একদিন যেখানে ছিল কোলাহল, সেখানে এখন শুধুই পানি। শিশুরা যে বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে, সেই বিদ্যালয়ের এখন অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কোথাও ভাঙনের মুখে বসতঘর, কোথাও মসজিদ, কোথাও ফসলি জমি। পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর চরাঞ্চলে বন্যা ও নদীভাঙনের এই ভয়াবহ চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
পদ্মার পানি বাড়ার পাশাপাশি তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন। এরই মধ্যে বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিদ্যালয় পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পাঠদান বন্ধ রয়েছে আরেকটি বিদ্যালয়ে। স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে শতাধিক বসতবাড়ি ও কয়েকটি মসজিদও নদীতে হারিয়ে গেছে।
অন্যদিকে পানি বাড়ায় পবা উপজেলার চর খিদিরপুর, খানপুর, মাঝারদিয়াড়, ১০ নম্বর চর ও চর আষাড়িয়াদহসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে বাড়ছে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা। ঘরবাড়ি ও উঠানে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না, চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, কোথাও গবাদিপশুর খাদ্যের অভাব। এর সঙ্গে বাড়ছে সাপের উপদ্রবও।
‘পানি বাড়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পবা উপজেলার চরাঞ্চলে। উপজেলার চর খিদিরপুরের ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত মিডিল চরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে উপচে পড়া পানিতে দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। বেশিরভাগ বাড়ির উঠান ও ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ও বসবাস প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ঘরের ভেতর পানি, বাইরে পানি—এর মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন চরবাসী’
পরিস্থিতি এতটাই নাজুক হয়ে উঠেছে যে, শেষ সম্বল গরু-ছাগল, ধান, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নৌকায় করে অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে শহরের দিকে পাড়ি জমাচ্ছেন। পদ্মার পানি ও ভাঙনের দ্বিমুখী চাপে চরাঞ্চলের বহু পরিবার এখন ঘর হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় নগরের বড়কুঠি পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৩০ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি।

এর আগের দিন শুক্রবার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ২০ মিটার। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ছিল ১৭ দশমিক ১২ মিটার। আর বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় ছিল ১৬ দশমিক ৯৫ মিটার।
অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পদ্মার পানি বেড়েছে প্রায় ৩৫ সেন্টিমিটার। পানি বৃদ্ধির এই প্রবণতায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উজানে গঙ্গার পানি বৃদ্ধি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে পদ্মার পানি বাড়ছে। এরইমধ্যে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও বিভিন্ন চরে পানি প্রবেশ করেছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কোথাও কোথাও ভাঙনও তীব্র হয়ে উঠেছে।
পদ্মার ভাঙনের ভয়াবহতার সবচেয়ে নির্মম চিত্র দেখা গেছে বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নে। সেখানে পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া ও চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের কবলে পড়ে। বিদ্যালয়গুলোর মালামাল নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু নদীভাঙনের গতি এতটাই দ্রুত ছিল যে, সব মালামাল সরিয়ে নেওয়ার আগেই একটি বিদ্যালয় পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
‘পদ্মার ভাঙনের ভয়াবহতার সবচেয়ে নির্মম চিত্র দেখা গেছে বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নে। সেখানে পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া ও চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের কবলে পড়ে। বিদ্যালয়গুলোর মালামাল নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু নদীভাঙনের গতি এতটাই দ্রুত ছিল যে, সব মালামাল সরিয়ে নেওয়ার আগেই একটি বিদ্যালয় পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়’
আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভাঙতে ভাঙতে শেষ পর্যন্ত নদীগর্ভে চলে গেল স্কুলটি। চরের মধ্যে একদিন স্কুল ভালো দেখে গেলাম, পরদিন এসে দেখি স্কুল নেই। মালামাল সরিয়ে নিতে নিতে শেষ পর্যন্ত স্কুলটিও বিলীন হয়ে গেল।’
বিদ্যালয়টিতে ৮৫ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বিদ্যালয়ের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছিল। কিন্তু গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে সেই কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিদ্যালয়টি পুরোপুরি নদীগর্ভে চলে যায়।
চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, ‘বিদ্যালয়ে যাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। এ কারণে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। আমাদের বিদ্যালয়ে ৯১ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক রয়েছেন।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরে এক হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব চরে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। চকরাজাপুর, কালিদাসখালী, লক্ষ্মীনগর, দাদপুর, নিচ পলাশি, পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া, চৌমাদিয়া ও দিয়ারকাদিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র হয়েছে।

চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আবদুর রহমান বলেন, ‘আতারপাড়া, চৌমাদিয়া ও দিয়ারকাদিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙন হয়েছে। প্রায় ১০০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কয়েকটি মসজিদও নদীতে হারিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।’
চৌমাদিয়া চরের বাসিন্দা সোলেমান মোল্লা বলেন, ‘পদ্মায় পানি ক্রমাগত বাড়ছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও বাড়ছে। গবাদিপশু নিয়ে চরের মানুষ খুব বিপাকে পড়েছেন। অনেক বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।’
পানি বাড়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পবা উপজেলার চরাঞ্চলে। উপজেলার চর খিদিরপুরের ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত মিডিল চরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে উপচে পড়া পানিতে দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। বেশিরভাগ বাড়ির উঠান ও ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ও বসবাস প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ঘরের ভেতর পানি, বাইরে পানি—এর মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন চরবাসী।
সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে গবাদিপশু নিয়ে। পানিতে চরের অনেক জায়গা ডুবে যাওয়ায় গরু-ছাগলের খাবার সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে বাড়ছে সাপের উপদ্রব। ফলে পরিবার ও গবাদিপশু—দুই দিকের নিরাপত্তা নিয়েই উদ্বিগ্ন মানুষ।
অনেকে বাধ্য হয়ে গরু-ছাগল, ধান, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় মালামাল নৌকায় তুলে শহরের ঘাটের দিকে যাচ্ছেন। নিরাপদ জায়গায় কিছুদিন থাকার আশায় ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ছেন তারা।
চর খানপুর, মাঝারদিয়াড়, ১০ নম্বর চর ও চর আষাড়িয়াদহেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব এলাকার নিচু বসতভিটা ও চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। রাজশাহীর তালাইমারীর মাঠও পানিতে। শুধু চরাঞ্চল নয়, পানি বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে রাজশাহী নগরীর কিছু নিচু এলাকাতেও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মার পাশাপাশি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বড়াল নদীর পানিও বাড়ছে। এতে চারঘাট স্লুইসগেটসংলগ্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
পানির চাপে স্লুইসগেটের এক পাশে সামান্য ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনস্থলের পাশেই একটি মন্দির থাকায় পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
আরাজি সাদিপুর ও মিয়াপুর হঠাৎপাড়া গ্রামের কয়েকটি রাস্তায় পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুলশিক্ষার্থীরা। পানি মাড়িয়ে কিংবা বিকল্প পথ ব্যবহার করে তাদের চলাচল করতে হচ্ছে।
চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘নদীর পানি বৃদ্ধি ও স্লুইসগেট এলাকার পরিস্থিতির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ত্রাণ, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের উদ্যোগ পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। দুর্গত চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে খাবার ও ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি গবাদিপশু রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসার জন্য চরাঞ্চলসহ তিনটি স্থানে মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। গবাদিপশু রাখার জন্য ভ্রাম্যমাণ আশ্রয়কেন্দ্র করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রায় ১০ ফুট উঁচু দুটি বড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, ‘নদীভাঙনের বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিয়মিত প্রতিদিনই পানি পরিমাপ করছি। পদ্মার পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। এখানে বন্যা হওয়ার ঝুঁকি কম। তবে কিছু কিছু স্থান প্লাবিত হয়েছে, যেটি প্রতিবছরই হয়ে থাকে। তবে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানাই।’
এসআর/এএসএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ছোটবেলার বন্ধুকেই শেষ বয়সে এসে সতীর্থ হিসেবে পেতে যাচ্ছেন নেইমার। সান্তোসে যোগ দিতে যাচ্ছেন ব্রাজিল জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার কৌতিনহো। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কৌতিনহোর ব্যাপারে ঘোষণা দেয়নি সন্তোস। যদিও ক্লাব সান্তোসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে পারলেন না নেইমার। বন্ধুর নতুন ঠিকানা যে সান্তোস- ক্লাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগেই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশ করে দিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। শুধু তাই নয়, ছোটবেলার বন্ধু ফিলিপে কৌতিনহোকে নতুন ক্লাবে স্বাগতও জানালেন তিনি। কৌতিনহোর সান্তোসে যোগ দেওয়ার খবরটি নেইমার নিজেই যেন ‘ফাঁস’ করে দিলেন। একটি ভিডিও পোস্ট করে বন্ধুকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি আবেগঘন বার্তাও লিখেছেন ব্রাজিলের এই তারকা। ‘এটা যদি স্বপ্ন হয়, তাহলে আমি জেগে উঠতে চাই না’- কৌতিনহোকে স্বাগত জানিয়ে এমনই লিখেছেন নেইমার। দুই বন্ধুর সম্পর্ক অবশ্য আজকের নয়। কৈশোর থেকেই একে অপরকে চেনেন নেইমার ও কৌতিনহো। বয়সভিত্তিক ব্রাজিল দল থেকে শুরু করে পরে জাতীয় দলের সিনিয়র পর্যায়েও একসঙ্গে খেলেছেন তারা। তবে ক্লাব ফুটবলে এতদিন পর্যন্ত একই দলের জার্সিতে দেখা যায়নি দু’জনকে। এবার সেই অপেক্ষারও অবসান হতে যাচ্ছে। সান্তোসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগেই কৌতিনহোকে স্বাগত জানিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেন নেইমার। ভিডিওতে কৌতিনহোও বন্ধুকে ধন্যবাদ জানান। তার কথায় ইঙ্গিত মেলে, সান্তোসে আসার পেছনে নেইমারেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। অর্থাৎ শুধু একই ক্লাবে খেলার সুযোগ নয়, কৌতিনহোর সান্তোসে ফেরার পথ তৈরিতেও নেইমারের প্রভাব ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবার রূপ নিতে যাচ্ছে ক্লাব সতীর্থতায়। নেইমার ও কৌতিনহোর বন্ধুত্বের শুরু ব্রাজিলের যুব দলের সময় থেকে। বয়সভিত্তিক দলের হয়ে একসঙ্গে খেলার পর জাতীয় দলের জার্সিতেও তারা বহু ম্যাচে পাশাপাশি ছিলেন। কখনো কখনো ক্লাব ফুটবলে একে অপরের প্রতিপক্ষও হয়েছেন। কিন্তু একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়ার অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম হতে যাচ্ছে। ৩৪ বছর বয়সী কৌতিনহো সান্তোসে যোগ দিচ্ছেন ফ্রি এজেন্ট হিসেবে। ভাস্কো দা গামার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর সান্তোসের সঙ্গে তার চুক্তির প্রক্রিয়া এগোয়। মেডিকেল পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছেন তিনি। সান্তোসের সঙ্গে কৌতিনহোর চুক্তিটি স্বল্পমেয়াদি হওয়ার কথা। আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরই ক্লাবের পক্ষ থেকে তার আগমনের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই আনুষ্ঠানিকতার আগেই নেইমারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে খবরটি প্রকাশ্যে চলে আসে। বন্ধুর নতুন ক্লাবে আসার আনন্দ তাই আর ধরে রাখতে পারেননি নেইমার। সান্তোসের ঘোষণা দেওয়ার আগেই তিনি নিজের মতো করে কৌতিনহোকে স্বাগত জানিয়ে দিলেন। আইএইচএস/
দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব খবর নিয়ে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন ‘বার্তাসংক্ষেপ’। অল্প সময়ে দিনের বড় ঘটনা ও খবরের ভেতরের খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের এ বিশেষ আয়োজনে। সঠিক তথ্য আর দ্রুততম আপডেট নিয়ে প্রথম আলো আছে সব সময় আপনার সঙ্গে। থাকুন ভালোর সাথে, আলোর পথে...
বাগেরহাটে কারিগরি ত্রুটির কারণে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে ইউনিটটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। তবে প্রথম ইউনিট চালু রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু হতে অন্তত চার দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম। তিনি বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট বন্ধ রয়েছে। চালু হতে অন্তত চার দিন সময় লাগবে। এজন্য কাজ চলছে। তবে প্রথম ইউনিট চালু রয়েছে। সেখান থেকে নিয়মিত জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কী ধরনের কারিগরি ত্রুটি হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি এই কর্মকর্তা। বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং ভারতের এনটিপিসি লিমিটেডের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) নামে কোম্পানি গঠিত হয়। এই কোম্পানির অধীনে ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট (রামপাল) নামে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়। আরও পড়ুন কারিগরি ত্রুটিতে আদানির এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী কৈ-গর্দ্দাশকাঠি মৌজায় এক হাজার ৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ শেষে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর এই কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট উৎপাদনে যায়। আরও এক বছর পরে ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদনে যায় দ্বিতীয় ইউনিট। আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ। তবে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাওয়ার পরে কারিগরি ত্রুটি ও বিভিন্ন কারণে ৩০ বারের বেশি উৎপাদন বন্ধ হওয়ার খবর রয়েছে। নাহিদ ফরাজী/এসআর/এএসএম