চলতি বছর জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব নিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেরান মাইকেল ক্যারিক। পুরস্কার হিসেবে স্থায়ী কোচ বানিয়ে তাঁর সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি করে ইউনাইটেড। কিন্তু চলতি মৌসুমে আবারও পুরোনো রোগেই পেয়ে বসেছে ওল্ড ট্রাফোর্ডের ক্লাবটিকে।
মৌসুমে এ পর্যন্ত ৬ ম্যাচ খেলে হার ৩টি। এর মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে ৪ ম্যাচেই হেরেছে দুটি, ড্র একটি। অন্য যে হারটি, সেটা কারাবাও কাপের তৃতীয় রাউন্ডে। গতকাল রাতের এই হারই সম্ভবত ইউনাইটেড সমর্থকদের কষ্ট দেবে সবচেয়ে বেশি। ঘরের মাঠে ব্রাইটনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে ইউনাইটেড।
হারের ধরনটাও মর্মান্তিক। ১০ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর হেরেছে ক্যারিকের দল। গত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম ঘরের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে কোনো ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত হারল ইউনাইটেড। ১৯৭৬ সালে এই সেপ্টেম্বরেই প্রথম বিভাগ লিগে টটেনহামের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও হারতে হয়। সেই ম্যাচেও ইউনাইটেডের হারের ব্যবধান ছিল ৩-২।
প্রিমিয়ার লিগের দল ব্রাইটন অর্ধশতাব্দী আগের সেই তেতো স্মৃতিই ফিরিয়ে এনেছিল ওল্ড ট্রাফোর্ডে। ইউনাইটেডের অনেক বয়স্ক সমর্থকের কাছেও সেই হারের স্মৃতি অনেক পুরোনো। কারণ, ইউনাইটেডের সোনালি সময়ের কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনও তখন ওল্ড ট্রাফোর্ডে যোগ দেননি। ফার্গুসন তখন সেন্ট মিরেনের কোচ। আর বিবিসি লিখেছে, টটেনহামের সেই জয়ের সময় ইউনাইটেডের কিংবদন্তিতুল্য ক্লাস অব নাইন্টি টুর খেলোয়াড়েরা ডায়াপার পরতেন।

‘ম্যানচেস্টার ডার্বি–তে হারের ক্ষত এখনো শুকায়নি ইউনাইটেডের সমর্থকদের। তারপর ব্রাইটনের কাছে এমন হারে মেজাজ আর ধরে রাখতে পারেননি সমর্থকেরা। শেষ বাঁশি বাজার পর তাই গ্যালারি থেকে দুয়োধ্বনি শুনতে হয় ক্যারিকের দলকে। খেলোয়াড়েরা মাঠ প্রদক্ষিণের সময় বেশির ভাগ ইউনাইটেড সমর্থকই গ্যালারি ছেড়ে গিয়েছিলেন। থেকে যাওয়া সমর্থকেরা দুয়ো দেন।
হারের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে ইউনাইটেড কোচ ক্যারিক বলেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ভাগের পারফরম্যান্সের দায় আমিই নিচ্ছি। এর পুরো দায় আমার।’ প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে একটি গোল হজমের পর ৬৫ ও ৬৯ মিনিটে আরও দুটি গোল হজম করে ইউনাইটেড।
একাদশে আটটি পরিবর্তন আনার জন্যও সমালোচিত হয়েছেন ক্যারিক। অনেকের মতেই, এতে স্কোয়াডে গভীরতার ঘাটতি আরও স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। তবে ইউনাইটেডের এই সংকট আড়াল করলে সমর্থকদের আশ্বস্তই করলেন এই কোচ, ‘আপনাদের বলছি, এই মুহূর্তে বিষয়টি মোটেও ভালো লাগছে না। একটুও ভালো লাগছে না। তবে আমরা আবার জয়ের ধারায় ফিরতে পারব এবং অনেক কিছু আরও ভালোভাবে করতে পারব।’

গত জানুয়ারিতে আমোরিমের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর প্রথম ১৭ ম্যাচে ক্যারিক যতগুলো হার দেখেছেন, চলতি মৌসুমে হারসংখ্যা তার চেয়ে বেশি। ইউনাইটেডের সোনালি সময়ের খেলোয়াড় ক্যারিক ভালো করেই জানেন এই ক্লাবে বাজে পারফরম্যান্সের চাপ কেমন হতে পারে।
তবে চাপ উড়িয়ে দিয়ে ক্যারিক বলেন, ‘কোনো চাপের মধ্যে আছি বলে মনে করি না। যা–ই হোক না কেন, আমার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। বাইরে কী হচ্ছে, তা আমি বুঝি; এতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার মাথাব্যথা ম্যাচ জেতা নিয়ে, ক্লাবের পরিবেশটা ভালো রাখা নিয়ে এবং আমরা যে সঠিক পথেই এগোচ্ছি—দলকে সেই বিশ্বাস ও স্বস্তি দেওয়া নিয়ে।’
সমস্যা হলো, দল যে সঠিক দিকে এগোচ্ছে, তা কোনোভাবেই মনে হচ্ছে না। লিগে ৪ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ১৩তম ইউনাইটেড। এর মধ্যে বিদায় নিতে হলো কারাবাও কাপ থেকে। ক্যারিকের সামনে যে কঠিন চ্যালেঞ্জ সেটা তিনিও মানবেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
প্রথম আলো বন্ধুসভা ও অল ব্রডকাস্টার্স কমিউনিটির (এবিসি) যৌথ উদ্যোগে অনলাইনে চলছে উপস্থাপনাবিষয়ক বিশেষ কর্মশালা। ‘প্রেজেন্টেশন অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শিরোনামে কর্মশালার দ্বিতীয় সেশন অনুষ্ঠিত হয় ১৬ সেপ্টেম্বর। এতে ‘ভ্লগিং ও উপস্থাপনা’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন বাপকা বেটার প্রতিষ্ঠাতা শুভাশিস ভৌমিক। এই লেখা তাঁর বক্তব্যের প্রতিলিপি। সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক সাইমুম মৌসুমী বৃষ্টি।আমার কাছে কনটেন্ট তৈরি হলো কোনো আইডিয়া, গল্প, তথ্য, অভিজ্ঞতা বা অনুভূতিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। আপনি মানুষকে হাসাতে পারেন, সেটা এন্টারটেইনমেন্ট। শেখাতে পারেন, ইনফোটেইনমেন্ট। আপনার চিন্তা বা ভাষার মাধ্যমে কাউকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন, সেটা মোটিভেশনাল কনটেন্ট। বাস্তব জীবনের সঙ্গে কোনো বিষয়কে রিলেট করাতে পারেন, সেটা লাইফস্টাইল কনটেন্ট।আবার মানুষকে কোনো বিষয় অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করতে, কমেন্ট করতে বা কোনো অ্যাকশনে যেতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। কোনো পণ্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে কেউ সেটি কিনে ফেললে সেটাও একধরনের মার্কেটিং কনটেন্ট।অর্থাৎ কনটেন্ট আপনাকে কিছু অনুভব করায়, ভাবায় এবং কখনো কোনো অ্যাকশন নিতে বাধ্য করে। এটাই কনটেন্ট ক্রিয়েশন।সংক্ষেপে বললে, কনটেন্ট হলো মনোযোগ আকর্ষণ + বিশ্বাস + ইনফ্লুয়েন্স + প্রভাব।তবে শুধু মনোযোগ আকর্ষণ করলেই হবে না। মনোযোগ কখনোই বিশ্বাসে রূপান্তরিত হবে না, যদি আপনি পারসোনাল ব্র্যান্ডিং তৈরি করতে না পারেন। সেই জায়গাটা অর্জন করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, আপনার কনটেন্ট দর্শকের মধ্যে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে।কনটেন্ট তৈরির আগে সমস্যাটা বুঝুনপ্রতিটি কনটেন্ট তৈরির আগে প্রথমেই বুঝতে হবে সমস্যাটা কী। আপনি কোন সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চাইছেন এবং দর্শক আসলে কোন সমস্যাটিকে সমস্যা হিসেবে দেখছেন, সেটা বুঝতে হবে। এরপর সেই সমস্যাকে কেন্দ্র করে কনসেপ্ট তৈরি করতে হবে।তারপর আসে স্ক্রিপ্ট লেখা। সমস্যাটি কীভাবে আরও সহজভাবে বোঝানো যায়, কীভাবে গল্পের মতো করে উপস্থাপন করা যায়, সেটা ভাবতে হবে।সবশেষে আসে এক্সিকিউশন। এক্সিকিউশনে নতুনত্ব কীভাবে আনা যায়, কোথায় গিয়ে শুট করব, কীভাবে কথা বলব, কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করব, আমার পোশাক কী হবে, আমার পজিশন কী হবে—এসব নিয়েও কল্পনা করতে হবে।কনটেন্ট আইডিয়া কোথা থেকে আসবেকনটেন্টের আইডিয়া আসতে পারে মানুষের বাস্তব সমস্যা ও অভিজ্ঞতা থেকে। যেমন—• মানুষের কোনো একটি সমস্যার সমাধান দিতে পারেন।• মানুষ সাধারণত যে ভুলগুলো করে, সেগুলো ধরিয়ে দিতে পারেন।• দুটি বিষয়ের মধ্যে তুলনা করতে পারেন। এ ধরনের ভিডিও সব সময়ই জনপ্রিয় হয়।• মানুষের কোনো ভুল ধারণা ভাঙতে পারেন।• কোনো বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন।• কাজের পর্দার পেছনের গল্প দেখাতে পারেন।• কেস স্টাডি বা বাস্তব কোনো উদাহরণ বিশ্লেষণ করতে পারেন।• কোনো বিষয় ধাপে ধাপে শেখাতে বা দেখাতে পারেন। মানুষ এ ধরনের কনটেন্ট খুব পছন্দ করে।• চলমান ট্রেন্ড বা কোনো আলোচিত বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন। তবে সেটি যেন আপনার ব্যক্তিত্ব ও কনটেন্টের সঙ্গে মানানসই হয়।• কোনো বই পড়ে বা লেখা পড়ে কিছু শিখে থাকলে সেই শিক্ষাও শেয়ার করতে পারেন।তবে ট্রেন্ড দেখেই হুট করে কোনো বিষয়ে কনটেন্ট শুরু করা ঠিক নয়। ধরুন, একটি রাজনৈতিক বিষয় ট্রেন্ডে আছে। আপনি হুট করে সেই বিষয় নিয়ে কনটেন্ট শুরু করলেন। হয়তো সাময়িকভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারবেন। মনে হতে পারে, এটাই বুঝি আপনার নতুন জনরা। কিন্তু সেই জনরায় বিশ্বাস, ইনফ্লুয়েন্স ও প্রভাব তৈরি করতে হলে অনেকগুলো ধাপ পার হতে হয়। তাই ট্রেন্ডের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্ব ও কনটেন্টের সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ।কনটেন্ট পিলার নির্ধারণ করুনআমার মতে, কনটেন্টের চারটি পিলার হওয়া উচিত—১. এডুকেট: নতুন কিছু শেখানো২. ইন্সপায়ার: মানুষকে অনুপ্রাণিত করা৩. এন্টারটেইনমেন্ট: বিনোদন দেওয়া৪. প্রোডাক্ট/সার্ভিস: আপনার পণ্য বা সার্ভিসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।কনটেন্ট পিলার তৈরি করার আগে নিজেকে চারটি প্রশ্ন করতে হবে—১. আমার অডিয়েন্স কী জানতে চায়?২. আমি কোন বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানি?৩. কোন বিষয়ের চাহিদা বেশি?৪. আমার কনটেন্টের মাধ্যমে আমি কী অর্জন করতে চাই?এ প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনার কনটেন্টের দিক নির্ধারণে সাহায্য করবে।আপনার অডিয়েন্সকে বুঝুনকনটেন্ট তৈরির আগে জানতে হবে, আপনি কার জন্য কনটেন্ট বানাচ্ছেন। আপনার প্রোফাইল কেমন? আপনাকে কারা দেখে? কোন বয়সী মানুষ আপনার কনটেন্ট দেখে? তারা কোন ধরনের কনসেপ্ট পছন্দ করে? কারা আসলে আপনার অডিয়েন্স, সেটা কি কখনো বিশ্লেষণ করেছেন?বাংলাদেশে দেখবেন, বেশির ভাগ ফলোয়ার থাকে ১৮-২৪ বছর বয়সী। এই বয়সীরা বেশির ভাগ সময় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে বিষয়টি উল্টো। আমার কনটেন্টের প্রায় ৭৫ শতাংশ ফলোয়ার ২৫ বছরের বেশি বয়সী।কোন বিভাগ ও কোন দেশ থেকে মানুষ আপনার কনটেন্ট দেখছে, কেন দেখছে, সেটাও বুঝতে হবে।মানুষ কেন আপনার কনটেন্ট সেভ করবেকোনো কনটেন্ট তৈরির আগে এটাও ভাবতে হবে, মানুষ কেন আপনার কনটেন্টটি সেভ করে রাখবে। মানুষ সাধারণত কোনো কনটেন্ট সেভ করে রাখে, যদি—• পরে কাজে লাগবে মনে করে;• কোনো সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়;• চেকলিস্ট দেওয়া থাকে;• স্টেপ-বাই-স্টেপ গাইড থাকে;• ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যায়।সুতরাং কনটেন্ট তৈরির আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, কেন মানুষ আমার কনটেন্টটা সেভ করে রাখবে? এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।উপস্থাপনায় ব্যক্তিত্ব ও গল্পের সংযোগব্যক্তিত্ব এবং গল্পের সংযোগ কীভাবে করাবেন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রেই বিষয়টি প্রযোজ্য।আপনি যা নন, সেটা যদি উপস্থাপন করতে যান, দর্শকেরা তার সঙ্গে কানেক্ট করতে পারবে না। আপনি ফেক হলে মানুষ কানেক্ট করবে না। হয়তো সামান্য সময়ের জন্য সুবিধা পেতে পারেন, কিন্তু সব সময় পারবেন না। আপনার শক্তির জায়গা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।আমার ও আমার ছেলের জার্নিটা শুরু হয়েছিল গান দিয়ে। এরপর বুঝতে চেষ্টা করেছিলাম, আমাদের শক্তির জায়গাটা কোথায়। আমার কাছে মনে হয়েছে, গান আমরা গাই ঠিকই, তবে সেটা আমাদের সবচেয়ে শক্তির জায়গা নয়।ওইটা যখন বুঝতে পারলাম, তখন দেখলাম, আমার ছেলের শক্তির জায়গা লেখা। সে খুব ভালো লেখে। ওকে সেভাবেই গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি, যাতে ওর লেখার হাতটা ভালো হয়। ও স্কুল থেকেই গল্প লেখা শুরু করেছিল। আর আমার শক্তির জায়গা হচ্ছে সহজে গল্প বলা।এভাবে নিজের শক্তির জায়গাটা বুঝে কনটেন্টের ধরন নির্ধারণ করা যায়।একটি কনটেন্ট কীভাবে পরিকল্পনা করবেনআমি যখন কনটেন্টটা স্ক্রিপ্ট করি, চিন্তা করি, তখন ১৪টি জিনিস মাথায় রাখি। সব সময় মাথায় রাখি, এই কনটেন্ট বানানোর আগে টপিকটা কী?প্রতিটি কনটেন্ট বানানোর আগে নিজেকে প্রশ্ন করি—এই কনটেন্ট থেকে আমার দর্শকেরা নতুন কী পাবে? নতুন কোনো ভ্যালু পাবে কি না?ভ্যালু দিতে গেলে একজন এক্সপার্টের ক্যামিও রাখা যেতে পারে। একজন কোচকে ভিডিওতে রাখতে পারেন। পাশাপাশি প্রথম তিন সেকেন্ডের অংশে কিছু মোশন রাখা যায়। কাট-শট ও অ্যাঙ্গেলও দর্শককে আটকে রাখতে সাহায্য করে। প্রতিটি পয়েন্টের সময় কোনো না কোনো অঙ্গভঙ্গি বা অ্যাকটিভিটি করার চেষ্টা করা যায়।বিজ্ঞাপন বা ব্র্যান্ড কনটেন্টেও বিশ্বাসযোগ্যতা জরুরিআপনাদের প্রথমে যে ভিডিওটা দেখালাম, আমি কিন্তু শুরুতেই ব্র্যান্ডের নাম বলিনি। শুধু কনটেন্টের জন্য নয়, সত্যি সত্যিই আমি তার আগের ৩ মাসে ১০ কেজি ওজন কমিয়েছি।পাশাপাশি আমি কিন্তু বলিনি যে আপনি ওই পণ্যটা কিনুন। কেবল বলেছি, যাচাই করে দেখতে পারেন। এটা ভালো অপশন হতে পারে। তার আগে আমি দেখিয়েছি, আন্তর্জাতিক রেফারেন্স কী। ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলাম, সেটাও বলেছিলাম।অর্থাৎ কোনো পণ্য বা সার্ভিস নিয়ে কথা বললেও নিজের অভিজ্ঞতা, তথ্য ও রেফারেন্সের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে হবে।টেলিভিশনে খবর পড়তে আসলে কী লাগেসহজ ও শ্রোতাবান্ধব ভাষায় কথা বলুনচেষ্টা করি, যতটা সহজভাবে উপস্থাপন করা যায়। শ্রোতাবান্ধব ভাষায়। আমি মোটিভেশনাল বক্তব্য দিতে চাইনি। আমি আমার অনুভূতি শেয়ার করতে চেয়েছি।কনটেন্টে দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করার জন্য ভাষা সহজ হওয়া জরুরি। আপনার বক্তব্য যেন দর্শকের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।গল্পকে কতভাবে বলা যায়একটি গল্পকে কত ভিন্ন অ্যাঙ্গেল দিয়ে চিন্তা করে করা যায়, এটা মজার। একই বিষয়কে আপনি তথ্য হিসেবে বলতে পারেন, নিজের অভিজ্ঞতা হিসেবে বলতে পারেন, গল্পের মাধ্যমে বলতে পারেন, সমস্যা ও সমাধানের কাঠামোয় বলতে পারেন কিংবা বিনোদনের মাধ্যমে বলতে পারেন।তাই শুধু বিষয় নির্বাচন করাই যথেষ্ট নয়। একটি বিষয়কে কোন অ্যাঙ্গেল থেকে উপস্থাপন করবেন, সেটিও কনটেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।কোন প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট দেবেনকনটেন্ট তৈরি করার পর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, কোন প্ল্যাটফর্মে সেটি প্রকাশ করবেন? ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, নাকি ইউটিউব?এ নিয়ে অনেকে কনফিউজড হয়ে যায়। অনেকে মনে করে, সব প্ল্যাটফর্মের জন্যই কনটেন্ট বানাতে হবে। হয়তো করা উচিত। তবে প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব ধরন ও দর্শক আছে।যে ব্যক্তি ট্রাভেল কনটেন্ট বানায়, যার ভিডিওর দৈর্ঘ্য ও ধরন একরকম, তার জন্য হয়তো ইউটিউব পারফেক্ট।আমি যেহেতু সমস্যা সমাধান, ব্যবসায়িক টপিক, জটিল কোনো বিষয় ও ইনফোটেইনমেন্ট নিয়ে কনটেন্ট বানাই, আমার কাছে মনে হয়েছে, এগুলোর জন্য ফেসবুক সঠিক প্ল্যাটফর্ম।আমি ব্যক্তিগতভাবে ইনস্টাগ্রামে খুব একটা অ্যাকটিভ নই। ইউটিউবেও খুব একটা অ্যাকটিভ নই। তবে ফেসবুক পেজে একটা রিদম ফলো করে গেছি। কনটেন্ট প্রকাশে ধারাবাহিক থাকার চেষ্টা করেছি। মাসে ৭-৮টি কনটেন্ট প্রকাশ করে যাচ্ছি।আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রতিটি কনটেন্টের জন্য ব্রিদিং স্পেস থাকা উচিত। কনটেন্ট মানুষের কাছে পৌঁছানোর পর সেটি উপলব্ধি করারও একটা ব্যাপার আছে।একই কনটেন্ট সব প্ল্যাটফর্মে নয়যেটা ফেসবুকের জন্য বানাবেন, সেটা কিন্তু লিংকডইনের জন্য নয়। ইউটিউবের জন্য যে ক্যাপশন লিখবেন, সেটা কিন্তু ফেসবুকের জন্য নয়। এগুলো জানতে হবে, ধাপে ধাপে শিখতে হবে।ভিডিওর রেশিওটাও গুরুত্বপূর্ণ। ইউটিউবের জন্য যেটা বানাই—১৬:৯ রেশিও, সেটা ফেসবুকে দিলে সব সময় ভালো কাজ না–ও করতে পারে। আবার ফেসবুকের জন্য বানানো ৪:৫ রেশিওর কনটেন্ট ইউটিউবের জন্য উপযুক্ত নয়।তবে ফেসবুকের জন্য বানালে সেটা ইনস্টাগ্রামে একই রকম দেওয়া যায়, টিকটকেও চালানো যায়।আবার এখন ১:১ রেশিওর কনটেন্টও ট্রেন্ডি। এই রেশিওতে কনটেন্ট বানালে অনেক জায়গায় প্রকাশ করা সম্ভব।সুতরাং শুরুতেই ভাবতে হবে, আমি আসলে কনটেন্টটা কীভাবে বানাব এবং কোথায় প্রকাশ করব?কনটেন্ট প্রকাশের সময় ও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণকনটেন্ট প্রকাশ করার পর সেটার পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে হবে। দেখতে হবে—• এক মিনিটের ভিউ কেমন হচ্ছে;• তিন সেকেন্ডের ভিউ কেমন হচ্ছে;• ওভারঅল ওয়াচটাইম কেমন;• মানুষ রিলস বেশি দেখছে, নাকি স্টোরি;• ফটো বেশি দেখছে কি না;• থাম্বনেইলসহ ও থাম্বনেইল ছাড়া কোন ধরনের কনটেন্ট ভালো কাজ করছে।এই অ্যানালাইসিস গুরুত্বপূর্ণ। কোন সময়ে মানুষ মূলত আপনার কনটেন্ট দেখছে, সেটাও বিশ্লেষণ করতে হবে।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, কখন পোস্ট করছেন। আমার কাছে মনে হয়, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পিক টাইম থাকে। তবে নিজের অডিয়েন্সের ডেটা বিশ্লেষণ করে সময় নির্ধারণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।কনটেন্ট তৈরিতে কী ধরনের ডিভাইস লাগবেআমার পরামর্শ থাকবে, শুরুটা স্মার্টফোন দিয়ে করা উচিত। পাশাপাশি ভালো মাইক্রোফোন গুরুত্বপূর্ণ। ইনডোরে শুট করলে লাইটিং গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া ভালো একটি ট্রাইপড বা গিম্বল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, ভালো কনটেন্ট শুরু হয় আইডিয়া দিয়ে, ইকুইপমেন্ট দিয়ে নয়।কনটেন্ট থেকে কীভাবে আয় আসেএকটি কনটেন্ট একেকজনকে একেক জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। আমাকে এক জায়গায় নিয়ে গেছে। শুরু করেছিলাম একভাবে, এক থট প্রসেস নিয়ে; পরে চলে গেছি আরেক জায়গায়।কনটেন্টের যাত্রাটা হতে পারে—কনটেন্ট → মনোযোগ আকর্ষণ → বিশ্বাস → স্বীকৃতি → পারসোনাল ব্র্যান্ড → সুযোগ → আয়অর্থাৎ সুযোগগুলো আপনাকে অনেকভাবে আয়ের উৎস এনে দিতে পারে। তাই আয়ের জন্য শুরুতেই দৌড়ানো যাবে না। প্রতিটি ধাপ পার হলে আয় আপনা–আপনিই আসা শুরু করবে। সব ধাপ পার হওয়ার পর আপনি বিভিন্নভাবে আয় করতে পারেন। যেমন—• ব্র্যান্ড ডিল;• অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং;• কমিউনিটির সঙ্গে কাজ;• ইভেন্টে কথা বলা;• ওয়েবিনারে কথা বলা;• পডকাস্টে অংশ নেওয়া;• কনসালটিং;• ডিজিটাল কোর্স;• ওয়ার্কশপ;• নিজের ডিজিটাল বা ফিজিক্যাল পণ্য লঞ্চ;• নিজের দক্ষতা অনুযায়ী সার্ভিস বা সেবা দেওয়া।অর্থাৎ কনটেন্ট নিজেই শুধু আয়ের মাধ্যম নয়; ভালো কনটেন্ট থেকে তৈরি হওয়া বিশ্বাস, পরিচিতি ও সুযোগও আয়ের বিভিন্ন পথ তৈরি করতে পারে।
পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের কাগজিটোলার একটি বাড়ি থেকে গত ১৬ জানুয়ারি ২৫ বছর বয়সী মো. নয়নের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বজনদের সন্দেহ থাকায় মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। আট মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছে পুলিশ। তাই নয়নের মৃত্যুর কারণ কী, তা নিশ্চিত হওয়া তো দূরের কথা, অপমৃত্যুর মামলাটির তদন্তও শেষ করতে পারছে না পুলিশ।নয়নের মতো সারা দেশে হাজারো মৃত্যু ও অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত আটকে আছে ময়নাতদন্ত, ভিসেরা, ডিএনএ প্রতিবেদন ও চিকিৎসা সনদের অপেক্ষায়। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিবেদন না পাওয়ায় ১৫ হাজার ৭৪৭টি মৃত্যু ও অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত আটকে আছে।এসব মামলার মধ্যে ৮ হাজার ২৩৯টিতে চিকিৎসা সনদ, ৬ হাজার ৬১৩টিতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ৬২৯টিতে ডিএনএ প্রতিবেদন ও ২৬৬টিতে ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদন না পাওয়ায় ১৫ হাজার ৭৪৭টি মৃত্যু ও অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত আটকে আছে। এসব মামলার মধ্যে ৮ হাজার ২৩৯টিতে চিকিৎসা সনদ, ৬ হাজার ৬১৩টিতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ৬২৯টিতে ডিএনএ প্রতিবেদন ও ২৬৬টিতে ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ময়নাতদন্ত ও চিকিৎসা–সংক্রান্ত প্রতিবেদন যথাসময়ে না পাওয়ায় বিপুলসংখ্যক মৃত্যু ও অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত শেষ করা যাচ্ছে না। এতে মামলার জট তৈরি হয়েছে।মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও তদন্তে গতি আনতে সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদআট মাসেও জানা যায়নি নয়নের মৃত্যুর কারণসূত্রাপুরের কাগজিটোলার একটি বাড়ি থেকে নয়নের মরদেহ উদ্ধারের পর সূত্রাপুর থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়। মামলাটি তদন্ত করছেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. লোকমান হোসেন।খন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস), পুলিশ সদর দপ্তরময়নাতদন্ত ও চিকিৎসা–সংক্রান্ত প্রতিবেদন যথাসময়ে না পাওয়ায় বিপুলসংখ্যক মৃত্যু ও অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত শেষ করা যাচ্ছে না। এতে মামলার জট তৈরি হয়েছে।এসআই লোকমান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় আট মাস আগে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মর্গে নয়নের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছিল। পরে প্রতিবেদন নিতে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে গেলে জানানো হয়, প্রতিবেদন এখনো প্রস্তুত হয়নি। আরও সময় লাগবে।ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়ায় মামলার তদন্ত শেষ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন এই তদন্ত কর্মকর্তা।ঝুলন্ত মরদেহ, পরিবারের সন্দেহ হত্যাচট্টগ্রামের আনোয়ারায় ২১ বছর বয়সী গৃহবধূ হালিমা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনাটিও একই জায়গায় আটকে আছে।উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের পশ্চিম বরৈয়া থেকে ১০ মে হালিমার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আনোয়ারা থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়। পরিবারের অভিযোগ, হালিমাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।নিহত হালিমার বড় ভাই নঈম উদ্দিন বলেন, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে হালিমার স্বামী তাঁদের বাবার মুঠোফোনে ফোন করে জানান, হালিমা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাঁরা দ্রুত গিয়ে দেখেন, শোবার ঘরের ছাদের সঙ্গে মরদেহ ঝুলছে এবং পা মাটিতে স্পর্শ করা।পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর হালিমার সঙ্গে মিজানুরের বিয়ে হয়। তাঁদের দেড় বছর বয়সী একটি মেয়ে আছে। স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া–বিবাদ হতো। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সালিসও হয়েছিল। ঘটনার পর হালিমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন গা ঢাকা দিয়েছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ময়নাতদন্ত ও তদন্তে যদি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে অপমৃত্যুর মামলার প্রতিবেদন তৈরি করতে পুলিশের জন্য সহজ হয়। আর ময়নাতদন্ত বা তদন্তে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এখনো হালিমার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তাই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না, তদন্তও শেষ করা যাচ্ছে না।অপমৃত্যুর মামলা যেভাবে হত্যা মামলা হয়পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো ব্যক্তির অস্বাভাবিক, আকস্মিক বা সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনায় ঘটনাস্থল বা প্রাথমিক তদন্তে সরাসরি হত্যা মামলা করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য না থাকলে সাধারণত অপমৃত্যুর মামলা করা হয়।গলায় ফাঁস, বিষপান, ভবন বা উঁচু স্থান থেকে পড়ে মৃত্যু, পানিতে ডুবে মৃত্যু, আগুনে পুড়ে মৃত্যু, সড়ক বা রেল দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া বা অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারসহ বিভিন্ন ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হতে পারে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ময়নাতদন্ত ও তদন্তে যদি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে অপমৃত্যুর মামলার প্রতিবেদন তৈরি করতে পুলিশের জন্য সহজ হয়। আর ময়নাতদন্ত বা তদন্তে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনেক ক্ষেত্রেই তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি। সেটি না পাওয়া পর্যন্ত অনেক মামলায় পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব হয় না বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।ঢাকায় ঝুলে আছে ১ হাজার ৩৫৬ মামলারাজধানীতে এই সমস্যার চিত্র আরও স্পষ্ট। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদন না পাওয়ায় ১ হাজার ৩৫৬টি অপমৃত্যু মামলার তদন্ত শেষ করা যায়নি।এর মধ্যে ২০২৩ সালে দুটি, ২০২৪ সালে ৭১টি, ২০২৫ সালে ৪৫০টি ও ২০২৬ সালে ৮৩৩টি মামলা রয়েছে।ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) মো. ফারুক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত শেষ করা যাচ্ছে না। প্রতিবেদন অনুযায়ী অনেক মামলাই পরে হত্যা মামলায় রূপ নেয়।ফারুক হোসেন আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেতে যত দেরি হবে, মামলার সাক্ষ্য–প্রমাণ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তত বাড়বে। এতে বাদী বা ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে পুলিশের প্রতি অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে। তদন্তেও দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে।ডিএমপির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অনেক মামলার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাজহারুল শাহীন প্রথম আলোকে বলেন, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে তথ্যগত ভুলসহ যৌক্তিক কারণে কোনো ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আটকে আছে কি না, তা দেখা হবে। এরপর ফরেনসিক বিভাগের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।৮৬% মামলার তদন্ত শেষ হয়নি, ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন, ভুল বর্ণনাসহ নানা কারণের কথা বলছে পুলিশ হত্যা মামলা হলেও অজানা মৃত্যুর কারণরাজধানীর ধানমন্ডির ১১ নম্বর সড়কের একটি ১১ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে ২ মে আল মুকাব্বির ইসলাম ওরফে অর্ণবের (৩২) রহস্যজনক মৃত্যু হয়। প্রথমে এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়। পরে তাঁর মা হালিমা খাতুনের করা মামলাটি আদালতের নির্দেশে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে ধানমন্ডি থানা।মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মুকাব্বিরের প্রয়াত বাবা রফিকুল ইসলাম ভূঞার রেখে যাওয়া শতকোটি টাকার সম্পত্তি দখলের জন্য তাঁর চাচা, চাচিসহ ১২ জন তাঁকে হত্যা করেছেন।তবে এখনো মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমদাদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মুকাব্বিরের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।তিন মাস পর বদলে গেল মামলার ধরন২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের নিজ বাসা থেকে একটি ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা কোহিনূর বেগমকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথে তাঁর মৃত্যু হয়। শুরুতে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখা হয়েছিল।মো. ফারুক হোসেন, যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ), ডিএমপিময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেতে যত দেরি হবে, মামলার সাক্ষ্য–প্রমাণ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তত বাড়বে। এতে বাদী বা ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে পুলিশের প্রতি অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে। তদন্তেও দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে।তিন মাস পর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।আত্মহত্যা বলে প্রচার, ময়নাতদন্তে বেরিয়ে এল খুন, কে খুন করল ফাতেমা আক্তারকেপুলিশের চিঠি, তবু কমছে না জটপুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত, ভিসেরা, ডিএনএ প্রতিবেদন ও চিকিৎসা সনদ পেতে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছেও একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে।একটি আবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন থানায় হওয়া মৃত্যু ও অপমৃত্যুর মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও জখমি চিকিৎসা সনদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন কোন মামলায় এসব প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি, তার তালিকাও সংগ্রহ করা হয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি–ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, নিয়ম আছে, পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নিয়ে যাবে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রতিবেদন ওই পুলিশ সদস্যের হাতে তুলে দিতে হবে। কিন্তু সেটা চালু না থাকায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।পুলিশের শীর্ষস্থানীয় এই কর্মকর্তা আরও বলেন, মাসের পর মাস ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন তৈরি না হওয়ায় মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হয়ে যায়। এতে মামলাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে বিচার বিলম্বিত হয়। সাক্ষীরাও উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন।এত প্রতিবেদন আটকে থাকার কথা নয়দেশের ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের সংগঠন দ্য মেডিকোলিগ্যাল সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক মোস্তাক রহিম (স্বপন) প্রথম আলোকে বলেন, বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মরদেহের ভিসেরা পরীক্ষার জন্য ঢাকার মহাখালীর রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে প্রতিবেদন পেতে দেরি হলে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরিতেও কিছুটা সময় লাগে।তবে এত বিপুলসংখ্যক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আটকে থাকার কথা নয় বলে মনে করেন মোস্তাক রহিম। দেশে ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞের সংকট আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।মোস্তাক রহিম বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দ্রুত তৈরি করে পুলিশ বিভাগে পাঠানোর উদ্যোগ নেবে মেডিকোলিগ্যাল সোসাইটি বাংলাদেশ।ময়নাতদন্তে হত্যাকাণ্ড, পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে আত্মহত্যাপ্রতিবেদন পেতে নির্দিষ্ট সময়সীমা চায় পুলিশপুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, অপমৃত্যুর মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে থানাগুলোয় ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকবে। ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য চিকিৎসা–সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ওপর যেহেতু অনেক মামলার তদন্তের পরবর্তী ধাপ নির্ভর করে, তাই প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা প্রয়োজন।পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, হাসপাতাল ও পুলিশের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় এবং প্রতিবেদন প্রস্তুত হওয়ার পর তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা গেলে দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যু ও অপমৃত্যুর মামলা ঝুলে থাকার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।‘দুর্বল’ ময়নাতদন্তে হত্যা হয়ে যায় আত্মহত্যা
কোনো সরকারি কর্মচারী তাঁর চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে কাউকে দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করলে ওই কর্মচারীর (আইনানুযায়ী কর্মকর্তারাও কর্মচারী) বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়ে তদবিরের বিষয়টি নির্ধারিত নথিপত্রে (ডোসিয়ার) সংরক্ষণ করা হবে।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনাপত্র গতকাল বৃহস্পতিবার সব সচিব (মুখ্য সচিব, সিনিয়র সচিব ও সচিব), বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।সরকারি কর্মচারীরা কী ধরনের আচরণ করবেন, তা ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর সংশ্লিষ্ট বিধিতে উল্লেখ রয়েছে। সে কথা স্মরণ করিয়ে নির্দেশনাপত্রে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, সরকারি কর্মচারীদের কারও কারও পক্ষে তাঁদের চাকরিসংক্রান্ত নানা তদবির করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা বিভিন্ন দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। বিষয়টি সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তা অসদাচরণের শামিল।তবে কোনো কর্মচারী তাঁর চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জমা দিতে পারবেন। তখন নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কর্তৃপক্ষ এই আবেদন সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে যৌক্তিকভাবে নিষ্পত্তি করবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।