জাতীয়

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিল্পের সক্ষমতা নির্ভর করবে দক্ষ মানবসম্পদের ওপর

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিল্পের সক্ষমতা নির্ভর করবে দক্ষ মানবসম্পদের ওপর
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিল্পের সক্ষমতা নির্ভর করবে দক্ষ মানবসম্পদের ওপর

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ক্রমেই দক্ষ মানবসম্পদ, হাতে-কলমে শিক্ষা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের ওপর নির্ভর করবে।

গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গুলশানে বিসিসিসিআই কার্যালয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চের আট শিক্ষার্থীর সম্মানে আয়োজিত প্রি-ডিপারচার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষার্থীরা চীনের ঝেজিয়াং এগ্রিকালচারাল বিজনেস কলেজে কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বিসিসিসিআইয়ের সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের ব্যক্তিগত উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

আরও পড়ুন

৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেশি ঘুরে এসে দুর্যোগের মুখে এমটি নিনেমিয়া

বাণিজ্য সচিব বলেন, এ ধরনের সময়োপযোগী ও অনুকরণীয় উদ্যোগ বাংলাদেশের উন্নয়ন, বিশেষ করে টেক্সটাইল খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বেসরকারি খাতের নেতৃবৃন্দের এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণের মূল্যবান সুযোগ তৈরি করে এবং জাতীয় স্বার্থে অনুরূপ উদ্যোগ নিতে অন্য ব্যবসায়ী নেতাদেরও উৎসাহিত করবে।

তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কারিগরি জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে নীতিগত আলোচনা ও বাস্তবায়নের মধ্যকার দূরত্ব কমাতেও এসব কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)- এর সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম আশা করেন, এ উদ্যোগ শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কারিগরি জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরিতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন

পিডিবি-বিপিসি / লোডশেডিং কমাতে ফার্নেস অয়েলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর

বিসিসিসিআই সভাপতি বলেন, বিশ্বের ৪৬টি দেশের শিল্পকারখানা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা থেকে পরিচ্ছন্ন উৎপাদন পরিবেশ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, জ্বালানি দক্ষতা এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তিসহ বৈশ্বিক সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণের গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়।

তিনি চীনে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের এ সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করার আহ্বান জানান। চীনের শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও আধুনিক কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে তা দেশে ফিরিয়ে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে বিসিসিসিআইয়ের এ উদ্যোগের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। চীনে প্রশিক্ষণে যেতে যাওয়া এনআইটিইআরের শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি ও প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন।

আইএইচও/কেএসআর

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
পানি বেড়ে আগ্রাসী পদ্মা, একের পর এক বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর
পানি বেড়ে আগ্রাসী পদ্মা, একের পর এক বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর

একদিন যেখানে ছিল কোলাহল, সেখানে এখন শুধুই পানি। শিশুরা যে বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে, সেই বিদ্যালয়ের এখন অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কোথাও ভাঙনের মুখে বসতঘর, কোথাও মসজিদ, কোথাও ফসলি জমি। পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর চরাঞ্চলে বন্যা ও নদীভাঙনের এই ভয়াবহ চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পদ্মার পানি বাড়ার পাশাপাশি তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন। এরই মধ্যে বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিদ্যালয় পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পাঠদান বন্ধ রয়েছে আরেকটি বিদ্যালয়ে। স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে শতাধিক বসতবাড়ি ও কয়েকটি মসজিদও নদীতে হারিয়ে গেছে। আরও পড়ুন তিস্তার ভাঙনে নদীগর্ভে তিন শতাধিক পরিবারের বসতভিটা অন্যদিকে পানি বাড়ায় পবা উপজেলার চর খিদিরপুর, খানপুর, মাঝারদিয়াড়, ১০ নম্বর চর ও চর আষাড়িয়াদহসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে বাড়ছে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা। ঘরবাড়ি ও উঠানে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না, চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, কোথাও গবাদিপশুর খাদ্যের অভাব। এর সঙ্গে বাড়ছে সাপের উপদ্রবও। ‘পানি বাড়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পবা উপজেলার চরাঞ্চলে। উপজেলার চর খিদিরপুরের ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত মিডিল চরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে উপচে পড়া পানিতে দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। বেশিরভাগ বাড়ির উঠান ও ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ও বসবাস প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ঘরের ভেতর পানি, বাইরে পানি—এর মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন চরবাসী’ পরিস্থিতি এতটাই নাজুক হয়ে উঠেছে যে, শেষ সম্বল গরু-ছাগল, ধান, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নৌকায় করে অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে শহরের দিকে পাড়ি জমাচ্ছেন। পদ্মার পানি ও ভাঙনের দ্বিমুখী চাপে চরাঞ্চলের বহু পরিবার এখন ঘর হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিনই পানি বাড়ছে পদ্মায় রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় নগরের বড়কুঠি পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৩০ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। এর আগের দিন শুক্রবার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ২০ মিটার। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ছিল ১৭ দশমিক ১২ মিটার। আর বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় ছিল ১৬ দশমিক ৯৫ মিটার। অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পদ্মার পানি বেড়েছে প্রায় ৩৫ সেন্টিমিটার। পানি বৃদ্ধির এই প্রবণতায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আরও পড়ুন পদ্মার পানি বাড়তেই সরে যাচ্ছে ব্লক, ভাঙনের শঙ্কায় তীরের মানুষ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উজানে গঙ্গার পানি বৃদ্ধি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে পদ্মার পানি বাড়ছে। এরইমধ্যে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও বিভিন্ন চরে পানি প্রবেশ করেছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কোথাও কোথাও ভাঙনও তীব্র হয়ে উঠেছে। তীব্র হচ্ছে পদ্মার ভাঙন পদ্মার ভাঙনের ভয়াবহতার সবচেয়ে নির্মম চিত্র দেখা গেছে বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নে। সেখানে পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া ও চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের কবলে পড়ে। বিদ্যালয়গুলোর মালামাল নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু নদীভাঙনের গতি এতটাই দ্রুত ছিল যে, সব মালামাল সরিয়ে নেওয়ার আগেই একটি বিদ্যালয় পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ‘পদ্মার ভাঙনের ভয়াবহতার সবচেয়ে নির্মম চিত্র দেখা গেছে বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নে। সেখানে পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া ও চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের কবলে পড়ে। বিদ্যালয়গুলোর মালামাল নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু নদীভাঙনের গতি এতটাই দ্রুত ছিল যে, সব মালামাল সরিয়ে নেওয়ার আগেই একটি বিদ্যালয় পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়’ আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘ভাঙতে ভাঙতে শেষ পর্যন্ত নদীগর্ভে চলে গেল স্কুলটি। চরের মধ্যে একদিন স্কুল ভালো দেখে গেলাম, পরদিন এসে দেখি স্কুল নেই। মালামাল সরিয়ে নিতে নিতে শেষ পর্যন্ত স্কুলটিও বিলীন হয়ে গেল।’ বিদ্যালয়টিতে ৮৫ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বিদ্যালয়ের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছিল। কিন্তু গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে সেই কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিদ্যালয়টি পুরোপুরি নদীগর্ভে চলে যায়। আরও পড়ুন নদীভাঙন / কিছুই করতে না পেরে কবর খুঁড়ে বাবা-দাদির কঙ্কাল সরিয়ে নিলেন নিজাম চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, ‘বিদ্যালয়ে যাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। এ কারণে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। আমাদের বিদ্যালয়ে ৯১ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক রয়েছেন।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরে এক হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব চরে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। চকরাজাপুর, কালিদাসখালী, লক্ষ্মীনগর, দাদপুর, নিচ পলাশি, পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া, চৌমাদিয়া ও দিয়ারকাদিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র হয়েছে। চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আবদুর রহমান বলেন, ‘আতারপাড়া, চৌমাদিয়া ও দিয়ারকাদিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙন হয়েছে। প্রায় ১০০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কয়েকটি মসজিদও নদীতে হারিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।’ চৌমাদিয়া চরের বাসিন্দা সোলেমান মোল্লা বলেন, ‘পদ্মায় পানি ক্রমাগত বাড়ছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও বাড়ছে। গবাদিপশু নিয়ে চরের মানুষ খুব বিপাকে পড়েছেন। অনেক বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।’ নৌকায় করে এলাকা ছাড়ছেন বাসিন্দারা পানি বাড়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পবা উপজেলার চরাঞ্চলে। উপজেলার চর খিদিরপুরের ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত মিডিল চরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে উপচে পড়া পানিতে দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। বেশিরভাগ বাড়ির উঠান ও ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ও বসবাস প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ঘরের ভেতর পানি, বাইরে পানি—এর মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন চরবাসী। সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে গবাদিপশু নিয়ে। পানিতে চরের অনেক জায়গা ডুবে যাওয়ায় গরু-ছাগলের খাবার সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে বাড়ছে সাপের উপদ্রব। ফলে পরিবার ও গবাদিপশু—দুই দিকের নিরাপত্তা নিয়েই উদ্বিগ্ন মানুষ। আরও পড়ুন গাইবান্ধায় নদী ভাঙন / ‘চোখের সামনত ঘর দুইটা নদীত চলি গেল, কিছুই করবার পানু না’ অনেকে বাধ্য হয়ে গরু-ছাগল, ধান, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় মালামাল নৌকায় তুলে শহরের ঘাটের দিকে যাচ্ছেন। নিরাপদ জায়গায় কিছুদিন থাকার আশায় ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ছেন তারা। চর খানপুর, মাঝারদিয়াড়, ১০ নম্বর চর ও চর আষাড়িয়াদহেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব এলাকার নিচু বসতভিটা ও চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। রাজশাহীর তালাইমারীর মাঠও পানিতে। শুধু চরাঞ্চল নয়, পানি বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে রাজশাহী নগরীর কিছু নিচু এলাকাতেও। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মার পাশাপাশি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বড়াল নদীর পানিও বাড়ছে। এতে চারঘাট স্লুইসগেটসংলগ্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানির চাপে স্লুইসগেটের এক পাশে সামান্য ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনস্থলের পাশেই একটি মন্দির থাকায় পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। আরাজি সাদিপুর ও মিয়াপুর হঠাৎপাড়া গ্রামের কয়েকটি রাস্তায় পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুলশিক্ষার্থীরা। পানি মাড়িয়ে কিংবা বিকল্প পথ ব্যবহার করে তাদের চলাচল করতে হচ্ছে। চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘নদীর পানি বৃদ্ধি ও স্লুইসগেট এলাকার পরিস্থিতির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আরও পড়ুন পদ্মায় নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা, ১৮ ঘণ্টায়ও মেলেনি খোঁজ ত্রাণ, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের উদ্যোগ পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। দুর্গত চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে খাবার ও ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি গবাদিপশু রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসার জন্য চরাঞ্চলসহ তিনটি স্থানে মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। গবাদিপশু রাখার জন্য ভ্রাম্যমাণ আশ্রয়কেন্দ্র করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রায় ১০ ফুট উঁচু দুটি বড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, ‘নদীভাঙনের বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ আরও পড়ুন পানিসম্পদ মন্ত্রী / পদ্মা ব্যারাজ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপ্লবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিয়মিত প্রতিদিনই পানি পরিমাপ করছি। পদ্মার পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। এখানে বন্যা হওয়ার ঝুঁকি কম। তবে কিছু কিছু স্থান প্লাবিত হয়েছে, যেটি প্রতিবছরই হয়ে থাকে। তবে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানাই।’ এসআর/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
সরকার বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তবে সমালোচনা আর চরিত্রহনন এক নয়

সরকার বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তবে সমালোচনা আর চরিত্রহনন এক নয়

ইউডব্লিউই ব্রিস্টলের ফ্র্যাঞ্চাইজি পার্টনার হলো এলসিএলএস নর্থ

ইউডব্লিউই ব্রিস্টলের ফ্র্যাঞ্চাইজি পার্টনার হলো এলসিএলএস নর্থ

আদালতের রায় বা আদেশের
বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকা অবৈধ: হাইকোর্টের রায়

আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকা অবৈধ: হাইকোর্টের রায়

কলকাতার মুসলিম কলোনিতে পানি নেই দেড় মাস ধরে, উচ্ছেদচেষ্টার অভিযোগ
কলকাতার মুসলিম কলোনিতে পানি নেই দেড় মাস ধরে, উচ্ছেদচেষ্টার অভিযোগ

কলকাতার উত্তরাঞ্চলীয় কাশীপুরের জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় দেড় মাস ধরে নিয়মিত পানি সরবরাহ নেই। কলোনির পাঁচটি সরকারি কল দিয়ে প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পানি সরবরাহ করা হতো। বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ২৯ জুলাই থেকে পাঁচটি কলই শুকিয়ে আছে। প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ এই কলোনিতে বসবাস করেন হাজার পাঁচেক মানুষ। তাদের অধিকাংশই মুসলিম এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্য। পানি না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা। অনেককে দূরের কল থেকে পানি সংগ্রহ করে ভ্যানযোগে বাড়িতে আনতে হচ্ছে। কেউ কেউ গঙ্গার পানি ব্যবহার করছেন। আরও পড়ুন ভারতে মুসলিম নেতার প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ পাইপলাইনের কাজের পরেই বন্ধ পানি স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পানি সরবরাহ নিয়ে আগে কোনো সমস্যা ছিল না। এলাকার বাসিন্দারা স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষের কাছেও এ নিয়ে কোনো অভিযোগ করেননি। এর মধ্যেই গত ২৬ থেকে ২৮ জুলাই এলাকায় পাইপলাইনের কাজ করে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন বা কেএমসি। বাসিন্দাদের ভাষ্য, কলোনির শুরু ও শেষ প্রান্তে দুটি জায়গায় রাস্তা খোঁড়া হয়েছিল। ২৮ জুলাই রাত ১১টার দিকে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন সকালে পানি ফিরে আসবে বলে অপেক্ষা করলেও তা আর হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা মহিউদ্দিন শেখ বলেন, রাতের অন্ধকারে পাইপলাইন বন্ধ করে রাস্তার কাজ করা হয়েছিল বলে ধারণা তাদের। এরপর থেকেই কলোনির পাঁচটি কলে আর পানি পাওয়া যাচ্ছে না। আরও পড়ুন ভারত / যৌন ফ্যান্টাসিকে বাস্তব ছবি বানাচ্ছে এআই! টার্গেট মুসলিম নারীরা বিদ্যুৎও বন্ধ হয়েছিল পানির পাশাপাশি বিদ্যুৎ নিয়েও সমস্যায় পড়তে হয়েছিল বাসিন্দাদের। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বাসিন্দা পিঙ্কি বিবির দাবি, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে—এমন সন্দেহে সংযোগ বন্ধ করা হয়েছিল। তবে তার ভাষ্য, কলোনির প্রতিটি বাড়ির আলাদা বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। প্রতিটি বাড়ির নামে আলাদা বিলও আসে। স্থানীয়দের দাবি, এক সপ্তাহের বেশি সময় পর বিদ্যুৎসংযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। জ্যোতিনগর কলোনির সম্পাদক আলমগীর বিশ্বাস বলেন, বস্তি উন্নয়ন সমিতির প্রতিবাদের পর ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য প্রধান সড়কের সংযোগ বন্ধ করেছিল সিইএসসি। পরে সাতদিনের মধ্যে কোনো অবৈধ সংযোগ পাওয়া যায়নি নিশ্চিত হওয়ার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ ফের চালু করা হয়। আরও পড়ুন ভারত / মোদীকে ‘গুন্ডা’ বলায় গ্রেফতার: মুসলিম বৃদ্ধকে মারধর, কানও ধরালো পুলিশ উচ্ছেদচেষ্টা চলছে, অভিযোগ বাসিন্দাদের পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঘটনাকে উচ্ছেদ পরিকল্পনার অংশ বলে অভিযোগ করেছেন কলোনির বাসিন্দারা। জ্যোতিনগর কলোনির সম্পাদক আলমগীর বিশ্বাস বলেন, পানি ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক সেবা বন্ধ করে দিলে মানুষ এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হবে—এমন পরিকল্পনা থাকতে পারে। তার দাবি, কলোনিতে হিন্দু ও মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করছেন। মেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও রয়েছে। কলোনির বাসিন্দা মরজিনা বেগম একটি কাচের কারখানায় কাজ করেন। তিনি বলেন, তাদের এই জায়গা ছেড়ে দিতে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য, তিনি এই কলোনিতেই জন্মেছেন। তার দাদাও বহু বছর আগে এখানে বসতি গড়েছিলেন। তারা সহজে জায়গা ছেড়ে যাবেন না। আরও পড়ুন ‘বাংলাদেশি’ তকমা / হেনস্তা বাড়ার শঙ্কা পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মুসলিমদের বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জমি নিয়ে আইনি বিরোধ জ্যোতিনগর কলোনির জমি নিয়ে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধ রয়েছে। আইনি নথি অনুযায়ী, প্রায় ৩ হাজার ৪৭৮ বর্গমিটার জমির ওপর কলোনিটি গড়ে উঠেছে। জমির মালিকানা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট, কলকাতার বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বন্দরের এস্টেট কর্মকর্তা কলোনির বাসিন্দাদের উচ্ছেদের আদেশ দেন। ১৯৭১ সালের পাবলিক প্রিমিসেস (ইভিকশন অব আনঅথরাইজড অকুপ্যান্টস) আইনের আওতায় ওই আদেশ দেওয়া হয়। আদেশে কলোনির বাসিন্দাদের বন্দর কর্তৃপক্ষের জমির ‘অননুমোদিত দখলদার’ বা ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশ প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে জমি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শুনানিতে বলা হয়েছিল, কলোনির কারণে ‘সাম্প্রদায়িক অশান্তির সম্ভাব্য হুমকি’ রয়েছে। আরও পড়ুন ভারত / গঙ্গা নদীতে ইফতার করায় ১৪ মুসলিম গ্রেফতার উচ্ছেদ ঠেকাতে আদালতে বাসিন্দারা বাসিন্দারা গত ৯ জুন উচ্ছেদের আদেশের বিষয়টি জানতে পারেন বলে আইনি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর উচ্ছেদ ঠেকাতে তারা কলকাতার সিটি সিভিল কোর্টের প্রধান বিচারকের কাছে আবেদন করেন। তবে ১৮ আগস্ট আদালত তাদের উচ্ছেদ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার আবেদন নাকচ করে দেন। এরপর ১৯ আগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বাসিন্দারা। হাইকোর্ট উচ্ছেদ কার্যক্রমের ওপর ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন। আদালতে নয়জন বাসিন্দা আবেদনকারী হিসেবে ছিলেন। তাদের আইনজীবীরা দাবি করেন, উচ্ছেদের আগে সংশ্লিষ্ট সব বাসিন্দাকে যথাযথভাবে নোটিশ দেওয়া ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ১৯৭১ সালের আইনের ৪ নম্বর ধারায় উচ্ছেদের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। আইনজীবীদের দাবি, এস্টেট কর্মকর্তার আদেশে এমন নোটিশ যথাযথভাবে দেওয়া হয়েছিল কি না, তার উল্লেখ নেই। বাসিন্দাদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, সামিম আহমেদ, মো. নাসিরুল হক ও ইভি ব্যানার্জি। আইনজীবী সামিম আহমেদ বলেন, জমিটি যদি বন্দর কর্তৃপক্ষেরও হয়, তবু সেখানে বসবাসকারী মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তার মতে, সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করা হলে রাষ্ট্র আইন প্রয়োগ করতে পারে। তবে উচ্ছেদের ক্ষেত্রে মানুষের আবাসন ও মর্যাদার অধিকারও বিবেচনায় রাখতে হবে। আরও পড়ুন ভারতে ৩ প্রবীণ মুসলিমকে মারধরের ভিডিও নিয়ে তোলপাড় কর্তৃপক্ষের দাবি, ৬১ কোটি রুপির ক্ষতি বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, ১৯৯০ সাল থেকে এই কলোনির কারণে তাদের মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬১ কোটি রুপির বেশি। আইনি নথি অনুযায়ী, মাসে ১৯ লাখ রুপির বেশি ক্ষতি হচ্ছে। বছরে রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ ২ কোটি রুপির বেশি বলে দাবি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া কলোনিটিকে ঘনবসতিপূর্ণ ও বসবাসের জন্য অনিরাপদ বলেও দাবি করা হয়েছে। দাহ্য পদার্থ ও অনিরাপদ বৈদ্যুতিক তারের উপস্থিতির কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় কেন পানির সংকট? পানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ভৌগোলিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। তাদের দাবি, পাইপলাইনের কাজ করা দুটি স্থানের মাঝের প্রায় ১৫০ মিটার এলাকায় পানি নেই। এই অংশের দুই পাশে থাকা কলগুলোতে পানি পাওয়া যাচ্ছে। বাসিন্দাদের ভাষ্য, ওই দুই জায়গায় রাস্তা খোঁড়ার স্থানই জ্যোতিনগর কলোনির সীমানার সঙ্গে মিলে যায়। কলোনির অধিকাংশ বাসিন্দা মুসলিম। স্থানীয়দের দাবি, এর ঠিক আগে ও পরে থাকা হিন্দু অধ্যুষিত এলাকার কলগুলোতে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। আরও পড়ুন ভারতে মুসলিম হওয়ায় ত্রাণের কম্বল পেলেন না নারী, ভিডিও ভাইরাল গঙ্গার ঘোলা পানি দিয়ে চলছে জীবন পানি না থাকায় প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এক বাসিন্দা বলেন, পানি মৌলিক প্রয়োজন। কলোনিতে এত মানুষ থাকার পরও পানি না থাকায় আশপাশের এলাকার কল থেকে পানি আনতে হচ্ছে। তবে সেসব কলের মালিকেরা নিজেদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় পানি সংগ্রহে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। বর্ষার সময়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এক তরুণী বাসন পরিষ্কার করার সময় গঙ্গা থেকে আনা ঘোলা পানি দেখিয়ে বলেন, এই পানি পরিষ্কার নয়। তবু অন্য কোনো উপায় না থাকায় তা ব্যবহার করতে হচ্ছে। বয়স্ক এক নারী বলেন, গঙ্গায় এখন পানির স্তর অনেক বেশি। তাই সেখানে নেমে গোসল করা বা পানি সংগ্রহ করা ঝুঁকিপূর্ণ। তার ওপর নদীর পানি ঘোলা ও পান করার অনুপযোগী। আরেক নারী বলেন, শিশুদের ত্বকে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এরই মধ্যে কয়েকজনের ত্বকের সমস্যাও হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আরও পড়ুন আল-জাজিরার প্রতিবেদন / ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ভারতজুড়ে হামলার শিকার হচ্ছেন কাশ্মীরি ফেরিওয়ালারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ পানি ও বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার পরদিনই স্থানীয় বাসিন্দারা করপোরেশন কার্যালয়ে অভিযোগ করেছিলেন বলে জানান আলমগীর বিশ্বাস। তার দাবি, প্রথমে তাদের ফোন নম্বর নিয়ে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরদিন হাতিবাগানের প্রধান করপোরেশন কার্যালয়েও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তবু কোনো সমাধান হয়নি। স্থানীয় থানায়, কাউন্সিলরের কাছে এবং বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারির কাছেও তারা অভিযোগ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা সরেজমিনে কলোনিতে এসে পরিস্থিতি দেখেননি বলে দাবি বাসিন্দাদের। বাসিন্দারা স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে দেখা করলেও তিনি পানি সরবরাহ বন্ধের জন্য নিজে দায়ী নন বলে জানান। পিঙ্কি বিবির অভিযোগ, উল্টো বিধায়ক তাদের উচ্ছেদের হুমকি দিয়েছেন। আরও পড়ুন মুসলিমদের ছবিতে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর ‘গুলি ’, বিতর্কের ঝড় বিধায়ক যা বললেন স্থানীয় বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারি অবশ্য পানি সংকটের দায় নিজের ওপর নিতে চাননি। তার বক্তব্য, জমিটি বন্দরের। পানি সরবরাহ করে কেএমসি। তাই এ বিষয়ে তার কী ভূমিকা থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকায় রাজনৈতিক নেতাদের এ বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত নয় বলেও জানান তিনি। নিজের এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেবেন কি না, জানতে চাইলে বিধায়ক বলেন, এটি তার কাজ নয়। তিনি আরও বলেন, বাসিন্দারা প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেতাদের সহায়তা চেয়েছেন। তাই তাদের সেই নেতাদের ওপর আস্থা রাখা উচিত। আরও পড়ুন ভারতে মুসলিম নিপীড়ন / হিন্দুত্ববাদী মবের প্রতিবাদ করায় উল্টো যুবকের বিরুদ্ধেই মামলা পানির জন্য বিকল্প ব্যবস্থা ৯ সেপ্টেম্বর সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে জ্যোতিনগর কলোনিতে যান। তিনি বাসিন্দাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন এবং উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদ জানান। দলটির উদ্যোগে প্রতি দুই থেকে তিনদিন পরপর কলোনিতে পানির ট্যাংকার পাঠানো হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এখনো হয়নি। সূত্র: অল্ট নিউজকেএএ/

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
অনলাইন বিজ্ঞাপন দিয়ে নাগরিকদের গোপন তথ্য ও লোকেশন বিক্রি করতেন তারা

অনলাইন বিজ্ঞাপন দিয়ে নাগরিকদের গোপন তথ্য ও লোকেশন বিক্রি করতেন তারা

পদায়নে ‘ঘুস’ বাণিজ্য-১১ হাজার কোটি পাচারের অভিযোগ আসিফের বিরুদ্ধে

পদায়নে ‘ঘুস’ বাণিজ্য-১১ হাজার কোটি পাচারের অভিযোগ আসিফের বিরুদ্ধে

ধর্ষণের পর তরুণীকে হত্যা, প্রেমিকসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড

ধর্ষণের পর তরুণীকে হত্যা, প্রেমিকসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রথমবারের মতো আজ পালিত হচ্ছে গুহা সংরক্ষণ দিবস
প্রথমবারের মতো আজ পালিত হচ্ছে গুহা সংরক্ষণ দিবস

পৃথিবীর ভূখণ্ডের প্রায় এক–চতুর্থাংশজুড়ে রয়েছে গুহা ও কার্স্ট ল্যান্ডস্কেপ। কোটি কোটি মানুষের পানের পানির প্রধান উৎস এই গোপন ভূগর্ভস্থ পরিবেশ। প্রাচীন শিলার দ্রবীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা এই রহস্যময় ভুবন বৈচিত্র্যময় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে আসছে। প্রকৃতির এই সুপ্ত ভান্ডার মানবেতিহাসের দীর্ঘ দলিল বহন করছে।ইউনেসকো ১৩ সেপ্টেম্বর তারিখটি আন্তর্জাতিক গুহা ও কার্স্ট দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। বিশ্বজুড়ে এই ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দিনটি পালন করা হবে। এবারই প্রথম দিবসটি পালন করা হচ্ছে। বৈশ্বিক ভূপার্ক এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্স্ট অঞ্চলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।পৃথিবীর মোট ভূভাগের ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ এলাকায় গুহার উপস্থিতি দেখা যায়। বৃষ্টির পানি ও খনিজ পাথরের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এই ল্যান্ডস্কেপগুলো তৈরি হয়। ভূগর্ভস্থ পানির রিজার্ভ বা অ্যাকুইফার বিশ্বের প্রায় ১৬ শতাংশ মানুষের পানির চাহিদা মেটায়। এ কারণে প্রাচীনকাল থেকেই মানবসভ্যতা গুহা ও কার্স্ট অঞ্চলের কাছাকাছি গড়ে উঠেছে।বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে এই ভূগর্ভস্থ অঞ্চলগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। কানাডার রকি পর্বতমালা থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে লুকিয়ে আছে হাজারও অজানা গুহা। কানাডার ডেরেক ফোর্ড এ গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি তাঁর গবেষণা দল নিয়ে সুদূর অতীতে বরফ যুগের ইতিহাস খুঁজে বের করেছেন। গুহার ভেতর জমে থাকা খনিজ বা স্পিলিওথিম জলবায়ুর প্রাচীন ইতিহাস সংরক্ষণ করে।গবেষক জন পোল্যাক বলেন, পৃথিবীর রূপ দেখতে হলে ভূগোল ও ভূরূপবিদ্যা জানা প্রয়োজন। কার্স্ট ল্যান্ডস্কেপ অধ্যয়নের জন্য চমৎকার একটি ক্ষেত্র। ক্যাসলগার্ড কেভ কানাডার অন্যতম দীর্ঘ ও জটিল একটি গুহা। বরফক্ষেত্রের নিচে অবস্থিত এই গুহায় প্রাচীন হিমবাহের বরফ সরাসরি প্রবেশ করেছে। চরম প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকা দুর্লভ প্রজাতির জলজ ক্রাস্টেসিয়ান এই গুহায় পাওয়া যায়।কানাডার পার্কস গার্ডের কর্মকর্তা গ্রেগ হর্ন জানান, গুহার ল্যান্ডস্কেপ লাখ লাখ বছর পুরোনো হতে পারে। পৃষ্ঠদেশের ভূপ্রকৃতি তুলনামূলক অনেক নতুন। হিমবাহ গলে যাওয়ার পর এই ল্যান্ডস্কেপগুলো গঠিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের রহস্য উদ্‌ঘাটনে গুহার ভেতরের খনিজ আমানত দারুণভাবে সাহায্য করছে। গাছের যেমন বয়স নির্ধারণের বলয় থাকে তেমনি গুহার স্ট্রাকচার দেখে অতীতের বৃষ্টিপাতের রেকর্ড জানা যায়।পৃথিবীর চুম্বকক্ষেত্রের পরিবর্তনের ইতিহাসও গুহার পাথরে সংরক্ষিত থাকে। লোহার অক্সাইড খনিজের উপস্থিতি চুম্বকীয় মেরুর দিক পরিবর্তন স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে গুহার গুরুত্ব তুলে ধরা বেশ কঠিন। গুহার ভেতরকার চরম অন্ধকার এবং বিপজ্জনক পরিবেশ সাধারণ মানুষের যাতায়াত সীমিত করে। গুহার পরিবেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় গবেষক ও অভিযাত্রীরা গোপনীয়তা বজায় রাখেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নতুন নতুন গুহা আবিষ্কারের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বিসারো অ্যানিমা গুহা দেশটির সবচেয়ে গভীর গুহা হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। ওয়েলস গ্রে প্রভিন্সিয়াল পার্কে আবিষ্কৃত বিশাল গুহার মুখ নেট–দুনিয়ায় আলোড়ন তোলে। দুর্গম অঞ্চলের এসব গুহায় চরম পরিবেশে বেঁচে থাকা ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। এই অণুজীবগুলোর রোগপ্রতিরোধীক্ষমতা বৈশ্বিক অ্যান্টিবায়োটিক সংকটে কাজে লাগতে পারে।এর আগে র‍্যাটস নেস্ট কেভ নামক গুহায় প্রাচীন মানবসভ্যতার নানা নিদর্শন পাওয়া গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজে সেখানে ৭ হাজার বছরের স্তন্যপায়ী প্রাণীর অবশিষ্টাংশ এবং প্রাচীন পাথরের হাতিয়ার আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রকৃতির এই গোপন জগৎ মানবজাতিকে নতুন পথের সন্ধান দিচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঠিক তথ্য পেতে গুহা রক্ষা করা জরুরি। তরুণ প্রজন্মকে কার্স্ট বিজ্ঞান ও ভূগর্ভস্থ পানির গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। পৃথিবী নামক গ্রহের নিচে লুকিয়ে থাকা এই অমূল্য সম্পদ টিকিয়ে রাখতে বৈশ্বিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।সূত্র: ইউনেসকো ও কানাডিয়ান জিওগ্রাফিক

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ফাইন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্সের চেয়ারম্যান হলেন সেলিম বরকত

ফাইন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্সের চেয়ারম্যান হলেন সেলিম বরকত

প্রতিবেশীর ঘরে শিশুর মরদেহ, বাবার আর্তনাদ—‘মেয়েরে মাইরা পুঁইতে রাখছিল কেন?’

প্রতিবেশীর ঘরে শিশুর মরদেহ, বাবার আর্তনাদ—‘মেয়েরে মাইরা পুঁইতে রাখছিল কেন?’

২৫ টাকার বিদ্যুতে ৮০ কিলোমিটার যাবে বাইক, সূর্যের আলোতেই চলবে ‘সানকার’

২৫ টাকার বিদ্যুতে ৮০ কিলোমিটার যাবে বাইক, সূর্যের আলোতেই চলবে ‘সানকার’

0 Comments