ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে অগ্নিকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। অগ্নিকাণ্ডের সময় আতঙ্কিত হয়ে নিচে নামতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থানে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী থাকা এবং বহির্গমন পথ সচল না থাকায় এ ধরনের ঘটনায় বড় ধরনের হতাহতের আশঙ্কা থাকে।
তিনি বলেন, হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল এবং জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা যথাযথভাবে সচল ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। অগ্নিকাণ্ডে কারও অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা চিহ্নিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘মৃত্যুর কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না। তারপরও নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে হাসপাতালসহ সব গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং নিয়মিত মহড়া ও তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
এমইউ/এসএনআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
হ্যারি ব্রুক বলতে গেলে একাই লণ্ডভণ্ড করে দিলেন শ্রীলঙ্কাকে। সাউদাম্পটনে তার বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১১৯ রানের বিশাল জয় পেয়েছে ইংলিশরা। মাত্র ৪২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ব্রুক। এটি তার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক শতক এবং ক্যারিয়ারের দ্রুততম। ইংল্যান্ডের হয়ে এর চেয়ে দ্রুত সেঞ্চুরি রয়েছে শুধু ফিল সল্টের, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৯ বলে। ব্রুক শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৪৯ বলে ১১৪ রানে। তার বিধ্বংসী ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৫৪ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে তোলে ইংল্যান্ড। এছাড়া জস বাটলার করেন ৪৪ বলে ৮০। ব্রুকের ব্যাটিং দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন সাবেক ইংল্যান্ড টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকস। এমনকি ব্রুকের প্রতিভাকে কেভিন পিটারসেনের সঙ্গেও তুলনা করেন তিনি। এদিনের সেঞ্চুরি ব্রুকের জন্য বিশেষ আরেকটি কারণে। চলতি বছরে সাদা বলের ক্রিকেটে এটি তার তৃতীয় শতক এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিতীয়। এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। জবাবে ২৫৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ডের বোলারদের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারেই মাত্র ১৩৫ রানে অলআউট হয় লঙ্কানরা। অর্থাৎ ব্রুক একাই যে রান করেছেন, শ্রীলঙ্কার পুরো দল তার চেয়ে মাত্র ২১ রান বেশি করতে পেরেছে। ২৩ বছর বয়সী পেসার সনি বেকার তার মাত্র দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে নজর কেড়েছেন। ৪ ওভারে একটি মেইডেনসহ ১২ খরচায় তিনি নেন ৩টি উইকেট। ২টি করে উইকেট শিকার লিয়াম ডসন ও জেমি ওভারটনের। এমএমআর
টস হেরে ব্যাটিং, দেড়শোর আশেপাশে স্কোর আফগানিস্তানের। তারপর ১৫ ওভারের মধ্যে জয় ভারতের। প্রথম টি-টোয়েন্টির সেই একই চিত্রনাট্য যেন হাজির হলো দ্বিতীয় ম্যাচেও। ফলটাও এক, ভারতের ৭ উইকেটে জয়। দিল্লিতে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আফগানিস্তানকে হেসেখেলে হারিয়েছে ভারত। তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখেই জিতে নিয়েছে স্বাগতিকরা। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নামে আফগানিস্তান। প্রতিপক্ষকে বড় সংগ্রহ থেকে আটকাতে শুরু থেকেই চাপে রাখে ভারতের বোলাররা। রান বাড়ানোর চেষ্টা করলেই উইকেট হারাতে থাকে আফগানরা। শেষদিকে রশিদ খানের ঝড়ো ক্যামিওতে কোনোভাবে ১৫৯ রান সংগ্রহ করে তারা, যা ছিল প্রথম ম্যাচের চেয়ে মাত্র তিন রান বেশি। ইব্রাহিম জাদরান ৩৩ বলে ৩৭, ডারউইশ রসুলি ১৫ বলে ২৬, মোহাম্মদ নবি ১৪ বলে ২০ আর রশিদ খান ১৬ বলে করেন ২৮ রান। ছোট মাঠ ও ভালো ব্যাটিং কন্ডিশনে ১৫৯ রান ভারতের জন্য মোটেও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়নি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ম্যাচকে একপেশে করে দেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। স্যামসন মাত্র ২২ বলে ৫৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। যাতে ছিল ৭টি চার আর ৪টি ছক্কার মার। অন্যদিকে অভিষেক ১৯ বলে করেন ৩৯ রান। এরপর ইশান কিশান ২৩ বলে ৩৮ রানের হার না মানা ইনিংসে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন। এমএমআর
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অটোরিকশায় করে যাওয়ার সময় মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে মুহাম্মদ রাহাত (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ইছাখালী জাকিরাবাদ মদিনা টাওয়ারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাহাত মরিয়মনগর পূর্ব সৈয়দবাড়ি এলাকার প্রবাসী রুবেলের ছেলে। স্থানীয় মুহাম্মদ রিদওয়ান হাসান জানান, রুবেল তার স্ত্রী ও ছেলে রাহাতকে নিয়ে ইছাখালী আদিলপুর এলাকায় বন্ধু জাহেদের বাড়িতে বেড়াতে যান। পরে অটোরিকশায় করে বাড়ি ফেরার পথে জাকিরাবাদ মদিনা টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে মায়ের কোল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে শিশুটি। এ সময় অটোরিকশাটির একটি চাকা শিশুটির বুকের ওপর দিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সায়দার জিগার জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অটোরিকশায় চলাচলের সময় শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এমআরএএইচ/এসএনআর