মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ঢিমেতালের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার জন্য একটি বহুপক্ষীয় বৈঠক স্থগিত করার কথা আজ সোমবার জানিয়েছে ওমান। ইরান আর উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য শক্তিগুলোর মধ্যে আজ এ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।
এরই মধ্যে এ অঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল পরিবহণপথের (রুট) আশপাশে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আগে থেকে থাকা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। আজ বাজার খোলার পর জ্বালানি তেলের দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল রপ্তানি করে সৌদি আরব। এখন দেশটি থেকে জ্বালানি পণ্যটির রপ্তানি নিয়েও শঙ্কা বেড়েছে। গত শুক্রবার সৌদি আরবে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা হয়। সপ্তাহান্তে পাইপলাইনটি পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সায়িদ বদর আলবুসাইদি গতকাল রোববার রাতে জানান, সোমবারের আঞ্চলিক বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। ‘ঐকমত্যের স্বার্থে’ আপাতত এ বৈঠক হচ্ছে না। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন ঘোষণায় অদূরভবিষ্যতে কূটনৈতিক সমঝোতার আশা আরও ফিকে হয়ে এসেছে।
ইরানের কর্মকর্তারা জানান, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকটিতে তাঁরা অংশ নেবেন। ওই বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে ওমানের সঙ্গে করা একটি চুক্তি তুলে ধরার কথা ছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র ইরানের ফারস নিউজকে বলেন, এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশের অনুরোধে ওমানে অনুষ্ঠেয় বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত তেহরান ও মাসকাট যৌথভাবে নিয়েছে। ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে বৈঠকের নতুন তারিখ ঠিক করা হবে।
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পরপর ইরানের সঙ্গে প্রতিবেশীদের বৈঠক স্থগিতের খবর পাওয়া গেল। আপাতত বন্ধ থাকা এ পাইপলাইন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গতকাল যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলার সময় একটি জাহাজে অজ্ঞাতবস্তু (ক্ষেপণাস্ত্র/ড্রোন) আঘাত হেনেছে। জাহাজটিতে আগুন ধরে গেছে। এর পরপরই জাহাজের নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইরান জানিয়েছে, দেশটির উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালিতে থাকা একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন। চার নাবিক আহত হয়েছেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর বাংলাবাজার এলাকায় সাতটি ভাড়াঘরের দরজা, জানালা ও টিন কেটে গেছে সন্ত্রাসীরা। ১৩ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এই লুটতরাজ চালানো হয় হয় বলে অভিযোগ করেছেন ঘরগুলোর মালিক মোহাম্মদ বাবুল খান।রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।ভাড়াঘরের মালিক ভুক্তভোগী বাবুল খানের দাবি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে ১৩ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়। পরে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভাড়াঘরগুলোতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। ভেঙে দেওয়া হয় সিসি ক্যামরা। অস্ত্রধারীদের বিষয়ে দুদিন আগে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ করেও পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।বাবুল খান বলেন, সন্ত্রাসীরা হুমকি দেয়—‘তুই ফ্যাসিস্ট, ১৩ লাখ টাকা চাঁদা দে, না হয় এলাকা ছাড়’। এ অবস্থায় পরিবার ও ছেলেসন্তান নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আরও পড়ুন চাঁদাবাজি দমনে বিএনপির কোনো নেতা বাধা হলে ছাড় নয়: আইনমন্ত্রী এদিকে ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি টিন, এলপি গ্যাসের বোতল ও লোহার অ্যাংগেলসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করে ফৌজদারহাট ফাঁড়িতে নিয়ে যায় পুলিশ।ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুবেল আফ্রাদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এসময় লোহা কাটার যন্ত্র, ঘরের কিছু টিন, অ্যাংগেল জব্দ করা হয়। যারা ঘরগুলোতে ভাঙচুর চালিয়েছেন তারা পুলিশ দেখে পালিয়ে যান। ভাড়াঘরগুলো জনৈক বাবুল খান নামের এক ব্যক্তির বলে জানান তিনি। এম মাঈন উদ্দিন/এসআর/এএসএম
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দ্বন্দ্বে ১৩নং জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ইউপি সচিব শুভজিৎ রায় এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে বলেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধ হওয়ায় ৫ থেকে ৭ জন ইউপি সদস্য কার্যালয়ে এসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। পরে তিনি বিষয়টি চেয়ারম্যান ও ইউএনওকে জানিয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় সদস্যরা তার সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন। তারা মূলত তাকে সরিয়ে অন্য কাউকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বানাতে চান। আর এ কারণেই পরিষদের ৫ থেকে ৭ জন সদস্য আজ কার্যালয়ে এসে তালা ঝুলিয়ে দেন। এসময় পরিষদে চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন না। তবে সচিব থাকলেও তার কক্ষ থেকে তাকে বের করে দেন তারা৷ ইউপি সদস্য নূর আলম পরিষদে তালা দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ তার একক সিদ্ধান্তে পরিষদ পরিচালনা করছেন। প্রত্যেক মাসে সদস্যদের সঙ্গে একটি মিটিং করার কথা থাকলেও তিনি গত ৫ মাস ধরে সেটা করেন না। এতে ইউনিয়নের উন্নয়ন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানালেও কোনো সমাধান হয়নি। আর এসব কারণে আজ তারা বাধ্য হয়ে কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছেন। এতে জনগণের ভোগান্তির কথাও স্বীকার করেন তিনি। জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, সকাল ১০টার দিকে আমি পরিষদে গিয়েছিলাম। কিন্তু চলে আসার পর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তারা কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন। সদস্যদের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। মূলত আমি অতীতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম বলে তারা আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে পরিষদে তালা দিয়েছেন। এটা সত্যিই দুঃখজনক। কারণ পরিষদ আমার ব্যক্তিগত অফিস নয়, সেটা সরকারি অফিস। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন জাগো নিউজকে বলেন, ওই ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তালা দেওয়ার বিষয়টি মুঠোফোনে জেনেছি, সেটা খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এম এ মালেক/এফএ
বিয়ে কেবল দুটি মানুষের মিলন নয়, এটি দুটি পরিবার, ভিন্ন জীবনধারা, মূল্যবোধ ও মানসিকতার সমন্বয়। তাই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু পাত্র-পাত্রীর পছন্দ বা পারিবারিক সামঞ্জস্যই নয়, বয়সের পার্থক্য নিয়েও অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে। প্রচলিত সামাজিক ধারণায় বয়সের ব্যবধান নিয়ে নানা মত রয়েছে। বিয়ের আলোচনা শুরু হলেই যে প্রশ্নটি সবার আগে উঠে আসে, তা হলো-পাত্র ও পাত্রীর বয়সের পার্থক্য কতটা হওয়া উচিত? সমাজে বহুল প্রচলিত কিছু ধারণা থাকলেও আধুনিক মনোবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিষয়টিকে একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে। সমবয়সী সম্পর্ক, গভীর বন্ধুত্ব ও সমসাময়িক দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমানে সমবয়সী বা খুব কম বয়সের ব্যবধানে বিয়ের প্রবণতা বাড়ছে। এই সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো গাঢ় বন্ধুত্ব। দুজনেই একই সময়ের সন্তান হওয়ায় জীবনের টানাপোড়েন, পছন্দ-অপছন্দ কিংবা দৃষ্টিভঙ্গি প্রায় একই রকম হয়। ফলে খুব সহজে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। তবে বয়স ও অভিজ্ঞতা সমান হওয়ায় অনেক সময় অহংবোধ, সংঘাত বা একসঙ্গে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। প্রচলিত হিসেব ও ৩-৫ বছরের ব্যবধান আমাদের সমাজে সাধারণত বর কনের চেয়ে ৩ থেকে ৫ বছর বড় হওয়াকে আদর্শ ধরা হয়। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো মানসিক পরিপক্কতা। সাধারণত একই বয়সে পৌঁছালেও নারী ও পুরুষের মানসিক পরিপক্কতা ও অভিজ্ঞতার বিকাশে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। বয়সের এই সামান্য ব্যবধান সম্পর্কে এক ধরনের নিরাপত্তা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারসাম্য তৈরি করে। ব্যবধান যখন কিছুটা বেশি বয়সের ব্যবধান ৭-১০ বছর বা তার বেশি হলে সম্পর্কের রূপরেখা কিছুটা বদলে যায়। বয়সে বড় সঙ্গী সাধারণত জীবন ও ক্যারিয়ারে স্থিতিশীল থাকেন, যা অপর সঙ্গীকে এক ধরনের অর্থনৈতিক ও মানসিক সুরক্ষা দেয়। তবে বয়সের বেশি পার্থক্যে 'জেনারেশন গ্যাপ' বা চিন্তাভাবনার পার্থক্য তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বয়স বৃদ্ধির সাসঙ্গে সঙ্গে জীবনের অগ্রাধিকার ও শারীরিক শক্তির পার্থক্যের কারণে সমঝোতার প্রয়োজন বেশি হয়। আরও পড়ুন সঙ্গীকে প্রতিদিন ১০ মিনিট সময় দিন, ব্যস্ততার মাঝেও সম্পর্ক থাকবে ঠিক সুখী দাম্পত্যের আসল ভিত্তি দাম্পত্যের স্থায়িত্ব বা আনন্দের পেছনে বয়সের পার্থক্যের ভূমিকা গৌণ। আসল ভিত্তি গড়ে ওঠে কয়েকটি বিশেষ পর্যায়ে এই যেমন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মানসিক পরিপক্কতা, উন্মুক্ত যোগাযোগ, একই জীবন লক্ষ্য থাকা উচিত। আরও পড়ুন অফিসে রসিকতার আড়ালে হয়রানি, বুঝবেন কীভাবে? এছাড়া যেকোনো সমস্যা বা ভুল বোঝাবুঝি হলে খোলাখুলি কথা বলার অভ্যাস থাকতে হবে, বয়স যাই হোক না কেন, কঠিন পরিস্থিতিতে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জীবনের মৌলিক নীতিতে মিল থাকা দাম্পত্য জীবনে বিশেষ দরকার। দিনশেষে বয়সের সংখ্যার হিসেব কেবল কাগজে-কলমেই থেকে যায়। মূল বিষয় হলো, দুটি মানুষ পরস্পরের হাত ধরে জীবনের দীর্ঘ পথ কতটা আস্থার সঙ্গে হাঁটতে প্রস্তুত। এসএকেওয়াই