সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয় দেশের অন্যতম ‘প্রশ্নবোধক ডিপার্টমেন্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সাবরেজিস্ট্রার বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন বন্ধে ঢাকা শহরে প্রথমবারের মতো লটারি প্রথা চালু করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আজ রোববার সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণসংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সভায় আইনমন্ত্রী বলেন, সাবরেজিস্ট্রার বিভাগ বাংলাদেশের অন্যতম ‘প্রশ্নবোধক ডিপার্টমেন্ট’। বিশেষ করে ঢাকায় পোস্টিং নিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কথা তিনি শুনে এসেছেন।
সাবরেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়ন প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, এ কারণে প্রথমবারের মতো ঢাকা শহরে সাবরেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, লটারি পদ্ধতি চালুর পর সাবরেজিস্ট্রারদের যেখানে যেখানে অনিয়ম রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‘কয়েকজন বিচারক আর্থিক নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি করেছেন’
বিচারব্যবস্থা মেরামতের কাজ চলছে উল্লেখ করে সভায় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক ও সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের মতো কয়েকজন বিচারক অর্থনৈতিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন না। তবে তাঁরা ‘বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি’ করেছেন। এর ফলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নির্বাচনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ শাসনামলের প্রতি ইঙ্গিত করে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। আমরা সেইটা মেরামতের কাজ করছি। সেই মেরামতের কার্যক্রম প্রক্রিয়ায় একটু সময় লাগবে, সেই সময়টা আমরা আশা করি পাব আপনাদের কাছ থেকে। তার আগে আমাদের প্রতি আস্থা এবং বিশ্বাস রাখার অনুরোধ করছি।’
সরকারের মুখ্য উদ্দেশ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী অতীতে নির্যাতনের শিকার হলেও প্রতিশোধের পথে না যাওয়ার কথা বলেছেন। সরকারের নীতিও প্রতিশোধপরায়ণ না হওয়া।
এ সময় বাক্স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার মতপ্রকাশ, কথা বলা ও বিবেকের স্বাধীনতা চায়। একই সঙ্গে হলুদ সাংবাদিকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের চরিত্র হননের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের দাবিও বিভিন্ন দিক থেকে আসছে।
সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ সংশোধনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনটি যথেষ্ট নয় মনে হওয়ায় সংশোধনের জন্য মন্ত্রিসভায় একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। মানুষের বাক্স্বাধীনতার সঙ্গে বিষয়টি জড়িত থাকায় প্রধানমন্ত্রী সেটি আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি সাব-কমিটিতে পাঠান। পরে সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে জনপরামর্শের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্রথম দিকে জাতীয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে এ বিষয়ে পরামর্শ করা হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। সাংবাদিকদের এ বিষয়ে কোনো পরামর্শ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কমিটিতে আলোচনা করা হবে এবং সম্ভব হলে তাঁদের উদ্বেগ বা পরামর্শ সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
‘রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিতে চাই না’
এ ছাড়া রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এগুলো কঠোর হাতে দমন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মাদকের বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তেমনি রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও নজর দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সেই পথে বিএনপির কোনো নেতা যদি বাধা হয়ে দাঁড়ায়, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন আছে, সেটিকেও আমরা বিবেচনায় রাখব না।’
নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছিলেন। তিনি (আইনমন্ত্রী) প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরে প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়ে ওই নেতাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে বলে জানান তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিতে চাই না।’
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। এতে সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমসহ বিভিন্ন দলের নেতা ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম বলেছেন, বর্তমান সরকারের ছয় মাস চরম ব্যর্থতার। জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন ও ধর্ষণও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি ও শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম বলেন, কুরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন পাস না করার কথা বললেও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে কুরআনের নির্দেশনার বিরুদ্ধে গিয়ে ‘হেবা আইন ২০২৬’ পাস করা হয়েছে। বিদেশি প্রভুদের খুশি করতেই এ আইন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আরও পড়ুন চরমোনাই পীর / ইসলামি সমাজব্যবস্থাই দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের শীর্ষে পৌঁছে দিতে পারে তিনি বলেন, ‘এ আইন বাতিল করতেই হবে। আইনমন্ত্রী বলছেন, আইনটি বাতিলের সুযোগ নেই। আর আমরা বলছি, এ আইন বাতিল করতেই হবে। অন্যথায় সর্বত্র প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠবে। যার পরিণতি হবে সরকারের পদত্যাগ।’ দলের দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইসলামের আদর্শের আলোকে নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। চরিত্র, লেনদেন ও সামাজিক আচরণে স্বচ্ছ থাকতে হবে। দ্বিমুখী আচরণ পরিহার করে আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি দেলাওয়ার আমিন। পরে ১৭ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি ও ১১ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষণা করে নির্বাচিত দায়িত্বশীলদের শপথ পড়ানো হয়। সোমবার ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়ক কে এম শরীয়াতুল্লাহ এ তথ্য জানান। এমইউ/এমএমকে
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং ঢাকা ওয়াসা, এলজিইডি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তা নিয়োগে মোট ১৮৭ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ৩৬ জন জেলা প্রশাসক বা ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডারে কমিশন নেওয়া এবং নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। আরও পড়ুন তদন্ত করবে দুদক / পদায়নে ‘ঘুস’ বাণিজ্য-১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ আসিফের বিরুদ্ধে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে এমন খবর সামনে আসার পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে এক পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এনসিপির এ মুখপাত্র ওই পোস্টে লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’ এমকেআর
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেই হামলা শুরু করেছে হুতিরা, নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ জলপথও। এরই মধ্যে হামলার শিকার হওয়ার পর সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত বিশ্লেষণে...