জাতীয়

বিদেশি বিনিয়োগের কারখানায় শুল্ক জটিলতা, উৎপাদন বন্ধ ১৬ মাস

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
বিদেশি বিনিয়োগের কারখানায় শুল্ক জটিলতা, উৎপাদন বন্ধ ১৬ মাস
বিদেশি বিনিয়োগের কারখানায় শুল্ক জটিলতা, উৎপাদন বন্ধ ১৬ মাস

পাবনার ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) স্থাপিত এসপিএস এগ্রোটেক লিমিটেড পড়েছে শুল্কসংক্রান্ত জটিলতায়। বিদেশি বিনিয়োগের এ কারখানাটি উৎপাদনে যাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়, যা বহাল রয়েছে প্রায় ১৬ মাস ধরে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কারখানাটিতে ‘ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল’ বা ধানের তুষ থেকে তেল উৎপাদন শুরুর পরই রপ্তানি শুল্ক নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এরপর সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে চিঠি চালাচালি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে এটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।

এখন কারখানা বন্ধ থাকায় শুধু বিনিয়োগকারীই নন, সেই সঙ্গে ৩৫০ জন শ্রমিক, রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা এবং সরকারের ভ্যাট-ট্যাক্স আদায়ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এসপিএস এগ্রোটেকের স্বত্বাধিকারী প্রদীপ্ত মজুমদার। তার দাবি, কারখানায় বর্তমানে প্রায় ২০ কোটি টাকার পণ্য পড়ে আছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এসব পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কারখানাটি চালু ও রপ্তানির সুযোগ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে এসপিএস এগ্রোটেক। সম্প্রতি দেওয়া এই আবেদনে ‘দ্য এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি অ্যাক্ট-১৯৮০’-এর ১৫(বি) ধারার আওতায় বিষয়টি নিষ্পত্তির অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিমান কি বোয়িংয়ের আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনছে?

চুক্তির সময় ছিল না শুল্ক

অর্থ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঈশ্বরদী ইপিজেডের দ্বিতীয় ফেজের ১৩৩-১৩৬ ও ১৬৩-১৬৬ নম্বর প্লটে বিদেশি বিনিয়োগে কারখানাটি স্থাপন করা হয়। এজন্য ২০২১ সালের ১ এপ্রিল বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে চুক্তি করে এসপিএস এগ্রোটেক।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চুক্তি সম্পাদনের সময় ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিতে কোনো শুল্ক ছিল না। সেই হিসাবেই বিনিয়োগ ও কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহের পর ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল উৎপাদন শুরু হয়। তবে রপ্তানি কার্যক্রমে শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেওয়ার পর ১৭ এপ্রিল কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অপরিশোধিত ও পরিশোধিত ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এরপর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফে ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে গত ৮ জুন জারি করা এসআরও নম্বর-১৭৭ অনুযায়ী এ পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এসপিএস এগ্রোটেকের দাবি, এসব শুল্ক ইপিজেডের বাইরের প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হলেও ইপিজেডভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিষয়টি আইনগতভাবে কীভাবে প্রযোজ্য হবে, সেটিই মূল জটিলতা।

আরও পড়ুন

বাব আল-মান্দেবও অনিরাপদ, জ্বালানি-বাণিজ্যে বাড়ছে ঝুঁকি

দেড় বছরেও সমাধান হয়নি

শুল্ক জটিলতা সমাধানে বিষয়টি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে গড়ালেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির ষষ্ঠ সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, ইপিজেডে উৎপাদিত ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়টি যুক্তিযুক্ত কি না, তা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বেপজা দ্বিপক্ষীয় সভার মাধ্যমে সমাধান করবে। এর ধারাবাহিকতায় ২৩ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বেপজার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সভা হয়। সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি ‘দ্য এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি অ্যাক্ট-১৯৮০’-এর ১৫(বি) ধারার আওতায় নিষ্পত্তির জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

এর তিন মাস পর ৮ এপ্রিল এনবিআর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানির ক্ষেত্রে রেগুলেটরি ডিউটি আরোপের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত দিতে অনুরোধ করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও প্রায় সাড়ে তিন মাস পর ১৯ জুলাই সুস্পষ্ট মতামতসহ একই আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুনরায় চিঠি দেয়। তবে এতসব প্রক্রিয়ার পরও কারখানাটি চালু হয়নি।

অর্থাৎ, কারখানা বন্ধ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা ও পত্র যোগাযোগ হলেও দীর্ঘ সময়েও কার্যকর সমাধান না হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির।

ঈশ্বরদী ইপিজেডের দ্বিতীয় ফেজের ১৩৩-১৩৬ ও ১৬৩-১৬৬ নম্বর প্লটে বিদেশি বিনিয়োগে কারখানাটি স্থাপন করা হয়। এজন্য ২০২১ সালের ১ এপ্রিল বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে চুক্তি করে এসপিএস এগ্রোটেক।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ

অর্থ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া আবেদনে এসপিএস এগ্রোটেক উল্লেখ করেছে, কারখানাটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এভাবে দীর্ঘদিন উৎপাদনের বাইরে থাকায় বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, বাংলাদেশে বছরে সাড়ে চার থেকে পাঁচ কোটি মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়। ধানের ৭ থেকে ৮ শতাংশ হিসাবে বছরে ৩২ থেকে ৩৫ লাখ মেট্রিক টন তুষ পাওয়া যায়। কারখানাটিতে বছরে এক লাখ ২০ হাজার থেকে এক লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন তুষ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এটি দেশের মোট উৎপাদিত তুষের ৪ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ। ফলে তাদের কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে তুষ ব্যবহারের কারণে স্থানীয় বাজারে সংকট তৈরি হবে না বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এসপিএস এগ্রোটেকের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সমাধানের সুপারিশ চাওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, শুল্কসংক্রান্ত জটিলতার কারণে একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শুধু ওই কোম্পানির আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়, এর সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয় ও দেশের শিল্পোন্নয়নের বিষয়ও জড়িত।

তাই ইপিজেডভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত ক্রুড রাইস ব্রান অয়েল রপ্তানিতে শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিদ্যমান আইন ও ইপিজেডের নীতিগত সুবিধার আলোকে দ্রুত নিষ্পত্তি করে কারখানাটি পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আরও পড়ুন

করছাড়ের সুফল নেই বাজারে, উল্টো বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম

‘কেন এমন পরিস্থিতি হলো, সেটিই বোধগম্য নয়’

এ বিষয়ে নিজের ক্ষোভ ও হতাশার কথা তুলে ধরেছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী প্রদীপ্ত মজুমদার। ভারতীয় এই বিনিয়োগকারী জাগো নিউজকে বলেন, কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারী বিশ্বের যে কোনো দেশে আইন-কানুন মেনে বিনিয়োগ করার পর তার কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শুধু তিনিই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, একই সঙ্গে দেশের শ্রমিক, রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং সরকারের রাজস্ব আদায়-কিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

‘আমাদের কারখানায় প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক কাজ করেন। তাদের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি সরকারের রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা এবং ভ্যাট-ট্যাক্স আদায়ের সুযোগও বন্ধ হয়েছে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, সেটিই আমার বোধগম্য নয়,’ যোগ করেন প্রদীপ্ত মজুমদার।

তিনি বলেন, ‘কোনো দেশে যখন বিদেশি বিনিয়োগ আসে, তখন ওই দেশই সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়। আমার ৪৫ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতায় আমি এটিই শিখেছি।’

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই বিনিয়োগকারী জানান, নিচে কী হচ্ছে বা কী ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে এসব বিষয় ওপরের মহলে সঠিকভাবে যাচ্ছে না। ফলে সঠিক সিদ্ধান্তও আসছে না।

আরও পড়ুন

টেকসই-পরিবেশবান্ধব খাতে বেড়েছে ঋণ বিতরণ-আদায়

বিনিয়োগ করে প্রায় দেউলিয়া হওয়ার অবস্থায়

নিজের বিনিয়োগের বিষয়ে প্রদীপ্ত মজুমদার বলেন, ‘আমি বড় কোনো বিনিয়োগকারী নই, মধ্যম শ্রেণির একজন বিনিয়োগকারী। জীবনের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে এখানে বিনিয়োগ করেছি। ঈশ্বরদীর কারখানায় ১০০ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ করেছি। পুরো অর্থ বিদেশ থেকে এনে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এখন সেই বিনিয়োগই তাকে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে নিয়ে গেছে।’

‘আদালতের আদেশও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমাদের কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পথে। এই কারখানায় বিনিয়োগ করে আমি প্রায় দেউলিয়া হওয়ার অবস্থায় চলে গেছি,’ বলেন তিনি।

প্রদীপ্ত মজুমদার জানান, কারখানায় প্রায় ২০ কোটি টাকার পণ্য পড়ে আছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় তা নষ্ট হচ্ছে, পোকায় খেয়ে ফেলছে। কিছু তেলও পড়ে আছে। কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাবেন, তার কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে এনবিআর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বেপজা, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এমনকি মুখ্য সচিবের কাছেও গেছেন। সবাই শুধু বলছেন- ‘হবে, দেখছি, করছি’। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ফল পাননি। কোনো ক্লিয়ারেন্সও পাননি। কারখানা বন্ধ, তার সর্বস্ব শেষ হওয়ার পথে।

ঈশ্বরদীর কারখানায় ১০০ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ করেছি। পুরো অর্থ বিদেশ থেকে এনে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এখন সেই বিনিয়োগই তাকে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে নিয়ে গেছে।- স্বত্বাধিকারী প্রদীপ্ত মজুমদার

৯৯ শতাংশই বাংলাদেশি শ্রমিক

বিদেশি বিনিয়োগের সুফল তুলে ধরে এসপিএস এগ্রোটেকের এই স্বত্বাধিকারী বলেন, তার কারখানায় কাজ করা শ্রমিকদের প্রায় ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশই বাংলাদেশি। বিদেশি কর্মী ছিলেন মাত্র দুজনের মতো। কারখানাটি বন্ধ থাকায় ঈশ্বরদী ইপিজেডে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশের রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগও বন্ধ রয়েছে।

প্রদীপ্ত মজুমদার বলেন, সবকিছু মিলিয়ে তার সামনে এখন একটাই পথ, তা হলো কারখানাটি চালু করা। এটি চালু করতে পারলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। তা না হলে তিনি রাস্তায় বসে যাবেন। তবে তিনি বসে যাওয়ার আগে এই দেশের ক্ষতিটাই হবে সবচেয়ে বেশি। কারণ এমন অভিজ্ঞতার কথা জানলে বিদেশি অন্য বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন।

কারখানা বন্ধের জন্য সরাসরি এনবিআরকে দায়ী করেছেন এই বিনিয়োগকারী। তিনি বলেন, শুধু ‘এনবিআরের কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। এনবিআরের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই, বিষয়টি মূলত মানসিকতার।’

আরও পড়ুন

বড় হচ্ছে ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজার, মাসে বিক্রি সাড়ে ৩ হাজার

দূতাবাসেও যোগাযোগ, সমাধান হয়নি

বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে নিজ দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে প্রদীপ্ত মজুমদার বলেন, বিনিয়োগের সময় দুই দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেই বাংলাদেশে এসেছেন। সমস্যা তৈরির পরও কয়েকবার দূতাবাসে গেছেন এবং কয়েকটি চিঠি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, দূতাবাস থেকেও বলা হয়েছে- ‘আমরা দেখছি, হচ্ছে’। কিন্তু দূতাবাসের দেওয়া তথ্য বা বক্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে শুনছে না।

বেপজার ভূমিকা সম্পর্কে তিনি জানান, বেপজা তাদের অনেক সহযোগিতা করছে এবং তাদের পক্ষেই রয়েছে। কিন্তু বেপজা সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

আরও পড়ুন

নিজেদের আয়ের ডলারে প্রথমবার তেলের দাম পরিশোধ বিপিসির

আর কেউ যেন এমন পরিস্থিতির শিকার না হোন

দীর্ঘদিন ধরে কারখানা বন্ধ থাকায় নিজের ক্ষতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বিদেশি বিনিয়োগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রদীপ্ত মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আমি চাই না, জীবনে আর কোনো বিনিয়োগকারী এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হোন।’

তার মতে, বিদেশি বিনিয়োগ যে কোনো দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রমিক, রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা আয়, ভ্যাট-ট্যাক্স এবং শিল্পায়নের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই দ্রুত কারখানাটি চালুর সুযোগ তৈরি করে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করা উচিত।

এমএএস/একিউএফ/এমএফএ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ভুলে চ্যাটজিপিটিতে চ্যাট ডিলিট হলে, ফিরে পাবেন যেভাবে
ভুলে চ্যাটজিপিটিতে চ্যাট ডিলিট হলে, ফিরে পাবেন যেভাবে

চ্যাটজিপিটি এখন অনেকেরই দৈনন্দিন কাজের সঙ্গী। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, লেখালেখি, কাজের পরিকল্পনা কিংবা প্রয়োজনীয় নোট অনেক কিছুই চ্যাট হিস্ট্রিতে রেখে দেন ব্যবহারকারীরা। কিন্তু অসাবধানতায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো কথোপকথন ডিলিট হয়ে গেলে বিপদে পড়তে হয়। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, মুছে যাওয়া সেই চ্যাট কি আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব? ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটিতে কোনো চ্যাট একবার ডিলিট করা হলে সেটি আর পুনরুদ্ধার করা যায় না। এমনকি ভুল করে মুছে ফেলা চ্যাটও চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই প্রয়োজনীয় কথোপকথন সরানোর আগে ডিলিট এবং আর্কাইভের পার্থক্য জানা জরুরি। তবে চ্যাট হিস্ট্রিতে কোনো কথোপকথন খুঁজে না পেলেই ধরে নেওয়া ঠিক নয় যে সেটি ডিলিট হয়ে গেছে। চ্যাটটি আর্কাইভ করা থাকতে পারে। আবার অন্য অ্যাকাউন্ট বা ওয়ার্কস্পেসে লগ ইন থাকলেও পুরোনো চ্যাট দেখা যাবে না। তাই চ্যাট হারিয়ে গেছে মনে হলে কয়েকটি বিষয় আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো। আরও পড়ুন চ্যাটজিপিটি জেনে যাচ্ছে আপনার নাড়ি-নক্ষত্র, সাবধান হবেন যেভাবে চ্যাটজিপিটিতে চ্যাট ডিলিট করবেন কীভাবে? অপ্রয়োজনীয় কথোপকথন চ্যাট হিস্ট্রি থেকে সরাতে ডিলিট অপশন ব্যবহার করা যায়। এর জন্য প্রথমে চ্যাটজিপিটি খুলে সাইডবারে চ্যাট হিস্ট্রিতে যেতে হবে। এরপর যে কথোপকথনটি মুছতে চান, সেটির পাশে থাকা তিন ডটের মেনুতে ক্লিক করুন। সেখান থেকে ডিলিট নির্বাচন করে চ্যাটটি মুছে ফেলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এরপর কথোপকথনটি হিস্ট্রি থেকে আর দেখা যাবে না। ডিলিট করা চ্যাট কি আবার উদ্ধার করা যায়? সংক্ষেপে উত্তর না। ওপেনএআই জানিয়েছে, ডিলিট করা চ্যাটজিপিটি চ্যাট ইন্টারফেস, এপিআই কিংবা সাপোর্টের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা যায় না। অর্থাৎ ভুল করে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন মুছে ফেললেও সেটি ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। একইভাবে সেটিংসের ডাটা কন্ট্রোলস থেকে ডিলিট অল চ্যাটস ব্যবহার করে সব কথোপকথন মুছে ফেললে সেগুলোও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। তাই ডিলিট বেছে নেওয়ার আগে চ্যাটটি সত্যিই আর প্রয়োজন নেই কি না, তা নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। চ্যাট হঠাৎ হিস্ট্রি থেকে উধাও হলে কী করবেন? কোনও চ্যাট খুঁজে না পাওয়া মানেই সেটি মুছে ফেলা হয়েছে এমনটা নয়। প্রথমে নিজের চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টটি পরীক্ষা করুন। অনেক সময় অন্য অ্যাকাউন্টে লগ ইন থাকার কারণে আগের কথোপকথন দেখা যায় না। এ ছাড়া আপনি সঠিক ওয়ার্কস্পেস ব্যবহার করছেন কি না, সেটিও দেখে নিন। চ্যাটটি আর্কাইভ করা হয়েছে কি না সেটাও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে চ্যাটজিপিটি পেজ রিফ্রেশ করে বা অ্যাকাউন্ট থেকে লগ আউট করে আবার লগ ইন করতে পারেন। এরপরও চ্যাট না পাওয়া গেলে ওপেনএআইয়ের সার্চস স্ট্যাটাস পেজে গিয়ে পরিষেবায় সাময়িক কোনও সমস্যা চলছে কি না দেখে নিতে পারেন। আর্কাইভ করা চ্যাট কোথায় পাবেন? কোনো কথোপকথন ভবিষ্যতে প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু আপাতত চ্যাট হিস্ট্রিতে রাখতে না চাইলে ডিলিটের বদলে আর্কাইভ করা নিরাপদ। আর্কাইভ করলে চ্যাটটি অ্যাকাউন্ট থেকে মুছে যায় না; শুধু সাধারণ হিস্ট্রি থেকে সরিয়ে রাখা হয়। আরও পড়ুন যে ১০ কাজ চ্যাটজিপিটি দিয়ে করতে পারবেন আর্কাইভ করা চ্যাট দেখতে চ্যাটজিপিটির সেটিংসে যান। এরপর ডাটা কন্ট্রোলস বিভাগে গিয়ে আর্কাইভ চ্যাটসের পাশে থাকা ম্যানেজ অপশন নির্বাচন করুন। সেখানে আর্কাইভ করা কথোপকথন দেখতে পারবেন। প্রয়োজন হলে আনআর্কাইভ করে সেটিকে আবার সাধারণ চ্যাট হিস্ট্রিতে ফিরিয়ে আনা যায়। চ্যাটজিপিটিতে চ্যাট আর্কাইভ করবেন কী ভাবে? চ্যাট আর্কাইভ করার প্রক্রিয়াও বেশ সহজ। সাইডবারে যে কথোপকথনটি রাখতে চান, সেটি খুঁজে নিন। এরপর চ্যাটের পাশে থাকা তিন ডটের মেনুতে ক্লিক করে আর্কাইভ নির্বাচন করুন। আর্কাইভ করার পর চ্যাটটি মুছে যাবে না এবং সাধারণত আলাদা করে ডিলিটের মতো নিশ্চিতকরণও প্রয়োজন হয় না। পরে প্রয়োজন হলে আর্কাইভড চ্যাটস থেকে সেটি আবার ফিরিয়ে নেওয়া যাবে। কেএসকে

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
শহুরে ডেঙ্গুর থাবায় আক্রান্ত প্রত্যন্ত উত্তরাঞ্চল

শহুরে ডেঙ্গুর থাবায় আক্রান্ত প্রত্যন্ত উত্তরাঞ্চল

কত ক্যারেটের সোনার অলংকার কেনা লাভজনক

কত ক্যারেটের সোনার অলংকার কেনা লাভজনক

শব্দ কীভাবে ভাষা ও জগৎকে নির্মাণ করে

শব্দ কীভাবে ভাষা ও জগৎকে নির্মাণ করে

বেধড়ক পিটুনিতে ইংল্যান্ড দলে পিটারসেনকে বরণ করলেন ব্রুক
বেধড়ক পিটুনিতে ইংল্যান্ড দলে পিটারসেনকে বরণ করলেন ব্রুক

৪৯ বলে ১১৪*। সেঞ্চুরিটা এসেছে ৪২ বলে—ইংল্যান্ডের হয়ে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে দ্বিতীয় দ্রুততম। গতকাল রাতে ব্রুকের দুর্দান্ত এ সেঞ্চুরিতে সাউদাম্পটনে তিন ম্যাচ টি-টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১১৯ রানে হারায় ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ড যেখানে করেছে ২৫৪ রান, শ্রীলঙ্কা সেই উইকেটেই গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৩৫ রানে।দুর্দান্ত এ ইনিংসে ইংলিশ কিংবদন্তি কেভিন পিটারসেনকে বরণ করে নিয়েছেন ব্রুক। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে জমে থাকা মান-অভিমান ভুলে এই সিরিজে ‘স্পেশালিস্ট মেন্টর’ হিসেবে ইংল্যান্ড দলে যোগ দিয়েছেন পিটারসেন।ব্রুক যে এমন বেধড়ক পিটুনি দিতে পারেন, সেটা পিটারসেন ভালো করেই জানেন। তিনিও আগে ব্রুকের প্রশংসা করেছেন। তবে এবার হয়তো প্রথমবার দেখলেন ড্রেসিংরুম থেকে। প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে মেন্টর পিটারসেনপিটারসেনের সঙ্গে এমনিতেই ব্রুকের নামটা জুড়ে আছে বেশ কিছুদিন। কে বেশি প্রতিভাবান, পিটারসেন নাকি ব্রুক, এই আলোচনাও নতুন নয়। এ প্রশ্নের উত্তর ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকস কাল নিজের মতো করে এক্সে দিয়ে দিয়েছেন, ‘আমার তো মনে হয় না, কেভিন পিটারসেনের মতো জিনিয়াসও প্রতিভার দিক থেকে হ্যারি ব্রুকের ধারেকাছে আসতে পারে।’আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডের হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৩২ সেঞ্চুরি করা পিটারসেনকে ব্রুক ছাড়িয়ে যেতে পারবেন কি না, সে রায় এখনই দেওয়া ঠিক হবে না। সেটা সময়ই বলবে। তবে ব্রুক পথেই আছেন, সেটা বলা যায়। ২৭ বছর বয়সী ব্রুকের সেঞ্চুরির সংখ্যা ১৫। সংখ্যাটা আরও বেশি থাকত। কিন্তু সেঞ্চুরির পরোয়া করে ব্রুক সাধারণত খেলেন না। সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেই এক ইনিংসে ৯১ রানে আউট হন। এরপরও চলতি সময়ে ব্রুককে সব সংস্করণ মিলিয়ে দুনিয়ার সেরা ব্যাটসম্যান বিবেচনা করেন অনেকেই। সেটা এমনি এমনি নয়। সামর্থ্যই তার প্রমাণ। যেমন ধরুন, শ্রীলঙ্কার বোলারদের বেধড়ক পিটুনি দেওয়া ব্রুকই আইসিসি টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর ব্যাটসম্যান।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে লম্বা ক্যারিয়ার কারব্রুকের প্রশংসায় জস বাটলারকেও ভুলে যাওয়া যাবে না। কাল ৪৪ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন। এ মাঠেই সর্বশেষ জুলাইয়ে ভারতের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে করেছিলেন ১৩১। বাটলার করেছেন ৮০ রান, সেই পথে খেলছেন রিভার্স সুইপমানে শেষ দুই টি-টুয়েন্টিতে বাটলারের ব্যাট থেকে এসেছে মোট ২১১ রান। মজার ব্যাপার, চলতি বছর টি-টুয়েন্টিতে এ দুটি ম্যাচের আগে খেলেছেন ১৪ ম্যাচ, রান মাত্র ২১২। বাটলারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপও কেটেছে জঘন্য। অনেকে তো ইংল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যানের শেষটাই দেখেছিলেন। বাটলার আপাতত এ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছেন।শুধু তা–ই নয়, রোহিত শর্মাকে পেছনে ফেলে গতকাল আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়েছেন বাটলার। ১৫১ ইনিংসে ৪২৩১ রান করা রোহিত এখন তৃতীয়, ১৪৮ ইনিংসে ৪২৯২ রান করা বাটলার দ্বিতীয়। ১৩৬ ইনিংসে ৪৫৯৬ রান নিয়ে শীর্ষে পাকিস্তানের বাবর আজম।কাউন্টিতে এবার খালেদের ৫ উইকেট

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ঢাকায় পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৪৯৯, সবচেয়ে বেশি মিরপুরে

ঢাকায় পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৪৯৯, সবচেয়ে বেশি মিরপুরে

ওবায়দুল কাদেরের ফাঁসির রায়ে জামায়াতের ন্যারেটিভ পরাজিত: রাশেদ খাঁন

ওবায়দুল কাদেরের ফাঁসির রায়ে জামায়াতের ন্যারেটিভ পরাজিত: রাশেদ খাঁন

রহিমুদ্দির ভাইয়ের বেটা

রহিমুদ্দির ভাইয়ের বেটা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী পরামর্শ দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, নাগরিকের কী করার আছে
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী পরামর্শ দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, নাগরিকের কী করার আছে

২০০০ সালের পর থেকে ডেঙ্গু দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে দেখা গেছে, ডেঙ্গু বেড়ে গেলে সরকার তোড়জোড় শুরু করে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চায়। পরে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে গেলে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের কথা ভুলে যায়।২০০০ সালের পর থেকে ডেঙ্গু দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছেডেঙ্গু প্রতিরোধে বড় ধরনের সদিচ্ছা দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন তিনি। বিএনপি সরকারের নতুন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। এ উদ্যোগে অতীতের কিছু পদক্ষেপ, উদ্যোগ বা পরামর্শ বর্তমান সরকারের কাজে লাগতে পারে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ কী ছিল ২০১৭ সালে দেশে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ দেখা দিলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়ার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের রোগতত্ত্ববিদ ড. কে কৃষ্ণমূর্তিকে ঢাকায় পাঠিয়েছিল। ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে ওই রোগতত্ত্ববিদ ২২ পৃষ্ঠার একটি পরিকল্পনা দলিল তৈরি করে দিয়ে যান। ‘মিড-টার্ম প্ল্যান ফর কন্ট্রোলিং অ্যান্ড প্রিভেন্টিং এডিস-বর্ন ডেঙ্গু অ্যান্ড চিকুনগুনিয়া ইন বাংলাদেশ (বাংলাদেশে এডিসবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা)’ শীর্ষক এই পরিকল্পনায় দুটি উদ্দেশ্যের কথা বলা ছিল। প্রথমত, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের হার কমানো। দ্বিতীয়ত, ডেঙ্গুতে মৃত্যু কমানো। ওই দলিলে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের কথা ছিল:১. ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নির্ণয় এবং রোগপ্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি মূল্যায়ন।২. রোগতত্ত্ববিদ, কীটতত্ত্ববিদ, অণুজীববিজ্ঞানী, তথ্য-শিক্ষা-যোগাযোগবিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে ‘র‍্যাপিড রেসপন্স টিম’ গঠন করা জরুরি।৩. ১২টি মন্ত্রণালয়কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।২০১৯ সালের মধ্যে ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু তখনকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ওই দলিল খুলেই দেখেননি।ডেঙ্গু জ্বরে পেঁপেপাতার রস, সতর্ক করলেন চিকিৎসক২০১৯ সালে দেশে বড় আকারে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যায়। ওই বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের জ্যেষ্ঠ কীটতত্ত্ববিদ বি এন নাগপালকে ঢাকায় পাঠিয়েছিল সরকারকে এডিস মশা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য। ওই কীটতত্ত্ববিদ একাধিক মন্ত্রণালয়ে ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে এডিস মশার চরিত্র এবং কীভাবে এই মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, তা নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন ও পরামর্শ দেন। নাগপাল বলেছিলেন, এডিস মশা ডিম পাড়ার পর এক বছর পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। কোনো পাত্রে ডিম থাকলে এক বছরের মাথায় পানির স্পর্শ পেলে ডিম থেকে আবার মশা হয়। এডিস মশা কখনোই নর্দমায় ডিম পাড়ে না। তারা ছোট ছোট পানির আধারে ডিম পাড়তে পছন্দ করে।নাগপাল একাধিক অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততার ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের কর্মীদের দিয়ে এডিস মশা কমানো সম্ভব না। কর্মীরা সব মানুষের বাড়ির মধ্যে ঢোকার অনুমতি পাবেন না। অথচ এই মশা বিশ্রাম নেয় টেবিল-চেয়ার-সোফা-বিছানার নিচে, পর্দা-আলমারির পেছনে—অর্থাৎ যেখানে অন্ধকার থাকে। এই মশা হাইড্রোফিলিক, এই মশা আর্দ্রতা পছন্দ করে।ডেঙ্গু রোগী বাড়িতে থাকলে চিকিৎসা কীনাগরিকের কী করার আছে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ সময় একটি ভবনের নিচতলায় মশার প্রজননস্থল খুঁজছেন সিটি করপোরেশনের কর্মী ও স্কাউট সদস্যরা। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬দীর্ঘদিন স্বাস্থ্য খাতে সাংবাদিকতা করার সুবাদে বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে যে তথ্য পেয়েছি, তাতে ধারণা করা যায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলার সময়ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আছে। অভিযান শেষ হলেও ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে, সেই নিশ্চিয়তা নেই। তাই ডেঙ্গুর বিষয়ে সচেতনতা ও সতর্কতা খুবই জরুরি।ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো জানতে হবে। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে যেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। পরীক্ষায় ডেঙ্গু নিশ্চিত হলে আবার চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তাঁর পরামর্শমতো ওষুধ সেবন ও পথ্য খেতে হবে।একটি কথা মনে রাখতে হবে, জ্বর সেরে যাওয়া মানেই ডেঙ্গুমুক্ত হওয়া নয়। এ বিষয়ে চিকিৎসক যা বলেন, তা মেনে চলতে হবে।প্রতিটি পরিবারে চার ধরনের মানুষের প্রতি বেশি নজর রাখতে হবে: শিশু, গর্ভবতী, প্রবীণ এবং উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা ক্যানসারের মতো দীর্ঘস্থায়ী একাধিক রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তি। তাঁরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়। সুতরাং জ্বর হলেই সতর্ক হতে হবে।সরকার মশা নিয়ন্ত্রণে নেমেছে, এখন নাগরিকের উচিত তার দায়িত্ব পালন। সরকার ও সচেতন নাগরিকেরা এককাতারে হাঁটলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা যায়।ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর অবস্থা কেন দ্রুত খারাপ হয়ে যাচ্ছে

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা বাড়তি বোনাস নিয়েছেন ১১৬ কোটি টাকা, ফেরত দেওয়ার নির্দেশ

সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা বাড়তি বোনাস নিয়েছেন ১১৬ কোটি টাকা, ফেরত দেওয়ার নির্দেশ

টুথব্রাশে লেগে থাকা জীবাণু থেকে বাঁচার উপায় কী

টুথব্রাশে লেগে থাকা জীবাণু থেকে বাঁচার উপায় কী

পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে হুতিরা ড্রোন ছুড়েছে বলে অভিযোগ সৌদি আরবের, নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে হুতিরা ড্রোন ছুড়েছে বলে অভিযোগ সৌদি আরবের, নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

0 Comments