খেলাধুলা

ফুটবল উন্মাদনায় ভাসল জামালপুর

হোসেন মাঝি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ফুটবল উন্মাদনায় ভাসল জামালপুর
ফুটবল উন্মাদনায় ভাসল জামালপুর

গ্যালারিতে তিলধারণের জায়গা নেই। মাঠের চারপাশে দাঁড়িয়ে আছেন শত শত মানুষ। গোলের সুযোগ তৈরি হলেই একসঙ্গে উঠে আসে হাজারো কণ্ঠের চিৎকার, আর বল গোলপোস্টের দিকে যেতেই উল্লাসে কেঁপে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। কেউ বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে, কেউ গ্যালারির রেলিং ধরে, আবার কেউ উঁচু জায়গায় উঠে খেলা দেখছেন।

বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জামালপুর স্টেডিয়াম যেন পরিণত হয় মানুষের আবেগের এক বিশাল মিলনমেলায়। জামালপুর জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল দেখতে আসা দর্শকদের এ ঢল আর উন্মাদনাই বলে দিচ্ছিল—ফুটবল এখনো বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের আবেগের জায়গা।

আজ রোববার দুপুর থেকেই জামালপুরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। বিকেলের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কমতেই ফুটবলপ্রেমীদের ঢল নামতে শুরু করে বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুল হাকিম স্টেডিয়ামে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুপুরের পর থেকেই দলে দলে মানুষ আসতে থাকেন ফাইনাল খেলা দেখতে। খেলা শুরু হওয়ার অনেক আগেই ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। গ্যালারিতে আর জায়গা না পেয়ে অসংখ্য দর্শক মাঠের ভেতরে ঢুকে দাঁড়িয়ে খেলা দেখেন। ফুটবল খেলা দেখতে মানুষের এই উপচে পড়া ভিড় যেন বলে দিচ্ছিল—জামালপুরে ফুটবল এখনো মানুষের আবেগেরই আরেক নাম।

মাঠ ছাপিয়ে ভিআইপি গ্যালারির ওপরে উঠে খেলা উপভোগ করেন দর্শকেরা। আজ বিকেলে জামালপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুল হাকিম স্টেডিয়ামে

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফাইনাল খেলা শুরু হয় জেলার মেলান্দহ ও সরিষাবাড়ী উপজেলার মধ্যে। এ ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়, তখন ফুটবল ম্যাচের উত্তেজনা এবং নাটকীয়তা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। আর টাইব্রেকারে বল যখন জালে জড়াচ্ছিল, উল্লাসে কেঁপে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। টাইব্রেকারে এই খেলায় সরিষাবাড়ী উপজেলা ৪-৩ গোলে বিজয়ী হয়েছে।

মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর এলাকা থেকে খেলা দেখতে এসেছিলেন তরুণ মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ। দুই দলের খেলা ও দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় দেখে মুগ্ধ হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুই দলের খেলাই আমাকে মুগ্ধ করেছে। তবে এর চেয়েও বেশি অভিভূত হয়েছি দর্শকদের দেখে। জামালপুরের কোনো মাঠে এর আগে এত মানুষ একসঙ্গে খেলা দেখতে এসেছেন বলে আমার মনে পড়ে না। আজ আবার মনে করিয়ে দিল—ফুটবল মানুষের কতটা প্রিয় খেলা।’

জামালপুর পৌর শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকার বাসিন্দা রাজু আহাম্মেদ বলেন, ‘আজ স্টেডিয়ামে এসে মনে হলো, জামালপুরে ফুটবলের সেই পুরোনো আবেগ এখনো হারিয়ে যায়নি। এত মানুষ শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে এসেছেন—এটাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ। গোলের সুযোগ হলেই চারপাশ থেকে যে চিৎকার উঠছিল, মনে হচ্ছিল পুরো স্টেডিয়াম একসঙ্গে খেলাটার সঙ্গে মিশে গেছে। এমন দৃশ্য সত্যিই অনেক দিন পর দেখলাম।’

দুই দলের খেলোয়াড়দের বল দখলের লড়াই। আজ বিকেলে জামালপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুল হাকিম স্টেডিয়ামে

জামালপুর শহরের বানিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা তুহিন মিয়া বলেন, ‘আজকের ম্যাচে একমুহূর্তের জন্যও চোখ সরানোর উপায় ছিল না। দুই দলই একের পর এক আক্রমণ করেছে। গোলের সুযোগ তৈরি হলেই গ্যালারিতে হাজারো মানুষ একসঙ্গে উঠে দাঁড়াচ্ছিলেন। মনে হচ্ছিল, মাঠের ২২ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে গ্যালারির হাজারো মানুষও যেন খেলাটার অংশ হয়ে গেছেন।’

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এ কে এম আবদুল্লাহ-বিন-রশিদ বলেন, প্রায় ৫০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই খেলার মধ্য দিয়ে জামালপুর জেলার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, ‘শুধু একটি ফুটবল ম্যাচকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও আশাব্যঞ্জক। এটি জামালপুরের ক্রীড়াঙ্গনের নতুন করে জেগে ওঠারও একটি শক্তিশালী বার্তা।’

জেলা প্রশাসন, জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ২৩ আগস্ট থেকে জামালপুর স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়। এতে জামালপুর সদর উপজেলা, জামালপুর পৌরসভা, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা, বকশীগঞ্জ উপজেলা, ইসলামপুর উপজেলা, মেলান্দহ উপজেলা, মাদারগঞ্জ উপজেলা ও সরিষাবাড়ী উপজেলা অংশ নেয়। আজ ফাইনাল ম্যাচ ছিল।

চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা একাদশ ও দর্শনা পৌরসভা একাদশের খেলোয়াড়দের মধ্যে বল দখলের লড়াই

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার ও জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ।

চুয়াডাঙ্গায় পৌরসভা একাদশ জয়ী
চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬। আজ বিকেলে চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

খেলার নির্ধারিত সময়ে দুই সহোদর শাকিল ও মহিবুলের দেওয়া জোড়া গোলের সুবাদে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা একাদশ দর্শনা পৌরসভা একাদশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করে। এদিন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা দলের শাকিলকে ম্যান অব দ্য ম্যাচ ঘোষণা করা হয়। আগামীকাল সোমবার বিকেলে একই মাঠে মুখোমুখি হবে আলমডাঙ্গা উপজেলা ও জীবননগর উপজেলা একাদশ।

বিকেল চারটায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন উড্ডয়ন ও কবুতর অবমুক্তকরণের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। পরে শাহ আলমের লেখা ও সুরে এবং হাসিবুল ইসলাম ও জান্নাতুল ফেরদৌস নেরিপার কণ্ঠে গাওয়া থিম সংয়ের সঙ্গে নৃত্যশিল্পীদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য ও ডিসপ্লে দর্শকদের হৃদয়ে জয় করে। নৃত্য পরিচালনা করেন জাহিদ হাসান ও সৌম্যজিতা শ্রুতি।

খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মাঠমুখী করা এবং মাদক, বাল্যবিবাহ ও উত্ত্যক্তের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির বার্তাও উঠে আসে এই আয়োজনে। আর মাঠে দর্শকদের উচ্ছ্বাস বলছে, চুয়াডাঙ্গায় ফুটবলের সেই পুরোনো উন্মাদনা এখনো অটুট।

জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলি, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান, সিভিল সার্জন হাদী মো. জিয়াউদ্দিন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরিফুজ্জামান। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্রের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি এম তারিক উজ জামান।

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই টুর্নামেন্টে জেলার চারটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভার দল অংশ নিচ্ছে। আয়োজকদের আশা, টুর্নামেন্টের মাধ্যমে জেলার ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে এবং তরুণদের মধ্যে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

খেলাধুলা

View more
রোমাঞ্চকর ফাইনালে শ্রীলংকাকে হারিয়ে পাকিস্তানের শিরোপা জয়
রোমাঞ্চকর ফাইনালে শ্রীলংকাকে হারিয়ে পাকিস্তানের শিরোপা জয়

শ্রীলংকাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শনিবার ফাইনালে ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন ফখর জামান, সাদ বেগ ও আরাফাত মিনহাস।

D HASAN নভেম্বর ১, ২০২৬ 0
সাফকে গুরুত্ব দিচ্ছে না ভারত, পাঠাচ্ছে দ্বিতীয় সারির দল

সাফকে গুরুত্ব দিচ্ছে না ভারত, পাঠাচ্ছে দ্বিতীয় সারির দল

ফিরলেন জাকের-হাসান, লিড দেড়শ অতিক্রম করল

ফিরলেন জাকের-হাসান, লিড দেড়শ অতিক্রম করল

CLUB GRADUATE'S CHAMPION TROPHY

জমকালো ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এর চ্যাম্পিয়ন দল পাবে প্রাইজ মানি ৫০,০০০/- টাকা

0 Comments