আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হাসানুল এ হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইশতিয়াক আবেদীন ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বোর্ডের ২০২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। হাসানুল এ হাসান ও ইশতিয়াক আবেদীন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।
হাসানুল এ হাসান কেমলুব লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে ম্যাক লুব্রিকেন্টসের একমাত্র পরিবেশক। এ ছাড়া তিনি আমেরিকান ডেইরি লিমিটেডের (এডিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সুবারু বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ইশতিয়াক আবেদীন বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির (এপিইউবি) সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এআইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আমেরিকান ডেইরি লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং কেমলুব লিমিটেড, সানজাইব লিমিটেড ও সানজাইব ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়া সরকার আবার ফিরে আসার কোনো নজির পৃথিবীতে নেই। কোনো সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-এমপি ও নেতারা একসঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও নজিরবিহীন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুর জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বিমানমন্ত্রী বলেন, যারা ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে চিন্তা করছেন, এগুলো দুরাশা। বরং তাদের নিজেদের শুদ্ধিকরণের প্রক্রিয়া করা দরকার। দেশে বিমানবন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ময়মনসিংহ ছাড়া সাত বিভাগে বিমানবন্দর রয়েছে। দেশে বর্তমানে আটটি বিমানবন্দর চলমান থাকলেও কয়েকটি ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। সামনে অনেক এয়ারক্রাফট আসছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে নতুন একটি বিমানবন্দর নির্মাণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ময়মনসিংহ বিভাগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিমানমন্ত্রী আরও বলেন, চীন থেকে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন আনার বিষয়ে কথাবার্তা চলছে। এসব ট্রেন ঘণ্টায় সাড়ে ৩৫০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে গতি কিছুটা কম হলেও চলবে। তিনি বলেন, শেরপুরের পর্যটনের উন্নয়নে ঝিনাইগাতীতে একটি মোটেল নির্মাণ এবং আকস্মিক পাহাড়ি ঢল থেকে রক্ষায় মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীতে বাঁধ নির্মাণসহ জেলার উন্নয়নে নানা প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ প্রমুখ। এ সময় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, মন্ত্রী সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে পৌঁছালে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। মো. নাঈম ইসলাম/কেএইচকে
এক বছরের ছোট-বড় দুই চাচাতো বোন। একসঙ্গে বেড়ে ওঠা ও একই শ্রেণিতে পড়াশোনা। সকালে বাড়ির পাশের মাছের ঘেরে শাপলা তুলতে গিয়েছিল দুজন। পরে দুজনের লাশ উদ্ধার হয় ঘের থেকে।ঘটনাটি ঘটেছে আজ রোববার সকালে বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের দাড়িয়ালা গ্রামে।পানিতে ডুবে মৃত দুই শিশু হলো দাড়িয়ালা গ্রামের মোস্তাইন শেখের মেয়ে লামিয়া আক্তার জান্নাতি (১০) এবং মোস্তাক শেখের মেয়ে সামিয়া (৯)। তাঁরা দুজন স্থানীয় দাড়িয়ালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।স্থানীয়দের বরাত দিয়ে মোল্লাহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রসেন কুমার সানা দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, রোববার সকাল সাতটার দিকে ঘুম থেকে উঠে কাউকে না জানিয়ে দুই চাচাতো বোন লামিয়া ও সামিয়া বাড়ির পাশে একটি মাছের ঘেরে শাপলা তুলতে যায়। দুজনের কেউই সাঁতার জানত না। দুজনের কোনো একজন আগে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে পড়ে গেলে পরে আরেকজন তাকে তুলতে গিয়ে দুজনই পানিতে তলিয়ে যায়।পরে এক প্রতিবেশী সকাল আটটার দিকে মাছের ঘেরে গিয়ে প্রথমে শিশু সামিয়ার মরদেহ ভাসতে দেখে পরিবারের সদস্যদের জানায়। এই খবর শুনে পরিবারের সদস্যরা আরেক শিশু লামিয়াকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে ওই ঘেরে নেমে খুঁজতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পরে পানির নিচ থেকে লামিয়াকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দুজনকে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই চাচাতো বোন সমবয়সী হওয়ায় তারা সব সময় একসঙ্গে খেলাধুলা করত।মোল্লাহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রসেন কুমার সানা জানান, স্বজনদের আপত্তি না থাকায় পুলিশি ময়নাতদন্ত ছাড়াই দুই শিশুর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উচ্চ কর আর ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে যুক্তরাজ্য ছাড়ছেন ধনী ব্যক্তি ও বিনিয়োগকারীরা। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রিস, ইতালিসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ করসুবিধা দিয়ে ধনীদের আকৃষ্ট করছে।সর্বশেষ যুক্তরাজ্য ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির ধনকুবের ক্রিস রোকোস। হেজ ফান্ড রোকোস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা তিনি, যুক্তরাজ্যের অন্যতম শীর্ষ করদাতা। দাতব্যকাজে দানধ্যান করার জন্যও পরিচিতি আছে রোকোসের। কিন্তু সেই তিনি গ্রিসে চলে যাচ্ছেন।রোকোসের এ সিদ্ধান্ত ব্রিটিশ সরকারের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটিতে ধনী ব্যক্তি ও বিনিয়োগকারীদের ওপর করের চাপ কয়েক বছর ধরে বাড়ছে। একই সময়ে ধনী ব্যক্তি ও তাঁদের পরামর্শকেরা বলছেন, ব্যবসা ও রাজনৈতিক নীতিতে ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।গত এক দশকে যুক্তরাজ্যে ধনী ব্যক্তিদের করব্যবস্থায় বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিদেশে স্থায়ী আবাস আছে—এমন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ করসুবিধা বা ‘নন-ডম’ ব্যবস্থা ২০২৪ সালের মার্চে বাতিল করা হয়। এখানেই শেষ নয়; যাঁরা এ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাঁদের ওপর করের চাপ বাড়ানো হয়েছে।এ ছাড়া গত দুই বছরে উত্তরাধিকার, পেনশন তহবিল, প্রাইভেট ইকুইটি বিনিয়োগের মুনাফা, নিয়োগকর্তার জাতীয় বিমা চাঁদা ও মূলধনি মুনাফার ওপর কর বাড়ানো হয়েছে। ব্যাংকগুলোর ওপর উইন্ডফল ট্যাক্স আরোপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী জন হিলি। ফলে ব্যবসায়ী ও ধনী ব্যক্তিদের আশঙ্কা, তাঁদের করভার আরও বাড়তে পারে।বিডিওর ব্যক্তিগত করবিষয়ক অংশীদার এলসা লিটলউড বলেন, তাঁদের অনেক গ্রাহক মনে করছেন, যুক্তরাজ্যে করব্যবস্থায় এত বেশি পরিবর্তন এসেছে যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা কঠিন। তাঁরা এখন করব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ও নিশ্চয়তা চান।যুক্তরাজ্য থেকে কতজন ধনী ব্যক্তি চলে যাচ্ছেন, তার নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া কঠিন। ব্রিটিশ সরকারের রাজস্ব বিভাগ এইচএম রেভিনিউ অ্যান্ড কাস্টমসের (এইচএমআরসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ করবর্ষে নন-ডম করদাতার সংখ্যা ছিল ৭৩ হাজার ৪০০। আগের বছরের তুলনায় তা মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বা প্রায় ৪০০ জন কমেছে।তবে বেসরকারি ব্যাংক, সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ও কর পরামর্শকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাস্তবে দেশ ছাড়া ব্যক্তির সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে বেশি হতে পারে।অতিধনী ব্যক্তিদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হলো, যুক্তরাজ্যের উত্তরাধিকার কর। নির্দিষ্ট সীমার বেশি সম্পদের ওপর এই করের হার ৪০ শতাংশ। নতুন নিয়মে বিদেশে থাকা সম্পদও যুক্তরাজ্যের উত্তরাধিকার করের আওতায় এসেছে।এক আন্তর্জাতিক প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বলেন, তাঁর পরিচিত অনেক ব্যক্তি যুক্তরাজ্য ছেড়ে গেছেন। তাঁদের বেশির ভাগের বক্তব্য, বিদেশি সম্পদের ওপর উত্তরাধিকার কর তুলে দেওয়া হলে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসবেন।ব্যবসায়িক সম্পদের ক্ষেত্রেও উত্তরাধিকার করের ছাড় কমানো হয়েছে। নতুন নিয়মে ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি মূল্যের ব্যবসায়িক সম্পদের ওপর ২০ শতাংশ হারে উত্তরাধিকার কর দিতে হবে। এতে পারিবারিক ব্যবসাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।আইনি প্রতিষ্ঠান উইদার্সের অংশীদার ক্রিস গ্রোভস বলেন, কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে যদি হঠাৎ তার মোট মূল্যের ২০ শতাংশ নগদ অর্থে পরিশোধ করতে হয়, তাহলে বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হতে পারে। করব্যবস্থায় পরিবর্তনের কারণে অনেক ব্যবসায়ীর আশঙ্কা, ভবিষ্যতে তাঁদের উত্তরসূরিদের কর পরিশোধের অর্থ জোগাড় করতে ব্যবসার অংশবিশেষ, এমনকি পুরো ব্যবসাই বিক্রি করে দিতে হতে পারে।ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, যুক্তরাজ্য হবে ‘সম্পদ সৃষ্টির দেশ’। পুরোনো নন-ডম ব্যবস্থা বাতিলের পর নতুন করব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে যোগ্য নতুন করদাতারা প্রথম চার বছর বিদেশি আয় ও মুনাফার ওপর পুরো করছাড় পাবেন।তবে কর পরামর্শকেরা এ সুবিধা চার বছরের পরিবর্তে ১০ বছর করার পরামর্শ দিয়েছেন। ইতালি ও গ্রিসের মতো নির্দিষ্ট হারে করব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও এসেছে। তাঁদের মতে, এতে উচ্চ আয়ের ব্যক্তি ও বিনিয়োগকারীদের যুক্তরাজ্যে আকৃষ্ট করা সহজ হবে।এর মধ্যে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এক হেজ ফান্ড ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, দেশটির করব্যবস্থা আরও কঠোর হলে ব্যবসা জুরিখে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি আছে, দ্রুতই তা করবেন তিনি।যুক্তরাষ্ট্রের এক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বলেন, যেসব দেশের সঙ্গে তাঁদের ব্যবসা, সেই দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যেই কর সবচেয়ে বেশি। ব্যাংকের ওপর নতুন করারোপ করা হলে যুক্তরাজ্যে আর্থিক খাতে কর্মসংস্থান কমতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।অন্যদিকে গ্রিস, ইতালিসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাজ্যের এ পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে ধনী ব্যক্তি ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। করসুবিধার পাশাপাশি এসব দেশের বড় শহরগুলো এখন আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী ও ধনী ব্যক্তিদের বসবাসের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।