আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন করার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেও ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করতে পারেনি কমিশন। পরীক্ষা, রমজান ও নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়গুলো সমন্বয় করে সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাতে আরও কিছু কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে এই বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, আগামী বছরের ৬ জুন এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগেই নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। তবে ভোট কবে শুরু হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ব্যাপারে আজকের সভায় আমি যদি এক লাইনে কনক্লুশন বলি, সবাই সম্মত হয়েছেন যে আমাদেরকে এই নির্বাচনটা পারতপক্ষে ৬ জুনের আগেই সম্পন্ন করতে হবে, এইচএসসি পরীক্ষার আগে।’
ভোটের জন্য সময় খুঁজছে ইসি
ইউপি নির্বাচন কবে থেকে শুরু হতে পারে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ বলেন, ‘আগে তো আমাকে স্লটটা পেতে হবে নির্বাচন করার জন্য।’ তিনি জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে পরীক্ষা থাকায় এ সময়ে খুব কম বিরতি পাওয়া যাচ্ছে।
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া যাচ্ছে। এরপর ফেব্রুয়ারির শুরুতে রোজা। রোজা শেষ হওয়ার পরপরই এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়া থেকে ৬ জুন এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর মধ্যেও কিছুটা সময় পাওয়া যাচ্ছে। এই সীমিত সময়ের মধ্যে কীভাবে নির্বাচনের আয়োজন করা যায়, তা নিয়ে আরও সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
বৈঠকে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, বন্যার কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে যে প্রভাব পড়েছে, তা এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে। পরীক্ষা যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুরোধ জানিয়েছেন।
এসব উদ্বেগ যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি জানান, বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে। নির্বাচনের বাজেট পরিকল্পনাসহ আরও কিছু কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। এসব কাজ শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো হবে।
সম্ভাব্য সময়সূচি থেকে সরে আসেনি কমিশন
আগে জানানো ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি থেকে ইসি সরে এসেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ বলেন, ‘মোটেও না।’
নির্বাচন কমিশনার জানান, আগের সময়সূচিটি ছিল সম্ভাব্য। প্রাক্প্রস্তুতিমূলক সভার আলোকে সেটি তৈরি করা হয়েছিল। তখনই বলা হয়েছিল, ১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পর সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে।
সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা সামান্যতম কোনোখান থেকে সরে আসি নাই।’ আজকের বৈঠকে পাওয়া তথ্য–উপাত্তের ভিত্তিতে সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনার ওপর সংশ্লিষ্ট সবাই মতামত দিয়েছেন জানিয়ে সানাউল্লাহ বলেন, এসব বিষয় নিয়ে কমিশনে আলোচনা হবে। কর্মকর্তা ও সচিব পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজ সম্পন্ন করবেন ইসি সচিব।
ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে স্থানীয় সরকারের অন্য নির্বাচনগুলোর বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘অন্যান্য নির্বাচনের ব্যাপারেও আমরা আইন অনুযায়ী যখন যেটা করার প্রয়োজন, তখন সেটা করব।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তবিভাগ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ইতিহাস ও চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচ শেষে স্লেজিং (কটুকথা) ও জয় উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। আহত আবু সুয়াইব মোহাম্মদ জিম ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও ফুটবল দলের গোলরক্ষক।শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেলা তিনটায় শুরু হওয়া ম্যাচের নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে শেষ হয়। পরে টাইব্রেকারে ইতিহাস বিভাগ জয় পায়। এ সময় দুই বিভাগের দর্শকদের মধ্যে স্লেজিং নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও দুই বিভাগের শিক্ষকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রাফসান আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘ম্যাচজুড়েই ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের খেলোয়াড়েরা গালিগালাজ ও আক্রমণাত্মক আচরণ করছিলেন। ম্যাচ জয়ের পর আমরা স্বাভাবিকভাবে উদ্যাপন করছিলাম। তখন তাঁদের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক আমাদের এক খেলোয়াড়কে আক্রমণ করেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়। একপর্যায়ে তাঁদের একজনের হাতে থাকা ইটের আঘাতে আমাদের ডিফেন্ডার জিম ভাইয়ের মাথা ফেটে যায়। পরে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মেডিক্যালে নেওয়া হয়েছে।’ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।তবে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসান জামান বলেন, পেনাল্টি শুটআউটের সময় গ্যালারি থেকে স্লেজিং চলছিল। ইতিহাস বিভাগ জয়ী হওয়ার পর গ্যালারি থেকে তাঁদের গোলরক্ষককে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। বিষয়টি জানাতে গেলে ইতিহাস বিভাগের কয়েকজন খেলোয়াড় তাঁর দিকে তেড়ে আসেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি শুরু হয়। এতে তাঁদের কয়েকজন খেলোয়াড়ও আহত হয়েছেন।শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রোকসানা বেগম (টুকটুকি) বলেন, মারামারি শুরু হলে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাই, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হোক। যারা অপরাধী, প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে খেলাগুলো স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে।’এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি পুরোপুরি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।’
নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও পণ্যের সর্বশেষ উদ্ভাবন নিয়ে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চলছে ‘ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো এবং অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো’। তিন দিনের এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি নিরাপত্তা পণ্য ও সাইবার নিরাপত্তা প্রযুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে। দেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা পণ্য নির্মাতা, সরবরাহকারী, আমদানিকারক, সফটওয়্যার ও সাইবার নিরাপত্তা খাতের উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ দিতে যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে আই-স্টেশন লিমিটেড ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি।প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। এই আয়োজন শুধু প্রযুক্তির প্রদর্শন নয়, বরং নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি, নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং সরকারি-বেসরকারি খাতে অংশীদারি বৃদ্ধির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। সরকার দেশের ইলেকট্রনিক ও সাইবার নিরাপত্তায় বিদেশি সুরক্ষা শিল্প খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির মহাসচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, দেশের দ্রুত ডিজিটালাইজেশন ও শিল্পায়নের সঙ্গে নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে হবে। নিরাপত্তা এখন শুধু ভবন বা সম্পদ রক্ষার বিষয় নয়; মানুষের নিরাপত্তা, তথ্য, ডিজিটাল ব্যবস্থা, ব্যবসা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষাও এর অংশ।আই-স্টেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মধু সুদন সাহা বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় স্মার্ট ও সংযুক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এই বাস্তবতায় প্রদর্শনীটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে।সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সহসভাপতি মো. ওয়াহিদুল হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশের দ্রুত ডিজিটালাইজেশন, শিল্পায়ন ও নগরায়ণের সঙ্গে নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষার গুরুত্বও বাড়ছে। নিরাপত্তা এখন শুধু ভবন বা ভৌত সম্পদ রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ডিজিটাল নিরাপত্তা, তথ্য, নেটওয়ার্ক, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, ব্যবসা ও মানুষের নিরাপত্তাও এর অংশ।’আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রদর্শনীতে ১০টি দেশের প্রায় ১৫০টি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান নিজেদের তৈরি হালনাগাদ প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিপণ্য প্রদর্শন করছে। শুধু পণ্য প্রদর্শন নয়, আয়োজনে নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিল্প খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুটি সেমিনার আয়োজন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে প্রযুক্তির সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও সুরক্ষা খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং এবং কার্যকর সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।
কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্যের জন্যই টাঙ্গাইলে তৈরি শাড়িগুলো যেন ভিন্ন আমেজ নিয়ে আসে। সহজেই পরা যায় যেকোনো উৎসবে। পাশাপাশি স্টাইল ও আরাম দুটোই পাওয়া যায় এই শাড়িতে।ব্লক প্রিন্ট, হ্যান্ডস্টিচ, কড়ির কাজ—টাঙ্গাইলের থান শাড়ির ওপরনতুন প্রজন্ম তাঁতে বসছে না। তাহলে আর কয়েক বছর পর কি পাওয়া যাবে না তাঁতে বোনা শাড়ির হদিস? টাঙ্গাইলের শাড়ি নিয়ে কথা বলতে গেলে শাড়ি বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে এমন আশঙ্কার কথা প্রায়ই শোনা যায়। অথচ টাঙ্গাইলে এখনো নানা ধরনের শাড়ি তৈরি হচ্ছে। সুতি, সিল্ক, সিনথেটিক—নানা ধরনের কাপড়ে হচ্ছে নানা রকমের কাজ।দেশীয় উৎসব কিংবা বিয়ের আয়োজন—সব ক্ষেত্রেই টাঙ্গাইলের তাঁতে বোনা শাড়ির আবেদন আলাদা। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে এই শাড়ি। ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর ভারতের নয়াদিল্লির লালকেল্লায় অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ইউনেসকোর ‘রিপ্রেজেন্টেটিভ লিস্ট অব দ্য ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’তে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয় টাঙ্গাইল শাড়ির বয়নশিল্প। বাংলাদেশের ষষ্ঠ অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে টাঙ্গাইলের বয়নশিল্প জায়গা করে নেয় ইউনেসকোর তালিকায়। এর আগে ২০২৪ সালে টাঙ্গাইল শাড়ি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতিও পেয়েছে। দেশের বাইরে যে শাড়ির এমন জয়জয়কার, দেশের উৎসব-আয়োজনেও তার উপস্থিতি থাকবে না, তা কি হয়? টাঙ্গাইল শাড়িতে নকশি কাজ। শাড়ি পরার ঢংয়ে আধুনিকতাঈদ, পূজা, বিয়ে, বৈশাখে কিংবা অন্য যেকোনো উৎসব—বাঙালির নানা আয়োজনে টাঙ্গাইলের শাড়ির কদর এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। সময়ের সঙ্গে নকশা ও বুননে পরিবর্তন এলেও নিজের স্বাতন্ত্র্য ধরে রেখেছে এই শাড়ি।টাঙ্গাইল শাড়িতে আগে বুটির কাজ দেখা যেত বেশি। তখন জ্যাকার্ডে বোনা শাড়ির পরিমাণ ছিল কম। পাড় ছিল ছোট, আঁচলও তেমন ছিল না। মিরপুরের তাঁতিদের সহায়তা নিয়ে শাড়িতে আঁচল বসানো শুরু করেন টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরের স্বত্বাধিকারী মুনিরা এমদাদ।‘নকশা’র ফটোশুটের জন্য শাড়ি নেওয়ার সময় দেখাচ্ছিলেন টাঙ্গাইলে তৈরি নানা ধরনের শাড়িগুলো। তিনি জানালেন, শাড়ি বা পোশাকে শিবোরি, টাই–ডাই, ব্লক প্রিন্ট, এমব্রয়ডারিসহ অনেক ধরনের কাজ করাচ্ছেন। কিন্তু কাপড়টি বুনিয়েছেন টাঙ্গাইল থেকে। টাঙ্গাইলে বোনা কাপড় দিয়ে বানানো হচ্ছে নানা ধরনের পোশাক আর স্কার্ফ। হাতে বোনা বুটি শাড়ির দাম একটু বেশি। কিন্তু এই শাড়িগুলো যেন বনেদি আভিজাত্যের প্রকাশ। মেশিনে শাড়ি বোনা হলে দাম কমে আসে অনেকটাই। নকশা আর বুননের ভিন্নতা অনুযায়ী শাড়ির পাড়গুলোর নামও কিন্তু আলাদা—পাতি পাড়, চুড়ি পাড়, ঘষা পাড়।কিস্তিতে জামদানি শাড়ি পাওয়া যায় কোথায়, কী কী সুবিধা পাবেনশাড়ির বৈশিষ্ট্য কী ঢাকার ছোট-বড় বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে দেখলেই আলাদা করে চেনা যায় টাঙ্গাইলের শাড়িঢাকার ছোট-বড় বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে দেখলেই আলাদা করে চেনা যায় টাঙ্গাইলের শাড়ি। কিছু বৈশিষ্ট্যই শাড়িগুলোকে যেন আলাদা করে ফেলে। মুনিরা এমদাদ, স্বত্বাধিকারী, টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরআমাদের আবহাওয়া, নদী, গ্রামের গাছের গল্পই তুলে ধরে টাঙ্গাইল শাড়ি। আমাদের অন্য পোশাকে অতটা ভালো লাগে না, যতটা তাঁতের শাড়িতে মানায়, এটা আমার কাছে মনে হয়। টাঙ্গাইলের শাড়ি কম দামেও পাবেন, বেশি দামেও পাবেন। সুন্দর একটা ব্লাউজ দিয়ে একটু গুছিয়ে পরলে সাজে আভিজাত্য চলে আসে।এটা ঠিক টাঙ্গাইলের শাড়ি, শুনলে অনেকে মনে করেন উৎসবে পরার উপযোগী নয়। আটপৌরে সাদামাটা হয়ে যায় নকশা। শাড়িটি কীভাবে পরছেন, স্টাইল করেছেন কীভাবে, সেটার ওপর কিন্তু নির্ভর করে অনেক কিছু। টাঙ্গাইলের শাড়ির যে সহজাত সৌন্দর্য, সেটাও কিন্তু সুন্দর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর রং-নকশায় পরিবর্তন এসেছে। ফ্যাশন হাউসগুলোর সংগ্রহের দিকে তাকালেও সেটা বোঝা যায়। আদি শাড়িতেও চলে এসেছে আধুনিক রূপ।খুঁতের স্বত্বাধিকারী এবং ডিজাইনার ফারহানা হামিদ ও ঊর্মিলা শুক্লা জানান, বাংলাদেশের একেক জায়গায় একেক রকম শাড়ি বোনা হয়। সুতাতেও দেখা যায় ভিন্নতা। টাঙ্গাইলের শাড়িগুলোয় অনেক মিহি বুনন থাকে। আরাম লাগে পরতে। শাড়িটি কীভাবে পরছেন, স্টাইল করেছেন কীভাবে, সেটার ওপর কিন্তু নির্ভর করে অনেক কিছুদ্বিতীয়ত, শাড়িগুলো মজবুতও হয় বেশি। টাঙ্গাইল শাড়ির আরেকটি বিশেষত্ব পাড়ের নকশা এবং জমিনের ভেতরে থাকা বুটি। ওই বুটির জন্যই টাঙ্গাইলের শাড়ি যেন বিশেষ। টাঙ্গাইলের শাড়িতে তাঁতে বোনা পাড় যেমন আছে, তেমনি থান শাড়িও আছে। এ ধরনের শাড়ির টেক্সচার হয় খুবই মসৃণ। ব্লক প্রিন্ট, টাই–ডাই, শিবরি—নানা ধরনের কাজ দেখা যায় এ ধরনের শাড়ির ওপর। খুঁতে মূলত ব্লক প্রিন্ট, হ্যান্ডস্টিচ—এ ধরনের কাজ করা হয় টাঙ্গাইলের থান শাড়ির ওপর। এই শাড়িগুলোই বেশি কেনেন ক্রেতারা। ধোয়ার পরও টাঙ্গাইল শাড়ি হাতে-বহরে কমে না। বর্তমানে ব্লাউজ পিসসহ এই শাড়ির দৈর্ঘ্য ১৪ হাত।কোটা দিয়ে শাড়ি ছাড়াও বানানো যায় নানা ধরনের পোশাক, দেখুন ৭টি ছবিনানা ধরনের তাঁতের শাড়ি টাঙ্গাইলে বোনা সিল্কের শাড়িতে চেকের নকশাতিন ধরনের তাঁতে তৈরি হয় টাঙ্গাইলের শাড়ি—হাতে চালানো গর্ত তাঁত (পিটলুম)আধা স্বয়ংক্রিয় (চিত্তরঞ্জন তাঁত)বিদ্যুৎ-চালিত তাঁত (পাওয়ার লুম)এ কারণে শাড়ির উপকরণেও চলে এসেছে বৈচিত্র্য। টাঙ্গাইল শাড়ি বলতে সুতি শাড়িকেই যে বোঝানো হতো, সেই ধারণা এখন পুরোনো। টাঙ্গাইলে সুতি শাড়ির পাশাপাশি মার্সেরাইজড সুতি, হাফ সিল্ক, সিল্ক, অ্যান্ডি, সিনথেটিক শাড়িও বোনা হচ্ছে। টাঙ্গাইলের শাড়িতে মূলত ৬০ কাউন্ট, ৮০ কাউন্ট এবং ৮০ বাই ৮০ কাউন্টের সুতা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বেশির ভাগ শাড়ি ৮০ বাই ১০০, ৮০ বাই ৮০ অথবা ৬০ বাই ৮০ কাউন্টের। টাঙ্গাইলে ৫০০ টাকার শাড়িও যেমন পাওয়া যায়, আবার ৫০ হাজার টাকার শাড়িও পাওয়া যায়।জয়া আহসানের এই জামদানি শাড়ি দুজন তাঁতি বুনেছেন চার মাসে