বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ষষ্ঠ ও সপ্তম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় সুপারিশপ্রাপ্ত ১৯৫ প্রার্থীকে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এনটিআরসিএর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিস্থাপন করা প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে এসএমএসের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রতিস্থাপন করা প্রার্থীদের নতুন প্রতিষ্ঠানের নাম ও যোগদানের তারিখ নিয়োগ সুপারিশপত্রে উল্লেখ থাকবে।
সপ্তম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির (বিশেষ) আওতায় প্রতিস্থাপন করা প্রার্থীদের এনটিআরসিএ অথবা টেলিটকের ওয়েবসাইটে গিয়ে নিয়োগ সুপারিশপত্র ডাউনলোড করতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে ষষ্ঠ নিয়োগ সুপারিশ বিজ্ঞপ্তির আওতায় প্রতিস্থাপন করা প্রার্থীদের নিজস্ব ই-মেইল থেকে সুপারিশপত্র ডাউনলোড করতে হবে।
সুপারিশপত্রে উল্লেখিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন পেতে নিজের অবস্থান জানান দিতে কয়েক শ মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন করেছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলালের বড়াইল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. আলমগীর হোসেন মোল্লা।আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে চলে এই মোটরসাইকেল শোডাউন। পরে দক্ষিণ হাটশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রায় তিন হাজার মানুষের ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়।সরেজমিন দেখা যায়, হাটশহর গ্রামের একটি ক্লাবঘরের সামনে ১০ থেকে ১২ জন রান্নার কাজে ব্যস্ত। ক্লাবঘরের ভেতরে রান্না করা বিরিয়ানি ১৭টি ডেকচিতে রাখা হয়েছে। রান্নার কাজে নিয়োজিত আকবর হোসেন বলেন, সকাল ছয়টার পর থেকে তাঁরা রান্না করছেন। ১০ মণ চাল ও ১০০ কেজি খাসির মাংস দিয়ে বিরিয়ানি রান্না করা হয়েছে।শোডাউনে অংশ নেয় কয়েক শ মোটরসাইকেলশোডাউনে অংশ নেওয়া হাটশহর গ্রামের হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আলমগীর হোসেন মোল্লা বিএনপির জন্য নিবেদিতপ্রাণ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করছেন। আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে শোডাউনে অংশ নিয়েছি।’আলমগীর হোসেন মোল্লা বড়াইল ইউনিয়নের দক্ষিণ হাটশহর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে বড়াইল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য। এর আগে তিনি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। পোলট্রি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আলমগীর হোসেন বড়াইল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য।জানতে চাইলে আলমগীর হোসেন বলেন, ‘চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রার্থিতার বিষয়টি জানান দিতেই এই আয়োজন করেছি।’ তাঁর ডাকে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা শোডাউনে অংশ নেন বলেও জানান।প্রায় তিন হাজার মানুষের ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার দলীয় প্রতীক থাকছে না। এরপরও বড়াইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশী আরও দুজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন বড়াইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজ্জাকুল হায়দার ও বিএনপি নেতা মুরশিদুল ইসলাম।
‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে সারা দেশের ৬৪ জেলায় শুরু হয়েছে শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা। এরই ধারাবাহিকতায় আজ পঞ্চগড়, মৌলভীবাজার ও কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সকাল থেকেই কৃতী শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় নানান আয়োজনে। ১৯৯৯ সালে মেধাতালিকায় সেরাদের সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে প্রথম আলোর এ আয়োজন শুরু হয়। ২০০১ সাল থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। আজ তিন জেলার আয়োজন নিয়ে ছবির গল্প...মৌলভীবাজারে কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্টল থেকে উপহারসামগ্রী সংগ্রহ করছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন, মৌলভীবাজার, ১৭ সেপ্টেম্বরজাতীয় সংগীতের মাধ্যমে মৌলভীবাজারে কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন, ১৭ সেপ্টেম্বরমৌলভীবাজারে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন শিল্পীরা। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন, ১৭ সেপ্টেম্বরমৌলভীবাজারে অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন, ১৭ সেপ্টেম্বরপঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়ামে শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রবেশ করছে শিক্ষার্থীরা। ১৭ সেপ্টেম্বরপঞ্চগড়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সেলফি তুলছে শিক্ষার্থীরা। ১৭ সেপ্টেম্বরপঞ্চগড়ে কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা। ১৭ সেপ্টেম্বরপঞ্চগড়ে অনুষ্ঠানে কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে অতিথিরা। ১৭ সেপ্টেম্বরকক্সবাজারে প্রথম আলো এক্সপেরিয়েন্স জোনে গেম খেলে পুরস্কার জিতছে শিক্ষার্থীরা। ১৭ সেপ্টেম্বরকক্সবাজারে শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করছে ‘আনপ্রিপেয়ার্ড ওয়ার’ ব্যান্ড। ১৭ সেপ্টেম্বরকক্সবাজারে ব্যান্ড সংগীতের সঙ্গে জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ মেলাচ্ছে কৃতী শিক্ষার্থীরা। ১৭ সেপ্টেম্বরকক্সবাজারে শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা। ১৭ সেপ্টেম্বরকক্সবাজারে কৃতী শিক্ষার্থীদের অটোগ্রাফ দিচ্ছেন ‘কিশোর আলো’ সম্পাদক আনিসুল হক। ১৭ সেপ্টেম্বর
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে পুলিশ কিছুই করতে পারবে না—এমন বক্তব্যের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।পুলিশের একাধিক সূত্র অডিওর কণ্ঠটি তাঁর বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে। তবে আজ বৃহস্পতিবার জারি করা ডিএমপির আদেশে প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হয়েছে।ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা ওই আদেশে রাকিবুল হাসানকে ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশটি আজ থেকেই কার্যকর হবে। এ বিষয়ে ওসি রাকিবুলের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।গতকাল বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওসি পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সমালোচনা করতে শোনা যায়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ওসি পদায়নে টাকা লেনদেনের অভিযোগও করেন তিনি।অডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘জানি যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসতেছে। কিচ্ছু হবে না আসলে, কিচ্ছু হবে না। আপনারা তো চিন্তা করতে পারছেন, রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল। ভয়ানক দুর্বল। আসা উচিত। ডিসেম্বর দেরি হয়ে গেছে। এই মাসে আসা উচিত ছিল। চলে আসলি এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না।’অডিওতে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘সিনিয়র অফিসার সব বিএনপি করতেছে। আমরা তো বিএনপি করতেছি না। সব সিনিয়ররা বিএনপি করতেছে, আমরা বিএনপি করতেছি না। এই করার জন্য তো আমরা ডিপার্টমেন্টে আসি নাই। তোমরা খাবা-দাবা, … নিয়ে থাকবা, আর আমরা এখানে বসে বসে কাজ করব, তা তো হবে না।’মনির নামে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার গাড়িচালক থানার ওসি পদায়ন করছেন বলেও বলা হয় ওই অডিওতে। অডিও তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এগুলো সহ্য করা যায়? আর কী বলব? যারা পেস্টিং পাইতেছে তার (মনির) কাছে টাকা দিচ্ছে, সকাল বেলা পেস্টিং হইতেছে।’ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে অডিওর বক্তা বলেন, তাঁর লজ্জা থাকা উচিত। তাঁর চাকরি ছিল না। এখন যে পদে আছেন, সেখানে এক বছর থাকতে পারলে ১০০ কোটি টাকা এমনিতেই হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।ওসি পদায়ন নিয়ে অডিওতে ওই ব্যক্তিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কমিশনার যারা ছিল, তারা ওসি পেস্টিংয়ে টাকা নেয় নাই। যত ওসি বেনজীরের আমলে ছিল, টাকায় কোনো সময় বদলি হয় নাই।’ এখানে তিনি সাবেক আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। অডিওতে এই পুলিশ কর্মকর্তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘ডিএমপি, ঢাকা, বাংলাদেশের রাজধানী, ক্যাপিটাল সিটি। এখানকার ওসিরা টাকা দিতে যাবে কেন? এখানে ওসিরা এমনিই যাবে। তোমাদের কাজ করে নিয়ে তোমরা টাকা উঠিয়ে নিবা।’ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কীভাবে কাজ করে দিয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতার বিষয়ে ওসি রাকিবুলকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি ভাটারায় একটা কাজ করে দিছি এক স্যারকে। স্যার এক কোটি টাকা নিছে। আমি তো জানতাম না।... (অস্পষ্ট কথা) আমার সাথে শুধু সম্পর্কটা আছে। এই হলো অবস্থা! এইভাবে চাকরি করা যাবে নাকি? অযোগ্য লোকগুলোরে কোন জায়গা ঢুকায় (পদায়ন দেয়) আর যোগ্য লোকগুলোকে চিপা-চাপায় রাখছে।’