ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে যখন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে, তখন ফ্রান্সের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ফিনল্যান্ড। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং ইউরোপের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
গত সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নতুন কৌশলগত অংশীদারত্বের চুক্তি সই করেন। এর মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পথে এগোল ফিনল্যান্ড।
একই দিনে দেশটি জানায়, তারা ফ্রান্সের ‘ফরওয়ার্ড ডিটারেন্স ইনিশিয়েটিভ’-এও যোগ দেবে।
এর ফলে ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার সহযোগিতার আওতায় থাকা ইউরোপীয় দেশের সংখ্যা বেড়ে ১১টিতে দাঁড়াল। ফিনল্যান্ড হলো এ উদ্যোগে যোগ দেওয়া দশম ইউরোপীয় দেশ। এর আগে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, পোল্যান্ড, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, গ্রিস, ডেনমার্ক ও নরওয়ে এ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে।
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ইউরোপের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা।
এ সহযোগিতা বাস্তবায়নের জন্য আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দুই দেশ একটি পারমাণবিক বিষয়ক স্টিয়ারিং গ্রুপ গঠন করবে। এ গ্রুপই পারমাণবিক প্রতিরোধের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার কাজ করবে।
তবে, স্টাব স্পষ্ট করে বলেছেন, ফ্রান্সের এ উদ্যোগ ন্যাটোর পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিকল্প নয়। ফ্রান্সের সঙ্গে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সঙ্গে ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হয়েছে জানান তিনি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো ও ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিভিন্ন অবস্থান নেওয়ায় ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে ভাবছে। রাশিয়ার কাছাকাছি থাকা পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে এ নিয়ে আগ্রহ আরও বেশি।
এদিকে, ফ্রান্সের সঙ্গে পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করছে এস্তোনিয়াও। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিচাল এএফপিকে বলেছেন, এস্তোনিয়া এখন ন্যাটোর পারমাণবিক নিরাপত্তার আওতায় রয়েছে।
Suomi liittyi tänään Ranskan ydinpelotealoitteeseen. Aloitteessa on kyse ennen kaikkea eurooppalaisen turvallisuuden vahvistamisesta. Se vahvistaa Euroopan otetta omasta puolustuksestaan ja auttaa ennaltaehkäisemään eskalaatioita.
— Alexander Stubb (@alexstubb) September 14, 2026
Ranska on Suomelle hyvä kumppani. pic.twitter.com/UJ6XdnHp4V
পাশাপাশি, ফ্রান্সও সেখানে সেনা মোতায়েন করে সহযোগিতা করছে। তাই পারমাণবিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকলে তা করা হতে পারে।
ফ্রান্সের উদ্যোগে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধু ফরাসি প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে। ন্যাটোর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। সেখানে সদস্যদেশগুলোর সমন্বিত কাঠামোর মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে, চুক্তিতে যুক্ত দেশগুলো যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়া, প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম সামরিক সরঞ্জাম অল্প সময়ের জন্য মিত্রদেশের ভূখণ্ডে মোতায়েন এবং নিরাপত্তা নিয়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরামর্শ করার সুযোগ পাবে।
সূত্র: আল-জাজিরা
এমডিআরএইচ/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বৃষ্টির পর রংধনু দেখে আমরা মুগ্ধ হই, কিন্তু ইরেডেসেন্ট ক্লাউড এক অন্য রকম সৌন্দর্য। পুরোপুরি রংধনু নয়, অথচ মেঘের গায়ে রংধনুর মতোই ছড়িয়ে থাকে নানা রঙের কোমল আভা। আকাশের এই বিরল অথচ অপূর্ব দৃশ্যের নাম ইরেডেসেন্ট ক্লাউড বা রংধনু মেঘ, যা মেঘের ইরেডেসেন্সের জন্যই হয়। মেঘ দেখলে নানা রকম ভাবনা মাথায় আসে। কখনো মনে হয় নজরুলের ঝাঁকড়া চুল, কখনো রবীন্দ্রনাথের দাড়ি। গোধূলিতে কিংবা সূর্যোদয়ের সময় সোনালি আভায় মেঘ হয়ে ওঠে কোনো রূপবতী রাজকুমারী। আবার কখনো সাদা, নীল, গোলাপি, হলুদ কিংবা বেগুনি রঙের মিহি আভা মেঘের কিনারায় বা কোনো একটি অংশে এমনভাবে ফুটে ওঠে যে কয়েক মুহূর্তের জন্য আকাশটাকে বাস্তবের চেয়েও বেশি সুন্দর মনে হয়।কয়েক মুহূর্তের জন্য আকাশটাকে বাস্তবের চেয়েও বেশি সুন্দর মনে হয়বৃষ্টির পর রংধনু দেখে আমরা মুগ্ধ হই, কিন্তু ইরেডেসেন্ট ক্লাউড এক অন্য রকম সৌন্দর্য। পুরোপুরি রংধনু নয়, অথচ মেঘের গায়ে রংধনুর মতোই ছড়িয়ে থাকে নানা রঙের কোমল আভা। আকাশের এই বিরল অথচ অপূর্ব দৃশ্যের নাম ইরেডেসেন্ট ক্লাউড বা রংধনু মেঘ, যা মেঘের ইরেডেসেন্সের কারণে হয়। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার জাঙ্গালের আকাশে দেখা গিয়েছিল এমনই এক বিরল দৃশ্য। গত ১ মে নীল আকাশের বুকে ভেসে থাকা একটি মেঘ হঠাৎ যেন রঙের ক্যানভাসে পরিণত হয়। গোলাপি, নীল, হলুদ, কমলা, সবুজসহ রংধনুর নানা রঙে ঝলমল করছিল মেঘটি। দৃশ্যটি দেখে স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে বিস্ময় ও আনন্দ। মুহূর্তেই সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কেউ একে ‘জাদুকরি’ দৃশ্য বলেছেন, আবার কারও কাছে এতটাই অবিশ্বাস্য লেগেছে যে কৃত্রিম ছবি বলেও মনে হয়েছে। অথচ এটি পুরোপুরিই স্বাভাবিক একটি প্রাকৃতিক ঘটনা।গোলাপি, নীল, হলুদ, কমলা, সবুজসহ রংধনুর নানা রঙে ঝলমল করছে মেঘএটি আলো, মেঘ আর প্রকৃতির নিজস্ব খেলাসাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার আকাশেও এমন অপরূপ মেঘের দেখা মিলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন ভিত্তিহীন কৃত্রিম কনটেন্টের ছড়াছড়ি, তখন প্রকৃতির তৈরি এমন দৃশ্য স্বাভাবিকভাবেই মানুষের নজর কাড়ে। কারণ, ইরেডেসেন্ট ক্লাউড এমন এক সৌন্দর্য, যার কোনো কারিগরি নির্মাণ নেই, কোনো সাজানো পটভূমি নেই, আছে শুধু আলো, মেঘ আর প্রকৃতির নিজস্ব খেলা।মেঘে এমন অদ্ভুত সুন্দর রং আসে কীভাবে?বিষয়টি আসলে আলোর সঙ্গে মেঘের ক্ষুদ্র জলকণা ও বরফকণার এক সুন্দর সম্পর্কের ফল। সূর্যের আলো দেখতে সাদা হলেও এর মধ্যে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো রয়েছে। সূর্যের আলো যখন মেঘের খুব ছোট এবং প্রায় একই আকারের জলকণা বা বরফকণার স্তরের মধ্য দিয়ে যায়, তখন আলো ছড়িয়ে পড়ে এবং একে অন্যের ওপর পড়ে। এর ফলে মেঘের গায়ে দেখা দিতে পারে নানা রঙের কোমল আভা।বিষয়টি আসলে আলোর সঙ্গে মেঘের ক্ষুদ্র জলকণা ও বরফকণার এক সুন্দর সম্পর্কের ফলআলো এমনভাবে বিচ্ছুরিত হয় যে মেঘের গায়ে তৈরি হয় রঙিন আভাঅনেকটা তেলের ওপর পানির পাতলা স্তরে যে রঙিন ঝিলিক দেখা যায়, ইরেডেসেন্ট ক্লাউডের রঙের সঙ্গে তার কিছুটা মিল রয়েছে। সাধারণত পাতলা মেঘের আশপাশে এই দৃশ্য বেশি দেখা যায়। সূর্য যখন মেঘের পেছনে বা কাছাকাছি অবস্থানে থাকে এবং মেঘের কণাগুলোর আকার তুলনামূলকভাবে সমান হয়, তখন আলো এমনভাবে বিচ্ছুরিত হতে পারে যে মেঘের গায়ে তৈরি হয় রঙিন আভা।রংধনু নয়, তবু রংধনুর মতোদেখতে কাছাকাছি মনে হলেও ইরেডেসেন্ট ক্লাউড আর রংধনু এক ধরনের ঘটনা নয়। রংধনু সাধারণত বৃষ্টির জলকণার মধ্য দিয়ে সূর্যের আলোর প্রতিসরণ, অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ও বিচ্ছুরণের মাধ্যমে তৈরি হয়। অন্যদিকে মেঘের ইরেডেসেন্স মূলত মেঘের ক্ষুদ্র জলকণা বা বরফকণার কারণে আলোর ওভারল্যাপিংয়ের ফল।রংধনুর রং সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ধনুকের আকৃতিতে দেখা যায়। ইরিডিসেন্ট ক্লাউডে রংগুলো অনেক বেশি কোমল এবং অনিয়মিতভাবে মেঘের গায়ে ছড়িয়ে থাকে। মেঘের একটি ছোট অংশে গোলাপি ও নীলের আভা দেখা যেতে পারে, আবার কখনো সবুজ, হলুদ ও বেগুনির মিশ্রণেও মেঘ সেজে ওঠে। View this post on Instagram কয়েক মুহূর্তের সৌন্দর্যইরেডেসেন্ট ক্লাউডের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক তার ক্ষণস্থায়িত্ব। এটি কোনো সাজানো দৃশ্য নয়, কখন দেখা যাবে বা কতক্ষণ থাকবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। মেঘের আকৃতি ও অবস্থান বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে রংও বদলে যেতে পারে, এমনকি কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো দৃশ্যটি মিলিয়ে যেতে পারে।ধরুন, অফিস থেকে ফেরার পথে রিকশায় বসে আছেন। হঠাৎ পাশের কেউ আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, ‘ওই দেখুন!’ মাথা তুলে দেখলেন ধূসর মেঘের গায়ে গোলাপি আর নীলের আলো। ফোন বের করে ছবি তুলতে তুলতেই দৃশ্যটি বদলে গেল। এই ক্ষণস্থায়িত্বই সৌন্দর্যটাকে আরও গভীর করে।আমাদের জীবনের অনেক সুন্দর মুহূর্তের মতো ইরেডেসেন্ট ক্লাউডও স্থায়ী নয়। তাকে ধরে রাখা যায় না, নিজের ইচ্ছেমতো ফিরিয়ে আনা যায় না। শুধু দেখা যায়, অনুভব করা যায়, আর কখনো একটি ছবিতে স্মৃতি হিসেবে রেখে দেওয়া যায়।আমাদের জীবনের অনেক সুন্দর মুহূর্তের মতো ইরেডেসেন্ট ক্লাউডও স্থায়ী নয়শহরের আকাশেও দেখা মিলতে পারেএমন দৃশ্য দেখতে শহর ছেড়ে দূরে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। অনুকূল আবহাওয়ায় শহরের আকাশেও মেঘের ইরেডেসেন্স দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে পাতলা মেঘ সূর্যের কাছাকাছি অবস্থান করলে মেঘের গায়ে এই রঙিন আভা ফুটে উঠতে পারে। তবে সূর্যের দিকে সরাসরি খালি চোখে তাকানো নিরাপদ নয়। তাই এমন দৃশ্য দেখার সময় চোখের নিরাপত্তার বিষয়টিও মনে রাখা জরুরি।আকাশের দিকে তাকানোর অভ্যাসের সঙ্গে আমাদের অনুভূতির গভীর সম্পর্ক আছে। সারা দিন একই চার দেয়ালের মধ্যে কাজ করার পর কয়েক মিনিট খোলা আকাশ দেখা মনকে কিছুটা বিরতি দিতে পারে। মেঘের চলাচল, আলোর পরিবর্তন কিংবা বিকেলের রং বদলে যাওয়া আমাদের মনোযোগকে কিছুক্ষণের জন্য দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে সরিয়ে আনে।ইরেডেসেন্ট ক্লাউড যেন সেই পুরোনো অভ্যাসটাকেই আবার মনে করিয়ে দেয়ছোটবেলায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে মেঘ দেখা কত ভালো লাগত। মেঘের মধ্যে কখনো হাতি, কখনো পাহাড়, কখনো কোনো মানুষের মুখ খুঁজে পাওয়া যেত। বড় হতে হতে সেই শিশুসুলভ অভ্যাসটা হারিয়ে গেছে। অথচ আকাশ এখনো প্রতিদিন নতুন নতুন ছবি আঁকে। ইরেডেসেন্ট ক্লাউড যেন সেই পুরোনো অভ্যাসটাকেই আবার মনে করিয়ে দেয়। জীবন সব সময় বড় কোনো ঘটনার জন্য অপেক্ষা করে না। কখনো একটি সুন্দর গান, বৃষ্টির গন্ধ, জানালায় এসে পড়া বিকেলের আলো কিংবা মেঘের গায়ে হঠাৎ ফুটে ওঠা কয়েকটি রংই মন ভালো করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।ইরেডেসেন্ট ক্লাউডের সৌন্দর্য তাই শুধু একটি প্রাকৃতিক বিষয়, আলৌকিক কোনো ঘটনা নয়। এটি মনে করিয়ে দেয়, চারপাশের পৃথিবীকে সুন্দরভাবে দেখার জন্য সব সময় বিশেষ কোনো জায়গায় যেতে হয় না। কখনো শুধু একটু থামতে হয়, মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকাতে হয়। সেই মুহূর্তে মেঘের গায়ে রং না–ও থাকতে পারে, ধূসর আকাশই দেখা যেতে পারে, তবু তাকিয়ে থাকা যায়। কারণ, আকাশ বদলাতে খুব বেশি সময় নেয় না।যাপিত জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে প্রকৃতির এমন ছোট ছোট চমকই তো মনকে বাঁচিয়ে রাখার খোরাক জোগায়।সূত্র: উইকিপিডিয়া, স্কাইব্রেরি, দ্য গার্ডিয়ানছবি: ইন্সটাগ্রাম
ইঁদুরের দৌরাত্ম্য যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেটা কয়েক দিন ধরে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।একটা পুঁচকে নেংটি ইঁদুরের এতই ক্ষমতা যে তার ভয়ে জীবন অতিষ্ঠ প্রায়।কোনোভাবেই তার থেকে রেহাই পাচ্ছি না। অবশেষে বাজার থেকে চানাচুর, দুধ-কলা আর বিষ কিনে এনেও যখন কাজ হলো না, তখন নিরুপায় হয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম আজ এর একটা বিহিত করতেই হবে।ছোট ভাইকে বললাম... চল আজ এই ইঁদুরের সঙ্গে হেস্তনেস্ত কিছু একটা করতেই হবে!মানুষ হয়ে সামান্য একটা পুঁচকে ইঁদুরের কাছে হেনস্তা! এভাবে তো আর বেঁচে থাকা সম্ভব হচ্ছে না!দরজা–জানালা ভালোভাবে বন্ধ কর তো!পুঁচকে ইঁদুরের এক দিন কি আমাদের এক দিন।আমার মারাত্মক আর অগ্নিমূর্তি চেহারা দেখে ছোট ভাই দারুণ উদ্যমে কোথা থেকে যেন একটা লোহার রড নিয়ে এল আর আমি একটা ক্রিকেট খেলার ব্যাট খুঁজে বের করে হাতে নিলাম!তড়িৎ উক্তিলোডশেডিং উত্তপ্ত কাঁচাবাজাররাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘরে দুইটা খাট আছে, একটার ওপর আরেকটা খাট তুলে রাখলাম!যেহেতু ইঁদুরের বই পছন্দ এবং নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস আছে, এই অনুমানের ভিত্তিতে বইয়ের তাক থেকে বই সরাতেই নেংটি ইঁদুর দৌড়ে আমার পড়ার টেবিলের নিচে ঢুকলেন!ছোট ভাই লোহার রড নিয়ে প্রস্তুত আর আমি ব্যাট নিয়ে। টেবিলটা সরাতেই ইঁদুর ভাইয়া মুহূর্তের মধ্যে কোথায় যেন উধাও হয়ে গেলেন! বুঝলাম নেংটি ভাইয়া এবার হয়তো টেবিলের ওপর রাখা বইয়ের স্তূপে লুকিয়েছেন। যেই ভাবা সেই কাজ...টেবিল থেকে সাবধানে বইগুলো নামালাম। কিন্তু হায়! ইঁদুর ভাইয়া কোথায় গেলেন!পরে বইগুলো টেবিল থেকে নামিয়ে টেবিলটা ওলটাতেই দেখি নেংটি ভাইয়া ভাঙা ড্রয়ারের ভেতর ঢুকে আরাম করে বসে আছেন এবং আমাদের দেখে দুই হাত নেড়ে হাই বললেন! রাগে ফেটে পড়ে, তোরে আজ খাইছি বলে ছোট ভাই লোহার রড উঁচু করতে করতেই নেংটি ভাইয়া ভোঁ–দৌড় দিয়ে আরেকটা টেবিলের নিচে ঢুকে পড়লেন।টেবিলটাতে অনেকবার বাড়ি দিলাম জোরে জোরে এই জন্য যে নেংটি ভাইয়া হয়তো শব্দ শুনে ভয়ে বেরিয়ে এসে দুই হাত ওপরে তুলে আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন! কিন্তু না, তিনি বের হয়ে এলেন না! আবারও টেবিলের সমস্ত বই নিচে নামিয়ে যেমনি ড্রয়ার খুলেছি, অমনি তিনি দিলেন আরেক ভৌঁ–দৌড়। এইবার তিনি দরজার নিচে সামান্য যে ফাঁকা ছিল, সেটা দিয়ে পগার পার হয়ে গেলেন!হতাশ হয়ে আমরা কিছুক্ষণ ইঁদুর ভাইয়াকে শালা, ইতর, অসভ্য ইত্যাদি অকথ্য ভাষায় গালাগালি লাগলাম!কিছুক্ষণ পর পাশের রুমের বড় ভাই এসে বললেন, কী ব্যাপার ভাই, লাঠিসোটা নিয়ে মারামারি করবেন নাকি...! বড় ভাইকে পুরো আধা ঘণ্টা ধরে নেংটি ইঁদুরের কেচ্ছা বললাম এবং আমাদের অক্লান্ত নিষ্ফল পরিশ্রম সম্পর্কে জানালাম। বড় ভাই রহস্যময় হাসি দিয়ে বললেন: যার যে কাজে অভ্যাস নেই , তার সেই কাজ না করাই ভালো! আর করতে গেলে তার অবস্থা ইঁদুরের মতোই হবে! বড় ভাইয়ের কথা শুনে আমি আর ছোট ভাই বেশ অপমানিত বোধ করলাম। সামান্য একটা নেংটি ইঁদুরের জন্য এভাবে কথা শুনতে হলো। হায় রে কপাল! এত কষ্ট করে ব্যর্থ হলাম। সান্ত্বনা দেবেন কি, উল্টো কী বললেন এগুলো।পরে নিজে নিজে সান্ত্বনা খুঁজে নিলাম এটা ভেবে যে ‘অসভ্য নেংটি ইঁদুর আর যা–ই হোক, তোরে তো ঘর ছাড়া করতে পেরেছি!’ ছোট ভাই খুব জ্ঞানী, জ্ঞানী চেহারা নিয়ে অত্যন্ত গাম্ভীর্যের সঙ্গে বলল ভাই, ‘বর্তমান সমাজেও এমন নেংটি ইঁদুরের দৌরাত্ম্য সর্বত্রই!’শাহপুরের দম্পতিএইটা কেমনে সম্ভব!বড় ঋণখেলাপিদের জন্য বড় ছাড়ওয়াকআউট করার অধিকার যদি তাঁদেরও থাকতবিয়ে না করার ১০ উপকারিতা...১টা ফাউছিনতাই! Be পজিটিভ চোরের ওপর বাটপারিবিদুৎ-বিড়ম্বনায় তাঁহারা যা লিখতেনAi ড্রামাঅপ্রেমভিত্তিক চলচ্চিত্র কীভাবে বুঝবেন, দেশে বিদ্যুতের সংকট নেইতেল কথায় প্রকাশবেসরকারি চাকরিজীবীর পে স্কেল বিড়ম্বনা
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের শহীদ পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার উদ্যোগ নেওয়ায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। রাজধানীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ইসলামী বইমেলায় ‘শাপলা কর্নার’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কৃতজ্ঞতা জানান। মামুনুল হক বলেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বসে প্রথমবারের মতো ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের শহীদ পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে সম্মাননা দিয়েছেন। এই অনন্য উদ্যোগের অকপট স্বীকৃতি ও কৃতিত্ব দিয়ে উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাই ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। শাপলা চত্বরের আত্মত্যাগকে জাতীয় ইতিহাসের একটি মাইলফলক উল্লেখ করে তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেমন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ভিত থেকে এসেছে, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল প্রেরণাও ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের আত্মত্যাগে প্রোথিত ছিল। জুলাই আন্দোলনের শহীদদের মতো শাপলার শহীদদেরও পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার দাবি সংসদ ও রাজপথে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মামুনুল হক। তিনি জানান, শাপলা স্মৃতি সংসদ দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর শহীদদের একটি প্রামাণ্য তালিকা তৈরি করে ‘শহীদনামা’ নামে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শাপলা হত্যাকাণ্ডের মামলা ও শহীদদের পরিচয় শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে এই তালিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি করেন তিনি। অনুষ্ঠানে শাপলা স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব মাওলানা কামালউদ্দীনসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যদের এবং মেলায় স্টল বরাদ্দ দেওয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মেলা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান মামুনুল হক। এনএস/কেএইচকে