বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকার আশুলিয়া থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় মোসা. সিমু আক্তার বৃষ্টি ওরফে মিষ্টি সুভাসকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
শুনানি চলাকালে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বারবার মামলা না দিয়ে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলেন। এভাবে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর থেকে মেরে ফেলা অনেক ভালো।’
এদিন দুপুর ১২টার পর কাঠগড়ায় নেওয়ার জন্য সুভাসকে হাজতখানা থেকে বের করা হয়। এ সময় তিনি মাথা ঘুরে নিচে পড়ে যান। তখন দায়িত্বরত পুলিশের সদস্যরা তাঁকে ধরে হাজতখানায় ফিরিয়ে নেন। পরে সুস্থ হলে তাঁকে কাঠগড়ায় তোলা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানিয়ে আদালতকে বলেন, আসামি একজন ফ্যাসিস্ট এবং ফ্যাসিস্টের পক্ষে শক্তি উৎপাদনকারী। এই মামলার তদন্তে তাঁর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা মিষ্টি সুভাস কথা বলার অনুমতি প্রার্থনা করেন। আদালত অনুমতি দিলে তিনি আদালতকে বলেন, ‘এসব মিথ্যা মামলায় কি আমাকে এভাবে সাজা দিতে পারে? আমাকে এভাবে প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তার না দেখিয়ে গুলি করে আমাকে মেরে ফেলেন। আমি অসুস্থ, আমার সন্তান আছে। আমি কোনো অপরাধ করিনি। কাউকে মারতে যাইনি। আমি রাজনীতি করি না। এভাবে বারবার মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার না দেখিয়ে আমাকে মেরে ফেলেন।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী এ সময় গ্রেপ্তার না দেখানোর জন্য আদালতের কাছে প্রার্থনা করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ বেলা ১টা ১০ মিনিটে আশুলিয়া থানার নবীনগরে জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদির সামনে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২-২৫ জন নেতা-কর্মী স্লোগান দেন। তাঁরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘অবৈধ নির্বাচনের অবৈধ সরকার মানি না মানব না’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরে বেলা দেড়টার দিকে দুজনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁকে চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় জামিন পেয়ে তিনি কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন। তবে কারাগারে থাকা অবস্থায় ৯ সেপ্টেম্বর নতুন করে হত্যাচেষ্টার এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই আতোয়ার রহমান। ওই দিন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার আশুলিয়া থানার বাইপাইল মোড় এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন কিশোর মো. আবির। এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে। তাদের ছোড়া গুলিতে আবির গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর আশুলিয়া থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা হয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
আমাদের দেশে পেয়ারা সাধারণত পাকা ফল হিসেবেই বেশি খাওয়া হয়। পাকা পেয়ারা কেটে খাওয়া, জ্যাম, জেলি কিংবা বিভিন্ন মিষ্টি পদে ব্যবহার-এসবই বেশ পরিচিত। কিন্তু পেয়ারা যে শুধু ফল হিসেবে খাওয়ার জন্য নয়, তা জানলে অনেকেই অবাক হতে পারেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাঁচা বা আধাপাকা পেয়ারা দিয়ে নানা ধরনের রান্না করার চল রয়েছে। তৈরি হয় ব্যতিক্রমী সব ঝাল, টক ও মিষ্টি পদও। তেমনই একটি ভিন্নধর্মী রান্না হলো পেয়ারার টক-মিষ্টি তরকারি। নাম শুনেই হয়তো মনে হবে, পেয়ারা দিয়ে আবার তরকারি হয় নাকি! তবে একবার রান্না করে খেলে স্বাদের এই অভিনব মিশ্রণ বেশ ভালোই লাগতে পারে। পেয়ারার নিজস্ব হালকা মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে মসলা, ঝাল ও টক উপাদান মিশে তৈরি হয় দারুণ স্বাদের একটি পদ। মসলার সঙ্গে পেয়ারার দারুণ স্বাদের মেলবন্ধন আসুন জেনে নেওয়া যাক পেয়ারার টক-মিষ্টি তরকারি কীভাবে তৈরি করবেন- উপকরণ পেয়ারা টুকরা ২ কাপ তেল ২ টেবিল চামচ মরিচের গুঁড়া আধা চা চামচ জিরা আধা চা চামচ মেথি দানা ১ চা-চামচের ৪ ভাগের ১ ভাগ হলুদ গুঁড়া ১ চা-চামচের ৪ ভাগের ১ ভাগ ধনে গুঁড়া ২ চা চামচ মৌরি গুঁড়া ১ চা চামচ লবণ আধা চা চামচ আদা ১ টেবিল চামচ লেবুর রস ১ চা চামচ চিনি ২ টেবিল চামচ ধনে পাতা কুচি ২ টেবিল চামচ প্রস্তুত প্রণালি প্রথমে পেয়ারা ভালোভাবে ধুয়ে বীজ শক্ত হলে তা ফেলে দিন। এরপর পছন্দমতো টুকরো করে নিন। এবার একটি সসপ্যানে মাঝারি আঁচে তেল গরম করুন। তেল গরম হলে জিরা, মেথি দানা, মৌরিগুঁড়া, ধনে গুঁড়া, হলুদ ও লাল মরিচের গুঁড়া দিয়ে অল্পক্ষণ নেড়ে মসলাগুলো ভালোভাবে ভেজে নিন। এরপর এতে কুচি করা আদা ও পেয়ারা দিয়ে মসলার সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। কিছুক্ষণ নেড়ে ১ কাপ পানি দিয়ে দিন। এবার প্যানটি ঢেকে মৃদু আঁচে রান্না করুন। আরও পড়ুন অল্প সময়েই বানিয়ে ফেলুন মজাদার চিকেন কাবাব পেয়ারা নরম হয়ে এলে ঢাকনা খুলে দেখে নিন, যেন পেয়ারা একেবারে গলে না যায়। এরপর স্বাদ অনুযায়ী আমচুর গুঁড়া দিতে পারেন। আমচুর না থাকলে লেবুর রস ব্যবহার করুন। সঙ্গে চিনি দিয়ে সবকিছু ভালোভাবে নেড়ে আরও কয়েক মিনিট রান্না করুন। ঝাল, টক ও মিষ্টির স্বাদ নিজের পছন্দ অনুযায়ী কম-বেশি করতে পারেন। আরও পড়ুন ইলিশের জালি কাবাব খেয়েছেন কখনো, রইল রেসিপি সবশেষে কুচি করা ধনেপাতা ছড়িয়ে দিন। চুলার আঁচ বন্ধ করে পাত্রটি আরও কয়েক মিনিট ঢেকে রাখুন। এতে মসলার ঘ্রাণ ও স্বাদ পেয়ারার সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যাবে। এবার পাত্র থেকে নামিয়ে পছন্দমতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন টক-মিষ্টি পেয়ারার তরকারি। গরম গরম পুরি, পরোটা কিংবা রুটির সঙ্গে এই ব্যতিক্রমী পদটি খেতে বেশ ভালো লাগবে। এসএকেওয়াই
অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান নগদ লিমিটেড ‘সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই স্নাতক অথবা সমমান ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে নগদ লিমিটেডের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম নগদ লিমিটেড বিভাগের নাম সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট পদের নাম সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার পদসংখ্যা নির্ধারিত নয় চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক অথবা সমমান অভিজ্ঞতা ৩ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা নির্ধারিত নয় সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: ঢাকা জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন নগদ লিমিটেড। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হাসানুল এ হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইশতিয়াক আবেদীন ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বোর্ডের ২০২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। হাসানুল এ হাসান ও ইশতিয়াক আবেদীন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।হাসানুল এ হাসান কেমলুব লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে ম্যাক লুব্রিকেন্টসের একমাত্র পরিবেশক। এ ছাড়া তিনি আমেরিকান ডেইরি লিমিটেডের (এডিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সুবারু বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।ইশতিয়াক আবেদীন বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির (এপিইউবি) সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এআইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আমেরিকান ডেইরি লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং কেমলুব লিমিটেড, সানজাইব লিমিটেড ও সানজাইব ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।