জাতীয়

মুসলিম পরিবার গঠনে নারী যেভাবে ভূমিকা রাখে

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
মুসলিম পরিবার গঠনে নারী যেভাবে ভূমিকা রাখে
মুসলিম পরিবার গঠনে নারী যেভাবে ভূমিকা রাখে

একটি সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও নৈতিক সমাজব্যবস্থার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় পরিবারের অভ্যন্তরে। আর সেই পরিবারের আত্মিক কেন্দ্রবিন্দু হলো নারী। ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকারকে এতটাই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে পবিত্র কোরআনে একটি স্বতন্ত্র সুরার নামকরণ করা হয়েছে ‘সুরা নিসা’ (নারী)।

মানবজাতির সৃষ্টি পরম্পরা ও দাম্পত্য সম্পর্কের গভীর তাৎপর্য তুলে ধরে আল্লাহ–তাআলা পৃথিবীর বুকে নর–নারীর সৃষ্টিকে তাঁর কুদরতের অন্যতম বড় নিদর্শন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো—তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পারো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা রুম, আয়াত: ২১)

দাম্পত্যের মূল ভিত্তি

প্রশান্তি, ভালোবাসা ও সহানুভূতি স্বামী–স্ত্রীর পারস্পরিক আস্থা, গভীর মমত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতেই একটি আদর্শ পরিবার গড়ে ওঠে। দাম্পত্য সম্পর্কের মূল উদ্দেশ্য শুধু শারীরিক সাহচর্য নয়; বরং তা হলো আত্মিক ও মানসিক আশ্রয়।

পবিত্র কোরআনে স্ত্রীর পরিচয় দিতে গিয়ে ‘সাকিনা’ বা অন্তরের পরম শান্তির কথা বলা হয়েছে, ‘তিনিই তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকেই তার স্ত্রীকে বানিয়েছেন, যাতে সে তার কাছে শান্তি পায়।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৮৯)

সংসারজীবন কখনো শতভাগ নিখুঁত হতে পারে না; মান–অভিমান, মতভেদ কিংবা স্বভাবের ভিন্নতা আসতেই পারে। ইসলাম সেখানে পারস্পরিক ক্ষমা, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেয়।

স্ত্রীর কোনো আচরণ পছন্দ না হলেও তার ভালো গুণগুলোর দিকে তাকিয়ে সহনশীল থাকার তাগিদ দিয়ে আল্লাহ–তাআলা স্বামীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো। তোমরা যদি তাদের অপছন্দ করো, তবে এমনও হতে পারে যে আল্লাহ যাতে প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন, তোমরা তা–ই অপছন্দ করছ।’ (সুরা আন–নিসা, আয়াত: ১৯)

উত্তম স্ত্রীর বৈশিষ্ট্য

পরিবারের সামগ্রিক পরিবেশ শান্তিময় রাখতে স্ত্রীর মননশীলতা ও ইতিবাচক মনোভাবের ভূমিকা অপরিসীম। সারা দিনের কর্মব্যস্ততা ও ক্লান্তি শেষে স্বামী ঘরে ফিরে যখন স্ত্রীর মুখে স্নিগ্ধ হাসি ও উষ্ণ সান্নিধ্য পায়, তখন সব ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যায়।

একবার নবীজিকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘কোন নারী সবচেয়ে উত্তম?’ তিনি উত্তরে বললেন, ‘স্বামী যার দিকে তাকালে সে তার মন প্রফুল্ল করে দেয়, কোনো বৈধ নির্দেশ দিলে তা সানন্দে পালন করে এবং নিজের সততা ও স্বামীর সম্পদের ব্যাপারে এমন কোনো আচরণ করে না, যা স্বামীর কাছে অপছন্দনীয়।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৩২৩১)

পার্থিব মোহ ও বিভ্রান্তির পথ পরিহার পরিবারে নারীর ভূমিকা শুধু সুখের নয়, নৈতিক দিকনির্দেশনারও। কোনো স্ত্রী যদি স্বামীকে হালাল আয়ে সন্তুষ্ট থাকার অনুপ্রেরণা না জুগিয়ে অতিরিক্ত ভোগবিলাসের চাপে হারাম উপার্জনের দিকে ঠেলে দেয়, তবে সে পরিবার নৈতিকভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।

প্রয়োজন স্বামী–স্ত্রীর মধ্যকার গভীর বিশ্বাস, পারস্পরিক হক আদায় ও ত্যাগ স্বীকার। পরিবারে যদি সংঘাত ও অশান্তি বিরাজ করে, তবে তার বিষবাষ্প ধীরে ধীরে সন্তান ও সামগ্রিক সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।

ইসলামে এমন অসৎ প্ররোচনা ও অতিরিক্ত পার্থিব চাহিদাকে মারাত্মক সতর্কতার সঙ্গে দেখা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ–তাআলা মুমিনদের সতর্ক করে বলেন, ‘হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই তোমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে কেউ কেউ তোমাদের শত্রু (অর্থাৎ তাদের অতিরিক্ত মোহ তোমাদের আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে)। সুতরাং তাদের ব্যাপারে সতর্ক থেকো। তবে তোমরা যদি তাদের মার্জনা করো, এড়িয়ে চলো এবং ক্ষমা করে দাও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আত–তাগাবুন, আয়াত: ১৪)

এখানে শত্রুর অর্থ হলো এমন মোহ বা প্ররোচনা, যা মানুষকে তার ইমান ও হালাল উপার্জনের পথ থেকে বিচ্যুত করে ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে একজন স্বামীর দায়িত্ব হলো প্রজ্ঞার সঙ্গে স্ত্রীকে নসিহত করা এবং সংশোধনের চেষ্টা অব্যাহত রাখা।

সুস্থ পরিবার থেকেই সুস্থ সমাজ একটি পরিবারের সুখ–শান্তি কোনো কৃত্রিমতা বা লোকদেখানো আচার দিয়ে স্থায়ী হতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন স্বামী–স্ত্রীর মধ্যকার গভীর বিশ্বাস, পারস্পরিক হক আদায় ও ত্যাগ স্বীকার। পরিবারে যদি সংঘাত ও অশান্তি বিরাজ করে, তবে তার বিষবাষ্প ধীরে ধীরে সন্তান ও সামগ্রিক সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।

সমাজ রূপান্তরের সবচেয়ে প্রাথমিক ও মৌলিক দুর্গ হলো পরিবার। আর সেই পরিবারের প্রশান্তির চাবিকাঠি রয়েছে নারীর স্নেহ, প্রজ্ঞা ও নৈতিক দৃঢ়তার হাতে। ঘর ঠিক থাকলে তবেই একটি পরিশুদ্ধ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

  • মাহমুদ হাসান ফাহিম: আলেম ও লেখক

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
অভিনেতা-গায়ক মুকুল জামিল মারা গেছেন
অভিনেতা-গায়ক মুকুল জামিল মারা গেছেন

অভিনেতা ও গায়ক মুকুল জামিল আর নেই। রোববার রাতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন তিনি।  মুকুল জামিলের আকস্মিক মৃত্যুতে সংগীত ও অভিনয় অঙ্গনে শোক নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন অভিনয় ও সংগীতাঙ্গনের অনেকেই। মুকুল জামিলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, অভিনয়শিল্পী সংঘের সম্মানিত সদস্য মুকুল জামিল ইন্তেকাল করেছেন। তার বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। উনার প্রয়াণে আমরা গভীর শোকাহত।’ ছোটবেলা থেকে রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি ঝোঁক ছিল মুকুল জামিলের। বোনের হাত ধরেই গানে আসা। জীবনের ৩০ টির বেশি মিক্স অ্যালবামে কাজ করেছেন তিনি। একটি সলো অ্যালবাম রয়েছে, নাম ‘আমি তো এমনই’।  তার বেশ কিছু গান শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘মন’, ‘আচ্ছা’, ‘বিলবোর্ড’, ‘ভালবাসার মানে’ ও ‘ফাগুনের হাওয়া’। এ ছাড়া তার ‘চায়ের চুমুকে’ গানটি এটিএন বাংলায় প্রচারিত হয়েছে। অভিনয়ের ক্ষেত্রেও কাজ করেছেন মুকুল জামিল। ‘ওয়েডিং বেলস’ (২০১৯), ‘আমানুষ’ (২০২২) ও ‘ছাত্রী বউ’ (২০২৪)-এর মতো চলচ্চিত্রে যুক্ত ছিলেন তিনি।   এমআই/এলআইএ

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকল ডকাত দল, বৃদ্ধ দম্পতিকে জিম্মি করে লুটপাট

গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকল ডকাত দল, বৃদ্ধ দম্পতিকে জিম্মি করে লুটপাট

২০০ জনকে নিয়োগ দেবে গোল্ডেন হারভেস্ট, লাগবে না অভিজ্ঞতা

২০০ জনকে নিয়োগ দেবে গোল্ডেন হারভেস্ট, লাগবে না অভিজ্ঞতা

ভূমি অফিসে নামজারির আবেদন পেন্ডিং থাকায় দুই কর্মকর্তাকে শোকজ

ভূমি অফিসে নামজারির আবেদন পেন্ডিং থাকায় দুই কর্মকর্তাকে শোকজ

টঙ্গীতে কাভার্ডভ্যান চাপায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু
টঙ্গীতে কাভার্ডভ্যান চাপায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

  গাজীপুরের টঙ্গীতে কাভার্ডভ্যান চাপায় রাব্বি (৮) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টঙ্গী-কালীগঞ্জ  আঞ্চলিক শাখা সড়কের নতুন বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ‎নিহত রাব্বি টঙ্গীর ব্যাংকের মাঠ বস্তির সালামত মিয়ার ছেলে। সে রেলওয়ে শিশু বিদ্যানিকেতনের দ্বিতীয় শ্রেণীতে লেখাপড়া করত। ‎পুলিশ জানায়, ‎সোমবার সকালে স্কুল ছুটির পর বাসার ফিরছিলো শিশু রাব্বি। এসময় নতুন বাজার এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দিলে গুরুতর আহত হয় সে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আরও পড়ুন বিআরটিসি বাস পিষে দিলো স্কুলছাত্রকে ‎ঘটনার পর কাভার্ডভ্যান ও চালক রাসেলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম। শিহাব খান/এনএইচআর

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
কৃষকের সার গুদামে আছে, মাঠে নেই

কৃষকের সার গুদামে আছে, মাঠে নেই

‘আমার ছেলে যা হতে চায়, তা-ই হবে’: মায়ের সেই সাহসে ডায়াবেটিসকে হারিয়ে নিউইয়র্ক জয় জভেরেভের

‘আমার ছেলে যা হতে চায়, তা-ই হবে’: মায়ের সেই সাহসে ডায়াবেটিসকে হারিয়ে নিউইয়র্ক জয় জভেরেভের

নকল ও নিম্নমানের লুব্রিকেন্ট অয়েল: ঝুঁকিতে ইঞ্জিন, অর্থনীতি ও পরিবেশ

নকল ও নিম্নমানের লুব্রিকেন্ট অয়েল: ঝুঁকিতে ইঞ্জিন, অর্থনীতি ও পরিবেশ

১০০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়া শিশুটি ৭ মাস পর ফিরল পঙ্গু হয়ে
১০০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়া শিশুটি ৭ মাস পর ফিরল পঙ্গু হয়ে

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চুল কাটাতে বাড়ি ছেড়েছিল রায়হান। সাত মাস পর ফিরল ডান পা কাটা অবস্থায়। পরিবারের অভিযোগ, ভিক্ষায় নামাতে একটি চক্র তাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগী সদস্য হচ্ছে কানাডা?

ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগী সদস্য হচ্ছে কানাডা?

বিমান কি বোয়িংয়ের আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনছে?

বিমান কি বোয়িংয়ের আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনছে?

‎এশিয়ান গেমস নারী ফুটবল: বাংলাদেশের জালে উত্তর কোরিয়ার ১০ গোল

‎এশিয়ান গেমস নারী ফুটবল: বাংলাদেশের জালে উত্তর কোরিয়ার ১০ গোল

0 Comments