বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে আনন্দ-উচ্ছ্বাস নিয়ে বাড়ি ফিরছিল একটি পরিবার। কিন্তু চট্টগ্রামের কর্ণফুলী সেতু পার হয়ে কলেজ বাজার এলাকায় পৌঁছাতেই সেই আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় বিষাদে। ইউটার্নে একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে কনের ভাই-বোন, মামা ও মাইক্রোবাসচালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কনের বাবা-মাসহ আরও ছয়জন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কলেজ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—কনের ছোট ভাই নিয়াজ মোরশেদ (২৩), ছোট বোন মিনতাহ (২১), মামা ফেরদৌস আলম ফিরোজ (৬০) এবং মাইক্রোবাসচালক হাসান মাহমুদ মুন্না (৩৮)। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান কনের বড় মামা ফেরদৌস আলম ফিরোজ। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান নিয়াজ মোরশেদ, মিনতাহ ও মাইক্রোবাসচালক হাসান মাহমুদ মুন্না।
নিয়াজ মোরশেদ ও মিনতাহ ঈদগাঁও উপজেলা সদরের মাইজপাড়ার মনজুর আলমের সন্তান। ফেরদৌস আলম ফিরোজ ঈদগাঁওয়ের পোকখালীর পশ্চিম গোমাতলীর চরপাড়ার মৃত আবদুল করিম দফাদারের ছেলে। তিনি ঈদগাঁও বাসস্টেশনে আরাফাত শপিং কমপ্লেক্স নামে একটি মার্কেট গড়ে সেখানেই অবস্থান করতেন।
অন্যদিকে মাইক্রোবাসচালক হাসান মাহমুদ মুন্না ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নতুন অফিস এলাকার মোস্তাক আহমেদের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাইক্রোবাস চালাতেন বলে জানিয়েছেন মাইক্রো-কার সমিতির লাইন পরিচালক রোকন।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন, কনের বাবা মনজুর আলম (৫৮), মা নিলুফা ইয়াসমিন(৪৮), নিহত ফিরোজের বউ আরেফা বেগম (৫০), কনের চাচাত ভাই হেলাল উদ্দিন(৪৫), মনজুরের ছোট ভাই মীর কাশেম (৫৫) ও বন্ধু আবুল কালাম (৫৮)।
জানা গেছে, পরিবারের মেঝ মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে। শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতিতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলে। অনুষ্ঠান শেষে কনের বাবা-মা, ভাই-বোন, মামা-মামী ও চাচা-চাচিসহ স্বজনরা মাইক্রোবাসে করে কক্সবাজারের ঈদগাঁও সদরের মাইজপাড়ার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
কনের চাচা ও ঈদগাঁও সেন্ট্রাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মামুনুর রশীদ জানান, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে সুন্দরভাবেই বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হয়। সবকিছু গুছিয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু কর্ণফুলী সেতু পার হয়ে টোল প্লাজা অতিক্রমের পর কলেজ বাজার এলাকায় পৌঁছালে একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির সংঘর্ষ হয়।
তিনি বলেন, ‘চাচাতো ভাই মনজুর আলম দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়েকে ঈদগাঁওতে এবং মেঝ মেয়েকে বাঁশখালীতে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বরের স্বজনদের চাহিদা অনুযায়ী চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। সুন্দরভাবেই বিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে এমন দুর্ঘটনা ঘটবে, কেউ ভাবেনি।’
মনজুর আলমের প্রতিবেশী ও ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী ছৈয়দ আলম বলেন, মনজুর পরিবারটা গোছাতে প্রবাস থেকে একেবারে চলে এসেছিল। বাবার ভিটায় দু-রুমের একটি বাড়ি করেও সন্তানদের পড়ালেখার স্বার্থে চট্টগ্রামে অবস্থান করতেন। বড় দুই মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করে বাকি দুজনকে গুছিয়ে দেওয়ার আগেই আল্লাহ শেষ দুই বাচ্চাকে একসঙ্গে নিয়ে গিয়ে নিঃস্ব করে দিয়েছে। মনজুরের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জেনেছি। এ দুর্ঘটনা এলাকাবাসীকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছে।
নিহতদের স্বজন স্থানীয় মেম্বার বজল আহমদ বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহগুলো এলাকায় আনা হচ্ছে। এশার নামাজের পর ঈদগাঁও হাই স্কুল মাঠে তাদের জানাজা শেষে নিয়াজ মোরশেদ, মিনতাহা ও তাদের মামা ফেরদৌস আলম ফিরোজকে মেহেরঘোনা কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মারমা বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। এটা খুবই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। বিয়ের আনন্দটা বিষাদে রূপ নিয়েছে একটি দুর্ঘটনায়। পরিবারের অন্য স্বজনদের বিধাতা ধৈর্য ধারণের তাওফিক দিন।’
সায়ীদ আলমগীর/কেএইচকে/এএসএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি জনতা কলেজের মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়ে মেশিনগানের একটি কার্তুজ পেয়েছে এক শিক্ষার্থী। ওই শিক্ষার্থী এটিকে খেলনা মনে করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে কার্তুজটি উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কলেজ মাঠে ফুটবল খেলছিল নবম শ্রেণির ছাত্র জিহাদুল ইসলাম জিসান। একপর্যায়ে মাঠে যাওয়া বল আনতে গিয়ে গাছের নিচে ইটের ফাঁকে তামার মতো দেখতে একটি বস্তু দেখতে পায় সে। পরে খেলনা ভেবে এটি বাড়িতে নিয়ে যায় জিসান। রোববার টিফিনের সময় বন্ধুদের বস্তুটি দেখানোর পর বিষয়টি স্থানীয় জিহাদ হোসাইনের নজরে আসে। তিনি বস্তুটি দেখে সন্দেহ প্রকাশ করে সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন। পরে দুমকি থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্তুজটি উদ্ধার করেন। শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম জিসান বলে, ফুটবল খেলার সময় বল আনতে গিয়ে গাছের নিচে ইটের ফাঁকে তামার মতো দেখতে বস্তুটি দেখতে পাই। খেলনা মনে করে বাড়িতে নিয়ে আসি। পরদিন বড় ভাই জিহাদ হোসাইনকে দেখালে তিনি পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে এটি কার্তুজ বলে জানায়। দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি মেশিনগানের কার্তুজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি কীভাবে কলেজ চত্বরে এলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাহমুদ হাসান রায়হান/এসআর/এএসএম
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে গোসলরত নারীদের গোপনে মোবাইলে ছবি ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পুকড়া ইউনিয়নের কাটখাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেন। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, কয়েক দিন আগে কাটখাল গ্রামের একটি রাস্তার পাশের পুকুরে পুকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী লুৎফুর রহমানের পক্ষের কয়েকজন নারী গোসল করছিলেন। এ সময় স্থানীয় এরাজত মিয়ার পক্ষের দুই ছেলের বিরুদ্ধে তাদের গোপনে মোবাইল ফোনে ছবি ধারণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর জেরে রোববার দুপুরে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয়পক্ষের নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হন। গুরুতর আহতদের হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক বলেন, গোসলরত নারীদের গোপন ছবি মোবাইল ফোনে ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/কেএইচকে/এএসএম
রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:মোঃ কামরুল ইসলাম, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পাহাড় ধ্বস এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাঙ্গামাটি সদর জোন। আজ ১১ জুলাই সকালে রাঙ্গামাটি সদর ও কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া ৮০টি পরিবারের মাঝে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার সকালে রাঙ্গামাটি সদর জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ একরামুল রাহাত, পিএসসি রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র ও সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ আশ্রয় কেন্দ্র এবং কাউখালী উপজেলার আর টি এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ঘাগড়া আশ্রয় কেন্দ্র) পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত ভুক্তভোগী মানুষের সাথে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।পরিদর্শন শেষে জোন কমান্ডার উক্ত আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর ৮০টি পরিবারের সর্বমোট ২০৪ জন সদস্যের হাতে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন।ত্রাণ বিতরণকালে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্প ও ঘাগড়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডারগণ, সাপছড়ি ও ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।রাঙ্গামাটি সদর জোন সূত্রে জানানো হয়েছে, চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে উদ্ধার, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের পাশে সেনা সদস্যরা সর্বদা নিয়োজিত রয়েছেন।