জাতীয়

কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর

আমান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর
কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর

মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।

প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট।

ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়ে

জাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।

গালে নরম গোলাপি আভা

বেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।

ঠোঁটে নিউড-পিঙ্ক

জাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।

চোখে শুধু এক কোট মাসকারা

জাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।

ভ্রু থাকুক নেচারাল

এই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।

ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়

জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।

ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ড

জাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।

জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিন

পুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।

জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ময়মনসিংহে বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, ১৩ দিনে প্রাণ গেল ৬ জনের
ময়মনসিংহে বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, ১৩ দিনে প্রাণ গেল ৬ জনের

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি সেপ্টেম্বরের ১৩ দিনে হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মারা গেলেন ছয়জন। আর চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালের ডেঙ্গু ইউনিট থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৭ জন। মারা যাওয়া রোগী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে হাসপাতালে ১৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ৮৩ জন পুরুষ, ৪৬ জন নারী ও সাতজন শিশু। পুরুষদের দুজন এবং নারীদের একজন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালের ডেঙ্গু ইউনিটের চিকিৎসক মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ৬৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ১৩৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন আইসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ২ হাজার ১২৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, ডেঙ্গুতে জ্বর, শরীর ব্যথা বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরও শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। তাই এ সময়ে বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি। হাসপাতাল সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় ডেঙ্গু ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও ওঠানামা করছে। একই সঙ্গে কয়েকজন রোগী আইসিইউতে থাকায় গুরুতর রোগীদের চিকিৎসায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন চিকিৎসকরা। হোসাইন সুলভ/কেএইচকে

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে দেশ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: হুইপ দুলু

ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে দেশ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: হুইপ দুলু

চবিতে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

চবিতে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

ট্রাইব্যুনাল সাইবার ঝুঁকিতে: পলক

ট্রাইব্যুনাল সাইবার ঝুঁকিতে: পলক

সৌদি আরবে একের পর এক হামলা, মক্কা চুক্তি কি এবার কার্যকর হবে?
সৌদি আরবে একের পর এক হামলা, মক্কা চুক্তি কি এবার কার্যকর হবে?

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ক্রমেই আরও জটিল হয়ে উঠছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও এলাকায় একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের অভ্যন্তরে হামলার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেবকে হুমকির মুখে ফেলেছে। একই সময়ে ইরাক থেকেও সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার জেরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালির পর বাব আল-মান্দেবও যদি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও আঞ্চলিক বাণিজ্য বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতেই সামনে এসেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে করা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। চুক্তির আওতায় কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশ কীভাবে পাশে দাঁড়াবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। জাজানে ফের হুথি হামলা সর্বশেষ সৌদি আরবের জাজান প্রদেশে হামলা চালিয়েছে হুথিরা। সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, রোববার একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন জাজানের আল-তুয়াল এলাকায় আঘাত হানে। এতে একটি মসজিদসহ বেশ কয়েকটি বাড়ি ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাজান ইয়েমেন সীমান্তবর্তী একটি প্রদেশ। সৌদি কর্তৃপক্ষ হুথিদের এই হামলাকে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। এর আগে হুথিরা সৌদির নাজরান প্রদেশের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করে। গত ৮ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের হামলা চালানো হয়। আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরানকে লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় নারী ও শিশুসহ ৭৩ জন আহত হন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইরাক থেকেও তেল স্থাপনায় হামলা শুধু ইয়েমেন নয়, ইরাক থেকেও সৌদি আরবের ওপর হামলা হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর ইরাক থেকে ছোড়া ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। ইরাক সরকার স্বীকার করেছে, হামলাটি ইরানের সীমান্তবর্তী মাইসান প্রদেশ থেকে চালানো হয়েছিল। ঘটনার পর ওই প্রদেশের একজন সামরিক কমান্ডারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বাগদাদ। প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি তেল বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে পাঠানো সম্ভব হয়। পাইপলাইনটি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ পরিবহন করা হয়। ফলে এটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও প্রভাব পড়তে পারে। আপাতত পাল্টা হামলা নয় ইরাক থেকে হামলার পরও সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেয়নি। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর রিয়াদ আপাতত সংযত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরও পড়ুন>সৌদিতে হুথিদের হামলা, মসজিদসহ বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্তসৌদির তেল পাইপলাইনে হামলা, যা বলল পাকিস্তানইয়েমেন যুদ্ধে কারা জড়িত, কার কী ভূমিকা? সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা বন্ধে বাগদাদ যে উদ্যোগ নেবে, সৌদি আরব তা সমর্থন করবে। তবে নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকারও তারা সংরক্ষণ করছে। মক্কা চুক্তির সামনে বড় পরীক্ষা সৌদি আরবের ওপর ধারাবাহিক হামলা এমন সময়ে হচ্ছে, যখন দেশটি পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করে। চলতি বছরের আগস্টে তুরস্কও এতে যুক্ত হলে এটি ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিতি পায়। তিন দেশ রিয়াদে একটি যৌথ সচিবালয়ও গঠন করেছে। চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা। তবে কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো ঠিক কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেবে, তার বিস্তারিত কাঠামো এখনো পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অবশ্য সম্প্রতি বলেছেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে হামলা হলে কিংবা ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়লে মক্কা চুক্তি কার্যকর হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এর আগে চুক্তিটির কাঠামোকে ন্যাটোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আক্রান্ত দেশকেই প্রথমে জানাতে হবে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন। সেই সহায়তা সরাসরি সামরিক অভিযান থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা তথ্য বা সামরিক সরঞ্জাম—যেকোনো কিছু হতে পারে। পাকিস্তান কি ইয়েমেনে সেনা পাঠাবে? এখন পর্যন্ত সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে মক্কা চুক্তি সক্রিয় করেনি। ফলে পাকিস্তান বা তুরস্কের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের প্রশ্নও ওঠেনি। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে পাকিস্তান সৌদি আরবকে বিমান প্রতিরক্ষা, সামরিক সরঞ্জাম ও গোয়েন্দা সহায়তা বাড়াতে পারে। সৌদি আরবে এরইমধ্যে পাকিস্তানের প্রায় ১৬টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান, বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। তবে ইয়েমেনের ভেতরে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা আপাতত কম। আফগানিস্তান যুদ্ধে জড়ানোর তিক্ত অভিজ্ঞতা পাকিস্তানকে এ ধরনের সংঘাতে সতর্ক করে তুলেছে। ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অর্থনীতি, সাম্প্রদায়িক ভারসাম্য ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সরাসরি যুদ্ধে যাওয়ার পক্ষে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করাও কঠিন হতে পারে। কূটনীতিতেই জোর ইসলামাবাদের এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ইসলামাবাদ ইরানকে হুথিদের সৌদি আরবে হামলা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে হুমকির মুখে ফেলা থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় পাকিস্তানের অঙ্গীকারের কথাও তেহরানকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন>সৌদিতে হুথিদের হামলা, মসজিদসহ বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্তসৌদির তেল পাইপলাইনে হামলা, যা বলল পাকিস্তানইয়েমেন যুদ্ধে কারা জড়িত, কার কী ভূমিকা? তুরস্কও কূটনৈতিকভাবে ইরান ও হুথিদের সংযত করার চেষ্টা করতে পারে। সামনে কী হতে পারে? হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকলে পাকিস্তান ও তুরস্ক প্রথম পর্যায়ে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারে। বিমান প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবের নিরাপত্তায় বহুজাতিক নৌজোট গঠনের উদ্যোগেও পাকিস্তান ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থাৎ মক্কা চুক্তি কার্যকর হওয়ার অর্থ অবিলম্বে ইয়েমেনে পাকিস্তানি বা তুর্কি সেনা পাঠানো নয়। বরং সৌদি আরব কী ধরনের সহায়তা চাইছে, তার ওপরই প্রতিক্রিয়ার মাত্রা নির্ভর করবে। মক্কা চুক্তি এখনো একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো। এর যৌথ সামরিক প্রতিক্রিয়া, পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ম পুরোপুরি গড়ে উঠতে সময় লাগবে। কিন্তু সৌদি আরবের ওপর ধারাবাহিক হামলা এই চুক্তির জন্য প্রথম বড় বাস্তব পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে সম্ভাব্য পথ হতে পারে সৌদির প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা, ইরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং বাব আল-মান্দেবের নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে সমর্থন করা। এতে একদিকে রিয়াদের নিরাপত্তার প্রতি ইসলামাবাদের প্রতিশ্রুতি বজায় থাকবে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কম থাকবে। শেষ পর্যন্ত মক্কা চুক্তি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সৌদি আরব আক্রান্ত হলে তিন দেশ কীভাবে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেয় এবং সামরিক সহযোগিতার সীমা কোথায় নির্ধারণ করে তার ওপর। সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স, বিবিসি এমএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
আশির দশকের সেই সব দিনে ফিরিয়ে নিয়ে গেল যে সিনেমা

আশির দশকের সেই সব দিনে ফিরিয়ে নিয়ে গেল যে সিনেমা

কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে মালিকের খোঁজে মাইকিং

কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে মালিকের খোঁজে মাইকিং

এবার আলভারেজকে ছিটকে দিল চোট

এবার আলভারেজকে ছিটকে দিল চোট

যুদ্ধ কেন লাগে, যুদ্ধ লাগাতে কারা কলকাঠি নাড়ে
যুদ্ধ কেন লাগে, যুদ্ধ লাগাতে কারা কলকাঠি নাড়ে

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের সাড়ে ৪ বছর পার হলো। এরই মধ্যে সম্প্রতি দেখা গেল ইরান যুদ্ধ এবং এর আগে গাজায় ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধও দেখল বিশ্ব। এইসব যুদ্ধের পেছনে অস্ত্র ব্যবসা ও জ্বালানি বাণিজ্য কতটা ভূমিকা রাখছে তা নিয়ে লিখেছেন আলতাফ পারভেজ  রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ৫৪ মাস পার হলো সম্প্রতি। একই সময়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ও ছয় মাস পেরিয়েছে। এর মাঝের সময়ে বহু দেনদরবার হলো; থামে থামে মনে হলেও যুদ্ধ চলছেই।উভয় যুদ্ধ ফেব্রুয়ারিতে শুরু। আবহাওয়াবিদ্যায় ফেব্রুয়ারিকে বসন্ত আসার আগের ‘শেষ কষ্টকর মাস’ বলা হয়। চার্লস ডিকেন্স অবশ্য মোলায়েম করে বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারি জানায়, উষ্ণ দিনগুলো বেশি দূরে নেই। তবে ফেব্রুয়ারি নিজেও উষ্ণ হতে পারে। ২০২২–এর ফেব্রুয়ারি এবং ২০২৬–এর ফেব্রুয়ারি বিশ্বের অনেক সংস্থার কোষাগারে অচিন্তনীয় উষ্ণতার সূচনা ঘটিয়েছে।আবুধাবির এজ গ্রুপের কথাই ধরা যাক। ২০১৯–এ প্রতিষ্ঠার পর নিজ দেশ ও আশপাশের অঞ্চলে সীমিত পরিসরে অস্ত্রের ব্যবসা করত তারা। কিন্তু বিশ্বের দুই প্রান্তের সাম্প্রতিক দুই যুদ্ধে ‘এজ’ অস্ত্রপাতির বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ অর্থবছরে তারা পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছে। অর্ডার পেয়েছে আরও ২৫ বিলিয়ন ডলারের। চাহিদামতো অত্যাধুনিক অস্ত্রের উদ্ভাবন ও জোগানে হিমশিম খাচ্ছে এখন এজ। তাদের জন্য এ মুহূর্তে সুবিধার দিক হলো, উদ্ভাবনের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারছে। যেসব অস্ত্রের ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর অর্ডার আসছে তাৎক্ষণিক। অস্ত্রের গায়ে ‘যুদ্ধে পরীক্ষিত’ সিল থাকা মানে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা।ফিলিস্তিন সমস্যা, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ব্যবসা ও পুঁজিপতিদের খেলউপসাগরীয় প্রতিটি দেশ আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় অঙ্কে বাজেট বাড়াচ্ছে। এ বছর কেবল আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আট বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনেছে। অস্ত্র উৎপাদক কোম্পানিগুলোর জন্য মধ্যপ্রাচ্য এখন সোনার ডিম পাড়া হাঁসের মতো।যুদ্ধে সব দেশ যে লকহিড মার্টিন বা আরটিএক্সের থার্ড সিস্টেম বা প্যাট্রিয়ট সিস্টেম কিনছে, তা নয়। মাঝারি ও ছোট সামর্থ্যের দেশগুলো আকাশ প্রতিরক্ষায় সস্তা ড্রোন দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছে। এজ এ রকম ড্রোনের কারবারে সফলতা পেয়েছে। তার চোখে এখন বিশ্বের প্রধান ১০ অস্ত্র উৎপাদক কোম্পানির তালিকায় নিজেদের দেখার বাসনা। গত জুনে এজ প্যারিসে ইউরোপীয় অফিস খুলেছে। ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের উসকানিদাতাদের কাছে এজের মতো কোম্পানিগুলোর নীরব কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।ভূরাজনৈতিক ভাষ্যকারদের মধ্যে পরবর্তী বিশ্ব–উত্তেজনার লক্ষ্যস্থল নিয়ে আঁচ-অনুমান চলছে এবং তাতে দক্ষিণ এশিয়ার নামও আসছে। মক্কা চুক্তি হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক সামরিক সাহিত্যে দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে আলোচনা বাড়িয়েছে। এ অঞ্চলের একাধিক দেশের নীতিনির্ধারকদের তাতে বেশ উৎসাহের সঙ্গে সাড়া দিতে দেখা যাচ্ছে।বিশ্বে অস্ত্র কেনাবেচার খবরের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত রাখে স্টকহোমভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)। এ বছরের ৯ মার্চ প্রকাশিত তাদের হিসাবে চলতি দশকের প্রথম চার বছরে আগের দশকের শেষ চার বছর থেকে বিভিন্ন দেশের অস্ত্র সংগ্রহ ১০ শতাংশ বেড়েছে।সাম্প্রতিক যুদ্ধ অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছেএর মধ্যে ২০২১ থেকে পরবর্তী চার বছরে বিশ্বে অস্ত্র হস্তান্তরের ৪২ শতাংশ হিস্যা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। আগের চার বছরে যা ছিল ৩৬ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলমান থাকায় এ রকম হিস্যা আরও বাড়বে তাদের।মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা জিইয়ে রাখতে ইসরায়েল ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের বড় এক সহযোগী। যুদ্ধে তেল আবিবের আগ্রহের জায়গাও কেবল ধর্মীয় বা জাতিগত নয়, যেমনটি মনে করা হয়। সিপ্রির হিসাবে গত এক দশকে অস্ত্র ব্যবসার ‘টপ টেনে’ ইসরায়েল যুক্তরাজ্যের ওপরে উঠে গেছে।এসব তথ্য থেকে যুদ্ধের ফল এবং যুদ্ধে কারা লাভবান হচ্ছে, সেটা স্পষ্ট। ইউক্রেনে উত্তেজনা তৈরি করে ২০২১-২৫–এ ইউরোপের দেশগুলোকে বিপুল অস্ত্র কেনানো হয়েছে। ২০২১–এর আগের চার বছরের তুলনায় পরের চার বছরে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র রপ্তানি ২১৭ শতাংশ বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের বড় লক্ষ্য ছিল ইউরোপে ভীতি তৈরি। সেটা সফল হয়েছে। জেলেনস্কির মতো ভালো বন্ধু যুক্তরাষ্ট্র বহু দশকে পায়নি।বিশ্বের অন্যত্রও জেলেনস্কিদের খোঁজ চলতে থাকবে সামনের দিনগুলোতে। ইতিমধ্যে ভূরাজনৈতিক ভাষ্যকারদের মধ্যে পরবর্তী বিশ্ব–উত্তেজনার লক্ষ্যস্থল নিয়ে আঁচ-অনুমান চলছে এবং তাতে দক্ষিণ এশিয়ার নামও আসছে। মক্কা চুক্তি হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক সামরিক সাহিত্যে দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে আলোচনা বাড়িয়েছে। এ অঞ্চলের একাধিক দেশের নীতিনির্ধারকদের তাতে বেশ উৎসাহের সঙ্গে সাড়া দিতে দেখা যাচ্ছে।পাকিস্তান-ভারত বহুকাল ১০ প্রধান অস্ত্র ক্রেতার তালিকায় আছে। আন্তর্জাতিক অস্ত্র উৎপাদকদের কাছে এই দুই দেশ প্রাচুর্যের বড় এক ভবিষ্যৎ প্রতীক। ফলে এই দুই দেশের মধ্যে কোনো ধরনের শান্তি আলোচনা সফল হতে না দেওয়ার আশঙ্কাই বেশি। বরং তাদের দিয়ে আশপাশের অঞ্চলেও কীভাবে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করা যায়, বহু পক্ষের সেই চেষ্টা থাকবে। সেই চেষ্টায় অনেক স্থানীয় চিন্তক ও রাজনীতিবিদকেও শরিক হতে দেখা যাবে।কেবল অস্ত্র উৎপাদকেরা নয়, যুদ্ধ থেকে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় যুক্ত আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোও বিপুল লাভ করেছে সম্প্রতি। হরমুজ প্রণালির সমস্যায় কোনো কোনো কোম্পানি অসুবিধায় পড়েছে বটে, কিন্তু সবাই নয়। সবার ব্যবসা ওই প্রণালিতে সীমাবদ্ধ নয়। গত দুই মাসের প্রতিবেদনগুলো থেকে দেখা যাচ্ছে, জ্বালানিবাজারের বড় শক্তি হিসেবে শেভরন, শেল, বিপি, কনকোফিলিপ্স, এক্সনমবিল, টোটালএনার্জি পুরোনো মজুত বিক্রি থেকে ব্যাপকভাবে লাভবান হলো। ২০২৬–এর প্রথম দুই ত্রৈমাসিকে এসব কোম্পানির প্রতিটির মুনাফা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় কোম্পানি এক্সনমবিল জানিয়েছে, এ বছর তাদের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে মুনাফা (১৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার) প্রথম ত্রৈমাসিকের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এটা গত চার বছরে যেকোনো ত্রৈমাসিকের চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বড় তেল কোম্পানি শেভরনেরও রাজস্ব বেড়েছে ৫৬ শতাংশ। তাদের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের আয় ছিল (১২ বিলিয়ন ডলার) গত ছয় বছরের মধ্যে বেশি।ইউরোপের বেলায় ছয়টি বড় তেল কোম্পানির প্রথম ত্রৈমাসিকে সম্মিলিত মুনাফা ২২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি। (পিবিএস নিউজ, ৩১ জুলাই)। গত ৩১ জুলাই নিউইয়র্ক টাইমসে একটা শিরোনাম ছিল: ইরান ওয়্যার ড্রাইভস অয়েল প্রফিটস টু হায়েস্ট লেভেলস ইন ইয়ারস।২০২৫–এর দ্বিতীয় প্রান্তিকে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়ামের ব্যারেলপ্রতি দাম ছিল ৬৭ ডলার। ২০২৬–এর দ্বিতীয় প্রান্তিকে সেটা অন্তত ব্যারেলপ্রতি ৩০ ডলার বাড়ে। মাঝের সময়ে ইরানে আগ্রাসনের সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা। এ রকম ‘রিপাবলিকান নীতিনির্ধারক’দের জন্য ‘অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ’ গত নির্বাচনে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিল বলে দাবি করেছে ওই দেশেরই পত্রিকা ফোর্বস এ বছরের ৫ জানুয়ারি তাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।অস্ত্র ও তেল খাতের এসব বিবরণ জানাচ্ছে, যুদ্ধ কেন লাগে, কারা কলকাঠি নাড়ে এবং কেন সেটা সহজে বন্ধ হয় না। কেন শক্তিধর দেশগুলো জাতিসংঘ বা এর মতো আঞ্চলিক সংস্থাগুলো অথর্ব ও অকার্যকর করেছে, তারও একটা ব্যাখ্যা ওপরের কাহিনি থেকে অনুমান করা কঠিন নয়। কেন প্রভাবশালী দেশগুলোর নীতিনির্ধারকদের প্রতি তেল ও আর্মস করপোরেটদের ব্যাপক সমর্থন, তারও ইঙ্গিত দেয় যুদ্ধ-সিদ্ধান্তের ঘটনাবলি।অস্ত্র উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা মুখিয়ে থাকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য। সেটা করতে হলে আবার প্রতিটি দেশে ঘৃণা-বিদ্বেষের চাষাবাদ বাড়াতে হয়। হতে পারে সেটা জাতিগত বা ধর্মীয় ঘৃণা।ঘৃণার প্রকোপ বাড়িয়েই মানুষের মধ্যে কল্পিত শত্রু এবং নিরাপত্তাহীনতার হরেক ভীতি বাড়িয়ে তুলতে হয়। এ রকম কাজে নিযুক্ত অগণিত ‘বিশেষজ্ঞ’ নিয়মিত সংবাদমাধ্যমে লিখে ও বলে যাচ্ছে। তাদের এ পরিশ্রম ধীরে ধীরে হলেও বেশ কাজ করে। তখন ‘জনসম্মতি’র আলোকে রাজনীতিবিদেরা দারিদ্র্য, অনুন্নয়ন, অপুষ্টির মধ্যেও মিসাইল, সাবমেরিন, যুদ্ধবিমান কেনাকে অগ্রাধিকার দেয়। কৌতুককর হলো, এ রকম সংবাদগুলো ওই সব দেশের দরিদ্র মানুষেরা তাৎক্ষণিকভাবে অনেক সময় বিস্তারিত পড়া বা শোনার সুযোগ পায় না। লোডশেডিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে, রুটিরুজির বাড়তি দৌড়াদৌড়ির ভেতর ‘নব অর্জনের’ কথা তারা একটু একটু করে জানতে পারে এবং আত্মশ্লাঘায় ভোগে! দারিদ্র্যকে পরাস্ত করার বদলে অন্য দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয় তারা তখন!● আলতাফ পারভেজ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক* মতামত লেখকের নিজস্ব

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
গোসলরত নারীদের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫০

গোসলরত নারীদের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫০

শিক্ষা ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় শেকৃবির ৬ শিক্ষক বহিষ্কার

শিক্ষা ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় শেকৃবির ৬ শিক্ষক বহিষ্কার

মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ ১৩ বছরের তাসিম, এক মাসেও মেলেনি সন্ধান

মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ ১৩ বছরের তাসিম, এক মাসেও মেলেনি সন্ধান

0 Comments