জাতীয়

প্রার্থিতা জানান দিতে কয়েক শ মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন, তিন হাজার মানুষের ভূরিভোজ

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
প্রার্থিতা জানান দিতে কয়েক শ মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন, তিন হাজার মানুষের ভূরিভোজ
প্রার্থিতা জানান দিতে কয়েক শ মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন, তিন হাজার মানুষের ভূরিভোজ

আসন্ন ‎ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন পেতে নিজের অবস্থান জানান দিতে কয়েক শ মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন করেছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলালের বড়াইল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. আলমগীর হোসেন মোল্লা।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে চলে এই মোটরসাইকেল শোডাউন। পরে দক্ষিণ হাটশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রায় তিন হাজার মানুষের ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, হাটশহর গ্রামের একটি ক্লাবঘরের সামনে ১০ থেকে ১২ জন রান্নার কাজে ব্যস্ত। ক্লাবঘরের ভেতরে রান্না করা বিরিয়ানি ১৭টি ডেকচিতে রাখা হয়েছে। রান্নার কাজে নিয়োজিত আকবর হোসেন বলেন, সকাল ছয়টার পর থেকে তাঁরা রান্না করছেন। ১০ মণ চাল ও ১০০ কেজি খাসির মাংস দিয়ে বিরিয়ানি রান্না করা হয়েছে।

শোডাউনে অংশ নেয় কয়েক শ মোটরসাইকেল

শোডাউনে অংশ নেওয়া হাটশহর গ্রামের হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আলমগীর হোসেন মোল্লা বিএনপির জন্য নিবেদিতপ্রাণ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করছেন। আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে শোডাউনে অংশ নিয়েছি।’

‎আলমগীর হোসেন মোল্লা বড়াইল ইউনিয়নের দক্ষিণ হাটশহর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে বড়াইল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য। এর আগে তিনি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। পোলট্রি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আলমগীর হোসেন বড়াইল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য।

জানতে চাইলে ‎আলমগীর হোসেন বলেন, ‘চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রার্থিতার বিষয়টি জানান দিতেই এই আয়োজন করেছি।’ তাঁর ডাকে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা শোডাউনে অংশ নেন বলেও জানান।

প্রায় তিন হাজার মানুষের ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার দলীয় প্রতীক থাকছে না। এরপরও ‎বড়াইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশী আরও দুজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন বড়াইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজ্জাকুল হায়দার ও বিএনপি নেতা মুরশিদুল ইসলাম।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
৫০০ কুমিরের আবাস, সেই ফিটজরয় নদীতেই অলিম্পিকের রোয়িং
৫০০ কুমিরের আবাস, সেই ফিটজরয় নদীতেই অলিম্পিকের রোয়িং

অস্ট্রেলিয়ার রকহ্যাম্পটনের ফিটজরয় নদী, যেখানে রাজত্ব করে প্রায় ৫০০ নোনাপানির ভয়াল কুমির। অথচ সেই নদীকেই কিনা ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের রোয়িং এবং ক্যানোয়িং ইভেন্টের ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে! জায়গাটি ব্রিসবেন থেকে প্রায় ৫৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।একটি স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন শেষে ফিটজরয় নদীকে ক্যানোয়িংয়ের উপযুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়। তবে মজার ব্যাপার হলো, এই মূল্যায়নে কুমিরের বিষয়টি মাথাতেই রাখা হয়নি! পর্যালোচনায় মূলত অলিম্পিকের সময় এবং তার আগের সময়ে আবহাওয়া, জলের স্তর ও বন্যার ঝুঁকি কতটা, তা দেখা হয়েছে।গেমস ইনডিপেনডেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন অথরিটি জানিয়েছে, এই ফ্ল্যাটওয়াটার ফ্যাসিলিটি (যেখানে স্রোতের গতি কম) ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয়। এখানে নিয়মিত স্কুলপর্যায়ের প্রতিযোগিতা, স্থানীয় রেগাটা (একধরনের ইয়ট প্রতিযোগিতা) এবং জাতীয় দলের ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেহেতু এটি নিয়মিত রোয়িং ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাই নদীতে কুমির দেখা গেলে নিরাপত্তার জন্য সুনির্দিষ্ট ‘কন্টিনজেন্সি প্ল্যান’ বা জরুরি ব্যবস্থা রাখা আছে। অ্যাথলেটদের নিরাপত্তার বিষয়ে অলিম্পিক কর্মকর্তাদের আগেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।রিও অলিম্পিকে ক্যানোয়িংয়ের দৃশ্যওয়ার্ল্ড রোয়িং এবং প্যাডেল ওয়ার্ল্ডওয়াইড (সাবেক ইন্টারন্যাশনাল ক্যানো ফেডারেশন)—দুই সংস্থাই এই ভেন্যুকে সবুজ সংকেত দিয়েছে। ওয়ার্ল্ড রোয়িংয়ের সভাপতি জিন-ক্রিস্টোফ রোল্যান্ড জানান, ‘বিস্তৃত বিশ্লেষণের পর আমরা নিশ্চিত যে অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক রোয়িংয়ের নিয়ম মেনে ফিটজরয় নদী একটি সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা উপহার দিতে সক্ষম।’অন্যদিকে প্যাডেল ওয়ার্ল্ডওয়াইড সভাপতি টমাস কোনিয়েটজকো বলেন, ‘কারিগরি মূল্যায়নের পর অ্যাথলেটদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে। ক্যানো স্প্রিন্টের জন্য এটি চমৎকার একটি ট্র্যাক হতে যাচ্ছে।’ব্যালন ডি’অরে কীভাবে নির্ধারিত হয় বিজয়ী, কারা দেন ভোটনদীতে বিশাল আকৃতির কুমিরের উপস্থিতি নিয়ে গত বছর অবশ্য বিতর্ক উড়িয়ে দিয়েছিলেন ব্রিসবেন ২০৩২-এর সভাপতি অ্যান্ড্রু লিভারিস। তিনি সরাসরি বলেছিলেন, ‘সমুদ্রে তো হাঙরও থাকে, তাই বলে কি আমরা সার্ফিং বন্ধ রাখি? “পারব না” মানসিকতা বাদ দিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করুন।’ভেন্যু চূড়ান্ত হওয়ার পর তিনি যোগ করেন, ‘এই স্বীকৃতি আমাদের পরিকল্পনাকে এক ধাপ এগিয়ে দিল।’উল্লেখ্য, স্থানীয়ভাবে ‘সল্টি’ নামে পরিচিত এই নোনাপানির কুমিরগুলো স্বাদু ও লোনা, দুই ধরনের পানিতেই বিচরণ করতে পারে। দৈর্ঘ্যে এরা ছয় মিটারের বেশি বড় হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ভয়াল সব কুমিরকে পাশ কাটিয়ে অলিম্পিক গেমসে কীভাবে রোমাঞ্চ আর নিরাপত্তার মেলবন্ধন ঘটে!এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট: জানার আছে যা কিছু

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য জমা পড়েছে কোন ৫ সিনেমা

অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য জমা পড়েছে কোন ৫ সিনেমা

হাতিয়ায় জেলেদের জালে ৭ মণ ওজনের বিক্রিনিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ

হাতিয়ায় জেলেদের জালে ৭ মণ ওজনের বিক্রিনিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ

নিরাপত্তা ও সুরক্ষার আধুনিক প্রযুক্তিপণ্য নিয়ে ঢাকায় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী শুরু

নিরাপত্তা ও সুরক্ষার আধুনিক প্রযুক্তিপণ্য নিয়ে ঢাকায় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী শুরু

গুলশান ও ধানমন্ডিসহ রাজধানীর একাধিক লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
গুলশান ও ধানমন্ডিসহ রাজধানীর একাধিক লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমন্ডি লেকের দূষণ রোধ এবং পরিবেশগত উন্নয়নে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। লেকগুলোতে পয়োবর্জ্য প্রবেশ বন্ধ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। তিনি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ বলেন, বৈঠকে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার লেকগুলোর বর্তমান অবস্থা, দূষণের উৎস এবং সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ধানমন্ডি লেকের সংস্কার, স্লাজ (কাদাময় বর্জ্য) অপসারণ ও পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।এ ছাড়া গুলশান লেকে পয়োবর্জ্য প্রবেশের উৎস ও মাধ্যম হিসেবে ছয়টি প্রাইমারি এবং ছয়টি সেকেন্ডারি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব। তিনি বলেন, এসব পয়েন্ট দিয়ে লেকে দূষিত পানি ও পয়োবর্জ্য প্রবেশ করছে। সমস্যা সমাধানে গঠিত কারিগরি কমিটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ উপস্থাপন করে। লেকের দূষণ রোধে পয়োবর্জ্য প্রবেশের পথ বন্ধ, ভবনভিত্তিক এসটিপি স্থাপন এবং বিদ্যমান স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের বিস্তারিত জরিপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গুলশান-বনানী এলাকায় শর্তসাপেক্ষে স্যুয়ারেজ বিল আদায় এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে ক্যাচমেন্ট এরিয়া বা পানি সংগ্রহের জন্য এলাকা তৈরির বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়।লেকের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ভাসমান বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা দুটি থেকে বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভাসমান এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৈঠকে ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী প্রযোজ্য ভবনগুলোতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসটিপি স্থাপন নিশ্চিত করার বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়া বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পয়োনিষ্কাশন লাইন সরাসরি বৃষ্টির পানির ড্রেন বা লেকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করে অবৈধ সংযোগ বন্ধে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুপারিশ করা হয়।এ ছাড়া বৈঠকে লেকের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ানোর যন্ত্র (এরেটর) স্থাপন, দুর্গন্ধ দূর করতে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক নির্মাণের প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়।তা ছাড়া রাজউকের আওতাধীন লেকগুলোর সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিতে ইতিমধ্যে ৪২ জন জনবলের সমন্বয়ে পাঁচটি বিশেষ টিম নিয়োজিত করা হয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।এ সময় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
বিশ্ব এমন এক সন্ধিক্ষণে, এমন পরিস্থিতি কমই দেখেছি: অধ্যাপক কৌশিক বসু

বিশ্ব এমন এক সন্ধিক্ষণে, এমন পরিস্থিতি কমই দেখেছি: অধ্যাপক কৌশিক বসু

গল্প আর নির্মাণে চয়নিকার ২৫ বছর

গল্প আর নির্মাণে চয়নিকার ২৫ বছর

টাঙ্গাইল শাড়ির বৈশিষ্ট্যগুলো জানেন কি

টাঙ্গাইল শাড়ির বৈশিষ্ট্যগুলো জানেন কি

0 Comments