জাতীয়

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় অবহেলা বা গাফিলতির সুযোগ নেই

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় অবহেলা বা গাফিলতির সুযোগ নেই
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় অবহেলা বা গাফিলতির সুযোগ নেই

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সর্বাধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতির সুযোগ নেই। রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে এবং ডেঙ্গু রোগীদের খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু এখন শুধু মশক নিধনের বিষয় নয়, এটি একটি সমন্বিত জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডেঙ্গুর উৎস এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ, চিকিৎসক সমাজ ও নগরবাসীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

আরও পড়ুন

মেয়র শাহাদাত / ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততাই প্রধান হাতিয়ার

শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও সময়মতো চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য নগরের হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা নগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। একই সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসায় আধুনিক ও কার্যকর চিকিৎসাপদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে তিন দিনে একদিন জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, এডিস মশা আমাদের ঘরবাড়ির আশপাশেই বংশবিস্তার করে। তাই নিজের ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব প্রত্যেক নাগরিকের। নগরবাসী সচেতন হলে এবং সিটি করপোরেশনের চলমান কার্যক্রমে সহযোগিতা করলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় চসিকের চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে জানিয়ে মেয়র বলেন, নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এমআরএএইচ/এমএমকে

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
জ্যাম-জেলি নয়, এবার পেয়ারা দিয়ে বানান টক-মিষ্টি তরকারি
জ্যাম-জেলি নয়, এবার পেয়ারা দিয়ে বানান টক-মিষ্টি তরকারি

আমাদের দেশে পেয়ারা সাধারণত পাকা ফল হিসেবেই বেশি খাওয়া হয়। পাকা পেয়ারা কেটে খাওয়া, জ্যাম, জেলি কিংবা বিভিন্ন মিষ্টি পদে ব্যবহার-এসবই বেশ পরিচিত। কিন্তু পেয়ারা যে শুধু ফল হিসেবে খাওয়ার জন্য নয়, তা জানলে অনেকেই অবাক হতে পারেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাঁচা বা আধাপাকা পেয়ারা দিয়ে নানা ধরনের রান্না করার চল রয়েছে। তৈরি হয় ব্যতিক্রমী সব ঝাল, টক ও মিষ্টি পদও। তেমনই একটি ভিন্নধর্মী রান্না হলো পেয়ারার টক-মিষ্টি তরকারি। নাম শুনেই হয়তো মনে হবে, পেয়ারা দিয়ে আবার তরকারি হয় নাকি! তবে একবার রান্না করে খেলে স্বাদের এই অভিনব মিশ্রণ বেশ ভালোই লাগতে পারে। পেয়ারার নিজস্ব হালকা মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে মসলা, ঝাল ও টক উপাদান মিশে তৈরি হয় দারুণ স্বাদের একটি পদ। মসলার সঙ্গে পেয়ারার দারুণ স্বাদের মেলবন্ধন আসুন জেনে নেওয়া যাক পেয়ারার টক-মিষ্টি তরকারি কীভাবে তৈরি করবেন- উপকরণ পেয়ারা টুকরা ২ কাপ তেল ২ টেবিল চামচ মরিচের গুঁড়া আধা চা চামচ জিরা আধা চা চামচ মেথি দানা ১ চা-চামচের ৪ ভাগের ১ ভাগ হলুদ গুঁড়া ১ চা-চামচের ৪ ভাগের ১ ভাগ ধনে গুঁড়া ২ চা চামচ মৌরি গুঁড়া ১ চা চামচ লবণ আধা চা চামচ আদা ১ টেবিল চামচ লেবুর রস ১ চা চামচ চিনি ২ টেবিল চামচ ধনে পাতা কুচি ২ টেবিল চামচ প্রস্তুত প্রণালি প্রথমে পেয়ারা ভালোভাবে ধুয়ে বীজ শক্ত হলে তা ফেলে দিন। এরপর পছন্দমতো টুকরো করে নিন। এবার একটি সসপ্যানে মাঝারি আঁচে তেল গরম করুন। তেল গরম হলে জিরা, মেথি দানা, মৌরিগুঁড়া, ধনে গুঁড়া, হলুদ ও লাল মরিচের গুঁড়া দিয়ে অল্পক্ষণ নেড়ে মসলাগুলো ভালোভাবে ভেজে নিন। এরপর এতে কুচি করা আদা ও পেয়ারা দিয়ে মসলার সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। কিছুক্ষণ নেড়ে ১ কাপ পানি দিয়ে দিন। এবার প্যানটি ঢেকে মৃদু আঁচে রান্না করুন। আরও পড়ুন অল্প সময়েই বানিয়ে ফেলুন মজাদার চিকেন কাবাব পেয়ারা নরম হয়ে এলে ঢাকনা খুলে দেখে নিন, যেন পেয়ারা একেবারে গলে না যায়। এরপর স্বাদ অনুযায়ী আমচুর গুঁড়া দিতে পারেন। আমচুর না থাকলে লেবুর রস ব্যবহার করুন। সঙ্গে চিনি দিয়ে সবকিছু ভালোভাবে নেড়ে আরও কয়েক মিনিট রান্না করুন। ঝাল, টক ও মিষ্টির স্বাদ নিজের পছন্দ অনুযায়ী কম-বেশি করতে পারেন। আরও পড়ুন ইলিশের জালি কাবাব খেয়েছেন কখনো, রইল রেসিপি সবশেষে কুচি করা ধনেপাতা ছড়িয়ে দিন। চুলার আঁচ বন্ধ করে পাত্রটি আরও কয়েক মিনিট ঢেকে রাখুন। এতে মসলার ঘ্রাণ ও স্বাদ পেয়ারার সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যাবে। এবার পাত্র থেকে নামিয়ে পছন্দমতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন টক-মিষ্টি পেয়ারার তরকারি। গরম গরম পুরি, পরোটা কিংবা রুটির সঙ্গে এই ব্যতিক্রমী পদটি খেতে বেশ ভালো লাগবে। এসএকেওয়াই

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়েছে ২৫০ ইসরায়েলি

আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়েছে ২৫০ ইসরায়েলি

দিল্লিতে কিশোর কুমারের গান গাইলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

দিল্লিতে কিশোর কুমারের গান গাইলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

ইমানের তৃতীয় শাখা: ফেরেশতাগণের ওপর বিশ্বাস

ইমানের তৃতীয় শাখা: ফেরেশতাগণের ওপর বিশ্বাস

পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য-শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য-শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার সে দেশের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তান বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণ করা গেলে উভয় দেশের জনগণই উপকৃত হবে। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, পাকিস্তানে তৈরি পোশাক, বিশেষ করে নারীদের পোশাক বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। তিনি পাকিস্তানি তৈরি পোশাক, কটন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তানের তৈরি পণ্য নিয়ে অক্টোবরে ঢাকায় বাণিজ্য মেলা হবে। তিনি বাংলাদেশের তৈরি পণ্য দিয়ে পাকিস্তানে অনুরূপ বাণিজ্য মেলা আয়োজনের আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে ফুটবলসহ ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে তার দেশের উদ্যোক্তাদের আগ্রহের কথা জানান। আরও পড়ুন দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির এ বছর ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ার কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, এ যোগাযোগ দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বাংলাদেশে উৎপাদিত চায়ের গুণগত মানের প্রশংসা করে হাইকমিশনার পাকিস্তানের বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি চা রপ্তানির আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন মানসম্মত পণ্যের পাকিস্তানে রপ্তানি বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন। হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে তার দেশ কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি দুই দেশের সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। হাইকমিশনার বাংলাদেশে তার কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি হাইকমিশনারকে তার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হবে। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কেএইচ/একিউএফ

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
আইটি বিভাগে নিয়োগ দেবে নগদ, কর্মস্থল ঢাকা

আইটি বিভাগে নিয়োগ দেবে নগদ, কর্মস্থল ঢাকা

চাকরি হারালেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষক

চাকরি হারালেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষক

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী কারা

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী কারা

চোখের সামনে কালো, গোল ছায়া দেখতে পাওয়া কি কোনো রোগ
চোখের সামনে কালো, গোল ছায়া দেখতে পাওয়া কি কোনো রোগ

চোখের সামনে আমরা অনেক সময় কিছু কালো কালো গোল অংশ ঝাপসা ভাবে দেখতে পাই। অথচ আশপাশ পরিষ্কার। এটা চোখের একটি বিশেষ রোগের কারণে হয়। রোগটির নাম সেন্ট্রাল সেরাস কোরিও রেটিনোপ্যাথি অথবা সেন্ট্রাল সেরাস রেটিনোপ্যাথি। সংক্ষেপে সিএসসিআর বা সিএসআর।কী এই রোগরোগটা সম্পর্কে জানার আগে আমাদের চোখের ভেতরের একটি বিশেষ অংশ সম্পর্কে জানতে হবে। চোখে দেখার পর্দা বা রেটিনার একটি কেন্দ্রবিন্দু আছে, যা অতি সংবেদনশীল ‘ম্যাকুলা’ নামে পরিচিত। মাঝের আরও ছোট্ট সংবেদনশীল অংশটি হলো ‘ফোভিয়া’। যেকোনো বস্তু পরিষ্কার দেখার জন্য চোখের এই অংশ ভালো থাকা খুব দরকার। আমরা যা দেখি, তার আকৃতি-প্রকৃতি, রং ইত্যাদি নির্ধারণ করে এই অংশ, যা ‘কোন’ নামের এক বিশেষ কোষ নিয়ে তৈরি।এআই–যুগে টিকে থাকতে কী করবেন, পড়ুন কম্পিউটারবিজ্ঞানীর পরামর্শচোখের এই সংবেদনশীল অংশের আশপাশে অনেক রক্তবাহী শিরা আছে। এই শিরা থেকে যদি রক্তের জলীয় অংশ কোনোভাবে লিক করে কোষে জমা হতে থাকে, তখন দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া শুরু হয়। তখন ‘ম্যাকুলা’ অংশের কোষ ফুলে ওঠে, রেটিনা থেকে উঠে আসে আর দৃষ্টি সমস্যা দেখা দেয়।এ রোগের লক্ষণ কী?লক্ষণ একটাই, যন্ত্রণাবিহীন ঝাপসা কালো গোল ছায়া দেখা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এক চোখেই সমস্যা বেশি দেখা যায়। ক্ষেত্রবিশেষ দুই চোখেও হতে পারে।কেন হয়?রোগটা কেন হয়, তার প্রাথমিক কারণ জানা যায়নি। তবে আনুষঙ্গিক কিছু কারণ বা ঝুঁকি আছে। যেমন১. হঠাৎ অতিরিক্ত মানসিক দুশ্চিন্তা বা অতিরিক্ত পরিশ্রম, অনিদ্রা।২. দীর্ঘদিন নিয়মিত বা অনিয়মিতভাবে স্টেরয়েড ওষুধ সেবন।৩. অতিরিক্ত ধূমপান বা মদ্যপান।৪. ডায়াবেটিস।চিকিৎসা কীপ্রথমত, রোগীকে রোগ সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে হবে। বুঝতে হবে, চোখে সংবেদনশীল এলাকায় জলীয় পদার্থ জমেছে বা সহজ কথায় তরল জমেছে। মাটিতে পানি জমে থাকলে আস্তে আস্তে তা শুকিয়ে যায়। তেমনি নতুন করে কোনো শিরা লিক না করলে যেটুকু পানি জমেছে তা ধীরে ধীরে আপনা-আপনিই শুকিয়ে যাবে। তাই ভয়ের কারণ নেই। যেহেতু হঠাৎ দুশ্চিন্তা এ রোগের অন্যতম কারণ, তাই রোগীকে অবশ্যই দুশ্চিন্তা দূর করতে হবে।দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ কমানোর ওষুধ, কিছু প্রদাহ নিরোধক চোখের ড্রপ, ভিটামিন সি, তাজা ফলমূল গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম, লাইফস্টাইল পরিবর্তন করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন নয়। তবে সুস্থ হতে সময় লাগে। ক্ষেত্রবিশেষ দুই মাসও লাগতে পারে।অনেকের পক্ষে এই সময় বেশি দীর্ঘ ও কষ্টকর মনে হলে বা অস্বস্তি বেশি হলে চোখের অ্যানজিওগ্রাফি, ওসিটি করার পরে লিক হওয়া এলাকা নির্ধারণ করে স্বল্প তাপের লেজার চিকিৎসা করা যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অ্যান্টিভিইজিএফ ইনজেকশন কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে।চোখে শিরা লিক করে পানি জমা সেরে যাওয়ার পরও ভবিষ্যতে এই সমস্যা আবার হতে পারে, এটাও রোগীকে বুঝতে হবে। তাই দুশ্চিন্তা কমানো ও স্ট্রেসবিহীন জীবনযাপনের অভ্যাস করা জরুরি।সমস্যাটি নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। আবার হালকাভাবে নেওয়াও উচিত নয়। মনে রাখতে হবে, এটি চোখের সবচেয়ে সংবেদনশীল এলাকা আক্রান্ত করে। চিকিৎসা না নিলে অনেক সময় ভবিষ্যতে দৃষ্টির স্থায়ী সমস্যা হতে পারে।লেখক: ডা. আহসান কবির, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও ফেকো সার্জন, যশোর

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
এআইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হাসানুল এ হাসান, ভাইস চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আবেদীন

এআইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হাসানুল এ হাসান, ভাইস চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আবেদীন

সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয় দেশের অন্যতম ‘প্রশ্নবোধক ডিপার্টমেন্ট’: আইনমন্ত্রী

সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয় দেশের অন্যতম ‘প্রশ্নবোধক ডিপার্টমেন্ট’: আইনমন্ত্রী

খাল ড্রেন দখল ও দূষণমুক্ত রাখার দায়িত্ব নাগরিকদেরও: ডিএসসিসি প্রশাসক

খাল ড্রেন দখল ও দূষণমুক্ত রাখার দায়িত্ব নাগরিকদেরও: ডিএসসিসি প্রশাসক

0 Comments