কলকাতার উত্তরাঞ্চলীয় কাশীপুরের জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় দেড় মাস ধরে নিয়মিত পানি সরবরাহ নেই। কলোনির পাঁচটি সরকারি কল দিয়ে প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পানি সরবরাহ করা হতো। বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ২৯ জুলাই থেকে পাঁচটি কলই শুকিয়ে আছে।
প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ এই কলোনিতে বসবাস করেন হাজার পাঁচেক মানুষ। তাদের অধিকাংশই মুসলিম এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্য।
পানি না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা। অনেককে দূরের কল থেকে পানি সংগ্রহ করে ভ্যানযোগে বাড়িতে আনতে হচ্ছে। কেউ কেউ গঙ্গার পানি ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পানি সরবরাহ নিয়ে আগে কোনো সমস্যা ছিল না। এলাকার বাসিন্দারা স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষের কাছেও এ নিয়ে কোনো অভিযোগ করেননি।
এর মধ্যেই গত ২৬ থেকে ২৮ জুলাই এলাকায় পাইপলাইনের কাজ করে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন বা কেএমসি।
বাসিন্দাদের ভাষ্য, কলোনির শুরু ও শেষ প্রান্তে দুটি জায়গায় রাস্তা খোঁড়া হয়েছিল। ২৮ জুলাই রাত ১১টার দিকে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন সকালে পানি ফিরে আসবে বলে অপেক্ষা করলেও তা আর হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মহিউদ্দিন শেখ বলেন, রাতের অন্ধকারে পাইপলাইন বন্ধ করে রাস্তার কাজ করা হয়েছিল বলে ধারণা তাদের। এরপর থেকেই কলোনির পাঁচটি কলে আর পানি পাওয়া যাচ্ছে না।
পানির পাশাপাশি বিদ্যুৎ নিয়েও সমস্যায় পড়তে হয়েছিল বাসিন্দাদের। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
বাসিন্দা পিঙ্কি বিবির দাবি, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে—এমন সন্দেহে সংযোগ বন্ধ করা হয়েছিল। তবে তার ভাষ্য, কলোনির প্রতিটি বাড়ির আলাদা বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। প্রতিটি বাড়ির নামে আলাদা বিলও আসে।
স্থানীয়দের দাবি, এক সপ্তাহের বেশি সময় পর বিদ্যুৎসংযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। জ্যোতিনগর কলোনির সম্পাদক আলমগীর বিশ্বাস বলেন, বস্তি উন্নয়ন সমিতির প্রতিবাদের পর ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য প্রধান সড়কের সংযোগ বন্ধ করেছিল সিইএসসি। পরে সাতদিনের মধ্যে কোনো অবৈধ সংযোগ পাওয়া যায়নি নিশ্চিত হওয়ার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ ফের চালু করা হয়।
পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঘটনাকে উচ্ছেদ পরিকল্পনার অংশ বলে অভিযোগ করেছেন কলোনির বাসিন্দারা।
জ্যোতিনগর কলোনির সম্পাদক আলমগীর বিশ্বাস বলেন, পানি ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক সেবা বন্ধ করে দিলে মানুষ এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হবে—এমন পরিকল্পনা থাকতে পারে।
তার দাবি, কলোনিতে হিন্দু ও মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করছেন। মেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও রয়েছে।
কলোনির বাসিন্দা মরজিনা বেগম একটি কাচের কারখানায় কাজ করেন। তিনি বলেন, তাদের এই জায়গা ছেড়ে দিতে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে।
তার ভাষ্য, তিনি এই কলোনিতেই জন্মেছেন। তার দাদাও বহু বছর আগে এখানে বসতি গড়েছিলেন। তারা সহজে জায়গা ছেড়ে যাবেন না।
জ্যোতিনগর কলোনির জমি নিয়ে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধ রয়েছে।
আইনি নথি অনুযায়ী, প্রায় ৩ হাজার ৪৭৮ বর্গমিটার জমির ওপর কলোনিটি গড়ে উঠেছে। জমির মালিকানা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট, কলকাতার বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বন্দরের এস্টেট কর্মকর্তা কলোনির বাসিন্দাদের উচ্ছেদের আদেশ দেন। ১৯৭১ সালের পাবলিক প্রিমিসেস (ইভিকশন অব আনঅথরাইজড অকুপ্যান্টস) আইনের আওতায় ওই আদেশ দেওয়া হয়।
আদেশে কলোনির বাসিন্দাদের বন্দর কর্তৃপক্ষের জমির ‘অননুমোদিত দখলদার’ বা ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশ প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে জমি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শুনানিতে বলা হয়েছিল, কলোনির কারণে ‘সাম্প্রদায়িক অশান্তির সম্ভাব্য হুমকি’ রয়েছে।
বাসিন্দারা গত ৯ জুন উচ্ছেদের আদেশের বিষয়টি জানতে পারেন বলে আইনি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর উচ্ছেদ ঠেকাতে তারা কলকাতার সিটি সিভিল কোর্টের প্রধান বিচারকের কাছে আবেদন করেন।
তবে ১৮ আগস্ট আদালত তাদের উচ্ছেদ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার আবেদন নাকচ করে দেন। এরপর ১৯ আগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বাসিন্দারা। হাইকোর্ট উচ্ছেদ কার্যক্রমের ওপর ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন।
আদালতে নয়জন বাসিন্দা আবেদনকারী হিসেবে ছিলেন। তাদের আইনজীবীরা দাবি করেন, উচ্ছেদের আগে সংশ্লিষ্ট সব বাসিন্দাকে যথাযথভাবে নোটিশ দেওয়া ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
১৯৭১ সালের আইনের ৪ নম্বর ধারায় উচ্ছেদের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। আইনজীবীদের দাবি, এস্টেট কর্মকর্তার আদেশে এমন নোটিশ যথাযথভাবে দেওয়া হয়েছিল কি না, তার উল্লেখ নেই।
বাসিন্দাদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, সামিম আহমেদ, মো. নাসিরুল হক ও ইভি ব্যানার্জি। আইনজীবী সামিম আহমেদ বলেন, জমিটি যদি বন্দর কর্তৃপক্ষেরও হয়, তবু সেখানে বসবাসকারী মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
তার মতে, সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করা হলে রাষ্ট্র আইন প্রয়োগ করতে পারে। তবে উচ্ছেদের ক্ষেত্রে মানুষের আবাসন ও মর্যাদার অধিকারও বিবেচনায় রাখতে হবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, ১৯৯০ সাল থেকে এই কলোনির কারণে তাদের মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬১ কোটি রুপির বেশি।
আইনি নথি অনুযায়ী, মাসে ১৯ লাখ রুপির বেশি ক্ষতি হচ্ছে। বছরে রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ ২ কোটি রুপির বেশি বলে দাবি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া কলোনিটিকে ঘনবসতিপূর্ণ ও বসবাসের জন্য অনিরাপদ বলেও দাবি করা হয়েছে। দাহ্য পদার্থ ও অনিরাপদ বৈদ্যুতিক তারের উপস্থিতির কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

পানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ভৌগোলিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। তাদের দাবি, পাইপলাইনের কাজ করা দুটি স্থানের মাঝের প্রায় ১৫০ মিটার এলাকায় পানি নেই। এই অংশের দুই পাশে থাকা কলগুলোতে পানি পাওয়া যাচ্ছে।
বাসিন্দাদের ভাষ্য, ওই দুই জায়গায় রাস্তা খোঁড়ার স্থানই জ্যোতিনগর কলোনির সীমানার সঙ্গে মিলে যায়। কলোনির অধিকাংশ বাসিন্দা মুসলিম।
স্থানীয়দের দাবি, এর ঠিক আগে ও পরে থাকা হিন্দু অধ্যুষিত এলাকার কলগুলোতে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
পানি না থাকায় প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এক বাসিন্দা বলেন, পানি মৌলিক প্রয়োজন। কলোনিতে এত মানুষ থাকার পরও পানি না থাকায় আশপাশের এলাকার কল থেকে পানি আনতে হচ্ছে।
তবে সেসব কলের মালিকেরা নিজেদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় পানি সংগ্রহে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
বর্ষার সময়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এক তরুণী বাসন পরিষ্কার করার সময় গঙ্গা থেকে আনা ঘোলা পানি দেখিয়ে বলেন, এই পানি পরিষ্কার নয়। তবু অন্য কোনো উপায় না থাকায় তা ব্যবহার করতে হচ্ছে।
বয়স্ক এক নারী বলেন, গঙ্গায় এখন পানির স্তর অনেক বেশি। তাই সেখানে নেমে গোসল করা বা পানি সংগ্রহ করা ঝুঁকিপূর্ণ। তার ওপর নদীর পানি ঘোলা ও পান করার অনুপযোগী।
আরেক নারী বলেন, শিশুদের ত্বকে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এরই মধ্যে কয়েকজনের ত্বকের সমস্যাও হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

পানি ও বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার পরদিনই স্থানীয় বাসিন্দারা করপোরেশন কার্যালয়ে অভিযোগ করেছিলেন বলে জানান আলমগীর বিশ্বাস। তার দাবি, প্রথমে তাদের ফোন নম্বর নিয়ে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়।
পরদিন হাতিবাগানের প্রধান করপোরেশন কার্যালয়েও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তবু কোনো সমাধান হয়নি।
স্থানীয় থানায়, কাউন্সিলরের কাছে এবং বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারির কাছেও তারা অভিযোগ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা সরেজমিনে কলোনিতে এসে পরিস্থিতি দেখেননি বলে দাবি বাসিন্দাদের।
বাসিন্দারা স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে দেখা করলেও তিনি পানি সরবরাহ বন্ধের জন্য নিজে দায়ী নন বলে জানান। পিঙ্কি বিবির অভিযোগ, উল্টো বিধায়ক তাদের উচ্ছেদের হুমকি দিয়েছেন।
স্থানীয় বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারি অবশ্য পানি সংকটের দায় নিজের ওপর নিতে চাননি। তার বক্তব্য, জমিটি বন্দরের। পানি সরবরাহ করে কেএমসি। তাই এ বিষয়ে তার কী ভূমিকা থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকায় রাজনৈতিক নেতাদের এ বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত নয় বলেও জানান তিনি।
নিজের এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেবেন কি না, জানতে চাইলে বিধায়ক বলেন, এটি তার কাজ নয়।
তিনি আরও বলেন, বাসিন্দারা প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেতাদের সহায়তা চেয়েছেন। তাই তাদের সেই নেতাদের ওপর আস্থা রাখা উচিত।
৯ সেপ্টেম্বর সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে জ্যোতিনগর কলোনিতে যান। তিনি বাসিন্দাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন এবং উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদ জানান।
দলটির উদ্যোগে প্রতি দুই থেকে তিনদিন পরপর কলোনিতে পানির ট্যাংকার পাঠানো হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এখনো হয়নি।
সূত্র: অল্ট নিউজ
কেএএ/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
এক বছরের ছোট-বড় দুই চাচাতো বোন। একসঙ্গে বেড়ে ওঠা ও একই শ্রেণিতে পড়াশোনা। সকালে বাড়ির পাশের মাছের ঘেরে শাপলা তুলতে গিয়েছিল দুজন। পরে দুজনের লাশ উদ্ধার হয় ঘের থেকে।ঘটনাটি ঘটেছে আজ রোববার সকালে বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের দাড়িয়ালা গ্রামে।পানিতে ডুবে মৃত দুই শিশু হলো দাড়িয়ালা গ্রামের মোস্তাইন শেখের মেয়ে লামিয়া আক্তার জান্নাতি (১০) এবং মোস্তাক শেখের মেয়ে সামিয়া (৯)। তাঁরা দুজন স্থানীয় দাড়িয়ালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।স্থানীয়দের বরাত দিয়ে মোল্লাহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রসেন কুমার সানা দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, রোববার সকাল সাতটার দিকে ঘুম থেকে উঠে কাউকে না জানিয়ে দুই চাচাতো বোন লামিয়া ও সামিয়া বাড়ির পাশে একটি মাছের ঘেরে শাপলা তুলতে যায়। দুজনের কেউই সাঁতার জানত না। দুজনের কোনো একজন আগে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে পড়ে গেলে পরে আরেকজন তাকে তুলতে গিয়ে দুজনই পানিতে তলিয়ে যায়।পরে এক প্রতিবেশী সকাল আটটার দিকে মাছের ঘেরে গিয়ে প্রথমে শিশু সামিয়ার মরদেহ ভাসতে দেখে পরিবারের সদস্যদের জানায়। এই খবর শুনে পরিবারের সদস্যরা আরেক শিশু লামিয়াকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে ওই ঘেরে নেমে খুঁজতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পরে পানির নিচ থেকে লামিয়াকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দুজনকে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই চাচাতো বোন সমবয়সী হওয়ায় তারা সব সময় একসঙ্গে খেলাধুলা করত।মোল্লাহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রসেন কুমার সানা জানান, স্বজনদের আপত্তি না থাকায় পুলিশি ময়নাতদন্ত ছাড়াই দুই শিশুর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।