জাতীয়

আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকা অবৈধ: হাইকোর্টের রায়

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
আদালতের রায় বা আদেশের
বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকা অবৈধ: হাইকোর্টের রায়
আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকা অবৈধ: হাইকোর্টের রায়

আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে স্ট্রাইক (ধর্মঘট) বা হরতাল ডাকা অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ধরনের কোনো ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিকসংগঠনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে।

এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ রায় দেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ এবং এটিএন নিউজের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনীরসহ পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ের পর পরিবহনশ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটের প্রেক্ষাপটে নয় বছর আগে করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ এ রায় দেওয়া হয়।

জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ২০১৭ সালে রিটটি করে।

আজকের রায়ের বিষয়টি জানিয়ে রিট আবেদনকারী পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ প্রথম আলোকে বলেন, রায়ে স্বরাষ্ট্রসচিব, বিআরটিএ এবং বিআরটিসির প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে আইনগত ব্যবস্থা এবং ফৌজদারি আইনের ব্যবস্থা নিতে হবে। রায়ে আদালত বলেছেন, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুসারে আদালতের রায় সবার জন্য বাধ্যতামূলক। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলেও রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা অবৈধ এবং সংবিধান পরিপন্থী।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় নুতন চলচ্চিত্রের দৃশ্যায়নের নির্ধারিত স্থান দেখে মাইক্রোবাসে ঢাকায় ফেরার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন ঘটনাস্থলে নিহত হন। প্রাণহানির এ ঘটনায় করা মামলায় ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রায় দেন মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। রায়ে বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রায়ের পর ওই জেলায় পরিবহনশ্রমিকেরা পরিবহন ধর্মঘট ডাকেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে এ নিয়ে এইচআরপিবি রিটটি করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ১ মার্চ হাইকোর্ট রুল দেন।

রিট আবেদনকারী পক্ষ জানায়, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা রুলে জানতে চাওয়া হয়। অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্মঘট বা হরতাল প্রত্যাহার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে আজ রায় দেওয়া হয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল ও রিপন বাড়ৈ। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আহসান হাবীব, বিআরটি-এর পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম এবং বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হাসিবুল হক।

পরে বিআরটির আইনজীবী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যদি ডাকা হয়, তাহলে পরিবহনমালিক ও শ্রমিকসংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
৪১ বছরে মা হচ্ছেন শাহরুখের পাকিস্তানি নায়িকা
৪১ বছরে মা হচ্ছেন শাহরুখের পাকিস্তানি নায়িকা

ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। তবে দুই দেশের তারকাদের জনপ্রিয়তায় এর প্রভাব সবসময় পড়েনি। পাকিস্তানি অভিনেত্রীদের মধ্যে ভারতীয় দর্শকের কাছে অন্যতম পরিচিত মুখ মাহিরা খান। বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘রইস’ সিনেমায় জুটি বেঁধে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি। এবার ভক্তদের নতুন সুখবর দিলেন এই অভিনেত্রী। ৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার মা হতে চলেছেন মাহিরা। সম্প্রতি টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছেন মাহিরা খান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যস্ততার মধ্যেই জীবনের নতুন অধ্যায়ের খবর জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেবি বাম্পের ছবি প্রকাশ করে দ্বিতীয়বার মা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন অভিনেত্রী। ছবিতে সাদা রঙের ফুলহাতা ঢিলেঢালা গাউনে দেখা গেছে মাহিরাকে। প্রায় মেকআপহীন সাদামাটা সাজে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। ছবির সঙ্গে হবু মা মাহিরা লিখেছেন, ‘প্রথমে আমরা পরিকল্পনা করি, তারপর আল্লাহর পরিকল্পনা।’ আরও পড়ুন জেমসের সঙ্গে দেখা হতেই পা ছুঁয়ে সালাম রূপমের মাহিরার এই সুখবর প্রকাশ্যে আসতেই শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় ভাসছেন তিনি। ভক্ত-অনুরাগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। ২০২৩ সালে ব্যবসায়ী সেলিম করিমকে বিয়ে করেন মাহিরা খান। এটি তার দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম স্বামীর সঙ্গে তার ১৭ বছর বয়সী ছেলে আজলান রয়েছে। দ্বিতীয় বিয়ের পর এবারই প্রথম মা হতে চলেছেন এই অভিনেত্রী। মাহিরার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে ছেলে আজলানকে সবসময় পাশে দেখা গেছে। মায়ের দ্বিতীয় বিয়েতেও তার উপস্থিতি ছিল। বিয়ের মঞ্চ পর্যন্ত মাকে এগিয়ে দিয়েছিলেন আজলান। পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিরা খান। ‘হামসফর’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকের ঘরে ঘরে পরিচিতি পান। এরপর চলচ্চিত্রেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। ২০১৭ সালে শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘রইস’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। ‘রইস’ সিনেমায় শাহরুখ-মাহিরার জুটি দর্শকের ব্যাপক প্রশংসা পায়। এর মাধ্যমে ভারতীয় দর্শকের কাছেও মাহিরার জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়। শোনা যায়, এরপর ভারতীয় বেশ কয়েকটি সিনেমায় কাজের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। তবে ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতির প্রভাব পড়ে দুই দেশের বিনোদন অঙ্গনেও। ফলে ভারতীয় সিনেমায় মাহিরার কাজের সম্ভাবনা থেমে যায়। এরপর আর কোনো ভারতীয় সিনেমায় দেখা যায়নি তাকে। সাম্প্রতিক পহেলগাঁও হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়েছে। ফলে বলিউডে মাহিরার ফেরার সম্ভাবনাও আপাতত অনিশ্চিত। তবে পাকিস্তানি চলচ্চিত্র ও নাটকে নিয়মিতই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। আরও পড়ুন রুমি কারিমকে ঘিরে জয়ের মন্তব্য, বললেন ‘হিরো আলমই ভালো ছিল’ অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনেও নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন মাহিরা। ৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার মা হওয়ার সুখবর দিয়ে আপাতত সেই আনন্দই ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন শাহরুখের এই পাকিস্তানি নায়িকা। এমএমএফ

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
পিৎজা খেয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে

পিৎজা খেয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে

ভাবিকে শ্লীলতাহানির পর হাতের আঙুল ভেঙে দিলেন দেবর

ভাবিকে শ্লীলতাহানির পর হাতের আঙুল ভেঙে দিলেন দেবর

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামানত কমানোর দাবি ভূমিহীন আন্দোলনের

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামানত কমানোর দাবি ভূমিহীন আন্দোলনের

পিআইওর দপ্তরে প্রকেল্পর অর্থ হরিলুট, বাদ যায়নি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও
পিআইওর দপ্তরে প্রকেল্পর অর্থ হরিলুট, বাদ যায়নি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও

সরকারি বরাদ্দে হওয়ার কথা ছিল রাস্তা, মসজিদ-মন্দির ও কবরস্থান উন্নয়ন। তবে গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের এসব প্রকল্পে মিলেছে ভিন্ন চিত্র। কোথাও দুই লাখ টাকার প্রকল্পে মিলেছে মাত্র ৪০ হাজার টাকা, কোথাও ৭২ হাজারের বিপরীতে দেওয়া হয়েছে ৩৫ হাজার। আবার অস্তিত্বহীন রাস্তা ও ব্যক্তিগত স্থাপনার নামেও বরাদ্দ ও অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া নথি এবং কয়েকদিনের সরেজমিন অনুসন্ধানে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে এমন অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, পিআইও কার্যালয়ের কর্মকর্তা, প্রকল্প সভাপতি ও তাদের ঘনিষ্ঠদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। অভিযোগের তালিকা থেকে বাদ যায়নি মসজিদ, মন্দির ও কবরস্থানও। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কোনো প্রকল্পে শর্তসাপেক্ষে মোট বরাদ্দের এক-পঞ্চমাংশ, কোনো প্রকল্পে অর্ধেক অর্থ দেওয়া হয়েছে। আবার কোনো কোনো প্রকল্প কাগজে-কলমে দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রকল্প এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং অর্থবঞ্চিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা। তারা বরাদ্দের অর্থ ফেরত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মসজিদ-মন্দির-কবরস্থানের বরাদ্দেও লুট তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টিআর প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে গিদারী ইউনিয়নের ‘কিশামত ফলিয়া ফারাজি পাড়া জামে মসজিদ মেরামত’ প্রকল্পে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ‘আমি মসজিদে ৩৫ হাজার টাকা দিয়েছি। বাকি টাকা পিআইও স্যারের। পিআইও কার্যালয় থেকে অর্ধেক অর্থ দেওয়ার শর্তেই প্রকল্পটি দেওয়া হয়েছিল। পিআইওর শর্ত না মানলে প্রকল্প দেবে না। বর্তমান পিআইও রিয়াজুল সাহেব মন্দির-মসজিদ কিছুই মানেন না, কবরস্থানের টাকাও খান’ তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে মসজিদটির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বরাদ্দের বিপরীতে মসজিদে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪০ হাজার টাকা। এমনকি মসজিদের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ছাড়া কমিটির অন্য সদস্যদের অনেকেই এই ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়টিও জানেন না। আরও পড়ুন কাজ না করেই চার প্রকল্পের পুরো টাকা লোপাট মসজিদের সহ-সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মসজিদের জন্য কোনো সরকারি টাকা পাওয়ার বিষয়ে তিনি জানেন না। কমিটির অন্য সদস্যরাও একই কথা জানান। প্রকল্পের সভাপতি ও মসজিদের ইমাম তোহা খন্দকার বলেন, প্রকল্প কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যাংক হিসাবের চেকে তিনি স্বাক্ষর করেছেন। এর বাইরে প্রকল্পের অর্থ বা কাজের বিষয়ে তিনি তেমন কিছু জানেন না। তার ভাষ্য, ‘এ সংক্রান্ত প্রকল্পের বিষয়গুলো সারোয়ার ভাই দেখেন। চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার পর তিনি ও মসজিদ কমিটি কী করেছেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।’ যেসব প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাদের কাজ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। পিআইও অফিস সম্পর্কে মনে হয় আপনি নতুন করে জানেন। এখানে সবাই হাত দেয়। আমার পক্ষে এগুলো অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব কি?- গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াজুল ইসলাম। প্রকল্প পরিচালনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা সারোয়ার গিদারী ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মহিলা সদস্য জরিফুল বেগমের স্বামী। মোবাইল ফোনে তিনি মসজিদ কমিটিকে ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। সারোয়ার বলেন, ‘মসজিদ কমিটিকে ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার শর্তেই প্রকল্প ধরানো হয়েছে।’ বাকি টাকা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবই তো জানেন? পিআইও অফিসে প্রকল্প কেনাবেচা হয়। আমি এটি কিনে নিয়েছি।’ আরও পড়ুন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় / শতকোটি টাকার প্রকল্পে পদে পদে অনিয়ম-দুর্নীতি একই অর্থবছরে লক্ষীপুর ইউনিয়নের ‘বালাআটা উত্তরপাড়া জামে মসজিদ উন্নয়ন’ টিআর প্রকল্পে ৭২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও মসজিদ কমিটি পেয়েছে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা। মসজিদের সেক্রেটারি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, তা তাদের জানানো হয়নি। ওয়ার্ডের মোস্তফা মেম্বার তিন দফায় ৩৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। প্রকল্প সভাপতি ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্য স্থানীয় জাকিরুল ইসলাম বলেন, মেম্বার তার কাছ থেকে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে গেছেন। লক্ষীপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, আমি মসজিদে ৩৫ হাজার টাকা দিয়েছি। বাকি টাকা পিআইও স্যারের। পিআইও কার্যালয় থেকে অর্ধেক অর্থ দেওয়ার শর্তেই প্রকল্পটি দেওয়া হয়েছিল। পিআইওর শর্ত না মানলে প্রকল্প দেবে না।’ নিজে মাত্র তিন হাজার টাকা পেয়েছেন দাবি করে এই ইউপি সদস্য আরও বলেন, ‘বর্তমান পিআইও রিয়াজুল সাহেব মন্দির-মসজিদ কিছুই মানেন না, কবরস্থানের টাকাও খান।’ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় পর্যায়ে টিআর প্রকল্পের আওতায় বাদিয়াখালী ইউনিয়নের ‘৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছাট চকবরুল শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরের উন্নয়ন’ প্রকল্পে ৫২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে মন্দির পরিচালনা কমিটির দাবি, তারা পেয়েছে মাত্র ২৬ হাজার টাকা। আরও পড়ুন আগের কাজে অনিয়ম, ফের দেওয়া হলো পৌনে ৯ কোটি টাকার কাজ মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমাদের প্রথম দফায় ২৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় বাকি টাকার জন্য পিআইও অফিসে গেলে জানানো হয়, ওই টাকা নেই।’ প্রকল্পের সভাপতি ও মন্দিরের পুরোহিত নিকুঞ্জ কুমারশীল (দয়াল)ও একই কথা জানান। কবরস্থানের বরাদ্দ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা হারুণ মিয়া বলেন, উত্তরপাড়া কবরস্থানটি অনেক পুরোনো। বরাদ্দের অর্থ পাওয়া গেলে সেখানে প্রাচীর নির্মাণ করা যেত। তিনি বরাদ্দের অর্থ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি আত্মসাতে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন। রাস্তা নেই, তবু বরাদ্দ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাদিয়াখালী ইউনিয়নের হিরু মহুরীর বাড়ি থেকে পশ্চিমে মোস্তফার বাড়িগামী রাস্তা সংস্কারে দুই লাখ ২৩ হাজার ৭৫৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বছর পেরিয়ে গেলেও ওই রাস্তার কাজ শুরু হয়নি। প্রকল্পটির সভাপতি হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাফায়েতুল হকের নাম রয়েছে। তবে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই জানি না ওই কাজের সভাপতি আমি।’ অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন আনন্দ টিভির সাংবাদিক মিলন খন্দকার। একই অর্থবছরের কাবিখার তৃতীয় পর্যায়ে ‘আরিফ খাঁ বাসুদেবপুর আউয়ালের বাড়ি হতে নজলার রহমান জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার’ প্রকল্পে প্রায় সাড়ে পাঁচ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে ওই প্রকল্পের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকল্পে রাস্তা সংস্কারের কথা বলা হলেও স্থানীয়দের ভাষ্য, জায়গাটি কয়েকটি পরিবারের বাড়ির উঠান। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘এখানে কোনো রাস্তা নেই, এটা বাড়ির উঠান। এখানে কোনো কাজ করা হয়নি।’ একই কথা জানান ছাইফুল ইসলাম ও মাহফুজার রহমান। প্রকল্পটির সভাপতি রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম। মোবাইল ফোনে কথা বলার শুরুতে তিনি ইটের কাজ করার দাবি করলেও এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘অনেকদিন আগের কথা, দেখতে হবে কোন প্রকল্প।’ আরও পড়ুন তিস্তা সেচ ক্যানেল / ১৪০০ কোটি টাকার ‘অপরিকল্পিত’ প্রকল্পের পদে পদে অনিয়ম এ ছাড়া নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থার কফিন ও ঘর নির্মাণের নামে এক লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির সভাপতি করা হয় অ্যাভোকেট আমিনুল ইসলাম ফকুকে। তবে তিনি বরাদ্দের টাকা তোলার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। সরেজমিনে দেখা যায়, রেলের জমি দখল করে নিজের বাড়ির সামনে নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থার অফিসঘর নির্মাণ করছেন যুবলীগ নেতা কায়ছার প্লাবন। সেখানে টিনের একটি ঘর ছাড়া ওই সংস্থার কার্যক্রমের আর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। জেলা পরিষদের গত অর্থবছরের বরাদ্দ থেকেও ওই সংগঠনের নামে দুই লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কায়ছার প্লাবন করোনার সময় থেকে লাশ দাফনের নামে মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা নেওয়ার ব্যবস্থা শুরু করেন। পরে সেটিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দ থেকেও অর্থ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াজুল ইসলাম বলেন, যেসব প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাদের কাজ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। পিআইও অফিসের অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পিআইও অফিস সম্পর্কে মনে হয় আপনি নতুন করে জানেন। এখানে সবাই হাত দেয়। আমার পক্ষে এগুলো অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব কি? যা বলছেন কর্তৃপক্ষ গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক বলেন, প্রকল্পগুলো নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআরও) প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি অর্থ লুটপাট বা আত্মসাতের সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি অর্থের এমন অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র বের করা জরুরি। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অর্থ কোথায় গেল, কারা উত্তোলন করল এবং কীভাবে ব্যয় দেখানো হলো—এসব বিষয় খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। আনোয়ার আল শামীম/কেএইচকে/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ঢাকা দক্ষিণ সিটি: নতুন চার ওয়ার্ডে ১৩০ কোটি টাকার প্রকল্প বিবেচনায়

ঢাকা দক্ষিণ সিটি: নতুন চার ওয়ার্ডে ১৩০ কোটি টাকার প্রকল্প বিবেচনায়

ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই পক্ষ মুখোমুখি

ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই পক্ষ মুখোমুখি

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু

0 Comments