জাতীয়

সৌদির তেল স্থাপনায় হামলা, এখন কী করবে তুরস্ক-পাকিস্তান?

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
সৌদির তেল স্থাপনায় হামলা, এখন কী করবে তুরস্ক-পাকিস্তান?
সৌদির তেল স্থাপনায় হামলা, এখন কী করবে তুরস্ক-পাকিস্তান?

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা ও একই সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুথিদের বড় ধরনের অগ্রগতি নতুন করে বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে- মাত্র এক মাস আগে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এবার বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে? চুক্তির অন্যতম অংশীদার সৌদি আরব যখন ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলার মুখে, তখন অন্য দুই অংশীদার পাকিস্তান ও তুরস্ক কি সামরিকভাবে পাশে দাঁড়াবে, নাকি কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ঘিরে সাম্প্রতিক হামলার কারণে। প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি সৌদির পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল পৌঁছে দেয়। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ এটি। হামলার পর সৌদি আরব সাময়িকভাবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিয়েছে।

ব্রিটিশ রয়টার্স জানিয়েছে, পাইপলাইনটি প্রতিদিন সর্বোচ্চ প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমান।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক অগ্রগতি। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী কৌশলগত মায়ুন বা পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ও এর আগে গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দরও দখল করেছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে এই অবস্থান হুথিদের লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর চাপ সৃষ্টির সক্ষমতা বাড়িয়েছে। ফলে সৌদি তেল অবকাঠামোয় হামলা এখন শুধু একটি দেশের নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

মক্কা চুক্তিতে আসলে কী আছে?

চলতি বছরের ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তির মূল বক্তব্য হলো, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর লক্ষ্য যৌথ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র শক্তিশালী করা। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং বহিঃআক্রমণের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষার কাঠামো হিসেবে তৈরি হয়েছে।

তবে এখানেই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় রয়েছে। চুক্তিতে হামলা হলে যৌথ প্রতিরক্ষার নীতি থাকলেও কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে হবে, কত দ্রুত নিতে হবে কিংবা কোন বাহিনী কোথায় মোতায়েন হবে- এসবের পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ্য কাঠামো এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে সৌদির ওপর হুথিদের হামলা চুক্তির রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরীক্ষা হলেও এর অর্থ এই নয় যে পাকিস্তান ও তুরস্ক অবিলম্বে ইয়েমেনে সেনা পাঠাবে।

বরং ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠকে চুক্তির কাঠামো আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে যৌথ প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে। সৌদি আরবে চুক্তির একটি সচিবালয়ও গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তানের একজন কর্মকর্তা এবং তিনি তিন বছর দায়িত্ব পালন করবেন।

পাকিস্তানের সামনে সবচেয়ে কঠিন সমীকরণ

সৌদির পাশে সামরিকভাবে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে জটিল অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। একদিকে রিয়াদের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা ও সামরিক সম্পর্ক। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কও ইসলামাবাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার ওপর পাকিস্তান বর্তমানে সৌদি-ইরান উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।

সৌদির সাম্প্রতিক হামলার পর পাকিস্তান এরই মধ্যে ইরানকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছে ও তেহরানের কাছে সৌদি বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, মক্কা চুক্তির আওতায় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে এখন পর্যন্ত আলোচনা হয়নি। ইসলামাবাদ চুক্তির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেও তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেনি।

এখানেই পাকিস্তানের কৌশলটি পরিষ্কার। দেশটি চুক্তির বাধ্যবাধকতা অস্বীকার করতে চাইছে না, কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পথেও যেতে চাইছে না। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অবশ্য এর আগে সতর্ক করেছিলেন, সৌদির ওপর হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় হতে পারে। অর্থাৎ ইসলামাবাদ এখনো কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিলেও পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সামরিক প্রতিশ্রুতির প্রশ্নটি সামনে আসতে পারে।

তুরস্ক কি সামরিকভাবে এগিয়ে আসবে?

তুরস্কের অবস্থানও পাকিস্তানের মতো সরাসরি যুদ্ধের দিকে যাওয়ার চেয়ে ধাপে ধাপে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে বলে মনে হচ্ছে। হুথিদের সৌদি হামলার তুরস্ক কঠোর নিন্দা করেছে এবং সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইয়েমেনে সরাসরি তুর্কি সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো ঘোষণা আসেনি।

তুরস্কের জন্য বিষয়টি আরও বড় আঞ্চলিক কৌশলের অংশ। মক্কা চুক্তির মাধ্যমে আঙ্কারা সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। একই সময়ে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিয়েও তুরস্ক আঞ্চলিক উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে। ফলে আঙ্কারার সম্ভাব্য ভূমিকা প্রথম ধাপে গোয়েন্দা তথ্য, বিমান প্রতিরক্ষা, সামরিক সমন্বয়, নৌ-নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতার মতো ক্ষেত্রে বাড়তে পারে- সরাসরি ইয়েমেনে যুদ্ধ করা তার প্রথম পছন্দ নাও হতে পারে।

চুক্তির প্রথম বড় পরীক্ষা

মক্কা চুক্তির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা আসলে এখানেই। চুক্তির ভাষায় তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা অন্য দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এখন সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো ও ভূখণ্ডে একের পর এক হামলা সেই নীতিকে বাস্তব পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করিয়েছে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সম্ভাব্য দৃশ্যপট হলো- পাকিস্তান ও তুরস্ক প্রথমেই সরাসরি ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু করবে না; বরং সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, গোয়েন্দা ও সামরিক সমন্বয়, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধির মাধ্যমে চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। কিন্তু হুথিদের হামলা যদি আরও বড় আকার নেয় এবং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ শহর, তেল স্থাপনা বা বন্দরকে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তখন মক্কা চুক্তির যৌথ প্রতিরক্ষা ধারা বাস্তবে সক্রিয় করার চাপ দ্রুত বাড়বে।

আর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, এই সংঘাত শুধু সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ইরান, পাকিস্তান ও তুরস্ককেও সামরিকভাবে টেনে নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মক্কা চুক্তি একদিকে তিন দেশের নিরাপত্তা জোট হিসেবে শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পাবে, অন্যদিকে এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার ঝুঁকিও তৈরি করবে।

বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালি যখন ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত ও বাব আল-মান্দেবেও হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে, তখন সৌদি তেল রপ্তানির বিকল্প পথও ঝুঁকিতে পড়ছে। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। ফলে মক্কা চুক্তির পরবর্তী পদক্ষেপ শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে এশিয়া, ইউরোপসহ বিশ্বের জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতাও।

সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স, জেরুজালেম পোস্ট

এসএএইচ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিল্পের সক্ষমতা নির্ভর করবে দক্ষ মানবসম্পদের ওপর
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিল্পের সক্ষমতা নির্ভর করবে দক্ষ মানবসম্পদের ওপর

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ক্রমেই দক্ষ মানবসম্পদ, হাতে-কলমে শিক্ষা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের ওপর নির্ভর করবে। গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গুলশানে বিসিসিসিআই কার্যালয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চের আট শিক্ষার্থীর সম্মানে আয়োজিত প্রি-ডিপারচার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষার্থীরা চীনের ঝেজিয়াং এগ্রিকালচারাল বিজনেস কলেজে কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বিসিসিসিআইয়ের সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের ব্যক্তিগত উদ্যোগের প্রশংসা করেন। আরও পড়ুন ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেশি ঘুরে এসে দুর্যোগের মুখে এমটি নিনেমিয়া বাণিজ্য সচিব বলেন, এ ধরনের সময়োপযোগী ও অনুকরণীয় উদ্যোগ বাংলাদেশের উন্নয়ন, বিশেষ করে টেক্সটাইল খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বেসরকারি খাতের নেতৃবৃন্দের এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণের মূল্যবান সুযোগ তৈরি করে এবং জাতীয় স্বার্থে অনুরূপ উদ্যোগ নিতে অন্য ব্যবসায়ী নেতাদেরও উৎসাহিত করবে। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কারিগরি জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে নীতিগত আলোচনা ও বাস্তবায়নের মধ্যকার দূরত্ব কমাতেও এসব কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)- এর সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম আশা করেন, এ উদ্যোগ শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কারিগরি জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরিতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আরও পড়ুন পিডিবি-বিপিসি / লোডশেডিং কমাতে ফার্নেস অয়েলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর বিসিসিসিআই সভাপতি বলেন, বিশ্বের ৪৬টি দেশের শিল্পকারখানা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা থেকে পরিচ্ছন্ন উৎপাদন পরিবেশ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, জ্বালানি দক্ষতা এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তিসহ বৈশ্বিক সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণের গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়। তিনি চীনে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের এ সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করার আহ্বান জানান। চীনের শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও আধুনিক কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে তা দেশে ফিরিয়ে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে বিসিসিসিআইয়ের এ উদ্যোগের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। চীনে প্রশিক্ষণে যেতে যাওয়া এনআইটিইআরের শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি ও প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন। আইএইচও/কেএসআর

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় অবহেলা বা গাফিলতির সুযোগ নেই

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় অবহেলা বা গাফিলতির সুযোগ নেই

বহু বছরের বন্ধুত্ব, ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল তারা আসলে আপন বোন

বহু বছরের বন্ধুত্ব, ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল তারা আসলে আপন বোন

কলকাতায় ইলিশের দামে আগুন, মিলছে না বড় মাছ

কলকাতায় ইলিশের দামে আগুন, মিলছে না বড় মাছ

বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন-গুলিসহ নারী গ্রেফতার
বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন-গুলিসহ নারী গ্রেফতার

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও সাত রাউন্ড গুলিসহ রোজিনা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তার স্বামী মো. রুবেল হোসেন (৪৮) পালিয়ে যান। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আলাইপুর (নাপিতপাড়া) গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেফতার রোজিনা খাতুন ওই গ্রামের রুবেল হোসেনের স্ত্রী। পুলিশ জানায়, শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা ডিবি পুলিশ জানতে পারে, রুবেল হোসেনের বসতবাড়িতে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি মজুত রয়েছে। পরে জেলা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোমিনুল হাসানের নেতৃত্বে একটি দল রাত ৮টার দিকে ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রোজিনা খাতুন পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে নিজ শয়নকক্ষের খাটের নিচে রাখা একটি সাদা বড় পলিথিনে মোড়ানো শপিং ব্যাগ তল্লাশি করে দুটি কাঠের বাট সদৃশ অবৈধ বিদেশি পিস্তল, তিনটি খালি ম্যাগাজিন ও সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, অভিযানের সময় রুবেল হোসেন কৌশলে পালিয়ে যান। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার রোজিনা খাতুনের বিরুদ্ধে বাঘা থানায় একটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে পলাতক রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন থানায় ১৩টি, নরসিংদী জেলায় একটি এবং কুষ্টিয়া জেলায় একটি-মোট ১৫টি মামলা রয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার রোজিনা খাতুন ও পলাতক রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে বাঘা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, অস্ত্র ও গুলিসহ এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার নারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মনির হোসেন মাহিন/কেজে/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
খরচের চাপে ফিকে একসঙ্গে ৩ সন্তা‌ন জন্মের আনন্দ

খরচের চাপে ফিকে একসঙ্গে ৩ সন্তা‌ন জন্মের আনন্দ

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামি বললেন, ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলেন’

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামি বললেন, ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলেন’

ছাত্রদলের নতুন কমিটি এখনো হয়নি, কারণ কী

ছাত্রদলের নতুন কমিটি এখনো হয়নি, কারণ কী

0 Comments