বাজারে দোকানের তাক থেকে চকচকে নতুন প্যাকেটের খাবার হাতে তুলে নিলেই কি সেটি নিরাপদ? সবসময় নয়। কখনো পুরোনো পণ্যের প্যাকেট বদলে নতুন মোড়ক দেওয়া, আবার কখনো লেবেল পরিবর্তন বা নতুন করে স্টিকার লাগানোর অভিযোগও শোনা যায়। বাইরে থেকে প্যাকেট একেবারে ঠিকঠাক দেখালেও ভেতরের খাবারের মান সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কেনা ঠিক নয়।
বিশেষ করে দুধজাত পণ্য, মাংস, মাছ, জুস, বিস্কুট, স্ন্যাকস কিংবা বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার কেনার সময় একটু সতর্ক হলেই অনেক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
খাবার কেনার সময় প্রথমেই উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ শেষের তারিখ, ‘ইউজ বাই’ বা ‘বেস্ট বিফোর’ লেখা আছে কি না, তা দেখে নিন। শুধু সামনের দিকের লেবেল নয়, প্যাকেটের বিভিন্ন পাশে ছাপা তারিখও মিলিয়ে দেখা জরুরি। কারণ ‘বেস্ট বিফোর’ অনেক ক্ষেত্রে খাবারের সর্বোচ্চ মান বা স্বাদের সময় নির্দেশ করে; অন্যদিকে নির্দিষ্ট ‘ইউজ বাই’ তারিখ বিশেষ করে দ্রুত নষ্ট হওয়া খাবারের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
কোনো পণ্যের আসল লেবেলের ওপর আরেকটি স্টিকার লাগানো, তারিখের অংশ অস্বাভাবিকভাবে ঢেকে রাখা কিংবা একাধিক তারিখের ছাপ দেখা গেলে সতর্ক হোন। একই প্যাকেটের ভিন্ন অংশে উৎপাদন বা মেয়াদের তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি থাকলেও পণ্যটি না কেনাই ভালো। লেবেল পরিবর্তন বা পুনরায় প্যাকেটজাত করার কোনো সন্দেহ থাকলে বিক্রেতার কাছে বিষয়টি জানতে পারেন।
প্যাকেট ছেঁড়া, ফুটা, ফুলে ওঠা, অতিরিক্ত চাপা পড়া কিংবা মুখের সিল খোলা থাকলে তা কিনবেন না। বোতল বা জারের ঢাকনা ঠিকমতো আটকানো আছে কি না এবং নিরাপত্তা সিল অক্ষত কি না দেখুন। খাবারের প্যাকেট পুনরায় সিল করা হয়েছে বলে মনে হলেও সতর্ক হওয়া জরুরি। খাদ্যনিরাপত্তা নির্দেশিকাতেও ক্ষতিগ্রস্ত, খোলা বা পুনরায় সিল করা প্যাকেট এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্যাকেটের বাইরে থেকে খাবার নষ্ট বোঝা সবসময় সম্ভব নয়। তবে যেখানে খাবার দৃশ্যমান, সেখানে অস্বাভাবিক রং, ছত্রাক, তরল বেরিয়ে আসা বা অস্বাভাবিক গন্ধ থাকলে সেটি এড়িয়ে চলুন। ক্যানজাত খাবারের ক্ষেত্রে ক্যান ফুলে ওঠা, লিক করা বা জোড়ের জায়গায় গভীর ক্ষত থাকলেও কিনবেন না।
মাংস, মাছ, দুধ, দই বা অন্যান্য দ্রুত নষ্ট হওয়া খাবার কেনার সময় শুধু মেয়াদ দেখলেই হবে না। দোকানের ফ্রিজ ঠিকমতো ঠান্ডা রাখছে কি না এবং খাবারগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষিত আছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রোজেন খাবারের প্যাকেটে বরফ গলে যাওয়ার দাগ, তরল জমাট বাঁধা বা আবার জমাট করার চিহ্ন থাকলে তা এড়িয়ে চলুন।
অস্বাভাবিক কম দামে কোনো প্যাকেটজাত খাবার বিক্রি হলে শুধু সস্তা দেখে কিনবেন না। কেন দাম কম, পণ্যের মেয়াদ কতদিন বাকি, প্যাকেটের অবস্থা কেমন-এসব যাচাই করুন। বিশেষ করে মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি থাকা বা সন্দেহজনকভাবে পুনরায় মোড়কজাত করা পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
খাবার কেনার সময় কয়েক সেকেন্ডের সতর্কতা অনেক বড় ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে পারে। প্যাকেটের তারিখ, লেবেল, সিল, গন্ধ, রং, সংরক্ষণের পরিবেশ-সবকিছু মিলিয়ে নিশ্চিত হয়ে তবেই খাবার কিনুন। সন্দেহ হলে ‘সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে’ ভেবে ঝুঁকি না নিয়ে পণ্যটি বাদ দেওয়াই নিরাপদ।
সূত্র: নিউজ এইটিন, টেষ্টিং টেবিল
এসএকেওয়াই
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে অগ্নিকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। অগ্নিকাণ্ডের সময় আতঙ্কিত হয়ে নিচে নামতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তিনি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থানে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী থাকা এবং বহির্গমন পথ সচল না থাকায় এ ধরনের ঘটনায় বড় ধরনের হতাহতের আশঙ্কা থাকে। তিনি বলেন, হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল এবং জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা যথাযথভাবে সচল ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। অগ্নিকাণ্ডে কারও অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা চিহ্নিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘মৃত্যুর কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না। তারপরও নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’ একই সঙ্গে ভবিষ্যতে হাসপাতালসহ সব গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং নিয়মিত মহড়া ও তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। এমইউ/এসএনআর
প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের সক্ষমতা ধরে রাখতে ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা বন্ড সুবিধার পরিবর্তে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ বহাল রাখা, ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সহজ করাসহ একাধিক নীতিগত সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গুলশান ক্লাবে প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের বিদ্যমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভা থেকে এসব দাবি জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। সভায় বিটিএমএ নেতারা বলেন, দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্প তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামালের অন্যতম প্রধান উৎস। এ খাতের উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে ব্যবসাবান্ধব নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধার পরিবর্তে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানির বিদ্যমান সুযোগ বহাল রাখার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বিটিএমএ বলছে, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বৈধ ও নিয়মিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ ও প্রতিযোগিতামূলক রাখা জরুরি। সভা থেকে প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ, পুনঃঅর্থায়ন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সহজ করারও দাবি জানানো হয়। উদ্যোক্তাদের মতে, উৎপাদন ব্যয়, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক খাতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া হলে শিল্পের সক্ষমতা ধরে রাখা সহজ হবে। এদিকে, সম্প্রতি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বিটিএমএ। সংগঠনটির নেতারা বলেন, দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকটের পর সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতিতে প্রাইমারি টেক্সটাইল মিলগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং তৈরি পোশাক শিল্পে কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সভায় বিটিএমএ সহসভাপতি ও জাতীয় সংসদের শিল্প বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আবুল কালাম, এমপি বলেন, সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে কাজ করছে। জ্বালানি সংকট দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা উল্লেখ করে তিনি এর স্থায়ী সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানির বিদ্যমান সুযোগ বহাল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। বিটিএমএ-এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির জন্য প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন । তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গেলে প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে । তিনি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থ, শিল্পের সক্ষমতা এবং রাজস্ব সুরক্ষাকে সমন্বয় করে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বন্ড ব্যবস্থার অপব্যবহার প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বৈধ ও নিয়মিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ আরও সহজ ও প্রতিযোগিতামূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ।মতবিনিময় সভায় উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সরবরাহ, আমদানি-রপ্তানি, বন্ড সুবিধা, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সক্ষমতাসহ প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। সভায় সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতারা এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা অংশ নেন। আইএইচও/এসএনআর
ইয়েমেনের যুদ্ধ এক দশক পেরিয়ে গেলেও থামেনি। হুতি, সৌদি আরব, ইরান, যুক্তরাষ্ট্রসহ নানা পক্ষের স্বার্থে জটিল হয়ে ওঠা এই সংঘাতের ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানুন ভিডিওতে…