কয়েকদিন আগেও জায়গাটি ছিল মানুষের আনাগোনায় মুখর। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে কেউ কেউ জায়গাটিকে বলছিলেন রাজশাহীর ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’। সেই চর এখন থইথই পানিতে ডুবে আছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে শহরে চলে গেছেন অধিকাংশ বাসিন্দা। বর্তমানে গবাদিপশু, ধান, জ্বালানি ও সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন তারা।
এরই মধ্যে পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের বেড়পাড়া এলাকায় নদীতীর ভাঙনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবর নদীতীর রক্ষায় বসানো ব্লকের কিছু অংশ সরে গিয়ে কোথাও কোথাও নিচের মাটি বেরিয়ে পড়েছে। এতে নদীর স্রোত আরও বাড়লে ভাঙন তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পদ্মা নদীসংলগ্ন বেড়পাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
বেড়পাড়া এলাকার নদীতীরসংলগ্ন বাসিন্দা বেগম জাহান বলেন, ‘পদ্মার পানি আর এক ধাপ বাড়লেই আমার বাড়ি পানির নিচে চলে যাবে। চোখের সামনে নদীর ব্লক সরে যেতে দেখে প্রতিদিনই ভয় বাড়ছে। আমার বাড়িটি এখন চরম ঝুঁকিতে। কখন কী হয়, সেই আতঙ্কে আছি। দ্রুত নদীতীর রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’
একই এলাকার বাসিন্দা আবেদ আলী বলেন, ‘পদ্মার পানি বেড়ে তীরে চাপ পড়েছে, শুরু হয়েছে ভাঙন। নদী রক্ষার জন্য বসানো ব্লকও সরে যাচ্ছে। তাই আমাদের ভয় আরও বেড়ে গেছে। কখন ভাঙন বাড়তে বাড়তে বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়, সেই চিন্তায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে বাড়িঘর ও জীবন-জীবিকা রক্ষার দাবি জানাচ্ছি।’
রাজশাহী জেলা যুবদলের সদস্য ফরিদুল ইসলাম সাহেব জাদা বেড়পাড়া এলাকায় নদী রক্ষা ব্লক সরে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পদ্মার তীর রক্ষায় বসানো ব্লকগুলো ক্রমেই সরে যাচ্ছে। কীভাবে কাজটি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। কেন ব্লক সরে গেল, সে বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের তদন্ত করা উচিত।’
শুধু বেড়পাড়া নয়, পদ্মার পানি বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে নদীর চরাঞ্চলের মানুষের জীবনেও। পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর খিদিরপুরের ‘মিডল চরে’ অধিকাংশ বাড়িঘর এখন পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও বাড়ির উঠান ডুবে গেছে, কোথাও আবার বাড়ির চারপাশে পানি। অনেক পরিবারের রান্নার সুযোগও নেই। এর সঙ্গে রয়েছে সাপের আতঙ্ক।
চরের বাসিন্দাদের বড় একটি অংশের জীবিকার প্রধান অবলম্বন গবাদিপশু। কারও ৫০টি, কারও ৬০টি, আবার কারও রয়েছে শতাধিক গরু। তাই ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে হলেও গবাদিপশু ফেলে যাওয়ার সুযোগ নেই। নৌকায় গাদাগাদি করে গরু নিয়ে শহরের দিকে যাচ্ছেন তারা। কোনো নৌকায় কয়েকটি গরু, আবার কোনো নৌকায় ২৫ থেকে ৩০টি পর্যন্ত গরু তোলা হচ্ছে। সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে ধান, জ্বালানি, মাছ ধরার জালসহ সংসারের প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
হরিয়ান ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চরে এখন হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ আছেন। অধিকাংশ পরিবার গরু-ছাগল নিয়ে শহরে চলে গেছে। কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে, কেউ ভাড়া বাড়িতে উঠেছেন। তার হিসাবে, চরটিতে প্রায় ১০ হাজার গবাদিপশু রয়েছে।’
চরাঞ্চলের বাড়ির চারপাশে পানিতে ভরে উঠেছে/ছবি: জাগো নিউজ
চরের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘শহরে থাকার জায়গা পাওয়া কঠিন। তার ওপর গরু-ছাগল রাখারও জায়গা নেই। নিজেরাই যখন খাবারের সংকটে, তখন গবাদিপশুর খাবার জোগাড় করা বড় চিন্তার বিষয়।’
চর খিদিরপুরে প্রায় দুই শতাধিক বাড়ি রয়েছে। পানি বাড়ায় এসব পরিবারের অনেকেই শহরের দিকে চলে গেছেন। একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে চর খানপুর, মাঝারদিয়াড়, ১০ নম্বর চর ও চর আষাড়িয়াদহের বিভিন্ন এলাকায়।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, চর খিদিরপুরে পানি ওঠায় প্রায় ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে প্রায় ২৫ ধরনের পণ্য রয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চর ও মাঝারচরসহ তিনটি স্থানে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও তাদের গবাদিপশুর জন্য আপাতত ভ্রাম্যমাণভাবে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। চর খিদিরপুরে প্রায় ১০ ফুট উঁচু দুটি বড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখানে মানুষের পাশাপাশি কয়েক হাজার গবাদিপশু রাখার সুযোগ থাকবে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, রাজশাহীতে পদ্মার পানি বাড়ছে। আগামী এক থেকে দুই দিন পানি আরও কিছুটা বাড়তে পারে। তবে আপাতত বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই।
আরিফুর রহমান বলেন, শুক্রবার দুপুর ১২টায় পদ্মার বোয়ালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ২২ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ৫ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
কোথাও ভাঙন বা অন্য কোনো বিপদের আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, পানির উচ্চতা ও স্রোত বাড়ায় নদীর কয়েকটি এলাকায় ভাঙনের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন ও নজরদারি করা হচ্ছে। হরিপুর এলাকার নদী পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মনির হোসেন মাহিন/এসজেডএইচ/এএসএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ক্রমেই দক্ষ মানবসম্পদ, হাতে-কলমে শিক্ষা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের ওপর নির্ভর করবে। গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গুলশানে বিসিসিসিআই কার্যালয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চের আট শিক্ষার্থীর সম্মানে আয়োজিত প্রি-ডিপারচার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষার্থীরা চীনের ঝেজিয়াং এগ্রিকালচারাল বিজনেস কলেজে কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বিসিসিসিআইয়ের সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের ব্যক্তিগত উদ্যোগের প্রশংসা করেন। আরও পড়ুন ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেশি ঘুরে এসে দুর্যোগের মুখে এমটি নিনেমিয়া বাণিজ্য সচিব বলেন, এ ধরনের সময়োপযোগী ও অনুকরণীয় উদ্যোগ বাংলাদেশের উন্নয়ন, বিশেষ করে টেক্সটাইল খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বেসরকারি খাতের নেতৃবৃন্দের এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণের মূল্যবান সুযোগ তৈরি করে এবং জাতীয় স্বার্থে অনুরূপ উদ্যোগ নিতে অন্য ব্যবসায়ী নেতাদেরও উৎসাহিত করবে। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কারিগরি জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে নীতিগত আলোচনা ও বাস্তবায়নের মধ্যকার দূরত্ব কমাতেও এসব কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)- এর সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম আশা করেন, এ উদ্যোগ শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কারিগরি জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরিতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আরও পড়ুন পিডিবি-বিপিসি / লোডশেডিং কমাতে ফার্নেস অয়েলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর বিসিসিসিআই সভাপতি বলেন, বিশ্বের ৪৬টি দেশের শিল্পকারখানা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা থেকে পরিচ্ছন্ন উৎপাদন পরিবেশ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, জ্বালানি দক্ষতা এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তিসহ বৈশ্বিক সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণের গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়। তিনি চীনে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের এ সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করার আহ্বান জানান। চীনের শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও আধুনিক কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে তা দেশে ফিরিয়ে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে বিসিসিসিআইয়ের এ উদ্যোগের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। চীনে প্রশিক্ষণে যেতে যাওয়া এনআইটিইআরের শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি ও প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন। আইএইচও/কেএসআর
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও সাত রাউন্ড গুলিসহ রোজিনা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তার স্বামী মো. রুবেল হোসেন (৪৮) পালিয়ে যান। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আলাইপুর (নাপিতপাড়া) গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেফতার রোজিনা খাতুন ওই গ্রামের রুবেল হোসেনের স্ত্রী। পুলিশ জানায়, শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা ডিবি পুলিশ জানতে পারে, রুবেল হোসেনের বসতবাড়িতে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি মজুত রয়েছে। পরে জেলা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোমিনুল হাসানের নেতৃত্বে একটি দল রাত ৮টার দিকে ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রোজিনা খাতুন পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে নিজ শয়নকক্ষের খাটের নিচে রাখা একটি সাদা বড় পলিথিনে মোড়ানো শপিং ব্যাগ তল্লাশি করে দুটি কাঠের বাট সদৃশ অবৈধ বিদেশি পিস্তল, তিনটি খালি ম্যাগাজিন ও সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, অভিযানের সময় রুবেল হোসেন কৌশলে পালিয়ে যান। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার রোজিনা খাতুনের বিরুদ্ধে বাঘা থানায় একটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে পলাতক রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন থানায় ১৩টি, নরসিংদী জেলায় একটি এবং কুষ্টিয়া জেলায় একটি-মোট ১৫টি মামলা রয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার রোজিনা খাতুন ও পলাতক রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে বাঘা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, অস্ত্র ও গুলিসহ এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার নারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মনির হোসেন মাহিন/কেজে/জেআইএম