তিনি বাংলাদেশের তৈরি পণ্য দিয়ে পাকিস্তানে অনুরূপ বাণিজ্য মেলা আয়োজনের আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে ফুটবলসহ ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে তার দেশের উদ্যোক্তাদের আগ্রহের কথা জানান। আরও পড়ুন দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির এ বছর ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ার কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, এ যোগাযোগ দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বাংলাদেশে উৎপাদিত চায়ের গুণগত মানের প্রশংসা করে হাইকমিশনার পাকিস্তানের বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি চা রপ্তানির আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন মানসম্মত পণ্যের পাকিস্তানে রপ্তানি বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন। হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে তার দেশ কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি দুই দেশের সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। হাইকমিশনার বাংলাদেশে তার কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি হাইকমিশনারকে তার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হবে। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কেএইচ/একিউএফ

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ভারতের কেরালায় ইসলাম ত্যাগের চেয়ে ইসলাম গ্রহণের হার বাড়ছে

ভারতের কেরালায় ইসলাম ত্যাগের চেয়ে ইসলাম গ্রহণের হার বাড়ছে

পাকিস্তানের হামলায় নিহত সেনাদের সংখ্যা গোপন করেছে মোদি সরকার

পাকিস্তানের হামলায় নিহত সেনাদের সংখ্যা গোপন করেছে মোদি সরকার

আজকের চুক্তি মোজতবা খামেনির কাছে ট্রাম্পের আত্মসমর্পণ

আজকের চুক্তি মোজতবা খামেনির কাছে ট্রাম্পের আত্মসমর্পণ

ধৈর্যেরও একটা সীমা আছে, আমিরাতকে হুঁশিয়ারি ইরানের
ধৈর্যেরও একটা সীমা আছে, আমিরাতকে হুঁশিয়ারি ইরানের

  এবার আঞ্চলিক উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। ইসরাইলের সঙ্গে আবু ধাবির ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা দীর্ঘ সময় ধরে সংযম দেখালেও তাদের এই ধৈর্যের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। ইরানের আধা–সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ইসনা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন দেশটির প্রভাবশালী নীতি–নির্ধারক ও ‘এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল’-এর বর্তমান সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়ি।  ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসির) সাবেক এই শীর্ষ কমান্ডার বলেন, তেহরান এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বন্ধুত্বের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি। তবে আমিরাতের মনে রাখা উচিত, ইরানের ধৈর্যের দেয়াল ভেঙে পড়লে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। মোহসেন রেজায়ি সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন, আমরা খুব ভালো করেই জানি যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইলের মধ্যে পর্দার আড়ালে ও প্রকাশ্যে নানা ধরনের যোগাযোগ এবং লেনদেন চলছে। তবে আমিরাতের প্রতি আমাদের পরামর্শ থাকবে—তারা যেন কোনোভাবেই ইসরাইলের কোনো ফাঁদ বা ষড়যন্ত্রের অংশ না হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত এবং ভূ–রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ইরানের এই শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের প্রভাব বৃদ্ধির ব্যাপারে তেহরান যে কোনোভাবেই আপস করবে না, এই বার্তার মাধ্যমে আমিরাতকে সেটিই স্মরণ করিয়ে দিল ইরান। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

News মে ১৮, ২০২৬ 0

বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে জাতিসংঘের জরুরি সতর্কবার্তা: জুলাইতে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ডের আশঙ্কা

রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে ইউক্রেনের আলোচনা জোরালো

চীনের সঙ্গে উত্তেজনা: দক্ষিণ চীন সাগরে ফের যুক্তরাষ্ট্রের নৌমহড়া

0 Comments