অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম আর পায়ের নিখুঁত ড্রিবলিংয়ে নজর কেড়েছে উদীয়মান কিশোর ফুটবলার মো. মানিক। মদনপুর আলোর পাঠশালার ষষ্ঠ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী ফুটবলের সবুজ মাঠে এখন বুনছে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন।
মানিক এক সাধারণ পরিবারে বেড়ে উঠছে। তার বাবা মো. সুমন দিনমজুর এবং মা রিনা বেগম গৃহিণী। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে বড়। সংসারের টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও ছেলের ফুটবলের প্রতি আগ্রহকে উৎসাহিত করে চলেছেন তার বাবা-মা।
ছোটবেলা থেকেই বলের প্রতি আলাদা টান মানিকের। একা একাই চলত ড্রিবলিং ও শট প্র্যাকটিস। মদনপুর আলোর পাঠশালার আন্তঃশ্রেণি ফুটবল প্রতিযোগিতা ও স্থানীয় বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়ে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকবার সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতে নিয়েছে সে।
নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে মানিক বলে, ‘আমার মূল লক্ষ্য কঠোর পরিশ্রম করে একদিন জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া। জামাল ভূঁইয়া ও তপু বর্মণদের মতো লাল-সবুজের জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করতে আমি যেকোনো কষ্ট করতে রাজি।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সমাজের মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে বিপুল সম্পদ। বৈষম্য এখন আকাশ ছুঁতে যাচ্ছে। বৈষম্য অগ্রহণযোগ্য মাত্রায় পৌঁছেছে। আমাদের সামনে নীতিগত বিকল্প কী আছে, তা নিয়ে নতুন করে চিন্তা করা দরকার। কথাগুলো বলেছেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু।আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সৈয়দ হুমায়ুন কবীর স্মৃতি গবেষণা সম্মেলন ২০২৬’–এ মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক কৌশিক বসু। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চ্যুয়ালি এই সম্মেলনে যুক্ত হন তিনি।বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু বলেছেন, বিশ্ব একটি সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেটা এর আগে কমই দেখা গেছে। এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।অধ্যাপক কৌশিক বসু বলেন, প্রচলিত শ্রমের চাহিদা কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ শ্রমের মাধ্যমে আয় করে জীবিকা নির্বাহ করে। ফলে এমন একটি চাপ বা সংকটের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সংকট উত্তরণে জ্ঞান, নৈতিক চিন্তা, সামাজিক উদ্যোগ, গবেষণা ও সক্রিয়তা—এই বিষয়গুলোকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে হবে।বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশন ও সাজেদা ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। ‘ন্যায্যতা, সক্ষমতা ও জীবনকুশলতা’ শিরোনামের সম্মেলনের এ পর্বে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান। এ পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ জাভেদ চৌধুরী। সূচনা বক্তব্য দেন সাজেদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ফারুক সোবহান ও ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষণা উপদেষ্টা সাজেদা আমিন।অধ্যাপক কৌশিক বসু বলেন, ‘আজ সময় এসেছে উন্নয়ন বলতে আমরা আসলে কী বুঝি এবং আমাদের সামনে কী ধরনের নীতিগত বিকল্প রয়েছে—এসব বিষয় নিয়ে নতুন করে চিন্তা করার। এর কারণ হলো, বিশ্ব এমন এক সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার মতো পরিস্থিতি আমরা খুব কমই দেখেছি। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে—অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক সংকট, মেরুকরণ ও সংঘাত। এর পেছনে আসলে কী ভুল হচ্ছে, আমরা এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারছি না। কী ঘটছে, তা বোঝার জন্য আমাদের সবচেয়ে ভালো মেধা ও চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। যাতে বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে পাওয়া যায়।’অধ্যাপক কৌশিক বসুজিডিপির একটি তুলনামূলক বড় অংশ এখন মুনাফা, আয় ও মেধাস্বত্ব থেকে আসছে এবং শ্রমিকদের কাছে যে অংশটি যাচ্ছে, তা কমছে বলে উল্লেখ করে কৌশিক বসু বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশে—ভারত বা বিশ্বের অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির ক্ষেত্রেও একই ধরনের কথা প্রযোজ্য—আমাদের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ শ্রমের মাধ্যমে আয় করে জীবিকা নির্বাহ করে। ফলে আমরা এমন একটি চাপ বা সংকটের লক্ষণ দেখতে শুরু করেছি, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।’পৃথিবীতে বৈষম্য এখন অগ্রহণযোগ্য মাত্রায় পৌঁছেছে বলে মনে করেন অধ্যাপক কৌশিক বসু। এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, সমাজের অতি ক্ষুদ্র একটি অংশের হাতে বিপুল সম্পদ ও আয় কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। সমাজের শীর্ষ ০.১ শতাংশ মানুষের সঙ্গে বাকি জনগোষ্ঠীর বৈষম্য। বর্তমান বৈষম্যের একটি নতুন দিক হলো, অর্থনৈতিক ক্ষমতা শুধু সম্পদ ও ভোগের ক্ষমতায় সীমাবদ্ধ থাকছে না, তা মানুষের কণ্ঠস্বরের ওপরও প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, আগে অতি ধনী ব্যক্তিরা বেশি বাড়ি, গাড়ি, বিমান বা জাহাজ কিনতে পারতেন। এখন বিপুল সম্পদের অধিকারীরা সংবাদপত্র, টেলিভিশন স্টেশন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো মানুষের মতামত গঠনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমের মালিকানাও অর্জন করতে পারেন। ফলে অর্থনৈতিক বৈষম্য এক পর্যায়ে ‘কণ্ঠস্বরের বৈষম্যে’ রূপ নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।এ ধরনের পরিস্থিতি গণতন্ত্রের জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে উল্লেখ করেন কৌশিক বসু। এ প্রসঙ্গে ভারতের গ্রামপর্যায়ের কিছু গবেষণার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সভায় সাধারণ মানুষ নিজেদের সমস্যার কথা বললেও ক্ষমতাবান বা অতি ধনী ব্যক্তি উপস্থিত হলে অনেক সময় সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর স্তিমিত হয়ে যায়। বিশ্বপর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও মতপ্রকাশের মাধ্যমগুলোর ওপর অতি ধনীদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।১৭৫০ থেকে ১৮৫০ শতকে শিল্পবিপ্লবের সময়ের উল্লেখ করে অধ্যাপক কৌশিক বসু বলেন, একদিকে ছিল নতুন জ্ঞান ও শক্তিশালী চিন্তা, অন্যদিকে ছিল সামাজিক আন্দোলন ও নৈতিক অবস্থান। এই দুটির সম্মিলিত শক্তিই বিশ্বকে সেই সংকটময় সময় থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছিল। শিশুশ্রম বন্ধ, কর্মঘণ্টা কমানোর দাবি উঠেছিল। আজ আমরা অনেকটা একই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে আছি এবং আমাদেরও এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। এ জায়গায় একাডেমিক গবেষণার বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই আমাদের এই বিভিন্ন শক্তিকে—জ্ঞান, নৈতিক চিন্তা, সামাজিক উদ্যোগ, গবেষণা ও সক্রিয়তা—এ বিষয়গুলোকে একই আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে হবে। এর লক্ষ্য হবে বিশ্বকে সবার জন্য একটি উন্নততর অবস্থার দিকে এগিয়ে নেওয়া।
নিহত আশরাফুল ইসলাম‘ওই ঘরেই আলাদা কক্ষে আমার বৃদ্ধ মা শুয়েছিল। বাচ্চাদের কান্না শুনে আমার মা ঘুম থেকে জেগে ঘরের দরজা খুলে দেন। গিয়ে দেখি দুই সন্তানকেই কুপিয়েছে আকলিমা। আকলিমা কীভাবে এটা পারল? নিজের সন্তানকে কি কেউ মেরে ফেলতে পারে?কথাগুলো বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত শিশু মো. আশরাফুল ইসলামের বাবা শাহীন মিয়া। আশরাফুলকে (৩ বছর ৪ মাস) ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা আকলিমা বেগমের (৩২) বিরুদ্ধে।ছুরিকাঘাতে আশরাফুলের সৎবোন সিদরাতুল মুনতাহাও (৭) গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সখীপুর উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুজিবনগর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ আকলিমাকে আটক করেছে।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে শাহীন মিয়া (৫০) নাসিমা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাঁদের কোনো সন্তান না হওয়ায় নাসিমার সম্মতিতে প্রায় পাঁচ বছর আগে আকলিমাকে বিয়ে করেন শাহীন। আকলিমার আগের ঘরের মেয়ে সিদরাতুল মুনতাহাকেও তিনি নিজের সংসারে নিয়ে আসেন। বিয়ের প্রায় এক বছর পর আকলিমার ঘরে আশরাফুলের জন্ম হয়।আশরাফুলের বয়স যখন প্রায় এক বছর, তখন আকলিমা ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। চাকরির কারণে মুনতাহা ও আশরাফুলকে বাড়ি রেখে যান তিনি। বড় মা নাসিমার কাছেই দুই সন্তান বড় হতে থাকে। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, আশরাফুল নাসিমাকে ‘মা’ বলে ডাকত।তিন দিন আগে পোশাক কারখানা থেকে সাত দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন আকলিমা। রাতে আশরাফুল বড় মায়ের সঙ্গে থাকতে চাইলে এ নিয়ে নাসিমা ও আকলিমার মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে আশরাফুল আকলিমার ঘরেই ছিল। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘুম থেকে উঠে সে বড় মায়ের ঘরে যেতে চায়। এ সময় আকলিমা ক্ষিপ্ত হয়ে আশরাফুল ও মুনতাহাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন বলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য।আশরাফুলের বাবা শাহীন মিয়া আজ বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে থানায় বসে প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত রাত ১০টার দিকে আমি বাড়িতে আসি। আশরাফুলের ঠান্ডা–কাশি ছিল। শ্বাস নিতে পারছিল না। গ্যাস দেওয়ার মেশিন আগেই বাড়িতে কেনা ছিল। পরে আমি তাকে গ্যাস দিই।’শাহীন মিয়া বলেন, ‘আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওর মা আকলিমা আলাদা ঘরে আশরাফুলকে নিয়ে ঘুমাতে যায়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ছেলে ও মেয়ের কান্না শুনি। ওই ঘরেই আলাদা কক্ষে আমার বৃদ্ধ মা শুয়েছিল। বাচ্চাদের কান্না শুনে আমার মা ঘুম থেকে জেগে ঘরের দরজা খুলে দেন। গিয়ে দেখি দুই সন্তানকেই কুপিয়েছে আকলিমা।’পরে বাড়ির লোকজন ওই ঘরে গিয়ে আকলিমাকে আটক করেন। পরে তাঁকে বাড়ির উঠানে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়।স্থানীয় লোকজন আহত দুই শিশুকে প্রথমে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুলকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গুরুতর আহত মুনতাহাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহিনুর রহমানের ভাষ্য, দুই সন্তানকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার পর আকলিমা নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাঁর বাঁ হাতে ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।নিহত আশরাফুলের বাবা শাহীন মিয়া বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজহারুল ইসলাম।
সর্বজনীন পেনশন স্কিমে পেনশনারের মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বা স্ত্রী কিংবা নমিনির পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর হবে। চালু করা হবে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম। এ ছাড়া সরকারি মালিকানাধীন যেসব কোম্পানিতে পেনশন দেওয়া হয় না, সেসব কোম্পানির কর্মীদের নিয়ে আসা হবে ‘প্রগতি’ স্কিমে। কোন কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এর আওতায় আসবেন এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন হবে, তা পরে নির্ধারণ করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক শেষে এসব কথা জানান কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠক শেষে মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, পেনশনার নিজে আজীবন পেনশন পাবেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীকে ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন–সুবিধা দেওয়া হবে। আগে এ সুবিধার বয়সসীমা ছিল ৭৫ বছর।মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য আলাদা পেনশন ও আনুতোষিকের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির অনেক কর্মী সেই ব্যবস্থার বাইরে। তাঁদের সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে জানানো ও নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির ইসলামিক বা শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে পরিচালনা পর্ষদ। মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, এ স্কিমের কাঠামো ও পরিচালনপদ্ধতি নির্ধারণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও স্থানীয় পরামর্শকেরা কাজ করছেন। অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে আলাদা বিধিমালা প্রণয়নের পর শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালু করা হবে।জানানো হয়, ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর বয়সে পেনশন দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অ্যাকচুয়ারিয়াল পরামর্শ নিয়ে বিষয়টি পরে আবার পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করা হতে পারে। বর্তমানে পেনশন শুরুর বয়স ৬০ বছর। মো. সুরাতুজ্জামান উদাহরণ দিয়ে জানান, বিভিন্ন দেশে পেনশন শুরুর বয়স ৬২, ৬৬ বা ৬৭ বছর। বাংলাদেশেও মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। তাই ৫৫ বছর বয়সে পেনশন দেওয়ার প্রস্তাবটি আর্থিক ও জনমিতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে পর্যালোচনা করা হবে।সর্বজনীন পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ঋণ দেওয়া হলে তহবিলের কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন নিশ্চিত করা এবং অংশগ্রহণকারীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা বিবেচনায় নিয়ে অ্যাকচুয়ারিয়াল নির্দেশনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।পেনশন কর্মসূচির সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা চালুর বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোন মডেলে এটি চালু করা হবে এবং এতে তহবিলের ওপর কী ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে মুনাফা দেওয়ার বিষয়েও এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।বিদ্যমান পেনশন–ব্যবস্থায় একবার কোনো কর্মসূচিতে ঢুকলে আর বের হওয়ার সুযোগ নেই। কেউ চালিয়ে নিতে না পারলে জমা টাকা ‘মার’ যেত। এ নিয়ম বদল করার দাবি ছিল গ্রাহকদের দিক থেকে। বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে নিয়ম বদলের প্রস্তাব ছিল। পাঁচ বছর অর্থ জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক কারণে অক্ষম হয়ে পড়লে পেনশনগ্রহীতাকে বিশেষ বিবেচনায় অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া নিয়ে আলোচনা হলেও এ প্রস্তাব পাস হয়নি বৈঠকে।সর্বজনীন পেনশনে নতুন নিবন্ধন বাড়াতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে। নিবন্ধনের জন্য আগে ১৫ টাকা দেওয়া হলেও এখন তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আর্থিক কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ করতে সরকারি নিরীক্ষার পাশাপাশি একটি বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।