কখনো কি পান করেছ ‘কার্বোনেটেড’ ড্রিংক?
জবাব দেওয়ার আগে একটু ভাবো, মানে—থিঙ্ক!
‘পান করা তো দূরের কথা—দেখিওনি চেখে’
এমন কথা মনে মনে ভাবছ বলো কে কে?
এবার বলো খাওনি কে কে কখনো কোল্ড ড্রিংক
রং—বাদামি, কমলা, স্বচ্ছ, হলুদ, লাল বা পিঙ্ক!
চিনলে তো ঠিক! সুযোগ পেলেই হামেশা যা খাচ্ছ
খেতে খেতে ফুর্তিতে কেউ কখনোবা নাচছ।
দেশে দেশে আছে এদের হরেক রকম নাম
সেসব থেকে অল্প কিছু আমি জানালাম—
ফিজি, লিমো, সোডা, জুসু আরও কত–কী
রিফ্রেসকো, পপ, বুয়াসম গ্যাজু্জ, রেফ্রিজারেন্টি।
খুললে তুমি বোতল বা ক্যান এরা করে ফোঁস
উপচে পড়ে, ভাবো এতে তোমার বুঝি দোষ।
কার্বন ডাই–অক্সাইড এতে থাকে দ্রবীভূত
খুলতে গেলেই গ্যাস-পানীয় বেরোতে চায় দ্রুত
শব্দটা হয়—দ্রুত এ গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার ফলে
গ্যাসের চাপই দায়ী এতে—বিজ্ঞান এমন বলে।
বলছি এসব ড্রিংকে আরও থাকতে পারে যা যা
রাখতে একে লোভনীয়, সুস্বাদু ও তাজা—
পানি হলো এসব ড্রিংকের প্রধান উপাদান
পাঁচ-ছয় চামচ এক বোতলে চিনির পরিমাণ;
কোল্ড ড্রিংক থেকে প্রাপ্ত শক্তির হিসাব যদি করি
চিনি থেকেই আসে এতে সিংহভাগ ক্যালরি।
ফসফরিক বা সাইট্রিক অ্যাসিড ড্রিংকে অল্প থাকে
ঝাঁজালো বা টকের স্বাদটা এরাই বজায় রাখে।
কিছু ড্রিংকে ক্যাফেইনও অল্প পরিমাণে
থাকে; ত্বরিত দেহমনে চাঙা ভাব সে আনে।
আর কী থাকে—ফুড কালার ও গন্ধ উপাদান
বর্ণে–স্বাদে এরা বাড়ায় গুণগত মান।
সবার কাছে এসব বস্তু কেন এত প্রিয়?
ভাবছ খুবই উপকারী তবে এই পানীয়।
খুলেই বলি—সত্যিকারে ব্যাপারটা ঠিক তা না
ক্ষতিকারক দিকগুলোও উচিত তোমার জানা।
একনাগাড়ে অনেক কথা হয়ে গেছে বলা
বলতে বলতে আমার দেখি শুকিয়ে কাঠ গলা
বাকি তথ্য নাও না জেনে গুগল এআই ঘেঁটে!
এই ফাঁকে ড্রিংক একটুখানি চালান করি পেটে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। একদিনে মারা গেছেন আরও ছয়জন। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ১৪৯ জনের মৃত্যু হলো। তাদের মধ্যে ৫২ জনই মারা গেছেন চলতি সেপ্টেম্বর মাসে। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও এক হাজার ৫১৬ জন। এ নিয়ে এবার ভর্তি হলেন মোট ৫১ হাজার ৮৩৭ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৯৩ জন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও তিনজন নারী। তাদের মধ্যে একজন শিশু এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক। মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৪৯ জনের মধ্যে নারী ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ। আরও পড়ুন ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রামের ২ হাজার মসজিদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেই তুলনায় চলতি মাসে অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৫২ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান ৮ সেপ্টেম্বর। ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৪৮, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১৮ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ২৭, ময়মনসিংহে ১৫, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১২, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন। আরও পড়ুন আগস্টে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর রেকর্ড সেপ্টেম্বরের ১১ দিনেই ভাঙলো রোগীর মাসভিত্তিক হিসাব মতে, গত আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৯১ জন। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৭১ জন ভর্তি হন ৮ সেপ্টেম্বর। এর আগে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ ও জুনে দুই হাজার ৯০৭ জন হাসপাতালে আসেন। একিউএফ/
রাত তখন গভীর। মাত্রই একটা সিনেমা দেখে শেষ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহা তাহসিন। সিনেমা শেষ হলেও তাঁর ভাবনার চাকা ঘোরাটা থামছিল না। মনে হচ্ছিল, একটা সিনেমা তো স্রেফ ঘরে বসে একা একা দেখার ‘জিনিস’ না। সিনেমা নিয়ে কথা বলা, পেছনের ভাবনাগুলো জানা, অন্যের সঙ্গে নিজের ভাবনা ভাগাভাগি করে নেওয়া—এসবও তো সিনেমা উপভোগের অংশ। ফারহার কাছে সিনেমা একধরনের যোগাযোগ। নিজের চিন্তা ও অনুভূতি অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম। মধ্যরাতের সেই ভাবনা থেকেই জন্ম হয়েছিল শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম সোসাইটির (এসএইউএফএস)। ফারহা তাহসিন এই সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক। শুনতে সহজ মনে হলেও কাজটা সহজ ছিল না। প্রথমেই প্রশ্ন উঠেছিল, কৃষিভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিল্ম সোসাইটি কেন? ফারহারা কথায় বোঝাতে না পেরে কাজে বোঝানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। নবীনবরণ উপলক্ষে কোর মেম্বাররা (মূল সদস্য) মিলে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট হয়, এটি শুধু সিনেমা নিয়ে আড্ডা দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম নয়। এরপর মেলে অনুমতি। এআই–যুগে টিকে থাকতে কী করবেন, পড়ুন কম্পিউটারবিজ্ঞানীর পরামর্শশুরুর স্বপ্নটা আদতে খুব বড়ও ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন একসঙ্গে বড় পর্দায় ভালো সিনেমা দেখতে পারেন, সিনেমা নিয়ে কথা বলতে পারেন, এমন একটি জায়গা তৈরি করাই ছিল লক্ষ্য।প্রথম প্রদর্শনী, প্রথম পরীক্ষা প্রথম বড় পরীক্ষাটা দিতে হয় প্রথম প্রদর্শনীর দিন। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের মিলনায়তনে বড় পর্দা, পপকর্ন, পানি, আসন বিন্যাসের ব্যবস্থা...ঝক্কি তো কম নয়। সেখানেই প্রদর্শিত হয় রায়হান রাফীর তাণ্ডব ও তানিম নূরের উৎসব। উপস্থিত ছিলেন সাড়ে সাত শ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।সেই প্রদর্শনীর পর সংগঠনের কাজ ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে—প্রতি বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক মিটিং; চিত্রনাট্য, চিত্রধারণ ও সম্পাদনা নিয়ে কর্মশালা, পাশাপাশি সংগঠনটির ফ্ল্যাগশিপ আয়োজন ‘চলচ্চিত্র উৎসব’। এরই মধ্যে দুটি উৎসবের আয়োজন করেছেন তাঁরা।‘চলচ্চিত্র উৎসব ২.০’-তে অতিথি হয়ে এসেছিলেন রেদওয়ান রনি, রায়হান রাফী ও খন্দকার সুমনের মতো নির্মাতারা। সেখানে সাঁতাও সিনেমা নিয়ে খন্দকার সুমনের একটি কথা আলাদাভাবে মনে রেখেছেন তাঁরা। সুমন বলেছিলেন, ‘সিনেমাটি তৈরির এত বছর পর সেটা যেন তার আসল জায়গায় পৌঁছেছে; মাটি ও কৃষির সঙ্গে যুক্ত মানুষের কাছে।’শুধু দর্শক নন এসএইউএফএসের কাজ শুধু সিনেমা প্রদর্শনের মধ্যেই থেমে নেই। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও সহপ্রতিষ্ঠাতা নওশিন মাইশার মতে, অনেক সদস্য এখন নিজেরাই চিত্রনাট্য লিখছেন, শুটিং ও এডিটিং শিখছেন। পরিবর্তনটা তাঁর চোখে সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে তখন, যখন কেউ প্রথমে শুধু সিনেমা দেখতে আসে, পরে আবার ফিরে এসে সিনেমাটোগ্রাফি, চরিত্র নির্মাণ কিংবা গল্প বলার ধরন নিয়ে কথা বলা শুরু করে।সংগঠনের সভাপতি ও সহপ্রতিষ্ঠাতা মো. আল আমিনও তেমনই একজন। তাণ্ডব সিনেমার পেছনে যুক্ত ছিলেন তিনি। দলের একাংশ দম চলচ্চিত্রেও কাজ করেছে। সংগঠনটি কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও ইউনেসকো আয়োজিত ‘লেটস টক ওয়েলবিয়িং’ ভিডিও প্রতিযোগিতায় ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে প্রথম হয়েছে এসএইউএফএস। জাতীয় চলচ্চিত্র সংসদ সম্মেলন ২০২৬-এ অংশ নেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় চলচ্চিত্র আর্কাইভের কর্মশালাতেও যুক্ত হয়েছে সংগঠনটি।অক্সফোর্ডের ইএমবিএতে প্রথম রিশাদ, গ্র্যাজুয়েশন স্পিকারও তিনিবড় পর্দার পেছনের ছোট ছোট লড়াই বড় আয়োজন মানেই বড় খরচ। পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অনেক সময়ই ভাবনার সীমানা ছোট করে আনতে হয়েছে। কখনো মাসিক চাঁদা, শিক্ষকদের অনুদান, নিজেদের পকেটের টাকা দিয়েও অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন তাঁরা।আগামী দু-তিন বছরে এসএইউএফএসকে দেশের অন্যতম সক্রিয় ফিল্ম সোসাইটি হিসেবে দেখতে চান আল আমিন। জাতীয় পর্যায়ের একটি চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের স্বপ্নও দেখেন তাঁরা। নওশিন আবার বেশ স্পষ্ট করেই বললেন, ‘এটা কোনো ফেসবুক পোস্ট, কোনো ট্রফি বা কোনো ভিউ গণনার বিষয় নয়। এটা এমন একটা জায়গা, যেখানে একজন মানুষ তার নিজের গল্পটা বলার সাহস পাবে।’