আমরা যে জগতে বাস করি, সেটা শব্দের জগৎ। শব্দ বলতে যদি আপনি আওয়াজ বুঝে থাকেন, তবে সমস্যা নেই। পৃথিবীতে বায়ু আছে বলেই শব্দ বা আওয়াজ তৈরি হয়। কিন্তু সব শব্দ বা আওয়াজই ভাষার উপাদান নয়। ভাষার উপাদান হিসেবে যে শব্দের কথা বলা হয়, তা বাক্যের একক এবং আপাতভাবে ধরে নেওয়া হয় সেই শব্দের অর্থ আছে। এ লেখায় শব্দকে বাক্যের উপাদান হিসেবে ধরতে হবে।
বক্তা ও শ্রোতার কিংবা লেখক ও পাঠকের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করে যে মাধ্যম, তাকে ভাষা বলা যায়। এই বিবেচনায় শব্দের উচ্চারিত রূপ যেমন আছে, অনুচ্চারিত রূপও আছে। আবার যোগাযোগ যে কেবল ভাষিক উপাদানের মাধ্যমে হয় তা নয়, অভাষিক উপাদান, যেমন প্রতীক বা চিহ্ন, অঙ্গভঙ্গি, মুখের অভিব্যক্তি, ইশারা-ইঙ্গিত, দৃষ্টি, স্পর্শ, এমনকি নীরবতার মাধ্যমেও হতে পারে। শিরোনামের ‘ভাষা’ শব্দ দিয়ে মূলত ভাষিক যোগাযোগ বোঝানো হয়েছে।
আর ‘জগৎ’ বলতে মানুষের বাস্তব ও অবাস্তব—ভাষা ব্যবহারের এই দুই ক্ষেত্র বুঝতে হবে। এর একটি প্রত্যক্ষ জগৎ, যেখানে মানুষ অপর মানুষের সঙ্গে সরাসরি ভাষা ব্যবহার করে। আরেকটি জগৎ কল্পনার, যেখানে মানুষ নিজের মতো চিন্তা করে। এই দুই জগতে ভাষা একই কাঠামো নিয়ে থাকে না।
এই প্রশ্নের উত্তর হলো না, মানুষ ভাষা দিয়ে চিন্তা করে না। মানুষ যদি ভাষা দিয়ে চিন্তা করত, তবে মানবসভ্যতার আদি থেকেই ভাষা ছিল বলতে হয়। ভাষার উৎপত্তি ও বিবর্তনের ধারণা এটা বলে যে ধ্বনিগুচ্ছের সমবায়ে শব্দ তৈরির ক্ষমতা মানুষ একদিনে অর্জন করেনি।
মানুষের চিন্তাভাবনা বরং প্রাক্-ভাষিক, অর্থাৎ ভাষাকাঠামোর আগের রূপ। এর মধ্যে আছে মনের ছবি, ধারণা ও আবেগীয় অনুভূতি। তবে ভাষা চিন্তার স্তরকে প্রভাবিত করে। ব্যক্তি শুধু অপরের সঙ্গে নয়, নিজের সঙ্গেও কথা বলার সময় প্রায়ই শব্দ ব্যবহার করে। এখান থেকে ভাষা সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়া যায়—ভাষা কেবল পরস্পরের যোগাযোগের মাধ্যম নয়, ব্যক্তির নিজের প্রকাশ ও উপলব্ধিরও ধরন।
প্রথাগত ব্যাকরণ শব্দকে চিহ্নিত করে তার অর্থসংশ্লিষ্টতা দিয়ে। তবে বাক্যের অন্তর্গত না হওয়া পর্যন্ত শব্দের অর্থ নির্ধারণ করা কঠিনই বটে! যেমন কামানের গোলা এসে পড়ল তার ধানের গোলার ওপর। এখানে দুই গোলার অর্থ আলাদা; বাক্যে ব্যবহারের আগপর্যন্ত তা আলাদা করা যায় না।
তবে শব্দের অর্থের ব্যাপারটা একেবারেই ধারণাগত। অর্থাৎ আমরা গরুকে ‘গরু’ বলে ডাকি বলেই তার নাম গরু। গরুর নাম ‘গোলাপ’ রাখা হলে আমরা গরুকে গোলাপ বলে ডাকতাম। বাস্তব জগতের বস্তু বা উপাদান প্রাথমিকভাবে কোনো নাম দ্বারা চিহ্নিত হয়। এর সঙ্গে সরাসরি কোনো অর্থ খুঁজে পাওয়া যায় না। রিচার্ডস ও অগডেন ব্যাপারটিকে অর্থ–ত্রিভুজের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন। এই ত্রিভুজের এক প্রান্তে থাকে শব্দ, এক প্রান্তে থাকে নির্দেশিত বস্তু এবং এ দুইয়ের মাঝখানে শীর্ষ প্রান্তে থাকে শব্দের ধারণাগত অর্থ।
জিওফ্রে লিচ বলেন, প্রতিটি শব্দ কিছু অর্থ–বৈশিষ্ট্যের সমষ্টি। যেমন ‘বাঘ’ বলতে বোঝায়: এটি প্রাণী, এটি হিংস্র, এটি মাংসাশী, এটি চতুষ্পদী, এটি স্তন্যপায়ী, এটি লেজযুক্ত, এর চামড়া ডোরাকাটা ইত্যাদি। এই বৈশিষ্ট্য যত বাড়ানো যায়, শব্দটির দ্বারা নির্দেশিত বস্তু বা উপাদান তত নির্দিষ্ট ও স্পষ্ট হয়। এ ধরনের সাধারণ অর্থকে ধারণাগত অর্থ বলা যায়।
তবে বাঘ শব্দটি আরও বহু ব্যঞ্জনায় ভাষায় ব্যবহৃত হতে পারে। কোনো ব্যক্তিকে ‘বাঘ’ বলার মাধ্যমে তার ব্যক্তিত্বের এমন দিক উন্মোচিত হয়, যা তাকে বাঘের সদৃশ করে তোলে। আবার যদি বলা হয় ‘সুন্দরবনে একসময় আর বাঘ থাকবে না’ কিংবা ‘হাসমত ভাইকে বাঘে খেয়েছে’, তবে সেখানে বাঘের ধারণাগত অর্থ ঠিকই থাকে, আর দুই বাক্যে বাঘের প্রতি দুই ধরনের প্রবল অনুভূতিও যুক্ত হয়ে যায়।
ধ্বনিবাদীরা ধ্বনির সঙ্গে শব্দের অর্থের যোগ খুঁজে পান। রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী বলেন, প ও ট ধ্বনির আলাদা রূপ ও অন্তর্গত অর্থ আছে। এই দুয়ের সম্মিলনে পট শব্দ তৈরি হয়, যেখানে প ও ট ধ্বনির অন্তর্গত অর্থ একসঙ্গে বিদ্যমান আছে। আবার ‘পটকা’ পট করে ফাটে বলেই তার নাম পটকা। বারবার পট পট করে ফাটার আওয়াজ থেকে পাওয়া যায় নতুন শব্দ ‘পটপট’। পটপট আওয়াজ খই ভাজার সময়ে যেমন হয়, তেমনি মানুষের মুখ দিয়েও খইয়ের মতো পটপট করে শব্দ বের হতে পারে।
ধ্বনির সঙ্গে অর্থের যোগ ধ্বন্যাত্মক শব্দ দিয়েও বোঝা যায়। টকটকে, চকচকে—এসব শব্দের মধ্যেও ধ্বনি বা আওয়াজ লুকিয়ে আছে। কাঠের মধ্যে আঙুল দিয়ে বারবার টোকা দিলে টকটক শব্দ হয়। এই শব্দ কানের, এটাই যখন চোখে তীব্র অনুভূতি তৈরি করে, তখন তা হয় ‘টকটকে লাল’। আবার পিতলের তেল মাখানো কলসি চকচক করে, সেটা চোখের অনুভূতি। সেই কলসির গায়ে আঙুল দিয়ে ঘষা দিলে কানে চঅক্ শব্দ শোনা যাবে।
শব্দের অর্থ যে নির্দিষ্ট নয়, তা ভাষা ব্যবহারকারী দ্রুত বুঝতে শুরু করে। যেমন ‘আমার হাতে অনেক বই’ কিংবা ‘আমার হাতে অনেক কাজ’ বললে এক রকম অর্থ বোঝাবে না। নোয়াম চমস্কি এ ধরনের ধারণাকে ভাষার ব্যবহার ও ভাষাবোধের উপরিতল ও গভীরতলের সঙ্গে সম্পর্কিত করেছেন।
আবার একটি শব্দ একই গঠন নিয়ে নানা রকম অর্থ প্রকাশ করতে পারে। আগেই দেখানো হয়েছে, ‘গোলা’ বলতে ধানের গোলা, কামানের গোলা—দুইই বোঝাতে পারে। আবার ভিন্ন ভিন্ন অর্থের সঙ্গে লুকিয়ে থাকতে পারে এদের কোনো সূত্র বা আদি সম্পর্ক। যেমন ‘পাতা’ শব্দটি গাছের পত্রফলক এবং বইয়ের পৃষ্ঠা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। আপাতভাবে এ দুইয়ের মধ্যে সম্পর্ক নেই মনে হতে পারে। কিন্তু গাছের পাতাতেই একসময়ে লেখা হতো। সেসব পাতা সুতা দিয়ে একত্রে গাঁথা বা গ্রন্থিত হওয়ার পর তার নাম হয়েছে গ্রন্থ। এখন গ্রন্থের কাগজের পৃষ্ঠা বা ডিজিটাল বইয়ের পৃষ্ঠাকেও বলা হচ্ছে পাতা।
সমার্থক শব্দ কখনোই পুরোপুরি সম-অর্থক হয় না। যেমন সূর্য শব্দের সমার্থক হিসেবে সবিতা, অরুণ, মার্তণ্ড ইত্যাদি নির্দেশ করা যায়। সবগুলোই সূর্য, তবে এক রকম সূর্য নয়। অতিপ্রত্যুষের সূর্য—যেটা এখনো পুরোপুরি ওঠেনি, কেবল উঠি উঠি করছে, তাকে বলা হয় সবিতা। ওঠার পর প্রথম সকালে যখন ডিমের কুসুমের মতো গোল লাল রং ধারণ করে, তখন তার নাম হয় অরুণ। তাই কবি বলতে পারেন—‘অরুণ প্রাতের তরুণ দল’। দুপুর বা বিকেলের আকাশে অরুণ পাওয়া যাবে না। আবার মধ্যদুপুরের গনগনে সূর্যকে বলে মার্তণ্ড।
জন লায়ন্স বলেন, ভাষায় পূর্ণ সমার্থক শব্দ পাওয়ার ব্যাপারটি প্রায় অসম্ভব। এমনকি সমার্থ শব্দকোষে একটি শব্দের পাশে একগুচ্ছ শব্দের তালিকা থাকলেও সেগুলো পুরোপুরি সম-অর্থবোধক হয় না। ‘নারী’ শব্দের প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত ললনা, রমণী, কামিনী, রামা ইত্যাদি শব্দেরও যে কারণে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা রয়েছে। মানুষের চিন্তা ও ভাষা ব্যবহারের জগতে সেগুলো এক মনে হয় মাত্র।
বিপরীত শব্দগুলো তারতম্য ধারণার সাহায্যে ব্যাখ্যা করতে চান এডওয়ার্ড স্যাপির। যেমন একটা বস্তা ভারী, আরেকটা বস্তা তার চেয়েও ভারী। তাদের তারতম্য কম হলে দুটিই ভারী হিসেবে চিহ্নিত হবে। কিন্তু তাদের তারতম্য বেশি হলে বলা যাবে, একটা হালকা, একটা ভারী। বিপরীত শব্দ অনেক সময় একটি অন্যটির পরিপূরক হয়। যেমন জীবিত শব্দের বিপরীত মৃত। যখন কাউকে জীবিত বলা হয়, তার মানে সে মৃত নয়। কিংবা কাউকে মৃত বলা মানে, সে জীবিত নয়। এই দুই শব্দের সংযোগে তৈরি ‘জীবন্মৃত’ শব্দ নতুন ব্যঞ্জনা লাভ করে।
আবার ‘ছোট-বড়’, ‘লম্বা-খাটো’—এ ধরনের বিপরীতার্থক শব্দগুলো সাধারণভাবে আপেক্ষিক অর্থে ব্যবহৃত হয়। একজন ব্যক্তি ছোট বা বড় হতে পারে, কিন্তু সেটা অন্য কারও সাপেক্ষে। আবার ছোট সব সময় ছোট নয়, কিংবা বড় সব সময় বড় নয়। ধরা যাক বলা হলো, ছোট একটা হাতির পিঠে বড় একটা পিঁপড়া বসে আছে। এই বাক্যে ছোট ও বড় শব্দ দুটি স্বাভাবিক বিপরীত শব্দের মতো আচরণ করছে না।
উত্তর হলো, না। একটি শব্দ সব শব্দের সঙ্গে মিলতে পারে না বা বসতে পারে না। জন ফার্থ বলেন, কোনো শব্দকে বুঝতে হলে তার সাথের শব্দগুলোকে দেখতে হবে। এ কারণে মিষ্টি হাওয়া, মিষ্টি কথা, মিষ্টি মেয়ে—এগুলো বলা গেলেও সাধারণ প্রয়োগে মিষ্টি আকাশ বা মিষ্টি হাত বলা যায় না। আবার ‘মিষ্টি চোর’ বললে শব্দের অর্থ ও প্রয়োগগত ধরন বদলে যায়। তখন মিষ্টি গুণবাচক শব্দ না হয়ে নামবাচক শব্দে পরিণত হয়।
শব্দের আরেকটি গুণ হলো গুচ্ছাকারে থাকা। বাক্যে শব্দ ব্যবহৃত হয় গুচ্ছাকারে। যেমন একদল সাদা হাতি গভীর জঙ্গল থেকে গ্রামে এসে পড়েছে। এই বাক্যে চারটি শব্দগুচ্ছ আছে: (১) একদল সাদা হাতি, (২) গভীর জঙ্গল থেকে, (৩) গ্রামে এবং (৪) এসে পড়েছে। প্রতিটি গুচ্ছ বা একক আলাদাভাবে অর্থের এককও তৈরি করে।
তা হতে পারে, না–ও পারে। যেমন ‘একেবারে রাজকুমারের মতো দেখতে’—এই বাক্যের সাধারণ একটা অর্থ আছে। কিন্তু উচ্চারণের বা কণ্ঠস্বরের ভিন্নতার কারণে এর অর্থ সম্পূর্ণ পাল্টে যেতে পারে। স্বর বাঁকিয়ে যদি বলা হয়, ‘হ্যাঁহ্, একেবারে রাজকুমারের মতো দেখতে!’, তাহলে নিশ্চয় আগের মতো অর্থ বোঝাবে না।
আবার যা বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে বক্তা তার অতিরিক্ত কিছু বোঝাতে চান। যেমন ঘরে অতিথি ঢুকে যদি বলেন, ‘আজ খুব গরম পড়েছে’, তবে তিনি বন্ধ থাকা ফ্যানটি প্রকারান্তরে চালিয়ে দিতে বলেন, কিংবা এক গ্লাস শরবত দেওয়ার ইঙ্গিত করেন। শ্রোতাও এ ক্ষেত্রে শুধু শব্দের ধারণাগত কিংবা বিশেষ অর্থ দিয়ে তাঁর বাস্তব জগৎ বা চিন্তার জগৎ নির্মাণ করেন না।
সহজ করে এর উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ, অতীতের ভাষা যদি রূপান্তরিত হয়ে এ পর্যায়ে এসে থাকে, তবে বর্তমানের ভাষাও দূর ভবিষ্যতে বদলে যাবে। সে ক্ষেত্রে ভাষার শব্দ এভাবে না–ও থাকতে পারে, কিংবা শব্দ নতুন আচরণ করতে পারে। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নতুন নতুন শব্দের জন্ম দেবে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে ভবিষ্যতের ভাষাও গতিশীল হবে; সে ক্ষেত্রে সংক্ষেপণের কারণেও শব্দের রূপের বদল ঘটবে।
শব্দের অবাধ আদান–প্রদানের কারণে ভাষার ব্যাকরণ অনিয়মিত হয়ে পড়বে, ভাষাগত ব্যবধানও কমে যেতে পারে। বর্তমানে মানুষের অন্তর্জগতের বোধ ও চিন্তা মূলত প্রাক্-ভাষিক উপাদান দিয়ে পরিচালিত হয়; ভাষিক উপাদান, যেমন শব্দ, বাক্য সেখানে গৌণ হয়ে থাকে। ভবিষ্যতে এই অন্তর্জগতের ভাষাই বহির্জগতের ভাষা হয়ে উঠতে পারে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সরকার আড়াই লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর যে প্রশ্ন সামনে আসছে, তা হলো এত ব্যয়ের মেট্রোরেলে ভাড়া কত দাঁড়াবে? প্রকল্পগুলো থেকে যে আয় হবে, তা দিয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ সম্ভব হবে তো? বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, যে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি নিঃসন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ। আগেই দেশ ঋণের বোঝা নিয়ে চলছে। এই বোঝার ভার আরও বেড়ে গেল।
মৌলভীবাজারের স্টার অ্যাগ্রোর কারখানায় উৎপাদিত হচ্ছে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের গুঁড়া।দীর্ঘদিন ব্যাংকিং খাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থায়ন নিয়ে কাজ করেছেন সৈয়দ আমিনুল কবির। ছকে বাঁধা পেশাজীবন ছেড়ে ২০২০ সালে তিনি সরাসরি যুক্ত হন কৃষিশিল্পে। তাঁর মনে প্রশ্ন ছিল, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের কেন সঠিক মূল্য সংযোজন হবে না এবং প্রান্তিক কৃষক কেন তাঁদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবেন না? দেশীয় কৃষির সঙ্গে আধুনিক শিল্পের সংযোগ তৈরি এবং কৃষিপণ্যের মানোন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই তিনি গড়ে তোলেন ‘স্টার অ্যাগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ’।প্রথাগত মসলা থেকে শিল্পপণ্য আমাদের দেশের মানুষ সাধারণত রান্নাবান্নায় কাঁচা বা বাটা মসলায় অভ্যস্ত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে মানসম্মত কাঁচামালের এক বিশাল চাহিদা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বড় খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে উৎপাদিত পণ্যের স্বাদ, সুগন্ধ ও মান সব সময় একই রাখা জরুরি। এই মান বজায় রাখতে হলে প্রয়োজন নির্দিষ্ট চাহিদার বিবরণমতো (স্পেসিফিকেশন) গুঁড়া বা পাউডার মসলা। এই সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করেই স্টার অ্যাগ্রো শুরু করে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের গুঁড়া উৎপাদন। এসব গুঁড়া মসলা মাংসের মসলা, বিরিয়ানি মসলা, চানাচুর, চিপসসহ নানা খাবারে অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।২০২১ সালের শেষের দিকে বড় পরিসরে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি। তবে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের মতো কৃষিভিত্তিক কাঁচামাল বাতাসের আর্দ্রতা দ্রুত শুষে নেয় (হাইগ্রোস্কোপিক)। ফলে সঠিকভাবে শুকানো, আর্দ্রতা বজায় রাখা, পেষাই এবং সংরক্ষণের প্রতিটি ধাপে কঠোর মান বজায় রাখা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ধীরে ধীরে নিজস্ব প্রযুক্তি ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নত করে তারা ক্রেতাদের চাহিদামতো নির্দিষ্ট মানের পণ্য উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করে।কৃষকের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি ও কাঁচামালের ব্যবস্থা স্টার অ্যাগ্রোর উৎপাদনব্যবস্থার অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি হলেন প্রান্তিক কৃষকেরা। ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’ বা চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছে। স্থানীয় পর্যায়ে আদা ও রসুনের চাষ ও ব্যবহার বাড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য। কৃষকদের প্রক্রিয়াজাতকরণের উপযোগী করে ফসল ফলানো এবং সংগ্রহের কৌশল শেখানো হচ্ছে। এর ফলে কাঁচামালটি কোন কৃষকের জমি থেকে এসেছে, তা সহজেই নিশ্চিত হওয়া যায়, যা ‘ট্রেসিবিলিটি’ নামে পরিচিত।তবে সব কাঁচামাল দেশে পর্যাপ্ত পাওয়া যায় না। প্রক্রিয়াজাত খাবারের নির্দিষ্ট ফ্লেভার ঠিক রাখতে সাদা পেঁয়াজ প্রয়োজন হয়, যা আমাদের দেশে চাষ হয় না। তাই এই কাঁচামাল ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। পাশাপাশি ভোজ্যতেল ও প্রসাধনপণ্যের জন্য ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে ভালো মানের নারকেলের কোপরা আমদানি করে তারা ভার্জিন কোকোনাট অয়েল ও আরবিডি কোকোনাট অয়েল প্রস্তুত করছে।আজিনোমোটোর সঙ্গে সমঝোতার পথে পণ্যের গুণগত মানে আপস না করায় দেশের শীর্ষস্থানীয় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী এবং এফএমসিজি ব্র্যান্ডগুলোর কাছে এক নির্ভরযোগ্য নাম হয়ে উঠেছে স্টার অ্যাগ্রো। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্যের মাইক্রোবায়োলজিক্যাল মান, আর্দ্রতা, প্যাকেজিং ও পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে ভীষণ কড়াকড়ি বজায় রাখে। প্রতি ব্যাচে সমান গুণমান বজায় রেখে স্টার অ্যাগ্রো বিটুবি সরবরাহে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে।প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আমিনুল কবির প্রথম আলোকে জানান, করপোরেট ক্রেতাদের ব্যবসায়িক গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক তথ্য প্রকাশ করেন না। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বখ্যাত জাপানি বহুজাতিক খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘আজিনোমোটো’র সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আলোচনা এবং কারিগরি প্রস্তুতি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। আন্তর্জাতিক এই প্রতিষ্ঠানের ফুডসেফটি, ট্রেসিবিলিটি ও ডকুমেন্টেশন–সংক্রান্ত কঠোর মানদণ্ড পূরণ করার মধ্য দিয়ে স্টার অ্যাগ্রোর উৎপাদনব্যবস্থা পুরোপুরি বিশ্বমানের হয়ে উঠছে।সৌরবিদ্যুতে সচল কারখানা আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাবনার আলো ছড়ালেও স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামোগত নানা সংকটে ভুগছে প্রতিষ্ঠানটি। মৌলভীবাজার বিসিক শিল্পনগরীর জরাজীর্ণ সড়কব্যবস্থার কারণে বিদেশি ক্রেতারা কারখানা দেখে সন্তুষ্ট হলেও দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার জন্য রপ্তানি আদেশ দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এতে দেশ প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ হারাচ্ছে।শিল্পনগরীতে গ্যাসের সংযোগ না থাকায় অতিরিক্ত খরচ করে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা জ্বালানি খরচ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। তার ওপর বিদ্যুতের ঘন ঘন বিভ্রাট উৎপাদন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে বিদ্যুতের এই সংকট কাটাতে নিজস্ব উদ্যোগে কারখানায় স্থাপন করা হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা (সোলার প্যানেল)। এর ফলে নিজেদের বিদ্যুতের বড় একটি অংশ নিজেরাই উৎপাদন করে কারখানা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে। তা ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব এবং লাইসেন্স নবায়নে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা উদ্যোক্তাদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছে।আমদানি বিকল্প তৈরি ও বিশ্ববাজার জয়ের পথরেখা আইএসও ২২০০০:২০১৮ এবং হালাল সনদ অর্জনের প্রক্রিয়ায় থাকা স্টার অ্যাগ্রো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করেছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো, দেশীয় কৃষকের উৎপাদিত আদা ও রসুনকে কেবল কাঁচা বিক্রি না করে দেশেই প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চ মূল্য সংযোজিত গুঁড়া মসলায় রূপান্তর করা।এর ফলে একদিকে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব হবে, অন্যদিকে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য তৈরি হবে স্থায়ী ও নিশ্চিত বিক্রয়কেন্দ্র। সব ধরনের প্রতিকূলতা সামলে দেশীয় কৃষিপণ্যকে বিশ্বের শিল্পচাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতেই নিরলস কাজ করে যাচ্ছে স্টার অ্যাগ্রো।
৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগে (প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান) মৌখিক পরীক্ষা আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হবে। সকাল ৯টা থেকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।সমাজসেবায় ১৪৮৫ পদে নিয়োগ: আবেদনকারী কত, পরীক্ষার তারিখ কবেমৌখিক পরীক্ষার প্রার্থীদের প্রতি নির্দেশনা— ১. এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রত্যেক প্রার্থীকে তাঁদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেওয়া হবে।২. প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট আগে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে।৩. শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদ ও নম্বরপত্রের মূল কপি এবং প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত এক সেট ফটোকপি সঙ্গে রাখতে হবে।১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল প্রকাশিত হয় ২২ এপ্রিল। এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৪ হাজার ৯৪২ জন প্রার্থী।অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধের প্রস্তাব*মৌখিক পরীক্ষার রুটিন দেখুন এখানে