কিশোরগঞ্জ হাওরে ভোরে হালকা বৃষ্টির মধ্যেই মাছ ধরতে গিয়েছিলেন চাচা-ভাতিজা। কিন্তু বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন দুজন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের চংনোয়াগাঁও হাওরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, চংনোয়াগাঁও গ্রামের মৃত ইসহাক মিয়ার ছেলে শাহ আলম (৩৮) এবং একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মোকাররম হোসেন (২৪)। সম্পর্কে তারা আপন চাচা-ভাতিজা।
স্থানীয়রা জানান, ভোরে জাল নিয়ে গ্রামের সামনের হাওরে মাছ ধরতে যান শাহ আলম ও মোকাররম। কিছুক্ষণ পর হালকা বৃষ্টির সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত। এ সময় বজ্রাঘাতে হাওরের পানিতে পড়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
সকাল গড়িয়ে গেলেও দুজন বাড়িতে না ফেরায় স্বজনদের মধ্যে দেখা দেয় উদ্বেগ। পরে সকাল ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা হাওরে তাদের খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে হাওরের হাঁটুপানিতে দুজনের মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা।
নিহত মোকাররম হোসেন ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। সম্প্রতি ছুটিতে বাড়িতে এসে বিয়ে করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে শাহ আলম ধানবাহী নৌকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, বজ্রপাতে দুজন নিহত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। মরদেহ নিহতের বাড়িতে রয়েছে।
এসকে রাসেল/কেজে/এএসএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ফরিদপুরের মধুখালীতে তিনটি কার্টনে ভরা অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ছয় টুকরো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছরের মতো। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে বারোটার দিকে উপজেলার বোয়ালিয়া এলাকার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধুখালীর রায়পুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া এলাকায় রাস্তার পাশে তিনটি কার্টন পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। পরে কার্টনগুলো থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মধুখালী থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কার্টনগুলো জব্দ করে। পরবর্তীতে সেগুলো খুলে এক ব্যক্তির ছয় টুকরো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত নিহতের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্টন বন্দি অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তির ছয় টুকরো মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিচয় শনাক্তের জন্য পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উন্মোচন ও আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। এন কে বি নয়ন/কেজে/এএসএম
পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় ডান পা হারিয়েছিল মাহফুজ। শারীরিক সীমাবদ্ধতা আর জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ক্রাচে ভর করেই চলছিল তার প্রতিদিনের সংগ্রাম। সেই অদম্য লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায় সে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের কষ্টের জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কৃত্রিম পায়ে ভর দিয়ে নিজের পায়ে নতুন করে হাঁটতে শুরু করেছে মাহফুজ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মাহফুজের ডান পায়ে সফলভাবে কৃত্রিম পা সংযোজন করা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিশেষ উদ্যোগে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় তার এই কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করা হয়। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ঠাকুরপাড়া গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে মাহফুজ। সম্প্রতি শিবগঞ্জে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাহফুজের অদম্য গল্প জানতে পারেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সেখানে তিনি মাহফুজের উচ্চশিক্ষার যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কৃত্রিম পা লাগিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কৃত্রিম পা সংযোজনের পর শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বগুড়া সফরে এসে এক প্রতিক্রিয়ায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেই প্রথম মাহফুজের বিষয়টি আমার নজরে আসে। দীর্ঘ ১০ বছর একটি পা ছাড়া সে চলাফেরা করেছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনলে তিনি পা লাগিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় টিএমএসএস হাসপাতালের সহযোগিতায় কৃত্রিম পা সংযোজন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে, সে তার কষ্টকর জীবন থেকে মুক্তি পেল এবং এখন থেকে নিজের পায়ে হেঁটে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবে। কৃত্রিম পা পেয়ে নতুন জীবনের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে মাহফুজ বলেন, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। প্রধানমন্ত্রীর উপহার ও সার্বিক সহায়তা পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী স্যার, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানাই, যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। মাহফুজের বাবা আব্দুল ওহাবও কৃত্রিম পা সংযোজন ও পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। প্রসঙ্গত, শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক আইডিয়াল একাডেমি থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করা মাহফুজের ইচ্ছা বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী সরকারি আজিজুল হক কলেজে ভর্তি হওয়া। নতুন পায়ে ভর দিয়ে নিজের স্বপ্নের দিকে আরও বহুদূর এগিয়ে যেতে চায় এই অদম্য মেধাবী। কেজে/এএসএম
শরৎ এলেই প্রকৃতির চেহারা যেন বদলে যায়। বিস্তীর্ণ এলাকায় ফোটে কাশফুল। নগরজীবনের ব্যস্ততা থেকে একটু স্বস্তি পেতে রাজধানীর আশপাশের কাশবনে ছুটে আসেন নানা বয়সের মানুষ। কেউ কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। কেউ মুঠোফোনে ছবি তোলেন। কেউ পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। রাজধানী ঢাকার হাসনাবাদ ও সারিঘাট লেক–সংলগ্ন এলাকা থেকে ছবিগুলো সম্প্রতি তোলা।বিস্তীর্ণ প্রান্তরে ফুটে আছে শুভ্র কাশফুল পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে কাশফুল দেখতে এসেছেন অনেকেই কাশফুল হাতে নিয়ে এক কিশোরের উচ্ছ্বাস কাশফুলের মধ্যে কেউ ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউ মুঠোফোনে স্মৃতি ধরে রাখছেন কাশবনের মধ্যে ফুলের তোড়া হাতে এক শিশু কাশফুল দেখতে এসে ঘোড়ায় চড়ার ব্যবস্থাও আছে পরিবার নিয়ে কাশফুল দেখতে এসে ছবি তুলছেন তাঁরা নগরের পাশেই বিস্তীর্ণ কাশবন দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে